
ফুটবলকে বিদায় জানালেন আর্জেন্টিনার গোলকিপার সার্জিও রোমেরো। সোমবার ফরাসি সংবাদমাধ্যম লেকিপ তাঁর অবসরের খবরটি নিশ্চিত করেছে।
গত বছর আর্জেন্টিনোস জুনিয়রসের হয়ে কোপা আর্জেন্টিনায় নিজের শেষ ম্যাচটি খেলেছিলেন ৩৯ বছর বয়সী রোমেরো। শৈশবের রেসিং ক্লাবে ব্যাক-আপ গোলকিপার হিসেবে ফেরার ইচ্ছা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা আর হয়ে ওঠেনি।
২০০৭ সালে অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ জয় এবং ২০০৮ সালে বেইজিং অলিম্পিকে স্বর্ণপদক জয়ের মধ্য দিয়ে রোমেরোর উত্থান। দিয়াগো ম্যারাডোনার হাত ধরে জাতীয় দলে অভিষেক হওয়া এই গোলকিপার আর্জেন্টিনার হয়ে রেকর্ড ৯৬টি ম্যাচ খেলেছেন।
আরও পড়ুন
| যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপ খেলতে অনিচ্ছুক ইরান |
|
রোমেরোর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্ত ছিল ২০১৪ বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে টাইব্রেকারে দুটি পেনাল্টি রুখে দিয়ে আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তুলেছিলেন তিনি। যদিও জার্মানির বিপক্ষে ফাইনালে ১-০ গোলে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয় লিওনেল মেসিদের সেই দলের। ২০১৮ বিশ্বকাপেও রোমেরোর খেলার কথা থাকলেও চোটের কারণে শেষ মুহূর্তে ছিটকে যান তিনি।
২০০৬ সালে রেসিংয়ের হয়ে ক্যারিয়ার শুরু করা রোমেরো ইউরোপে পাড়ি জমান ডাচ ক্লাব এজেড আলকমারের হয়ে, যেখানে ২০০৯ সালে লিগ শিরোপা জেতেন। তারপর সাম্পদোরিয়া ও মোনাকো হয়ে ২০১৫ সালে যোগ দেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে। ওল্ড ট্রাফোর্ডে মূলত ব্যাক-আপ গোলকিপার হলেও ২০১৭ সালে রেড ডেভিলদের ইউরোপা লিগ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি। ক্লাব ফুটবলে সব মিলিয়ে ৩৭১টি ম্যাচ খেলেছেন রোমেরো।
ফুটবল থেকে অবসর নিলেও মাঠ ছাড়ছেন না রোমেরো। আর্জেন্টাইন সাংবাদিক ফেদে ক্রিস্তোফানেল্লির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, খুব শীঘ্রই তাকে ডাগআউটে নতুন ভূমিকায় দেখা যাবে।
No posts available.
১০ এপ্রিল ২০২৬, ১০:১৬ পিএম

সৌদি প্রো লিগে যোগ দেওয়ার পর এখন লিগ শিরোপা জয়ের অভিজ্ঞতা নিতে পারেননি ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। তেমন বড় কোনো ট্রফির জেতার স্বাদও পাননি আল নাসরের তারকা ফরোয়ার্ড। তবে এবার লিগ জেতার দারুণ সুযোগ হাতছানি দিচ্ছে পর্তুগিজ মহাতারকাকে।
সৌদি লিগে পয়েন্ট টেবিলে আপাতত রোনালদোর আল নাসরেরই আধিপত্য। তবে রোনালদোর ক্লাবকে নাকি ‘কারচুপি’ করে লিগ জেতানো হচ্ছে, এমন গুরুতর অভিযোগই তুললেন আল আহলির দুই ফুটবলার।
আল আহলির ফরোয়ার্ড ইভান টনি সৌদি প্রো লিগের রেফারিংয়ের সততা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। আল আহলিতে তাঁর সতীর্থ ওয়েন্ডারসন গেলানো তো এককাঠি সরেস। ব্রাজিলিয়ান এই ফুটবলারের মতে, এই প্রতিযোগিতায় ‘একজন নির্দিষ্ট খেলোয়াড়কে’ শিরোপা জেতানোর প্রবণতা রয়েছে। আর সেই খেলোয়াড় হলেন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। ২০২২ সালের ডিসেম্বর সৌদি লিগে আসার পর এখনও লিগ শিরোপা জেতা হয়নি যাঁর।
আল আহলির খেলোয়াড়রা মনে করছেন, বুধবারের আল ফাইহা-এর বিপক্ষে ১–১ গোলে ড্র হওয়া ম্যাচে তাদের অন্তত দুটি পেনাল্টি থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। এই ড্রয়ের পর দলটি পয়েন্ট টেবিলের তিন নম্বরে নেমে গেছে। ২৮ ম্যাচ শেষে ক্লাবটির সংগ্রহ ৬৬ পয়েন্ট। দুইয়ে থাকা আল হিলালের পয়েন্ট ৬৮। এক ম্যাচ কম খেলে শীর্ষে থাকা আল নাসরের চেয়ে চার পয়েন্ট পিছিয়ে আছে তারা।
ম্যাচের পর গ্যালেনো এক্স-এ লিখেন,
‘ট্রফি দিয়ে দাও, এটাই তারা চায়। আমাদের যেকোনোভাবে চ্যাম্পিয়নশিপ থেকে সরিয়ে দিতে চায়, ট্রফিটা একজনের হাতে তুলে দিতে চায়—এটা আমাদের ক্লাবের প্রতি চরম অসম্মান।’
কে এতে সুবিধা পাচ্ছে—এমন প্রশ্নে টনি সরাসরি কোনো ক্লাবের নাম না নিলেও বলেন, ‘আমরা জানি কে। আমরা কাকে ধরার চেষ্টা করছি?”
ইংল্যান্ড জাতীয় দলের ফরোয়ার্ড ইভান টনি চলতি মৌসুম সৌদি প্রো লিগের গোল্ডেন বুট জেতার দৌড়ে শীর্ষে আছেন্। ২৬ ম্যাচে তাঁর গোলসংখ্যা ২৭। আল ফাইহার বিপক্ষে তাদের পেনাল্টির আবেদন ভিএআর রিভিউয়ের পরও বাতিল হওয়ায় বেশ হতাশ হয়েছেন টনি,
‘সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় ছিল ওই দুটি পেনাল্টি। এটা একদম পরিষ্কার। আমি বুঝতে পারছি না, ও কীভাবে বলটি হ্যান্ডল করত? দুই হাতে তুলে নিলে কি তখন পেনাল্টি দিত? দেবে কি দেবে না?’
টনি যোগ করেন,
‘এরপর যখন আমরা রেফারির সঙ্গে কথা বলতে গেলাম, তিনি বললেন, “এএফসি-তে (এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন চ্যাম্পিয়নস লিগ) মন দাও।” একজন রেফারি কীভাবে এটা বলতে পারে?’
আল আহলির ফরোয়ার্ড আরও বলেন,
‘আমি চাইলে আরও গভীরে যেতে পারি, কিন্তু এতে সমস্যায় পড়তে পারি। আমি এমন একজন মানুষ, যে যা সত্য সেটা সরাসরি বলে।’
নিজ দলের শিরোপা জেতার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে টনি বলেন,
‘আমরা এগিয়ে যাব, যা করার তাই করব, আশা করি কিছু ন্যায্য সিদ্ধান্ত পাব। যদি ভালো রেফারি থাকে, আমরা আমাদের স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে পারব এবং সিদ্ধান্তগুলো আমাদের পক্ষে গেলে আমাদের ভালো সুযোগ থাকবে। কিন্তু এমন পরিস্থিতিতে সবসময়ই কাজটা কঠিন হয়ে যায়।’
সর্বশেষ ২০১৮–১৯ মৌসুমের পর থেকে আর সৌদি প্রো লিগ শিরোপা জিততে পারেনি আল নাসর। ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা রোনালদো ছাড়াও একগাদা তারকা ফুটবলারকে দলে ভিড়িয়েও লিগ শিরোপার দেখা পায়নি ক্লাবটি। আগামীকাল আল ওখদুদের মুখোমুখি হবে রোনালদোর দল।

মুখ ফসকে বলা এক কথায় এখন পস্তাতে হচ্ছে এনজো ফার্নান্দেজকে। রিয়াল মাদ্রিদে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে মন্তব্য করে পেয়েছেন নিষেধাজ্ঞার শাস্তি। নিজের ভুল বুঝতে পেরে ক্ষমাও চেয়েছেন চেলসির আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার। তবে তাতেও শাস্তি কমছে না—ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে রোববারের ম্যাচে খেলতে পারবেন না তিনি।
চ্যাম্পিয়নস লিগে পিএসজির কাছে হারের পর ইএসপিএন আর্জেন্টিনা-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রিয়াল মাদ্রিদের যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন ফার্নান্দেজ। এরপর আন্তর্জাতিক বিরতিতে তিনি বলেন, ‘আমি স্পেনে থাকতে চাই, মাদ্রিদ শহরটা আমার খুব পছন্দ।’ তাঁর এমন চাওয়া সহজভাবে নেয়নি চেলসি— দেওয়া হয় দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার শাস্তি।
প্রিমিয়ার লিগে ম্যান সিটির মুখোমুখি হওয়ার আগে চেলসির কোচ লিয়াম রোসেনিওর জানিয়েছেন, ‘ফার্নান্দেজ ইতোমধ্যেই দুঃখ প্রকাশ করেছেন, তবে ক্লাবের দেওয়া দুই ম্যাচের অভ্যন্তরীণ নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।’ এর আগে পোর্ট ভেলের বিপক্ষে এফএ কাপের কোয়ার্টার ফাইনাল মিস করেছেন এনজো। আর রোববার স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ প্রিমিয়ার লিগ ম্যাচেও তাকে পাওয়া যাবে না।
রোসেনিওর যোগ করেন ,
‘এনজোর সঙ্গে আমার তিন-চারবার খুব ভালো আলোচনা হয়েছে। সে আমার কাছে এবং ক্লাবের কাছেও ক্ষমা চেয়েছে। রোববারের বড় ম্যাচের পর আমরা বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেব।’
শিষ্যর ভুলকে খুব বড় করে দেখছেন না রোসেনিওর। তবে একবার ভুল করলে শাস্তি এড়ানোরও যে সুযোগ নেই সেটাও মনে করিয়ে দিলেন চেলসি কোচ,
‘এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় ছিল, তাই সিরিয়াসভাবে আলোচনা হয়েছে। এই পুরো প্রক্রিয়ায় আমি কখনোই এনজোর চরিত্র বা ব্যক্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলিনি। আমি বিশ্বাস করি, মানুষ ভুল করতেই পারে। তবে ভুলের জন্য নির্ধারিত শাস্তি এড়িয়ে যাওয়া যায় না।’
শেষে চেলসি কোচ বলেন, ‘আমি চাই, এখান থেকে এনজো এগিয়ে যাক এবং অসাধারণ একটি ক্যারিয়ার গড়ে তুলুক। রোববারের ম্যাচের পর চেলসির মৌসুমে এনজো ‘গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা’ রাখবে বলেই আশা করছেন তিনি। তবে দলে ফেরার আগে তাকে এখনও কিছু বাধা অতিক্রম করতে হবে বলছেন রোসেনিওর।
চেলসির মাঝমাঠের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য এনজো। ইংলিশ ক্লাবটি কি দলের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়কে নিষেধাজ্ঞার শাস্তি দিয়ে নিজেদেরই ক্ষতি করছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে রোসেনিওর বলেন,
‘না। আমার দলে অসাধারণ স্কোয়াড আছে, অসাধারণ সব খেলোয়াড়ে ভরা। শুরুর একাদশ ঠিক করা এখনও খুব কঠিন কাজ। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আমাকে সেটা ঠিকভাবে নির্ধারণ করতে হবে। ফুটবল একটা দলীয় খেলা। এখানে ব্যক্তি নয়, দলই আসল। এটা নিজের পায়ে কুড়াল মারা নয়। কিছু মূল্যবোধ আর সংস্কৃতি আছে, যেগুলোতে আমি বিশ্বাস করি, ক্লাবও বিশ্বাস করে। এগুলো ঠিকভাবে ধরে রাখতে পারলে দল আরও শক্তিশালী হয়।’
লিগে পয়েন্ট টেবিলে ছয় নম্বরে থাকা চেলসি শেষ ১৮ পয়েন্টের মধ্যে মাত্র ৫ পয়েন্ট পেয়েছে। ফলে চ্যাম্পিয়নস লিগে জায়গা করে নেওয়ার লড়াইয়ে আবার ছন্দে ফেরাই এখন তাদের লক্ষ্য। আগামী মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগ থেকে পাঁচটি দল ইউরোপের শীর্ষ ক্লাব প্রতিযোগিতায় সুযোগ পাবে। সিটির বিপক্ষে মাঠে নামার আগে পঞ্চম স্থানে থাকা লিভারপুলের চেয়ে এক পয়েন্ট পিছিয়ে আছে ‘ব্লুজরা’।

ম্যানচেস্টার সিটি যখন প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা জয়ের দৌড়ে আর্সেনালকে ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছে, ঠিক তখনই পেপ গার্দিওলা জানিয়েছেন, মৌসুমে নেওয়া তার সবচেয়ে সেরা সিদ্ধান্তের কথা। নটিংহ্যাম ফরেস্ট এবং ওয়েস্ট হ্যামের সাথে ড্র করে সিটি কিছুটা ছন্দ হারালেও কারাবাও কাপের ফাইনালে গার্নারদের হারানো এবং এফএ কাপে লিভারপুলকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে সিটিজেনদের আত্মবিশ্বাস এখন তুঙ্গে।
সিটির এই সাফল্যের মাঝেই শোনা যাচ্ছে, বার্নার্দো সিলভা হয়তো ম্যানসিটি ছাড়ছেন। জুনে চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে পর্তুগিজ মিডফিল্ডারের। গার্দিওলার সহকারী পেপ লিন্ডার্স সিলভার চলে যাওয়ার বিষয়টি অনেকটা নিশ্চিত করেছেন। তবে গার্দিওলা জানিয়েছেন, সিলভা নিজে তাকে এখনো কিছু জানাননি।
প্রিমিয়ার লিগে চেলসির বিপক্ষে ম্যাচের আগে গার্দিওলা বলেন,
“আমি বার্নার্দোর ওপর খুব রাগ করেছি। আমি তাকে বলেছিলাম কোনো সিদ্ধান্ত নিলে সবার আগে যেন আমাকে জানায়। কিন্তু সে এখনো কিছু বলেনি আমাকে।”
সিলভা সম্পর্কে গার্দিওলা একটি বড় সত্য স্বীকার করেছেন। তিনি মনে করেন, মৌসুমের শুরুতে পর্তুগিজ এই মিডফিল্ডারকে ক্লাব অধিনায়ক বানানোই ছিল তাঁর এই মৌসুমের সেরা সিদ্ধান্ত।
গার্দিওলা বলেন,
“হ্যাঁ, এটিই ছিল আমার নেওয়া সেরা সিদ্ধান্ত। একজন সত্যিকারের অধিনায়ক তখনই বোঝা যায় যখন দল খারাপ সময়ের মধ্য দিয়ে যায়। বার্নার্দো সবসময় নিজের চেয়ে দল এবং ক্লাবকে আগে প্রাধান্য দেয়, যা সবাই পারে না।”
সিলভার প্রশংসা করে গার্দিওলা আরও বলেন,
“সে হয়তো উচ্চতায় খুব লম্বা নয়, বা খুব পেশীবহুলও নয়, কিংবা প্রতি মৌসুমে ৫০টি গোল বা অ্যাসিস্টও করে না। সাধারণত মানুষ গোলদাতাদের নিয়ে বেশি আলোচনা করে। কিন্তু একজন কোচের যা প্রয়োজন, বার্নার্দোর তা সবই আছে। সে অত্যন্ত লড়াকু এবং তার ভেতরে জেতার এক তীব্র আগুন আছে। বড় ম্যাচগুলোতে সে কখনো ভয় পায় না।”

দুই মাস পরই শুরু হচ্ছে বিশ্বকাপ। টুর্নামেন্ট মাঠে গড়ানোর আগে বড় ধাক্কা খেল মিশর। রেফারিকে আঘাত করায় চার ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছেন আফ্রিকার দেশটির প্রধান গোলকিপার মোহাম্মদ এল-শেনাওয়ি।
মিশরীয় প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব আল-আহলি এফসির হয়ে খেলেন শেনাওয়ি। মঙ্গলবার সেরামিকা ক্লিওপেট্রার বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র হওয়া ম্যাচে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে ছিলেন বেঞ্চে ছিলেন তিনি। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে সেরামিকার একজন ডিফেন্ডারের হাতে বল লাগলে আল-আহলি পেনাল্টির দাবি জানায়। রেফারি আবেদন নাকচ করলে রেগে যান শেনাওয়ি।
লিগ কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে,
‘রেফারিকে ধাক্কা দেওয়া বা টেনে ধরার মাধ্যমে লাঞ্ছিত করার দায়ে (সহিংসতা ছাড়া হাতের ব্যবহার) শেনাওয়িকে চার ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা এবং ৫০ হাজার মিশরীয় পাউন্ড (প্রায় ৯৪২ ডলার) জরিমানা করা হয়েছে।‘
শেনাওয়িকে এখন লিগ প্লে-অফের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত মাঠের বাইরে থাকতে হবে। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আল-আহলি বর্তমানে ৪১ পয়েন্ট নিয়ে লিগে তৃতীয় স্থানে রয়েছে।
জাতীয় দলের জার্সিতে এখন পর্যন্ত ৭৫ টি ম্যাচ খেলেছেন শেনাওয়ি। ২০২৫ সালের আফ্রিকা কাপ অব নেশনসে (আফকন) মিশরের প্রথম পছন্দের গোলকিপার ছিলেন শেনাওয়ি।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপে গ্রুপ ‘জি’ তে রয়েছে মিশর। ১১ জুন বিশ্বকাপের উদ্বোধনী দিনে নিউ জিল্যান্ডের মুখোমুখি হবে মোহাম্মদ সালারা। গ্রুপপর্বে মিশরের অন্য দুই প্রতিপক্ষ বেলজিয়াম ও ইরান।
নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে আগামী মে মাসের মাঝামাঝি ফিরবেন শেনাওয়ি। ফলে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছাড়াই বিশ্বকাপে যেতে হবে ৩৭ বছর বয়সী অভিজ্ঞ এই গোলকিপারকে।

বাংলাদেশ ফুটবল লিগে (বিএফএল) ঢাকা ডার্বিতে দ্বিতীয় দেখায় ২-১ গোলের ব্যবধানে জিতেছে আবাহনী স্পোর্টিং ক্লাব। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহামেডানের বিপক্ষে এ জয়ে পয়েন্ট টেবিলে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এলো আকাশি-নীল জার্সিধারীরা। শীর্ষে থাকা বসুন্ধরা কিংস থেকে মারুফুল হকের দলের পয়েন্ট ব্যবধান কেবল ২।
শুক্রবার কুমিল্লার ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে অঘটন ঘটে। ৪৬তম মিনিটে বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে হাসান মুরাদের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয় মিতুল মারমার। মাঝমাঠ থেকে ভেসে আসা ক্রস লক্ষ্য করে বক্সে ঢুকে পড়েন মুরাদ। মুহূর্তেই লাফ দিয়ে বলটি গ্লাভসবন্দী করেন মিতুল। তবে মাটিতে পড়ার সময় মোহামেডানের গোলকিপারের পায়ের আঘাতে চোয়ালে ব্যথা পান আবাহনী সেন্টারব্যাক।
মাঠে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয় হাসান মুরাদকে। যা পর্যাপ্ত ছিল না। দেরি না করে তাৎক্ষণিক স্ট্রেচারে করে মাঠের বাইরে নেওয়া হয় মুরাদকে। এরপরই অ্যাম্বুলেন্সে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয় তাকে। পরবর্তীতে মুরাদের বদলি হিসেবে নামেন সবুজ হোসাইন।
আবাহনী টিম সূত্রে জানা গেছে, স্ক্যানে মুরাদের চোয়ালে কোনোরকম ফাটল বা চিড় ধরা পড়েনি। তবে আঘাতের কারণে দুইটি দাঁতের কোনা ভেঙে গেছে। বর্তমানে তিনি সুস্থ আছেন।