২০ আগস্ট ২০২৫, ৮:৩৫ পিএম

ব্রাজিলিয়ান গোলরক্ষক ফাবিও ফুটবল ইতিহাসে নিজের নাম লিখেছেন নতুন উচ্চতায়। গড়েছেন সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার নতুন রেকর্ড, এমনটাই দাবি তার ক্লাব ফ্লুমিনেন্সের।
গত মঙ্গলবার কোপা সুদামেরিকানায় আমেরিকা দে কালি-এর বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচ খেলার মধ্য দিয়ে এই রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন ফাবিও। এটি ছিল অভিজ্ঞ এই গোলরক্ষকের ক্যারিয়ারের ১ হাজার ৩৯১তম ম্যাচ।
গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ডের রেকর্ড অনুযায়ী, ফাবিও পেছনে ফেলেছেন সাবেক ইংলিশ গোলরক্ষক পিটার শিলটনকে (১ হাজার ৩৯০ ম্যাচ)। যদিও শিলটন নিজে দাবি করেন যে, তিনি ১ হাজার ৩৮৭টি ম্যাচ খেলেছেন।
রেকর্ড গড়ায় ৪৪ বছর বয়সী ফাবিওকে ম্যাচ শেষে ক্লাবের পক্ষ থেকে স্মারক ফলক ও চিত্রকর্ম উপহার দেওয়া হয়। প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, “আমি সব সময় চেষ্টা করি প্রথমে একজন ভালো মানুষ হতে। আজকের দিনটির জন্য আমার পরিবার, বন্ধু, স্ত্রী, সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা। ঈশ্বরের সাহায্য ছাড়া এসবের কিছুই সম্ভব হতো না।"
দীর্ঘ ক্যারিয়ারে সব মিলিয়ে ২৭টি শিরোপাজয়ী ফাবিও ব্রাজিল জাতীয় দলে ডাক পেলেও কখনই জাতীয় দলের হয়ে মাঠে নামার সুযোগ পাননি। চলতি বছরের ক্লাব বিশ্বকাপে তিনি ফ্লুমিনেন্সের হয়ে সেমিফাইনাল পর্যন্ত খেলেছেন। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর তার বয়স হবে ৪৫ বছর।
ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার তালিকায় ফাবিও ও শিলটনের পর তালিকায় আছেন যথাক্রমে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো (১ হাজার ২৮৭), পল বাসটক (১ হাজার ২৮৪) ও রজেরিও সেনি (১ হাজার ২২৬)। এদের মধ্যে ফাবিও বাদে শুধুমাত্র রোনালদোই এই তালিকার একমাত্র সদস্য যিনি খেলা চালিয়ে যাচ্ছেন এখনও।
No posts available.
১ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৩৪ পিএম
১ এপ্রিল ২০২৬, ৯:৫১ পিএম

মোহাম্মদ মানিকের একমাত্র গোলে নেপালকে হারিয়ে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে উঠল বাংলাদেশ। মালদ্বীপের রাজধানী মালে’তে বুধবার প্রতিযোগিতার প্রথম সেমি-ফাইনালে গত আসরের রানার্সআপদের হারাল লাল-সবুজ দল।
কোচ মার্ক কক্সের অধীনে বয়সভিত্তিক ফুটবলে আরও একটি সাফল্যের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল দল। একমাসের চুক্তিতে যোগ দেওয়া ব্রিটিশ কোচ তার শিষ্যদের সাফল্যে বেশি উচ্ছ্বসিত।
সেমিফাইনাল পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানিয়েছেন, নেপালের বিপক্ষে তার শিষ্যরা বেশ ভালোই পারফরম্যান্স করেছে। তবে হাপিত্যেশের বিষয়টি এড়িয়ে যাননি তিনি।
কক্স বলেন,
‘এটা সত্যিই কঠিন ম্যাচ ছিল। তবে আমাদের ছেলেরা দারুণভাবে শুরু করেছিল। প্রথমার্ধেই আমরা ম্যাচ শেষ করে দিতে পারতাম। অনেক সুযোগ পেয়েছিলাম, কিন্তু কাজে লাগাতে পারিনি। সেট পিস থেকে একটি গোল করতে পেরেছি। কিন্তু ওপেন প্লেতে আরও অনেক সুযোগ ছিল, সেগুলো কাজে লাগেনি।’
প্রথমার্ধের ফল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখলেও দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে নেপাল বেশ চাপে রাখে বাংলাদেশকে। কোচ বলেন,
‘দ্বিতীয়ার্ধে নেপাল ভালো শুরু করে। প্রথম ১০-১৫ মিনিট তারা আমাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিল। তবে আমাদের খেলোয়াড়রা দারুণ মানসিক দৃঢ়তা দেখিয়েছে। শেষ পর্যন্ত লড়াই করেছে এবং জয় তুলে নিয়েছে। ছেলেদের নিয়ে আমি গর্বিত।’
দায়িত্বপ্রাপ্তির পর থেকেই একটি বিষয় বেশ ভালোভাবেই মেনে চলেন কক্স। ব্রিটিশ কোচের প্রধান এবং একমাত্র লক্ষ্য—খেলোয়াড়দের মাঠে স্বাধীনতা নিশ্চিত করা। আর এতে শতভাগ সাফল্য পাচ্ছেন বলেন জানান তিনি।
কক্স বলেন,
‘ছেলেদের আমি তাদের মতো করেই খেলতে দিই। এটা আমাদের জন্য বড় অর্জন। আমরা আগেও অনূর্ধ্ব-২০ পর্যায়ে শিরোপা জিতেছিলাম। ঢাকায় প্রস্তুতি শুরুর সময় থেকেই এটি আমাদের লক্ষ্য ছিল। এখন ছেলেদের বিশ্রাম নিতে হবে এবং ফাইনালের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে।’
মালেতে আজ ম্যাচের পুরোসময় বাংলাদেশের সমর্থকরা সাহস জুগিয়েছেন রোনান সুলিভানদের। বিষয়টি বেশ ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন কক্স।
বাংলাদেশ কোচ বলেন,
‘প্রথম ম্যাচ থেকেই আমরা বাংলাদেশের স্থানীয় সমর্থকদের সমর্থন পাচ্ছি। তারা অনেক দিন ধরে এখানে কাজ করছেন। তাদের মাঠে এসে আমাদের সমর্থন করা সত্যিই দারুণ অনুভূতি দেয়। মনে হয় যেন নিজের মাঠেই খেলছি। তাদের জন্য আমরা গর্বিত।’

এএফসি অনূর্ধ্ব–২০ নারী ফুটবলের উদ্বোধনী ম্যাচে দুই গোলে এগিয়ে গিয়েও শেষ পর্যন্ত থাইল্যান্ডের কাছে ৩-২ ব্যবধানেই হেরেছে বাংলাদেশ।
পাথুম থানির থামাসাত স্টেডিয়ামে থাইল্যান্ডের বুকে ভালোই কাঁপন ধরিয়েছেন দেশের মেয়েরা। ২-০ গোলের ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর অনেকেই ভেবেছিলেন ম্যাচটি হয়তো অর্পিতা বিশ্বাসদেরই হতে যাচ্ছে। তবে জোড়া পেনাল্টি হজম এবং ফিনিশিংয়ের অভাবে ধুঁকেছে বাংলাদেশ।
ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেছেন সে কথা। তবে তার বিশ্বাস এই ম্যাচ থেকে শেখার আছে অনেক কিছুই।
অর্পিতা বলেন,
‘আমরা প্রথম ম্যাচ শুরু করেছি। আমরা ফার্স্ট আপে ভালো করার চেষ্টা করেছি এবং ভালো খেলেছি এবং লাস্ট ফিনিশিং ভালো করতে পারিনি। এটা আমাদের শেখার জায়গা। এখান থেকে শিখছি। পরবর্তী ম্যাচগুলোতে ভালো করবো। ইনশাল্লাহ।’
৩৬ মিনিটে প্রথম গোল আদায়ের পর ৫০ মিনিটে লিড দ্বিগুণ করে বাংলাদেশ। লাল-সবুজের হয়ে জোড়া গোল করেন মোসাম্মৎ সাগরিকা। তবে পরপর দুটি পেনাল্টিতে আশা নিরাশায় পরিণত হয় বাংলাদেশের।
অর্পিতা বলেন,
‘আমরা ম্যাচটা লিড নিয়ে নিয়েছিলাম। পরে যখন একটা পেনাল্টি হলো, তখন আমাদের প্লেয়াররা একটু ভেঙে পড়ে। সেকেন্ডটাও পেনাল্টি হইছে। ওভারঅল আমরা গেম খেলে আমরা গোল করছি এবং অপোনেন্ট তারা দুইটা পেনাল্টিতে গোল করেছে। যেহেতু আমরা ফাস্ট ম্যাচ শুরু করেছি এখান থেকে আমরা যে ভুলগুলা করেছি নেক্সট ম্যাচগুলাতে আমরা সেই ভুলগুলা শোধরানোর চেষ্টা করব এবং চেষ্টা করব সেই ম্যাচগুললাতে ভালো করার।’
গ্রুপ পর্বে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশ শনিবার মুখোমুখি হবে প্রতিযোগিতার ২০০৬ সালের চ্যাম্পিয়ন চীনের। ভিয়েতনামকে ৩-০ গোলে হারিয়ে আসর শুরু করেছে তারা।

তাঁর হাত ধরেই বাংলাদেশ ফুটবল নতুন জীবন পেয়েছে। ধুকতে থাকা বাংলাদেশের ফুটবল আবার স্বপ্ন দেখতে শুরু করে হামজা চৌধুরীর আগমনেই। লাল-সবুজদের ফুটবলে সুদিন ফেরাতে স্বাক্ষাৎ দূত হয়েই যেন হাজির হন লেস্টার সিটির মিডফিল্ডার। একটা সময় খাঁ খাঁ করা গ্যালারিতে ফিরেছে প্রাণ। এখন দেশ কিংবা ঘরের বাইরে যেখানেই বাংলাদেশের খেলা হোক না কেন, একটি টিকিটের জন্য রীতিমতো হাহাকার শুরু হয়ে যায় সমর্থকদের মধ্যে। আর এই ‘ফুটবল পাগলদের’ বিশ্বের সেরা বলতে বিন্দু পরিমাণ দ্বিধাও করেননি হামজা।
বাংলাদেশের সঙ্গে হামজা চৌধুরীরর পথচলার বয়স বছরে রূপ নিয়েছে। গত বছরের ২৫ মার্চ এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে ভারতের বিপক্ষে সেই ম্যাচ বাংলাদেশের জন্য ঐতিহাসিকই। জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামের এই ম্যাচেই প্রথম বাংলাদেশের জার্সি গায়ে চড়িয়েছিলেন হামজা। দেখতে দেখতে কেটে গেল একটি বছর। পেছন ফিরে তাকালে ঠিক কী দেখেন লেস্টারের এই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার?
এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ১-০ গোলে হারের পর হামজার কাছে জানতে চাওয়া হয় বাংলাদেশের সঙ্গে এক বছরের যাত্রার অভিজ্ঞতা। অনেক কথার সঙ্গে হামজার মুখে ঝরে পড়ল বাংলাদেশের ফুটবল সমর্থকদের বন্দনা। সিঙ্গাপুরের ডেরাতেও বাংলাদেশের গগনবিদারী চিৎকার ঠিকেই চোখে পড়েছে হামজার।
দর্শক, টুর্নামেন্টের আবহ আর তাদের তৈরি করা শব্দ—সব মিলিয়ে বোঝাই কঠিন ছিল যে এটা অ্যাওয়ে ম্যাচ। এমন দর্শকের মাঝে, অ্যাওয়ে ম্যাচ খেলেও কেমন লাগে হামজার? ইএসপিএনের সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে হামজা বলেন,
“দারুণ একটা অনুভূতি, সত্যি বলতে অসাধারণ। আমি একটু আগেই বলছিলাম, আমার মতে এরা বিশ্বের সেরা সমর্থক। এত দূর ভ্রমণ করে, নিজের কষ্টের টাকা খরচ করে এখানে এসে আমাদের খেলা দেখা—এটা সত্যিই অবিশ্বাস্য।’
এশিয়ান কাপের বাছাইয়ে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে এই ম্যাচের আগেই বাংলাদেশের ভাগ্য নির্ধারণ হয়ে গিয়েছিল। মূলপর্বে যাওয়ার আশা শেষ হয়ে যাওয়ার পরও সমর্থকদের এমন সমর্থনের সঙ্গে কিছুর তুলনা খুঁজে পান না হামজা,
‘আমরা এখনো যোগ্যতা অর্জন করতে পারিনি, তবুও তাদের জন্য এটা যেন এক ধরনের উৎসব, যেভাবে তারা এত সংখ্যায় এসে সমর্থন দিচ্ছে—এর তুলনা হয় না। আমরা তাদের প্রতি ভীষণ কৃতজ্ঞ, আশা করি তারা এমনভাবেই আমাদের পাশে থাকবে।’

প্রীতি ম্যাচে নিজেদের মাঠে মিশরের মুখোমুখি হয়েছিল স্পেন। স্বাগতিক দর্শকদের থেকে পুরো সমর্থনই পাওয়ার কথা ‘লা রোজাদের’। তবে গতকাল গোলশূন্য ড্র হওয়া এই ম্যাচে দেখা গেল অপ্রত্যাশিত এক দৃশ্য। ম্যাচের প্রথমার্ধে গ্যালারি থেকে বারবার মুসলিম-বিদ্বেষী স্লোগান আসতে থাকে, দর্শকদের কয়েক দফায় সতর্কও করা হয়।
বতর্মানে স্পেনের সবচেয়ে বড় তারকা লামিনে ইয়ামালও একজন মুসলিম। দর্শকদের মুসলিম-বিদ্বেষী এমন আচারণে বেশ আঘাত পেয়েছেন ১৮ বছর বয়সী তারকা ফুটবলার। সামাজিক মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে আজ এক পোস্টে বার্সেলোনার উইঙ্গার লেখেন,
‘আমি মুসলিম, আলহামদুলিল্লাহ। গতকাল স্টেডিয়ামে আমরা “যে লাফ দেয় না সে মুসলিম” স্লোগানটি শুনেছি। আমি জানি এটি প্রতিপক্ষের উদ্দেশ্যে এবং ব্যক্তিগতভাবে আমার বিরুদ্ধে নয়, কিন্তু একজন মুসলিম হিসেবে এটি অসম্মানজনক এবং সহ্য করার মতো নয়।’
বার্সেলোনার এস্পানিওল আরসিডিই স্টেডিয়ামে ম্যাচ শুরুর আগে মিশরের জাতীয় সংগীত চলাকালীন সজোরে দুয়োধ্বনি দেয় স্প্যানিশ সমর্থকরা। অনেক সমর্থক ‘যে লাফাবে না, সে মুসলিম‘ বলে স্লোগান দিচ্ছিল।
বিরতির সময় জায়ান্ট স্ক্রিনে একটি বিশেষ বার্তা প্রদর্শিত দেখা যায়। সেখানে সমর্থকদের উগ্রবাদী মন্তব্য ও বর্ণবাদী গান থেকে বিরত থাকার থাকার জন্য মাইকে বারবার নির্দেশ দেওয়া হয়। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আবারও একই সতর্কতা দেওয়া হলে দর্শকদের একটি অংশ উল্টো দুয়োধ্বনি দেয়।
ফুটবল উপভোগ করতে গিয়ে কোনো ধর্ম, বর্ণ, জাতির মধ্যে বিদ্বেষমূলক আচারণ কাম্য নয় সেটা মনে করিয়ে দেন ইয়ামাল,
‘আমি বুঝি সব সমর্থক এমন নয়, কিন্তু যারা এমন স্লোগান দেয় তাদের জন্য বলছি: ধর্মকে মাঠে মানুষকে উপহাস করার জন্য ব্যবহার করা আপনাকে অজ্ঞ এবং বর্ণবাদী বানায়। ফুটবল হলো উপভোগ করার এবং সমর্থন দেওয়ার খেলা, মানুষের পরিচয় বা বিশ্বাসের কারণে আঘাত করার নয়।’
শেষে ইয়ামাল লিখেন,
‘এই কথাগুলো বলে, যারা আমাদের সমর্থন করতে এসেছেন তাদের ধন্যবাদ। বিশ্বকাপে দেখা হবে।’
এই ঘটনায় দ্রুতই নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়ে রয়্যাল স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন লিখেছে,
'আরএফইএফ ফুটবলে বর্ণবাদের ঘোর বিরোধী ও স্টেডিয়ামের ভেতরে যেকোনো ধরণের অসদাচরণের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে।'
ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে সমর্থকদের এই আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করেন,
‘আমি যেকোনো ধরণের ঘৃণা বা বর্ণবাদকে ঘৃণা করি- এটি পুরোপুরি অসহনীয়। আমি জানি না এ বিষয়ে নির্দিষ্ট প্রোটোকল কী। তবে জায়ান্ট স্ক্রিনে সতর্কবার্তা দেখানো ও মাইকে ঘোষণা দেওয়াটা একদম সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল।’
ইয়ামালের বার্সেলোনা ও স্প্যানিশ দুই সতীর্থ পেদ্রি ও জোয়ান গার্সিয়াও দশর্কদের এমন আচারণের নিন্দ জানান। ম্যাচ শেষে পেদ্রি বলেন, ‘এই স্লোগানগুলো আমাদের হতবাক করেছে। আমরা কোনো ধরনের বর্ণবাদী আচরণ সমর্থন করি না। এটি বন্ধ করতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’ আর বার্সার গোলকিপার গার্সিয়া বলেন,
‘যে কোনো বৈষম্যমূলক বার্তার আমরা সম্পূর্ণ বিরোধী। আমি স্লোগানগুলো শুনেছি এবং স্টেডিয়ামের ঘোষণাও শুনেছি।’

স্বপ্নের মতোই ছিল প্রথমার্ধ। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুটাও অনুকূলে ছিল বাংলাদেশের। ম্যাচের ৫০তম মিনিট পর্যন্ত ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত থাইল্যান্ডের কাছে ৩-২ ব্যবধানে হেরে অনূর্ধ্ব-২০ এএফসি এশিয়ান কাপে যাত্রা শুরু বাংলাদেশের।
বুধবার ব্যাংককের থামমাসাত স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাতটায় শুরু হওয়া ম্যাচে ৫ গোলের চারটিই হয়েছে দ্বিতীয়ার্ধে। প্রথমার্ধে মোসাম্মৎ সাগরিকার গোলে বিরতিতে যায় পিটার বাটলারের দল। দ্বিতীয়ার্ধের ৫০ মিনিটে তিনি আরও একটি গোল করে দলকে স্বস্তি দেন। তবে একের পর এক ভুলে ব্যর্থতার গ্লানি নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে আফঈদা খন্দকারদের।
ম্যাচের ষোড়শ মিনিটে ফ্রি কিক আটকাতে ঝাঁপিয়েছিলেন মিলি আক্তার। বল তার গ্লাভস গলে বেরিয়ে যাওয়ার পর দূরূহ কোণ থেকে কুরিসারা লিম্পাওয়ানিচের নেওয়া শট থাকেনি লক্ষে। এ যাত্রায় বেঁচে যায় বাংলাদেশ।
২৫তম মিনিটে স্বপ্নাকে তুলে পুজা দাসকে নামান কোচ বাটলার। একটু পরই থাইল্যান্ডের দূরপাল্লার একটি প্রচেষ্টা ফিস্ট করে ফেরান মিলি। আলগা বলে আরেকজনের চেষ্টা ব্লকড হয় রক্ষণে।
বাংলাদেশে সাফল্য আসে ম্যাচঘড়ির ৩৬তম মিনিটে। এসময় মোমিতা খাতুনের ক্রসের সূত্র ধরেই একাই আক্রমণে ওঠেন মোসাম্মৎ সাগরিকা। ওয়ান-অন-ওয়ান পরিস্থিতিতে তার সামনে ছিলেন কেবল আতিমা বুনপ্রাকানপাই। বুদ্ধিদৃপ্ত শটে থাইল্যান্ড গোলকিপারকে পরাস্ত করে লাল-সবুজ দলকে লিড এনে দেন বাংলাদেশ ফরোয়ার্ড। এই অর্ধে মাত্র একটি গোল হয়।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই উমেলা মার্মার ক্রস থেকে নিজের দ্বিতীয় গোল আদায় করেন সাগরিকা আক্তার। এরপরই ছন্দপতন শুরু হয় বাংলাদেশের।
৬৯তম মিনিটে বক্সের ভেতর ফাউল করে বসেন সুরভী আক্তার। রেফারি সরাসরি পেনাল্টির বাঁশি বাজান। স্পট কিক থেকে থাইল্যান্ডের হয়ে একটি গোল শোধ করেন কুরিসারা।
৭৬তম মিনিটে সমতায় ফিরে স্বাগতিকরা। এবারের গোলটিও পেনাল্টি থেকে। ডি বক্সের ভেতর পিচায়াতিদাকে ফেলে দেন নবীরন খাতুন। স্পট কিক থেকে গোল করেন রিনায়াপাত।
সমতায় ফেরার তিন মিনিট পরই লিড আদায় করে থাইল্যান্ড। ৭৯ মিনিটে পিচায়াতিদার গোলে ৩-২ ব্যবধানে লিড নেয় থাইল্যান্ড। শেষ পর্যন্ত এই ফলে ইতি ঘটে ম্যাচের।