১৩ মে ২০২৬, ২:৫২ পিএম

বিশ্বকাপে নেইমার জুনিয়র কি খেলবেন? এই একটি প্রশ্ন এখন ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (সিবিএফ) অন্দরমহলে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করেছে। তবে খবর হচ্ছে, কোচ কার্লো আনচেলত্তি এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন। নেইমারকে বিশ্বকাপে দেখা যাবে না বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে! কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত তিনি এতটাই গোপন রেখেছেন, সিবিএফের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বড় একটি অংশও এখনো অন্ধকারে।
লন্ডনে ব্রাজিল ফুটবল দলের সমন্বয়ক রদ্রিগো কায়েতানোর সঙ্গে কোচ আনচেলত্তির সাম্প্রতিক আলাপচারিতার পর থেকেই গুঞ্জন ডালপালা মেলতে শুরু করেছে। পুরো ব্রাজিল জুড়ে সাধারণ মানুষ যে প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে, সেই একই প্রশ্ন দেশটির ফুটবল ফেডারেশনের অনেক কর্মকর্তারও!
নির্ভরযোগ্য সূত্রে গ্লোবর প্রতিবেদন, আনচেলত্তি তাঁর এই বড় সিদ্ধান্তের কথা মাত্র হাতেগোনা কয়েকজনকে জানিয়েছেন। সিবিএফের কর্মকর্তাদের মধ্যে শুধুমাত্র জাতীয় দলের সমন্বয়ক এবং কোচের অতি বিশ্বস্ত রদ্রিগো কায়েতানোই জানেন আসল সত্য। এর বাইরে ইতালিয়ান কোচের নিজস্ব কোচিং স্টাফের নির্দিষ্ট সদস্যরাই কেবল এই আলোচনার অংশ হতে পারছেন।
আরও পড়ুন
| পদত্যাগ নয়, আবার রিয়ালের প্রেসিডেন্ট হতে চান পেরেজ |
|
আশ্চর্যের বিষয় হলো, সিবিএফ সভাপতি সামির শাউদ কিংবা পরিচালনা পর্ষদের কাউকেই এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। তবে জানা গেছে, বোর্ড থেকেও এই মুহূর্তে কোচের ওপর কোনো ধরনের বাড়তি চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে না।
ভেতরের পরিবেশ শান্ত দেখানোর চেষ্টা করা হলেও বাইরের চাপ ক্রমেই বাড়ছে। ব্রাজিলের বর্তমান ও সাবেক ফুটবলাররা, যাদের সঙ্গে আনচেলত্তির সুসম্পর্ক রয়েছে, তাঁরা নেইমারের পক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে বিভিন্ন মন্তব্য করে চলেছেন। অনেকে চাইছেন দলের সেরা তারকাকে যেন শেষবারের মতো বিশ্বমঞ্চে সুযোগ দেওয়া হয়।
তবে আনচেলত্তি তাঁর পেশাদারিত্বের জন্য বেশ সুপরিচিত। ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, আবেগ নয় বরং নেইমারের শারীরিক সক্ষমতা এবং কৌশলগত উপযোগিতা বিচার করেই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। ঘোষণা না আসা পর্যন্ত সেই রহস্যের চাবিকাঠি আনচেলত্তি এবং কায়েতানোর পকেটেই থাকছে।
নেইমারের ভবিষ্যৎ নিয়ে এই লুকোচুরি ভক্তদের মনে যেমন শঙ্কা বাড়াচ্ছে, তেমনি বাড়িয়ে দিচ্ছে রোমাঞ্চ। শেষ পর্যন্ত কি ‘১০ নম্বর’ জার্সিধারীকে দেখা যাবে বিশ্বজয়ের মিশনে, নাকি নতুন কোনো অধ্যায়ের সূচনা করতে যাচ্ছেন আনচেলত্তি? উত্তর মিলবে খুব শীঘ্রই।
No posts available.
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের জন্য বৃহস্পতিবার রাতে দল ঘোষণা করেছে ফ্রান্স। ২৬ সদস্যের সেই দলে জায়গা হয়নি এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গার। রিয়াল মাদ্রিদে খেলা এই অভিজ্ঞ মিডফিল্ডারের বাদ পড়ার ব্যাখায় ফরাসি কোচ দিদিয়ের দেশম জানান, দলের ভারসাম্য রক্ষায় এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে তাকে।
২০২০ সালে ফরাসি জার্সিতে অভিষেক করেন কামাভিঙ্গা। এখন পর্যন্ত ২৯ ম্যাচ খেলে করেছেন ২ গোল। সবশেষ ২৯ মার্চ কলম্বিয়ার বিপক্ষে ফ্রান্সের হয়ে মাঠে নেমেছিলেন ২৩ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার।
বিশ্বকাপের দল ঘোষণার পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন দেশম। সেখানে কামাভিঙ্গাকে বাদ দেওয়ার ব্যাখ্যায় ফরাসি কোচ বলেন,
‘তাঁর জন্য মৌসুমটি বেশ কঠিন ছিল, সে খেলার সুযোগ কম পেয়েছে। তাছাড়া সে চোটেও পড়েছিল। এটা সত্যি যে সে খুব অল্প বয়সেই আমাদের দলে চলে এসেছিল এবং সে এখনো একজন তরুণ খেলোয়াড়।‘
দলের ভারসাম্য রক্ষার কথা উল্লেখ করে ফরাসি কোচ আরও বলেন,
‘যেহেতু দল গঠনের জন্য আমাকে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিতে হয়, তাই রক্ষণভাগ, মধ্যমাঠ এবং আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের মধ্যে একটি ভারসাম্য বজায় রাখতে হয়েছে। তবে আমি কামাভিঙ্গার অনুভূতি বুঝতে পারছি এবং আজ রাতে (বৃহস্পতিবার) তাঁর যে বিশাল হতাশা তৈরি হয়েছে, তা আমি অনুভব করতে পারছি।‘
২০২২ কাতার বিশ্বকাপে রানার্স-আপ হওয়া ফ্রান্স দলের অন্যতম সদস্যও ছিলেন কামাভিঙ্গা। গ্রুপপর্বের একটি ম্যাচ এবং আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ফাইনালে বদলি খেলোয়াড় হিসেবেও মাঠে নেমেছিলেন।
কামাভিঙ্গার মতো নিয়মিত দলের সদস্যকে বাদ দেওয়ার সহজ নয় জানিয়ে দেশম বলেন,
‘আমি জানি কিছু খেলোয়াড়ের জন্য এটি মেনে নেওয়া কঠিন, বিশেষ করে যারা নিয়মিত দলে থাকে। তবে এটাই পেশাদারিত্ব।‘
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের পরই ফ্রান্সের দায়িত্ব ছাড়বেন দেশম। ৫৭ বছর বয়সী এই কোচের অধীনে ২০১৮ সালে নিজেদের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জেতে ফ্রান্স। বিদায়বেলায় নিজ দেশকে আরও একটি ট্রফি উপহার দিতে চান দেশম,
‘বেশ ভালোভাবেই জানি এগুলোই আমার দায়িত্বের শেষ মুহূর্তগুলোর কিছু অংশ। এটি বিশেষ অনুভূতি। আমি আবেগ প্রকাশ করতে খুব একটা অভ্যস্ত নই, বিশেষ করে সংবাদ সম্মেলনে যেখানে প্রতিটি শব্দের ভুল ব্যাখ্যা হতে পারে; তবে আমি ভালো বোধ করছি। এখন আমি আমার সমস্ত শক্তি টুর্নামেন্টের ওপর ফোকাস করছি।‘
আগামী ১১ জুন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপে গ্রুপ ‘আই’ তে ফ্রান্স। ১৬ জুন সেনেগালের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে তাদের অভিযান শুরু হবে। এরপর ২২ জুন ইরাক এবং ২৬ জুন নরওয়ের মুখোমুখি হবে 'দুই বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা'। মূল টুর্নামেন্টের আগে দিদিয়ের দেশমের দল আইভরি কোস্ট এবং নর্দান আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে লে ব্লুজরা।
সমস্যা দলবল বেধেই হানা দেয়। রিয়াল মাদ্রিদের অবস্থাটা ঠিক এমনই নয়? টানা দ্বিতীয়বারের মতো মেজর কোনো ট্রফি ছাড়াই মৌসুম শেষ করতে যাওয়া সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর ক্লাব নানা সমস্যায় জর্জরিত। সতীর্থদের মারামারি, জরিমানা, খেলায়াড়-কোচদের মধ্যে এড়িয়ে চলার ঘটনা হরহামেশা ঘটছে। যার সবশেষ সংযোজন কিলিয়ান এমবাপে ও আলভারো আরবেলোয়া ‘কথা যুদ্ধ’।
বৃহস্পতিবার রাতে লা লিগায় ওভিয়েদোর বিপক্ষে রিয়ালের ২-০ গোলে জয়ের ম্যাচে ৬৯ মিনিটে বদলি হিসেবে নামেন কিলিয়ান এমবাপে। এসময় সমর্থকদের দুয়োর খপ্পরে পড়েন ফরাসি ফরোয়ার্ড। চোট থেকে ফেরা এমবাপেকে সহজভাবে মেনে নিতে পারেনি রিয়াল সমর্থকরা।
ম্যাচের শুরুর একাদশে এমবাপে না দেখে অনেকেই অবাক হয়েছেন। ফরাসি ফরোয়ার্ড নিজেও মনঃক্ষুণ্ণ এ বিষয়ে। ম্যাচ শেষে তার কথায় স্পষ্ট হয়েছে বিষয়টি। সম্প্রচার চ্যানেলকে এমবাপে বলেন,
‘আমি শতভাগ প্রস্তুত। (একাদশে) খেলতে পারিনি, কারণ, কোচ আমাকে জানিয়েছেন, তাঁর কাছে আমি দলের চতুর্থ পছন্দের স্ট্রাইকার। আমি মাস্তানতুয়োনো, ভিনিসিয়ুস ও গঞ্জালো থেকে পিছিয়ে। আমি এটা মেনে নিয়েছি এবং যতটুকু খেলার সময় পেয়েছি খেলেছি। সম্ভবত ভালোই খেলেছি।’
ম্যাচ–পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এমবাপের এমন মন্তব্য নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন আরবেলোয়া। তিনি জানান, এমবাপেকে উদ্দেশ্য করে এমন কিছুই তিনি বলেননি।
রিয়ালের কোচ বলেন,
‘আমার যদি চারজন ফরোয়ার্ড থাকত! আমার তো চারজন ফরোয়ার্ডই নেই। আর আমি এমবাপেকে এমন কিছু কখনোই বলিনি। হতে পারে সে আমার কথা ভুল বুঝেছে। এর বাইরে আমার আর কিছু বলার নেই। কোনো অবস্থাতেই আমি তাকে চতুর্থ পছন্দের ফরোয়ার্ড বলতে পারি না।’
এমবাপের মন্তব্য এবং সাংবাদিকের কার্লিং শটে খেই না হারিয়ে বরং নিজের অবস্থা আরও শক্তিশালী করেন আরবেলোয়া। স্মরণ করান নিজের কর্তৃত্বের কথা।
আরবেলোয়া বলেন,
‘আমি কোচ, কে খেলবে আর কে খেলবে না, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব আমার। ম্যাচের আগে তার সঙ্গে আমার কথা হয়েছিল। সে সেটা কীভাবে নিয়েছে, আমি জানি না।’
২০২৫-২৬ মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে মৌসুমে ৪১ ম্যাচে ৪১ গোল করেছেন এমবাপে। তবে রিয়ালের সাফল্য না পাওয়ার বিষয়টি পুরোপুরি এমবাপের ওপর চাপিয়ে দিতে ব্যস্ত সমর্থকরা। ইতোমধ্যে তাকে রিয়াল থেকে বের করে দিতে পিটিশন চালু করে তারা। যেখানে লাখ লাখ ভোট পড়ে ফরাসি ফরোয়ার্ডের বিপক্ষে।
বিশ্বকাপের জন্য ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করেছে জাপান। শুক্রবার টোকিওতে কোচ হাজিমে মোরিয়াসুসের ঘোষিত সেই দলে জায়গা করে নিয়েছেন দীর্ঘদিন ইনজুরির সাথে লড়াই করা তাকেহিরো তোমিয়াসু।
ইনজুরির কারণে প্রায় দুই বছর ‘সামুরাই ব্লু’দের হয়ে মাঠে নামা হয়নি সাবেক আর্সেনাল ডিফেন্ডার তোমিয়াসুসের। সবশেষ ২০২৪ সালের জুনে সিরিয়ার বিপক্ষে দেশের জার্সি গায়ে জড়িয়েছিলেন তিনি। গত বছর আর্সেনালের সাথে চুক্তি বাতিলের পর বর্তমানে ডাচ ক্লাব আয়াক্সে খেলছেন এই সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার।
জাপান দলে আরও জায়গা করে নিয়েছেন লিভারপুলের অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার ওয়াতারু এন্দো এবং ৩৯ বছর বয়সী অভিজ্ঞ ফুলব্যাক ইউতো নাগাতোমো।
তোমিয়াসুর ফেরার দিনে জাপানের বিশ্বকাপ দলে বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে কাওরু মিতোমার অনুপস্থিতি। চলতি মাসে উলভারহ্যাম্পটনের বিপক্ষে ম্যাচে হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে পড়ায় ব্রাইটন তারকা মিতোমাকে ছাড়াই মেক্সিকো, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বিমান ধরতে হচ্ছে জাপানকে।
গত দুই বিশ্বকাপে শেষ ১৬ থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল সূর্যোদয়ের দেশ জাপানকে। ২০১৮ সালে বেলজিয়াম এবং ২০২২ সালে ক্রোয়েশিয়ার কাছে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল তাদের। কোচ হিসেবে এটি মোরিয়াসুর দ্বিতীয় বিশ্বকাপ।
জাপানের বিশ্বকাপ স্কোয়াড:
গোলকিপার: জায়ন সুজুকি, তোমোকি হায়াকাওয়া, কেইসুকে ওসাকো।
রক্ষণভাগ: ইউতো নাগাতোমো, শোগো তানিগুচি, কো ইতাকুরা, সুয়োশি ওয়াতানাবে, তাকেহিরো তোমিয়াসু, হিরোকি ইতো, আইয়ুমু সেকো, ইয়ুকিনারি সুগাওয়ারা, জুনোসুকে সুজুকি।
মধ্যমাঠ ও আক্রমণভাগ: ওয়াতারু এন্দো, জুনিয়া ইতো, দাইচি কামাদা, কোকি ওগাওয়া, দাইজেন মায়েদা, রিতসু দোয়ান, আয়াসে উয়েদা, আও তানাকা, কেইতো নাকামুরা, কাইশু সান্নো, তাকেফুসা কুবো, ইউইতো সুজুকি, কেন্টো শিগাই ও কেইসুকে গোতো।
২০২৬ বিশ্বকাপ ট্রফি কার হাতে উঠবে? এই মুহূর্তে সবচেয়ে বহুল ব্যবহৃত শব্দ বোধহয় এটিই! ৪৮ দলের অংশগহণে ২০২৬ বিশ্বকাপে যে ক’দল এগিয়ে তার অন্যতম ফ্রান্স। সাবেক দুইবারের চ্যাম্পিয়নদের এগিয়ে রাখার অন্যতম কারণ - ফরাসি দলটির কোচ দিদিয়ের দেশম একজন সত্যিকারের নেতা। যিনি দেশটির প্রথম বিশ্বকাপ জয়ী দলের অধিনায়কও বটে।
শুধুই একজন দুর্দান্ত কোচ রয়েছে ফ্রান্সের বিশ্বকাপমুখী দলে? বরং রায়ান শেরকি, উসমান দেম্বেলে, দেজিরে দুয়ে, জ্যঁ-ফিলিপ মাতেতা, কিলিয়ান এমবাপে, মাইকেল ওলিসে, মার্কোস থুরাম ও ব্র্যাডলি বারকোলাদের নিয়ে ঘটিত আক্রমণভাগ ফ্রান্সকে দিয়েছে শক্ত ভিত। বিশ্বসেরা আক্রমণভাগ এবং একজন স্বপ্নদেষ্টা কোচের কারণেই ক্রিস্তিয়ঁ কাহেম্বুর বিশ্বাস হ্যাটট্রিক শিরোপার পথেই ফ্রান্স।
১৯৯৮ সালে ফরাসিদের প্রথম বিশ্বকাপ জয়ী দলের ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডারের মতে, দিদিয়ের দেশমের হাত ধরে হ্যাটট্রিক বিশ্বকাপ জিতবে ফ্রান্স।
কাহেম্বুর বলেন,
“নঁতে খেলার সময়েই বয়সের তুলনায় সে (দেশম) অনেক পরিণত ছিল। ১৫ কিংবা ১৬ বছর বয়সেই সে সিনিয়র দলকে নেতৃত্ব দিয়েছে। সে খুবই বুদ্ধিমান এবং ক্যারিশম্যাটিক ব্যক্তি- সত্যিকারের নেতা। সে যেভাবে ফ্রান্স, জুভেন্তুস, মার্সেই ও মোনাকোকে নেতৃত্ব দিয়েছে, তাতে প্রমাণ মেলে; সে যেখানেই গেছে, সফলতা তাকে অনুসরণ করেছে। তার ক্যারিয়ার সত্যিই অসাধারণ।”
দেশমের কোচিংয়ে কাতারের গত বিশ্বকাপেও দুর্দান্ত পারফর্ম করে ফ্রান্স। তবে আর্জেন্টিনার কাছে ফাইনালে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয় ফরাসিদের। এবার যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতেও একই লক্ষ্য নিয়ে যাবে ফ্রান্স।
কাহেম্বুর বলেন,
“ফ্রান্সের ফুটবল ইতিহাসে সে সত্যিকারের অভিভাবক, দেশের দুই বিশ্বকাপ জয়েই সে বড় কারিগর ছিল- আমার বিশ্বাস এবার সে হ্যাটট্রিক করবে। সে আগেই ঘোষণা করেছে যে, এটা তার শেষ বিশ্বকাপ। তাই সবচেয়ে বড় শিরোপা, আরেকটি বিশ্বকাপ জিতে তার বিদায় নেওয়াটাই সবচেয়ে দারুণ হবে।”
ব্রাজিল ফুটবল দলের প্রধান কোচ হিসেবে কার্লো আনচেলত্তির ওপরই দীর্ঘমেয়াদী আস্থা রাখল ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ)। ২০৩০ ফিফা বিশ্বকাপ পর্যন্ত এই ইতালিয়ান কোচের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে সিবিএফ। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
২০২৫ সালের মে মাসে সেলেসাওদের দায়িত্ব গ্রহণ করেন আনচেলত্তি। গত এক বছরে তাঁর অধীনে ১০ ম্যাচ খেলেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা, যার মধ্যে ৫ জয়, ২ ড্র এবং হেরেছে ৩ ম্যাচে।
আনচেলত্তির অধীনেই ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করে ব্রাজিল। বৈশ্বিক এই মঞ্চে সেলেসাওদের নেতৃত্ব দেওয়া প্রথম বিদেশি কোচ হতে যাচ্ছেন এই অভিজ্ঞ মাস্টারমাইন্ড।
চুক্তি নবায়নের পর সিবিএফের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আনচেলত্তি বলেন,
‘এক বছর আগে ব্রাজিলে এসেছিলাম। প্রথম মিনিট থেকেই বুঝতে পেরেছি এ দেশে ফুটবল মানে কী। এক বছর ধরে আমরা ব্রাজিলকে বিশ্বের শীর্ষে ফিরিয়ে নিতে কাজ করছি। কিন্তু সিবিএফ এবং আমি আরও বেশি জয়, আরও সময় এবং আরও কাজ করতে চাই।‘
সিবিএফ সভাপতি সামির জউদ এই চুক্তি নবায়নকে ঐতিহাসিক দিন হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন,
‘কার্লো আনচেলত্তির চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো আমাদের সেই অঙ্গীকারেরই অংশ, যেখানে আমরা বিশ্বসেরা এই দলকে আরও শক্তিশালী, আধুনিক এবং প্রতিযোগিতামূলক কাঠামো দিতে চাই।‘
সোমবার বিশ্বকাপের জন্য ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করবেন আনচেলত্তি। খেলোয়াড় ও সহকারী কোচ হিসেবে বিশ্বকাপের অভিজ্ঞতা থাকলেও প্রধান কোচ হিসেবে বিশ্বকাপের মঞ্চে এটিই হবে তাঁর প্রথম টুর্নামেন্ট।
আগামী ১১ জুন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপে গ্রুপ ‘সি’ তে ব্রাজিল। ১৪ জুন মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে এবারের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে সেলেসাওরা। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের গ্রুপে অন্য দুই প্রতিপক্ষ হাইতি এবং স্কটল্যান্ড।