১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:২৬ পিএম

২০২৫-২৬ মৌসুমের দ্বিতীয় ‘ম্যানচেস্টার ডার্বি’ ২-০ গোলে জিতেছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দু’দলের ম্যাচ শেষ হলেও রেষ কিন্তু রয়েছে। আর্জেন্টাইন সেন্টারব্যাক লিসান্দ্রো মার্তিনেজকে নিয়ে ম্যান ইউনাইটেডের ইতিহাসের অন্যতম সেরা মিডফিল্ডার—পল স্কোলস ও নিকি বাটের মন্তব্য নিয়ে চলছে জোর আলোচনা।
ডার্বির আগে ‘দ্য গুড, দ্য বেড এন্ড দ্য ফুটবল’ পডকাস্টে অংশ নিয়ে বাট বলেছিলেন,
‘নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকার আর্লিং হলাল্ডের যে উচ্চতা, সে তাঁর শারীরিক আকারের কারণে সম্ভবত মার্তিনেজকে হাতে নিয়ে দৌড়াবে।’
বাটের কথার সঙ্গে তাল মেলান স্কোলস। তিনি বলেছিলেন,
‘‘হ্যাঁ, হলান্ডের যে উচ্চতা (৬ ফুট ৬ ইঞ্চি), সে নিশ্চিত ৫ ফুট ৯ ইঞ্চি উচ্চতার মার্তিনেজকে ‘নেটে ছুঁড়ে ফেলে দেবে’।’’
বাট-স্কোলসের মন্তব্য অবশ্য ভুল প্রমাণ করেন ২৮ বর্ষী আর্জেন্টাইন সেন্টারব্যাক। ৯০ মিনিট মাঠে থেকে হলান্ডকে মার্কে রাখেন তিনি। সুযোগ দেননি আক্রমন গড়ে তোলার। যার ফল শেষ পর্যন্ত পেয়েছে রেড ডেভিলরা।
ম্যাচ শেষে অবশ্য ক্লাবের সাবেক দুই কিংবদন্তির মন্তব্য নিয়ে মুখ খুলেছেন লিসান্দ্রো। সাংবাদিকদের তিনি জানিয়েছেন, ম্যাচের আগে সাবেকদের এমন মন্তব্য তাঁকে আরও উৎসাহ জুগিয়েছে।
লিসান্দ্রো প্রথমে স্কোলসকে উদ্দেশ্য করে বলেন,
‘সত্যি বলতে, তিনি তা বলতেই পারেন। আমি তাকে আগেও বলেছি, যদি কিছু বলতে চান, সরাসরি যেকোনো জায়গায় এসে বলতে পারেন— হতে পারে সেটা আমার বাড়ি কিংবা আপনার যেখানে খুশি। আমি এসবের পাত্তা দিই না।’
যারা ক্লাবকে সাহায্য করেন, তাদের সবসময়ই সম্মান করেন লিসান্দ্রো। তিনি বলেন,
‘যারা ক্লাবের জন্য সাহায্য করতে চায়, তাদের প্রতি আমি সম্মান দেখাই। সবাই টেলিভিশনে এসব বলে, কিন্তু যখন সামনে আসে, তখন কেউ কিছু বলে না।’
সর্বোপরি, আর্জেন্টাইন সেন্ট্রারব্যাক যোগ করেন,
‘তারা যা বলছে তা নিয়ে মাথা ঘামাই না। আমি আমার পারফরম্যান্স, দলের পারফরম্যান্সে মন দিই এবং শেষ দিন পর্যন্ত এই ক্লাবের জন্য লড়ে যাব।’
মার্তিনেজের উক্তি সামাজিক মাধ্যমে আসার পরে, স্কোলস প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। ইনস্টাগ্রামে এই কিংবদন্তি লিখেছেন,
‘কেউ ভালো খেলেছে, সত্যিই তোমার জন্য খুশি… চা চাই, তবে চিনি নয়।”
No posts available.
১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ৬:৪৯ পিএম

অনূর্ধ্ব-১৭ জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে আজ ছিল চারটি ম্যাচ। শীতলক্ষ্যা জোনে গাজীপুর ও ময়মনসিংহ জেলা দলের মধ্যকার ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র হয়। এছাড়া জয় পেয়েছে বাগেরহাট, পটুয়াখালী ও জামালপুর জেলা।
পিরোজপুর জেলা স্টেডিয়াম রোববার হয় কীর্তনখোলা জোনের দুই ম্যাচ। গ্রুপ পর্বের দিনের প্রথম ম্যাচে বরিশালকে ১-০ গোলে হারায় বাগেরহাট জেলা ফুটবল দল।
৭৬ মিনিটে বাগেরহাটের অধিনায়ক লাবিব হাওলাদারের নিখুঁত পাস থেকে রাকিব শেখ দুর্দান্ত শটে এগিয়ে বাগেরহাট দলকে। ৮৪ মিনিটে মুন্নার শট গোলপোষ্টে লেগে ফিরলে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ হারায় বাগেরহাট। তাতে অবশ্য অসুবিধা হয়নি জয় পেতে, পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিয়েই মাঠ ছাড়ে তারা।
এই জয়ে গ্রুপ ‘এ’থেকে বাগেরহাট দলের সেমিফাইনালে ওঠার পথ অনেকটাই সহজ হয়ে যায়। উপস্থিত থেকে রাকিব শেখেকে ম্যাচ সেরার পুরষ্কার তুলে দেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সদস্য জাকির হোসেন চৌধুরী।
দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে গ্রুপ ‘এ’র আরেক লড়াইয়ে পটুয়াখালী ৪-১ গোলে হারায় বরগুনা অনূর্ধ্ব-১৭ জেলা দলকে। দারুণ জয়ে সেমিফাইনালও নিশ্চিত করে দলটি।
১১ মিনিটে পটুয়াখালীর গোলকিপার ইমনের হাত ফসকে পড়া বল থেকে বরগুনার রায়হান রামিম গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। ২২ মিনিটে সাব্বির হোসাইনের নিখুঁত ক্রস থেকে ইয়ামিন মিয়া সাইড ভলিতে গোল করে সমতা ফেরান বরগুনাকে।
৪৩ মিনিটে সজিব পলের ক্রস থেকে সাব্বির হোসাইন গোল করে পটুয়াখালীকে এগিয়ে নেন। বিরতির পর ৫১ মিনিটে ইয়ামিন মিয়ার ক্রস থেকে সাব্বির নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোলটি করেন। ৮৭ মিনিটে কর্নার থেকে নাফিউল ইসলাম হেড করে গোল করলে ৪-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হয় পটুয়াখালীর। জয়ী দলের মোহাম্মদ সাব্বির হোসাইন ম্যাচ সেরা খেলোয়াড় হয়েছেন।
একই দিনে জামালপুর জেলা স্টেডিয়াম হয় শীতলক্ষ্যা জোনের দুই ম্যাচ। প্রথম ম্যাচে স্বাগতিক জামালপুর ২-১ গোলে টাঙ্গাইলকে পরাজিত করে। ৬ মিনিটে মো. আল মাহাদি গোল করে জামালপুরকে এগিয়ে নেন। ২৩ মিনিটে আবির দ্বিতীয় গোলটি করেন। দুই গোলেই অ্যাসিস্ট করেন আজম। ৪৮ মিনিটে টাঙ্গাইলের ফাহাদুল গোল করে ব্যবধান কমান। ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হন জামালপুরের আজম।
এই জোনের দ্বিতীয় ম্যাচে গাজীপুর ও ময়মনসিংহ জেলা দলের মধ্যকার লড়াইটি ২-২ গোলে ড্র হয়। গাজীপুরের হয়ে ৩৩ মিনিটে সিয়াম গোল করেন। ৮০ মিনিটে সাইফুল নিজেই গোল করে দলকে এগিয়ে নেন, অ্যাসিস্ট করে জিসান। ময়মনসিংহের হয়ে ৩৯ মিনিটে শিশির গোল করেন। ৭৩ মিনিটে রাফসান ফ্রি কিক থেকে গোল করে সমতা ফেরান। গাজীপুরের সাইফুল ইসলাম হয়েছেন এই ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়।

শনিবার রাতে লেভান্তেকে ২-০ গোলে হারিয়ে বার্সেলোনার সঙ্গে ব্যবধান এক পয়েন্টে নামিয়ে আনে রিয়াল মাদ্রিদ। এগিয়ে যাওয়ার লড়াইয়ে আজ মাঠে নামছে হান্সি ফ্লিকের দল। বাংলাদেশ সময় রাত ২টায় লা লিগায় রিয়াল সোসিয়েদাদের মুখোমুখি হবে স্প্যানিশ জায়ান্টরা।
এই ম্যাচে খেলতে পারবেন না বার্সেলোনার নিয়মিত অধিনায়ক রাফিনিয়া। ছন্দে থাকা ফরোয়ার্ডকে পাওয়া যাবে না এই ম্যাচে এমন একটা শঙ্কা আগে থেকেই ছিল। শেষ পর্যন্ত সেটি সত্যি হলো। ছিটকে গেলেন ব্রাজিলিয়ান তারকা ফরোয়ার্ড।
ছোট চোট থাকায় শনিবার দলের সঙ্গে অনুশীলন করতে পারেননি রাফিনিয়া। এক বিবৃতিতে বার্সেলোনা নিশ্চিত করে আজকের ম্যাচে খেলবেন না রাফিনিয়া, ‘ডান ঊরুতে পাওয়া আঘাতের জন্য সতর্কতার অংশ হিসেবে রিয়াল সোসিয়েদাদের বিপক্ষে ম্যাচে বাইরে থাকবেন রাফিনিয়া।’
এর আগে সৌদি আরবে হওয়া স্প্যানিশ সুপার কাপের দুই ম্যাচে ৪ গোল করে বার্সেলোনার শিরোপা জয়ে বড় অবদান রাখেন রাফিনিয়া।
লা লিগায় রিয়ালের সঙ্গে এক পয়েন্টের ব্যবধান হলেও শীর্ষে থাকা বার্সেলোনা এক ম্যাচ কম খেলেছে। ১৯ ম্যাচে কাতালান ক্লাবটির পয়েন্ট ৪৯। আজ রাতে সোসিয়েদাদকে হারিয়ে ব্যবধান ফের চার পয়েন্ট বাড়িয়ে নিতে পারে বার্সেলোনা। পয়েন্ট টেবিলের তিনে ভিয়া রিয়াল। তাদের সংগ্রহ ৪১ পয়েন্ট।

আফকনের দামামা বেজে উঠেছে বুঝি। শিরোপার লড়াইয়ের জন্য যেসব উপাদান প্রয়োজন, তার সবই দেখা যাচ্ছে সেনেগাল ও মরক্কোর ফাইনালে। তীর্যক মন্তব্য, সুযোগ-সুবিধা নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ কিংবা ট্রফিতে চুমু আঁকার আকুতি—এসবই তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে দুই দলকে।
মরক্কোর স্তাদ প্রিন্স মৌলে আবদাল্লাহ স্টেডিয়ামে আজ বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় শুরু শিরোপার লড়াই। আফ্রিকা অঞ্চলের দুই দলই এর আগে একবার করে শিরোপা জিতেছে। আজ নিজেদের ছাড়িয়ে যাওয়ার মিশনে নামবে তারা।
১৯৭৬ সালে সবশেষ এবং প্রথম আফকন জিতেছিল মরক্কো। এরপর আর শিরোপার দেখা পায়নি ২০২২ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্টরা। এবার তারা বেশ সাফল্যের সঙ্গেই শিরোপার মঞ্চে পা রেখেছে।
সেনেগাল সবশেষ শিরোপা জিতেছে ২০২১ সালে। মিসরকে পেনাল্টিতে হারিয়েছিল দলটি। এবারও তারা শেষ চারে নীল নদের দেশকে প্রতিপক্ষ হিসেবে পায় এবং সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়।
আফ্রিকা কাপ অব নেশনসে ‘এ’ গ্রুপে ছিল মরক্কো। পাঁচ ম্যাচের তিনটিতে জেতে আশরাফ হাকিমিরা। বাকি দুই ম্যাচে পয়েন্ট ভাগাভাগি করে তারা। শেষ চারে তাদের প্রতিপক্ষ ছিল নাইজেরিয়া। পেনাল্টিতে গড়ানো ম্যাচ ৪-২ ব্যবধানে জেতে মরক্কো।
সেনেগাল ছিল ‘ডি’ গ্রুপে। পাঁচ ম্যাচের চারটিতেই জেতে দলটি। শেষ আটে তাদের প্রতিপক্ষ ছিল মালি এবং শেষ চারে মিসর। যে মিসরকে ২০২১ সালে দুঃখ দিয়েছিল, এবারও তার পুনরাবৃত্তি ঘটায় সাদিও মানের দল।
একে তো আফকনের আয়োজক মরক্কো, তার ওপর আসরে সব ম্যাচই এক স্টেডিয়ামে খেলেছে দলটি। অর্থাৎ ট্রাভেলের ঝক্কি পোহাতে হয়নি তাদের। ফাইনালে এই অ্যাডভান্টেজ বেশ ভালোভাবেই পেতে পারে মরক্কো।
মাঠে নামার আগে স্বাগতিক মরক্কোর বিরুদ্ধে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অভিযোগ জানিয়েছে সেনেগাল। সেনেগাল ফুটবল ফেডারেশন (এফএসএফ) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে মরক্কোর রাবাতে দলের আগমনের সময় নিরাপত্তার অভাব, আবাসন ব্যবস্থা, অনুশীলনের সুবিধা এবং সমর্থকদের জন্য যথাযথ টিকিট বরাদ্দের সমস্যার কথা তুলে ধরেছে।
সেনেগাল আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশন (সিএএফ) ও স্থানীয় আয়োজক কমিটিকে অনুরোধ করেছে—
‘যেকোনো সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য, যাতে দুই দলের জন্য সমতা, সমান আচরণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়, যা আফ্রিকান ফুটবলের এই উৎসবের সাফল্যের জন্য অপরিহার্য।’
সেনেগালের কোচ পেপে থিয়াও বলেছেন,
‘গতকাল যা হয়েছে, তা স্বাভাবিক নয়। দলের সঙ্গে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ছিল না। ফুটবলাররা বিপদে পড়তে পারত। এমন ঘটনা এই দুই দেশের মধ্যে হওয়া উচিত নয়।’
মরক্কোর কোচ ওয়ালিদ রেগরাগুই বলেছেন,
‘ফাইনালের ফল নির্ভর করবে আমরা আবেগ কতটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি তার ওপর। আমরা ঘরের মাঠে খেলছি, চাপ থাকবে আমাদের ওপর—কিন্তু সেটি যেন প্রভাব না ফেলে। এমন পরিস্থিতিতে ফুটবলারদের শান্ত থাকতে হবে। আমাদের ভয় এই জায়গাতেই। সেনেগাল শক্ত প্রতিপক্ষ। লড়াইটা সমানে সমান হলেও দর্শকদের কারণে আমাদের সুযোগ ৫১ শতাংশ।’

ফুটবলের দুই কিংবদন্তি লিওনেল মেসি ও ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর মধ্যে তুলনা নিয়ে তর্ক-বিতর্ক চলে আসছে বহুদিন। মাঠের পারফরম্যান্সের তুলনা টানতে দুই মহাতারকার সমর্থকরাই কথার লড়াইয়ে জড়িয়ে মুখে ফেনা তুলে ফেলেন। তবে একজায়গায় চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী থেকে ঢের এগিয়ে ‘সিআর সেভেন’। আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক মেসি থেকে পর্তুগিজ তারকার আয় এখন প্রায় দ্বিগুণ।
বিশ্বের খেলোয়াড়দের আয় নিয়ে ‘স্পোর্টিকো’ একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। যেখানে রোনালদো শীর্ষে রয়েছেন। পর্তুগিজ ফুটবলার ২০২৫ সালে তাঁর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী লিওনেল মেসি থেকে দ্বিগুণ আয় করেছেন। আল-নাসরের এই ফরোয়ার্ড সবশেষ বছরে ২৬০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩১ হাজার ৭২০ কোটি টাকা কামিয়েছেন। আয়ের তালিকায় শীর্ষ ১০০ খেলোয়াড়ের মধ্যে ১৩ জনই ফুটবলার।
সামাজিক মাধ্যমে রেকর্ড অনুসারীর অধিকারী রোনালদো স্কোর্টিকোর তালিকার শীর্ষে রয়েছেন টানা তৃতীয় বছর। সৌদি প্রো লিগ ক্লাবের সঙ্গে চুক্তি থেকে ১২ মাসে ২০ কোটি ডলার আয় করেছেন ৪০ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডের। এছাড়াও তিনি অন্যান্য ব্যবসা থেকে তাঁর আয় ৬০ মিলিয়ন ডলার।
পাঁচবারের ব্যালন ড’অর বিজয়ী সিআর সেভেন টানা নয় বছর কমপক্ষে ১০ কোটি ডলার আয় করছেন। ফুটবলের বাইরে বিজ্ঞাপন, স্পনসরশিপ ও বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সঙ্গে চুক্তি থেকে আয় করেছেন তিনি। রোনালদোর সামাজিক মাধ্যমে অনুসারির সংখ্যাও ছাড়িয়েছে ১০০ কোটি।
এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসে চমক দেখিয়েছেন মেক্সিকান বক্সার ক্যানেলো আলভারেজ। বক্সিং রিংয়ে নামার জন্যই প্রতি ম্যাচে তিনি ৩৫ থেকে ৫০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত আয় নিশ্চিত করেন। পাশাপাশি মেক্সিকোতে তার মালিকানাধীন জ্বালানি ব্যবসা ‘ক্যানেলো এনার্জি’ বর্তমানে শতাধিক গ্যাস স্টেশনে বিস্তৃত, যা তার আয়ের একটি বড় উৎস হয়ে উঠেছে।
তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছেন লিওনেল মেসি। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাব ইন্টার মিয়ামির হয়ে খেলছেন তিনি। যদিও মাঠের বাইরের ব্র্যান্ড ভ্যালু ও জনপ্রিয়তায় মেসি এখনো বিশ্বের শীর্ষ ক্রীড়াবিদদের একজন, তবুও আয়ের দিক থেকে রোনালদোর সঙ্গে ব্যবধান বেশ বড়।
ফুটবলারদের মধ্যে সৌদি ক্লাব আল-ইত্তিহাদে খেলা করিম বেনজেমা ১১৫ মিলিয়ন ডলার আয় করে আছেন তালিকার সপ্তম স্থানে। এছাড়া ফ্রান্সের তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে ৯৫ মিলিয়ন ডলার নিয়ে অবস্থান করছেন দ্বাদশ স্থানে। নরওয়ের স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড ৭৭.৯ মিলিয়ন ডলার আয় করে আছেন ১৮ নম্বরে।
আয়ে বড় অধঃপতন হয়েছে নেইমারের। গত বছরটা মোটেও ভালো যায়নি ব্রাজিলিয়ান তারকা ফুটবলারের। সান্তোসের ১০ নম্বর জার্সিধারী ২০২৫ সালের শুরুর দিকে তিনি নিজের মাতৃভূমিতে ফিরে গিয়েছিলেন। সৌদি প্রো লিগের আল-হিলালের সঙ্গে চুক্তি বাতিল হওয়ার পর, নেইমারের আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এর ফলে তিনি শীর্ষ ছয়ের মধ্যে থেকে ৩০ নম্বরে নেমে গেছেন। সান্তোসের রাজপুত্রের আয় ৫ কোটি ডলার হ্রাস পেয়েছে। ২০২৫ সালে নেইমারের মোট আয় হয়েছে ৩.৭ কোটি ডলার।

আফ্রিকা কাপ অব নেশনসে (আফকন) ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে মরক্কো-সেনেগাল। বাংলাদেশ সময় আজ রাত ১টায় শিরোপার মঞ্চে নামার আগে স্বাগতিক স্বাগতিক মরক্কোর বিরুদ্ধে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অভিযোগ জানিয়েছেন সেনেগাল।
সেনেগাল ফুটবল ফেডারেশন (এফএসএফ) গতকাল একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়। বিবৃতিতে তারা মরক্কোর রাবাতে দলের আগমনের সময় নিরাপত্তার অভাব, আবাসন ব্যবস্থা, অনুশীলনের সুবিধা এবং সমর্থকদের জন্য যথাযথ টিকিট বরাদ্দে সমস্যা তুলে ধরেছে।
সেনেগাল আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশন (সিএএফ) এবং স্থানীয় আয়োজনকারী কমিটিকে অনুরোধ করেছে, ‘যেকোনো সংশোধনাত্মক ব্যবস্থা নেয়ার জন্য যাতে দুই দলের জন্য সমতা, সমান আচরণ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়, যা আফ্রিকান ফুটবলের এই উৎসবের সাফল্যের জন্য অপরিহার্য।’
সেনেগাল খেলোয়াড়রা শুক্রবার ট্যাঙ্গিয়ার থেকে রাবাতে ট্রেনে পৌঁছায়। তবে ফেডারেশন জানিয়েছে, সেখানে ‘উপযুক্ত নিরাপত্তার স্পষ্ট অভাব’ ছিল। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, খেলোয়াড় ও স্টাফদের চারপাশে ভিড়। ছবি তোলার জন্য সমর্থকদের একটি অংশ হুমড়ি খেয়ে পড়লে ভিড়ের মধ্যে আটকা পড়ে সেনেগাল দল।
সেনেগালের কোচ পাপে থিয়াও বলেছেন, ‘যা ঘটেছে তা অস্বাভাবিক। সেনেগালের মতো একটি দলকে এভাবে ভিড়ের মধ্যে ফেলে দেওয়া উচিত নয়, খেলোয়াড়রা বিপদে ছিল। খারাপ উদ্দেশ্যের মানুষদের কারণে যে কোনো ঘটনা ঘটতে পারত।’
শুধু নিরাপত্তাই নয়, সেনেগালের জন্য বরাদ্দ হোটেল ও অনুশীলন নিয়ে অভিযোগ ওঠে। দলটির ফেডারেশন জানিয়েছে, রাবাতে দলের জন্য পর্যাপ্ত হোটেল ব্যবস্থা পেতে তাদের আনুষ্ঠানিক লিখিত অভিযোগ করতে হয়েছে। প্রথমে যে আবাসনটি দলের জন্য দেওয়া হয়েছিল, তার অবস্থা তারা বিস্তারিতভাবে প্রকাশ করেনি। সেনেগাল বলছে, এটি ‘খেলাধুলার ন্যায্যতার প্রশ্ন তুলেছে।’
এছাড়া সেনেগাল তাদের সমর্থকেদের জন্য বরাদ্দ টিকিট নিয়েও অভিযোগ তুলে। তাদের সমর্থকদের জন্য কেবল ২,৮৫০টি টিকিট কেনা সম্ভব হয়েছে, যা সিএএফের অনুমোদিত সর্বোচ্চ সীমা। তারা এই বরাদ্দকে ‘চাহিদার তুলনায় অপর্যাপ্ত’ বলে উল্লেখ করেছে এবং বলেছে, এটি ‘সেনেগাল সমর্থকদের ওপর আরোপিত সীমাবদ্ধতা যা তাদের ক্ষতি করছে।’
প্রিন্স মৌলাই আবদেল্লাহ স্টেডিয়ামে হবে আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের ফাইনাল। এই ভেন্যুর ধারণক্ষমতা ৬৯,৫০০ দর্শক। ফাইনালের আগে সেনেগালের কোচ পাপে থিয়াও বলেছেন, ‘আজ পর্যন্ত সবকিছুর আয়োজন চমৎকার ছিল, সারা বিশ্বেই এ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, মরক্কোকে অসাধারণ এই আয়োজনের জন্য ধন্যবাদ। তারা শান্তিপূর্ণতার মানদণ্ড উন্নত করেছে। আশা করি এটি অব্যাহত থাকবে। কিন্তু গতকালের ঘটনা আর হওয়া উচিত নয়। এটা আফ্রিকার ভাবমূর্তির বিষয়। আমি সেনেগালের কোচ হিসেবে বলছি না, আমি একজন আফ্রিকান হিসেবে বলছি। আমরা এটা কাটিয়ে উঠার পর ফাইনালে মনোনিবেশ করব। আমরা এই ট্রফি ঘরে ফিরিয়ে আনতে চাই।’
সেনেগাল ও মরক্কো দুই দলই দ্বিতীয়বার এই টুর্নামেন্ট জয়ের লক্ষ্যে মাঠে নামবে। সবশেষ ২০২২ সালে মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্যের এই ট্রফি ঘরে তোলে সাদিও মানের সেনেগাল। আর মরক্কো ১৯৭৬ সালের পর আর আফকন শিরোপা জয়ের স্বাদ পায়নি।