২ নভেম্বর ২০২৪, ৮:৩০ পিএম

লেবাননের সঙ্গে ড্র আর ফিলিস্তিনের বিপক্ষে একেবারে শেষ মুহুর্তের গোলে পয়েন্ট খোয়ানোর ভুল এবার আর করতে চায় না বাংলাদেশ। এশিয়ান কাপের বাছাইয়ে মালদ্বীপের সঙ্গে ম্যাচে লক্ষ্য একটাই, জিততেই হবে। মেয়েরা যেমন পেরেছে তেমনি ছেলেরাও চায় দেশের জন্য কিছু করতে। মালদ্বীপের সঙ্গে দুই প্রীতি ম্যাচ জিতে র্যাঙ্কিংয়ে উন্নতি করেই সেটার শুরু করতে চায় তারা।
লেবানন-ফিলিস্তিনের সঙ্গে আশানুরূপ ফল পেলে র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের তৃতীয় রাউন্ডে তিন নম্বর পটে জায়গা মেলার সুযোগ হতো। তাতে তুলনামূলক সহজ প্রতিপক্ষ পেতে পারতো বাংলাদেশ। তবে তা না হলেও এখনও সেই পটে যাবার সুযোগ দেখছেন কোচ হাভিয়ের কাবরেরা।
আর এই সুযোগটা কাবরেরা কাজে লাগাতে চান যথাযথভাবে। “দলের প্রতি আমার বার্তা হচ্ছে, আমরা আরেকটা সুযোগ পেয়েছি ওই পটে যাওয়ার। যদি আমরা কাঙিক্ষত ফল না পাই, তাহলে সেখানে যেতে পারব না। আমাদের বিশ্বাস, যেটা আমরা অর্জন করতে চাই, সেটা পারব। আমরা নিজেদের মাঠে খেলব, যেটা আমরা ভালোভাবে জানি। সব ম্যাচই অবশ্যই কঠিন এবং চ্যালেঞ্জিং, তবে গুরুত্বপূর্ণ কিছু অর্জনের আরেকটি সুযোগ আমাদের সামনে আছে“।
লক্ষ্য পূরণে গত শুক্রবার থেকেই ক্যাম্প শুরু করেছে দল। ইন্টার কন্টিনেন্টাল হোটেলে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের প্রাথমিক তালিকা থেকে ১৫ জন ফুটবলার আবাসিক ক্যাম্পে যোগ দিয়েছেন। অসুস্থতার কারণে ফরোয়ার্ড আরমান ফয়সাল আকাশ ক্যাম্পে যোগ দেননি। তার পরিবর্তে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ জয়ী স্ট্রাইকার পিয়াস আহমেদ নোভা যোগ দিয়েছেন জাতীয় দলের ক্যাম্পে।
ফুবলারদের নিয়ে বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় শুরু হয়েছে প্রস্ততিও। বাকি রয়েছেন বসুন্ধরা কিংস ক্লাবের হয়ে ভূটান খেলতে যাওয়া জাতীয় দলের কিছু প্লেয়ার। তারা ফিরলেই পরবর্তীতে করা হবে আরো ৬ থেকে ৭টি সেশন। তবে এবার ঘরোয়া লিগ শুরু না হওয়ায় প্রস্তুতিতে কিছুটা ঘাটতির শঙ্কা তো থেকেই যায়।
অবশ্য কোচ তাতে আশা হারাচ্ছেন না। “মৌসুম আরও আগে শুরু হলে অবশ্যই ভালো হত। যে দৃশ্যটা দেখছি, সেটা আমরা দেখতে চাইনি। আশা করেছিলাম, এই নভেম্বরের উইন্ডোতে ৫-৬টি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলে কাজে লাগানো যাবে। প্রতিযোগিতা না থাকায় অনেক খেলোয়াড়কে সেভাবে তৈরি করা কঠিন হয়েছে। নিশ্চিতভাবেই লম্বা সময় ধরে কোনো প্রতিযোগিতা না থাকা জাতীয় দলের জন্য ভালো হয়নি। তবে আমরা চেষ্টা করেছি মানিয়ে নেওয়ার, যাতে করে মালদ্বীপের বিপক্ষে ভালো ফল পাওয়া যায়“।
আগামী ১৩ ও ১৬ নভেম্বর মালদ্বীপের সঙ্গে দুই প্রীতি ম্যাচ বাংলাদেশ খেলবে এই কিংস অ্যারেনাতেই। সব না থাকা, আর না পাওয়াকে উতরে দল অপেক্ষায় ভালো কিছুর।
No posts available.
২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৫৪ এম
২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৪২ এম
২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৯:৫৭ এম
২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:১৫ পিএম

মেজর
লিগ সকারের (এমএলএস) শিরোপা ধরে রাখার মিশনে নতুন মৌসুমের শুরুতেই বড় ধাক্কা খেল ইন্টার
মায়ামি। রোববার সকালে লস অ্যাঞ্জেলেস
এফসির কাছে ৩-০ গোলে হেরেছে গত মৌসুমের চ্যাম্পিয়নরা।
ম্যাচে
পুরো সময় খেললেও গোল বা অ্যাসিস্ট করতে পারেননি লিওনেল মেসি।
লস অ্যাঞ্জেলেস কলিজিয়ামে এদিন উপস্থিত হয়েছিল ৭৫ হাজার ৬৭৩ জন দর্শক। এমএলএস ইতিহাসে
উদ্বোধনী সপ্তাহের কোনো ম্যাচের ক্ষেত্রে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেকর্ড।
ডিসেম্বরে এমএলএস কাপ জয়ের পর জর্দি আলবা ও সার্জিও বুসকেটস অবসরে যাওয়ায় কোচ হাভিয়ের
মাসচেরানো শুরুর একাদশে তিন নতুন খেলোয়াড়কে সুযোগ দেন।
মেক্সিকোর
গেরমান বেরতেরামে আক্রমণে মেসির সঙ্গে খেলেন, আর ব্রাজিলিয়ান মিকায়েল রক্ষণে জায়গা
পান। গোলকিপার হিসেবে মায়ামির হয়ে অভিষেক হয় কানাডিয়ান তারকা ডেইন সেন্ট ক্লেয়ারের।
এমএলএসের দুই বড় তারকার লড়াইয়ে এদিন সন হিউং-মিন এগিয়ে ছিলেন মেসির চেয়ে। লিগের রেকর্ড
সাইনিং সন নিজের প্রথম পূর্ণ মৌসুমের শুরুতেই দারুণ ছাপ রাখেন। ৩৭ মিনিটে তার বাড়ানো
বল থেকে ডেভিড মার্তিনেস ম্যাচের প্রথম গোলটি করেন।
দ্বিতীয়ার্ধে সমতায় ফেরার জন্য চাপ বাড়ায় মায়ামি। তবে পাল্টা আক্রমণে ২-০ ব্যবধানে
এগিয়ে যায় এলএএফসি। টিমোথি টিলম্যানের লম্বা পাসে মায়ামির গোলকিপার সেন্ট ক্লেয়ার পেনাল্টি
এলাকার বাইরে আটকে পড়েন। সুযোগ নিয়ে ডেনিস বুয়াঙ্গা ফাঁকা জালে বল পাঠান।
শেষ দিকে দর্শকদের দাঁড়িয়ে অভিবাদনের মধ্যে মাঠ ছাড়েন সন। তার বদলি ন্যাথান ওর্ডাজ
মায়ামির পরাজয়ের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠোকেন। ডান পায়ের নিখুঁত ফিনিশিংয়ে স্কোরলাইন ৩-০
হয়।
হ্যামস্ট্রিং চোট কাটিয়ে মাঠে নামা মেসি ম্যাচে তেমন প্রভাব ফেলতে পারেননি। প্রথমার্ধের
অতিরিক্ত সময়ে বক্সের বাইরে থেকে তার নেওয়া শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
আগামী ২ মার্চ অরল্যান্ডো
সিটি এসসির বিপক্ষে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে মাঠে নামবে মায়ামি।

নিউক্যাসল ইউনাইটেডকে হারিয়ে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষে থাকা আর্সেনালের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে ম্যানচেস্টার সিটি।
ইতিহাদ স্টেডিয়ামে শনিবার রাতে নিউক্যাসল ইউনাইটেডকে ২-১ গোলে হারিয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। এই জয়ে শীর্ষে থাকা আর্সেনালর চেয়ে মাত্র দুই পয়েন্ট পিছিয়ে আছে পেপ গার্দিওলার দল।
আরও পড়ুন
| থামছেন না রোনালদো, ত্রিশের পর ৫০০ গোলের অনন্য কীর্তি |
|
উলভারহ্যাম্পটনের বিপক্ষে বৃহস্পতিবার রাতে আর্সেনাল হোঁচট খাওয়ায় সুযোগ পায় সিটি। তবে নিউক্যাসলও ছাড় দিয়ে কথা বলেনি।
ঘরের মাঠে ১৪ মিনিটে গোল করে সিটিকে এগিয়ে দেন নিকো ও’রাইলি। তার বা পায়ের জোরালো শট নিউক্যাসল গোলকিপার নিক পোপ হাত ছুঁয়েও ঠেকাতে পারেননি।
দ্রুতই সমতা ফেরায় নিউক্যাসল। ২২ মিনিটে কর্নার থেকে বল ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হলে রায়ান আইত-নুরির গায়ে লেগে বল জালে জড়ায়, গোলটি পান লুইস হল।
২৭ মিনিটে আবারও এগিয়ে যায় সিটি। অঁতোয়ান সেমেনিওর চেষ্টায় বল পান আর্লিং হলান্ড, তার নিখুঁত ক্রস থেকে হেডে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন ও’রাইলি।
৪২ মিনিটে নিউক্যাসল গোল করলেও সমতায় ফিরতে পারেনি। ড্যান বার্ন হেডে বল জালে পাঠালেও অফসাইডের কারণে বাতিল হয় সেই গোল।
শেষ দিকে চাপ বাড়ায় নিউক্যাসল। যোগ করা সময়ে হার্ভে বার্নসর জোরালো শট দুর্দান্ত সেভে ঠেকান গোলকিপার জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মা। সেই সেভই নিশ্চিত করে সিটির জয়।
আরও পড়ুন
| ভিএআরে ভাঙল রিয়ালের স্বপ্ন, শীর্ষে ফেরার সুযোগ বার্সার |
|
এই জয়ে ২৭ ম্যাচে ৫৬ পয়েন্ট নিয়ে শিরোপা লড়াইয়ে আর্সেনালের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে সিটি। সমান ম্যাচে ২ পয়েন্ট বেশি নিয়ে লিগ শীর্ষে আর্সেনাল। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি লিডস ইউনাইটেডের বিপক্ষে খেলবে তারা।
রাতের অপর ম্যাচে পয়েন্ট হারিয়েছে চেলসি ও অ্যাস্টন ভিলা। স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে যোগ করা সময়ে হেডে গোল করে ১০ জনের চেলসির বিপক্ষে ১-১ ড্র করেছে বার্নলি। ভিলা পার্কে লিডস ইউনাইটেডর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছে অ্যাস্টন ভিলা।

বুড়ো বয়সে ভেলকি দেখাচ্ছেন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। সৌদি প্রো লিগে জোড়া গোল করার মধ্য দিয়ে বয়স ত্রিশ ছোঁয়ার পর ৫০০ গোল করার অনন্য রেকর্ড গড়েছেন পর্তুগিজ সুপারস্টার।
শনিবার রাতে ঘরের মাঠে আল-হাজমকে ৪-০ গোলে হারিয়েছে আল-নাসর। এই জয়ে লিগের শীর্ষস্থান পুনরুদ্ধার করেছে রিয়াদের ক্লাবটি।
১৩ মিনিটে গোল করে আল-নাসরকে এগিয়ে দেন ৪১ বছর বয়সী রোনালদো। কিংসলে কোমানের পাস থেকে বা পায়ের শটে বল জালে পাঠান। ৩০ বছর বয়স পার হওয়ার পর প্রথম ফুটবলার হিসেবে ৫০০ গোল করলেন রোনালদো।
আরও পড়ুন
| প্রিমিয়ার লিগে সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলার ইতিহাস মিলনারের |
|
৩০ মিনিটে জোয়াও ফেলিক্সের পাস থেকে আল-নাসরের হয়ে দ্বিতীয় গোল করেন কোমান। প্রথমার্ধের শেষের দিকে রোনালদোর আরেকটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়।
৭৭ মিনিটে মাঝ মাঠ থেকে বল নিয়ে দারুণ গোল করেন ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার অ্যাঞ্জেলো গ্যাব্রিয়েল।
দুই মিনিট পর নিজের দ্বিতীয় গোল করেন রোনালদো। কোমানের পাস থেকে বাম দিকের পেনাল্টি এরিয়ায় ঢুকে জোরাল শটে বল জালে পাঠান। সবমিলিয়ে রোনালদোর ক্যারিয়ার গোলসংখ্যা দাঁড়াল ৯৬৪তে।
সৌদি লিগে আল-নাসরের এটি টানা অষ্টম জয়। ২২ ম্যাচে ৫৫ পয়েন্ট নিয়ে লিগের শীর্ষে উঠে এসেছে আল-নাসর। রাতের অপর ম্যাচে আল-ইত্তিহাদের সাথে ১-১ ড্র করার পর দ্বিতীয় স্থানে নেমে গেছে আল-হিলাল।

টানা চতুর্থ ম্যাচে গোলের দেখা পেলেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। তবে তার সেই গোলেও হার এড়াতে পারেনি রিয়াল মাদ্রিদ।
স্প্যানিশ লা লিগায় শনিবার রাতে ওসাসুনার কাছে ২-১ গোলে হেরেছে আলভারো আরবেলোয়া দল। লিগে ছয় ম্যাচ পর এটি প্রথম হার রিয়ালের।
প্রতিপক্ষের মাঠে বার্সেলোনার চেয়ে ৫ পয়েন্টে এগিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে নেমেছিল রিয়াল। ৩৮ মিনিটে উল্টো পিছিয়ে পড়ে সফরকারীরা। গোলকিপার থিবো কোর্তোয়া ফাউল করলে পেনাল্টি পায় ওসাসুনা। স্পট কিক থেকে গোল করেন আন্তে বুদিমির।
৬৪ মিনিটে বদলি হিসেবে ট্রেন্ট আলেকজান্ডার-আর্নল্ড নামলে দ্বিতীয়ার্ধে রিয়ালের খেলায় গতি আসে। তার লম্বা পাস থেকে সুযোগ পেলেও ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের শট ব্লক হয়।
আরও পড়ুন
| ভিনির বর্ণবাদ ইস্যুর পর আসতে পারে নতুন আইন, বদলে যাবে খেলার ধারা |
|
৭০ মিনিটে কিলিয়ান এমবাপে গোল করলেও অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। দুই মিনিট পর ফেদেরিকো ভালভার্দের নিচু ক্রস থেকে গোল করে সমতা ফেরান ভিনিসিয়ুস। প্রায় পাঁচ মাস পর এটি তার প্রথম অ্যাওয়ে লিগ গোল।
৯০ মিনিটে রাউল গার্সিয়ার গোল প্রথমে অফসাইড ধরা হলেও ভিএআরের সিদ্ধান্তে সেটি বৈধ হলে জয় নিশ্চিত করে ওসাসুনা।
২০১১ সালের পর লিগে রিয়ালের বিপক্ষে এটি ওসাসুনার প্রথম জয়। এই জয়ে পাম্পলোনার ক্লাবটি উঠে এসেছে নবম স্থানে।
২৫ ম্যাচে ৬০ পয়েন্ট নিয়ে এখনও লিগের শীর্ষে রিয়াল। এক ম্যাচ কম খেলে ৫৮ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে বার্সেলোনা। রোববার লেভান্তের বিপক্ষে ঘরের মাঠে জিতলে আবারও শীর্ষে উঠবে কোচ হান্সি ফ্লিকের দল।

ব্রেন্টফোর্ডের বিপক্ষে আজ মাঠে নেমেই ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম লিখলেন জেমস মিলনার। গ্যারেথ ব্যারিকে ছাড়িয়ে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলা খেলোয়াড় এখন এই ইংলিশ মিডফিল্ডার। ইউরোপের শীর্ষ এই লিগে ৬৫৪টি ম্যাচ খেলে শীর্ষে উঠে এলেন তিনি।
দীর্ঘ ক্যারিয়ারে মোট ছয়টি ক্লাবের জার্সি গায়ে চড়িয়েছেন মিলনার। ৪০ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি খেলেছেন লিভারপুলের হয়ে। অল রেডদের হয়ে আট বছরে ৩৩২টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি। এরপর আছে ম্যানচেস্টার সিটি (১৪৭), অ্যাস্টন ভিলা (১০০), নিউক্যাসল (৯৪), লিডস (৪৮) এবং ব্রাইটন (৩৫)।
ক্যারিয়ারে মোট তিনটি প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা জিতেছেন মিলনার। যার মধ্যে দুটি ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে এবং একটি লিভারপুলের হয়ে ইয়ুর্গেন ক্লপের অধীনে। ৪০ বছর বয়সেও ব্রাইটনের একজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় মিলনার।
প্রিমিয়ার লিগে সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলার তালিকায় মিলনার পর আছেন রায়ান গিগস (৬৩২)। এরপর ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ড (৬০৯), ডেভিড জেমস (৫৭২), মার্ক শোয়ার্জার (৫৪৪), গ্যারি স্পিড (৫৩৫), এমিল হেস্কি (৫১৬), জেমি ক্যারাগার (৫০৮) এবং ফিল নেভিলের (৫০৫) মতো কিংবদন্তিরা আছেন।
মিলনার কেবল ধারাবাহিকই ছিলেন না, কার্যকরও ছিলেন। প্রিমিয়ার লীগে ৫৬টি গোল এবং ৯০টি অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি। ২৩ বছরেরও আগে প্রিমিয়ার লিগে প্রথম গোল করেছিলেন মিলনার। ২০০২ সালের ডিসেম্বরে লিডস ইউনাইটেডের হয়ে সান্ডারল্যান্ডের বিপক্ষে বক্সিং ডে’তে ২-১ জয়ের ম্যাচে একটি নিখুঁত শটে মাধ্যমে গোল করেছিলেন। সিনিয়র দলের হয়ে মাত্র পঞ্চম ম্যাচেই গোল করা মিলনারের বয়স তখন কেবল ১৬ বছর ৩৫৬ দিন। প্রিমিয়ার লিগে সবচেয়ে কনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে গোল করার রেকর্ড গড়েছিলেন। এই রেকর্ড ২০০৫ পর্যন্ত টিকে ছিল, পরে জেমস ভন এভারটনের হয়ে ১৬ বছর ২৭১ দিনের বয়সে গোল করেছিলেন।
রেকর্ড ভাঙার আগে মিলনারের ৬৫৩টি প্রিমিয়ার লিগ ম্যাচ বিশ্লেষণ করে দেখেছে ইএসপিএন। প্রিমিয়ার লিগের মাঠে তাঁর মোট খেলার সময় ৩৮,৩৬১ মিনিট, যা প্রায় ৬৩৮ ঘন্টা বা ২৬.৬ দিন। এই লিগ খেলোয়াড়দের দৌড়ানোর তথ্য শুধুমাত্র ২০১৯-২০ মৌসুম থেকে পাওয়া যায়, তবে ইএসপিএন গত সাত মৌসুমে তাঁর খেলার মিনিট অনুযায়ী মোট কভার করা দূরত্ব হিসাব করেছে এবং তা পুরো প্রিমিয়ার লিগ ক্যারিয়ারের খেলার মিনিটের সাথে গুণ করে অনেকটা সঠিক দূরত্ব বের করেছে।
হিসাব অনুযায়ী, প্রিমিয়ার লিগ ক্যারিয়ারে মিলনার মোট ৫,৪১৪,৩২৬ মিটার বা ৩,৩৬৪ মাইল দৌড়েছেন। এটি প্রায় নিউ ইয়র্ক সিটি থেকে লন্ডন পর্যন্ত দূরত্বের সমান। এই পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতি ম্যাচে তিনি গড়ে ৮.২৯ কিমি (৫.১৫ মাইল) দৌড়েছেন, যা প্রায় একটি ফুটবল মাঠের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত ৮০ বার দৌড়ানোর সমান।
কিশোর প্রতিভা থেকে পেশাদারিত্বের আইকন মিলনার তার অধ্যবসায় এবং শৃঙ্খলা দিয়ে ইতিহাসে নিজের নাম লেখাতে পেরেছেন। ইংল্যান্ডের সবচেয়ে কঠিন লিগে দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে টিকে থেকে নিয়মিত মাঠে নামার কঠিন চ্যালঞ্জ তিনি জয় করেছেন।