৬ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৩৪ পিএম

সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে শিরোপাজেতা বাংলাদেশ দলকে রাজসিক সংবর্ধনা ও আর্থিক পুরস্কার দিয়েছে সরকার। আজ আন্তর্জাতিক ক্রীড়া দিবস উপলক্ষে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। অনুষ্ঠানে দলের পক্ষ থেকে নিজেদের বিশেষ ইচ্ছার কথা জানান অধিনায়ক মিঠু চৌধুরী।
টুর্নামেন্টের ফাইনালে ভারতকে টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে হারায় বাংলাদেশ। ঐতিহাসিক জয়ের স্বীকৃতি স্বরূপ দলের প্রত্যেক খেলোয়াড় ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ১ লাখ টাকা করে আর্থিক পুরস্কার দেওয়া হয়। পুরস্কারের পাশাপাশি প্রত্যেককে একটি করে বিশেষ ক্রীড়া কার্ড ও সম্মাননা ক্রেস্ট দেন প্রতিমন্ত্রী।
আরও পড়ুন
| মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে খেলাধুলার বিকল্প নেই: ক্রীড়া দিবসে প্রতিমন্ত্রী |
|
পুরস্কার গ্রহণের পর অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে অধিনায়ক মিঠু চৌধুরী এই বিজয়কে নতুন বাংলাদেশের ফুটবলের এক নতুন সূচনা হিসেবে উল্লেখ করেন, 'নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রথম কোনো ফুটবল দল হিসেবে আমরা এই শিরোপা জিতলাম। আমাদের দলের সকল খেলোয়াড়ের একটা বড় ইচ্ছা আছে আমরা এই ট্রফিটা সরাসরি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দিতে চাই। আমরা উনার সাথে দেখা করে এই অর্জনের আনন্দ ভাগ করে নিতে চাই।'
বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) বর্তমান নেতৃত্বের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়ালের প্রশংসা করে তিনি বলেন, 'তাবিথ আউয়াল স্যার আমাদের অনেক খেয়াল রাখছেন এবং আমাদের সব দাবি-দাওয়া পূরণ করছেন। এমনকি জাতীয় দলের সাথে আমাদেরকেও ফাইভ স্টার হোটেলে থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। ফেডারেশনের পক্ষ থেকে এমন সুযোগ-সুবিধা ও পরিচর্যা পেলে আমরা ভবিষ্যতে দেশের জন্য আরও ভালো ফলাফল বয়ে আনতে পারব।'
উল্লেখ্য, মালদ্বীপের মালেতে অনুষ্ঠিত সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে অপরাজিত থেকে শিরোপা জয় করে বাংলাদেশ। দেশে ফেরার পর থেকেই এই তরুণ ফুটবলারদের নিয়ে চলছে দেশজুড়ে উদযাপন। আজ আনুষ্ঠানিকভাবে আর্থিক পুরস্কার হস্তান্তরের মাধ্যমে তাদের এই সাফল্যকে আরও এক ধাপ সম্মানিত করল ক্রীড়া মন্ত্রণালয়।
No posts available.
৯ এপ্রিল ২০২৬, ৯:৪৬ পিএম

বিশ্বকাপের আগে চূড়ান্ত প্রস্তুতি হিসেবে দুটি ম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা। যুক্তরাষ্ট্রের দুটি আইকনিক কলেজ ফুটবল স্টেডিয়ামে খেলবে লিওনেল স্কালোনির দল। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা ৬ জুন টেক্সাসের কলেজ স্টেশনের 'কাইল ফিল্ড'-এ হন্ডুরাসের মুখোমুখি হবে। এরপর ৯ জুন আলাবামার অবার্নে অবস্থিত 'জর্ডান-হেয়ার স্টেডিয়ামে' লড়বে আইসল্যান্ডের বিপক্ষে।
আর্জেন্টিনার বিপক্ষে আইসল্যান্ডের ম্যাচটি দারুণ এক ইতিহাসেরও সাক্ষী হবে। লিওনেল মেসিদের ম্যাচ দিয়ে ৮৭ বছরের ইতিহাসে প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক ফুটবল ম্যাচ হবে জর্ডান-হেয়ার স্টেডিয়ামে। অন্যদিকে, কাইল ফিল্ডে এর আগে ২০২৪ সালের জুনে মেক্সিকো বনাম ব্রাজিলের একটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেলোসাওদের যে ম্যাচে দর্শক উপস্থিত ছিল ৮৫,২৪৯ জন।
অবার্ন অ্যাথলেটিকস ডিরেক্টর জন কোহেন আর্জেন্টিনা-আইসল্যান্ডের ভেন্যু নিয়ে এক বিবৃতিতে বলেন,
‘বর্তমান ফিফা বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা তাদের শিরোপা রক্ষার মিশনে নামার আগে শেষ ভেন্যু হিসেবে অবার্নকে বেছে নেওয়ায় এটি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় এবং অ্যাথলেটিকস বিভাগের জন্য এক বিরাট সাফল্য। এই ম্যাচটি অবার্ন এবং আমাদের পুরো কমিউনিটির প্রতি বিশ্ববাসীর মনোযোগ আকর্ষণ করবে।’
এই প্রীতি দুই প্রীতি ম্যাচ আমেরিকায় মেসির প্রভাব কতটা বিস্তৃত তা আরও একবার প্রমাণ করছে। এর আগে মেসি আমেরিকার কানসাস সিটির অ্যারোহেড স্টেডিয়াম, ম্যাসাচুসেটসের জিলেট স্টেডিয়াম এবং আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামের মতো এনএফএল স্টেডিয়ামগুলোতে গ্যালারি ভর্তি দর্শক টেনেছেন। ২০২৪ সালে আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী মহাতারকা কটন বোলে একটি প্রাক-মৌসুম প্রীতি ম্যাচ খেলেছিলেন।
টেক্সাস এঅ্যান্ডএম-এর অ্যাথলেটিকস ডিরেক্টর ট্রেভ অ্যালবার্টস বলেন,
‘আমরা কাইল ফিল্ডে আন্তর্জাতিক ফুটবলের প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় আছি। এটি আমাদের ক্যাম্পাস এবং বিশ্বের অন্যতম সেরা এই ভেন্যুতে ভক্তদের স্বাগত জানানোর এক দারুণ সুযোগ। এ ধরনের আয়োজন টেক্সাস এঅ্যান্ডএম ব্র্যান্ডের বিশ্বব্যাপী পরিচিতি আরও বাড়িয়ে দেবে।"
কাইল ফিল্ড স্টেডিয়ামটির ধারণক্ষমতা ১ লাখ ২ হাজারেরও বেশি।
মেসির পরিসংখ্যান ট্র্যাকিং সাইট 'মেসিস্ট্যাটস ডটকম'-এর তথ্যমতে, মেসি বিশ্বের ২২৩টি ভিন্ন ভেন্যুতে গোল করেছেন, যার মধ্যে আমেরিকার ৩২টি স্টেডিয়াম রয়েছে। ইন্টার মায়ামির এই তারকা যদি এই দুটি প্রীতি ম্যাচের কোনোটিতে গোল করেন, তবে সেটি হবে কোনো কলেজ ফুটবল স্টেডিয়ামে তাঁর করা প্রথম আনুষ্ঠানিক গোল। আর অবার্নে গোল করলে সেটি হবে আলাবামা অঙ্গরাজ্যে তাঁর প্রথম গোল (আমেরিকার ১৮তম অঙ্গরাজ্য হিসেবে)।
আর্জেন্টিনা এর আগে হন্ডুরাসের বিপক্ষে তিনটি লড়াইয়ের সবকটিতেই জিতেছে, যার মধ্যে ২০২২ সালে মিয়ামিতে ৩-০ ব্যবধানের জয়টি অন্যতম। অন্যদিকে, আইসল্যান্ডের বিপক্ষে এটি হবে আর্জেন্টিনার দ্বিতীয় দেখা। ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে চমকে ১-১ গোলে ড্র করেছিল তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
এই ম্যাচ দুটির মাধ্যমে আরও একটি বিষয় নিশ্চিত হলো, আর্জেন্টিনা এমন ৭টি দলের বিপক্ষে ম্যাচ খেলে বিশ্বকাপের শিরোপা রক্ষার মিশনে নামছে যারা এবারের আসরে খেলার সুযোগ পায়নি এবারের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা খেলবে 'জে' গ্রুপে, যেখানে আলবিসেলেস্তাদের প্রতিপক্ষ আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া এবং জর্ডান।

বুড়ো হাড়ের ভেলকি নিয়মিতই দেখাচ্ছেন ম্যানুয়েল নয়্যার। বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের অধিকারী বায়ার্ন মিউনিখের এই গোলকিপারকে নিয়ে নতুন করে স্তুতি গাওয়ারও যে কিছু নেই। চ্যাম্পিয়নস লিগে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে অতিমানবীয় পারফরম্যান্স দেখে কে বলবে বায়ার্নের কিংবদন্তি এই গোলকিপারের বয়স ৪০ বছর! স্প্যানিশ জায়ান্টদের বিপক্ষে ২-১ গোলে জয়ের নায়কের এমন ভেলকি দেখার পর একটি প্রশ্ন আবারও অনেকের মনে উদয় হয়েছে—সর্বকালের অন্যতম সেরা এই গোলকিপারকে কি আবার জার্মান দলে দেখা যাবে?
২০২৪ সালের আগস্টে জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন নয়্যার। তবে বর্তমান ছন্দ দেখে প্রশ্ন উঠছে, ২০২৬ বিশ্বকাপে তিনি আবারও ফিরবেন কি না। জার্মান কিংবদন্তি ফুটবলার লোথার ম্যাথাউসের কথা শুনলে অবশ্য হতাশই হতে হবে নয়্যারের ভক্তদের। অবসর ভেঙে নয়্যারের জার্মান দলে ফেরার কোনো সম্ভাবনাই দেখছেন না ব্যালন ডি’অর জয়ী সাবেক এই ফুটবলার। আর বায়ার্নের এই গোলকিপারের ফেরার পথে বাধা নাকি জার্মানের কোচ ইউলিয়ান নাগসমান।
স্কাই অস্ট্রিয়া-কে ম্যাথাউস বলেন,
‘নয়্যারের এই রূপ বিশ্বমানের, সে জাতীয় দলে থাকার যোগ্য। আমি আশা করি নাগেলসমান এই ম্যাচটি দেখেছেন।’
অবশ্য 'স্পোর্ট বিল্ড'-এর পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হলে ম্যাথাউস পরিষ্কার করে দেন যে, নয়্যারের ফেরাটা এখন বাস্তবতার চেয়ে তাঁর ব্যক্তিগত ইচ্ছাই বেশি। তিনি যোগ করেন,
‘আমি সত্যিই ম্যানুয়েল নয়্যারকে এই ছন্দে বিশ্বকাপে দেখতে চাই। কিন্তু আমি এও জানি যে, তা হবে না। ইউলিয়ান নাগেলসমান সেই দরজা আর খুলবেন না। আর ঠিক এই কারণেই অবসরের ব্যাপারে ম্যানুয়েলের কথাগুলোই শেষ কথা হিসেবে থেকে যাচ্ছে।’
জার্মানের কোচ নাগলসমানের সঙ্গে নয়্যারের দ্বন্দ্বের বিষয়টি নতুন কিছু নয়। দু’জনের মনোমালিন্যের শুরুটা হয়েছিল যখন নাগেলসমান বায়ার্ন মিউনিখের কোচ ছিলেন। নয়্যার যখন স্কিইং করতে গিয়ে দুর্ঘটনায় পড়ে মাঠের বাইরে ছিলেন, নাগেলসমান নিজের ক্ষমতা ব্যবহার করে গোলকিপিং কোচ টনি টাপালোভিচকে ছাঁটাই করেন। নয়্যার এই ঘটনাকে বড় ধরনের বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে দেখেছিলেন এবং তারপর থেকেই তাদের দুজনের সম্পর্কে তিক্ততা শুরু হয়।
২০১৪ বিশ্বকাপ জয়ী নয়্যারকে নিয়ে জার্মানির ফুটবল ফেডারেশন এবং কোচের আপাতত কোনো পরিকল্পনা নেই। রিয়ালের বিপক্ষে ম্যাচের পর নয়্যার নিজেও বিষয়টি আরও স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন। তাঁর বর্তমান মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু শুধুই বায়ার্ন মিউনিখ,
‘আমাদের কি আবারও এই বিষয়টি নিয়ে কথা বলা উচিত? না। এখন গুরুত্বপূর্ণ হলো আমরা বায়ার্নের হয়ে বার্নাব্যু-তে এই ম্যাচটি জিতেছি এবং ফিরতি পর্বেও এই ধারা বজায় রাখার চেষ্টা করা।’
নয়্যার আরও যোগ করেন,
‘এটাই এখন আসল কথা, বাকি সবকিছুই আমার কাছে এখন অপ্রাসঙ্গিক। আমরা জাতীয় দল নিয়ে কথা বলছি না। আমি আমার বক্তব্য আগেই পরিষ্কার করেছি, সবকিছুই স্বাভাবিক আছে। আমি এখন শুধুই বায়ার্ন মিউনিখ নিয়ে ভাবছি।’
শেষ পর্যন্ত কি নিজের জেদ বা অহংকার ভুলে এই বিশ্বকাপে নয়্যারকে আবারও জাতীয় দলে ডাকবেন নাগলসমান? নাকি নয়্যার তাঁর অবসরের সিদ্ধান্তেই অটল থাকবেন সেটাই দেখার।

আফ্রিকা কাপ অফ নেশনস (আফকন) ফাইনাল এখনও বিতর্ক সৃষ্টি করছে। সেনেগাল কনফেডারেশন অফ আফ্রিকান ফুটবলের (সিএএফ) সিদ্ধান্তে মরক্কোকে শিরোপা দেওয়ার বিরুদ্ধে কোর্ট অফ আরবিট্রেশন ফর স্পোর্টসে (সিএএস) আপিল করেছে সেনেগাল।
চলমান বিতর্কের মাঝেই ফাইনাল ম্যাচ নিয়ে মুখ খুলেছেন মরক্কো অধিনায়ক আশরাফ হাকিমি। ম্যাচ এবং নিজের উদ্ভট আচরণ নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন তিনি,
“কঠিন একটা সময় ছিল তখন, মাঠে উত্তেজনা ছিল ব্যাপক। তোয়ালে নিয়ে আমি যে চিত্রটা ফুটিয়ে তুলেছি, সেটা মোটেও গর্বের বিষয় নয়। এটা ঠিক যে আমরা আমাদের প্রতিপক্ষকে সম্মান করেছি এবং টুর্নামেন্টের নিয়ম মেনে চলেছি।”
আফকনের ফাইনাল ম্যাচে গোলকিপারের তোয়ালে ছুঁড়ে ফেলে দেন হাকিমি। প্যারিস সেন্ট জার্মেইনের (পিএসজি) রাইটব্যাকের সে দৃশ্যের নিন্দা করেন ফুটবল ভক্তরা। বিষয়টি নিয়ে চুপ থাকলেও এবার স্পেনের স্পোর্টস ব্রডকাস্টিং চ্যালেন মুভিস্টারে কথা বলেন হাকিমি।
অনুশোচনায় ভুগলেও সেনেগালের আচরণের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন হাকিমি এবং মরক্কো শিরোপা পাওয়ার যৌগ্য বলে জানিয়েছেন তিনি,
“তারা (সিএএফ) বিচার করছে কি হওয়া দরকার। আশা করি ফুটবল ও আফ্রিকার ভালোর জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আশা করি আমরা জিতব, কারণ আমরা তা পাওয়ার যোগ্য এবং এমন সময় মাঠ ত্যাগ করা ঠিক নয়।”
হাকিমি আফকন ইস্যু ছাড়াও চ্যাম্পিয়নস লিগে পিএসজির পারফরম্যান্স নিয়েও কথা বলেছেন,
“লিভারপুলের বিপক্ষে আমরা সুযোগ তৈরি করলেও বড় ব্যবধানের সুবিধা পেতে পারিনি, তাই একটু হতাশা আছে। তবে পুরো দলের কাজ দেখে খুশি।”
চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের সম্ভাবনা পুনরায় ব্যক্ত করেছেন হাকিমি,
“আমি আগেও বলেছি, এই দলের ওপর সন্দেহের দরকার নেই। আমরা ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন। এটা বহুবার প্রমাণ করেছি। মানুষ যখন আমাদের বাদ দেয়, তখনই আমরা আরও বেশি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠি। আমরা জানি, মৌসুমের কোথায় আছি এবং আশা করি এমনই খেলতে থাকব, যতদূর সম্ভব যেতে চাই।”

ক্যাম্প ন্যুয়ের রাত শুরু হয়েছিল বার্সেলোনার ঝড় দিয়ে, শেষটা আতলেতিকোর জয়োল্লাসে। কাতালানরা বল বুনেছে, আক্রমণ করেছে, সুযোগের পর সুযোগ তৈরি করেছে। বল পজিশনেও দেখিয়েছে মুন্সিয়ানা। তবে গোল পোস্টের নিচে থাকা হুয়ান মুসো ছিলেন দুর্ভেদ্য দেয়াল। শত চেষ্টাতেও তাকে যায়নি টলানো। তাতেই চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের ফার্স্ট লেগে ২-০ গোলে পিছিয়ে শেষ করেছে হান্সি ফ্লিকের দল।
ইতিহাস বলছে, ২০০৬ সালের পর প্রথমবার বার্সেলোনার ঘরের মাঠ ক্যাম্প ন্যুতে এসে জিতল আতলেতিকো মাদ্রিদ। ফিরতি লেগে মেট্রোপলিটানোতে লড়াই করতে হবে ইয়ামালদের। তাতে বার্সেলোনা পক্ষে জয় ছাড়াও আতলেতিকোর দুর্গে ঢুকে প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
আরও পড়ুন
| অবসর ভেঙে বিশ্বকাপ খেলতে প্রস্তুত সুয়ারেজ |
|
যা হয়ে গেছে, তা মেনে নিয়ে পরের ম্যাচে মনোযোগ দিতে চান ফ্লিক,
‘আমাদের এটা মেনে নিতে হবে। আর আগামী মঙ্গলবার আতলেতিকোর মাঠে ম্যাচটার দিকে মন দিতে হবে। আমাদের সেই মানের খেলোয়াড় আছে, যারা ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিতে পারে। আমাদের লড়াই করতে হবে।’
লামিন ইয়ামালও বলছেন একই কথা। আশাবাদী থেকে বার্সা সমর্থকদের উদ্দেশে দৃঢ় প্রতিজ্ঞা ব্যক্ত করেছেন তিনি। মঙ্গলবার মেট্রোপোলিটানোতে অনুষ্ঠিতব্য ম্যাচের আগে সামাজিক মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে স্পেন ফরোয়ার্ড একটি ছবি পোস্ট করে ক্যাপশনে লিখেছেন,
‘‘খেলা এখনও শেষ হয়ে যায়নি বার্সেলোনা ফ্যানরা। আমরা দ্বিতীয় লেগে আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করব… যেমন সবসময়, একজোট থেকে।”
আরও পড়ুন
| বিশ্বকাপে ওঠার আগে বোনাস চাওয়ার কথা অস্বীকার দোনারুম্মার |
|
বুধবার রাতে ইয়ামালকে বোতলবন্দী করে রাখার ছক এঁকেছিলেন সিমিওনে। তিন-তিনজন ডিফেন্ডার মিলে আগলে রেখেছিলেন স্পেন রাইট উইঙ্গারকে। তবু কয়েকবার সুযোগ তৈরি করেছিলেন, কিন্তু মুসো দেয়াল ছিল দুর্ভেদ্য।

২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় বলেছিলেন লুইস সুয়ারেজ। তবে অবসর নেওয়ার পর উরুগুয়ে জাতীয় দলে ফেরার ব্যাপারে নিজের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন ইন্টার মায়ামি ফরোয়ার্ড। দলের চাওয়া অনুযায়ী আসন্ন বিশ্বকাপে খেলতে আগ্রহী সুয়ারেজ জোর দিয়ে বলেছেন, দেশের ডাকে সাড়া না দেওয়া তাঁর পক্ষে অসম্ভব।
চলতি সপ্তাহে উরুগুয়ের প্রকাশনা 'ডায়ারিও ওভাসিওন'-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ৩৯ বছর বয়সী সুয়ারেজ বলেন, ‘স্বাভাবিকভাবেই, জাতীয় দল সব সময়ই এমন কিছু যা আপনি চান। আপনি আজ এটা নিয়ে ভাবছেন, আপনার মনে এটি ঘুরপাক খাচ্ছে; সামনেই বিশ্বকাপ, আর সেই মুহূর্তে যদি তারা আপনাকে প্রয়োজন মনে করে... তবে আপনি কী করবেন? আমি আমার দেশকে কখনোই 'না' বলতে পারব না, কখনোই আমার দেশকে “না” বলব না।’
সুয়ারেজ ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে উরুগুয়ে জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন। ১৭ বছরের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ১৪৩ ম্যাচে ৬৯ গোল করে তিনি দেশটির সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে বিদায় নেন। ৩৯ বছর বয়সী বার্সেলোনার সাবেক এই ফরোয়ার্ড উরুগুয়ে নতুনদের সুযোগ করে দিতে অবসরের সিদ্ধান্ত নেন। তবে দলের প্রয়োজনে যেকোনো সময়ই ফিরতে প্রস্তুত বলে জানান তিনি।
সুয়ারেজ বলেন, ‘আমি জাতীয় দল থেকে অবসর নিয়েছিলাম অন্য খেলোয়াড়দের জন্য জায়গা করে দিতে। কারণ আমার মনে হয়েছিল এমন এক মুহূর্ত চলে এসেছে যখন আমি স্কোয়াডের জন্য আর কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারছি না। কিন্তু তাদের যদি আমাকে প্রয়োজন হয়, আমি কখনোই জাতীয় দলকে 'না' বলব না। এটা অসম্ভব—যতদিন আমি খেলছি, যতদিন আমি সক্রিয় আছি (ততদিন দেশকে না বলা সম্ভব নয়)।’
অবসরের সিদ্ধান্ত নেওয়া সুয়ারেজের জন্য বেশ কঠিন ছিল। জাতীয় দলকে বিদায় দেওয়ার পর নাকি ধীরে ধীরে ফুটবলের প্রতি তাঁর আবেগেও ভাটা নামে, ‘লক্ষ্য এবং স্বপ্নের তাড়নায় ফুটবলের প্রতি যে আকাঙ্ক্ষা ও আবেগ কাজ করে, তা আপনি ধরে রাখেন; আর জাতীয় দলের অংশ হওয়া তো সবসময়ই একটি স্বপ্ন। স্পষ্টতই, আমি বিভিন্ন কারণে (অবসরের) সিদ্ধান্তটি নিয়েছিলাম, কিন্তু দল ছাড়ার পর থেকে ফুটবলের সেই শিখা যেন কিছুটা ম্লান হয়ে গেছে।’
আপাতত সুয়ারেজ ইন্টার মায়ামির হয়ে সাফল্য পাওয়ার দিকেই মনোনিবেশ করছেন। গত শনিবার অস্টিন এফসি-র বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র হওয়া ম্যাচে গোল করেছেন। ২০২৬ মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) তাঁর প্রথম গোল ছিল এটি।
কদিন আগেই মায়ামির প্রধান কোচ হাভিয়ের মাশ্চেরানো সাবেক বার্সেলোনা ফরোয়ার্ড সুয়ারেজের পারফরম্যান্সের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন, ‘আমার মনে হয়েছে লুইসকে চমৎকার দেখাচ্ছিল; সমতাসূচক গোলটি নিশ্চিত করতে সে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। আমার বিশ্বাস, সে আরও দুটি সুযোগ পেয়েছিল—ওই গোলটি ছাড়াও বক্সের আশেপাশে আরও দু-একটি সুযোগ তৈরি হয়েছিল।’
গত ডিসেম্বরেই মায়মির সঙ্গে নতুন করে এক বছরের চুক্তি স্বাক্ষর করেন সুয়ারেজ। আগামী শনিবার নিউ ইয়র্ক রেড বুলসের বিপক্ষে ম্যাচে সুয়ারেজ এবং ইন্টার মায়ামি মাঠে নামবে।