
অনেক আশা নিয়েই এই মৌসুমে কিলিয়ান এমবাপেকে দলে টেনেছে রিয়াল মাদ্রিদ। ভিন্ন পজিশনে ফরাসি তারকা যে খুব একটা খারাপ করছেন, তাও নয়। তবে প্রত্যাশা মেটাতে পারছেন না সেভাবে। ক্লাবের ফর্মও ভালো না হওয়ায় তাই ভালোই তোপের মুখে আছেন তিনি। তবে রিয়ালের কোচ কার্লো আনচেলত্তি মনে করেন, এমবাপেই তাদের মূল সমস্যা নন।
চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত ৯টি গোল করেছেন এমবাপে। তবে সমালোচনার মুখে আছেন স্ট্রাইকার হলেও শেষ নয় ম্যাচে মাত্র ২ বার জালের দেখা পেয়েছেন বিশ্বকাপ জয়ী এই ফুটবলার। রয়েছে লিভারপুলের সাথে পেনাল্টি মিসের ঘটনাও। এমবাপের গোল না পাওয়া ম্যাচগুলোতে এটি ছাড়াও রিয়াল হেরেছে লিল, বার্সেলোনা ও এসি মিলানের কাছে।
গেতাফের বিপক্ষে লা লিগার ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে অবশ্য আনচেলত্তি সমালোচনা থেকে আগলেই রাখলেন এমবাপেকে।
“আমরা এটাকে একজন খেলোয়াড়ের ব্যক্তিগত সমস্যা বলে মনে করি না। অন্যান্য বিষয়ের মাঝেও সে এখানে মানিয়ে নিচ্ছে, আটটি গোল করেছে এবং আমাদের আক্রমণাত্মক খেলায় দারুণভাবে অংশগ্রহণ করেছে। আমরা সবাই আরও ভালো করতে পারি।”
ক্লাবে কঠিন সময়ের মধ্যে থাকা এমবাপেকে চলতি মাসে আন্তর্জাতিক বিরতিতে নিজে খেলতে চাইলেও ফ্রান্স দলে তাকে রাখেননি কোচ দিদিয়ে দেশম। কারণ হিসেবে বলেন, মানসিকভাবে ভালো অবস্থায় নেই সাবেক পিএসজি তারকা। লিভারপুল ম্যাচ চলাকালীন ও ম্যাচের পর শারীরিক ভাষাও ছিল ভীষণ নড়বড়ে।
এমবাপের সমস্যাটা মানসিক নয় বলেই মনে হচ্ছে আনচেলত্তির।
“এমবাপে হতাশাগ্রস্ত নন, সে জানে যে তাকে আরও ভালো করতে হবে। আমার অনেক খেলোয়াড়ই অতীতে পেনাল্টি মিস করেছে। আমাদের তার প্রতি সমর্থন ও সাহায্য অব্যাহত রাখতে হবে। এটি একটি দলগত সমস্যা, কারও ব্যক্তিগত সমস্যা নয়।”
সাম্প্রতিক ফর্মটা ভালো না হলেও লা লিগায় শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার চেয়ে রিয়াল চার পয়েন্টে পিছিয়ে আছে দ্বিতীয় স্থানে। আনচেলত্তির দল অবশ্য একটি ম্যাচ কম খেলেছে।
No posts available.
২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১০:২৫ পিএম
২৪ এপ্রিল ২০২৬, ৯:২৮ পিএম
২৪ এপ্রিল ২০২৬, ৭:৪৭ পিএম
২৪ এপ্রিল ২০২৬, ৭:১৬ পিএম

ফুটবল বিশ্বকাপের জন্য যুক্তরাষ্ট্র সফর নিয়ে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের সতর্ক করল অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ বেশ কয়েকটি মানবাধিকার সংগঠন। বৃহস্পতিবার জারি করা এই সতর্কবার্তায় যুক্তরাষ্ট্রে ‘কর্তৃত্ববাদ ও সহিংসতা’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলোর মতে, যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে অভিবাসন নিয়ে কড়াকড়ি এবং মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় পর্যটকদের জন্য এই সতর্কতা জরুরি ছিল। তাদের অভিযোগ, ফিফা বা আয়োজক শহরগুলো দর্শকদের নিরাপত্তা ও অধিকারের বিষয়ে এখনো কোনো জোরালো গ্যারান্টি দিতে পারেনি।
সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, বিদেশি পর্যটকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে অযৌক্তিক বাধা দেওয়া হতে পারে। এমনকি তাদের ফোন এবং সোশ্যাল মিডিয়া তল্লাশির শিকার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর এই সতর্কবার্তাকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে নিন্দা জানিয়েছে মার্কিন পর্যটন কর্মকর্তারা। ইউএস ট্রাভেল অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান নির্বাহী জিওফ ফ্রিম্যান বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ করা নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি—এমন ধারণা ভুল। এটি মূলত অর্থনৈতিক ক্ষতি করার একটি কৌশল।’ গত বছর ৬ কোটি ৭০ লাখ আন্তর্জাতিক পর্যটক যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ করেছেন উল্লেখ করে তিনি একে অতিরঞ্জিত বলে দাবি করেন।
ফ্রিম্যানের মন্তব্যের বিপরীত ঘটনা অবশ্য ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রে। ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর এবং ১৯টি দেশের নাগরিকদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক পর্যটকের সংখ্যা কিছুটা কমেছে। এর মধ্যে বিশ্বকাপ টিকিটের আকাশচুম্বী দাম এবং হোটেলগুলোতে আশানুরূপ বুকিং না হওয়ায় অর্থনৈতিক ক্ষতির আশঙ্কা করছে পর্যটন শিল্প।
আগামী ১১ জুন শুরু হতে যাচ্ছে বিশ্বকাপ। যুক্তরাষ্ট্রের ১১টি স্টেডিয়ামসহ কানাডা ও মেক্সিকোর মোট ১৬টি ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে এবারের আসর।

সর্বশেষ সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে ইব্রাহীম, রোনান সুলিভান, ডেকলান সুলিভানদের দলে ভেড়ায় বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। তাদের নিয়ে শিরোপাও ধরে রাখে বাংলাদেশ। এবার লক্ষ্য এশিয়ান মঞ্চে নিজেদের শক্তিমত্তা প্রমাণ করা
সামনে এএফসি বাছাই টুর্নামেন্ট। দলের শক্তিমত্তা বাড়াতে দেশের বাইরে খেলা ফুটবলারদের দলে ভেড়ানোর চেষ্টা করছে বাফুফে। এরই ধারাবাহিকতায় এবার যোগ দিতে যাচ্ছেন ইংল্যান্ড প্রবাসী দুই ফুটবলার অ্যাডাম আব্বাস ও জিদান ইউসুফ। আজ এক ভিডিও বার্তায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাফুফের সহ-সভাপতি ফাহাদ করিম।
আগস্টে অনুষ্ঠিতব্য এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের বাছাই সামনে রেখে এই দুই খেলোয়াড়কে ক্যাম্পে ডাকার পরিকল্পনা করছে বাফুফে। অ্যাডামের পাসপোর্টের কাজ এখনো বাকি রয়েছে। নিজের ফেসবুক পেজে ফাহাদ করিম বলেন, ‘অ্যাডামের ভিডিও ফুটেজ এবং ওর বায়োডাটা টেকনিক্যাল টিমকে দিয়েছি এবং তারা খুবই মুগ্ধ হয়েছেন। প্রাথমিকভাবে বলেছে যে, আগস্টের শেষে যে এএফসি প্রতিযোগিতা হবে, সেই ক্যাম্পে তারা তাঁকে চায়।’ ১৯ বছর বয়সী উইঙ্গার অ্যাডাম আব্বাসের ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের যুব দল ও বার্নলি অনূর্ধ্ব-১৮ দলের হয়ে খেলার অভিজ্ঞতা আছে।
সেন্টারব্যাক জিদান ইউসুফ সম্পর্কে ফাহাদ করিম বলেন,
‘জিদানের পাসপোর্টের কাজ সব শেষ। আমরা তাঁকে অনূর্ধ্ব-২০ ক্যাম্পে ডাকব—তাঁকে তা আমরা বলে দিয়েছি। বিশ্বাস করি, আমাদের এখন একটা খুব ভালো অনূর্ধ্ব-২০ দল আছে, সেখানে অ্যাডাম এবং জিদানের যুক্ত হওয়া আমাদের দলকে আরও শক্তিশালী করবে।’
১৮ বছর বয়সী ও ৬ ফুট ৪ ইঞ্চি উচ্চতার এই ডিফেন্ডার বর্তমানে ইংলিশ ক্লাব ওয়ালটন এন্ড হেরস্যাম এফসির মূল দলে খেলছেন।

প্রিমিয়ার লিগে ম্যানচেস্টার সিটি ও আর্সেনালের পয়েন্ট সমান। তবে গোল ব্যবধানের কারণে শীর্ষে অবস্থান করছে সিটিজেনরা। এমন অবস্থায় শনিবার এগিয়ে যাওয়ার মিশনে নিউক্যাসেলকে ঘরের মাঠ এমিরেটস স্টেডিয়ামে আতিথ্য দেবে গানাররা।
গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে চেলসির কোচ লিয়াম রসেনিয়রের বিদায় নিয়ে কথা বলেছেন মিকেল আরতেতা। সাড়ে ছয় বছরের চুক্তি থাকলেও মাত্র চার মাসের মাথায় ছাঁটাই করা হয় এই ইংলিশ কোচকে। তার অবর্তমানে দ্য ব্লুজদের দায়িত্ব পালন করবেন ক্যালাম ম্যাকফারলেন।
আরতেতা বলেন,
‘একজন সহকর্মীকে এভাবে ক্লাব ছাড়তে দেখা সবসময়ই দুঃখজনক। আমরা জানি আমাদের এই পেশায় কড়া নজরদারি আর চাহিদার চাপ কতটা তীব্র। শেষ পর্যন্ত অনেক ম্যাচ জিততে পারাই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।’
শিরোপার লড়াই নিয়েও কথা বলেন আরতেতা। আর্সেনালের সামনে এটাই পথ, টাইটেল জিততে তাদের জিততেই হবে। তিনি বলেন,
‘দলের আত্মবিশ্বাস ও জয়ের ক্ষুধা অনেক বেড়েছে। আমাদের ঠিক কী করতে হবে, সে বিষয়ে এর চেয়ে স্পষ্ট ধারণা আর হতে পারে না। হাতে আর মাত্র পাঁচটি ম্যাচ বাকি। কালকের ম্যাচটি আমাদের জন্য প্রথম ধাপ—সবটুকু উজাড় করে দিয়ে আমরা ঝাঁপিয়ে পড়ব। সামনে চারটি সপ্তাহ, দুটি বড় টুর্নামেন্ট (প্রিমিয়ার লিগ ও চ্যাম্পিয়নস লিগ); আমাদের হারানোর কিছু নেই, পাওয়ার আছে অনেক। মৌসুমের শুরুতে যদি কেউ আমাদের এই অবস্থানের কথা বলত, আমরা একবাক্যে মেনে নিতাম। আমরা সবাই খুব রোমাঞ্চিত।’
লিগ রেসে ৩৩ ম্যাচে সমান ৭০ পয়েন্ট করে অর্জন আর্সেনাল ও সিটির। তবে গোল ব্যবধানে এগিয়ে পেপ গার্দিওলার ক্লাব। দুই দলের হাতে ৫টি করে ম্যাচ অবশিষ্ট। যার প্রতিটিই ডু অর ডাই।

ইংল্যান্ডের
বিখ্যাত ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে এফএ কাপের সেমি-ফাইনালে কাল মুখোমুখি হচ্ছে ম্যানচেস্টার
সিটি ও সাউদাম্পটন। পরের সপ্তাহে একই মাঠে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে নামবে লিডস ও চেলসি।
ওয়েম্বলিতে দুটি সেমি-ফাইনাল ম্যাচের আগে বিবিসিতে কলাম লিখেছেন ওয়েলসের সাবেক ফুটবলার
ও সর্বশেষ ২০২০ সালে শেফিল্ড ওয়েডনেসডের কোচ হিসেবে কাজ করা অ্যান্থনি রিচার্ড পুলিস।
কোচিং ক্যারিয়ার সেখানেই ইতি টানেন তিনি। সিনিয়র ক্লাব ক্যারিয়ারে তিনি খেলেছেন ৩২৬
ম্যাচ। কোচ হিসেবে ৮৬ বছর বয়সি পুলিস দাঁড়িয়েছেন এএফসি বোর্নমাউথ, ক্রিস্টাল প্যালেস,
স্টোক সিটি, সাউদাম্পটন, গিলিংহাম, ব্রিস্টল সিটির মতো ক্লাবের ডাগ-আউটে।
শুধুমাত্র
কোচদের জন্যই ওয়েম্বলিতে যাওয়া বিশেষ কিছু নয়; খেলোয়াড়, সমর্থক এবং ক্লাবের প্রতিটি
কর্মীর কাছেও এটি এখনো সমান গুরুত্বপূর্ণ।
সেমি-ফাইনাল
ম্যাচগুলো কোথায় হওয়া উচিত তা নিয়ে সবসময়ই বিতর্ক থাকে। তবে আমি জানি এবার সেখানে থাকাটা
সংশ্লিষ্ট প্রত্যেকের জন্য কতটা অর্থবহ হবে। সেটি আইকনিক ‘টুইন টাওয়ার’
হোক বা বর্তমানের বিখ্যাত ‘আর্চ’ —খেলোয়াড় হিসেবে এবং পরে ম্যানেজার হিসেবেও
ওয়েম্বলি ছিল আমার স্বপ্নের গন্তব্য। সংশ্লিষ্ট সবার জন্যই এটি একটি জাদুকরী জায়গা।
১৯৯৯
সালে যখন আমি গিলিংহামকে নিয়ে ডিভিশন টু'র প্লে-অফ ফাইনালে উঠি, তখন যেন পুরো শহরটাই
সেখানে হাজির হয়েছিল। তবে সেটি ছিল পুরনো ওয়েম্বলি, যা তখন প্রায় জরাজীর্ণ। মনে আছে,
টাচলাইনের পাশে আমি এবং আমার স্টাফরা স্রেফ দুটো পুরনো কাঠের বেঞ্চে বসে ছিলাম।
পরবর্তীতে
২০১১ সালে যখন স্টোক সিটির কোচ হয়ে এফএ কাপের সেমি-ফাইনালে ফিরে আসি, তখন এটি সম্পূর্ণ
বদলে গিয়ে এক আধুনিক অ্যারেনায় পরিণত হয়েছে। তবে সেখানে পৌঁছানোর আনন্দ আমাদের ভক্তদের
ওপর এবং আমার ওপর আগের মতোই প্রভাব ফেলেছিল।
আমি
বরাবরই একটু ঐতিহ্যবাদী। ভিলা পার্ক, স্ট্যামফোর্ড ব্রিজ, হাইবারি বা ওল্ড ট্র্যাফোর্ডের
মতো মাঠগুলোতে এফএ কাপের সেমি-ফাইনাল দেখতে আমার দারুণ লাগত। প্রতিটি ক্লাবের সমর্থকদের
জন্য যখন আলাদা সেকশন করে দেওয়া হতো, তখন ওই মাঠগুলোতে এক অভাবনীয় পরিবেশ তৈরি হতো।
ওয়েলসে
বেড়ে উঠা হিসেবে আমি আরও যোগ করব, ওয়েম্বলি পুনর্নির্মাণের সময় মিলেনিয়াম স্টেডিয়ামে
যখন সেমি-ফাইনাল বা ফাইনাল হতো, সেখানেও একই আমেজ পাওয়া যেত। তবে খেলোয়াড় বা কোচ হিসেবে
আমার ৩৪তম প্রচেষ্টায় যখন অবশেষে সেমি-ফাইনালে পৌঁছলাম, তখন ওয়েম্বলিকে দেখে কোনো অভিযোগ
করার সুযোগ ছিল না। আমাদের ভক্তদের অনুভূতিও ছিল একই। সেমি-ফাইনাল সপ্তাহ যত এগিয়ে
আসছিল, এফএ কাপের সেই মোহময় জাদু আমি পরতে পরতে অনুভব করছিলাম।
গর্ডন
ব্যাঙ্কসের এক উদ্দীপনাময় ভাষণ
ক্লাবে
কাটানো বছরগুলোতে আমি সবসময়ই স্টোকের পুরনো তারকাদের বৃহস্পতিবারের ট্রেনিং দেখার জন্য
এবং পরে খেলোয়াড়দের সাথে দুপুরের খাবারে অংশ নিতে আমন্ত্রণ জানাতাম। কোয়ার্টার ফাইনালে
ওয়েস্ট হ্যামকে হারিয়ে ওয়েম্বলি নিশ্চিত করার আগের সপ্তাহে আমি স্টোক কিংবদন্তি এবং
বিশ্বকাপজয়ী গোলকিপার গর্ডন ব্যাঙ্কসকে একটি ভাষণ দিতে অনুরোধ করেছিলাম।
তিনি
সানন্দে রাজি হন এবং একটি উদ্দীপনাময় বক্তৃতা দেন। তিনি বলেছিলেন, ‘খেলোয়াড়রা যদি
ওয়েম্বলিতে যেতে পারে তবে তা তাদের জন্য অসাধারণ হবে।’
কারণ তিনি জানতেন আমাদের অনেক খেলোয়াড়ই আগে কখনো সেখানে খেলেনি। ১৯৭২ সালের পর স্টোক
সিটি মাত্র তিনবার ওয়েম্বলিতে গিয়েছিল (১৯৯২, ২০০০ এবং ২০১১)। গর্ডন আরও বলেছিলেন,
তরুণ-বৃদ্ধ সব সমর্থকের জন্য ‘হোম অফ ফুটবল’-এ যাওয়াটা কতটা গর্বের হবে।
তাঁর
কথাই ঠিক ছিল। আমাদের জন্য বরাদ্দ করা সব টিকিট বিক্রি হয়ে গিয়েছিল, মাইলের পর মাইল
লাইন পড়েছিল। পুরো শহর জুড়ে সবার হাসিমুখ দেখাটা ছিল এক অসাধারণ অনুভূতি। ম্যাচের দিনও
দৃশ্যটা ছিল একই রকম। যারা বোল্টনের বিপক্ষে আমাদের সেই সেমি-ফাইনাল জয়ে ওয়েম্বলিতে
উপস্থিত ছিলেন, তারা আমাদের সমর্থকদের সেই গগনবিদারী চিৎকার কোনোদিন ভুলবেন না। আমাদের
সেই জয়ে তাদের বড় ভূমিকা ছিল।
ম্যাচের
আগের পুরো সপ্তাহটি আমি সাধারণ সপ্তাহের মতোই রেখেছিলাম, শুধু বুধবার বাদে। ওইদিন সকালে
ছেলেরা স্টেশনে জড়ো হয় এবং আমরা ট্রেনে করে ইউস্টনে যাই। সেখান থেকে বাসে করে সোজা
ওয়েম্বলি স্টেডিয়াম। আমরা কেবল বাস নিয়ে ভেতরেই যাইনি, বরং পিচে একটু হেঁটেও দেখেছিলাম।
আমি চেয়েছিলাম তারা (খেলোয়াড়) মাঠটা অনুভব করুক, কারণ আমাদের অধিকাংশ খেলোয়াড় আগে কখনো
এই স্টেডিয়ামে পা রাখেনি। মনে হয়েছিল এটি জরুরি ছিল এবং খেলোয়াড়রা এর সুফল পেয়েছিল।
দিন শেষে আমরা একটি স্থানীয় ইতালিয়ান রেস্তোরাঁয় ডিনার করে বাড়ি ফিরি। আমার মনে হয়েছিল
আমরা সেমি-ফাইনালের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত, আর বড় দিনে ভাগ্যও আমাদের সহায় ছিল।
‘টিম-টকের কাজটা সহজ হয়ে গিয়েছিল’
আমি
আগেও বলেছি, কাপের লড়াইয়ে টিকে থাকতে কিছুটা ভাগ্যের ছোঁয়াও লাগে। আমরা সেটা পেয়েছিলাম,
কারণ প্রথম চার রাউন্ডের মধ্যে কেবল উলভসের বিপক্ষে আমাদের অ্যাওয়ে ম্যাচ খেলতে হয়েছিল।
সেমি-ফাইনালের ড্রতেও সেই ভাগ্য সঙ্গে ছিল। ড্রয়ের তালিকায় অন্য তিন দল ছিল ম্যানচেস্টারের
দুই জায়ান্ট (ইউনাইটেড ও সিটি) এবং বোল্টন। আমি নিশ্চিত ছিলাম আমাদের বা বোল্টনকে ম্যানচেস্টারের
কোনো এক দলের মুখোমুখি হতে হবে। কিন্তু ভাগ্য আমাদের সহায় ছিল, স্টোকের সবাই বোল্টনকে
পেয়ে খুশি ছিল। আমি নিশ্চিত বোল্টনও আমাদের পেয়ে একইভাবে খুশি হয়েছিল!
একটি
গল্প আমি আগে অনেকবার বলেছি, আবারও বলছি- আমার অধিনায়ক রায়ান শক্রস জিজ্ঞেস করেছিল
সেমি-ফাইনালের জন্য ছেলেদের নতুন স্যুট দেওয়া হবে কি না। আমি তাঁকে পরিষ্কার করে বলে
দিই যে এটি সেমি-ফাইনাল, ফাইনাল নয়। ফাইনালে উঠলে তবেই স্যুটের কথা ভাবা যাবে।
ম্যাচের
দিন আমরা স্রেফ ট্র্যাকসুট পরে হাজির হই। যখন দেখলাম বোল্টন স্কোয়াড স্যুট পরে এবং
পকেটে ফুল লাগিয়ে মাঠে নামছে, আমি আমার সহকারী ডেভ কেম্পের দিকে তাকিয়ে বললাম, ‘আমার
টিম-টক (খেলোয়াড়দের উদ্দীপ্ত করার ভাষণ) হয়ে গেছে!’ ওই দৃশ্যটাই আমাদের জন্য যথেষ্ট
ছিল। আমরা ম্যাচটি ৫-০ গোলে জিতি এবং সেদিন যারা খেলেছিল তারা সবাই কৃতিত্বের দাবিদার।
ওটা ছিল এক অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স।
সেটি
আমাদের জন্য, আমাদের পরিবার এবং সমর্থকদের জন্য এক দারুণ দিন ছিল। আজও ৫০,০০০ স্টোক
সমর্থকের কণ্ঠে গাওয়া ‘Delilah’ গানটির কথা সবার মনে আছে। তবে দিনটির কথা ভাবলে সবার
আগে কোটস পরিবারের কথা মনে পড়ে। ক্লাবের প্রতি তাদের ভালোবাসা অগাধ এবং তারা ক্লাব
ও স্থানীয় কমিউনিটির পেছনে প্রচুর বিনিয়োগ করেছেন।
‘ফাইনালে ওঠা এক গর্বের মুহূর্ত’
সপ্তাহান্তের
বিজয়ীদের পুরস্কার হলো আগামী মাসে আবারও এই মাঠে ফেরার সুযোগ। বোল্টনকে হারিয়ে ক্যারিয়ারের
প্রথম এফএ কাপ ফাইনালে ওঠা আমার ব্যক্তিগত জীবনের এক বিশাল প্রাপ্তি ছিল।
১৯৬০-এর
দশকের শুরুতে দক্ষিণ ওয়েলসে বেড়ে ওঠার সময় কেবল এফএ কাপ ফাইনাল, ইউরোপিয়ান কাপ ফাইনাল
আর বিশ্বকাপের ম্যাচগুলোই আমরা টিভিতে সরাসরি দেখতে পেতাম। ১৯৬৬ সালে পশ্চিম জার্মানির
বিপক্ষে ইংল্যান্ডের জয়ের কথা আমার মনে আছে, যদিও তখন আমার বয়স মাত্র আট। পরের বছর
টটেনহ্যাম ও চেলসির মধ্যকার ফাইনালটি আমার বিশেষভাবে মনে আছে। মজার ব্যাপার হলো, আমাদের
সাদা-কালো টিভিতে চেলসির নীল আর স্পার্সের সাদা রঙের মধ্যে আমি কোনো পার্থক্যই করতে
পারছিলাম না!
সেই
দিনগুলোতে এফএ কাপের মর্যাদা এতটাই ছিল যে, সেসব স্মৃতি আজও আমাকে আপ্লুত করে। নিউপোর্টে
ছোটবেলায় ফাইনালের দিন সকালে আমরা ২০-২৫ জন বন্ধু মিলে ডক ফিল্ডে খেলতে যেতাম। কোনো
জার্সি ছিল না, গোলপোস্ট ছিল না, এমনকি রেফারিও ছিল না। ক্রিকেট মৌসুম হওয়ায় আমরা কোট
খুলে গোলপোস্ট বানিয়ে নিতাম। ঘণ্টার পর ঘণ্টা দৌড়াতাম, অথচ কেউ জানতাম না কে কোন দলে
খেলছি বা ফাউল হলো কি না!
আমাদের
কাছে কোনো ঘড়ি ছিল না, তবুও এফএ কাপ ফাইনালের আগে ঠিক সময়মতো আমরা খেলা থামিয়ে টিভির
সামনে বসে পড়তাম। ম্যাচ শেষে চ্যাম্পিয়নরা ট্রফি উঁচিয়ে ধরার পর আমরা আবার মাঠে ছুটতাম,
সবেমাত্র দেখা গোলগুলো হুবহু নকল করার চেষ্টা করতাম। আমি নিশ্চিত, সেই সময় পুরো দেশজুড়ে
হাজার হাজার শিশু ঠিক এই কাজটাই করত। আলো কমে না আসা পর্যন্ত আমাদের খেলা চলত।
বছরের
পর বছর এই ধারা চলেছে। এমনকি যখন টিভি চ্যানেলগুলো সকাল থেকে খেলোয়াড়দের হোটেল বা তাদের
স্ত্রীদের পোশাক নিয়ে লাইভ কভারেজ শুরু করল, তখনও আমাদের মাঠের সেই ‘কাপ ফাইনাল’
থামেনি। তাই যখন বাস্তবে সত্যি সত্যিই একটি ফাইনালের অংশ হলাম, তখন মনে হচ্ছিল যেন
শৈশবের স্বপ্ন পূরণ হলো।
২০১১
সালের ফাইনালে যখন ওয়েম্বলিতে পা রাখলাম, তখন আমার আজীবনের স্বপ্ন সত্যি হয়েছিল। দুর্ভাগ্যবশত
আমরা শক্তিশালী ম্যানচেস্টার সিটির কাছে ১-০ গোলে হেরে যাই। কিন্তু সেই হার এফএ কাপের
জাদুকে বিন্দুমাত্র ম্লান করতে পারেনি।
আবার এই মাঠে দুটি সেমি-ফাইনাল ম্যাচ দেখার জন্য আমি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।

রিয়াল মাদ্রিদ লেফট উইঙ্গার ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে বর্ণবাদী ও আপত্তিকর গালির অভিযোগে বেনফিকার ২০ বছর বয়সী আর্জেন্টাইন উইঙ্গার জিয়ানলুকা প্রেস্তিয়ান্নিকে ছয় ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ইউয়েফা। শুক্রবার এক বিবৃতিতে এই শাস্তির কথা জানানো হয়।
ফেব্রুয়ারিতে লিসবনে চ্যাম্পিয়নস লিগের প্লে-অফ ম্যাচ চলাকালীন এই ঘটনার সূত্রপাত।
ইউয়েফার মতে, রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে ওই ম্যাচে ‘বৈষম্যমূলক আচরণের’ দায়ে প্রেস্তিয়ান্নিকে এই সাজা দেওয়া হয়েছে। সংস্থার বিবৃতিতে নির্দিষ্ট করে বলা হয়েছে, ভিনিকে ‘মারিকন’ বলে সম্বোধন করেছেন প্রেস্তিয়ান্নি। যা একটি সমকামী বিদ্বেষী গালি। এই নিষেধাজ্ঞা ইউরোপীয় ক্লাব প্রতিযোগিতা অথবা আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের ম্যাচে কার্যকর হবে।
ইউয়েফা ব্যাখ্যা করেছে, ছয় ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার মধ্যে তিন ম্যাচ আগামী দুই বছরের জন্য স্থগিত (প্রোবেশন) থাকবে। বাকি তিন ম্যাচের মধ্যে এক ম্যাচ ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। যা রিয়াল ও বেনফিকার মধ্যকার প্লে-অফের দ্বিতীয় লেগের ম্যাচে কার্যকর হয়েছিল।
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোতে ওঠার লড়াইয়ের প্রথম লেগে ১-০ গোলে জেতে রিয়াল। ম্যাচে একমাত্র গোলটি করার পর ভিনি রেফারির কাছে অভিযোগ করেন, প্রেস্তিয়ান্নি তাকে বর্ণবাদী গালি দিয়েছেন। ম্যাচ পরিচালনাকারী ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেটেক্সিয়ার তাৎক্ষণিকভাবে খেলা বন্ধ করে দেন।
ইউয়েফা তদন্ত চলাকালীন প্রেস্তিয়ান্নিকে সাময়িকভাবে এক ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করেছিল। সেই কারণে তিনি সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে ফিরতি লেগে খেলতে পারেননি, যেখানে ২-১ গোলে হেরে বিদায় নেয় বেনফিকা।
বেনফিকা এক বিবৃতিতে জানায়, ইউয়েফার দেওয়া সাজার বিষয়ে ক্লাবকে জানানো হয়েছে। সমকামী বিদ্বেষী ভাষা ব্যবহারের দায়ে প্রেস্তিয়ান্নিকে ৬ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে তিন ম্যাচ স্থগিত রাখা হয়েছে। বাকি তিন ম্যাচের একটি সম্পন্ন হয়েছে এবং বাকি দুটি তাকে উয়েফা বা ফিফা স্বীকৃত আন্তর্জাতিক ম্যাচে পূর্ণ করতে হবে।