
এই কিছুদিন আগেই ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো বলেছিলেন অবসরের পর একটা ক্লাবের মালিক হওয়ার ইচ্ছার কথা। পর্তুগাল তারকার কথা থেকে প্রভাবিত হয়েই কিনা, এখনই ক্লাবের মালিক হওয়ার চেষ্টায় নেমেছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। আর তাই মাত্র ২৪ বছর বয়সেই ক্লাব কেনার দিকে নজর দিয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদ তারকা!
শনিবার ইএসপিএন এক প্রতিবেদনে খবরটি জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যমটির দাবি, পর্তুগালের দ্বিতীয় সারির একটি ক্লাব কেনার ক্ষেত্রে বেশ আগ্রহ দেখাচ্ছেন ভিনিসিয়ুস। যদিও ক্লাবের নাম প্রকাশ করেনি তারা। সব মিলিয়ে পর্তুগালের দ্বিতীয় স্তরের লিগে ক্লাব আছে ১৮ টি। যেখানে পর্টিমোনেন্স নামের ক্লাবের মালিকানায়ও আছেন একজন ব্রাজিলিয়ান।
আরও পড়ুন
| এক ধাক্কায় জরিমানা, নিষেধাজ্ঞা দুটোই জুটলো ভিনিসিয়ুসের কপালে |
|
ফুটবলারদের ক্লাব কেনার প্রতি আগ্রহটা নতুন নয়। ডেভিড বেকহাম কিংবা রোনালদো নাজারিওরা ক্যারিয়ার শেষে হেঁটেছেন ক্লাবে বিনিয়োগের পেছনে। অবশ্য এত কম বয়সে ক্লাব কেনার নজিরটা ফুটবলে খুবই কম। সেই তালিকায় ভিনিসিয়ুস অনুপ্রেরণা নিতে পারেন তার ক্লাব সতীর্থ কিলিয়ান এমবাপের থেকেই।
ফরাসি অধিনায়ক ২০২৪ সালের জুলাইতে মালিকানা কিনে নিয়েছেন ফ্রান্সের দ্বিতীয় স্তরের একটি ক্লাবের। এছাড়াও আরেক ফরাসি মিডফিল্ডার কান্তের মালিকানায় আছে বেলজিয়ামের তৃতীয় স্তরের একটি ক্লাব।
ক্লাব কেনার গুঞ্জনে ভিনিসিয়ুসের নাম শোনা গেলেও, মাঠের ফুটবলে ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড পার করছেন কঠিন সময়। ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে লাল কার্ড দেখে পড়েছেন সমালোচনার মধ্যে। পেয়েছেন দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা। শেষ ম্যাচে মায়ার্কোর সাথেও মাঠে মেজাজ হারাতে দেখা গেছে ব্রাজিলিয়ান তারকাকে। তবে সেই ম্যাচে কার্ড দেখতে হয়নি ভিনিসিয়ুসকে।
আরও পড়ুন
| ভিনিসিয়ুস হয়ে বাঁচা সহজ নয় : আনচেলত্তি |
|
রবিবার বছরের প্রথম ক্লাসিকো খেলতে স্প্যানিশ সুপার কাপের ফাইনালে মাঠে নামবেন ভিনিসিয়ুস। গেল বছর তার হ্যাট্ট্রিকের ওপর ভর করে স্প্যানিশ সুপার কাপের শিরোপা ঘরে তুলেছিল রিয়াল।
No posts available.
১৮ মে ২০২৬, ৬:১২ পিএম
১৮ মে ২০২৬, ৫:০০ পিএম

ময়মনসিংহ জেলা স্টেডিয়ামের সবুজ গালিচায় যেন এক নতুন প্রতিভার উদয় হলো। সোমবার নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-এর ময়মনসিংহ আঞ্চলিক পর্যায়ের ফাইনালে নেত্রকোণাকে ৭-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে স্বাগতিক ময়মনসিংহ জেলা দল। ফাইনালে দাপুটে জয়ের সুবাদে তারা সরাসরি জাতীয় পর্যায়ে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে।
ময়মনসিংহের বড় জয়ের নায়ক ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার উদীয়মান ফুটবলার মোসাম্মৎ রিমি। ৪ গোল করে ফাইনাল সেরা ও টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কার নিজের করে নিয়েছেন এই খুদে ফুটবলার।
সোমবার নেত্রকোণার রক্ষণভাগকে যেন খড়কুটোর মতো উড়িয়ে দিয়েছেন রিমি। ম্যাচের শুরু থেকেই তাঁর ক্ষিপ্র গতি ও নিখুঁত ফিনিশিংয়ের সামনে অসহায় আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হন প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডাররা।
রিমির দারুণ পারফরম্যান্সে স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে উপস্থিত হাজারো দর্শক করতালির মাধ্যমে মুখরিত করে তোলেন পুরো চারপাশ।রিমির এই গোলবন্যা কেবল ফাইনালেই সীমাবদ্ধ ছিল না, সেমিফাইনাল থেকেই তিনি ছিলেন ফর্মের তুঙ্গে। এর আগে টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে শেরপুর জেলার বিপক্ষেও ময়মনসিংহের জয়ে মূল ভূমিকা ছিল তাঁর। প্রতিপক্ষের জালে ২ বার বল পাঠিয়ে দলের ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছিলেন ঈশ্বরগঞ্জের এই ফুটবল কন্যা।
টুর্নামেন্টের শেষ দুই ম্যাচেই তাঁর পা থেকে এসেছে ৬টি চোখ ধাঁধানো গোল। মাঠের চারপাশে বল ড্রিবলিং ও গোলপোস্টের সামনে তাঁর ঠান্ডা মাথার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দেখে অনেকে ইতিমধ্যেই তাঁর মাঝে দেশের নারী ফুটবলের এক উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ দেখতে পাচ্ছেন।
ঈশ্বরগঞ্জের চরনিখলা উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির এই শিক্ষার্থীর ফুটবলার হয়ে ওঠার গল্পটা অবশ্য বেশ সংগ্রামের। বাবা-মা দুজনেই জীবিকার তাগিদে ঢাকায় একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। বাবা-মায়ের অনুপস্থিতিতে নানার আশ্রয়ে থেকেই নিজের ফুটবল খেলার স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রেখেছেন এবং নিয়মিত অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। নানার হাত ধরে ও নিজের অদম্য ইচ্ছায় আজ ঈশ্বরগঞ্জ ছাড়িয়ে পুরো ময়মনসিংহের গর্বে পরিণত হয়েছেন রিমি।
আঞ্চলিক পর্বের এই দুর্দান্ত সাফল্যের পর এবার রিমির লক্ষ্য জাতীয় পর্যায়। ময়মনসিংহের ক্রীড়াপ্রেমীদের এখন একটাই আশা, রিমি তাঁর এই চেনা গোলক্ষুধা ধরে রেখে জাতীয় মঞ্চেও ময়মনসিংহের নাম উজ্জ্বল করবেন এবং দেশের ফুটবলকে নিয়ে যাবেন এক অনন্য উচ্চতায়।

মোহাম্মদ সালাহ ‘স্বার্থপরের মতো’ আচরণ করেছেন এবং ব্রেন্টফোর্ডের বিপক্ষে অ্যানফিল্ডে অলরেডদের মৌসুমের শেষ ম্যাচের স্কোয়াড থেকে তাঁকে বাদ দেওয়া উচিত— এমনটাই মন্তব্য করেছেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক স্ট্রাইকার ওয়েন রুনি।
অ্যাস্টন ভিলার কাছে ৪-২ গোলে হেরে লিভারপুলের চ্যাম্পিয়নস লিগ ভাগ্য যখন শঙ্কায়, তখন সালাহ এক বিবৃতিতে বলেন, লিভারপুলকে আবার সেই ‘হেভি মেটাল অ্যাটাকিং দল’ হিসেবে ফিরতে হবে। যাকে প্রতিপক্ষ ভয় পায়।
সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে মিশরীয় রাজপুত্র লেখেন,
‘আমি এই ফুটবলই খেলতে জানি এবং এটাই ক্লাবের আসল পরিচয়, যা পুনরুদ্ধার করা ও ধরে রাখা উচিত। এটি নিয়ে কোনো আপস হতে পারে না এবং যারা এই ক্লাবে যোগ দেবে, তাদের অবশ্যই এর সাথে মানিয়ে নিতে হবে।’
সালাহর এই পোস্টটিকে মূলত কোচ আর্নে স্লটের প্রকাশ্য সমালোচনা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। এ নিয়ে ‘দ্য ওয়েন রুনি শো’-তে রুনি বলেন,
‘লিভারপুলের হয়ে সে (সালাহ) যা কিছু অর্জন করেছে। তার এমন এক শেষ দেখাটা সত্যিই দুঃখজনক। স্লটকে লক্ষ্য করে তাঁর এভাবে আবারও খোঁচা দেওয়ার কোনো মানে হয় না।’
রুনি আরও যোগ করেন,
‘সে হেভি মেটাল ফুটবল খেলতে চায়, যার মানে সে আসলে ইয়ুর্গেন ক্লপের ফুটবল স্টাইল ফিরে পেতে চাইছে। কিন্তু আমার মনে হয় না সালাহ এখন আর সেই উচ্চ গতি ও তীব্রতার ফুটবলের সাথে মানিয়ে নিতে পারবেন। তাঁর সেই ধার আর নেই।’
নিজের ক্যারিয়ারের উদাহরণ টেনে রুনি বলেন,
‘আমি যদি আর্নে স্লট হতাম, তবে শেষ ম্যাচে সালাহকে স্টেডিয়ামের আশেপাশেও ঘেঁষতে দিতাম না। ওল্ড ট্রাফোর্ডে স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের শেষ ম্যাচে আমার সাথেও তাঁর দ্বিমত ও ঝামেলা হয়েছিল, যার কারণে ফার্গুসন আমাকে স্কোয়াডের বাইরে রেখেছিলেন।’

প্রিমিয়ার লিগ টেবিলের ১৮ নম্বরে থাকা ওয়েস্ট হ্যামের হাতে অবশিষ্ট আর মাত্র একটি ম্যাচ। টেবিলে তাদের ঠিক ওপরে থাকা টটেনহ্যামের পয়েন্ট দুই বেশি। স্পার্সের হাতে একটি ম্যাচ বাকি এবং গোল ব্যবধানেও তারা অনেক এগিয়ে। ফলে মঙ্গলবার চেলসির সাথে টটেনহ্যাম যদি ড্র-ও করে, তবে দ্বিতীয় স্তরের লিগ বা ‘চ্যাম্পিয়নশিপ’-এ নেমে যাওয়া প্রায় নিশ্চিত হয়ে যাবে ওয়েস্ট হ্যামের।
প্রিমিয়ার লিগ থেকে ওয়েস্ট হ্যামের এই অবনমনে লন্ডনের করদাতাদের অতিরিক্ত ২৫ লাখ পাউন্ড গুণতে হতে পারে। লন্ডন স্টেডিয়ামের সাথে ক্লাবটির চুক্তিপত্রের শর্তাবলীর কারণেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
স্টেডিয়ামটির সাথে ওয়েস্ট হ্যামের ৯৯ বছরের দীর্ঘমেয়াদী চুক্তিতে রয়েছে— ক্লাবটি যদি রেলিগেটেড হয়, তবে গ্রেটার লন্ডন অথরিটিকে তারা বর্তমান বার্ষিক ভাড়া ৪৪ লাখ পাউন্ডের মাত্র অর্ধেক পরিশোধ করবে।
লন্ডনের সাধারণ করদাতারা বর্তমানে স্টেডিয়ামের নিরাপত্তাকর্মী (স্টুয়ার্ড) নিয়োগসহ বিভিন্ন পরিচালন ব্যয়ে অবদান রাখেন; ভাড়ার এই ঘাটতি তখন তাদের পকেট থেকেই মেটাতে হবে।
লন্ডনের মেয়র সাদিক খান বলেন,
‘ওয়েস্ট হ্যাম যদি অবনমিত হয়, তবে আমরা করদাতারা এবং সিটি হল প্রতি বছর ২৫ লাখ পাউন্ড পর্যন্ত রাজস্ব হারাতে পারি।’
তিনি আরও যোগ করেন,
‘লন্ডনের যেসব বাসিন্দা স্পার্সের (টটেনহ্যাম) সমর্থক নন, তাদের উদ্দেশ্যে আমি বলব— আপনাদের সম্ভবত ওয়েস্ট হ্যামের হয়েই গলা ফাটানো উচিত। কারণ ওয়েস্ট হ্যাম নিচে নেমে গেলে লোকসানটা করদাতাদেরই হবে।’
ধারণা করা হচ্ছে, ওয়েস্ট হ্যাম চ্যাম্পিয়নশিপে খেললে লন্ডন স্টেডিয়ামের বাণিজ্যিক আয় অনেকটাই কমে যাবে। অন্যদিকে প্রিমিয়ার লিগের ১৯টি হোম ম্যাচের তুলনায় চ্যাম্পিয়নশিপের ২৩টি হোম ম্যাচে নিরাপত্তাকর্মী ও স্টেডিয়াম পরিচালনার খরচ আরও অনেক বেড়ে যাবে।

কুল-বিএসপিএ বর্ষসেরা ক্রীড়াবিদ ২০২৫-এর সংক্ষিপ্ত তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন দুই ফুটবলার হামজা চৌধুরী ও ঋতুপর্ণা চাকমা। তাঁদের সঙ্গে আছেন জুনিয়র হকি বিশ্বকাপে রেকর্ড গড়া আমিরুল ইসলাম।
পপুলার চয়েজ অ্যাওয়ার্ড সংক্ষিপ্ত তালিকায় আছেন (মনোনয়ন) হামজা চৌধুরী (ফুটবল), ঋতুপর্ণা চাকমা (নারী ফুটবল), তানজিদ হাসান তামিম (ক্রিকেট), আমিরুল ইসলাম (হকি)। এই বিভাগে অনলাইনে চলছে ভোটিং। যা চলবে ২১ মে মধ্যরাত পর্যন্ত। দুই বিভাগের বিজয়ীর নাম অনুষ্ঠানের দিন ঘোষণা করা হবে।
এ বছর ১৫টি বিভাগে সর্বমোট ১৪জন বর্তমান ও সাবেক ক্রীড়াবিদ, সংগঠক এবং সংস্থাকে পুরস্কৃত করা হবে। থাকছে অর্থ পুরস্কারও।
উল্লেখ্য বাংলাদেশ স্পোর্টস প্রেস অ্যাসোসিয়েশন (বিএসপিএ) ১৯৬৪ সালে দেশে প্রথম ক্রীড়াক্ষেত্রে পুরস্কারের প্রবর্তন করে। এরই ধারাবাহিকতায় আগামী ২২ মে, শুক্রবার বেলা ৩টায়, রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলের গ্র্যান্ড বলরুমে বসতে যাচ্ছে ক্রীড়াঙ্গনে অন্যতম আকর্ষণীয় আসর 'কুল-বিএসপিএ স্পোর্টস অ্যাওয়ার্ড ২০২৫'।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন মাননীয় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক ও স্কয়ার টয়লেট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অঞ্জন চৌধুরী।
আজ সোমবার বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) ডাচ বাংলা ব্যাংক মিলনায়তনে এ উপলক্ষে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে মনোনয়নপ্রাপ্তদের নাম ঘোষণা করেন বিএসপিএ-র সভাপতি রেজওয়ান উজ জামান রাজিব। এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্কয়ার টয়লেট্রিজ লিমিটেডের জিএম মার্কেটিং ড. জেসমিন জামান, বিএসপিএ সাধারণ সম্পাদক ও খেলোয়াড় বাছাই কমিটির চেয়ারম্যান সুদীপ্ত আহমদ আনন্দ ও বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক মো. সামন হোসেন।
এই নিয়ে ১১ বারের মতো দেশের স্বনামধন্য কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান স্কয়ার টয়লেট্রিজ লিমিটেড এই আয়োজনের পৃষ্ঠপোষকতা করছে।
পূর্নাঙ্গ মনোনয়ন তালিকা:
বর্ষসেরা ফুটবলার: হামজা চৌধুরী, ঋতুপর্ণা চাকমা।
বর্ষসেরা ক্রিকেটার: রিশাদ হোসেন।
বর্ষসেরা হকি খেলোয়াড়: আমিরুল ইসলাম।
বর্ষসেরা আরচার: আব্দুর রহমান আলিফ।
বর্ষসেরা টেবিল টেনিস খেলোয়াড়: খই খই সাই মারমা।
বর্ষসেরা ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড়: আল আমিন জুমার।
উদীয়মান ক্রীড়াবিদ: রিপন মন্ডল (ক্রিকেট)
বর্ষসেরা কোচ: পিটার বাটলার (নারী ফুটবল)
সেরা আম্পায়ার: সেলিম লাকী।
সেরা সংগঠক: কাজী রাজীব উদ্দীন আহমেদ চপল।
তৃনমূলের ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব: আলমগীর কবীর (ক্রিকেট কোচ)।
বিশেষ সম্মাননা: শাহনাজ পারভীন মালেকা।
সেরা পৃষ্ঠপোষক: প্রাইম ব্যাংক পিএলসি।
সক্রিয় ফেডারেশন: বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশন।
পপুলার চয়েজ অ্যাওয়ার্ড (মনোনয়ন): হামজা চৌধুরী (ফুটবল), ঋতুপর্ণা চাকমা (নারী ফুটবল), তানজিদ হাসান তামিম (ক্রিকেট), আমিরুল ইসলাম (হকি)।
বর্ষসেরা ক্রীড়াবিদ (মনোনয়ন): হামজা চৌধুরী (ফুটবল), ঋতুপর্ণা চাকমা (নারী ফুটবল), আমিরুল ইসলাম (হকি)।

টানা দুই মৌসুমের দুঃস্বপ্ন পেছনে রেখে রিয়াল মাদ্রিদের সব মনোযোগ এখন আগামী মৌসুমের দল গোছানোর ওপর। আর এই পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে ডাগআউট থেকেই, যেখানে সবার চোখ এখন হোসে মরিনিয়োর সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনের দিকে। গুঞ্জন আছে, সবকিছু ঠিক থাকলে দুই মৌসুমের চুক্তিতে স্প্যানিশ জায়ান্ট ক্লাবটিতে ফিরবেন এই পর্তুগিজ মাস্টারমাইন্ড। সেই চেনা ক্লাবে, ২০১০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত যে রিয়াল মাদ্রিদকে তিনি নিজের 'ঘর' বানিয়ে নিয়েছিলেন।
সব হিসাব-নিকাশ মিলে যাওয়ার পর মরিনিয়ো যদি শেষ পর্যন্ত রিয়ালের ডাগআউটে পা রাখেনই, তবে তাঁর জন্য অপেক্ষা করছে এক বিশাল কাজের তালিকা। যার মধ্যে রয়েছে—ভেঙে পড়া ড্রেসিংরুম জোড়া লাগানো, দলের জন্য নতুন নেতা খুঁজে বের করা, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও কিলিয়ান এমবাপের মধ্যকার ইগোর লড়াই থামিয়ে মাঠে তাদের রসায়ন জমিয়ে তোলা এবং আগামী মৌসুমের জন্য দলের কোন কোন পজিশনে নতুন খেলোয়াড় লাগবে, তা দ্রুত চিহ্নিত করা।
ভাঙা ড্রেসিংরুম জোড়া লাগানো
গত কদিন রিয়াল মাদ্রিদের ড্রেসিংরুম অবিশ্বাস্য সব ঘটনার স্বাক্ষী হয়েছে। ওভিয়েদোর বিপক্ষে ম্যাচের পর রিয়াল মাদ্রিদের ড্রেসিংরুমের ভেতরের ফাটলগুলো আরও একবার নগ্নভাবে প্রকাশ পেয়ে যায়। অরেলিয়েন চুয়ামেনি ও ফেদেরিকো ভালভার্দের মধ্যে মারামারির খবর সামনে আসার পর এটিই ছিল রিয়ালের প্রথম ঘরের মাঠে ম্যাচ। ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ তো জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকে নির্বাচনই দিয়ে দিলেন!
কিলিয়ান এমবাপে কেবল নিজের কোচের সমালোচনাই করেননি, একই সঙ্গে সতীর্থদেরও একহাত নিয়েছেন। মিক্সড জোনে এসে ফরাসি এই ফরোয়ার্ড বলেন, ‘আমি এখানেই (সরাসরি) কথা বলতে পছন্দ করি। অনেকেই সেটা করে না, যার কারণে তারা কী ভাবছে সেটা জানতে আমাকে সংবাদপত্রের দিকে তাকিয়ে থাকতে হয়।’
ড্রেসিংরুমের এই ভাঙন জোড়া লাগিয়ে দলে ঐক্য ফিরিয়ে আনাই হবে মরিনহোর প্রথম মিশন। ড্রেসিংরুমকে আবার এমন একটা জায়গায় রূপ দিতে হবে যেখানে খেলোয়াড়রা মিডিয়া লিক বা মিক্সড জোনে এসে মন্তব্য না করে, নিজেদের মধ্যকার ঝামেলাগুলো আড়ালে বসে মিটিয়ে নেবে। পুরো মৌসুম জুড়েই রিয়ালের ভেতরের এই উত্তেজনা বারবার সামনে এসেছে। ক্লাসিকোতে বিতর্কিত আচরণের পর জাবি আলোনসোর কাছে সরাসরি ক্ষমা চাইতে অস্বীকৃতি জানিয়ে দলে একা হয়ে পড়েছিলেন ভিনিসিয়ুস। আলভারো আরবেলোয়া কোনোমতে এই ব্রাজিলিয়ানকে কিছুটা শান্ত রাখলেও, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় প্রকাশ্যেই নিজেদের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন, যার সর্বশেষ উদাহরণ এমবাপ্পের এই ক্ষোভ।
কয়েক মাস ধরেই তুষের আগুনের মতো জ্বলছিলে—এমবাপে ইস্যু। ফ্রান্সের সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, রিয়ালের ডাক্তাররা এমবাপ্পের হাঁটুর ভুল ইনজুরি ডায়াগনসিস করেছিলেন। সব মিলিয়ে মরিনিয়োর সবচেয়ে বড় ‘হোমওয়ার্কই’ ড্রেসিংরুমের সব আগুনে জল ঢালা।
নতুন ‘নেতা’ খুঁজে বের করা
রিয়াল মাদ্রিদ বেশ কয়েক বছর ধরেই একটা প্রজন্ম পরিবর্তনের (জেনারেশনাল ট্রানজিশন) মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যা এখন প্রায় শেষের পথে। লুকা মদ্রিচের বিদায়ের পর ক্লাবটিতে মরিনিয়োর প্রথম মেয়াদের শেষ প্রতিনিধিও হারিয়ে গেছে। আর এই গ্রীষ্মে দানি কারভাহালও যদি প্রত্যাশিতভাবে ক্লাব ছাড়েন, তবে পাঁচ বছরে চারটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতা ঐতিহাসিক দলের আর কোনো সদস্যই স্কোয়াডে অবশিষ্ট থাকবে না। এমনকি রিয়ালের ‘লা ডেসিমা-তেরসেরা’ (১৩তম চ্যাম্পিয়ন্স লিগ) জয়ী দলের একমাত্র টিকে থাকা খেলোয়াড় দানি সেবালোসও নাকি ক্লাব ছাড়ার দ্বারপ্রান্তে।
এর আগেই টনি ক্রুস এবং নাচো ফার্নান্দেজের মতো ড্রেসিংরুমের প্রভাবশালী খেলোয়াড়রা সান্তিয়াগো বার্নাব্যুকে বিদায় জানিয়েছেন। এই পটপরিবর্তনের মধ্যেও রিয়াল আরও দুটি ইউরোপিয়ান কাপ জিতেছে; যার পেছনে মূল কারিগর ছিল একঝাঁক তরুণ তুর্কি। আশা করা হয়েছিল এরাই দলের ভবিষ্যৎ নেতা হয়ে উঠবে, বিশেষ করে ফেদেরিকো ভালভার্দে এবং ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। দুজনেই ইতিমধ্যে অধিনায়কের আর্মব্যান্ড পরেছেন, কিন্তু সাবেক অধিনায়ক সার্জিও রামোসের মতো সেই জাঁদরেল ও কর্তৃত্বপূর্ণ নেতৃত্ব এখনো কেউ মাঠে ফুটিয়ে তুলতে পারেননি।
কারভাহালের পর অধিনায়কত্বের ব্যাটন ক্রমান্বয়ে যাওয়ার কথা ভালভার্দে, ভিনিসিয়ুস, থিবো কোর্তোয়া, এদের মিলিতাও এবং ফেরলঁ মেন্দির কাছে। কিন্তু এই তালিকার প্রত্যেকের নামের পাশেই ঝুলে আছে বড় বড় প্রশ্নবোধক চিহ্ন! চুয়ামেনির সঙ্গে অভ্যন্তরীণ মারামারির কারণে ভালভার্দের ভাবমূর্তি কিছুটা ক্ষুণ্ণ হয়েছে। অন্যদিকে ভিনিসিয়ুস এখনও বার্নাব্যুর দর্শকদের সঙ্গে পুরোপুরি সংযোগ তৈরি করতে প্রতিনিয়ত লড়াই করে যাচ্ছেন। কোর্তোয়াকে নিয়ে উঠছে অন্য প্রশ্ন—গোলকিপারদের অধিনায়ক বানানোর ক্ষেত্রে মরিনিয়োর অনীহা নাকি সবসময়ই। আর বাকি থাকা মিলিতাও এবং মেন্দির ক্যারিয়ার তো প্রতিনিয়ত চোটের আঘাতেই জর্জরিত।
শেষ পর্যন্ত রিয়ালের ডাগআউটে যিনিই ফিরুন না কেন, মাঠে রিয়ালের জন্য একজন প্রকৃত এবং স্পষ্ট নেতা খুঁজে বের করাই হবে তাঁর অন্যতম বড় পরীক্ষা।
ভিনি-এমবাপের রসায়ন জমিয়ে তোলা
গত দুই মৌসুমে কার্লো আনচেলত্তি, জাবি আলোনসো কিংবা আলভারো আরবেলোয়া—রিয়ালের ডাগআউটে আসা প্রতিটি কোচের জন্যই সবচেয়ে বড় এবং অমীমাংসিত এক চ্যালেঞ্জ এটি। মাঠের প্রায় একই পজিশনে (লেফট উইং) খেলা এই দুই মহাতারকাকে কীভাবে একসঙ্গে খেলিয়ে দলের সেরাটা বের করে আনা যায়, সেই ফর্মুলা কেউই পুরোপুরি মেলাতে পারেননি।
অবশ্য যদি পরিসংখ্যানের খেরোখাতা দেখা হয়, তবে আনচেলত্তি এই ভারসাম্য বজায় রাখার কঠিন কাজটা বেশ ভালোভাবেই সামলেছিলেন। গত মৌসুমে ৪৪ গোল করে এমবাপ্পে তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা সিজন উপহার দিয়েছিলেন, জিতেছিলেন পিচিচি ট্রফি এবং ইউরোপিয়ান গোল্ডেন শু-ও। অন্যদিকে ভিনিসিয়ুসও ২২ গোল এবং ১৬ অ্যাসিস্ট করে নিজের কার্যকারিতা প্রমাণ করেছিলেন। কিন্তু মাঠের খেলায় দুই তারকার এই বিশাল পরিসংখ্যান রিয়ালের জন্য খুব একটা কাজে আসেনি; মৌসুমের শুরুতে উয়েফা সুপার কাপ এবং ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ ছাড়া বড় কোনো শিরোপাই ঘরে তুলতে পারেনি লস ব্লাঙ্কোসরা।
চলতি ভিনি-এমবাপের পারফরম্যান্স যেন অনেকটা পেন্ডুলাম বা দোলনার মতো ওঠানামা করেছে। জাবি আলোনসোর অধীনে যেখানে এমবাপে ছিলেন দুর্দান্ত, সেখানে আরবেলোয়ার ছোঁয়ায় ভিনিসিয়ুস ফিরে পেয়েছেন নিজেকে। লেভারকুসেনের সাবেক কোচ আলোনসোর অধীনে ২৬ ম্যাচে ৩১ গোল করে রীতিমতো উড়ছিলেন এমবাপ্পে। কিন্তু ডাগআউটে পরিবর্তনের পর, চোটের ধাক্কা সামলে ১৮ ম্যাচে তিনি করতে পেরেছেন মাত্র ১২ গোল।
অন্যদিকে আরবেলোয়া যখন রিয়ালের দায়িত্ব নেন, তখন ভিনিসিয়ুসের অবস্থা ছিল একেবারেই যাচ্ছেতাই। সাবেক কোচের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়ানো আর বার্নাব্যুর দর্শকদের দুয়ো শোনা ভিনিসিয়ুস ২৭ ম্যাচে করেছিলেন মাত্র ৬ গোল, এমনকি কাটিয়েছেন তিন মাসের দীর্ঘ গোলখরাও! তবে আরবেলোয়ার অধীনে নাটকীয়ভাবে ঘুরে দাঁড়ান এই ব্রাজিলিয়ান; ২৫ ম্যাচে করেন ১৫ গোল। মরিনিয়োর আসল চ্যালেঞ্জটাই হবে এমন এক জাদুকরী ফর্মুলা খুঁজে বের করা, যা কোনো খেলোয়াড়কে হতাশ না করে একইসঙ্গে দুজনেরই সেরা সংস্করণটা মাঠে ফুটিয়ে তুলবে।
দলবদলের অগ্রাধিকার ও নতুন মুখ চিহ্নিত করা
রিয়াল মাদ্রিদ এবার গত ছয় বছরের মধ্যে তাদের সবচেয়ে ব্যস্ত এবং ব্যয়বহুল দলবদলের মৌসুম পার করেছে। তবে এত খরচ করে যে চারজন নতুন খেলোয়াড়কে তারা দলে ভিড়িয়েছিল, তাদের প্রত্যেকেই শেষ পর্যন্ত প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছেন। আলভারো কারেরাস, ডিন হাইসেন এবং ফ্রাঙ্কো মাস্তান্তুওনো—তিনজনেই শুরুতে দারুণ ঝলক দেখালেও সময়ের গড়ানোর সঙ্গে ফিকে হয়ে গেছেন। অন্যদিকে ট্রেন্ট আলেকজান্ডার-আর্নল্ড কেবল চোটের সঙ্গেই লড়াই করেননি, মাঠে রিয়ালের রক্ষণভাগের দুর্বলতাগুলোকেও বড্ড নগ্নভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।
ঐতিহ্যগতভাবেই রিয়াল মাদ্রিদ দলবদলের বাজারে খুব দ্রুত চাল চালতে পছন্দ করে, তবে এই গ্রীষ্মে তাদের সেই তাড়াহুড়ো আরও কয়েক গুণ বেড়ে যাচ্ছে। কারণ সামনেই কড়া নাড়ছে ফুটবল বিশ্বকাপ; আর উত্তর আমেরিকার এই বিশ্বমঞ্চে যে তারকারাই নিজেদের আলো ছড়াবেন, তাদের দাম যে আকাশচুম্বী হয়ে যাবে তা বলাই বাহুল্য। তাই বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার আগেই দলের খামতিগুলো বুঝে সঠিক খেলোয়াড় বেছে নেওয়া মরিনিয়োর জন্য হবে অনেক বড় এক চ্যালেঞ্জ।