
লা লিগা জয়ের দৌড়ে বার্সেলোনা এখন চালকের আসনে। তবে লিগ শিরোপা প্রায় হাতের মুঠোয় থাকলেও বসে নেই ক্লাবটির নীতিনির্ধারকরা। আগামী মৌসুমের জন্য এখন থেকেই কোমর বেঁধে নামছে কাতালান জায়ান্টরা।
বার্সেলোনার মূল লক্ষ্য এখন তাদের ‘আরাধ্য’ ষষ্ঠ চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়। ২০১৫ সালের পর ইউরোপের এই শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট পাওয়া হয়নি কাতালান জায়ান্টদের। চলতি মৌসুমেও কোয়ার্টার ফাইনালে আতলেতিকো মাদ্রিদের কাছে হেরে বিদায় নেওয়ায় সেই অপেক্ষা আরও অন্তত দীর্ঘ হলো।
কোচ হান্সি ফ্লিক তাঁর অভিষেক মৌসুমেই বার্সাকে লা লিগা জিতিয়েছেন এবং এবারও ক্লাবটি সেই পথেই আছে। কিন্তু দুইবার চেষ্টা করেও চ্যাম্পিয়ন্স লিগে দলকে সাফল্যের চূড়ায় নিতে পারেননি এই জার্মান কোচ। ফলে ইউরোপসেরার ট্রফি জিততে ফ্লিক এখন এমন এক স্কোয়াড গড়তে মরিয়া, যেখানে থাকবে সব ধরনের প্রয়োজনীয় ‘অস্ত্র’।
তবে এই বার্সেলোনার সবচেয়ে বড় বাধা আর্থিক সংকট। হাতে খরচের জন্য অঢেল টাকা নেই ক্যাম্প ন্যূ’এর ক্লাবটির। স্প্যানিশ সংবামা ‘এএস ডায়ারিও’-র রিপোর্ট অনুযায়ী, নতুন খেলোয়াড় কিনতে হলে ক্লাবটিকে তাদের বর্তমান কিছু তারকা খেলোয়াড়কে বিক্রি করে সেই ফান্ড জোগাড় করতে হবে।
সবচেয়ে বড় চমক হলো, যে তিন ডিফেন্ডারকে ক্লাব ছাড়ার তালিকায় রাখা হতে পারে, তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন রোনাল্ড আরাউহো। মাঠ এবং মাঠের বাইরে বার্সার রক্ষণের অন্যতম নেতা হিসেবে পরিচিত এই উরুগুইয়ান তারকাকেও হয়তো দলের শক্তি বাড়াতে বিসর্জন দিতে পারে বার্সা কর্তৃপক্ষ।
গত নভেম্বরে বিষণ্নতার কারণে খেলা থেকে বিরতি নিয়েছিলেন আরাউহো। ফেরার পর লা লিগায় মাত্র দুটি ম্যাচে শুরুর একাদশে সুযোগ পেয়েছেন এই উরুগুইয়ান ডিফেন্ডার। নিয়মিত মাঠে নামতে না পারার এই চিত্রই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ক্লাব হয়তো তাকে এখন অতিরিক্ত বা অপ্রয়োজনীয় মনে করছে।
আরাউহো ছাড়াও আরও দুই ডিফেন্ডার—জুলস কুন্দে এবং আলেহান্দ্রো বালদের ক্লাব ছাড়ার গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। যদিও কোচ ফ্লিক তাদের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখেন এবং তারা দলের নির্ভরযোগ্য মুখ, তবুও আর্থিক সংকটের কারণে চিত্রপট বদলে যেতে পারে। যদি এই পজিশনগুলোতে আরও দক্ষ খেলোয়াড় পাওয়া যায় কিংবা বড় সাইনিংয়ের জন্য অর্থের প্রয়োজন হয়, তবে তাদেরও ছেড়ে দিতে পারে বার্সা।
লা মাসিয়ার প্রতিভাবান মিডফিল্ডার মার্ক কাসাদোকেও হয়তো দলবদলের বাজারে তুলতে পারে ক্লাব। গত কয়েক মাসে অনেক ক্লাবই এই মিডফিল্ডারের প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছে। এতদিন বার্সেলোনার হয়ে খেলার তীব্র ইচ্ছার কারণে কাসাদো ক্লাব ছাড়তে রাজি হননি। তবে সৌদি আরব, প্রিমিয়ার লিগ এবং লা লিগার ক্লাবগুলো তাকে পেতে মরিয়া। পর্যাপ্ত গেমটাইম না পাওয়ায় কাসাদো এবার হয়তো ক্লাব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিতেই পারেন।
সবচেয়ে জটিল অবস্থা রুনি বারদঘজিকে নিয়ে। সুইডিশ এই উইঙ্গারকে সহজে হারাতে চায় না বার্সা। তবে আক্রমণভাগের ডানপ্রান্তে লামিন ইয়ামালের বিকল্প হিসেবে খুব একটা মাঠে নামার সুযোগ পাচ্ছেন না বারদঘজি। তাতে এই উইঙ্গারকে বিক্রি করলেও চুক্তিতে 'বাই-ব্যাক' (পুনরায় কিনে নেওয়ার সুযোগ) ক্লজ রাখা হতে পারে, যাতে অন্য ক্লাবে নিয়মিত খেলার সুযোগ পেয়ে নিজেকে আরও ঝালিয়ে নিতে পারেন তিনি।
বায়ার্ন মিউনিখ থেকে বার্সায় যোগ দেওয়া রবার্ট লেভানডফস্কির ক্লাব ছাড়া অনেকটাই নিশ্চিত। মৌসুম শেষেই পোলিশ ফরোয়ার্ডের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে স্প্যানিশ জায়ান্টদের। বার্সার হয়ে চার মৌসুমে ১৮৮ ম্যাচে ১৮৮ গোল করেছেন লেভানডফস্কি। জিতেছেন দুটি লা লিগা, একটি কোপা দেল’রে ও তিনটি সুপার কোপা শিরোপা।
No posts available.
২ মে ২০২৬, ৪:১৪ পিএম

একে তো যাচ্ছেতাই পারফরম্যান্সে টানা দুই মৌসুম শিরোপাহীন থাকার পথে, এরমধ্যে চাউর হয়েছে নতুন খবর। মাঠের খেলার একের পর এক ব্যর্থতার প্রভাব নাকি ভালোভাবেই পড়েছে রিয়াল মাদ্রিদের ড্রেসিংরুমে। শান্ত হওয়ার কোনো লক্ষণই নেই, একের পর এক বিতর্ক আর অভ্যন্তরীণ কোন্দলের খবরে উত্তাল ‘গ্যালাকটিকোদের’ ডেরা। এবার নতুন করে খবর চাউর হয়েছে, রিয়ালের স্কোয়াডের ভেতরকার ফাটল এখন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে, আর এর কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন রক্ষণভাগের অতন্দ্র প্রহরী আন্তোনিও রুডিগার।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘মুন্দো দেপোর্তিভো’-র এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, রিয়াল মাদ্রিদের ড্রেসিংরুম এখন যেন এক ‘বারুদের স্তূপ’। সেখানকার পরিবেশ এতটাই থমথমে এবং বিষাক্ত যে যেকোনো সময় বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। ফুটবলারদের মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক লড়াই আর তিক্ততা এতটাই বেড়েছে যে ক্লাব কর্তৃপক্ষ চাইলেও নাকি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছে না।
বিশেষ করে রুডিগারকে ঘিরে ছড়িয়ে পড়া গুঞ্জন এই আগুনে ঘি ঢেলেছে। শোনা যাচ্ছে, সতীর্থদের সঙ্গে জার্মান ডিফেন্ডারের সম্পর্কের অবনতি ড্রেসিংরুমের পরিবেশকে আরও জটিল করে তুলেছে। মাঠের পারফরম্যান্সের চেয়েও এখন ক্লাবের অন্দরমহলের এই ‘অস্থিরতা’ নিয়ে ফুটবল বিশ্বে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
মাঠের পারফরম্যান্স রিয়ালের এই ‘বিস্ফোরক’ পরিস্থিতিকে আরও শোচনীয় করে তুলেছে। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার মুখোমুখি হওয়ার আগেই কার্যত লিগ শিরোপার দৌড় থেকে ছিটকে গিয়েছে লস ব্লাঙ্কোসরা। এরপর চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে বায়ার্ন মিউনিখের কাছে হার যেন কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দিয়েছে। গত ছয় ম্যাচের মধ্যে মাত্র একটিতে জয় পেয়েছে রিয়াল। ফলে টানা দ্বিতীয় বছরের মতো কোনো বড় ট্রফি ছাড়াই মৌসুম শেষ করতে হচ্ছে স্প্যানিশ জায়ান্টদের।
মুন্দো দেপোর্তিভোর প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ‘রয়্যালসদের ড্রেসিংরুম এখন আক্ষরিক অর্থেই এক বারুদের স্তূপে পরিণত হয়েছে।’ ফুটবলারদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দলের গুঞ্জন থামছেই না। এর মধ্যে বিষফোড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে কোচ আলভারো আরবেলোয়ার বিরুদ্ধে খেলোয়াড়দের গণ-অসন্তোষ। ধারণা করা হচ্ছে, এই মৌসুম শেষ হওয়ামাত্রই তার বিদায় ঘণ্টা বেজে যাবে।
সবচেয়ে বড় শঙ্কার জায়গা হলো দলের তিন প্রাণভোমরা কিলিয়ান এমবাপ্পে, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র এবং জুড বেলিংহামকে ঘিরে ছড়িয়ে পড়া খবর। শোনা যাচ্ছে, এই তিন মহাতারকার মধ্যে চরম মনোমালিন্য চলছে এবং তারা একাধিকবার একে অপরের সঙ্গে বাদানুবাদে জড়িয়েছেন। ইগোর লড়াই আর আধিপত্য বিস্তারের এই দ্বন্দ্বে রিয়ালের আভিজাত্য এখন খাদের কিনারায়।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম 'মার্কা' এবং 'এএস'-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোচ আরবেলোয়ার সঙ্গে মিডফিল্ডার দানি সেবায়োসের একটি ব্যক্তিগত আলাপচারিতা চরম তিক্ততায় রূপ নেয়। পরিস্থিতি এতটাই ঘোলাটে হয়েছে যে, সেবায়োস এই মৌসুমের বাকি সময় আরবেলোয়ার সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ না রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
যদিও লা লিগায় স্পানিওলের মুখোমুখি হওয়ার আগে সংবাদ সম্মেলনে আরবেলোয়া বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, ড্রেসিংরুমের ঘটনা বাইরে প্রকাশ না করাই ফুটবলীয় শিষ্টাচার, যা তিনি গত ২০ বছর ধরে মেনে চলছেন। তবে পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে আন্তোনিও রুডিগারকে ঘিরে আসা খবরগুলো।
ইএসপিএন দাবি করেছে, সম্প্রতি রুডিগার এক সতীর্থের সঙ্গে বড় ধরনের হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন, যা ক্লাব কর্তৃপক্ষ গোপন করার চেষ্টা করেছিল। 'মুন্দো দেপোর্তিভো' যোগ করেছে যে, জার্মান এই ডিফেন্ডার নাকি রীতিমতো হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিলেন। শুধু তাই নয়, কোচ আরবেলোয়ার সঙ্গে দলের সিনিয়র সদস্য দানি কারভাহাল এবং তরুণ রাউল আসেন্সিওর সম্পর্কের টানাপোড়েনও এখন তুঙ্গে, যা রিয়ালের অভ্যন্তরীণ সংকটকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
সব মিলিয়ে আলভারো আরবেলোয়ার বিদায় এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। বছরের শুরুতে জাবি আলনসোর স্থলাভিষিক্ত হওয়া আরবেলোয়া ড্রেসিংরুমের শৃঙ্খলা ধরে রাখতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছেন। বিশেষ করে আন্তোনিও রুডিগারকে নিয়ে বিতর্ক থামছেই না; বায়ার্নের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের দ্বিতীয় লেগে জোসিপ স্টানিসিককে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সামাল দিতে রিয়াল প্রেসিডেন্ট ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ এখন একজন কড়া শাসকের (কোচ) খোঁজে আছেন। ‘দ্য অ্যাথলেটিক’-এর মতে, পেরেজের প্রথম পছন্দ সাবেক কোচ হোসে মরিরিয়ো। যদিও ‘স্পেশাল ওয়ান’ জানিয়েছেন রিয়াল থেকে এখনও কেউ তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেনি, তবে গুঞ্জন থামছে না। মরিনিয়ো ছাড়াও ফ্রান্স জাতীয় দলের দায়িত্ব ছাড়তে যাওয়া দিদিয়ে দেশম, ইয়ুর্গেন ক্লপ এবং মাসিমিলিয়ানো অ্যালেগ্রির নামও রিয়ালের পরবর্তী কোচ হিসেবে জোরালোভাবে শোনা যাচ্ছে।

দীর্ঘ আর ক্লান্তিকর মৌসুমের অন্তিমলগ্নে এসে পৌঁছেছে আর্সেনাল। পা ফসকালেই স্বপ্নভঙ্গের বেদনায় পুড়তে হবে মিকেল আরতেতার দলকে। চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালের মহারণ আর ঘরোয়া লিগের শিরোপা লড়াই—দুটি বড় ফ্রন্টে সমান্তরাল লড়াই চালানো গানার্সদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জই বটে।
আজ ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ফুলহামের মুখোমুখি হবে আর্সেনাল। লিগ জয়ের দৌড়ে টিকে থাকতে হলে পুরো তিন পয়েন্ট অর্জনের কোনো বিকল্প নেই তাদের। ৩৪ ম্যাচ শেষে আর্সেনালের পয়েন্ট ৭৩। এক ম্যাচ কম খেলে ৭০ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে ম্যানচেস্টার সিটি। তাতে লিগের শেষ অংশে প্রতিটি ম্যাচই এখন রূপ নিয়েছে অলিখিত ‘ফাইনালে’।
ফুলহ্যামের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে ইতিহাসের দিকে তাকালে আর্সেনাল কিছুটা হলেও নির্ভার থাকতে পারে। বর্তমানে পয়েন্ট টেবিলে ১০ নম্বরে অবস্থান করা দলটি আরতেতার দলকে হারাতে হলে ১৪০ বছরের ইতিহাস বদলাতে হবে। ঘরের মাঠ এমিরেটস স্টেডিয়ামে আজ ফুলহ্যামের কাছে হারলেই ১৪০ বছরের দীর্ঘ এক অপরাজিত থাকার যাত্রা শেষ হবে গানার্সদের। ক্লাব প্রতিষ্ঠার পর থেকে নিজেদের দূর্গে কখনোই ফুলহ্যামের বিপক্ষে হারতে হয়নি তাদের।
আর্সেনাল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ১৮৮৬ সালে। এখন পর্যন্ত আর্সেনালের মাঠে ৩৩টি অ্যাওয়ে ম্যাচ খেলেছে ফুলহ্যাম, যার একটিতেও জয়ের মুখ দেখেনি তারা। ১৯০৪ সালে উলউইচে ক্লাব দুটির প্রথম লড়াই থেকে আজ অবধি এই চিত্র বদলায়নি। ইংলিশ ফুটবলের ইতিহাসে কোনো ক্লাবের টানা এত ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ড আর একটিও নেই। অর্থাৎ, 'দ্য কটেজার্স'দের বিপক্ষে গানার্সদের এই হোম রেকর্ডটি ১৪০ বছরের ফুটবল ইতিহাসে এক অনন্য কীর্তি।
আর্সেনাল কি তাদের নিজেদের মাঠে আর কোন দলের বিপক্ষে এত বেশি ম্যাচ অপরাজিত আছে ? তালিকাটি কিন্তু খুব একটা দীর্ঘ নয়। পরিসংখ্যান বলছে, ফুলহ্যামই একমাত্র দল যাদের বিপক্ষে কোনো হার ছাড়াই ঘরের মাঠে এত বিশাল সংখ্যক ম্যাচ খেলেছে আর্সেনাল। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা গ্রিমসবি টাউন শেষবার গানার্সদের মুখোমুখি হয়েছিল প্রায় ২৫ বছর আগে; আর তার আগের লড়াইটি ছিল দীর্ঘ ৭৮ বছর আগে।
যদিও সাম্প্রতিক সময়ে ফুলহ্যাম কিন্তু আর্সেনালকে বেশ ভালোই ভুগিয়েছে। এমিরেটসে তাদের শেষ চারটি সফরের দুটিতেই ড্র নিয়ে ফিরেছে তারা। এমনকি ২০২৩ সালের থার্টিফার্স্ট নাইটে ক্রাভেন কটেজে আর্সেনালকে ২-১ গোলে হারিয়ে দিয়েছিল তারা।
প্রিমিয়ার লিগ জয়ে আর্সেনালের সঙ্গে সমানতালে লড়ে যাওয়া ম্যানচেস্টার সিটি মাঠে নামবে আগামী সোমবার রাতে। এভারটনের নতুন স্টেডিয়াম ব্রামলি-মুর ডকে এটাই হবে পেপ গার্দিওলার দলের প্রথম সফর। সিটিজেনদের হাতে দুটি ম্যাচ বেশি থাকলেও, আর্সেনালের সামনে সুযোগ এই মুহূর্তে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে ৬ পয়েন্টের ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে সিটিকে প্রবল চাপে রাখা।

টাকা দিয়ে নাকি সবই হয়! প্রচলিত এই প্রবাদটি যে ফুটবল মাঠে সবসময় খাটে না, রিয়াল মাদ্রিদের বর্তমান দুর্দশার দিকে তাকালেই তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। কাড়িকাড়ি টাকা ঢেলে মহাকাশছোঁয়া সাম্রাজ্য গড়েও স্প্যানিশ জায়ান্টরা আজ এক বিষাদময় শূন্যতার সামনে দাঁড়িয়ে। মাঠের লড়াইয়ে রিয়ালের সেই চিরচেনা আভিজাত্য এখন নিখোঁজ;এর বদলে জায়গা করে নিয়েছে এক ‘মহামূল্যবান হাহাকার’। ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে দামি স্কোয়াড নিয়ে এক অপ্রত্যাশিত রেকর্ডের অপেক্ষায় এখন সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর ক্লাবটি।
১.৩৪ বিলিয়ন ইউরো—ফুটবল ইতিহাসের সর্বোচ্চ বাজারমূল্যের স্কোয়াড নিয়েও রিয়াল মাদ্রিদ ইতিহাসের এক কঠিন বাস্তবতার সামনে। মাঠের পারফরম্যান্সের চেয়ে খেলোয়াড়দের ট্রান্সফার ভ্যালু যখন বেশি কথা বলে, তখন সেই সাফল্য যে ভঙ্গুর, মাদ্রিদের বর্তমান দুর্দশা যেন তারই বড় প্রমাণ। কিলিয়ান এমবাপে-জুড বেলিংহামদের মতো তারকাদের অন্তর্ভুক্তি যে নতুন যুগের স্বপ্ন দেখিয়েছিল, তা এখন দুঃস্বপ্নে পরিণত হতে চলেছে। রিয়াল এখন আরও একটি ট্রফিহীন মৌসুমের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে।
'ট্রান্সফারমার্কেট'-এর তথ্য অনুযায়ী, ফুটবল ইতিহাসের যেকোনো ক্লাবের ক্ষেত্রে এটিই এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ বাজারমূল্য। মূলত ২০২৪ সালে কিলিয়ান এমবাপের আগমন এবং গ্রীষ্মকালীন দলবদলে বড় অঙ্কের বিনিয়োগের ফলে দলের এই আর্থিক মূল্য আকাশচুম্বী হয়েছে।
কাগজে-কলমে রিয়ালের এই দলটি বিশ্বসেরা প্রতিভা এবং গভীরতায় ভরপুর। তবে মাঠের পারফরম্যান্স সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। গত মৌসুমের চিত্রটা কিছুটা হলেও ছিল ভিন্ন; সেবার অন্তত উয়েফা সুপার কাপ এবং ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ ঘরে তুলতে পেরেছিল রিয়াল মাদ্রিদ।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম 'স্পোর্ট'-এর মতে, রিয়াল মাদ্রিদ যদি এই মৌসুমে কোনো ট্রফি জিততে না পারে, তবে তারা হবে ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে দামি দল হবে যারা একটি অফিশিয়াল শিরোপাও ছাড়াই মৌসুম শেষ করেছে। রিয়াল মাদ্রিদের স্কোয়াডের দিকে তাকালেই তাদের এই বিপুল বিনিয়োগের চিত্র পরিষ্কার হয়ে যায়। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, বেলিংহাম এবং ফেদেরিকো ভালভার্দের মতো বেশ কয়েকজন ফুটবলার রয়েছেন যাদের প্রত্যেকের বাজারমূল্য ১০০ মিলিয়ন ইউরোর উপরে।
একই সময়ে, দলের বেশ কিছু খেলোয়াড় সমর্থকদের সমালোচনার মুখে পড়েছেন। এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গা, ডিন হাউসেন, ট্রেন্ট আলেকজান্ডার-আর্নল্ড এবং আলভারো কারেরাসের মতো নামগুলো এই মৌসুমে দলের ধারাবাহিকতাহীন পারফরম্যান্সের কারণে চাপের মুখে রয়েছেন।
‘ব্যয়বহুল বিপর্যয়ের’ এমন পরিস্থিতির সাক্ষী হওয়ার তালিকায় অবশ্য রিয়াল মাদ্রিদ একা, তা নয়। বিশেষ করে ইংল্যান্ডের বেশ কিছু বড় ক্লাব একই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছে, যেখানে স্কোয়াড অনেক মূল্যবান হওয়া সত্ত্বেও কাঙ্ক্ষিত সাফল্য আসেনি। ২০২৫-২৬ মৌসুমের চেলসি (১.১৬ বিলিয়ন ইউরো) এবং লিভারপুল (১.০২ বিলিয়ন ইউরো) ছাড়াও ২০২২-২৩ মৌসুমের চেলসি (১.০১৭ বিলিয়ন ইউরো), ২০২০/২১ মৌসুমের লিভারপুল (১.০০৯ বিলিয়ন ইউরো) এবং ২০২৩/২৪ মৌসুমের চেলসি—সবই ট্রফিহীন সবচেয়ে দামি স্কোয়াডের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছিল।
এমনকি অতীতে বার্সেলোনাকেও এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। আর্নেস্তো ভালভার্দে এবং কুইক সেতিয়েনের অধীনে সেই হতাশাজনক মৌসুমে প্রায় ১ বিলিয়ন ইউরো মূল্যের স্কোয়াড থাকা সত্ত্বেও শূন্য হাতেই মৌসুম শেষ করতে হয়েছিল কাতালান জায়ান্টদের।

গ্রীষ্মকালীন দলবদলের বাজারে নিজেদের রক্ষণভাগ শক্তিশালী করতে আটঘাট বেঁধে নেমেছে বার্সেলোনা। কাতালান ক্লাবটির রাডারে থাকা বড় নাম ইন্টার মিলানের ইতালিয়ান সেন্টার-ব্যাক আলেসান্দ্রো বাস্তোনি। তবে বাস্তোনিকে দলে ভেড়ানোর প্রক্রিয়া চলাকালীনই টটেনহাম হটস্পারের ২৮ বছর বয়সী ডিফেন্ডার ক্রিস্তিয়ান রোমেরোর প্রতি বার্সার ক্রমবর্ধমান আগ্রহ ইন্টার মিলানে নতুন করে অস্বস্তি তৈরি করেছে।
বাস্তোনি না রোমেরো: বার্সার কৌশলী অবস্থান
ইন্টার মিলানের তারকা ডিফেন্ডার বাস্তোনিকে পেতে বার্সেলোনা আগ্রহী হলেও তাঁর আকাশচুম্বী দাম একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইন্টার তাদের এই তারকার জন্য অন্তত ৬০ মিলিয়ন ইউরো দাবি করছে। বার্সেলোনা ৫০ মিলিয়ন ইউরোর বেশি খরচ করতে নারাজ, প্রয়োজনে কোনো খেলোয়াড়কে বিনিময়ের মাধ্যমে দাম আরও কমানোর চেষ্টা করছে।
এই দরাদরির মাঝেই বিকল্প হিসেবে কুটি রোমেরোর নাম সামনে এসেছে। টটেনহামের অবনমন (রেলিগেশন) হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় রোমেরোকে অনেক কম দামে পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে বার্সার সামনে। ইন্টার মিলান ভয় পাচ্ছে, বাস্তোনির দাম নিয়ে তারা বেশি কড়াকড়ি করলে বার্সা সরাসরি রোমেরোর দিকে ঝুঁকে পড়বে।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন, বাস্তোনি ইতোমধ্যেই স্পেনে নতুন চ্যালেঞ্জ নেওয়ার ব্যাপারে মনস্থির করেছেন। তিনি জনসম্মুখে কোনো চাপ সৃষ্টি না করলেও অভ্যন্তরীণভাবে ক্লাবকে নিজের ইচ্ছার কথা জানাবেন যাতে দুই ক্লাবের মধ্যে একটি সমঝোতা হয়। বার্সেলোনা আত্মবিশ্বাসী তারা বাস্তোনির বর্তমান বেতনের সমান বা তার চেয়ে ভালো প্রস্তাব দিতে পারবে।
রোমারে যদিও বার্সার প্রথম পছন্দ নন, তবে তাঁরপরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছেন। টটেনহামের বর্তমান পরিস্থিতির কারণে এই ২৮ বছর বয়সী ডিফেন্ডার বার্সেলোনায় যাওয়ার সুযোগ পেলে তাতে সানন্দে রাজি হবেন।
বার্সেলোনা আপাতত কৌশলী অবস্থান নিয়েছে। ইন্টার মিলান তাদের লিগ শিরোপা নিশ্চিত করা পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো আলোচনায় বসছে না কাতালান ক্লাবটি। তারা আশা করছে, বাস্তোনির ক্লাব ছাড়ার ইচ্ছা এবং ইন্টারের খেলোয়াড় বিক্রির প্রয়োজনীয়তাকে কাজে লাগিয়ে সুবিধাজনক শর্তে চুক্তিটি সম্পন্ন করা যাবে।
আগামী সপ্তাহটি এই দলবদলের লড়াইয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। বার্সা কি বাস্তোনিকেই শেষ পর্যন্ত দলে ভেড়াবে, নাকি রোমেরোর সস্তা বাজারদর বার্সার রণকৌশল বদলে দেবে—তা সময়ই বলে দেবে।

অলিম্পিক লিওঁতে সফল লোন স্পেল কাটিয়ে এই গ্রীষ্মেই রিয়াল মাদ্রিদে ফিরছেন এনড্রিক। এবার আর কোনো লোন নয়, সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর মূল দলে স্থায়ী জায়গা করে নিতে যাচ্ছেন এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড।
ফরাসি সংবাদ মাধ্যম লেকিপের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এনড্রিক আগামী মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদে ফেরার পর স্ট্রাইকার হিসেবে খেলার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তবে ক্লাব তাকে ডান উইঙ্গার হিসেবে খেলানোর পরিকল্পনা করছে।
আরও পড়ুন
| ইরানের ৯ কোটি মানুষই বিপ্লবী গার্ড- মেহেদি তাজ |
|
২০২৪ সালের জুলাইয়ে ব্রাজিলের ক্লাব পালমেইরাস থেকে রিয়ালে যোগ দেন এনড্রিক। সেই সময় কার্লো আনচেলোত্তির অধীনে ৩৭ ম্যাচ খেলে করেছিলেন ৭ গোল। তবে চলতি মৌসুমে রিয়ালের বরখাস্ত হওয়া সাবেক কোচ জাবি আলোনসোর অধীনে মাঠে সময় পান মাত্র ১৪ মিনিট।
রিয়ালে নিয়মিত ব্রাত্য হয়ে পড়ায় গত ডিসেম্বরের শেষদিকে অলিম্পিক লিঁওতে লোনে যোগ দেন এনড্রিক। ফরাসি ক্লাবটিতে গিয়েই নিজের ঝলক দেখাতে শুরু করেন ১৯ বছর বয়সী এই তরুণ।
লিঁওতে এখন পর্যন্ত ১৭ ম্যাচে ৭ গোল করেছেন এনড্রিক, সতীর্থদেরকে দিয়ে গোল করিয়েছেন আরও ৬ টি। দুর্দান্ত এই পারফরম্যান্সের সুবাদে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে ব্রাজিল দলে নিজের জায়গা প্রায় নিশ্চিত করে ফেলেছেন এই ফরোয়ার্ড।
লিঁওতে এনড্রিকের খেলায় সন্তুষ্ট হয়ে তাকে ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রিয়াল। লস ব্ল্যাঙ্কোসদের আক্রমণভাগে কিলিয়ান এমবাপে এবং ভিনিসিউস জুনিয়রের সাথে এনড্রিককে দেখা যেতে পারে থ্রি-ম্যান অ্যাটাকিং লাইনের ডানপ্রান্তে।
তবে শুরুর একাদশে জায়গা পেতে এই ব্রাজিলিয়ানকে লড়াই করতে হবে চোট কাটিয়ে ফেরা রদ্রিগো গোয়েস, ব্রাহিম দিয়াজ এবং ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুয়ানোর সঙ্গে।
এনড্রিকের পেছনে রিয়াল প্রায় ৯০ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৭০ মিলিয়ন ডলার ট্রান্সফার ফি, বেতন ও কমিশনসহ) ব্যয় করেছে। ভবিষ্যতে এমবাপের বিকল্প হিসেবে ৯ নম্বর পজিশনে এই ব্রাজিলিয়ানকে দেখছে মাদ্রিদের ক্লাবটি।