১৫ মে ২০২৬, ৬:০৫ পিএম

এবারের বিশ্বকাপে ‘সি’
গ্রুপে খেলবে ব্রাজিল। ‘হেক্সা মিশনের’ গ্রুপপর্বে সেলেসাওদের প্রতিপক্ষ হাইতি, মরক্কো
এবং স্কটল্যান্ড। প্রথম ম্যাচেই ব্রাজিলের মুখোমুখি হতে যাওয়া আফ্রিকান পরাশক্তি মরক্কোকে
নিয়ে একটু বেশিই সতর্ক ল্যাটিন আমেরিকার এই পরাশক্তি।
ফিফাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে
ব্রাজিলের বিশ্বকাপ যাত্রা নিয়ে কথা বলেছেন অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার দগলাস সান্তোস। সেলেসাওদের
বিশ্বজয়ের সম্ভাবনা এবং দীর্ঘ ৯ বছর পর জাতীয় দলে নিজের জায়গা ফিরে পাওয়ার কঠিন
লড়াই সহ বিভিন্ন বিষয় উঠে এসেছে এই লেফট-ব্যাকের কণ্ঠে।
বিশ্বকাপে ব্রাজিলের গ্রুপপর্বের
প্রতিপক্ষদের নিয়ে দগলাস সান্তোস বলেন, ‘মরক্কো সাম্প্রতিক সময়ে তাদের শক্তির জানান
দিয়েছে, স্কটল্যান্ডের খেলায় শারীরিক তীব্রতা অনেক বেশি আর হাইতিও মাঠে নামবে সর্বোচ্চ
অনুপ্রেরণা নিয়ে। তবে ব্রাজিল সবসময়ই শীর্ষ স্তরে লড়াই করার জন্য প্রস্তুত থাকে। আমরা
যদি একদম শুরু থেকে আমাদের মনোযোগ ধরে রাখতে পারি, তবে গ্রুপ পর্বটা দুর্দান্তভাবে
পার করার মতো সব সামর্থ্যই আমাদের আছে।’
শৈশবে ২০০২ কোরিয়া-জাপান
বিশ্বকাপে ব্রাজিলের পঞ্চম শিরোপা জয়ের স্মৃতি হাতড়ে এই ডিফেন্ডার জানান, সেই সোনালী
অতীতই তাঁর মনে সেলেসাও জার্সি গায়ে জড়ানোর আজন্ম স্বপ্ন বুনে দিয়েছিল। এবার সেই অধরা
ষষ্ঠ বিশ্বকাপ ট্রফি জয়ের ব্যাপারে ভীষণ আশাবাদী তিনি।
দগলাস যোগ করেন, ‘ব্রাজিলিয়ান
সমর্থকদের মনে সবসময়ই বিশ্বাস রাখার মতো যথেষ্ট কারণ থাকে। আমাদের দলে প্রতিভা ও অভিজ্ঞতার
কোনো কমতি নেই, দলের প্রত্যেকেই বড় বড় ম্যাচে খেলে অভ্যস্ত। আমাদের লক্ষ্য হলো টুর্নামেন্টে
যতদূর সম্ভব এগিয়ে যাওয়া এবং শেষ মিনিট পর্যন্ত লড়াই করে ট্রফিটা নিজেদের করে নেওয়া।’
ব্রাজিলের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে
দগলাসের জায়গা পাওয়াটা এখন প্রায় নিশ্চিত বলেই মনে করা হচ্ছে। উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিত
হতে যাওয়া এই টুর্নামেন্টের জন্য কোচ কার্লো আনচেলত্তি যখন তার ২৬ সদস্যের দল ঘোষণা
করবেন, সেটি হবে পারাইবা থেকে উঠে আসা এই ফুটবলারের জন্য এক পরম বৃত্তপূরণের মুহূর্ত।
২০২৫ সালের মার্চে, রাশিয়ার
নাগরিকত্ব পান দগলাস। এরপর রাশিয়ার জাতীয় দলে অভিষেকের জন্য তাকে ডেকেও নেওয়া হয়েছিল।
তবে একই সময়ে ব্রাজিলের তৎকালীন কোচ দোরিভাল জুনিয়রের করা একটি প্রাথমিক দলেও তার নাম
ছিল, যা তাকে আবারও ব্রাজিলের হয়ে খেলার নতুন আশা জোগায়। এমন পরিস্থিতিতে এই লেফট-ব্যাক
রাশিয়ার নিশ্চিত প্রস্তাবটি ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের
দিকে তাকিয়ে ব্রাজিলের ডাকের জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন।
দগলাস বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বলেন,
‘রাশিয়ার প্রতি আমার মনে সবসময়ই গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে, কারণ এই দেশেই আমি আমার ক্যারিয়ারের একটা বড় অংশ গড়ে তুলেছি। কিন্তু ব্রাজিলের জার্সি গায়ে জড়ানো সবসময়ই আমার আজন্ম স্বপ্ন ছিল, তাই সেটাই অগ্রাধিকার পেয়েছে। আমি বিশ্বকাপ দেখে বড় হয়েছি এবং সেলেসাওদের হয়ে খেলার স্বপ্ন বুনেছি, আর এই আবেগটাই আমার মনের ওপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেছে।’
দগলাসের এই দীর্ঘ প্রতীক্ষিত
প্রত্যাবর্তনটি বেশ রাজকীয়ভাবেই ঘটেছিল। চিলির বিপক্ষে
ব্রাজিলের ৩-০ ব্যবধানের
জয়ের ম্যাচে এই লেফট-ব্যাক
কেবল শুরুর একাদশেই ছিলেন না, বরং মাঠের
অন্যতম সেরা পারফর্মারও ছিলেন।
এর এক মাস পর,
প্রীতি ম্যাচের স্কোয়াডেও তিনি আবারও ডাক
পান এবং দক্ষিণ কোরিয়ার
বিপক্ষে ব্রাজিলের ৫-০ ব্যবধানের
দাপুটে জয়ে মূল একাদশে
খেলেন। কাকতালীয়ভাবে, এই সময়ের মধ্যে
তাকে ছাড়া খেলা বাকি
দুটি ম্যাচে বলিভিয়া এবং জাপান উভয়ের
কাছেই হেরেছিল সেলেসাওরা।
জাতীয় দলে ফিরে দগলাস তার ঠান্ডা মাথার ফুটবল দিয়ে সবার প্রশংসা কুড়ান। দগলাসের বিশ্বাস, কোচ আনচেলত্তি তার ওপর যে আস্থা রেখেছিলেন, তা থেকেই এই আত্মবিশ্বাস এসেছে। দগলাস বলেন,
‘তারা আমাকে ক্লাবের হয়ে যেভাবে খেলি, ঠিক সেই স্বভাবজাত খেলাটাই খেলতে বলেছিলেন—মাঠে লড়াকু থাকা, রক্ষণে শক্ত দেয়াল তোলা এবং সুযোগ বুঝে আক্রমণে অবদান রাখা। আনচেলত্তির একটা দারুণ গুণ আছে, তিনি খেলোয়াড়দের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ছড়িয়ে দিতে পারেন। তিনি প্রচুর কথা বলেন, কৌশলগতভাবে তিনি কী চান তা বুঝিয়ে দেন, তবে একই সঙ্গে মাঠে আমাদের নিজস্বতা নিয়ে খেলার স্বাধীনতাও দেন।’
No posts available.

একের পর এক চোট, মাঠের
বাইরের নানা বিতর্ক, আর সবশেষ রেফারির ভুলের শিকার হওয়া—বিশ্বকাপ শুরুর আগে নেইমার
জুনিয়রকে নিয়ে নাটক তো কম হলো না। সান্তোসের ‘রাজপুত্রের’ কোটি ফুটবল ভক্তের বুক দুরুদুরু
করা সেই অন্তহীন অপেক্ষার অবসান ঘটছে আজই। স্কোয়াড ঘোষণা করার মধ্য দিয়ে আজ বাংলাদেশ
সময় দুইটায় এই নাটকের যবনিকা টানতে যাচ্ছেন ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি, যেখানে ভাগ্য
নির্ধারণ হবে সেলেসাওদের এই মহাতারকার।
সব প্রতিকূলতা পেরিয়ে নেইমার
কি পাচ্ছেন তাঁর ‘ওয়ান লাস্ট ড্যান্স’-এর টিকিট, নাকি মাঠের বাইরের সমীকরণেই শেষ হচ্ছে
তাঁর বিশ্বকাপ স্বপ্ন? শেষ পর্যন্ত যদি মহোৎসবের এই বিশ্বমঞ্চে তাঁকে ছাড়াই পা রাখে
ব্রাজিল, তবে কী করবেন নেইমার? গতকাল সান্তোসের ম্যাচ শেষে সাবেক বার্সেলোনা ও পিএসজি
মহাতারকা নিজেই দিয়েছেন তার এক সংক্ষিপ্ত ও পরিণত জবাব।
বিশ্বকাপে ব্রাজিলের চূড়ান্ত
দলে জায়গা পাওয়া নিয়ে বেশ বিনয়ী ও পরিণত অবস্থানই নিয়েছেন নেইমার। অভিজ্ঞ এই ফরোয়ার্ড
জানিয়েছেন, দলে বিবেচনার যোগ্য হয়ে উঠতে তিনি কঠোর পরিশ্রম করেছেন; তবে চূড়ান্ত দলে
তিনি জায়গা পাবেন কি না, সেই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে কোচ কার্লো আনচেলত্তির ওপরই নির্ভর
করছে।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ৩৪ বছর বয়সী সান্তোস তারকা নেইমার বলেন,
‘আমি দলে থাকার যোগ্য কি না, সেই সিদ্ধান্ত আনচেলত্তিই নেবেন। আমি এটার (সুযোগ পাওয়ার) জন্যই কঠোর পরিশ্রম করেছি। তবে যদি আমি নির্বাচিত নাও হই, তাহলেও আমি একজন সাধারণ সমর্থক হিসেবে বিশ্বকাপে ব্রাজিলের জন্য গলা ফাটাব।’
যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো
এবং কানাডার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই বিশ্বমঞ্চের জন্য আনচেলত্তি যখন তাঁর
৫৫ সদস্যের প্রাথমিক দল থেকে চূড়ান্ত ২৬ জনের স্কোয়াড বেছে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন,
ঠিক তখনই এমন মন্তব্য নেইমারের। ২০২৩ সালের হাঁটুর গুরুতর চোটের পর থেকে ফিটনেস সমস্যায়
ভুগলেও, সান্তোসে ফেরার পর থেকে সম্প্রতি বেশ দারুণ ছন্দে রয়েছেন নেইমার।
অবশ্য কোচ আনচেলত্তিও বারবার
পরিষ্কার করে বলেছেন যে, ব্রাজিলের এই আইকন নেইমারকে দলে রাখার সিদ্ধান্তটি তাঁর অতীত
রেকর্ড বা আবেগের ওপর ভিত্তি করে নেওয়া হবে না; বরং এটি সম্পূর্ণ নির্ভর করবে তাঁর
বর্তমান পারফরম্যান্স এবং শারীরিক সক্ষমতার ওপর।
গুঞ্জন রয়েছে, নেইমারকে
চূড়ান্ত দলে জায়গা দিতে গিয়ে চেলসির ফরোয়ার্ড জোয়াও পেদ্রোকে বাদ পড়তে হতে পারে। দলে
ফিরলেও অবশ্য একাদশের নিয়মিত মুখ হিসেবে নেইমারকে দেখার নিশ্চয়তা কিন্তু নেই। পাঁচবারের
বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের দলে এথন অনেক তরুণ খেলোয়াড় পছন্দের তালিকায় এগিয়ে আছেন। তবে টুর্নামেন্টজুড়ে
ম্যাচের গতিপথ বদলে দেওয়ার মতো একজন কার্যকরী ‘ইমপ্যাক্ট সাবস্টিটিউট’ হিসেবে দলের
প্রধান অস্ত্র হয়ে উঠতেই পারেন।
ব্রাজিলের ইতিহাসের এই
সর্বোচ্চ গোলদাতাকে দলে দেখতে চেয়ে সমর্থক থেকে শুরু করে তাঁর সাবেক সতীর্থরা যখন জোরালো
দাবি তুলছেন, তখন অন্য পক্ষের যুক্তি একেবারেই ভিন্ন। তাদের মতে, সেলেসাওদের আক্রমণভাগকে
নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্বটা এখন তরুণ প্রতিভাদের হাতেই ছেড়ে দেওয়া উচিত। বিশ্বকাপের চূড়ান্ত
দল ঘোষণা এখন কেবলই সময়ের ব্যাপার। আর তাই পুরো ফুটবল বিশ্বের চোখ এখন একটি প্রশ্নের
দিকেই—ব্রাজিলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা কি তাঁর ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপে ট্রফি
উঁচিয়ে ধরার আরও একটি সুযোগ পাবেন?

গত মাসে জমকালো আয়োজনের
মধ্য দিয়ে উদ্বোধন হওয়া
২৭ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতাসম্পন্ন দৃষ্টিনন্দন 'নু স্টেডিয়ামে’ এটি
ছিলে ইন্টার মায়ামির পঞ্চম ম্যাচ। এর আগের চারটি
হোম ম্যাচের তিনটিতে তারা ড্র করেছিল
এবং অন্যটিতে অরল্যান্ডো সিটির কাছে ৩-০
ব্যবধানে এগিয়ে থেকেও ৪-৩ গোলে
হেরে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল।
অবশেষে ‘নতুন ঘরে’ প্রথম জয় পেল লিওনেল মেসির দল।
নু স্টেডিয়ামে মায়ামির
প্রথম জয়ের নায়ক মেসি। আর্জেন্টাইন
মহাতারকার চমৎকার
গোল এবং দৃষ্টিনন্দন এক অ্যাসিস্টে
আজ পোর্টল্যান্ড
টিম্বার্সকে ২-০ ব্যবধানে
হারিয়েছে মায়ামি। বিশ্বকাপের আগে যেন পুরোদমে স্বরুপেই ফিরেছেন মেসি। ৩৮ বছর বয়সী
এই আর্জেন্টাইন জাদুকর পুরো ম্যাচজুড়েই পোর্টল্যান্ডের
রক্ষণভাগকে ব্যস্ত রাখেন।
ঘরের মাঠে সাম্প্রতিক এই ব্যর্থতার পরও,
এই জয়ে ইস্টার্ন কনফারেন্সের
পয়েন্ট টেবিলের দুই নম্বরে আছে ইন্টার মায়ামি। এক ম্যাচ কম খেলা ন্যাশভিল এসসি-র চেয়ে ২
পয়েন্টে পিছিয়ে মেসির দল। ১৪ ম্যাচে ৮ জয়ে ২৮
পয়েন্ট মায়ামির।
মেজর লিগ সকারের (এমএলএস)
বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের হয়ে ম্যাচের আধা
ঘণ্টার মাথায় একটি দারুণ আক্রমণ
থেকে প্রথম গোলটি করেন মেসি। মাঝমাঠ
থেকে বল বাড়িয়ে তিনি
পাস দেন ‘বন্ধু’ লুইস সুয়ারেজকে।
সুয়ারেজ থ্রু পাসে খুঁজে
নেন তেলাস্কো সেগোভিয়াকে। সেগোভিয়ার দারুণ এক ব্যাকহিল পাসে
বল আবার চলে আসে
মেসির পায়ে, আর নিখুঁত শটে
বল জালে জড়াতে ভুল
করেননি আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী।
১০ মিনিট পর, ডান প্রান্ত
দিয়ে দারুণ গতিতে বল নিয়ে ওপরে
ওঠেন আরেক আর্জেন্টাইন রদ্রিগো
ডি পল। খুঁজে নেন
সতীর্থ মেসিকে, এরপর সুয়ারেজের সঙ্গে
ওয়ান-টু খেলে চারজন
ডিফেন্ডারকে ড্রিবলিংয়ে বোকা বানিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে পড়েন মেসি। বাঁ
পায়ের বাইরের অংশ দিয়ে চমৎকার
এক পাস বাড়িয়ে দেন
জার্মান বেরতেরামেকে, শেষ পর্যন্ত ব্যবধান হয়ে যায় ২-০।
দ্বিতীয়ার্ধে খেলার গতি কিছুটা কমে
আসে। এই অর্ধে মেসি ব্যবধান বাড়ানোর
কিছু সুযোগ মিস করেন; ডি-বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া তাঁর
একটি বাঁ পায়ের বাঁকানো
শট পোস্টের সামান্য বাইরে দিয়ে চলে যায়।
ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে
তাঁর নেওয়া একটি দুর্দান্ত ফ্রি-কিক গোলকিপার জেমস
প্যানতেমিস ঝাঁপিয়ে পড়ে অবিশ্বাস্যভাবে রুখে
না দিলে ব্যবধান আরও
বাড়তে পারত।
এই ম্যাচে গোল ও অ্যাসিস্টের
পর চলতি মৌসুমে মেসির
নামের পাশে এখন ১২টি
গোল এবং ৬টি অ্যাসিস্ট,
মোট ১৮টি গোলে সরাসরি
অবদান রেখেছেন। বিশ্বকাপ বিরতির আগে আর মাত্র
একটি ম্যাচ বাকি থাকতে এমএলএস
গোল্ডেন বুট রেসেও ‘এলএমটেন’
এখন দ্বিতীয় স্থানে আছেন।
ম্যাচ শেষের সংবাদ সম্মেলনে এসে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে মায়ামির অন্তর্বর্তীকালীন কোচ গুইলার্মো হোয়োস রসিকতা করে বলেন,
‘আপনারা কি খেলাটা দেখেছেন? দারুণ ম্যাচ ছিল, তাই না?’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘খেলোয়াড়রা আজ মাঠে ছবি এঁকেছে, তারা সব করেছে। সত্যি বলতে, এটা ছিল তাদের এক বিশাল ত্যাগের ফসল।’

ব্রাজিলিয়ান সিরি’আতে রেলিগেশন জোনের কিনারায় দাঁড়িয়ে সান্তোস। রোববার কোরিটিবার বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানে হেরে পয়েন্ট টেবিলের ষোড়শ (১৬তম) অবস্থানে নেমে গেছে তারা। দলের এমন বড় হারের দিনে নিও কুইমিকা অ্যারেনায় ঘটে গেছে এক অনাকাঙ্ক্ষিত ও বিতর্কিত ঘটনা।
ম্যাচের ৬৮তম মিনিটে খেলোয়াড় পরিবর্তনের বিষয়টি ভুল বোঝেন চতুর্থ রেফারি। কোচিং স্টাফের পরিকল্পনার বাইরে ভুলবশত নেইমার জুনিয়রকেই মাঠ থেকে উঠিয়ে নেওয়ার সংকেত দেন তিনি। রেফারির এমন সিদ্ধান্তে মাঠেই তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করতে দেখা যায় ব্রাজিলিয়ান এই তারকাকে।
প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে মাঠ ছাড়ার সময় সরাসরি ক্যামেরার সামনে চলে যান নেইমার। আকার-ইঙ্গিতে বিশ্ববাসীকে দেখানোর চেষ্টা করেন, তাকে মাঠ থেকে উঠিয়ে নেওয়ার এই সিদ্ধান্তটি সম্পূর্ণ ভুল ছিল।
নেইমার মাঠে থাকলে শেষ মুহূর্তে সান্তোসের ভাগ্য বদলাত কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকতেই পারে। কারণ ততক্ষণে ৩-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েছিল তাঁর দল। তবে সান্তোসের জার্সিতে নেইমার ছন্দে ছিলেন। এই ম্যাচের আগের তিন ম্যাচেও দুটি গোল এবং একটি অ্যাসিস্ট ছিল তাঁর নামের পাশে।
সান্তোসের জন্য এই হার অনেক বড় একটি ধাক্কা। পয়েন্ট টেবিলের ১৭তম স্থানে থাকা গ্রেমিও যদি তাদের পরের ম্যাচে জয় পায়, তবে সান্তোস সরাসরি রেলিগেশন জোনে পড়ে যাবে।
আগামীকাল (সোমবার) ব্রাজিলের ২০২৬ বিশ্বকাপের দল ঘোষণা করার কথা রয়েছে। তার ঠিক আগ মুহূর্তে নেইমারকে ঘিরে মাঠের এমন নাটকীয় পরিস্থিতি সে দেশের ফুটবল অঙ্গনে বেশ উত্তাপ তৈরি করেছে। এখন দেখার বিষয়, দল ঘোষণার আবহে এই ঘটনার রেশ কতদূর গড়ায়।

ক্রিস কোলম্যান, নাকি বার্নড স্টর্ক? বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের পরবর্তী কোচ হিসেবে হাভিয়ের কাবরেরার স্থলাভিষিক্ত কে হচ্ছেন, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। ফুটবলপ্রেমী এবং সমর্থকেরা প্রত্যাশায় ওয়েলস জাতীয় দলের সাবেক কোচ কোলম্যান। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) কিংবা ক্রীড়া মন্ত্রণালয়েরও চাওয়া অভিন্ন।
দুইয়ে দুয়ে চার মিললেও জামাল ভূঁইয়া ও হামজা চৌধুরীদের নতুন কোচ নিয়োগে সময়ক্ষেপণ হচ্ছে বেশ। অথচ কোচ ঘোষণার নির্ধারিত তারিখ ছিল ১৫ মে। দুদিন পেরিয়ে গেলেও নিশ্চয়তা নেই, কবে কখন আসবে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ।
ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ও বাফুফের পক্ষ থেকে কোচ নিয়োগের ব্যাপারে ইতিবাচক সাড়া মিললেও ঘোষণা না আসার পেছনে ইন্টারন্যাশনাল ফরমালিটিজ এবং কোলম্যানের এজেন্টের সঙ্গে বাফুফের বোঝাপড়ার বিষয়টি সামনে এনেছেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
রবিবার ৪৯তম জাতীয় অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতার উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে আমিনুল জানিয়েছেন, কোলম্যানকে কোচ হিসেবে পেতে সব ধরনের সহযোগিতা করবে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। তবে কোলম্যানকে শেষ পর্যন্ত পাওয়া যাবে কি না, তা এখন পুরোপুরি নির্ভর করছে তার এজেন্টের সাথে চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার ওপর।
তিনি বলেন,
‘আমি যতটুকু শুনলাম, আমরা যাকে কোচ হিসেবে নেওয়ার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিয়েছি, তিনি কোলম্যানই। তার বিষয়ে ফেডারেশন যে সহযোগিতা চেয়েছে, তা করতে আমরা প্রস্তুত।’
বাফুফের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, এজেন্টের সাথে এখনো চূড়ান্ত বোঝাপড়া শেষ হয়নি। তাই কোলম্যানকে বাংলাদেশ দলের কোচ হিসেবে নিশ্চিতভাবে পাওয়া যাবে কি না, তা জানতে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।
তিনি বলেন, ‘বাফুফে সভাপতির সঙ্গে কথা বলে শুনলাম তার যে এজেন্ট রয়েছে, তার সঙ্গে বোঝাপড়া এখনও শেষ হয়নি। সেটা শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে আসলে কোলম্যানকে শেষ পর্যন্ত পাব কি না। তবে দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণে সরকার কোলম্যানকেই চায়। যদি কোনো কারণে এজেন্টের সাথে আলোচনা ব্যর্থ হয়, তবে বিকল্প কোচের বিষয়েও ইতোমধ্যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং বিকল্প তালিকা নিয়ে আলোচনা চলছে।’
বাংলাদেশের কোচ হতে প্রাথমিকভাবে আগ্রহ প্রকাশ করে মোট ২৩০টি আবেদনপত্র জমা পড়ে বাফুফেতে। বাছাই ধাপ পেরিয়ে সেখান থেকে তালিকাটি ১১ জনে নামিয়ে আনা হয়। এখান থেকেই একজনকে চূড়ান্তভাবে নিয়োগ দেওয়া হবে।
জাতীয় দল কমিটির সর্বশেষ (১৩ মে) সভার সূত্রমতে, ওয়েলস জাতীয় দলের সাবেক কোচ ক্রিস কোলম্যান বর্তমানে কোচ হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে। গ্যারেথ বেলদের মতো তারকাদের সামলানো কোলম্যানের কোচ হিসেবে রিয়াল সোসিয়েদাদ, সান্ডারল্যান্ড ও ফুলহ্যামের মতো ক্লাবে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে।
কোলম্যানের পাশাপাশি সমানভাবে আলোচনায় আছেন হাঙ্গেরি জাতীয় দলের সাবেক জার্মান কোচ বার্নড স্টর্ক। বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের হয়ে ১৪৬টিসহ বুন্দেসলিগায় ১৭০টি ম্যাচ খেলা সাবেক এই ডিফেন্ডার হাঙ্গেরি ও কাজাখস্তানের কোচ হিসেবেও কাজ করেছেন।

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের আকাশে যে কালো মেঘ জমেছিল তা সরে গেছে অনেকটা। ২০২৫-২৬ মৌসুমের শুরুতে হাপিত্যেশে থাকা ওল্ড ট্রাফোর্ডের ক্লাবে এখন উৎসব আমেজ। কোনো মেজর ট্রফি না জিতলেও জয়ের ধারাবাহিকতায় এক ধরনের স্বস্তি বিরাজমান ক্লাবটিতে। এসবের মূলে ম্যানেজার মাইকেল ক্যারিক ও তার অপরাজেয় দল।
রবিবার বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে পাঁচটায় ওল্ড ট্রাফোর্ডে আরও একটি ম্যাচ নিজেদের করে নিয়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। মাইকেল ক্যারিকের দল এই যাত্রায় হারাল নটিংহ্যাম ফরেস্টকে। ঘরের মাঠে পেরেইরার দলকে ৩-২ গোলে হারাল তারা।
প্রিমিয়ার লিগে ইউনাইটেডের আরও একটি ম্যাচ থাকলেও ওল্ড ট্রাফোর্ডে শেষ বারের মাঠে নামলেন ক্যাসিমিরো। নতুন মৌসুমে ব্রাজিলিয়ান তারকাকে দেখা যাবে নতুন কোনো ক্লাবে। ঘরের মাঠে তার বিদায়ী ম্যাচ রাঙাল ম্যান ইউনাইটেড।
লুক শ গোলে এগিয়ে বিরতিতে যায় স্বাগতিকরা। দ্বিতীয়ার্ধের দুই দল চারটি গোল করে। শুরুতেই মোরাতার গোলে সমতায় ফেরে নটিংহ্যাম। তার ঠিক দুই মিনিট পর ম্যাথুস কুনহার গোলে লিড নেয় ইউনাইটেড। বাকি দুই গোলের একটি ৭৬তম মিনিটে দেন ব্রায়ান এমবাউমো এবং দুই মিনিট পর শেষটি গিবস হোয়াইটের পা থেকে। এই জয়ে পয়েন্ট টেবিলে তৃতীয়স্থান আরও মজবুত হলো রেড ডেভিলদের।
ম্যাচ ঘড়ির পঞ্চম মিনিটে লুক শ’র গোলে এগিয়ে যায় ইউনাইটেড। ডি বক্সের দিকে ঠেলে দেওয়া ব্রুনো ফার্নান্দেসের বল ঠিকঠাক ক্লিয়ার করা সম্ভব হয়নি। তখনই বলের নিয়ন্ত্রণ নেন শ। এই লেফট-ব্যাক প্রথমে ওয়ান-টাচ শট নেওয়ার অঙ্গভঙ্গি করলেও আসলে বলটি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে দারুণ নিখুঁত এক শটে পোস্টের নিচের ডান কোণ দিয়ে জালে জড়িয়ে দেন। গোলরক্ষক সেলস কেবল দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখা ছাড়া কিছুই করার ছিল না।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই মোরাতার গোলে সমতায় ফেরে ফরেস্ট। তার ঠিক দুই মিনিট পর ফের এগিয়ে যায় ইউনাইটেড। কুনহার সেই গোলের পর নটিংহ্যাম কফিনে আরেকটি পেরেক ঠোকেন এমবাউমো। ফার্নান্দেসের অ্যাসিস্টে পাওয়া সেই গোলের মিনেট দুয়েক পর নটিংহ্যামের হয়ে গিবস হোয়াইট একটি গোল শোধ করেন।