ফুটবল

‘ডে-লাইট’ অফসাইডের নতুন নিয়ম: ডিফেন্ডারের পুরো শরীর না ছাড়ালে রেহাই পাবেন স্ট্রাইকার

 
অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
ঢাকা

১৯ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৫৮ পিএম

news-details

কানাডায় ফুটবলের পরীক্ষামূলক নতুন ‘ডে-লাইট’ অফসাইড নিয়মের অধীনে প্রথম গোলটি করা হয়েছে। শনিবার হ্যালিফ্যাক্স ওয়ান্ডারার্সের বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র হওয়া ম্যাচে প্যাসিফিক এফসির ফরোয়ার্ড আলেজান্দ্রো দিয়াস ঐতিহাসিক গোলটি করেন।


আইএফএবির প্রচলিত নিয়মে এই গোলটি অফসাইড হিসেবে বাতিল হয়ে যেত। তবে ফিফার সহযোগিতায় কানাডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (সিপিএল) চলমান বিশেষ ট্রায়ালের কারণে গোলটি বৈধ বলে গণ্য হয়।


‘ডে-লাইট’ অফসাইড আসলে কী: ব্যাখ্যা অনুযায়ী, একজন আক্রমণকারীকে তখনই অফসাইড ধরা হবে যখন তার এবং প্রতিপক্ষের শেষ ডিফেন্ডারের (গোলরক্ষক বাদে) শরীরের মধ্যে একটি স্পষ্ট ফাঁকা বা ব্যবধান থাকবে। বর্তমান নিয়মে শরীরের সামান্য অংশ এগিয়ে থাকলেও যেখানে অফসাইড হয়, নতুন নিয়মে সেখানে আক্রমণকারীর পুরো শরীর ডিফেন্ডারকে ছাড়িয়ে গেলে তবেই তা অফসাইড হবে।


কেন এই পরীক্ষা: আর্সেনালের সাবেক কোচ এবং বর্তমানে ফিফার ফুটবল উন্নয়ন প্রধান আর্সেন ভেঙ্গার দীর্ঘদিন ধরে এই নিয়মের পক্ষে কথা বলে আসছেন। অফসাইড নিয়ে সূক্ষ্ম বিতর্ক কমাতে এবং আক্রমণাত্মক ফুটবলকে উৎসাহিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কানাডিয়ান প্রিমিয়ার লিগই প্রথম শীর্ষ স্তরের লিগ হিসেবে এই নিয়মটি পরখ করে দেখছে। এর আগে ২০২৩ সালে ইতালির অনূর্ধ্ব-১৮ চ্যাম্পিয়নশিপ এবং নেদারল্যান্ডসের যুব লিগেও এর ছোট পরিসরে ট্রায়াল হয়েছিল।


ভবিষ্যৎ: তবে সমালোচকদের মতে, এই নিয়ম আক্রমণকারী দলকে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি সুবিধা দেবে। যা রক্ষণভাগের জন্য কঠিন হয়ে উঠতে পারে।


এই বছরের শেষ নাগাদ আইএফএবির কাছে এই ট্রায়ালের ফলাফল উপস্থাপন করা হবে। যদি এই পরীক্ষা সফল হয়, তবে ২০২৭-২৮ ইউরোপীয় মৌসুম থেকে সারা বিশ্বে ফুটবলের এই অফসাইড আইন চিরতরে বদলে যেতে পারে।

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন

No posts available.

bottom-logo

ফুটবল

আর্সেনালকে হারিয়ে গার্দিওলা বললেন—‘ওরাই ইংল্যান্ডের সেরা দল’

 
অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
ঢাকা

২০ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৪৫ এম

news-details

আর্সেনাল যেন মগডালের হাতি, যেকোনো মুহূর্তে ‘ধপাস’ হওয়ার শঙ্কায়। ২০২৫-২৬ প্রিমিয়ার লিগের রেস দেখে মনে হচ্ছিল গানারদের ধারেকাছে কেউ নেই। অথচ এখন মাত্র তিন পয়েন্টের ব্যবধানে মিকেল আরতেতার দলের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে ম্যানচেস্টার সিটি।

সোমবার ইতিহাদে আর্সেনালকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে শিরোপার লড়াই জমিয়ে দিয়েছে ম্যানসিটি। আর্সেনালের পয়েন্ট এখন ৭০, আর এক ম্যাচ কম খেলা সিটির পয়েন্ট ৬৭। জয়ের পর স্বস্তি ঝরছে পেপ গার্দিওলার কণ্ঠে। বিবিসি স্পোর্টসকে তিনি বলেন,

‘আমাদের আশা এখনও টিকে আছে। তবে সত্য এটাই যে, আমাদের সূচি ছিল ভয়াবহ এবং আমরা টেবিলের শীর্ষে নেই। এখন পর্যন্ত ওরাই ইংল্যান্ডের সেরা দল, তবে আমরা লড়াইটা শেষ পর্যন্ত টেনে নেওয়ার সুযোগ তৈরি করেছি।’


সম্প্রতি কারাবাও কাপেও সিটির কাছে হেরেছিল গানাররা। সেই হারের প্রতিশোধ নেওয়ার ক্ষুধা আজ আর্সেনালের খেলায় দেখা যায়নি বললেই চলে। গার্দিওলা এ প্রসঙ্গে বলেন,

‘ওরা আগের হারের ক্ষুধা নিয়ে এখানে এসেছিল, কিন্তু জয়টা আমাদেরই হলো। ওরা কতটা লড়াকু তা আমরা জানি, তবে আমরাও কম নই।’

ইতিহাদে সিটির জয়ের নায়ক রায়ান চেরকি ও আর্লিং হলান্ড। ম্যাচের পুরোটা সময় পজিশন ও আক্রমণে এগিয়ে থাকা শিষ্যদের অভিনন্দন জানিয়ে গার্দিওলা যোগ করেন, ‘পয়েন্ট টেবিলই সব বলে দিচ্ছে। তবে ফোকাস হারানো চলবে না। বুধবার আমাদের হাতে থাকা ম্যাচটি জিততে পারলে আমরা ওদের সমকক্ষ হতে পারব। যদিও সামনে এভারটন, ব্রেন্টফোর্ড বা ভিলার মতো কঠিন প্রতিপক্ষ রয়েছে। সামনের পথটা আরও কঠিন হতে যাচ্ছে।’


bottom-logo

ফুটবল

‘ট্রেবল’ জয়ের একধাপ এগিয়ে গেল বুন্দেসলিগা ‘চ্যাম্পিয়ন’ বায়ার্ন

 
অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
ঢাকা

২০ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৩০ এম

news-details

স্টুটগার্টকে হারিয়ে ৩৫তম বারের মতো বুন্দেসলিগা শিরোপা জিতল বায়ার্ন মিউনিখ। ২০২৫-২৬ মৌসুমে অবিশ্বাস্য ফর্মে থাকা বাভারিয়ানদের শিরোপা নিশ্চিত করতে আজ প্রয়োজন ছিল মাত্র ১ পয়েন্ট। তবে ড্র নয়, সরাসরি জয়েই উৎসবে মাতল ভিনসেন্ট কোম্পানির দল।


মৌসুমে এখন পর্যন্ত মাত্র একটি ম্যাচে হারের মুখ দেখা বায়ার্নের কাজটা অবশ্য সহজ হয়ে গিয়েছিল আগেই। তাদের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বরুশিয়া ডর্টমুন্ড শনিবার রাতে হফেনহেইমের কাছে ২-১ গোলে পরাজিত হওয়ায় বাভারিয়ানদের শিরোপার পথ অনেকটাই পরিষ্কার হয়ে যায়। আজ স্টুটগার্টের বিপক্ষে জয় সেই পথে সোনায় সোহাগা হিসেবে ধরা দিল।


সোমবার অ্যালিয়াঞ্জ অ্যারেনাতে চ্যাম্পিয়নস লিগে জায়গা পাওয়ার লড়াইয়ে থাকা স্টুটগার্ট ম্যাচের ২১তম মিনিটে ক্রিস ফুহরিচের গোলে লিড আদায় করে। এরপরই মূলত দুঃস্বপ্ন নেমে আসে দলটির ওপর। একের পর এক আক্রমণে স্টুটগার্ট সমর্থকদের চুপ করিয়ে দেন জ্যাকসন-কেইনরা।


স্বাগতিকদের প্রথম গোলের ১০ মিনিট পর সমতায় ফিরে বাভারিয়ানরা। রাফায়েল গেরেইরো দলকে উৎসব এনে দেন, ফেরান ম্যাচে। এর ঠিক দুই মিনিট পর হ্যারি কেনের স্থলাভিষিক্ত হওয়া চেলসি থেকে ধারে আসা ফরোয়ার্ড নিকোলাস জ্যাকসন বায়ের্নকে এগিয়ে দেন।


বিরতির ৯ মিনিট আগে ব্যবধান ৩-১ করেন আলফোনসো ডেভিস। লুইস দিয়াসের পাস থেকে বক্সের ভেতর দারুণ বুদ্ধিমত্তায় আলেকজান্ডার নুবেলকে ফাঁকি দিয়ে বল জালে জড়ান তিনি।


দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে জামাল মুসিয়ালার পরিবর্তে মাঠে নামেন কেইন। মাঠে নামার মাত্র সাত মিনিটের মাথায় আসরে নিজের ৩২তম গোলটি করে দলের চতুর্থ গোলটি নিশ্চিত করেন এই ইংলিশ স্ট্রাইকার।


এই জয়ের মাধ্যমে গত ১৪ মৌসুমের মধ্যে ১৩তম বুন্দেসলিগা শিরোপা নিশ্চিত করল বায়ের্ন। সেই সাথে তাদের ‘ট্রেবল’ জয়ের স্বপ্নও টিকে রইল। চলতি মাসের শেষের দিকে ডিএফবি-পোকাল সেমিফাইনালে বায়ার লেভারকুসেন এবং চ্যাম্পিয়নস লিগ সেমিফাইনালে প্যারিস সেন্ট জার্মেইর (পিএসজি) মুখোমুখি হবে তারা।

bottom-logo

ফুটবল

‘ফাইনাল’ জিতে আর্সেনালের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ম্যানসিটির

 
অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
ঢাকা

১৯ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৩৭ পিএম

news-details

প্রিমিয়ার লিগে আবার কিসের ফাইনাল? ২০ দলের ৩৮টি করে ম্যাচ। যে দল টেবিলের শীর্ষে থাকবে, তাদের শোকেসে উঠবে ট্রফি। তবে এমন কিছু ম্যাচ এবং তথা বাঁক থাকে, যা ফাইনালতুল্য । ২০২৫-২৬ মৌসুমে আর্সেনাল-ম্যানচেস্টার সিটির ম্যাচটি অনেকটা তেমনই। ভাগ্য নির্ধারণী ম্যাচটি ২-১ গোলের ব্যবধানে জয়ে রাঙিয়েছে পেপ গার্দিওলার দল। তাতে শীর্ষে থাকা আর্সেনাল থেকে সিটিজেনদের পয়েন্ট ব্যবধানে কমে দাঁড়াল কেবল তিন।


ইতিহাদ স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে নয়টার হাই ভোল্টেজ ম্যাচের আগে ২২ কঠিন এক সমীকরণের সামনে দাঁড়িয়ে ছিল ম্যানসিটি। হারের কোনো অপশনই ছিল, না জিতলে আর্সেনাল থেকে পয়েন্ট ব্যবধানে দুরত্ব আরও বাড়ার শঙ্কা তৈরি হতো। এমন এক নির্দয় লক্ষ্যের ম্যাচ নিজেদের করে নিয়েছেন রায়ান চেরকি ও আর্লিং হলান্ডরা।


প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষে থাকা আর্সেনালের পয়েন্ট এখন ৭০। ৩৩ ম্যাচ অর্থাৎ একটি কম খেলা সিটিজেনদের ৬৭। তিনে থাকা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ৫৮ পয়েন্ট। রাতের অন্য ম্যাচে এভারটনের বিপক্ষে যোগ করা সময়ের গোলে লিভারপুল পোক্ত করেছে পঞ্চম স্থান। কাজের কাজ করেছে অ্যাস্টন ভিলা। সান্ডারল্যান্ডের বিপক্ষে নাটকীয় এক জয়ে ম্যান ইউনাইটেডের ঘাড়ে নিশ্বাস ফেলছে ভিলা পার্কের ক্লাব। 


ইতিহাদে ম্যাচের ষোড়শ মিনিটে ডেডলক ভাঙেন রায়ান চেরকি। মিডফিল্ড থেকে ম্যাথিয়াস নুনেসের কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে জাদুকরে পরিণত হন ফরাসি অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার। তার সামনে বাধার দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন প্রতিপক্ষের তিন-তিনজন ডিফেন্ডার। চোখের পলকে শরীরের নিখুঁত মোচড়ে সবাইকে ফাঁকি দিয়ে বেরিয়ে গোলের উদ্দেশ্যে ছুটে যান তিনি।


বক্সের ভেতরে ঢুকেই নিলেন এক মাপা শট—বলটি নিখুঁত নিশানায় আছড়ে পড়ে গোলপোস্টের নিচের বাঁ- কোণে। গোলরক্ষক ডেভিড রায়া ঝাঁপিয়ে পড়েও নাগাল পাননি বল। আসলে কিছুই করার ছিল না তার। এই অবিশ্বাস্য গোলের সৌজন্যে ইতিহাদ স্টেডিয়ামে লিগ টেবিলের শীর্ষে থাকা আর্সেনালকে ১-০ গোলে পেছনে ফেলে লিড নেয় ম্যানসিটি!


সুখ বেশিক্ষণ দীর্ঘস্থায়ী হয়নি সিটি শিবিরে। লিড নেওয়ার মিনিটে দুয়েক পর সব আলো কেড়ে নেন কাই হার্ভাটজ। সিটির গোলকিপার জিয়ানলুইজি দোনারুমা বল নিয়ে নিজের সিক্স-ইয়ার্ড বক্সের ভেতর একটু বেশিই সময় অপচয় করে ফেললেন। আর সেই সুযোগটি নিতে এক মুহূর্তও দেরি করেননি হার্ভাটজ।

চিতার গতিতে স্প্রিন্ট টেনে হার্ভাটজ যখন দোনারুমার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন, তখন ইতালিয়ান গোলকিপারের আর কিছুই করার ছিল না। হার্ভাটজের দুর্দান্ত স্লাইডিং ব্লকে বলটি সরাসরি আছড়ে পড়ে সিটির ফাঁকা জালে! চোখের পলকে ১-১ সমতায় ফিরে গানাররা। 


৪৮তম মিনিটে সাড়াষি আক্রমণের শিকার হয় আর্সেনাল। রায়া যেন নিজের পরিচয়টাই প্রদর্শন করলেন একের পর এক শট ঠেকিয়ে। শেষ পর্যন্ত বারের একদমই সামনে থেকে আর্লিং হালান্ডের শটটি ছিল প্রায় নিশ্চিত গোলের। তবে রায়া ছিলেন যেন লড়াকু এক যোদ্ধা। 


রায়ার পর বীরত্ব দেখালেন ম্যানচেস্টার গোলকিপার। শাপমোচনও হলো তার! মিডফিল্ডে এজে এবং ওডেগার্ডের দারুণ মেলবন্ধনে বল পান হার্ভাটজ। একদম কাছ থেকে শট নিয়েছিলেন এই আর্সেনাল ফরোয়ার্ড—যা হতে পারত প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা নির্ধারণী গোল। কিন্তু চিতার মতো ক্ষিপ্রতায় ঝাঁপিয়ে পড়ে গোললাইন থেকে বল রুখে দেন দোনারুমা! 


কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে পোস্টে লেগে ফিরে আসে বল। অল্পের জন্য গোল পেল না আর্সেনাল! বক্সের ঠিক বাইরে ওডেগার্ডের পাস থেকে বল পান এজে। নিখুঁত দুটি টাচে নিজেকে গুছিয়ে নিয়ে পোস্টের নিচের বাঁ কোণ লক্ষ্য করে বুলেট গতির এক নিচু শট নেন তিনি। দুর্ভাগ্য গানারদের। বলটি পোস্টে লেগে ফিরে আসে। ইতিহাদে হঠাৎ করেই যেন রুদ্রমূর্তি ধারণ করে আর্সেনাল। আক্রমণের পর আক্রমণে দিশেহারা হয়ে পড়ে সিটি ডিফেন্স। 


মিনিট দুয়েক পর হলান্ড লিড উপহার দেন ম্যানসিটিকে। দোনারুমার হাত দিয়ে ছুঁড়ে মারা বল নিয়ে ছুটে যান বার্নাদো। তিনি পাস দেন এজেকে। সুযোগ বুঝে এজে বল পাঠান নরওয়েজিনা স্ট্রাইকারের কাছে। এক মুর্হূত দেরি না করে জাল কাঁপান হালান্ড। লিগে এটি তার ২৩তম গোল। শেষ পর্যন্ত এই স্কোর লাইনে শেষ হয় খেলা।


ম্যাচে ৫৯ শতাংশের মতো বল নিজেদের দখলে রেখেছ সিটি। ১৫টি শটের মধ্যে ৫টি লক্ষ্যে রেখেছে তারা। বিপরীতে ৯টি শটের মধ্যে তিনটি লক্ষ্যে রাখে আর্সেনাল। সিটি বড় সুযোগ তৈরি করে ৫টি। সমপরিমান সুযোগ তৈরি করে গানাররা। বড় ৪টি সুযোগ মিস করে সফরকারীরা, তিনটি স্বাগতিকরা।

bottom-logo

ফুটবল

৯০ মিনিটের পর জমল নাটক, স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখল লিভারপুল-ভিলা

 
অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
ঢাকা

১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৯:৩৫ পিএম

news-details

মার্সিসাইড ডার্বি পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে আর্নে স্লট বলেছিলেন—‘আমাদের নম্বর ওয়ান হওয়ার চেয়ে আশপাশের দলগুলোর চেয়ে এগিয়ে থাকাটাই আসল চ্যালেঞ্জ।’ লিগ রেসে নিজেদের অবস্থান কিংবা প্রতিপক্ষের মাঠে খেলা হওয়াতে মাটিতে পা না রাখার উপায় ছিল না রেডস ম্যানেজারের। তবে যে গর্জনটা তিনি দিয়েছিলেন, তা পুরোপুরি বর্ষেছে মাঠে। এভারটনের মাঠ থেকে জয় ছিনিয়ে এনেছে অ্যানফিল্ডের যোদ্ধারা। 


সোমবার এভারটনের নতুন স্টেডিয়াম হিল ডিকিনসনে প্রথমবার খেলতে নেমে মোহাম্মদ সালাহর গোলে এগিয়ে গেলেও দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে সমতায় ফেরে এভারটন। শেষদিকে আক্রমণ-প্রতি আক্রমণে ম্যাচ জমে উঠলেও পূর্ণাঙ্গ মিনিটে গোল দেখা পায়নি দু’দল। তবে যোগ করা সময়ের দশম মিনিটে এভারটন দর্শকদের চুপ করিয়ে দেন ভার্জিল ভ্যান ডাইক। তাতেই জয় পায় লিভারপুল। 


সোমবার বাংলাদেশ সময় রাত সাতটায় শুরু হওয়া লিগের অন্য ম্যাচে সান্ডারল্যান্ডের বিপক্ষে ৪-৩ গোলের ব্যবধানে জিতেছে অ্যাস্টন ভিলা। এই জয়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ঘাড়ে নিশ্বাস ফেলছে ভিলা পার্কের দল। দু’দলেরই পয়েন্ট ৫৮। এই ম্যাচেরও জয় ধরা দেয় যোগ করা সময়ে। ইনজুরি টাইমের তৃতীয় মিনিটে টমি আব্রাহাম দলকে জয় উপহার দেন। আর দ্য সিটি গ্রাউন্ডে বার্নলিকে ৪-১ গোলে হারিয়েছে নটিংহাম ফরেস্ট। এ জয়ে কিছুটা হলেও রেলিগেশন এড়ানোর সুযোগ বেড়েছে নটিংহামের। 


পয়েন্ট টেবিলের মার প্যাঁচের দিনে আলাদা নজর ছিল মার্সিসাইড ডার্বি নিয়ে। কারণ চ্যাম্পিয়নস লিগের আগামী মৌসুমের জন্য নিজেদের জিঁইয়ে রাখতে ম্যাচটি অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ ছিল আর্নে স্লটদের। এদিন ম্যাচ ঘড়ির ১৩তম মিনিটে ডিউসবুরি-হল বল নিয়ে ভেতরে ঢোকার সময় জোনসের বাঁধার মুখে পড়েন। তবে রেফারি কাভানাঘ এ ঘটনা কেবল শোল্ডার-টু-শোল্ডার লড়াই হিসেবেই গণ্য করেন। স্পট কিক থেকে দূর্ঘটনা ঘটতে পারত। জর্জি মামারদাশভিলি দারুণ দক্ষতায় সে শট রুখে দেন। 


ঘরের মাঠে লিভারপুলের ওপর চাপ ধেরে রেখে ২৬তম মিনেট লিড আদায়ের সুযোগ পায় এভারটন। রাইট উইং থেকে জ্যাক ওব্রেইনের কৌশলি শট জটলায় থেকে গোল আদায় করেন ইলিমান এনদিয়ায়ে। ইংলিশ রাইট উইঙ্গারের ভাগ্য এতটাই খারাপ যে, অফসাইটে বাতিল হয় সে গোল।


চাপ সামাল দিয়ে ঠিকই এগিয়ে যায় লিভারপুল। মিশরীয় রাজপুত্র মোহাম্মদ সালাহ এগিয়ে নেন রেডসদের। ৩০তম মিনিটে তার বাঁ-পা খুঁজে নেয় সঠিক লক্ষ্য। বাঁ-পাশ থেকে আক্রমণে উঠে সুযোগ সন্ধানী শট কোডি গাকপো। এভারটনের এলোমেলো ডিফেন্সের সুযোগ কাজে লাগিয়ে ডান প্রান্তে থাকা সালাহকে ক্রস দেন তিনি। কোনরকম কষ্ট ছাড়াই জালে লক্ষ্যবেদ করেন মিশরীয় ফরোয়ার্ড। লিগে এটি তার সপ্তম গোল।

৪১তম মিনিটে একক প্রচেষ্টায় আক্রমণে ওঠেন গাকপো। শুরুতেই লেফট উইঙ্গ ধরে বল নিয়ে উপরে ওঠেন। এরপর ড্রিবলিং করতে করতে ডি বক্সের মাঝে বরাবর এসে নেন জোরালো শট। তার বুলেট গতির শট যেন পরীক্ষায় ফেলে দেয় পিকফোর্ডকে। যদিও বিচক্ষণতার সঙ্গে সামাল দেন নিজেকে, পাঞ্চ করে জাল রক্ষা করেন। 


বিরতি থেকে ফিরেই সমতায় ফিরতে হন্যি হয়ে ওঠে এভারটন। ৫৪তম মিনিটে বেতো দলকে স্বস্তি এনে দেন। মিডফিল্ড থেকে প্রথমে চেস্ট কন্ট্রোলের পর দারুণ এক ক্রস কনে কিয়ের্নান ফ্র্যাঙ্ক ডিউসবারি। সেখানে থেকে আলতো পায়ের ছোঁয়ায় গোল আদায় করেন গায়ানা স্ট্রাইকার বেতো।

বেতোর গোলের পর বাকি অংশে দু’দল আক্রমণ-প্রতি আক্রমণ চালায়। তবে গোলমুখ খুলতে পারেনি কেউ। খেলা যোগ করা সময়ে গড়ালে ১১তম মিনিটে লিভারপুলকে এগিয়ে দেন ভার্জিল ভ্যান ডাইক। 


অ্যাস্টন ভিলা-সান্ডারল্যান্ড ম্যাচটি ছিল ৭ গোলের থ্রিলার। ম্যাচের দ্বিতীয় মিনেট ওয়াটকিন্সের গোলে এগিয়ে যায় ভিলা। তবে নবম মিনিটে দলকে সমতায় ফেরান রিগ । এরপর ম্যাচের ৩৬তম মিনিটে নিজের এবং ম্যাচের জোড়া পূর্ণ করেন ওয়াটকিন্স। 


বিরতিতে যাওয়ার আগে লিড আরও সমৃদ্ধ করেন ভিলা। ৪৬তম মিনিটে রজার্সের গোলে ৩-১ ব্যবধানে বিরতিতে যায় ভিলা। ম্যাচের বাদ বাকি নটকীয়তা হয় শেষ ১৫ মিনিট। ৮৬ ও ৮৭তম- এই দুই মিনিটে হুমে ও ইসোদ সান্ডারল্যান্ডকে সমতায় ফেরান। তবে যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে কফিনের শেষ পেরেক ঢুকে দেন আব্রাহাম।

bottom-logo

ফুটবল

১০ নম্বর জার্সি গায়ে মাঠে শূকর, ‘সুপারক্লাসিকোর’ বিতর্কিত ঐতিহ্য

 
অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
ঢাকা

১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৩:৩৬ পিএম

news-details

আর্জেন্টিনার ফুটবলের সবচেয়ে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার নাম ‘সুপারক্লাসিকো’। রিভার প্লেট ও বোকা জুনিয়র্সের এই লড়াই ঘিরে যেমন উত্তেজনা, তেমনি রয়েছে নানা বিতর্কিত ঐতিহ্যও। এর মধ্যে অন্যতম ছিল মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে বোকা জুনিয়র্সকে উদ্দেশ্য করে ‘শূকর’ প্রদর্শনের ঘটনা।


এক সময় রিভার প্লেটের মাঠে সুপারক্লাসিকো মানেই ছিল প্রতিপক্ষকে উসকে দিতে নানান অভিনব কাণ্ড। সেই ধারাবাহিকতায় প্রথমদিকে জীবন্ত শূকর মাঠে ছেড়ে দেওয়া হতো, পরে তা রূপ নেয় বিশাল ফোলানো (বেলুনাকৃতির) শূকরের প্রতীকী প্রদর্শনীতে। শূকরগুলোর গায়ে পরানো থাকত বোকা জুনিয়র্সের নীল-হলুদ জার্সি।


এই বিতর্কিত প্রথার সূচনা হয়েছিল মূলত বোকা জুনিয়র্সের এক খেলোয়াড়কে লক্ষ্য করে। ১৯৭৫ সালের এক ম্যাচে রিভার সমর্থকেরা একটি শূকর মাঠে ছেড়ে দেয়, যার গায়ে ছিল ১০ নম্বর জার্সি। তখনকার বোকা মিডফিল্ডার ওসভালদো পতোতা পোটেন্তের জার্সি নম্বর। ধারণা করা হয়, এটি ছিল ব্যক্তিগতভাবে তাঁকে ব্যঙ্গ করার উদ্দেশ্যে করা এক প্ররোচনা। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি পুরো বোকা জুনিয়র্স দলকে লক্ষ্য করে সাধারণ প্রতীকে পরিণত হয়।


সত্তরের দশক থেকে শুরু হয়ে নব্বইয়ের দশক পর্যন্ত এই প্রবণতা বিভিন্ন সময় দেখা গেছে। কখনো জীবন্ত শূকর, কখনো ব্যানার কিংবা প্রতীকী উপস্থাপনা—সবই ছিল প্রতিপক্ষকে বিদ্রূপ করার অংশ। তবে এসব কর্মকাণ্ড নিয়ে ধীরে ধীরে সমালোচনা বাড়তে থাকে, বিশেষ করে প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতার কারণে।


এক পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হস্তক্ষেপ করতে বাধ্য হয়। ১৯৯২ সালে একটি ম্যাচে শূকর মাঠে নিক্ষেপের ঘটনায় কয়েকজন সমর্থককে গ্রেপ্তারও করা হয়। তারপর ধীরে ধীরে জীবন্ত প্রাণী ব্যবহারের প্রবণতা কমে আসে।


সবশেষ উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটে ২০১২ সালে। সে সময় জীবন্ত প্রাণীর বদলে একটি বিশাল ফোলানো শূকর স্টেডিয়ামে উড়ানো হয়, যা বিখ্যাত সংগীতদল পিংক ফ্লয়েডের কনসার্টে ব্যবহৃত ভাসমান শূকরের আদলে তৈরি করা হয়েছিল। ম্যাচের আগে সেটি স্টেডিয়ামের একাংশে ভাসিয়ে রাখা হয়, যা নিয়ে দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক স্লোগান-পাল্টা স্লোগান দেখা যায়।


তবে শেষ পর্যন্ত সেই ফোলানো শূকরটিও পুলিশ জব্দ করে নিয়ে যায় এবং কেউ তা আর ফেরত নিতে আসেনি। এর মাধ্যমে এক অর্থে শেষ হয় এই বিতর্কিত ‘ঐতিহ্য’


বর্তমান সময়ে ফুটবলে নিরাপত্তা ও নৈতিকতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাওয়ায় এ ধরনের কর্মকাণ্ড আর দেখা যায় না। তবু অতীতের এই ঘটনাগুলো সুপারক্লাসিকোর উন্মাদনা ও অদ্ভুত সব প্রথার এক ভিন্ন অধ্যায় হিসেবে এখনও আলোচিত।


আর্জেন্টিনার ফুটবলের সবচেয়ে আলোচিত দ্বৈরথ ‘সুপারক্লাসিকোয়’ আজ লড়াইয়ে মাঠে নামছে রিভার প্লেট ও বোকা জুনিয়র্স। বুয়েনস আইরেসের মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনা প্রিমিয়ার ডিভিশনের ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত ২টায়।

bottom-logo