২৫ জানুয়ারি ২০২৫, ১:৫৫ পিএম

ম্যাচের শুরু থেকে শেষ ব্রাজিলকে পাত্তাই দেয়নি আর্জেন্টাইন যুবারা। একের পর গোলে সেলেসাওদের মনে উঁকি দিচ্ছল ২০১৪ বিশ্বকাপের সেই দুঃস্মৃতি। অবশ্য শেষ পর্যন্ত সেই লজ্জা থেকে বাঁচতে পেরেছে ব্রাজিল অনূর্ধ্ব-২০ দল। দক্ষিণ আমেরিকার অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে কাল রাতে আর্জেন্টিনার কাছে ৬-০ গোলে হেরেছে তারা। তাতে লজ্জার এক রেকর্ড গড়েছে দলটি। মহাদেশীয় চ্যাম্পিয়নশিপটির ইতিহাসে এটিই তাদের সর্বোচ্চ ব্যবধানের হার।
অন্যদিকে জাতীয় দল কিংবা বয়সভিত্তিক দল বিবেচনায় ব্রাজিলের বিপক্ষে এটাই আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় ব্যবধানের জয়। এর আগে ১৯৪০ সালে একবার ব্রাজিলকে ৬-১ গোলে হারিয়েছিল আর্জেন্টিনা জাতীয় দল। দীর্ঘ ৮৫ বছর পর রেকর্ড নতুন করে লিখলেন ক্লদিও এচেভেরিরা।
বল দখলের লড়াই কিংবা গোলের সুযোগ সব দিক থেকেই এদিন ব্রাজিল থেকে বেশ এগিয়ে ছিল আলবিসেলেস্তেরা। ম্যাচের ৬৩ শতাংশ বলই ছিল আর্জেন্টিনার কাছে। সব মিলিয়ে অন টার্গেট ৮টি শট তারা নিয়েছে যেখানে ব্রাজিল পেরেছে কেবল ২টি।
আর্জেন্টিনার এই জয়ে সবচেয়ে বড় অবদানটা রেখেছেন নতুন মেসি ট্যাগ পাওয়া এচেভেরি। রিভার প্লেট থেকে মাত্র ১৮ বছর বয়সী তরুণকে কেন ম্যানচেস্টার সিটি কিনে নিয়েছে তার প্রমাণ মাঠে যেন আরও একবার দিয়েছেন এচেভেরি। করেছেন জোড়া গোল। সেই সাথে ম্যাচজুড়েই দেখিয়েছেন নিজের ঝলক।
এদিন ম্যাচের শুরুতেই যেন শেষের ঘণ্টাটা বাজিয়ে দেয় আর্জেন্টাইন যুবারা। মাত্র ১১ মিনিটের মধ্যেই তিন গোলের দেখা পেয়ে যায় তারা। ম্যাচের মাত্র ছয় মিনিটের মাথায় ইয়ার সুবিয়াব্রের গোলে লিড পায় আর্জেন্টিনা। দুই মিনিট বাদে ব্যবধান বাড়ান এচেভেরি। তিন মিনিট পর আত্মঘাতী গোল করে বসেন ব্রাজিলের রাইট ব্যাক ইগর সেরাতো।
প্রথমার্ধের মতো দ্বিতীয়ার্ধেও তিন গোল হজম করে ব্রাজিল। ৫২ মিনিট চতুর্থ গোল আসে অগাস্তিন রুবের্তো। মিনিট দুয়েক বাদে দ্বিতীয় গোলের দেখা পান এচেভেরি। ৭৮ মিনিটে শেষ গোলটি করেন সান্তিয়াগো হিদালগো।
এই হারে আগামী সেপ্টেম্বরে চিলিতে বসতে যাওয়া অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপে জায়গা পাওয়ার পথে বড় ধাক্কাই খেলো ব্রাজিল। দক্ষিণ আমেরিকার এই চ্যাম্পিয়নশিপ থেকে শীর্ষ চার দল জায়গা করে নেবে সেই বয়সভিত্তিক বিশ্বকাপে। মোট ১০টি দল ‘এ’ ও ‘বি’ গ্রুপে ভাগ হয়ে দক্ষিণ আমেরিকার চ্যাম্পিয়নশিপে লড়ছে। প্রতি গ্রুপ থেকে শীর্ষ তিন দলকে নিয়ে মোট ছয় দলের রাউন্ড রবিন খেলা হবে। সেখান থেকে শীর্ষ চার দল জায়গা পাবে চিলি বিশ্বকাপে।
বড় ব্যবধানে হেরে ব্রাজিল আছে বি গ্রুপের তলানিতে। আর আর্জেন্টিনার অবস্থান শীর্ষে। বড় হারের পরেও অবশ্য বাকি তিন প্রতিপক্ষকে (বলিভিয়া, ইকুয়েডর ও কলাম্বিয়া) হারিয়ে বিশ্বকাপের টিকেট কাটতে জানপ্রাণ দিয়েই লড়বে ব্রাজিলের যুবারা।
No posts available.
১ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৫৫ এম
১ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৪৮ এম

মঙ্গলবার রাতে প্রীতি ম্যাচে মাঠে নেমেছিল স্পেন ও মিশর। ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র হলেও মাঠের পরিস্থিতি ছিল বেশ উত্তপ্ত। ম্যাচের প্রথমার্ধে গ্যালারি থেকে বারবার মুসলিম-বিদ্বেষী স্লোগান আসায় দর্শকদের কয়েক দফায় সতর্ক করা হয়।
ম্যাচ শেষে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে রয়্যাল স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন (আরএফইএফ) ও স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে।
বার্সেলোনার এস্পানিওল আরসিডিই স্টেডিয়ামে ম্যাচ শুরুর আগে মিশরের জাতীয় সংগীত চলাকালীন সজোরে দুয়োধ্বনি দেয় স্প্যানিশ সমর্থকরা। অনেক সমর্থক ‘যে লাফাবে না, সে মুসলিম‘ বলে স্লোগান দিচ্ছিল।
আরও পড়ুন
| চূড়ান্ত হলো বিশ্বকাপের ৪৮ দল, দেখে নিন ১২ গ্রুপ |
|
মিশরের কিছু খেলোয়াড় যখন মাঠে সিজদা দিচ্ছিলেন তখনও গ্যালারি থেকে অসম্মানজনক চিৎকার শোনা যায়।
বিরতির সময় জায়ান্ট স্ক্রিনে একটি বিশেষ বার্তা প্রদর্শিত দেখা যায়। সেখানে সমর্থকদের উগ্রবাদী মন্তব্য ও বর্ণবাদী গান থেকে বিরত থাকার থাকার জন্য মাইকে বারবার নির্দেশ দেওয়া হয়। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আবারও একই সতর্কতা দেওয়া হলে দর্শকদের একটি অংশ উল্টো দুয়োধ্বনি দেয়।
এই ঘটনায় দ্রুতই নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে রয়্যাল স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন (আরএফইএফ)। স্পেনের ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছে, 'আরএফইএফ ফুটবলে বর্ণবাদের ঘোর বিরোধী ও স্টেডিয়ামের ভেতরে যেকোনো ধরণের অসদাচরণের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে।'
ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে সমর্থকদের এই আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করেন
“আমি যেকোনো ধরণের ঘৃণা বা বর্ণবাদকে ঘৃণা করি- এটি পুরোপুরি অসহনীয়। আমি জানি না এ বিষয়ে নির্দিষ্ট প্রোটোকল কী। তবে জায়ান্ট স্ক্রিনে সতর্কবার্তা দেখানো ও মাইকে ঘোষণা দেওয়াটা একদম সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল।”
আরও পড়ুন
| ৪০ বছর পর আবার বিশ্বকাপে ইরাক |
|
ঘৃণা ছড়ানো ব্যাক্তিদের উদ্দেশ্যে ধিক্কার জানান স্প্যানিশ কোচ।
“যারা এসব করছে তারা কলঙ্ক। স্টেডিয়ামের অধিকাংশ সাধারণ দর্শক কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছে। যারা ঘৃণা ছড়ায়, তারা ফুটবলের কেউ নয়। তারা স্রেফ ফুটবলের সুযোগ নিয়ে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করে। এদের সমাজ থেকে যত দূরে রাখা যায় ততই মঙ্গল।”

প্রথমবারের মতো ৪৮ দল নিয়ে ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ। এর মধ্যে ৪২টি দেশ নির্ধারিত হয়েছিল আগেই। বাকি ছিল ৬টি টিকিট। বুধবার সবশেষ দল হিসেবে ইরাকের বিশ্বকাপে ওঠার মধ্য দিয়ে নিশ্চিত হয়ে গেল ৪৮টি দেশ।
মঙ্গলবার রাতে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ইউরোপীয় অঞ্চলের প্লে-অফ ফাইনাল শেষে মূল পর্বে খেলা নিশ্চিত করেছে সুইডেন, চেক প্রজাতন্ত্র, তুরস্ক এবং বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা।
বুধবার ভোরে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফ ফাইনালে জ্যামাইকার বিপক্ষে ১-০ গোলে জিতে ৪৭তম দল হিসেবে বিশ্বকাপে জায়গা করে নেয় ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো (ডিআর কঙ্গো)।
আরও পড়ুন
| ৪ মিনিটে দুই গোল করে ক্রোয়েশিয়াকে হারাল ব্রাজিল |
|
সবশেষ স্পটের জন্য বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল ৯টায় লড়াইয়ে নামে ইরাক ও বলিভিয়া। মেক্সিকোর মন্টেরি শহরের এস্তাদিও বিবিভিএ স্টেডিয়ামে বলিভিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ দল হিসেবে বিশ্বকাপের মূল পর্ব নিশ্চিত করেছে ইরাক।
২০২৬ সালের টুর্নামেন্ট দিয়ে ফিফা বিশ্বকাপে অভিষেক হবে জর্ডান, উজবেকিস্তান, কুরাসাও ও কেপ ভার্দের। এছাড়া ৫২ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরেছে হাইতি ও কঙ্গো। আর ৪০ বছর বিরতি দিয়ে ফিরছে ইরাক।
এক নজরে বিশ্বকাপের ৪৮ দল ও ১২ গ্রুপ
গ্রুপ এ: মেক্সিকো, দক্ষিণ কোরিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, চেক প্রজাতন্ত্র
গ্রুপ বি: কানাডা, সুইজারল্যান্ড, কাতার,বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা
গ্রুপ সি: ব্রাজিল, মরক্কো, স্কটল্যান্ড, হাইতি
গ্রুপ ডি: যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, প্যারাগুয়ে, তুরস্ক
গ্রুপ ই: জার্মানি, ইকুয়েডর, আইভরি কোস্ট, কুরাসাও
গ্রুপ এফ: নেদারল্যান্ডস, জাপান, তিউনিসিয়া,সুইডেন
গ্রুপ জি: বেলজিয়াম, ইরান, মিশর, নিউ জিল্যান্ড
গ্রুপ এইচ: স্পেন, উরুগুয়ে, সৌদি আরব, কেপ ভার্দে
গ্রুপ আই: ফ্রান্স, সেনেগাল, নরওয়ে, ইরাক
গ্রুপ জে: আর্জেন্টিনা, অস্ট্রিয়া, আলজেরিয়া, জর্ডান
গ্রুপ কে: পর্তুগাল, কলম্বিয়া, উজবেকিস্তান, ডি.আর. কঙ্গো
গ্রুপ এল: ইংল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া, পানামা, ঘানা
আগামী ১১ জুন বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে মাঠে নামবে স্বাগতিক মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকা। মেক্সিকোর সঙ্গে সহ আয়োজক দেশ হিসেবে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা। ১৯ জুলাই নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফাইনাল দিয়ে পর্দা নামবে এবারের বিশ্বকাপের।
মরক্কোর বিপক্ষে আগামী ১৩ জুনের ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করবে ব্রাজিল। আর ১৬ জুন নিজেদের প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার মুখোমুখি হবে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে ম্যাচটি খেলা নিয়েই অনিশ্চয়তায় ছিল ইরাক। সব সংশয় দূর করে মাঠে নেমে দীর্ঘ ৪ দশকের অপেক্ষা ঘোচাল তারা। ৪০ বছর পর আবার বিশ্বকাপের টিকিট পেল মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি।
২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপের টিকিটের লড়াইয়ে আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফ ফাইনালে বলিভিয়ার বিপক্ষে ২-১ গোলে জিতেছে ইরাক। মেক্সিকোর গুয়াদালুপেতে বুধবার সকালের ম্যাচে গোল দুইটি করেছেন আলি ইব্রাহিম আল-হামাদি ও আয়মান হোসেন।
বলিভিয়ার হয়ে একমাত্র গোল শোধ করেন ময়সেস পানিয়াগুয়া।
আরও পড়ুন
| ৪ মিনিটে দুই গোল করে ক্রোয়েশিয়াকে হারাল ব্রাজিল |
|
এই জয়ে ১৯৮৬ সালের পর আবারও বিশ্বকাপ খেলার টিকিট পেল ইরাক। ৪০ বছর আগের ওই আসরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল তারা। তিন ম্যাচে করতে পেরেছিল মোটে ১ গোল।
এবার বিশ্বকাপের টিকিট পাওয়ার ম্যাচে খুব একটা দাপুটে ফুটবল খেলতে পারেনি ইরাক। ম্যাচের প্রায় ৬৭ শতাংশ সময় বলিভিয়ার কাছে ছিল বলের দখল। গোলের জন্য ১৬টি শট করে ৭টি লক্ষ্য বরাবর রাখে লাতিন আমেরিকান দেশটি। বিপরীতে ৭ শটের ৩টি লক্ষ্যে রাখতে পারে ইরাক।
ম্যাচের দশম মিনিটে গোল করে দলকে এগিয়ে আল-হামাদি। তবে প্রথমার্ধেই সেটি শোধ করে বলিভিয়া। ৩৮ মিনিটে পানিয়াগুয়ার গোলে সমতা নিয়েই বিরতিতে যায় দুই দল।
দ্বিতীয়ার্ধে ফিরে ৫৩ মিনিটে আবার লিড নেয় ইরাক। এবার জালের দেখা পান আয়মান। ম্যাচের বাকি সময়ে প্রাণপণ চেষ্টা করে বলিভিয়া। কিন্তু ডেডলক আর ভাঙতে পারেনি। দীর্ঘ ৪০ বছরের অপেক্ষা ঘুচিয়ে বিশ্বকাপ নিশ্চিত করে ইরাক।
আরও পড়ুন
| আমরা ফুটবল খেলতে আসি, রাজনীতি করি না: ডি পল |
|
ইরাকের জয়ে এশিয়ান অঞ্চল থেকে বিশ্বকাপের টিকিট পেল মোট ৯টি দেশ। তাদের আগে এই অঞ্চল থেকে বিশ্বকাপ নিশ্চিত করা আট দল- অস্ট্রেলিয়া, ইরান, জাপান, জর্ডান, কাতার, সৌদি আরব, দক্ষিণ কোরিয়া ও উজবেকিস্তান।
২০২৬ বিশ্বকাপে 'আই' গ্রুপে খেলবে ইরান। যেখানে তাদের তিন প্রতিপক্ষ ফ্রান্স, সেনেগাল ও নরওয়ে। আগামী ১৬ জুন নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করবে ইরাক।

টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মূলপর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ ইতালি। প্লে-অফ ফাইনালে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার কাছে টাইব্রেকারে হারের পর যারপরনাই হতাশ ইতালির কোচ জেনারো গাত্তুসো। তিনি বলেন, পারফরম্যান্স অনুযায়ী আরও ভালো ফলের দাবিদার ছিল ইতালি।
বসনিয়ার ঘরের মাঠ জেনিৎসার বিলোনো পোলজেতে মঙ্গলবার রাতে হওয়া ম্যাচটি নির্ধারিত সময়ে ১-১ সমতায় শেষ হলে টাইব্রেকারে গড়ায়। সেখানে গাত্তুসোর দলকে ৪-১ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের টিকিট কাটে বসনিয়া।
হারের পর হতাশা প্রকাশ করেন গাত্তুসো।
“এটা খুব কষ্ট দিচ্ছে, সত্যিই খুব কষ্ট দিচ্ছে। আমার চেয়েও বেশি কষ্ট হচ্ছে এই দলটির জন্য যারা গত কয়েক মাস ধরে নিজেদের সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করেছে। আমি মনে করি, আমরা যা পরিশ্রম করেছি সেই অনুযায়ী ফলাফল আমাদের প্রাপ্য ছিল।”
আরও পড়ুন
| ইতালির ঔদ্ধত্যের জবাব মাঠেই দিয়েছে বসনিয়া |
|
গাত্তুসোর সঙ্গে ইতালির চুক্তি ছিল ২০২৬ বিশ্বকাপ পর্যন্ত। তবে ইতালি যদি বিশ্বকাপের টিকিট পেত, সেটি ২০২৮ সাল পর্যন্ত তার চুক্তির মেয়াদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে নবায়ন হয়ে যেতো। গত অক্টোবরে তিনি বলেছিলেন, দল যদি ২০২৬ বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন করতে ব্যর্থ হয়, তবে দেশ ছেড়ে অনেক দূরে চলে যাবেন।
এখন দেখার বিষয় ২০০৬ বিশ্বকাপজয়ী দলের এই সদস্য আসলেই এমন কিছু করেন কি না। তবে ইতালীয় ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি গ্যাব্রিয়েল গ্রাভিনা গাত্তুসোর প্রশংসা করে তাকে থেকে যাওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।
আর গাত্তুসো নিজে এখনই ইতালিতে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে কিছু বলতে রাজি নন।
“আজ এই বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে মোটেও আগ্রহী নই। আজ আমার ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলাটা হবে খুব ক্ষুদ্র চিন্তা ও অপরিপক্বতা। এখানে আমাদের ইতালি এবং জাতীয় দলের জার্সি নিয়ে কথা বলা উচিত।”
আরও পড়ুন
| ৪ মিনিটে দুই গোল করে ক্রোয়েশিয়াকে হারাল ব্রাজিল |
|
“এটা আমাদের জন্য আরও একটি বড় ধাক্কা, যদিও এবার আমরা এই ধাক্কা খাওয়ার মতো ছিলাম না। আমরা আরও ভালো কিছুর দাবিদার ছিলাম এবং সে কারণেই আমার ভবিষ্যৎ এখন গুরুত্বহীন।”
ইতালি এর আগের দুটি বিশ্বকাপের বাছাইপর্বের প্লে-অফে সুইডেন এবং উত্তর মেসিডোনিয়ার কাছে হেরে বাদ পড়েছিল। গত জুনে লুসিয়ানো স্প্যালেত্তিকে বরখাস্ত করার পর যখন ইতালির বিশ্বকাপের আশা প্রায় ক্ষীণ হয়ে আসছিল, তখন গাত্তুসোকে কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

মৌরিতানিয়ার বিপক্ষে জিতলেও, মাঠের পারফরম্যান্সে হতাশই ছিল আর্জেন্টিনা। সেটি ভুলে জাম্বিয়াকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। আর এই ম্যাচ শেষে দলের মধ্যে বিভাজন তৈরি করা মানুষদের ধুয়ে দিয়েছেন রদ্রিগো ডি পল।
এবারের ফিফা আন্তর্জাতিক বিরতির দুই ম্যাচেই জিতেছে আর্জেন্টিনা। তবে মৌরিতানিয়ার বিপক্ষে ২-১ গোলে জেতার ম্যাচে ঠিক চেনা ছন্দে ছিল না তারা। তাই ওই ম্যাচের পর খেলোয়াড়দের নিবেদন নিয়ে সমালোচনা হয় অনেক। নিন্দুকদের রোষানলে পড়েন লিওনেল মেসি, ডি পলরা।
সেসব ছাপিয়ে বুধবার ভোরের ম্যাচে জাম্বিয়ার জালে একে একে পাঁচ গোল করে লা আলবিসেলেস্তেরা। পুরো ম্যাচে দাপট দেখিয়েই খেলে তারা। ম্যাচে একটি করে গোল দেন মেসি ও নিকোলাস ওতামেন্ডি। অস্বাভাবিক কিছু না ঘটলে, দেশের মাঠে এটিই ছিল তাদের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ।
আরও পড়ুন
| মেসি-আলভারেজের গোলে জাম্বিয়াকে উড়িয়ে দিল আর্জেন্টিনা |
|
ম্যাচ শেষে টিওয়াইসি স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তাই তাদের প্রতি সম্মান দেখান ডি পল।
“তারা বিষয়টা উপভোগ করার চেষ্টা করে। দু’জনই এই দলের জন্য রোল মডেল। আমরা তাদের পথ অনুসরণের চেষ্টা করি। সবসময় একই মানসিকতা নিয়ে এখানে আসি- ফুটবল খেলতে, আর্জেন্টিনা কী প্রতিনিধিত্ব করে, আমাদের দেশের কাছে ফুটবলের অর্থ কী, তা রক্ষা করতে।”
“আমরা চাই মানুষ এটা বুঝুক, কারণ আমরা এমন একটি দেশের বাসিন্দা যেখানে একত্রিত হওয়ার বদলে অনেক সময় বিভাজন আর বিতর্ক তৈরি করা হয়।”
এসময় হুট করে রাজনীতির প্রসঙ্গ আনেন আর্জেন্টাইন এই মিডফিল্ডার।
“স্পষ্ট করে বলতে চাই- আমরা ফুটবলার, আমরা এখানে ফুটবল খেলতেই আসি। রাজনীতিতে আমরা জড়াই না, এসব বিষয় আমরা বুঝিও না। রাজনীতি যারা বোঝেন, তাদেরই সে কাজ করা উচিত। আমরা চাই, আমাদের বিচার হোক মাঠের পারফরম্যান্স দিয়ে, এর বাইরে কিছু নয়।”
“আমরা সবসময় চেষ্টা করব আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের জার্সিকে সম্মান জানাতে। যে জায়গায় পৌঁছাতে আমরা এত লড়াই করেছি, সেটা মাঠেই প্রমাণ করতে। নেতৃত্বেও এই বার্তাটাই থাকা উচিত- আমরা মাঠে খেলেই দেশকে প্রতিনিধিত্ব করি।”
কোন প্রসঙ্গে এই কথা বলেছেন, তা জিজ্ঞেস করা হলে স্পষ্ট কিছু জানাননি ডি পল।
“আমি নির্দিষ্ট করে কিছু বলছি না। তবে এটুকু বলতে চাই, ভুল তথ্য ছড়ানোর চেয়ে সঠিক তথ্য জানানো ভালো। বিশ্বকাপের আর মাত্র দুই মাস বাকি, এই সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ঐক্যবদ্ধ থাকা।”
“আমরা জিতলে সবাই জিতি, হারলে দায়টা খেলোয়াড়দেরই নিতে হয়। মাঠে যা ঘটে, তার পুরো দায়িত্ব আমাদের- ভালো বা খারাপ যাই হোক। আমরা বিশ্বকাপ জিতেছিলাম, কারণ সমর্থকরা আমাদের সেই প্রয়োজনীয় প্রেরণা দিয়েছিলেন।”
যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় আগামী জুনে বিশ্বকাপ শিরোপা ধরে রাখার মিশনে নামবে আর্জেন্টিনা। এর আগে সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানালেন ইন্টার মায়ামি তারকা।
আরও পড়ুন
| আর্জেন্টিনায় ‘শেষবার’ মাঠে নামছেন মেসি, তবে... |
|
“এখন পর্যন্ত যা গড়ে উঠেছে, সেটাকে ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করা ন্যায্য নয়। একটি সূচনা হয়েছে, সেখান থেকে সামনে এগোতে হবে, পেছনে নয়। আবারও বলছি- আমরা ক্লাবে নিজেদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করি, যেন জাতীয় দলে সুযোগ পেয়ে আর্জেন্টিনার জার্সির সম্মান রাখতে পারি মাঠে।”
“আমি কোনো নির্দিষ্ট বিষয় টানছি না, আমরা বন্ধুর মতোই এসব নিয়ে কথা বলি। বিশ্বকাপ শুরুর আগে এই কথাগুলো বলতে ইচ্ছে হয়েছে। জেতা কঠিন, আর শিরোপা ধরে রাখা আরও কঠিন। আমরা যদি আমাদের অর্জন রক্ষা করতে চাই, তাহলে পুরো দেশকে একসঙ্গে থাকতে হবে।”