১১ এপ্রিল ২০২৬, ৩:৩৭ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে বিশ্বকাপের ম্যাচ যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরিয়ে মেক্সিকোয় নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিল ইরান। তবে সেই আবেদন শেষ পর্যন্ত নাকচ করে দিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রেই খেলতে হবে ইরানকে।
শুক্রবার মেক্সিকো সিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউডিয়া শেইনবাউম। তাঁর ভাষ্য, ‘শেষ পর্যন্ত ফিফা সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে ম্যাচগুলো মূল ভেন্যু থেকে সরানো সম্ভব নয়। তাদের মতে, এটি বিশাল ধরনের লজিস্টিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করত।’
গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সেই ঘটনার পরই ইরান বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বের তিনটি ম্যাচ যুক্তরাষ্ট্রে না খেলার অনুরোধ জানায়। যদিও সম্প্রতি একটি নাজুক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে, তবুও নিরাপত্তা শঙ্কা পুরোপুরি কাটেনি।
আগামী ১১ জুন থেকে শুরু হবে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা বিশ্বকাপ। গ্রুপ পর্বে ইরানের প্রতিপক্ষ বেলজিয়াম, নিউজিল্যান্ড ও মিসর। এর আগে থেকেই ম্যাচ সরানোর বিষয়ে ফিফা অনাগ্রহ দেখিয়ে আসছিল।
আরও পড়ুন
| আশা দেখছে ওয়েস্ট হ্যাম, এখনও অচেনা পথে স্পার্স |
|
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, যেকোনো পরিস্থিতিতেই ইরান বিশ্বকাপে খেলবে। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই ইরান খেলুক, এবং ইরান খেলবেই। কোনো বিকল্প পরিকল্পনা নেই, একটাই পরিকল্পনা।’
ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহদি তাজ জানিয়েছেন, তারা যুক্তরাষ্ট্র বয়কটের কথা ভাবছে, তবে বিশ্বকাপ বয়কট নয়। যদিও এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন, নিরাপত্তার স্বার্থে ইরানের অংশগ্রহণ উপযুক্ত নয় বলেই তিনি মনে করেন।
পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হওয়ার পর স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে এ বৈঠক হওয়ার কথা।
No posts available.

রূপকথাও বোধকরি এর চেয়ে বেশি সুন্দর হয় না।
ঘরের ছেলে গোলকিপার উনাই মরেরো দলের ত্রাণকর্তা হয়ে দাঁড়ালেন, আর একসময়ের বলবয় পাবলো মারিন দিলেন তুলির শেষ টান। শনিবার রাতে টাইব্রেকারে আতলেতিকো মাদ্রিদকে ৪-৩ ব্যবধানে হারিয়ে কোপা দেল রে শিরোপা জিতেছে রিয়াল সোসিয়েদাদ।
সেভিয়ার লা কার্তুজা স্টেডিয়ামে ফাইনালের পূর্ণ ৯০ মিনিট এবং অতিরিক্ত সময় ২-২ সমতায় শেষ হয়। কিন্তু টাইব্রেকারে পুরো আলো কেড়ে নিলেন মরেরো। খেলা শেষে বলেছেন,
‘এত মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পারাটা সত্যিই অন্যরকম আনন্দের অনুভূতি। মনে হয় নিজের সেরা ছন্দে ছিলাম। এখানে ঠিক কী ঘটে গেল, তা আমি এখনো পুরোপুরি বিশ্বাস করে উঠতে পারছি না।’
সেভিয়ার সেই নাটকীয় টাইব্রেকার
পুরো ক্লাবের প্রত্যাশার চাপ কাঁধে নিয়ে মরেরো তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় মুহূর্তে জ্বলে উঠলেন। আলেকজান্ডার সরলোথ এবং জুলিয়ান আলভারেজের নেওয়া প্রথম দুটি পেনাল্টি ঠেকিয়ে দিয়ে ম্যাচটি পুরোপুরি সোসিয়েদাদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন তিনি।
মাঝপথে হুয়ান মুসো ওরি ওস্কারসনের শট আটকে দিয়ে আতলেতিকোর আশা কিছুটা জাগিয়ে তুললেও, শেষ সিদ্ধান্তটি ছিল মারিনের হাতে। ২২ বছর বয়সী বদলি খেলোয়াড়, যিনি একসময় এই ক্লাবেরই বলবয় ছিলেন। চরম উত্তেজনার মুখেও মাথা ঠান্ডা রেখে জয়সূচক পেনাল্টি শটে বল জালে জড়ান স্প্যানিশ অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার।
টানটান উত্তেজনার এক ফাইনাল
ম্যাচটি শুরু হতেই যেন বিস্ফোরণ ঘটেছিল। মাত্র ১৪ সেকেন্ডের মাথায় হেডে গোল করে কোপা দেল রে ফাইনালের ইতিহাসে দ্রুততম গোলের রেকর্ড গড়েন আন্ডের বারেনেটক্সিয়া।
দ্রুতই আদেমোলা লুকমানের গোলে সমতায় ফেরে আতলেতিকো। তবে প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার ঠিক আগে পেনাল্টি থেকে গোল করে মিকেল ওয়ারজাবাল সোসিয়েদাদকে আবারও লিড এনে দেন।
আতলেতিকো হাল ছাড়েনি। দূরপাল্লার দুর্দান্ত শটে ব্যবধান ২-২ করেন আলভারেজ। ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। অতিরিক্ত সময়ে কোনো দলই পায়নি জালের দেখা। ম্যাচ গড়ায় নাটকীয় টাইব্রেকারে।
ইতিহাস, আবেগ এবং নতুন অধ্যায়
এটি রিয়াল সোসিয়েদাদের চতুর্থ কোপা দেল রে শিরোপা। ২০২১ সালেও তারা চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল, কিন্তু মহামারীর বিধিনিষেধের কারণে সেবার গ্যালারিতে কোনো সমর্থক ছিল না। ফলে দীর্ঘ সময় পর দর্শকদের সামনে শিরোপা উদযাপনের সুযোগ পেল তারা।
টাচলাইনে দাঁড়িয়ে কোচ পেলেগ্রিনো মাতারাজ্জো অভাবনীয় মুহূর্ত উপভোগ করেছেন। গত ডিসেম্বরে যখন তিনি দায়িত্ব নেন, ক্লাবটি তখন অবনমনের শঙ্কায়। সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে তিনি দলকে ট্রফি এনে দিলেন। সেই সঙ্গে ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের ইতিহাসে প্রথম আমেরিকান কোচ হিসেবে বড় কোনো শিরোপা জেতার রেকর্ড গড়লেন মাতারাজ্জো।

ম্যাচ শুরুর আগে স্ট্যামফোর্ড ব্রিজের সামনে সমর্থকদের প্রতিবাদ মিছিল ওঠে- ‘আমরা আমাদের চেলসিকে ফেরত চাই’। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কাছে হারের পর যে স্লোগান ছড়িয়ে পড়ে গ্যালারিতেও।
চেলসি সমর্থকদের এই ক্ষোভ অস্বাভাবিক কিছু নয়; প্রিমিয়ার লিগে নিজেদের টানা চারটি ম্যাচে গোল করতে ব্যর্থ হয়েছে দলটি, সেই সঙ্গে হেরেছে এই চার ম্যাচেই। এমন অপ্রত্যাশিত কিছু এর আগে দেখা মিলেছিল ১৯১২ সালের নভেম্বরে। দীর্ঘতম গোলহীন হারের রেকর্ড আবার ফিরে আসল স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে।
শনিবার রাতে ইউনাইটেডের কাছে ১-০ গোলে হেরেছে চেলসি। খেলার ৪৩ মিনিটে একমাত্র জয়সূচক গোলটি করেন ইউনাইটেডের ব্রাজিলিয়ান লেফট উইঙ্গার মাথিউস কুনহা। বোর্নমাউথের সঙ্গে ড্র এবং লিডসের বিপক্ষে হারের পর ফের জয়ের ধারায় ফিরল রেড ডেভিলরা।
আরও পড়ুন
| আতলেতিকোকে টাইব্রেকারে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন সোসিয়েদাদ |
|
আরেকটি পরাজয়ে শীর্ষ পাঁচ থেকে ৪ পয়েন্ট পিছিয়ে ব্লুজরা। একইসঙ্গে একটি ম্যাচ বেশি খেলেছে লিয়াম রোসেনিয়রের দল। ম্যাচ শেষে ব্লুজদের কোচ স্বীকার করেছেন যে, চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলার যোগ্যতা অর্জনের পথে তাঁর দল এখন এক ‘দুর্গম পাহাড় পাড়ি দেওয়ার’ চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড়িয়ে।
নিশ্চিতভাবে চ্যাম্পিয়নস লিগে জায়গা করে নিতে না পারা দলের ব্যর্থতা হিসেবেই দেখবে ক্লাব কর্তৃপক্ষ। কারণ সাবেক কোচ এনজো মারেস্কার অধীনে মৌসুম শুরুর আগে যে ন্যূনতম লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল, ক্লাবটি এখন সেটি অর্জনে ব্যর্থ হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
শীর্ষ এই আসরে খেলার সুযোগ না পেলে চেলসি বড় অঙ্কের রাজস্ব এবং মর্যাদা হারাবে। ২০২২ সালে টড বোহলি এবং ক্লিয়ারলেক ক্যাপিটাল ক্লাবটির মালিকানা নেওয়ার পর থেকে এটি হবে গত ৪ মৌসুমের মধ্যে তৃতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়নস লিগে কোয়ালিফাই করতে না পারার ঘটনা।

এতদিন দলের রক্ষণভাগ, গোলকিপিং এবং স্কোয়াডের খেলোয়াড়দের বয়স নিয়ে সমালোচনা হতো। এখন হচ্ছে আক্রমণভাগ নিয়ে। চেলসি প্রিমিয়ার লিগে সর্বশেষ সাড়ে ৬ ঘণ্টা ধরে কোনো গোল করতে পারেনি।
চেলসির মালিকানাধীন অন্য ক্লাব স্ট্র্যাসবুর্গ থেকে রোসেনিওরকে দ্রুত নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে স্ট্র্যাসবুর্গের কট্টর সমর্থকরা চেলসি সমর্থকদের সঙ্গে এই মিছিলে যোগ দিয়েছিল। উভয় ক্লাবের সমর্থকদেরই দাবি, জানুয়ারির সেই সিদ্ধান্তের ফলে দুই দলই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আরও পড়ুন
| মেসির জোড়া গোলে মায়ামির দারুণ জয় |
|
চেলসির জন্য পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে; লিভারপুল তাদের চেয়ে এক ম্যাচ কম খেলে ৪ পয়েন্টে এগিয়ে আছে। অন্যদিকে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড এবং অ্যাস্টন ভিলাকে টপকানো ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়ছে ব্লুজদের জন্য।
রোসেনিওর বলেন,
‘পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠা অসম্ভব নয়, তবে এটি আমাদের জন্য পাহাড়সম চ্যালেঞ্জ। আগামী মঙ্গলবার ব্রাইটনের বিপক্ষে ম্যাচটিতে আমাদের জয়ের মানসিকতা নিয়ে নামতে হবে এবং মৌসুমের বাকি অংশের জন্য নতুন উদ্দীপনা খুঁজে পেতে হবে।’
মৌসুমের এই চূড়ান্ত পর্যায়ে এসে যখন সবকিছু ওলটপালট হয়ে যাচ্ছে, তখন হাতে থাকা মাত্র পাঁচটি ম্যাচ নিয়ে কঠিন চাপের মুখে চেলসি।

কিছু বুঝে ওঠার আগেই গোল হজম করে বসলো আতলেতিকো মাদ্রিদ। কিছুক্ষণ পর সেটি ফেরত দিলেও লিড তারা নিতে পারল না। পরে মূল ম্যাচ ড্র থাকলে টাইব্রেকারে জিতে শিরোপা উল্লাসে মাতে রিয়াল সোসিয়েদাদ।
সেভিয়ায় শনিবার রাতে কোপা দেল রে ফাইনালে আতলেতিকো মাদ্রিদকে টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে হারায় সোসিয়েদাদ। স্পেনের দ্বিতীয় সেরা টুর্নামেন্টের শিরোপা নির্ধারণী লড়াইয়ে ২-২ গোলে ড্র ছিল মূল ম্যাচ।
দীর্ঘ ৩৪ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ২০১৯-২০ মৌসুমে তৃতীয় কোপা দেল রে জিতেছিল সোসিয়েদাদ। এবার তাদের ঘরে উঠল চতুর্থ ট্রফি। বিপরীতে ২০১২-১৩ মৌসুমের পর আর এই টুর্নামেন্ট জেতা হয়নি আতলেতিকোর।
আরও পড়ুন
| মেসির জোড়া গোলে মায়ামির দারুণ জয় |
|
ম্যাচের মাত্র ১৫ সেকেন্ডের মাথায় গোল করে সোসিয়েদাদকে এগিয়ে দেন আন্দের বারেনেক্সিয়ের। জবাব দিতে সময় নেয়নি আতলেতিকো। ১৯ মিনিটে আদেমালো লুকমানের গোলে ম্যাচে ফিরে আসে সমতা।
বিরতির আগে আবার পিছিয়ে পড়ে আতলেতিকো। প্রথমার্ধের অতিরিক্ত যোগ করা সময়ে পেনাল্টি থেকে স্কোরলাইন ২-১ করে দেন সোসিয়েদাদ অধিনায়ক মিকেল ওয়ারসাবাল।
পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয়ার্ধে খেলতে নেমে গোলের জন্য আধঘণ্টার বেশি অপেক্ষা করতে হয় আতলেতিকোর। ম্যাচের ৮৩ মিনিটে হুলিয়ান আলভারেজ গোল করলে ম্যাচে আবার ফিরে আসে সমতা।
আরও পড়ুন
| শিরোপার ‘ফাইনাল’: রাতে ইতিহাদে মুখোমুখি সিটি-আর্সেনাল |
|
পরে ২-২ গোলে অমীমাংসিত অবস্থায় খেলা গড়ায় অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে। সেখানেও গোলের দেখা পায়নি দুই দল। ফলে নিষ্পত্তির জন্য বাজানো হয় টাইব্রেকারের বাঁশি।
পেনাল্টি শুটআউটে আতলেতিকোর প্রথম দুই শটে গোল করতে ব্যর্থ হন আলেক্সান্ডার সরলথ ও আলভারেজ। তাদের দুই শট ঠেকিয়ে নায়ক হয়ে যান সোসিয়েদাদ গোলরক্ষক উনাই মারেরো।

নতুন কোচের প্রথম ম্যাচেই জ্বলে উঠলেন লিওনেল মেসি। তার জোড়া গোলে দারুণ জয়ে মাঠ ছাড়ল ইন্টার মায়ামি।
এম্পাওয়ার ফিল্ডে শনিবার রাতে মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) ম্যাচে কোলোরাডো র্যাপিডসকে ৩-২ গোলে হারায় মেসির মায়ামি। দলের জয়ে অন্য গোলটি করেন জারমান বার্তেরামি।
এদিন মাঠে বসে খেলা উপভোগ করেছেন ৭৫ হাজার ৮২৪ জন দর্শক। যা এমএলএস ইতিহাসে এক ম্যাচে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দর্শক উপস্থিতির রেকর্ড।
প্রতিপক্ষের মাঠে ম্যাচটি খুব সহজ ছিল না মায়ামির জন্য। এই ম্যাচের আগেই দলের দায়িত্ব ছেড়ে দেন প্রধান কোচ হাভিয়ের মাচেরানো। তার অনুপস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত কোচ গুইলের্মো হয়োসের তত্ত্বাবধানে খেলতে নামে মায়ামি।
আরও পড়ুন
| শিরোপার ‘ফাইনাল’: রাতে ইতিহাদে মুখোমুখি সিটি-আর্সেনাল |
|
ম্যাচ জিতলেও দাপট খুব একটা ছিল না মায়ামির। স্বাগতিক দল প্রায় ৬০ শতাংশ সময় বল দখলে রেখে গোলের জন্য করে ১০টি শট। এর ৪টি ছিল লক্ষ্য বরাবর। বিপরীতে ৫ শটের ৩টি লক্ষ্যে রাখতে পারে মায়ামি। যার সবগুলোই পরিণত হয় গোলে।
ম্যাচের শুরুর দিকে ইয়ানিক ব্রাইটের ওপর ডি-বক্সের ভেতর ফাউল করেন জশুয়া আতেন্সিও। ফলে পেনাল্টি পেয়ে যায় মায়ামি। ১৮ মিনিটে স্পট কিক থেকে দলকে এগিয়ে দেন মেসি।
বিরতিতে যাওয়ার আগে আবারও গোলের দেখা পায় মায়ামি। প্রথমার্ধের অতিরিক্ত যোগ করা সময়ে স্কোরশিটে নাম তোলেন বার্তেরামি।
দ্বিতীয়ার্ধে ফিরে ঘুরে দাঁড়ানোর আভাস দেয় কোলোরাডো। ৫৮ মিনিটে রাফায়েল নাভারো ও ৬২ মিনিটে ড্যারেন ইয়াপি গোল করলে ২-২ সমতা চলে আসে ম্যাচে।
আরও পড়ুন
| পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলবে আর্জেন্টিনা, চলছে আলোচনা |
|
এর কিছুক্ষণ পরই মেসি ম্যাজিক। পায়ের কারিকুরির পর ডি-বক্সের বাইরে থেকে দুজন ডিফেন্ডারের মাঝ দিয়ে চমৎকার শটে জালের ঠিকানা খুঁজে নেন আর্জেন্টাইন সুপারস্টার। এতেই নিশ্চিত হয়ে যায় মায়ামির জয়।
ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার আগে লাল কার্ড দেখেন ব্রাইট। এছাড়া ইনজুরি টাইমের প্রথম মিনিটে মেসিকে দেখানো হয় হলুদ কার্ড। তবে এতে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে সমস্যা হয়নি মায়ামির।
৮ ম্যাচে ৪ জয় ও ৩ ড্রয়ে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দুই নম্বরে উঠে এসেছে মায়ামি। সমান ম্যাচে ১৯ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে ন্যাশভিল।

হারলে শিরোপার দৌড়ে পিছিয়ে পড়ার শঙ্কা, জিতলে শীর্ষস্থানের নাগালে আসার সুযোগ—২০২৫-২৬ প্রিমিয়ার লিগের গুরুত্বপূর্ণ বাঁকে দাঁড়িয়ে ম্যানচেস্টার সিটি। রবিবার ইতিহাদ স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে নয়টার ম্যাচটি সিটিজেনদের জন্য কার্যত ‘ভাগ্য নির্ধারণী’ এক লড়াই। পেপ গার্দিওলার দল জিতলে টাইটেল রেস যেমন হয়ে উঠবে রোমাঞ্চকর, হারলে পথটা হয়ে যাবে বন্ধুর এবং কন্টকময়।
প্রিমিয়ার লিগ টেবিলের শীর্ষে থাকা গানারদের চেয়ে ৬ পয়েন্ট কম নিয়ে দুইয়ে ম্যানচেস্টার সিটি। প্রতিপক্ষের চেয়ে একটি ম্যাচ কম খেলেছে তারা। মুখোমুখি লড়াইয়ে জিততে পারলে ব্যবধান নেমে আসবে তিন পয়েন্টে এবং পরবর্তীতে সিটির সামনে সুযোগ আসবে শীর্ষে ওঠারও। যদিও ব্যাপারটি মোটেও সহজ হবে না সিটিজেনদের জন্য। দুটি প্রতিযোগীতা হাতছাড়ার পর গানাররা ঠিকই টানা দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে। অনেকটা দম নিয়েই তারা পা রাখছে ইতিহাদে।
দীর্ঘ ২২ বছর লিগ শিরোপার প্রতীক্ষায় থাকা আর্সেনাল সমর্থককদের অবশ্য একটু বেশি চিন্তা করতে হবে প্রতিপক্ষের মাঠে জয় নিয়ে। ইতিহাদে সবশেষ ২০২৪ সালে দুদলের ম্যাচ ড্র হলেও ম্যানসিটির দূর্গ থেকে দুইবারই মাত্র জয় ছিনিয়ে আনতে পেরেছে গানাররা। ইতিহাদে ১৫ বারের দেখায় ৯ বারই জিতেছে ম্যানসিটি। লিগে ৩১ দেখাতেও পাল্লা ভারি তাদের। ১৬ ম্যাচ জিতেছে পেপ গার্দিওলার দল। মাত্র ৬টি গেছে আর্সেনালের ভাগ্যে। ৯টি ম্যাচ হয়েছে ড্র।
আরও পড়ুন
| পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলবে আর্জেন্টিনা, চলছে আলোচনা |
|
শিরোপার চূড়ান্ত লড়াইয়ে স্নায়ুচাপে ভোগার আরও একটি যৌক্তিক কারণ আছে অবশ্য। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে আর্সেনাল সবশেষ পাঁচ ম্যাচে জিতেছে মাত্র একটিতে। এর মধ্যে কেবল চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে স্পোর্টিংয়ের বিপক্ষে ফার্স্ট লেগে ১-০ ব্যবধানে জিতেছে। এমনকী নিজেদের মাঠে ফিরতি লেগের ম্যাচেও জয় বঞ্চিত ছিল তারা।
মুদ্রার উল্টো পিঠে ম্যানসিটি। পাঁচ ম্যাচে একটি মাত্র হার সিটিজেনদের। সবশেষ তিন ম্যাচে জিতেছে তারা। এরমধ্যে একটি জয় আবার আর্সেনালের বিপক্ষে। ইএফএলের ফাইনালে গানারদের ২-০ ব্যবধানে হারিয়েছিল সিটি। এবার সে প্রতিশোধ নেওয়ার পালা।
প্রতিশোধ নেওয়ার ম্যাচে অবশ্য স্বস্তিতে থাকার জো নেই আর্সেনালের সামনে। শিবিরে রয়েছে মিশ্র খবর। মার্টিন ওডেগার্ডের খেলা নিয়ে সংশয় রয়েছে এবং সাকা গোড়ালির (অ্যাকিলিস) চোট এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেননি। রিকার্ডো কালাফিওরিকে খেলানোর ব্যাপারে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে আরতেতাকে। গত ফেব্রুয়ারিতে পায়ের অস্ত্রোপচারের পর মিকেল মেরিনো এখনো মাঠের বাইরেই আছেন।
আরও পড়ুন
| বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের রেল ভাড়া নিয়ে নতুন বিতর্ক |
|
ম্যানচেস্টার সিটির জন্য দুশ্চিন্তার কারণ রুবেন দিয়াস। হ্যামস্ট্রিং সমস্যার কারণে তার এই ম্যাচে না থাকার সম্ভাবনাই বেশি। এছাড়া জন স্টোনসও বর্তমানে মাঠের বাইরে আছেন। চেলসির বিপক্ষে ম্যাচে চোটে পড়া নিকো ও’রাইলি অনুশীলনে ফিরেছেন এবং স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন। তবে পা ভেঙে যাওয়ায় ইওস্কো গাভারদিওল এখনো দলের বাইরেই থাকছেন।
সিটি কোচের মনে ‘পা ফসকালেই সব শেষ’ হয়ে যাওয়ার ভয়। গানার কোচ দিয়েছেন একসাথে লড়ার ডাক। আরতেতা জানিয়েছেন, ২২ বছরের আক্ষেপ গুছানোর এটাই সেরা সময় আর্সেনালের। তিনি বলেন,
‘সাফল্যের এই আকাঙ্ক্ষাই সবার জন্য 'ভিটামিন' হওয়া উচিত। আমরা যা-ই করি না কেন, এই জেদটাই যেন আমাদের আরও ভালো করার প্রেরণা দেয়; যেন আমাদের ক্ষুধা আর ইচ্ছাশক্তি নেতিবাচক চিন্তার বদলে ইতিবাচক ড্রাইভিং ফোর্স হিসেবে কাজ করে।’
আরও পড়ুন
| হামজাকে দর্শকের আপত্তিকর মন্তব্য, প্রতিবাদ করায় পেলেন কার্ড |
|
বেশ আত্মবিশ্বাসী গার্দিওলা। সিটিজেন কোচ বলেন,
‘আমাদের আত্মবিশ্বাস এখন তুঙ্গে। আমরা প্রস্তুত। এক মাস আগেও যখন আমরা কিছু পয়েন্ট হারিয়েছিলাম, তখন ভেবেছিলাম হয়তো এবার আর লড়াইয়ে ফিরতে পারব না। কিন্তু সূচি দেখার পর আমরা নিজেদের বলেছিলাম। ঠিক আছে, ঘরের মাঠে আর্সেনালের বিপক্ষে একটি সুযোগ আমাদের সামনে আসবেই।’
আজকের ম্যাচিট একদিকে গানারদের দীর্ঘ দুই দশকের আক্ষেপ আর ইএফএল হারের ক্ষত মেটানোর তাড়না, অন্যদিকে হারানো সাম্রাজ্য পুনরুদ্ধারে সিটির মরিয়া অভিযান। ইতিহাদের এই রণক্ষেত্রে দিনশেষে হাসিটা কার মুখে ফোটে—আর্সেনালের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটে, নাকি সিটির দাপট বজায় থাকে—সে উত্তর দেবে সময়ই।