১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ৯:১৮ এম

রোমাঞ্চ, উত্তেজনা, বিতর্ক, নাটকীয়তা এমন সব শব্দও যেন অপ্রতুল হয়ে গেল। অবিশ্বাস্য আর নজিরবিহীন ঘটনার স্বাক্ষী হলো আফ্রিকা কাপ অব নেশনস (আফকন)। মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্যের মহারণের আগেই উত্তাপ ছড়ায় সেনেগালের অভিযোগে। শিরোপার মঞ্চে নেমে রেফারির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে সেনেগালের মাঠ ছাড়া, তারপর একজন আর্দশ নেতার ভূমিকায় অবর্তীণ হয়ে দলকে ফিরিয়ে আনা সাদিও মানে, মহাগুরুত্বপূর্ণ সময়ে মরক্কোর ফরোয়ার্ড ব্রাহিম দিয়াজের পেনাল্টি মিস, সবশেষ পাপ গেয়ির গোলে স্বাগতিকদের হতাশার মহাসমুদ্রে ভাসিয়ে সেনেগালের চ্যাম্পিয়ন হওয়া। আফ্রিকার সঙ্গে ফুটবলবিশ্ব দেখল এমনই এক মহাকাব্যিক ফাইনাল।
মরক্কোর রাজধানী রাবাতে নাটকীয়তার সব সীমা ছাড়িয়ে যাওয়া আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের ফাইনালে মরক্কোর বিপক্ষে ১-০ গোলের জয়ে চ্যাম্পিয়ন সেনেগাল। নির্ধারিত সময়ে গোলশূন্য সমতার পর অতিরিক্ত সময়ের চতুর্থ মিনিটে একমাত্র গোলটি করে আফকনে সেনেগালের দ্বিতীয় শিরোপা জয়ের নায়ক বনে যান ভিয়ারিয়ালের মিডফিল্ডার পাপ গেয়ি।
দ্বিতীয়বার আফকনের শিরোপা জিতল সেনেগাল। ২০২১ সালে সাদিও মানের দল প্রথমবার এই প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়। আর ১৯৭৬ সালে আফ্রিকার সেরা হওয়ার পর আর এই ট্রফি জেতা হলো না মরক্কোর। মাঝে ২০০৪ আসরের ফাইনালে তিউনিসিয়ার কাছে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয় মরক্কোর। এবার নিজেদেরে উঠানে ট্রফি জয়ের সবধরনের প্রস্তুতিই যেন সেরে নিয়েছিল আশরাফ হাকিমিরা। তবে তাদের পঞ্চাশ বছরের বেশি সময়ের অপেক্ষা আরও দীর্ঘই হলো।
ঘটনাবহুল ফাইনালের বর্ণনার শুরুটা ৯০ মিনিটের পর থেকেই করা যাক। প্রায় সমানতালে লড়ে যাওয়া মরক্কো-সেনেগাল গোলশূন্য থেকে নির্ধারিত সময় শেষ করে। অনেকেই তখন ধরে নিয়েছিলেন ম্যাচ গড়াচ্ছে অতিরিক্ত সময়ে। তবে যোগ করা সময়ের ৯৮ মিনিটে ঘটে বিপত্তি। পেনাল্টি পেয়ে যায় মরক্কো। মরক্কোর নেওয়া কর্নারে বল উড়ে যাচ্ছিল দূরের পোস্টে, সেখানেই ফাউলের শিকার হন রেয়াল মাদ্রিদ ফরোয়ার্ড দিয়াস।
রেফারি জ্যাঁ জাক নডালা ভিএআরের পরামর্শে সাইডলাইন মনিটরে গিয়ে রিপ্লে দেখে ব্রাহিম দিয়াজকে ফাউল করার দায়ে ডিফেন্ডার এল হাজি মালিক দিয়ুফের বিরুদ্ধে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন। আর রেফারির এই সিদ্ধান্তই শুরু হয় নাট্যমঞ্চের প্রথম পর্ব।
কিছুক্ষণ আগেই সেনেগালের একটি গোল বাতিল হওয়ায় ক্ষুব্ধ থাকা প্রধান কোচ পাপে থিয়াও নিজের খেলোয়াড়দের মাঠ ছাড়তে বলেন। সেনেগালের অর্ধেকের বেশি খেলোয়াড় মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে যায়। তবে তারপর দেশটির ‘নেশনাল হিরো’ মানে সবশেষ হয়ে যাওয়ার আগেই বুঝিয়ে শুনিয়ে ফিরিয়ে আনেন সতীর্থদের। প্রায় ১৭ মিনিটের বিরতির পর শেষ পর্যন্ত খেলোয়াড়রা আবার মাঠে ফেরেন।
রিয়াল মাদ্রিদের ফরোয়ার্ড দিয়াজ, যিনি পাঁচ গোল নিয়ে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা ছিলেন, তাকেই দেওয়া হলো পেনাল্টিতে গোল করার গুরুদায়িত্ব। তবে পুরো গ্যালারিকে থমকে দিয়ে একটি ‘পানেনকা’ শট নেন তিনি। রিয়ালের এই ফরোয়ার্ডের শট আটকাতে তেমন নড়ারই প্রয়োজন হয়নি সেনেগালের গোলকিপার এদুয়ার মেন্দির। এরপরই বাজল সঙ্গে পূর্ণ সময় শেষের বাঁশি।
এরপর অতিরিক্ত সময়ের ৪ মিনিটে সেনেগালের মিডফিল্ডার পাপে গেয়ের গোল করেন। ম্যাচের বাকি সময় আর কোনো নাটকের সূচনা না হওয়ায় শিরোপা নিশ্চিত হয়ে যায় ‘লায়ন্স অব তেরাঙ্গাদের’।
এর আগে শিরোপা পুনরুদ্ধারের স্বপ্নে বিভোর সেনেগালের প্রথম এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ আসে ৫ মিনিটে। সতীর্থের দারুণ একটি ক্রস গোলমুখে পেয়েও জালে পাঠাতে পারেননি পাপ গেয়ি। ৩৭ মিনিটে প্রথমার্ধের সেরা সুযোগটি পায় সেনেগাল। গোলকিপারকে একা পেয়ে যান ইলিমান; তবে তার কোনকুনি শট এগিয়ে এসে পা বাড়িয়ে আটকে দেন ইয়াসিন বোনো।
এর চার মিনিট পর দারুণ এক সুযোগ পায় মরক্কোও। কিন্তু বাঁ দিক থেকে ইসমায়েল সাইবারির দুর্দান্ত ক্রস ডি-বক্সে ফাঁকায় পেলেও, বলে মাথা ছোঁয়াতেই পারেননি নায়েফ।
প্রথমার্ধে গোলের জন্য মাত্র দুটি শট নেওয়া মরক্কো বিরতির পরের প্রথম ১৫ মিনিটে আরও চারটি শট নেয় কিন্তু এর কোনোটিই লক্ষ্যে ছিল না। ৫৮তম মিনিটে এল কাবির কাছ থেকে বাঁ পায়ের শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। পরের কয়েক মিনিটে আরও তিনবার শট নেয় মরক্কো, এবং প্রতিবারই লক্ষ্যভ্রষ্ট। ৬৭তম মিনিটে এক দুর্ঘটনারও শিকার হয় তারা; কর্নারে হেড করতে লাফিয়ে ওঠেন এল আইনাউই, প্রতিপক্ষের একজনের মাথায় লেগে চোখের ওপরের অংশে আঘাত পান তিনি, রক্তও ঝরে; কিন্তু হাল ছাড়েননি তিনি। মাঠেই কিছুক্ষণ চিকিৎসা নিয়ে, কপালে ব্যান্ডেজ বেঁধে খেলা চালিয়ে যান।
৮১ মিনিটে লক্ষ্যে প্রথম শট রাখতে সক্ষম হয় মরক্কো, তবে আব্দেলের দুর্বল ভলি সরাসরি যায় সেনেগারের গোলকিপারের গ্লাভসে। নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে ব্যবধান গড়ে দেওয়ার দারুণ সুযোগ তৈরি করে সেনেগাল; জোরাল কোনাকুনি শটে বোনোকে পরাস্ত করতে পারেননি ইব্রাহিম। খানিকটা পর ইদ্রিসা গেয়ির হেড পোস্টে লাগলে, ফিরতি বল হেডেই জালে পাঠান ইসমাইল সার; তবে গোল মেলেনি আগেই রেফারি ফাউলের বাঁশি বাজানোয়। এরপর পর ভরপুর নাটকীয়তার যোগ করা সময় আর পরিশেষে সেনেগালের স্বরণীয় চ্যাম্পিয়নের মুকুট পাওয়া।
No posts available.
১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৩৮ পিএম
১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:১০ পিএম
১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:২৬ পিএম

রিয়াল মাদ্রিদ, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও চেলসিতে কোচ পরিবর্তনের ঢেউয়ের আঁচ লেগেছে জার্মান ক্লাব আইনট্রাখট ফ্রাঙ্কফুর্টে। হেড কোচ দিনো টপমোলারের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে বুন্দেসলিগার দলটি।
রবিববার এক বিবৃতিতে টপমোলারের বিদায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে ফ্রাঙ্কফুর্ট। ৪৫ বছর বয়সী এই জার্মান কোচ ২০২৩ সালে ক্লাবটির দায়িত্ব নিয়েছিলেন। গত বছরই তাঁর চুক্তির মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৮ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত করা হয়েছিল।
তবে বুন্দেসলিগায় ভের্ডার ব্রেমেনের বিপক্ষে ৩–৩ গোলের ড্রয়ের পর পরিস্থিতি দ্রুত পাল্টে যায়। ম্যাচের পর ক্লাব কর্তৃপক্ষের সঙ্গে অভ্যন্তরীণ মতানৈক্যে জড়িয়ে পড়েন টপমোলার। সেই মনোমালিন্যের জেরেই শেষ পর্যন্ত চাকরি হারাতে হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ফ্রাঙ্কফুর্টের ক্রীড়া-বিষয়ক বোর্ড সদস্য মার্কুস ক্রোশে এক বিবৃতিতে বলেন,
“টপমোলার ফ্রাঙ্কফুর্টকে ধারণ করেন। দারুণ নিষ্ঠা ও উদ্দীপনা নিয়ে তিনি প্রতিদিন ক্লাবের জন্য কাজ করেছেন।”
বিদায়ের পর প্রতিক্রিয়ায় টপমোলার বলেন,
“আমি এই দলের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যেতে এবং সামনে আসা চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করতে খুবই আগ্রহী ছিলাম। তবে আমি ক্লাবের এই সিদ্ধান্ত মেনে নিচ্ছি।”
কোচ ছাঁটাইয়ের পরপরই নতুন কোচ খোঁজে নেমেছে ফ্রাঙ্কফুর্ট। জার্মান সংবাদমাধ্যম বিল্ড জানিয়েছে, সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে আলোচনার জন্য রিয়াল মাদ্রিদ থেকে সদ্য বিদায়ী কোচ জাবি আলোনসোর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছে ক্লাবটি।
বিল্ডের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, চ্যাম্পিয়নস লিগে ছয় ম্যাচে মাত্র একটি জয় পাওয়ায় দ্রুত পরিবর্তনের পথে হাঁটছে ফ্রাঙ্কফুর্ট। নতুন কোচের তালিকায় এদিন টেরজিক, মার্কো রোসা ও রজার শ্মিটের নাম থাকলেও, ক্লাবটির মূল লক্ষ্য আলোনসোকে আবার জার্মান ফুটবলে ফিরিয়ে আনা।
২০২৬ সালে এখনও জয়ের দেখা পায়নি ফ্রাঙ্কফুর্ট। বুন্দেসলিগায় তাদের অবস্থান সাতে। ১৮ ম্যাচে তারা গোল হজম করেছে ৩৯টি। সবকিছু মিলিয়েই টপমোলারের সঙ্গে খারাপ সম্পর্ক যাচ্ছিল ফ্রাঙ্কফুর্টের।

ঘোষণা এসেছিল সাদিও মানের মুখ থেকেই। আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের (আফকন) সেমিফাইনালে মিসরের বিপক্ষে জয়ের পর সেনেগাল রাইট উইঙ্গার জানিয়েছিলেন এটাই তাঁর শেষ আফকন। এরপর আর লাইন্স অব তেরাঙ্গাদের হয়ে মাঠে না নামার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন ৩৩ বছর বয়সী মানে।
সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আজ বাংলাদেশ সময় রাত একটায় আয়োজক মরক্কোর বিপক্ষে জাতীয় দলের জার্সিতে শেষ ম্যাচ খেলবেন মানে। তবে দেশটির ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি পেপে থিয়াও জানিয়েছেন, তিনি সাবেক লিভারপুল উইঙ্গারকে অনুরোধ করেছেন বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করতে। তিনি বলেছেন, ‘আল নাসর তারকা তাঁর সিদ্ধান্ত পূর্নবিবেচনা করবেন এবং আফ্রিকাকে রিপ্রেজেন্ট করবেন।’
রবিবার আফকন ফাইনালের আগে থিয়াগো বলেছেন,
‘‘তাঁর (মানে) এ সিদ্ধান্তের সঙ্গে দেশের কেউ একমত নয়, আমিও একমত নই। আমরা চাই তাঁকে যতদিন সম্ভব আমাদের সঙ্গে রাখতে। সে শুধু সেনেগালের নয়—আফ্রিকা ও গোটা বিশ্বের প্রতিনিধিত্ব করে। যখন বলা হয় এটা তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত, তখন মনে রাখতে হবে—সে শুধু নিজের নয়, সে সেনেগালের মানুষেরও। আর মানুষ চায়, সে যেন খেলা চালিয়ে যায়।’’
‘তাঁর দৃষ্টান্ত আমাদের দেশের জন্য খুবই দরকার। তাঁর নম্রতা, শিক্ষা, সেনেগালের জন্য তাঁর ঘাম ঝরানো—সবই শিক্ষণীয়। ২০২২ বিশ্বকাপে দলকে তুলতে সে নিজের সবটা দিয়েছে। আফ্রিকা কাপ জিতে সেনেগালকে প্রথম তারকা এনে দিতে সে জীবন উজাড় করে দিয়েছে।– যোগ করেন তিনি।
সেনেগাল ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি জানান, তাকে যদি কোনো কাগজে সই করে তাকে যেতে দেওয়ার অনুমতি দিতে বলা হতো, আমি বলতাম—‘না’। তাঁর সতীর্থরাও বলত—‘না’।’’
সেনেগালের মিডফিল্ডার পাপে গেইও থিয়াওয়ের কথার সঙ্গে একমত পোষণ করে বলেন,
“আমরা চেষ্টা করব তাঁকে আরও কিছুদিন আমাদের সঙ্গে রাখতে, কারণ তাঁর দেওয়ার মতো এখনও অনেক কিছু বাকি। আমি শুনেছি সে কী বলেছে, এখন দেখা যাক সে কী সিদ্ধান্ত নেয়। তবে আমরা সত্যিই চাই, সে আরও অনেক বছর আমাদের সঙ্গে থাকুক।”
২০২১ সালে সেনেগালকে প্রথম আফকন জিতিয়েছিলেন মানে। তার নেতৃত্বে আরেকটি ফাইনালের আগে সেনেগাল। মানের পূর্ণ নজর ট্রফির প্রতি। ম্যাচের আগে বলেন, ‘আমরা জানি ফাইনাল কিভাবে খেলতে হয়। ফাইনাল তো জেতার জন্যই হয়।’

২০২৫-২৬ মৌসুমের দ্বিতীয় ‘ম্যানচেস্টার ডার্বি’ ২-০ গোলে জিতেছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দু’দলের ম্যাচ শেষ হলেও রেষ কিন্তু রয়েছে। আর্জেন্টাইন সেন্টারব্যাক লিসান্দ্রো মার্তিনেজকে নিয়ে ম্যান ইউনাইটেডের ইতিহাসের অন্যতম সেরা মিডফিল্ডার—পল স্কোলস ও নিকি বাটের মন্তব্য নিয়ে চলছে জোর আলোচনা।
ডার্বির আগে ‘দ্য গুড, দ্য বেড এন্ড দ্য ফুটবল’ পডকাস্টে অংশ নিয়ে বাট বলেছিলেন,
‘নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকার আর্লিং হলাল্ডের যে উচ্চতা, সে তাঁর শারীরিক আকারের কারণে সম্ভবত মার্তিনেজকে হাতে নিয়ে দৌড়াবে।’
বাটের কথার সঙ্গে তাল মেলান স্কোলস। তিনি বলেছিলেন,
‘‘হ্যাঁ, হলান্ডের যে উচ্চতা (৬ ফুট ৬ ইঞ্চি), সে নিশ্চিত ৫ ফুট ৯ ইঞ্চি উচ্চতার মার্তিনেজকে ‘নেটে ছুঁড়ে ফেলে দেবে’।’’
বাট-স্কোলসের মন্তব্য অবশ্য ভুল প্রমাণ করেন ২৮ বর্ষী আর্জেন্টাইন সেন্টারব্যাক। ৯০ মিনিট মাঠে থেকে হলান্ডকে মার্কে রাখেন তিনি। সুযোগ দেননি আক্রমন গড়ে তোলার। যার ফল শেষ পর্যন্ত পেয়েছে রেড ডেভিলরা।
ম্যাচ শেষে অবশ্য ক্লাবের সাবেক দুই কিংবদন্তির মন্তব্য নিয়ে মুখ খুলেছেন লিসান্দ্রো। সাংবাদিকদের তিনি জানিয়েছেন, ম্যাচের আগে সাবেকদের এমন মন্তব্য তাঁকে আরও উৎসাহ জুগিয়েছে।
লিসান্দ্রো প্রথমে স্কোলসকে উদ্দেশ্য করে বলেন,
‘সত্যি বলতে, তিনি তা বলতেই পারেন। আমি তাকে আগেও বলেছি, যদি কিছু বলতে চান, সরাসরি যেকোনো জায়গায় এসে বলতে পারেন— হতে পারে সেটা আমার বাড়ি কিংবা আপনার যেখানে খুশি। আমি এসবের পাত্তা দিই না।’
যারা ক্লাবকে সাহায্য করেন, তাদের সবসময়ই সম্মান করেন লিসান্দ্রো। তিনি বলেন,
‘যারা ক্লাবের জন্য সাহায্য করতে চায়, তাদের প্রতি আমি সম্মান দেখাই। সবাই টেলিভিশনে এসব বলে, কিন্তু যখন সামনে আসে, তখন কেউ কিছু বলে না।’
সর্বোপরি, আর্জেন্টাইন সেন্ট্রারব্যাক যোগ করেন,
‘তারা যা বলছে তা নিয়ে মাথা ঘামাই না। আমি আমার পারফরম্যান্স, দলের পারফরম্যান্সে মন দিই এবং শেষ দিন পর্যন্ত এই ক্লাবের জন্য লড়ে যাব।’
মার্তিনেজের উক্তি সামাজিক মাধ্যমে আসার পরে, স্কোলস প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। ইনস্টাগ্রামে এই কিংবদন্তি লিখেছেন,
‘কেউ ভালো খেলেছে, সত্যিই তোমার জন্য খুশি… চা চাই, তবে চিনি নয়।”

সাফ ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপে নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে প্রথম জয়ের স্বাদ পেল বাংলাদেশ। থাইল্যান্ডের ব্যাংককের ননথাবুরি হলে আজ রোববার ভুটানকে ৪-১ গোলে হারিয়ে টুর্নামেন্টে টিকে থাকার আশা বাঁচিয়ে রাখল সাঈদ খোদারাহমির দল।
বাংলাদেশের হয়ে জোড়া গোল করেছেন ফরোয়ার্ড মঈন আহমেদ। ম্যাচ শেষে জাতীয় ফুটসাল দলের এই খেলোয়াড় বলেন,
'আগের দুই ম্যাচে আমরা ভাল খেলতে পারিনি। কিছু ভুল ছিল দ, সেসব শুধরে আমরা কোর্টে নেমেছিলাম। আলহামদুলিল্লাহ দারুণ একটা জয় পেয়েছি। সামনে আমাদের আর তিনটি ম্যাচ আছে, সেই ম্যাচগুলোতে জয় ছিনিয়ে আনতে চাইবো।'
এদিন ম্যাচ শুরুর আগে শৃঙ্খলার অভিযোগে স্কোয়াড থেকে বাদ পড়েন সহ-অধিনায়ক ইনতিশার মোস্তফা। তবে তাঁর অভাব ম্যাচে পড়েনি।
শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে থাকা বাংলাদেশ পঞ্চম মিনিটেই এগিয়ে যায়। সতীর্থের বাড়ানো লং পাস থেকে ট্যাপে বল জালে জড়ান মঈন। দশম মিনিটে আবারও উচ্ছ্বাসে ভাসান তিনি। প্রতিপক্ষের ভুলের সুযোগ নিয়ে বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে দ্বিগুণ করেন ব্যবধান। ২-০ গোলে এগিয়ে থেকে তাই প্রথমার্ধ শেষ করে বাংলাদেশ।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই গোল শোধে মরিয়া হয়ে ওঠে ভুটান। ২৯ মিনিটে একটি দুরূহ কোণ থেকে গোল করে ব্যবধান ২-১ করে তারা। যা কিছুটা হলেও শঙ্কা তৈরি করেছিল। একটু পর প্রতিপক্ষের একটি জোরালো শট আটকে বাংলাদেশের ত্রাতা গোলকিপার জাহিদ হাসান বাপ্পী। রক্ষণের ভুলে একটি শট নিজেদের ক্রসবারে লেগে ফিরে আসলে স্বস্তির নিশ্বাস পায় বাংলাদেশ।
ম্যাচের শেষ পাঁচ মিনিটে সব অনিশ্চয়তা দূর হয় যায়। এক মিনিটের ব্যবধানে ফয়সাল হোসেন গোলমুখ থেকে প্লেসিং শটে এবং রাহবার ওয়াহেদের পাস থেকে ইব্রাহিম আহমেদ লক্ষ্যভেদ করলে ৪-১ ব্যবধানের বিশাল জয় নিশ্চিত হয়।
৩ ম্যাচ শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৪ পয়েন্ট। আগামী মঙ্গলবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলবেন রাহবার-মঈনরা। মেয়েদের সাফে কাল নেপালের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।

অনূর্ধ্ব-১৭ জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপের জোনাল ফাইনাল নির্ধারিত সময় শেষ হয় ১-১ গোলে।এরপর টাইব্রেকারে ৫-৪ ব্যবধানে ঢাকা জেলা দলকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হয় রাজবাড়ী।
রোববার রাজবাড়ী জেলা স্টেডিয়ামে হওয়া ম্যাচে প্রথম গোল করে এগিয়ে যায় ঢাকা। তবে স্বাগতিকরা দ্রুতই সমতায় ফেরে। নির্ধারিত সময়ে দুই দলই আর কোনো গোল করতে পারেনি। ফলে ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে, যেখানে রাজবাড়ী দল দৃঢ়তা ও দক্ষতার পরিচয় দিয়ে জয় নিশ্চিত করে।
দারুণ পারফরম্যান্সের জন্য রাজবাড়ী দলের শাহিন ম্যাচসেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন।
ফাইনাল ম্যাচে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সংশ্লিষ্ট কমিটির সদস্য ছাইদ হাসান কানন।