
ফিফা বিশ্বকাপের ড্র এমন একটি ইভেন্ট, যা চার বছর পরপর একবার আসে। ফুটবল–সমর্থকদের মধ্যেও বড়সড় প্রভাব ফেলে এটি। কারণ ড্র–ই ঠিক করে দেয় কোন দলের সামনে কেমন পথ অপেক্ষা করছে।
আয়োজক
রেকর্ড ৪৮ দল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে হবে ফিফা ২০২৬ বিশ্বকাপ। কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বী আর দুর্বল দলগুলোকে আলাদা করে ছড়িয়ে দিতে এই ড্রয়ে কিছু নতুন নিয়মও যুক্ত হয়েছে।
ড্র শুরুর আগে যা জানা দরকার ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ড্র কবে, কোথায়
আগামী শুক্রবার ৫ ডিসেম্বর, বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় ড্র অনুষ্ঠান শুরু হবে। স্থান- যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসির জন এফ কেনেডি সেন্টার ফর দ্য পারফর্মিং আর্টস।
বিশ্বকাপ ড্র কীভাবে কাজ করে?
ড্র শুরু হবে পট–১ দিয়ে। পট থাকবে মোট ৪টি। প্রত্যেক পটে ১২টি প্লাস্টিক বল থাকবে। আর প্রত্যেক বলে কাগজে লেখা একটি করে দলের নাম। ১২টি করে চার পটে মোট ৪৮ দল।
পটের বলগুলো প্রতিনিধিরা মেশাবেন। প্রতিটি পট থেকে একটি করে বল (দল) তোলা হবে, আর গ্রুপে বসানো হবে। ‘এ’ থেকে ‘এল’ পর্যন্ত ১২টি গ্রুপ। প্রত্যেক পট থেকে একটি দল সব গ্রুপে জায়গা পাবে। এভাবে ৪ দল নিয়ে একটি গ্রুপ হবে।
পট নির্ধারণেও আছে নিয়ম
ড্র শুরু হবে পট–১ দিয়ে। ফিফা নির্ধারিত ১২টি শীর্ষ বাছাই দল থাকবে ১ নম্বর পটে। সেখান থেকে গ্রুপ ‘এ’ থেকে ‘এল’ পর্যন্ত রাখা হবে একটি করে দল।
র্যাংকিংয়ের শীর্ষ চার দল থাকবে ১ নম্বর পটে- স্পেন, আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড। পরের পাঁচ সেরা দল- বেলজিয়াম, ব্রাজিল, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, পর্তুগাল। তাদের সঙ্গে থাকবে তিন স্বাগতিক দেশ- কানাডা, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্র।
তারপর যথাক্রমে পট–২, ৩ ও ৪ থেকে দল ওঠানো হবে।
বাকি আরও ছয় দল
বিশ্বকাপের মূলপর্ব নিশ্চিত করেছে ৪২টি দল। আগামী বছরের মার্চে ২২ দলের প্লে-অফ শেষে বাকি ছয় দলের টিকিট নিশ্চিত হবে।
ইউরোপ ব্যতীত দুই দল থাকবে না একই কনফেডারেশনের
কোনো গ্রুপে একই কনফেডারেশনের দুই দল থাকবে না। ব্যতিক্রম হলো ইউয়েফা। ১৬টি ইউরোপীয় দল থাকায় প্রত্যেক গ্রুপে সর্বোচ্চ দুটি ইউরোপীয় দল থাকতে পারবে।
আগেই নির্ধারিত হয়েছে তিন স্বাগতিক দেশের গ্রুপ
মেক্সিকো— গ্রুপ ‘এ’
কানাডা— গ্রুপ ‘বি’
যুক্তরাষ্ট্র— গ্রুপ ‘ডি’
১ নম্বর পটে রয়েছে স্বাগতিক তিন দল। বাকি ৯টি দল নয় গ্রুপে রাখা হবে।
শীর্ষ দলগুলো কবে মুখোমুখি হতে পারে
২০২৬ বিশ্বকাপ ড্র শীর্ষ চার দলকে— স্পেন, আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, ইংল্যান্ডকে বিশেষ সুবিধা দিচ্ছে। টেনিস–স্টাইল ব্র্যাকেট অনুযায়ী চার দলকে আলাদা সেকশনে রাখা হবে। ফিফা বলেছে, যদি এই চার দল গ্রুপে প্রথম হয়, সেমিফাইনালের আগে দেখা হবে না তাদের।
লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা ও লামিন ইয়ামালের স্পেনের মধ্যে ফাইনালের আগে মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
৪৮ দলের কোন দল কোন পটে
পট-১: কানাডা, মেক্সিকো, যুক্তরাষ্ট্র, স্পেন, আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড, ব্রাজিল, পর্তুগাল, নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম, জার্মানি।
পট-২: ক্রোয়েশিয়া, মরক্কো, কলম্বিয়া, উরুগুয়ে, সুইজারল্যান্ড, জাপান, সেনেগাল, ইরান, দক্ষিণ কোরিয়া, ইকুয়েডর, অস্ট্রিয়া, অস্ট্রেলিয়া।
পট-৩: নরওয়ে, পানামা, মিশর, আলজেরিয়া, স্কটল্যান্ড, প্যারাগুয়ে, তিউনিসিয়া, আইভরি কোস্ট, উজবেকিস্তান, কাতার, দক্ষিণ আফ্রিকা
পট ৪: জর্ডান, কেপ ভার্দে, কুরাসাও, ঘানা, হাইতি, নিউজিল্যান্ড, ইউরোপীয় প্লে–অফ বিজয়ী এ, বি, সি, ডি, আন্তঃমহাদেশীয় প্লে–অফ বিজয়ী ১ ও ২।
বিশ্বকাপ ড্র বয়কটের ঘোষণা ইরানের
ইরান বিশ্বকাপ ড্র বয়কট করেছে। যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রতিনিধিদলের সদস্যদের ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে— শুক্রবার এ তথ্য জানিয়েছে ইরনার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা।
ইরানের ফুটবল ফেডারেশনের মুখপাত্র আমির-মাহদি আলাভির বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ক্রীড়াগত বিষয় ছাড়িয়ে যাওয়া বিভিন্ন ভিসা–বাধার মুখে পড়তে হয়েছে কর্মকর্তাদের।
হোয়াইট হাউস কোনো মন্তব্য করেনি। আলাভি জানিয়েছেন, ফেডারেশন ফিফার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে সমস্যার সমাধান আশা করে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন জুনে ১২ দেশের নাগরিকদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছিল, যার মধ্যে ইরানও আছে। তবে বড় ক্রীড়া ইভেন্ট বিশ্বকাপ, অলিম্পিক ইত্যাদির জন্য অ্যাথলেট, কোচ বা প্রয়োজনীয় সদস্যদের বিশেষ ছাড়ের কথা বলা হয়েছিল। এই ছাড় ড্রয়ের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য কি না, তা পরিষ্কার নয়।
কীভাবে দেখবেন বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠান
২০২৬ বিশ্বকাপ ড্র সরাসরি দেখানো হবে ‘ফিফা ডটকম ‘এবং ফিফা বিশ্বকাপের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোতে। ফিফার মিডিয়া পার্টনাররাও ড্র সম্প্রচার করবে।
No posts available.
২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৮:৪৪ পিএম
২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৬:৪৮ পিএম

রিয়াল মাদ্রিদের বাজে সময়ের সুযোগ লুফে নিয়ে চমকে দেয় আলবাসেত। ইউরোপের সবচেয়ে সফল ক্লাবটিকে ৩-২ গোলে হারিয়ে ইতিহাস গড়ে স্পেনের দ্বিতীয় সারির ক্লাবটি। কোপা দেল’রের শেষ ষোলোতে সেই জয়ের পর এবার ক্লাবটির সামনে আরেক স্প্যানিশ জায়ান্ট বার্সেলোনা। পঁচা শামুকে পা কাটা থেকে বাঁচতে বেশ সতর্ক বার্সা কোচ হান্সি ফ্লিক।
আগামীকাল বাংলাদেশ সময় রাত দু’টায় নিজেদের মাঠে বার্সাকে আতিথেয়তা দেবে আলবাসেত। কোয়ার্টার ফাইনালে এক লেগের এই ম্যাচে চমকে দেওয়া প্রতিপক্ষের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে ফ্লিক জানালেন, এই প্রতিযোগিতায় খেলতে নাকি ভালোই লাগে বার্সা কোচের। তুলনামূলক ছোটো ক্লাবগুলো কোপা দেল’রেতে প্রায়ই অঘটন ঘটিয়ে দেয়। আর চমকপ্রদ এই ফলই টুর্নামেন্টের সবচেয়ে ভালো দিক বলেই মনে করেন কাতালান ক্লাবটির কোচ।
অবশ্য নিজেদের বিপক্ষে কোনো চমক নিশ্চয়ই চাইবেন না ফ্লিক। ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন,
‘আমরা সবসময় প্রতিপক্ষ বিশ্লেষণ করি। তাদের খেলার ধরণ, স্টেডিয়াম অনুযায়ী নিজেদের মানিয়ে নিতে হবে, এবং সঠিক মনোভাব ও মানসিকতা নিয়ে মাঠে নামতে হবে। আমাদের শতভাগ ফোকাস থাকা জরুরি।’
ম্যাচের আগে একাদশ নিয়ে তেমন কোনো ইঙ্গিত দেননি ফ্লিক। তবে সতর্ক করলেন যাতে রিয়াল মাদ্রিদের ভুল না হয়, ‘আমাদের মিনিট ম্যানেজ করতে হবে। তবে কে শুরু করবে এবং কে নয়, তা আমি বলছি না।’ ড্রেসিং রুমের পরিবেশ নিয়ে তাঁর মন্তব্য স্পষ্ট,
‘আমারা মানসিকভাবে চমৎকার অবস্থায় আছি। এই দলে জায়গা পাওয়া সহজ নয়। এগারো জন শুরু করবে, আর পাঁচজন শেষ করবে, যারা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রত্যেককে প্রস্তুত থাকতে হবে যখন তাদের সময় আসবে।’
মৌসুমের মাঝামাঝি সময়ে বেশ ছন্দেই আছে বার্সা। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে শীর্ষ আটে থেকে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে তারা। লা লিগায় আছে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে। নিয়মিত গোল পাচ্ছে ক্লাবটির ফরোয়ার্ডরা। দলের মধ্যে এমন রসায়নের প্রশংসা ঝরে পড়েছে ফ্লিকের কণ্ঠে,
‘আমাদের দারুণ খেলোয়াড় আছে। দলের মধ্যে পরিবেশ অসাধারণ। তারা সতীর্থ এবং বন্ধু। আমি সবাইকে নিয়ে খুশি। ডেকো চমৎকার কাজ করছেন এবং ভবিষ্যতের জন্য খেলোয়াড় ধরে রাখার বিষয়ে কাজ চালিয়ে যাবেন।’
তবে এই ম্যাচের আগে বার্সার জন্য একমাত্র দুঃসংবাদ রাফিনিয়ার চোট। এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে রাফিনিয়াকে হারানো তাদের জন্য বড় ধাক্কা। গত সপ্তাহে এলচের বিপক্ষে লা লিগার ম্যাচে মাঝপথে মাঠ ছাড়তে হয় তাঁকে। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম দিয়ারিও এএস জানিয়েছে, ডান পায়ের অ্যাডাক্টরে অস্বস্তি অনুভব করায় আলবাসেতের বিপক্ষে তাকে বিশ্রামে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্লাব। যদিও পরীক্ষায় বড় কোনো চোট ধরা পড়েনি, তবু ঝুঁকি নিতে চায় না বার্সেলোনা।
রাফিনিয়ার চোট নিয়ে ফ্লিক বলেন,
‘আমি তার চোট নিয়ে খুশি নই। আমাদের দেখতে হবে কী পরিবর্তন করতে হবে। আমরা একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে আছি এবং তার প্রয়োজন আছে। সে খেলতে পারছে না, এটা আমাদের জন্য ভালো কিছু নয়।’

ব্রাজিলের ক্লাব ফ্লামেঙ্গোর ফুটবলার জর্জে কারাস্কাল স্বাক্ষী হলেন বিরল এক ঘটনার। প্রতিপক্ষের এক খেলোয়াড়কে ম্যাচের প্রথামার্ধে ফাউল করেছিলেন তিনি। তবে মজার বিষয় হলো তাৎক্ষণিকভাবে তাকে কার্ড দেখাননি রেফারি। দ্বিতীয়ার্ধে ভিএআর দেখে তারপর তাকে লাল কার্ড দেখান রেফারি।
গতকাল রাতে ব্রাজিলিয়ান সুপার কাপের ফাইনালে ফ্লামেঙ্গোর মুখোমুখি হয়েছিল করিন্থিয়ান্স। ব্রাজিলের রাজধানী ব্রাসিলিয়ায় মানে গারিঞ্চা স্টেডিয়ামে ম্যাচটি ২-০ গোলে জিতে চ্যাম্পিয়ন হয় করিন্থিয়ান্স। কিন্তু ফল ছাপিয়ে ব্রাজিলিয়ান সুপার কাপের এই ম্যাচটিতে আলোচনায় ফ্লামেঙ্গোর খেলোয়াড়ের লাল কার্ড দেখা নিয়েই।
‘বিস্ময়কর’ লাল কার্ডের সিদ্ধান্ত আসে যখন করিন্থিয়ান্সের-এর খেলোয়াড়রা বিরতির ঠিক আগে কারাস্কালের বিরুদ্ধে ব্রেনো বিডনের মুখে কনুই মারা হয়েছে বলে তীব্র অভিযোগ জানায়। এই ঘটনার পর, করিন্থিয়ান্সের মিডফিল্ডার বিডন কয়েক মিনিট মাঠে পড়ে থাকে, তার সতীর্থরা ভিএআরের আবেদন করলেও তখন সাড়া দেননি রেফারি। এই ঘটনার সমাধান হয়ে গেছে ধরে নিয়েই উভয় দল বিরতিতে ড্রেসিং রুমে ফিরে যায়।
কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে খেলোয়াড়রা মাঠে ফিরে আসার পর, রেফারি রাফায়েল ক্লেইন ভিএআরের দিকে এগিয়ে যান এবং শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নেন যে ফাউল হয়েছে। ফলে কলম্বিয়ান মিডফিল্ডার কারাস্কালকে রেড কার্ড দেখানো হয়, যা রীতিমতো হতবাক করে দেয় ফ্লামেঙ্গোর খেলোয়াড়দের।
রেফারির এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ফ্লামেঙ্গোর খেলোয়াড়রা তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে। ভিএআরে রিভিউ প্রথমার্ধেই হওয়া উচিত ছিল বলে দাবি করেন তারা। প্রথমার্ধে ১-০ গোলে এগিয়ে থাকা করিন্থিয়ান্স শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে দশজনের ফ্লামেঙ্গোর জালে আরেক দফা বল পাঠিয়ে জয় নিশ্চিত করে। প্রথম গোলটি গ্যাব্রিয়েল পাউলিস্তা আর গোলটি আসে ইউরি আলবার্তোর নৈপুণ্যে।
Crazy scenes in the Supercopa do Brasil final! 😱😱
— Premier Sports (@PremSportsTV) February 1, 2026
The second half begins with a red card for Flamengo's Jorge Carrascal after a VAR review for an incident from the end of the FIRST half 🟥 pic.twitter.com/Q1lNdJYXmz
ম্যাচ শেষে রেফারির লাল কার্ড দেওয়ার এমন ঘটনাকে ‘নজিরবিহীন বলেন কোচ ফিলিপে লুইস। ফ্লামেঙ্গোর কোচ বলেন,
‘এটা আমার জীবনে কখনো দেখিনি। আমি জানি না কোথাও এমন ঘটনা ঘটেছে কি না। খেলোয়াড়রা মাঠে অপেক্ষা করছিল এবং প্রথামার্ধ শেষে ড্রেসিং রুমে চলে গেছে, ধরে নিয়েই যে ওই ঘটনার রিভিউ হয়ে গেছে। আমরা পুরো পরিকল্পনা ছিল ম্যাচটি ১১ বনাম ১১ থেকে, তারপর এমন ঘটনা ঘটলো… আমি হারার জন্য অজুহাত দিচ্ছি না, কিন্তু এ ধরনের ঘটনা আগে কখনো দেখিনি।’
এই ঘটনায় ব্রাজিলিয়ান ফুটবল ফেডারেশন (সিবিএফ) এই অপ্রত্যাশিত দেরির জন্য বিদ্যুৎজনীত সমস্যাকে দোষারোপ করেছে। সিবিএফ জানিয়েছে, দ্বিতীয়ার্ধের সময় স্টেডিয়ামের কয়েকটি সেক্টরে বিদ্যুৎ চলে যায়, যার মধ্যে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্টঅফিসের রুমও ছিল, যা দ্বিতীয়ার্ধের বড় অংশে কার্যকর ছিল না। এক বিবৃতিতে তারা লিখেছে,
‘প্রাথমিকভাবে, উপলব্ধ ভিডিও ফুটেজ নিশ্চিত প্রমান দেয়নি, তাই প্রথমার্ধ স্বাভাবিকভাবে শেষ হয়েছে। প্রক্রিয়াগুলো চলাকালীন, নতুন করে পর্যালোচনায় অনিয়ম স্পষ্টভাবে শনাক্ত হয়, যা রিভিউ করার সুপারিশ দেয়, যাতে রেফারি খেলোয়াড়কে লাল কার্ড দেখাতে পারেন।’

২০২৫–২৬ মৌসুমে তৃতীয়বারের মতো চোটে পড়লেন জুড বেলিংহাম। মাসল ইনজুরির কারণে এর আগে ৬৩ দিন মাঠের বাইরে থাকা ইংলিশ মিডফিল্ডার এবার হ্যামস্ট্রিং চোটে ছিটকে গেলেন প্রায় এক মাসের জন্য।
লা লিগায় রায়ো ভায়েকানোর বিপক্ষে সবশেষ ম্যাচের দশম মিনিটেই অস্বস্তিতে পড়েন বেলিংহাম। হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট নিয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন তিনি। ম্যাচ শেষ হওয়ার পর হাসপাতালের বিছানায় ঠাঁই হয় রিয়াল মাদ্রিদের এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডারের। স্বাভাবিকভাবেই তাঁর অবস্থা নিয়ে শঙ্কা ছড়িয়ে পড়ে দ্রুত।
শঙ্কাই সত্য হয়েছে। তৃতীয়বারের মতো বেলিংহামের সামনে বাধা হয়ে দাঁড়াল চোট। লা লিগায় টাইটেল রেসের মাঝপথে আরও একবার আলভারো আরবেলোয়া হারাচ্ছেন তার বিশ্বস্ত সেনাপতিকে।
এখনো পর্যন্ত বেলিংহাম কতদিন মাঠের বাইরে থাকবেন বা কবে নাগাদ দলে ফিরবেন—এ বিষয়ে রিয়াল আনুষ্ঠানিকভাবে নির্দিষ্ট সময় জানায়নি। তবে ক্লাবের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিবৃতিতে তাঁর চোটের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, রায়ো ভায়েকানোর বিপক্ষে ম্যাচেই ইনজুরিতে পড়েছেন দলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য এই মিডফিল্ডার।
রিয়াল-ভিত্তিক ক্রীড়া সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, কমপক্ষে তিন থেকে চার সপ্তাহ মাঠের বাইরে থাকতে হতে পারে ২২ বছর বয়সী বেলিংহামকে। এই সময়ের মধ্যে ভ্যালেন্সিয়া, রিয়াল সোসিয়েদাদ, বেনফিকা, ওসাসুনা ও গেতাফের বিপক্ষে ম্যাচগুলোতে তাঁর খেলা অনিশ্চিত বলেই ধরা হচ্ছে।
রিয়ালের চোটের তালিকায় এদার মিলিতাওয়ের সঙ্গে এবার যুক্ত হলেন বেলিংহামও। ব্রাজিলিয়ান এই ডিফেন্ডার পেশির চোটের কারণে অন্তত আরও দুই মাস মাঠের বাইরে থাকবেন। স্বস্তির খবরও আছে—ধীরে ধীরে দলে ফিরছেন গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন খেলোয়াড়। স্কোয়াডে ফেরার পথে রয়েছেন আন্তোনিও রুডিগার, ফেরলাঁ মঁদি এবং ট্রেন্ট আলেকজান্ডার-আর্নল্ড।

কোপা দেল রে কোয়ার্টার ফাইনালের আগে বড় দুঃসংবাদ পেয়েছেন বার্সেলোনা কোচ হান্সি ফ্লিক। চোটে আলবাসেতের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে খেলতে পারবেন না দলের ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড রাফিনিয়া।
আগামী কাল এস্তাদিও কার্লোস বেলমন্তেতে কোপা দেল রের শিরোপা ধরে রাখার মিশনে আলবাসেতের মুখোমুখি হবে বার্সেলোনা। দ্বিতীয় বিভাগ সেগুন্দার দল আলবাসেতে আগের রাউন্ডে রিয়াল মাদ্রিদকে বিদায় করেছে। ফলে ম্যাচটি যে কঠিন হতে যাচ্ছে, তা ভালোভাবেই জানে কাতালানরা।
এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে রাফিনিয়াকে হারানো বার্সেলোনার জন্য বড় ধাক্কা। গত সপ্তাহে এলচের বিপক্ষে লা লিগার ম্যাচে মাঝপথে মাঠ ছাড়তে হয় তাঁকে। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম দিয়ারিও এএস জানিয়েছে, ডান পায়ের অ্যাডাক্টরে অস্বস্তি অনুভব করায় আলবাসেতের বিপক্ষে তাকে বিশ্রামে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্লাব। যদিও পরীক্ষায় বড় কোনো চোট ধরা পড়েনি, তবু ঝুঁকি নিতে চায় না বার্সেলোনা।
রাফিনিয়ার ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে আগামী সপ্তাহে। ক্যাম্প ন্যুতে মায়োর্কার বিপক্ষে ম্যাচে তাকে দেখা যেতে পারে। তবে সেটি নির্ভর করবে সপ্তাহের শেষ দিকে তিনি অনুশীলনে ফিরতে পারেন কি না, তার ওপর।
রাফিনিয়ার অনুপস্থিতিতে আক্রমণভাগে সুযোগ পাচ্ছেন মার্কাস রাশফোর্ড। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড থেকে ধারে আসা এই ফরোয়ার্ড এলচের বিপক্ষে ম্যাচে দ্বিতীয়ার্ধে নেমে গোল করে বার্সেলোনার ৩-১ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করেছিলেন। ফলে আলবাসেতের বিপক্ষেও একাদশে থাকার সম্ভাবনা তাঁরই বেশি।
এদিকে রক্ষণভাগে কিছুটা স্বস্তির খবর পেয়েছে বার্সেলোনা। এলচের বিপক্ষে ম্যাচের শেষ দিকে পেশিতে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন জুল কুন্দে। তবে দ্রুতই সেরে উঠেছেন ফরাসি ডিফেন্ডার। দলের অনুশীলনে অংশ নিয়েছেন তিনি। সবকিছু ঠিক থাকলে আলবাসেতের বিপক্ষে খেলতে পারবেন কুন্দে, যদিও ফ্লিক চাইলে তাকে বিশ্রামও দিতে পারেন।
কুন্দে বিশ্রামে থাকলে দলে ফেরার সুযোগ পাবেন জোয়াও ক্যানসেলো। শীতকালীন দলবদলের সময় আল হিলাল থেকে আবার বার্সেলোনায় যোগ দেওয়ার পর এটি হতে পারে তার দ্বিতীয় ম্যাচে শুরুর একাদশে নামার সম্ভাবনা।
সব মিলিয়ে কোপা দেল রে ধরে রাখার অভিযানে আলবাসেতের মাঠে বার্সেলোনার সামনে অপেক্ষা করছে কঠিন এক পরীক্ষা।

ট্রান্সফার উইন্ডো মানেই নাটক, আর সেই নাটকের কেন্দ্রবিন্দুতেই এবার জেরেমি জাকেত। রেঁনের ফরাসি সেন্টার ব্যাককে ঘিরে লিভারপুল ও চেলসির দড়ি টানাটানি শেষ পর্যন্ত গড়াল অ্যানফিল্ডের দিকেই। চমক দেখিয়ে ২০ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডারকে ৬০ মিলিয়ন পাউন্ডে দলে ভিড়িয়েছে অল রেডসরা।
গ্রীষ্মকালীন দলবদল বন্ধ হওয়ার আগমুহূর্তে বড় সিদ্ধান্ত নেয় লিভারপুল। স্কাই স্পোর্টস জানিয়েছে, জাকেতকে পেতে চেলসি ও ম্যানচেস্টার সিটিও আগ্রহ দেখিয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত লিভারপুলই দৌড়ে এগিয়ে যায়। ২০২৬–২৭ মৌসুমের আগেই অ্যানফিল্ডে যোগ দেবেন জাকেত।
লিভারপুলের প্রস্তাবিত ট্রান্সফার প্যাকেজে রয়েছে ৫৫ মিলিয়ন পাউন্ডের নিশ্চিত ফি, সঙ্গে ৫ মিলিয়ন পাউন্ড সম্ভাব্য অ্যাড-অন। খেলোয়াড়ের ব্যক্তিগত শর্ত এখনো চূড়ান্ত না হলেও, সেটি বড় কোনো বাধা হয়ে দাঁড়াবে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
চলতি ২০২৫–২৬ মৌসুমে এখন পর্যন্ত রেঁনের হয়ে ১৮ ম্যাচ খেলেছেন জাকেত। আত্মবিশ্বাসী ও ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে লিগ ওয়ানে নজর কাড়েছেন বারবার—যার পুরস্কার হিসেবেই মিলেছে ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবে যাওয়ার সুযোগ।
জাকেতকে ঘিরে সবচেয়ে সক্রিয় ছিল চেলসি। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চেষ্টা চালায় দ্য ব্লুজরা। তবে শেষ পর্যন্ত লিভারপুলের প্রস্তাবের সামনে টেকেনি লন্ডনের ক্লাবটি।
স্কাই স্পোর্টসের দাবি,
“চেলসি লিভারপুলের মতোই একই প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে গত ৪৮ ঘণ্টায় যখন স্পষ্ট হয় যে মামাদু সার চেলসিতে ফিরছেন এবং জশ আচেমপং ক্লাবেই থাকছেন, তখন জাকেত সিদ্ধান্ত বদলে লিভারপুলে যাওয়ার পথ বেছে নেন।”