
মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) আয়ের সব রেকর্ড ভেঙে নিজের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন লিওনেল মেসি। মঙ্গলবার এমএলএস প্লেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রকাশিত সর্বশেষ বেতন তালিকা অনুযায়ী, ইন্টার মায়ামির এই মহাতারকার বার্ষিক মূল বেতন এখন ২ কোটি ৫০ লাখ ডলার।
গত অক্টোবরে মায়ামির সঙ্গে ২০২৮ সাল পর্যন্ত নতুন চুক্তি সই করেন মেসি। নতুন এই চুক্তিতে তাঁর মূল বেতন দ্বিগুণ হয়েছে। সব মিলিয়ে গ্যারান্টিড ক্ষতিপূরণসহ তাঁর বার্ষিক আয় দাঁড়াবে ২ কোটি ৮৩ লাখ ডলারে। এই হিসেবে মেসির বিভিন্ন বিজ্ঞাপন বা এনডোর্সমেন্ট চুক্তির আয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
আরও পড়ুন
| গোলকিপারের অবিশ্বাস্য ভুলে শিরোপার অপেক্ষা বাড়ল রোনালদোর |
|
তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন সন হিউং-মিন। গত আগস্টে লস অ্যাঞ্জেলেস এফসিতে যোগ দেন দক্ষিণ কোরিয়ার এই তারকা। সনের বার্ষিক মূল বেতন ১ কোটি ৩ লাখ ৬০ হাজার ডলার।
৯৭ লাখ ডলার নিয়ে তালিকার তৃতীয় স্থানে আছেন মেসির মায়ামি ও আর্জেন্টিনা সতীর্থ রদ্রিগো ডি পল। মেক্সিকোর হার্ভিং লোসানো ৯৩ লাখ ডলার আয় নিয়ে তালিকার চতুর্থ স্থানে রয়েছেন। আর পঞ্চম স্থানে থাকা আতলান্তার মিগুয়েল আলমিরনের আয় ৭৯ লাখ ডলার।
২০২৩ সালে এমএলএসে যোগ দেওয়ার পর থেকেই মাঠ এবং মাঠের বাইরে লিগটিকে বদলে দিয়েছেন মেসি। মায়ামির হয়ে ৬৪ ম্যাচে তাঁর গোল সংখ্যা ৫৯।
গত বছর নিয়মিত মৌসুমে ২৯ গোল করে দলকে এমএলএস কাপ জেতানোর পাশাপাশি টানা দ্বিতীয়বারের মতো লিগের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন মেসি। আগামী মাসে আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপ ধরে রাখার মিশনে মাঠে নামবেন এই ফুটবল জাদুকর।
No posts available.
১৬ মে ২০২৬, ৬:০৪ পিএম
১৬ মে ২০২৬, ৪:৪২ পিএম

যেকোনো ফুটবলারের ক্যারিয়ারেরই পরম আরাধ্য স্বপ্ন থাকে ফুটবলের মহাযজ্ঞ বিশ্বকাপে খেলা। আর পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের ফুটবলারদের জন্য এই স্বপ্নের গভীরতা স্বাভাবিকভাবেই একটু অনেক বেশিই। ব্রাজিল আর বিশ্বকাপ—এক চিরন্তন ও অবিচ্ছেদ্য আবেগের নাম। কিন্তু ফুটবল বিধাতা সবার ভাগ্যে সেই আনন্দ লিখে রাখেন না। বড় কোনো টুর্নামেন্টের ঠিক দ্বারপ্রান্তে এসে চোটের আঘাতে ছিটকে যাওয়ার নির্মম বাস্তবতাও রয়েছে। ২০২৬ বিশ্বকাপের আগেও সেই একই ট্র্যাজেডির পুনরাবৃত্তি ঘটছে।
ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তির সবচেয়ে বড় দুঃশ্চিন্তা তারকা ফুটবলারদের চোট। আগামী সোমবার রিও ডি জেনিরোতে, ইতালিয়ান কোচ ব্রাজিলের ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করবেন। আর সেলেসাওদের চূড়ান্ত দল ঘোষাণার আগে অভিজ্ঞ এই কোচের স্মৃতিতে ভেসে আসছে ১৯৮২ বিশ্বকাপে নিজের জীবনের এক চরম ট্র্যাজেডি। সেবার ইতালির বিশ্বকাপ স্কোয়াডে ডাক পেয়েছিলেন আনচেলত্তি। কিন্তু শেষ মুহূর্তে ইনজুরির কবলে পড়ে বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন ভেস্তে যায় তাঁর। আর সে বছরই ইতালি বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল।
১৯৮১ সালের জানুয়ারিতে মাত্র ২১ বছর বয়সে রোমার হয়ে খেলার সময় প্রথম ইতালি জাতীয় দলে ডাক পান আনচেলত্তি। অল্প সময়ের মধ্যেই ব্রুনো কন্তি, মার্কো তারদেল্লি, কায়েতানো শিরেয়া, জিয়ানকার্লো আন্তোনিওনি এবং ক্লাউডিও জেন্তিলের মতো কিংবদন্তিদের পাশাপাশি ইতালিয়ান মাঝমাঠের নিয়মিত মুখ হয়ে ওঠেন।
নিজের সেই ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডির চার দশক পর, ইনজুরি আবারও আনচেলত্তিকে তাড়া করে বেড়াচ্ছে। এlfর মিলিতাও, এস্তেভাও এবং রদ্রিগো—যাঁরা প্রত্যেকেই ব্রাজিলের শুরুর একাদশের সম্ভাব্য খেলোয়াড় ছিলেন, তাঁরা সবাই ইনজুরির কারণে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছেন।
ইনজুরির ভয়াবহতা জানার পরপরই এই ইতালিয়ান কোচ প্রতিটি খেলোয়াড়ের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করেন এবং তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে সাহস জোগান। ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম ইউওএল-কে আনচেলত্তি বলেন,
‘চোট একজন খেলোয়াড়ের ক্যারিয়ারেরই অংশ। যখন আপনি এমন একটা নেতিবাচক ও কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাবেন, তখন আপনাকে সামনে তাকাতে হবে এবং পরবর্তী সুযোগের কথা ভাবতে হবে। আমি রদ্রিগো এবং মিলিতাওয়ের সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের বলেছি যত দ্রুত সম্ভব সুস্থ হয়ে উঠতে এবং সেলেসাওদের হয়ে পরবর্তী ম্যাচ ও আগামী বিশ্বকাপের প্রস্তুতি নিয়ে ভাবতে।’
১৯৮১ সালের জানুয়ারিতে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র হওয়া ম্যাচ দিয়ে ইতালির জার্সিতে অভিষেক হয়েছিল আনচেলত্তির। ওই ম্যাচেই তিনি ‘আজ্জুরি’দের হয়ে তাঁর ক্যারিয়ারের প্রথম ও একমাত্র গোলটি করেন। তাঁর পারফরম্যান্স ছিল দারুণ নজরকাড়া। কিন্তু সে বছর আরও পাঁচটি ম্যাচ খেলার পরই ইনজুরিতে পড়েন এবং ১৯৮২ বিশ্বকাপ মিস করেন। বিশ্বজয়ী দলের অংশ হতে না পারলেও, সেই সময়টা নিয়ে মনে কোনো ক্ষোভ পুষে রাখেননি তিনি।
ইতালির হয়ে ২৬টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা আনচেলোত্তি বলেন,
‘যখন আপনি চোটে পড়বেন, তখন অনেক কিছু শেখার সুযোগ পাবেন। মানসিকভাবে নিজেকে আরও শক্তিশালী করার এবং আরও পেশাদার হয়ে ওঠার এটাই সময়। আমার ক্ষেত্রেও ঠিক তাই হয়েছিল। তখন আমার বয়স ২১ বা ২২ বছর, আর চোটের কারণে আমাকে টানা দুই বছর মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছিল। ওই সময়টাতে আমি জীবনের অনেক বড় শিক্ষা পেয়েছিলাম।’
চোট কাটিয়ে ওঠার পর আনচেলত্তি তিনটি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার সুযোগ পান। এর মধ্যে দুটি ছিল খেলোয়াড় হিসেবে (১৯৮৬ ও ১৯৯০) এবং অন্যটি ১৯৯৪ সালে সহকারী কোচ হিসেবে, যেখানে ফাইনালে ব্রাজিলের কাছে পেনাল্টিতে হেরে রানার্স-আপ হয়েছিল ইতালি। শিরোপা না জিতলেও ফুটবল বিশ্বের এই মহাযজ্ঞ নিয়ে তাঁর মনে জমিয়ে রাখা মধুর স্মৃতির কমতি নেই।
আনচেলত্তি আরও যোগ করেন,
‘যারা ফুটবল নিয়ে কাজ করে, তাদের জীবনে বিশ্বকাপ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এই সময়টাকে পুরোপুরি উপভোগ করা উচিত। আমি ১৯৮৬ ও ১৯৯০ সালে খেলেছি এবং ১৯৯৪ সালে সহকারী কোচ ছিলাম। এটা একটা দেশের জন্য যেমন বিশেষ মুহূর্ত, তেমনি এখানে চাপ সামলানোর একটা ব্যাপারও থাকে। আমাদের কাজ হলো সেই চাপকে অনুপ্রেরণায় রূপান্তর করা।’

উৎসবমুখর পরিবেশ ও তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্য দিয়ে শেষ হলো ‘অ্যাক্সেনটেক প্রেজেন্টস এফআইসিসিআই ফুটবল টুর্নামেন্টের’ দ্বিতীয় আসর। গতকাল ঢাকার একটি মাঠে জমকালো সমাপনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শেষ হয় দেশের করপোরেট জগতের বড় এই স্পোর্টিং ইভেন্ট। ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফআইসিসিআই) ব্যানারে টুর্নামেন্টটি আয়োজন করে ‘নাটমেগ’।
এবারের টুর্নামেন্টে দেশের শীর্ষস্থানীয় ২০টি বহুজাতিক ও করপোরেট প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। সব মিলিয়ে ৫০টি ম্যাচের এই টুর্নামেন্ট করপোরেট অঙ্গনে টিমওয়ার্ক ও স্পোর্টসম্যানশিপের ব্যাপারটিও টের পাওয়া গেছে।
সবার নজর ছিল টুর্নামেন্টের মূল আকর্ষণ ‘কাপ ফাইনালের’ দিকে, যেখানে মুখোমুখি হয় রবি আজিয়াটা পিএলসি এবং ডিএইচএল এক্সপ্রেস বাংলাদেশ। নির্ধারিত সময়ে দুই দলই চমৎকার রক্ষণাত্মক কৌশল প্রদর্শন করায় ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র হয়। পরবর্তীতে টাইব্রেকারে গড়ায় ম্যাচের ভাগ্য। পেনাল্টি শুটআউটে দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়ে ডিএইচএলকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে রবি আজিয়াটা পিএলসি। ফাইনালে অনবদ্য অবদানের জন্য রবির শাকিব ‘প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ’ নির্বাচিত হন।
দিনের শুরুতে ‘প্লেট ফাইনাল’ ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল শেভরন বাংলাদেশ ও স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক। নির্ধারিত সময়ে ১-১ গোলে সমতা থাকায় ম্যাচটি ট্রাইবেকারে গড়ায়। স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের পক্ষে তূর্য এবং শেভরনের পক্ষে আশিক গোল করেন। শেষ পর্যন্ত নাটকীয় ‘সাডেন-ডেথ’ টাইব্রেকারে শেভরনকে হারিয়ে প্লেট শিরোপা জিতে নেয় স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক। চমৎকার পারফরম্যান্সের জন্য ম্যাচ সেরা হন তূর্য।
ফাইনাল ম্যাচ শেষে এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিজয়ীদের হাতে ট্রফি ও পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এফআইসিসিআইয়ের পরিচালক এম এইচ এম ফাইরোজ, নির্বাহী পরিচালক টিআইএম নূরুল কবির, রবি আজিয়াটার চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার শাহেদ আলম এবং সিঙ্গার বাংলাদেশের মার্কেটিং ডিরেক্টর মো. জুবায়ের উল ইসলামসহ অন্যান্য পার্টনার ও স্পন্সর প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
বক্তারা জানান, এই আয়োজন কেবল একটি ফুটবল টুর্নামেন্ট নয়, বরং কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও পেশাদার সম্পর্ককে আরও জোরদার করার একটি দারুণ মাধ্যম।

ফুটবল ডিসিপ্লিন দিয়ে আজ নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের ঢাকা অঞ্চলের প্রতিযোগিতা শুরু হলো। অংশ নেয় ঢাকার ৮টি জেলার মোট ১৬টি দল। মোহাম্মদপুরের সরকারি শারীরিক শিক্ষা কলেজ মাঠে উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হয় নারায়ণগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জ। ছেলে ও মেয়ে দুই বিভাগেই জয় তুলে নিয়েছে কিশোরগঞ্জ জেলা। বালক বিভাগে কিশোরগঞ্জ ১-০ গোলে নারায়ণগঞ্জকে পরাজিত করে সেমি-ফাইনাল নিশ্চিত করেছে। অন্যদিকে মেয়েদের ফুটবলে কিশোরগঞ্জ ৪-০ গোলে নারায়ণগঞ্জ জেলাকে পরাজিত করে শেষ চার নিশ্চিত করেছে।
শনিবার সকালে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে ঢাকা অঞ্চলের প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) আজমুল হক। বিশেষ অতিথি ছিলেন ক্রীড়া পরিদপ্তরের পরিচালক মাহবুবুর রহমান। উপস্থিত ছিলেন টুর্নামেন্ট কমিটির সদস্য সচিব সুমন কুমার মিত্র এবং ঢাকা জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তাসহ অন্যরা।
দেশের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে থাকা ক্রীড়া প্রতিভা খুঁজে বের করে তাদের জন্য উপযুক্ত প্ল্যাটফর্ম গড়ে দিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানান অতিথিরা। টুর্নামেন্ট কমিটির সদস্য সচিব সুমন কুমার মিত্র অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে জানিয়েছেন, নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের ঢাকা অঞ্চল পর্যায়ে ৮ টি ইভেন্টে ৮ টি জেলার ১৩৬০ জন প্রতিযোগী, প্রশিক্ষক কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করছেন। ফুটবলের পাশাপাশি বাকি ডিসিপ্লিনগুলো হবে বিভিন্ন ভেন্যুতে।
দেশের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে থাকা ক্রীড়া প্রতিভা খুঁজে বের করে তাদের জন্য উপযুক্ত প্ল্যাটফর্ম গড়ে দিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানান অতিথিরা। টুর্নামেন্ট কমিটির সদস্য সচিব সুমন কুমার মিত্র অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে জানান নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের ঢাকা অঞ্চল পর্যায়ে ৮ টি ইভেন্টে ৮ টি জেলার ১৩৬০ জন প্রতিযোগী, প্রশিক্ষক কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করছেন। ফুটবলের পাশাপাশি বাকি ডিসিপ্লিনগুলো অনুষ্ঠিত হবে বিভিন্ন ভেন্যুতে।
আরও পড়ুন
| ক্যাস্ট্রোপের ইতিহাস, রেকর্ড বুকে নাম লেখানোর অপেক্ষায় সন |
|
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ‘ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা’ স্লোগানকে ধারণ করে সারা দেশকে ১০টি অঞ্চলে ভাগ করে ২ মে থেকে হচ্ছে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের প্রতিযোগিতা। সিলেটে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দেশের ৬৪ জেলায় একযোগে শুরু হয় প্রতিযোগিতা।
জেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতা শেষে বাছাইকৃতদের নিয়ে হচ্ছে দেশের ১০টি অঞ্চলের প্রতিযোগিতা। তারই ধারাবাহিকতায় ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় ও ঢাকা জেলা ক্রীড়া অফিসের আয়োজনে শনিবার থেকে শুরু হলো ঢাকা অঞ্চলের প্রতিযোগিতা।
আগামী ২০ মে ২০২৬ তারিখ বিকাল ৪ টায় নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের ঢাকা অঞ্চলের সমাপনী ও পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠিত হবে।

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ শুরু হতে আর বাকি মাত্র ২৬ দিন। টুর্নামেন্টের মূল পর্বে কোয়ালিফাই করলেও ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা কাটেনি। গ্রুপপর্বে তাদের ম্যাচগুলোর নিরাপত্তা ও ভিসা সংক্রান্ত জটিলতার সমাধান করতে আজ ফিফার সঙ্গে বিশেষ বৈঠকে বসছে ইরান।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, তুরস্কের ইস্তানবুলে হতে যাওয়া সেই বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন ফিফার সাধারণ সম্পাদক মাতিয়াস গ্রাফস্ট্রোম ও ইরানি ফুটবল ফেডারেশনের (এফএফআইআরআই) নীতি-নির্ধারকরা।
আগামী ১১ জুন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে শুরু হবে এবারের বিশ্বকাপ। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ইরানের তিনটি গ্রুপ ম্যাচই হওয়ার কথা যুক্তরাষ্ট্রে। তবে গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক বাহিনী ইরানে বিমান হামলা চালানোর পর থেকেই দলটির বিশ্বকাপ ভাগ্য নিয়ে ঘোর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।
আরও পড়ুন
| ক্যাস্ট্রোপের ইতিহাস, রেকর্ড বুকে নাম লেখানোর অপেক্ষায় সন |
|
পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নেয় গত মাসের শেষদিকে। কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে ফিফা কংগ্রেসে যোগ দিতে গিয়ে দেশটির ইমিগ্রেশনের মারপ্যাঁচে পড়েন ইরানি ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহেদি তাজ।
ইরানের এলিট সামরিক শাখা ‘ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস’ (আইআরজিসি)-এর সাথে সম্পৃক্ততার অভিযোগে মেহেদি তাজকে কানাডায় ঢুকতে দেওয়া হয়নি। যার জন্য ফিফা কংগ্রেসে অংশ না নিয়েই দেশে ফিরে যায় ইরানের প্রতিনিধিদল। আইআরজিসির সঙ্গে সম্পর্ক থাকা কোনো ব্যক্তিকে ভিসা না দেওয়ার বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা।
বিষয়টির কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইরানের আইন ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি। চলতি সপ্তাহে সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, সব যোগ্য দলের নির্বিঘ্ন প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা সম্পূর্ণ ফিফার দায়িত্ব।
গরিবাবাদি লিখেছেন, ‘ইরান জাতীয় ফুটবল দল মাঠে লড়াই করে, সম্পূর্ণ ফিফার নিয়ম মেনেই বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। এখন যদি রাজনৈতিক অজুহাতে আমাদের খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ বা ফুটবল কর্মকর্তাদের পথ রুদ্ধ করা হয়, তবে তা বিশ্বকাপের মূল চেতনার ওপর বড় আঘাত হবে।‘
আরও পড়ুন
| অধিনায়ককে বাদ দিয়ে বিশ্বকাপ দল ঘোষণা তিউনিসিয়ার |
|
নিষেধজ্ঞা ও ভিসা জটিলতার কারণে ইরান তাদের ম্যাচগুলো মেক্সিকোতে সরিয়ে নেওয়ার আবেদন করলেও ফিফা তাতে সায় দেয়নি। কংগ্রেসে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো আবারও জোর দিয়ে বলেন, ‘পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ইরান যুক্তরাষ্ট্রেই খেলবে।‘
অনিশ্চয়তা থাকলেও মাঠের লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে ইরান দল। সোমবারই তেহরান ছেড়ে তুরস্কে কন্ডিশনিং ক্যাম্পের উদ্দেশ্যে উড়াল দেবে তারা।
আগামী ১১ জুন শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপে গ্রুপ 'জি'-তে রয়েছে ইরান। ১৫ ও ২১ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে তাদের প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড ও বেলজিয়াম। এরপর ২৬ জুন সিয়াটলে মিশরের মুখোমুখি হবে তারা।

আসন্ন সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপকে সামনে রেখে ব্যাংককে চলছে বাংলাদেশ দলের কন্ডিশনিং ক্যাম্প। সেখানে আজ শনিবার আরও একটি নির্ধারিত অনুশীলন সেশন করেছে পিটার বাটলারের দল। এদিন অনুশীলন সেশন শেষে দলের ড্রেসিংরুমে খেলোয়াড়, কোচ, কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি তাবিথ আউয়াল। তিনি আসন্ন সাফ টুর্নামেন্টের জন্য দলের প্রতি শুভকামনা জানান এবং খেলোয়াড়দের উৎসাহিত করেন বলে জানা গেছে।
ব্যাংকক সফরের অংশ হিসেবে তাবিথ আউয়াল এদিন সকালে অ্যালপাইন স্পোর্টস ট্রেনিং ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। এখানেই মূলত আফঈদা খন্দকারেরা মাঠের অনুশীলন করছেন। অ্যালপাইন স্পোর্টস গ্রুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর আদি সাক সুনতারোসের সঙ্গে একটি বৈঠক করেন বাফুফে সভাপতি। তিনি নারী জাতীয় দলকে চমৎকার আতিথেয়তা এবং সহযোগিতা প্রদানের জন্য অ্যালপাইন ম্যানেজমেন্টকে ধন্যবাদ জানান।
আগামীকাল বাংলাদেশ দল অ্যালপাইন স্পোর্টস ট্রেনিং ক্যাম্প মাঠে ব্যাংকক উইমেন্স লিগের টায়ার-১ এর দল ব্যাংকক উইমেন্স এফসির বিপক্ষে আরও একটি ক্লোজড ডোর প্রীতি ফুটবল ম্যাচ খেলবে। এর আগে প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচে বাংলাদেশ ২-০ গোলে জয় পেয়েছিল।
ব্যাংককে দুই সপ্তাহের এই প্রস্তুতি ক্যাম্প শেষ করে আগামী ২১ মে দল ভারতের গোয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেবে। সেখানে ২৫ মে থেকে গড়াবে এবারের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। ৬ দলের মধ্যে দুটি গ্রুপ হবে। বাংলাদেশের গ্রুপে রয়েছে স্বাগতিক ভারত এবং মালদ্বীপ। ২৮ মে লাল সবুজের মেয়েদের প্রতিপক্ষ মালদ্বীপ। এরপর ৩১ মে গ্রুপ পর্বে দ্বিতীয় ম্যাচ স্বাগতিকদের বিপক্ষে। ৬ জুন হবে প্রতিযোগিতার ফাইনাল। সাফের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ। এবার তাদের সামনে হ্যাটট্রিক শিরোপা জেতার সুযোগ। কেননা ২০২২ ও ২০২৪ পরপর দুবার শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ।