১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৩:৩৬ পিএম

আর্জেন্টিনার ফুটবলের সবচেয়ে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার নাম ‘সুপারক্লাসিকো’। রিভার প্লেট ও বোকা জুনিয়র্সের এই লড়াই ঘিরে যেমন উত্তেজনা, তেমনি রয়েছে নানা বিতর্কিত ঐতিহ্যও। এর মধ্যে অন্যতম ছিল মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে বোকা জুনিয়র্সকে উদ্দেশ্য করে ‘শূকর’ প্রদর্শনের ঘটনা।
এক সময় রিভার প্লেটের মাঠে সুপারক্লাসিকো মানেই ছিল প্রতিপক্ষকে উসকে দিতে নানান অভিনব কাণ্ড। সেই ধারাবাহিকতায় প্রথমদিকে জীবন্ত শূকর মাঠে ছেড়ে দেওয়া হতো, পরে তা রূপ নেয় বিশাল ফোলানো (বেলুনাকৃতির) শূকরের প্রতীকী প্রদর্শনীতে। শূকরগুলোর গায়ে পরানো থাকত বোকা জুনিয়র্সের নীল-হলুদ জার্সি।
এই বিতর্কিত প্রথার সূচনা হয়েছিল মূলত বোকা জুনিয়র্সের এক খেলোয়াড়কে লক্ষ্য করে। ১৯৭৫ সালের এক ম্যাচে রিভার সমর্থকেরা একটি শূকর মাঠে ছেড়ে দেয়, যার গায়ে ছিল ১০ নম্বর জার্সি। তখনকার বোকা মিডফিল্ডার ওসভালদো পতোতা পোটেন্তের জার্সি নম্বর। ধারণা করা হয়, এটি ছিল ব্যক্তিগতভাবে তাঁকে ব্যঙ্গ করার উদ্দেশ্যে করা এক প্ররোচনা। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি পুরো বোকা জুনিয়র্স দলকে লক্ষ্য করে সাধারণ প্রতীকে পরিণত হয়।
সত্তরের দশক থেকে শুরু হয়ে নব্বইয়ের দশক পর্যন্ত এই প্রবণতা বিভিন্ন সময় দেখা গেছে। কখনো জীবন্ত শূকর, কখনো ব্যানার কিংবা প্রতীকী উপস্থাপনা—সবই ছিল প্রতিপক্ষকে বিদ্রূপ করার অংশ। তবে এসব কর্মকাণ্ড নিয়ে ধীরে ধীরে সমালোচনা বাড়তে থাকে, বিশেষ করে প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতার কারণে।
এক পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হস্তক্ষেপ করতে বাধ্য হয়। ১৯৯২ সালে একটি ম্যাচে শূকর মাঠে নিক্ষেপের ঘটনায় কয়েকজন সমর্থককে গ্রেপ্তারও করা হয়। তারপর ধীরে ধীরে জীবন্ত প্রাণী ব্যবহারের প্রবণতা কমে আসে।
সবশেষ উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটে ২০১২ সালে। সে সময় জীবন্ত প্রাণীর বদলে একটি বিশাল ফোলানো শূকর স্টেডিয়ামে উড়ানো হয়, যা বিখ্যাত সংগীতদল পিংক ফ্লয়েডের কনসার্টে ব্যবহৃত ভাসমান শূকরের আদলে তৈরি করা হয়েছিল। ম্যাচের আগে সেটি স্টেডিয়ামের একাংশে ভাসিয়ে রাখা হয়, যা নিয়ে দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক স্লোগান-পাল্টা স্লোগান দেখা যায়।
তবে শেষ পর্যন্ত সেই ফোলানো শূকরটিও পুলিশ জব্দ করে নিয়ে যায় এবং কেউ তা আর ফেরত নিতে আসেনি। এর মাধ্যমে এক অর্থে শেষ হয় এই বিতর্কিত ‘ঐতিহ্য’।
বর্তমান সময়ে ফুটবলে নিরাপত্তা ও নৈতিকতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাওয়ায় এ ধরনের কর্মকাণ্ড আর দেখা যায় না। তবু অতীতের এই ঘটনাগুলো সুপারক্লাসিকোর উন্মাদনা ও অদ্ভুত সব প্রথার এক ভিন্ন অধ্যায় হিসেবে এখনও আলোচিত।
আর্জেন্টিনার ফুটবলের সবচেয়ে আলোচিত দ্বৈরথ ‘সুপারক্লাসিকোয়’ আজ লড়াইয়ে মাঠে নামছে রিভার প্লেট ও বোকা জুনিয়র্স। বুয়েনস আইরেসের মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনা প্রিমিয়ার ডিভিশনের ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত ২টায়।
No posts available.
১৯ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৫১ পিএম
১৯ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১৬ পিএম

আর্জেন্টিনার ফুটবলের সবচেয়ে আলোচিত দ্বৈরথ ‘সুপারক্লাসিকোয়’ আজ লড়াইয়ে মাঠে নামছে রিভার প্লেট ও বোকা জুনিয়র্স। বুয়েনস আইরেসের মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনা প্রিমিয়ার ডিভিশনের ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত ২টায়।
দুই দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স তীব্র লড়াইয়েরই ইঙ্গিত দিচ্ছে। রিভার প্লেট টানা নয় ম্যাচ অপরাজিত রয়েছে, কোচ এদুয়ার্দো কৌদেত দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে দলটি হারেনি। বোকা জুনিয়র্সও রয়েছে দারুণ ছন্দে, তাদের টানা ১২ ম্যাচে হার নেই।
দক্ষিণ আমেরিকার ক্লাব প্রতিযোগিতায়ও ভালো করছে রিভার। কনমেবল সুদামেরিকানায় সবশেষ ম্যাচে তারা ভেনেজুয়েলার ক্লাব কারাবোবোকে ১-০ গোলে হারিয়ে নিজেদের গ্রুপের শীর্ষে অবস্থান করছে। তবে এই ম্যাচে চোটের কারণে দলটি পাচ্ছে না মিডফিল্ডার ফাউস্তো ভেরা ও কলম্বিয়ান তারকা হুয়ান ফের্নান্দো কুইন্তেরোকে। ভেরার অনুপস্থিতিতে একাদশে জায়গা পেতে পারেন তরুণ হুয়ান ক্রুস মেসা।
আক্রমণভাগে ফাকুন্দো কোলিদিও ও সেবাস্তিয়ান দ্রিউসির খেলা প্রায় নিশ্চিত। আক্রমণভাগের আরেকটি পজিশন নিয়ে লড়ছেন ইয়ান সুবিয়াব্রে ও কেন্দ্রি পায়েজ, যেখানে তরুণ সুবিয়াব্রে কিছুটা এগিয়ে রয়েছেন।
কনমেবল লিবার্তাদোর্সে বোকা জুনিয়র্স সবশেষ ম্যাচে বার্সেলোনা এসসিকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে এবং নিজেদের গ্রুপে শীর্ষস্থান দখল করেছে। তবে বড় ধাক্কা হিসেবে গোলরক্ষক আগুস্তিন মার্চেসিনের গুরুতর চোটে ছিটকে যাওয়ায় এই ম্যাচে গোলবার সামলাবেন লিয়ান্দ্রো ব্রেই।
কোচ ক্লাউদিও উবেদা সাধারণত তাঁর মূল একাদশের বেশির ভাগ খেলোয়াড়কেই মাঠে নামাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। সুপারক্লাসিকোর আগে সমর্থকদের মধ্যে উদ্বেগ ডার্বি ম্যাচগুলোয় বোকা জুনিয়র্সের পারফরম্যান্স। শেষ ১২টি ডার্বির মধ্যে তারা জিতেছে মাত্র একটিতে। ডার্বিতে খেলেছে রিভার প্লেট, রেসিং ক্লাব, ইনদেপেন্দিয়েন্তে ও সান লরেঞ্জোর বিপক্ষে। তবে দারুন ব্যাপার রিভার প্লেটেরে বিপক্ষে সবশেষ দেখায় ২-০ গোলে জিতেছিল বোকা।
সুপার ক্লাসিকোয় দুই দলের সম্ভাব্য একাদশ
রিভার প্লেট
গোলকিপার: সান্তিয়াগো বেলত্রান
ডিফেন্ডার: গনসালো মন্তিয়েল, লুকাস মার্তিনেস কুয়ার্তা, লাউতারো রিভেরো, মার্কোস আকুনিয়া
মিডফিল্ডার: আনিবাল মোরেনো, হুয়ান ক্রুস মেসা, তোমাস গালভান
ফরোয়ার্ড: ইয়ান সুবিয়াব্রে বা কেন্দ্রি পায়েজ, ফাকুন্দো কোলিদিও, সেবাস্তিয়ান দ্রিউসি
বোকা জুনিয়র্স
গোলকিপার: লিয়ান্দ্রো ব্রেই
ডিফেন্ডার: মার্সেলো ওয়েইগান্দ, লাউতারো দি লোলো, আইর্টন কোস্তা, লাউতারো ব্লাঙ্কো
মিডফিল্ডার: লিয়ান্দ্রো পারেদেস, মিলতন দেলগাদো, সান্তিয়াগো আসকাসিবার, তোমাস আরান্দা
ফরোয়ার্ড: মিগেল মেরেন্তিয়েল, আদাম বারেইরো

প্যারিস সেন্ট জার্মেইর (পিএসজি) কাছে হেরে ইউয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে ছিটকে গেছে লিভারপুল। তবে এই হারকে ইতিবাচকভাবে দেখতে চাইছেন অল রেডদের প্রধান কোচ আর্নে স্লট। তিনি বিশ্বাস করেন, ইউরোপীয় শ্রেষ্ঠত্বের আসর থেকে বিদায়ের ফলে এখন প্রিমিয়ার লিগে তাঁর দলের ফর্ম আরও উন্নত হতে পারে।
গত মঙ্গলবার বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পিএসজির কাছে কোয়ার্টার ফাইনালে হেরে ইউয়েফার এই মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয় অল রেডরা। লিগের সর্বশেষ পাঁচ ম্যাচ থেকে লিভারপুল মাত্র ৭ পয়েন্ট সংগ্রহ করতে পেরেছে, যদিও গত সপ্তাহে ফুলহ্যামের বিপক্ষে তারা জয় পেয়েছে।
স্লট যদিও চ্যাম্পিয়নস লিগে টিকে থাকতেই বেশি পছন্দ করতেন, কিন্তু ডাচ কোচ মনে করছেন টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়ায় খেলোয়াড়দের ওপর শারীরিক চাপ কমবে, যা তাদের জন্য কল্যাণকর হতে পারে। চলতি মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগের খেলোয়াড়দের মধ্যে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ভার্জিল ফন ডাইক (৪,৪০১ মিনিট) এবং ডোমিনিক সোবোসলাই (৪,১৯৬ মিনিট) সবচেয়ে বেশি সময় মাঠে ছিলেন। এমনকি সর্বাধিক সময় খেলা শীর্ষ ১৫ জন খেলোয়াড়ের তালিকায় চেলসির পরেই (৪ জন) লিভারপুলের সবচেয়ে বেশি খেলোয়াড় (৩ জন) রয়েছে।
আর্নে স্লট বলেন,
‘চলতি মৌসুমে সবচেয়ে বেশি মিনিট মাঠে থাকা ১৫ বা ২৫ জন খেলোয়াড়ের দিকে তাকালে দেখবেন, তাদের অনেকেই আমাদের দলের। এটি অনেক কিছু বুঝিয়ে দেয়, হয়ত এটিই আমাদের পারফরম্যান্সে ধারাবাহিকতা না থাকার অন্যতম কারণ। কেন আমরা শেষ মুহূর্তে এত গোল হজম করছি, তার কারণও হতে পারে একই খেলোয়াড়দের বেশি সময় মাঠে থাকা।’
‘সেই দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে, ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় আর না থাকাটা হয়ত ভালো। তবে আমি অবশ্যই ইউরোপে খেলা চালিয়ে যেতে পছন্দ করতাম। কারণ চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালের মতো ম্যাচে খেলা পুরো দলকে ভিন্ন শক্তি জোগায়। আমি এই বাদ পড়াকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছি না, তবে এটিই এখন বাস্তবতা এবং এখন আমরা অনুশীলনের জন্য কিছুটা বেশি সময় পাব।’
যোগ করেন লিভারপুল কোচ।
আজ রাতে হিল ডিকিনসন স্টেডিয়ামে প্রথমবারের মতো এভারটনের মুখোমুখি হবে লিভারপুল। ১৩৩ বছর ধরে এভারটনের হোম গ্রাউন্ড ছিল গুডিসন পার্ক। ২০২৫-২৬ মৌসুমে তারা হিল ডিকিনসনকে নিজেদের হোম মাঠ বানিয়েছে। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে খেলা ৬১টি স্টেডিয়ামের মধ্যে ৫৯টিতেই জয়ের রেকর্ড আছে লিভারপুলের। আজকের ম্যাচে জিতলে তারা প্রিমিয়ার লিগের প্রথম দল হিসেবে ৬০টি ভিন্ন স্টেডিয়ামে জয়ের কীর্তি গড়বে।
এভারটনের বিপক্ষে গত দুটি প্রিমিয়ার লিগ ম্যাচেই জিতেছে লিভারপুল। যদিও দুটি জয়ই এসেছিল নিজেদের মাঠ অ্যানফিল্ডে। এর আগে ২০১৬ সালের এপ্রিল থেকে ২০১৭ সালের এপ্রিলের মধ্যে টানা তিনটি মার্সিসাইড ডার্বি জয়ের রেকর্ড গড়েছিল তারা।

মাঠের বাইরে ভিন্ন এক উদ্যোগে নজর কাড়ছেন বায়ার্ন মিউনিখের তরুণ তারকা জামাল মুসিয়ালা। এই মিডফিল্ডার শিশুদের জন্য নিজের জীবনের গল্প তুলে ধরে দুটি বই রচনায় যুক্ত হয়েছেন।
জার্মান সংবাদমাধ্যম বিল্ডের প্রতিবেদন, মুসিয়ালা সাংবাদিক জুলিয়েন উলফের সঙ্গে যৌথভাবে দুটি শিশুতোষ বই লিখেছেন। বই দুটির নাম ‘আমার ফুটবল যাত্রার শুরু’ এবং ‘বায়ার্নে আমার পথচলা’। এগুলো প্রকাশ করেছে ওয়েটিঙ্গার।
প্রতিটি বইয়ের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ ইউরো। সাত বছর বা তার বেশি বয়সী শিশুদের লক্ষ্য করে বই দুটি তৈরি করা হয়েছে। বিশেষ করে যেসব শিশু পড়তে একটু অসুবিধা বোধ করে, তাদের কথা মাথায় রেখে বড় অক্ষর ও ছোট ছোট অনুচ্ছেদে লেখা হয়েছে বইগুলো।
বইয়ে ২৩ বছর বয়সী মুসিয়ালা নিজের শৈশব, ফুটবলে শুরুর দিন এবং মিউনিখে প্রথম সময়গুলোর নানা অভিজ্ঞতা সহজ ও আকর্ষণীয় ভঙ্গিতে তুলে ধরেছেন। গল্পগুলোকে আরও প্রাণবন্ত করতে কমিক ধারার উপস্থাপনাও রাখা হয়েছে।
সাধারণত ফুটবলারদের আত্মজীবনী প্রকাশ পায় ক্যারিয়ারের শেষভাগে বা অবসরের পর। তবে ক্যারিয়ারের মাঝপথেই নিজের যাত্রার গুরুত্বপূর্ণ অংশ শিশুদের জন্য তুলে ধরা—এটি তুলনামূলকভাবে ভিন্নধর্মী উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মাঠে পারফরম্যান্সের পাশাপাশি এমন সৃজনশীল কাজে যুক্ত হয়ে মুসিয়ালা নতুন এক পরিচয়ে হাজির হলেন। তরুণ এই তারকার উদ্যোগটি পাঠকমহলে কেমন সাড়া ফেলে, সেটিই এখন দেখার ব্যাপার।

রূপকথাও বোধকরি এর চেয়ে বেশি সুন্দর হয় না।
ঘরের ছেলে গোলকিপার উনাই মরেরো দলের ত্রাণকর্তা হয়ে দাঁড়ালেন, আর একসময়ের বলবয় পাবলো মারিন দিলেন তুলির শেষ টান। শনিবার রাতে টাইব্রেকারে আতলেতিকো মাদ্রিদকে ৪-৩ ব্যবধানে হারিয়ে কোপা দেল রে শিরোপা জিতেছে রিয়াল সোসিয়েদাদ।
সেভিয়ার লা কার্তুজা স্টেডিয়ামে ফাইনালের পূর্ণ ৯০ মিনিট এবং অতিরিক্ত সময় ২-২ সমতায় শেষ হয়। কিন্তু টাইব্রেকারে পুরো আলো কেড়ে নিলেন মরেরো। খেলা শেষে বলেছেন,
‘এত মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পারাটা সত্যিই অন্যরকম আনন্দের অনুভূতি। মনে হয় নিজের সেরা ছন্দে ছিলাম। এখানে ঠিক কী ঘটে গেল, তা আমি এখনো পুরোপুরি বিশ্বাস করে উঠতে পারছি না।’
সেভিয়ার সেই নাটকীয় টাইব্রেকার
পুরো ক্লাবের প্রত্যাশার চাপ কাঁধে নিয়ে মরেরো তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় মুহূর্তে জ্বলে উঠলেন। আলেকজান্ডার সরলোথ এবং জুলিয়ান আলভারেজের নেওয়া প্রথম দুটি পেনাল্টি ঠেকিয়ে দিয়ে ম্যাচটি পুরোপুরি সোসিয়েদাদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন তিনি।
মাঝপথে হুয়ান মুসো ওরি ওস্কারসনের শট আটকে দিয়ে আতলেতিকোর আশা কিছুটা জাগিয়ে তুললেও, শেষ সিদ্ধান্তটি ছিল মারিনের হাতে। ২২ বছর বয়সী বদলি খেলোয়াড়, যিনি একসময় এই ক্লাবেরই বলবয় ছিলেন। চরম উত্তেজনার মুখেও মাথা ঠান্ডা রেখে জয়সূচক পেনাল্টি শটে বল জালে জড়ান স্প্যানিশ অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার।
টানটান উত্তেজনার এক ফাইনাল
ম্যাচটি শুরু হতেই যেন বিস্ফোরণ ঘটেছিল। মাত্র ১৪ সেকেন্ডের মাথায় হেডে গোল করে কোপা দেল রে ফাইনালের ইতিহাসে দ্রুততম গোলের রেকর্ড গড়েন আন্ডের বারেনেটক্সিয়া।
দ্রুতই আদেমোলা লুকমানের গোলে সমতায় ফেরে আতলেতিকো। তবে প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার ঠিক আগে পেনাল্টি থেকে গোল করে মিকেল ওয়ারজাবাল সোসিয়েদাদকে আবারও লিড এনে দেন।
আতলেতিকো হাল ছাড়েনি। দূরপাল্লার দুর্দান্ত শটে ব্যবধান ২-২ করেন আলভারেজ। ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। অতিরিক্ত সময়ে কোনো দলই পায়নি জালের দেখা। ম্যাচ গড়ায় নাটকীয় টাইব্রেকারে।
ইতিহাস, আবেগ এবং নতুন অধ্যায়
এটি রিয়াল সোসিয়েদাদের চতুর্থ কোপা দেল রে শিরোপা। ২০২১ সালেও তারা চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল, কিন্তু মহামারীর বিধিনিষেধের কারণে সেবার গ্যালারিতে কোনো সমর্থক ছিল না। ফলে দীর্ঘ সময় পর দর্শকদের সামনে শিরোপা উদযাপনের সুযোগ পেল তারা।
টাচলাইনে দাঁড়িয়ে কোচ পেলেগ্রিনো মাতারাজ্জো অভাবনীয় মুহূর্ত উপভোগ করেছেন। গত ডিসেম্বরে যখন তিনি দায়িত্ব নেন, ক্লাবটি তখন অবনমনের শঙ্কায়। সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে তিনি দলকে ট্রফি এনে দিলেন। সেই সঙ্গে ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের ইতিহাসে প্রথম আমেরিকান কোচ হিসেবে বড় কোনো শিরোপা জেতার রেকর্ড গড়লেন মাতারাজ্জো।

ম্যাচ শুরুর আগে স্ট্যামফোর্ড ব্রিজের সামনে সমর্থকদের প্রতিবাদ মিছিল ওঠে- ‘আমরা আমাদের চেলসিকে ফেরত চাই’। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কাছে হারের পর যে স্লোগান ছড়িয়ে পড়ে গ্যালারিতেও।
চেলসি সমর্থকদের এই ক্ষোভ অস্বাভাবিক কিছু নয়; প্রিমিয়ার লিগে নিজেদের টানা চারটি ম্যাচে গোল করতে ব্যর্থ হয়েছে দলটি, সেই সঙ্গে হেরেছে এই চার ম্যাচেই। এমন অপ্রত্যাশিত কিছু এর আগে দেখা মিলেছিল ১৯১২ সালের নভেম্বরে। দীর্ঘতম গোলহীন হারের রেকর্ড আবার ফিরে আসল স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে।
শনিবার রাতে ইউনাইটেডের কাছে ১-০ গোলে হেরেছে চেলসি। খেলার ৪৩ মিনিটে একমাত্র জয়সূচক গোলটি করেন ইউনাইটেডের ব্রাজিলিয়ান লেফট উইঙ্গার মাথিউস কুনহা। বোর্নমাউথের সঙ্গে ড্র এবং লিডসের বিপক্ষে হারের পর ফের জয়ের ধারায় ফিরল রেড ডেভিলরা।
আরও পড়ুন
| আতলেতিকোকে টাইব্রেকারে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন সোসিয়েদাদ |
|
আরেকটি পরাজয়ে শীর্ষ পাঁচ থেকে ৪ পয়েন্ট পিছিয়ে ব্লুজরা। একইসঙ্গে একটি ম্যাচ বেশি খেলেছে লিয়াম রোসেনিয়রের দল। ম্যাচ শেষে ব্লুজদের কোচ স্বীকার করেছেন যে, চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলার যোগ্যতা অর্জনের পথে তাঁর দল এখন এক ‘দুর্গম পাহাড় পাড়ি দেওয়ার’ চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড়িয়ে।
নিশ্চিতভাবে চ্যাম্পিয়নস লিগে জায়গা করে নিতে না পারা দলের ব্যর্থতা হিসেবেই দেখবে ক্লাব কর্তৃপক্ষ। কারণ সাবেক কোচ এনজো মারেস্কার অধীনে মৌসুম শুরুর আগে যে ন্যূনতম লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল, ক্লাবটি এখন সেটি অর্জনে ব্যর্থ হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
শীর্ষ এই আসরে খেলার সুযোগ না পেলে চেলসি বড় অঙ্কের রাজস্ব এবং মর্যাদা হারাবে। ২০২২ সালে টড বোহলি এবং ক্লিয়ারলেক ক্যাপিটাল ক্লাবটির মালিকানা নেওয়ার পর থেকে এটি হবে গত ৪ মৌসুমের মধ্যে তৃতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়নস লিগে কোয়ালিফাই করতে না পারার ঘটনা।

এতদিন দলের রক্ষণভাগ, গোলকিপিং এবং স্কোয়াডের খেলোয়াড়দের বয়স নিয়ে সমালোচনা হতো। এখন হচ্ছে আক্রমণভাগ নিয়ে। চেলসি প্রিমিয়ার লিগে সর্বশেষ সাড়ে ৬ ঘণ্টা ধরে কোনো গোল করতে পারেনি।
চেলসির মালিকানাধীন অন্য ক্লাব স্ট্র্যাসবুর্গ থেকে রোসেনিওরকে দ্রুত নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে স্ট্র্যাসবুর্গের কট্টর সমর্থকরা চেলসি সমর্থকদের সঙ্গে এই মিছিলে যোগ দিয়েছিল। উভয় ক্লাবের সমর্থকদেরই দাবি, জানুয়ারির সেই সিদ্ধান্তের ফলে দুই দলই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আরও পড়ুন
| মেসির জোড়া গোলে মায়ামির দারুণ জয় |
|
চেলসির জন্য পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে; লিভারপুল তাদের চেয়ে এক ম্যাচ কম খেলে ৪ পয়েন্টে এগিয়ে আছে। অন্যদিকে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড এবং অ্যাস্টন ভিলাকে টপকানো ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়ছে ব্লুজদের জন্য।
রোসেনিওর বলেন,
‘পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠা অসম্ভব নয়, তবে এটি আমাদের জন্য পাহাড়সম চ্যালেঞ্জ। আগামী মঙ্গলবার ব্রাইটনের বিপক্ষে ম্যাচটিতে আমাদের জয়ের মানসিকতা নিয়ে নামতে হবে এবং মৌসুমের বাকি অংশের জন্য নতুন উদ্দীপনা খুঁজে পেতে হবে।’
মৌসুমের এই চূড়ান্ত পর্যায়ে এসে যখন সবকিছু ওলটপালট হয়ে যাচ্ছে, তখন হাতে থাকা মাত্র পাঁচটি ম্যাচ নিয়ে কঠিন চাপের মুখে চেলসি।