
বিশ্বকাপ ফুটবল মানেই কেবল মাঠের লড়াই নয়, নতুন উন্মাদনার নাম হয়ে আসে আসরের অফিশিয়াল বলটি। ১৯৭০ সাল থেকে প্রতিটি বিশ্বকাপে অ্যাডিডাসের বল নিয়ে যে কৌতুহল থাকে, ২০২৬ আসরকে সামনে রেখে তা বহুগুণ বেড়ে গেছে। এবার মেক্সিকো, কানাডা এবং যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে গতির ঝড় তুলতে আছে ‘ট্রাইওন্ডা’। কেবল শৈল্পিক নকশা নয়, প্রযুক্তির বিচারেও এটি ফুটবল ইতিহাসে এক নতুন বিপ্লবের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বিশ্বকাপের বল ‘ট্রাইওন্ডা’ এর নকশায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে তিন আয়োজক দেশ—কানাডা, মেক্সিকো এবং যুক্তরাষ্ট্রের আবহ। 'ট্রাইওন্ডা' নামটি মূলত দুটি শব্দের সমন্বয়—'ট্রাই-' (তিন আয়োজক দেশের প্রতীক) এবং স্প্যানিশ শব্দ 'ওন্ডা' (যার অর্থ তরঙ্গ বা ভাইব)। ১৬টি আয়োজক শহরের ১০৪টি ম্যাচেই মাঠ কাঁপাবে এই বলটি।
এই বলের আনুষ্ঠানিক উন্মোচনের আগে লাস ভেগাসের বিখ্যাত 'স্ফেয়ার'-এ এক জমকালো প্রদর্শনীর আয়োজন করে আডিডাস, যেখানে আগের সব বিশ্বকাপের বলগুলোর এক ঝলক দেখানো হয়।
বলটির নকশায় বেশ কিছু নজরকাড়া বিষয় রয়েছে। এর প্যানেলগুলোতে লাল, সবুজ এবং নীল রঙের ব্যবহার করা হয়েছে, যা তিন আয়োজক দেশের প্রতিনিধিত্ব করে। পাশাপাশি সোনালী রঙের ছোঁয়া রাখা হয়েছে ফিফা বিশ্বকাপের ট্রফির প্রতীক হিসেবে। বলের গায়ের গ্রাফিক্সেও রয়েছে আভিজাত্যের ছাপ—যুক্তরাষ্ট্রের জন্য 'তারকা', মেক্সিকোর জন্য 'ইগল' আর কানাডার জন্য 'ম্যাপল লিফ' বা ম্যাপল পাতা ব্যবহার করা হয়েছে। এই প্রতীকগুলো বলের উপরিভাগে খোদাই করা (এমবসিং) অবস্থায় থাকবে।
অ্যাডিডাসের গ্লোবাল ক্যাটাগরি ডিরেক্টর (ফুটবল হার্ডওয়্যার) সোলনে স্টর্ম্যান বলেন, ‘বলটির প্রতিটি বাহু একেকটি আয়োজক দেশের প্রতি উৎসর্গ করা হয়েছে এবং বলের ঠিক মাঝখানে সেগুলো একটি ত্রিভুজ আকৃতিতে মিলিত হয়েছে। এর মাধ্যমে মূলত এটাই ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, এই তিনটি দেশ একতাবদ্ধ হয়ে বিশ্বকাপ আয়োজন করছে।’
কানেক্টেড বল টেকনোলজি: বলের ভেতরে যখন প্রযুক্তির কারিকুরি
বলের বাইরের কারুকাজ নিয়ে তো অনেক কথা হলো, কিন্তু এর ভেতরেও রয়েছে দারুণ সব চমক। মাত্র চারটি প্যানেল দিয়ে তৈরি এই বলের ভেতরে একপাশে একটি 'মোশন সেন্সর চিপ' বসানো হয়েছে। এই চিপটি প্রতিটি ম্যাচের ভিএআর এবং ভিডিও ম্যাচ অফিশিয়ালদের কাছে তাৎক্ষণিক তথ্য পাঠাবে। এর মূল লক্ষ্য হলো অফসাইড বা হ্যান্ডবলের মতো কঠিন সিদ্ধান্তগুলো আরও দ্রুত এবং নির্ভুলভাবে নিতে সাহায্য করা।
আডিডাসের ফুটবল ইনোভেশন লিড হানেস শেফকে বলেন, ‘খেলোয়াড়রা বলের সঙ্গে কখন কী করছেন বা বলটি কখন কোথায় থাকছে—আমরা প্রতিটি মুহূর্ত ট্র্যাক করতে পারব। একটি লোকাল পজিশনিং সিস্টেমের মাধ্যমে মাঠের প্রতিটি ইঞ্চিতে বলের অবস্থান শনাক্ত করা হবে। এই সেন্সরটি প্রতি সেকেন্ডে ৫০০ বার স্টেডিয়ামের চারপাশের অ্যাঙ্কর পয়েন্টগুলোতে সিগন্যাল পাঠাবে, যা সত্যিই দারুণ একটি ব্যাপার।’
চিপটি যে প্যানেলে আছে, সেটির ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য বাকি তিনটি প্যানেলকে বিশেষভাবে ডিজাইন করা হয়েছে। এটি ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের বলের চেয়ে আলাদা; কারণ কাতার বিশ্বকাপের বলে চিপটি বলের ঠিক মাঝখানে ঝুলন্ত অবস্থায় (সাসপেনশন সিস্টেম) ছিল, আর এবার সেটি একপাশে বসানো হয়েছে।
No posts available.
অপেক্ষার প্রহর আর যেন শেষই হচ্ছে না।বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের কোচ কে হবেন তা নিয়েও জল্পনা থামছে না। কোচ হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে আছেন ওয়েলসের সাবেক কোচ ক্রিস কোলম্যান। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনও (বাফুফে) তাঁকে নিয়ে আগ্রহী, কিন্তু বাজেট সেখানে বড় বাধা। আজ কোচের নাম ঘোষণা করার কথা থাকলেও সেই অপেক্ষা বাড়ছে।
জানা গেছে, কোলম্যান ও তাঁর সহকারী কোচ কিট সিমন্সের পেছনে মাসিক ব্যয় হতে পারে প্রায় ৩১ হাজার ডলার। কর বাবদ আরও প্রায় ৫ হাজার ডলার গুনতে হবে। বাফুফের একার সামর্থ্য নেই সেই অর্থ দেওয়ার। তাই সরকারও সহযোগিতা করতে রাজি। তবে যদি–কিন্তুর সংকট কাটছেই না
আজ পল্টনে প্রথম বিভাগ ব্যাডমিন্টন লিগ উদ্বোধনে এসে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন,
‘বর্তমানে ফুটবলকে কেন্দ্র করে দেশের মানুষের যে ক্রেজ ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, সেটি পূরণ করা আমাদের কাছে সবচেয়ে জরুরি বিষয়। আমি মনে করি, সেই প্রত্যাশা পূরণের জন্য আমি, আমার সরকার এবং আমাদের ফুটবল ফেডারেশন—সবাই বদ্ধপরিকর। ইনশা আল্লাহ, আগামী দুই-তিন দিনের ভেতরেই একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারব।’
বাফুফে দুই বছরের জন্য কোচ নিয়োগ দিতে চায়। কিন্তু আগামী দুই বছরে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের কোনো প্রতিযোগিতামূলক সূচি নেই। আমিনুল বলেন,
‘আমি যখন নিজে মাঠে খেলেছি, তখনও আমরা একটি কথা বলতাম—যেকোনো কোচ এলেই তাঁকে একটি নির্দিষ্ট সময় দেওয়া উচিত। সেই সময়টা পাওয়ার পর তবেই তাঁর কাছ থেকে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল প্রত্যাশা করা যায়। কাজেই আমাদের পরবর্তী যিনি কোচ হবেন, তাঁকেও আমাদের সেই পর্যাপ্ত সময়টুকু দিতে হবে। সময় না দিলে আমরা আসলে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পাব না। আমাদের যে সীমাবদ্ধতা রয়েছে, সেসবের আলোকে আমরা সবকিছু মিলিয়েই আলোচনা করছি।’
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের জন্য বৃহস্পতিবার রাতে দল ঘোষণা করেছে ফ্রান্স। ২৬ সদস্যের সেই দলে জায়গা হয়নি এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গার। রিয়াল মাদ্রিদে খেলা এই অভিজ্ঞ মিডফিল্ডারের বাদ পড়ার ব্যাখায় ফরাসি কোচ দিদিয়ের দেশম জানান, দলের ভারসাম্য রক্ষায় এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে তাকে।
২০২০ সালে ফরাসি জার্সিতে অভিষেক করেন কামাভিঙ্গা। এখন পর্যন্ত ২৯ ম্যাচ খেলে করেছেন ২ গোল। সবশেষ ২৯ মার্চ কলম্বিয়ার বিপক্ষে ফ্রান্সের হয়ে মাঠে নেমেছিলেন ২৩ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার।
বিশ্বকাপের দল ঘোষণার পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন দেশম। সেখানে কামাভিঙ্গাকে বাদ দেওয়ার ব্যাখ্যায় ফরাসি কোচ বলেন,
‘তাঁর জন্য মৌসুমটি বেশ কঠিন ছিল, সে খেলার সুযোগ কম পেয়েছে। তাছাড়া সে চোটেও পড়েছিল। এটা সত্যি যে সে খুব অল্প বয়সেই আমাদের দলে চলে এসেছিল এবং সে এখনো একজন তরুণ খেলোয়াড়।‘
দলের ভারসাম্য রক্ষার কথা উল্লেখ করে ফরাসি কোচ আরও বলেন,
‘যেহেতু দল গঠনের জন্য আমাকে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিতে হয়, তাই রক্ষণভাগ, মধ্যমাঠ এবং আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের মধ্যে একটি ভারসাম্য বজায় রাখতে হয়েছে। তবে আমি কামাভিঙ্গার অনুভূতি বুঝতে পারছি এবং আজ রাতে (বৃহস্পতিবার) তাঁর যে বিশাল হতাশা তৈরি হয়েছে, তা আমি অনুভব করতে পারছি।‘
২০২২ কাতার বিশ্বকাপে রানার্স-আপ হওয়া ফ্রান্স দলের অন্যতম সদস্যও ছিলেন কামাভিঙ্গা। গ্রুপপর্বের একটি ম্যাচ এবং আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ফাইনালে বদলি খেলোয়াড় হিসেবেও মাঠে নেমেছিলেন।
কামাভিঙ্গার মতো নিয়মিত দলের সদস্যকে বাদ দেওয়ার সহজ নয় জানিয়ে দেশম বলেন,
‘আমি জানি কিছু খেলোয়াড়ের জন্য এটি মেনে নেওয়া কঠিন, বিশেষ করে যারা নিয়মিত দলে থাকে। তবে এটাই পেশাদারিত্ব।‘
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের পরই ফ্রান্সের দায়িত্ব ছাড়বেন দেশম। ৫৭ বছর বয়সী এই কোচের অধীনে ২০১৮ সালে নিজেদের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জেতে ফ্রান্স। বিদায়বেলায় নিজ দেশকে আরও একটি ট্রফি উপহার দিতে চান দেশম,
‘বেশ ভালোভাবেই জানি এগুলোই আমার দায়িত্বের শেষ মুহূর্তগুলোর কিছু অংশ। এটি বিশেষ অনুভূতি। আমি আবেগ প্রকাশ করতে খুব একটা অভ্যস্ত নই, বিশেষ করে সংবাদ সম্মেলনে যেখানে প্রতিটি শব্দের ভুল ব্যাখ্যা হতে পারে; তবে আমি ভালো বোধ করছি। এখন আমি আমার সমস্ত শক্তি টুর্নামেন্টের ওপর ফোকাস করছি।‘
আগামী ১১ জুন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপে গ্রুপ ‘আই’ তে ফ্রান্স। ১৬ জুন সেনেগালের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে তাদের অভিযান শুরু হবে। এরপর ২২ জুন ইরাক এবং ২৬ জুন নরওয়ের মুখোমুখি হবে 'দুই বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা'। মূল টুর্নামেন্টের আগে দিদিয়ের দেশমের দল আইভরি কোস্ট এবং নর্দান আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে লে ব্লুজরা।
সমস্যা দলবল বেধেই হানা দেয়। রিয়াল মাদ্রিদের অবস্থাটা ঠিক এমনই নয়? টানা দ্বিতীয়বারের মতো মেজর কোনো ট্রফি ছাড়াই মৌসুম শেষ করতে যাওয়া সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর ক্লাব নানা সমস্যায় জর্জরিত। সতীর্থদের মারামারি, জরিমানা, খেলায়াড়-কোচদের মধ্যে এড়িয়ে চলার ঘটনা হরহামেশা ঘটছে। যার সবশেষ সংযোজন কিলিয়ান এমবাপে ও আলভারো আরবেলোয়া ‘কথা যুদ্ধ’।
বৃহস্পতিবার রাতে লা লিগায় ওভিয়েদোর বিপক্ষে রিয়ালের ২-০ গোলে জয়ের ম্যাচে ৬৯ মিনিটে বদলি হিসেবে নামেন কিলিয়ান এমবাপে। এসময় সমর্থকদের দুয়োর খপ্পরে পড়েন ফরাসি ফরোয়ার্ড। চোট থেকে ফেরা এমবাপেকে সহজভাবে মেনে নিতে পারেনি রিয়াল সমর্থকরা।
ম্যাচের শুরুর একাদশে এমবাপে না দেখে অনেকেই অবাক হয়েছেন। ফরাসি ফরোয়ার্ড নিজেও মনঃক্ষুণ্ণ এ বিষয়ে। ম্যাচ শেষে তার কথায় স্পষ্ট হয়েছে বিষয়টি। সম্প্রচার চ্যানেলকে এমবাপে বলেন,
‘আমি শতভাগ প্রস্তুত। (একাদশে) খেলতে পারিনি, কারণ, কোচ আমাকে জানিয়েছেন, তাঁর কাছে আমি দলের চতুর্থ পছন্দের স্ট্রাইকার। আমি মাস্তানতুয়োনো, ভিনিসিয়ুস ও গঞ্জালো থেকে পিছিয়ে। আমি এটা মেনে নিয়েছি এবং যতটুকু খেলার সময় পেয়েছি খেলেছি। সম্ভবত ভালোই খেলেছি।’
ম্যাচ–পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এমবাপের এমন মন্তব্য নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন আরবেলোয়া। তিনি জানান, এমবাপেকে উদ্দেশ্য করে এমন কিছুই তিনি বলেননি।
রিয়ালের কোচ বলেন,
‘আমার যদি চারজন ফরোয়ার্ড থাকত! আমার তো চারজন ফরোয়ার্ডই নেই। আর আমি এমবাপেকে এমন কিছু কখনোই বলিনি। হতে পারে সে আমার কথা ভুল বুঝেছে। এর বাইরে আমার আর কিছু বলার নেই। কোনো অবস্থাতেই আমি তাকে চতুর্থ পছন্দের ফরোয়ার্ড বলতে পারি না।’
এমবাপের মন্তব্য এবং সাংবাদিকের কার্লিং শটে খেই না হারিয়ে বরং নিজের অবস্থা আরও শক্তিশালী করেন আরবেলোয়া। স্মরণ করান নিজের কর্তৃত্বের কথা।
আরবেলোয়া বলেন,
‘আমি কোচ, কে খেলবে আর কে খেলবে না, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব আমার। ম্যাচের আগে তার সঙ্গে আমার কথা হয়েছিল। সে সেটা কীভাবে নিয়েছে, আমি জানি না।’
২০২৫-২৬ মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে মৌসুমে ৪১ ম্যাচে ৪১ গোল করেছেন এমবাপে। তবে রিয়ালের সাফল্য না পাওয়ার বিষয়টি পুরোপুরি এমবাপের ওপর চাপিয়ে দিতে ব্যস্ত সমর্থকরা। ইতোমধ্যে তাকে রিয়াল থেকে বের করে দিতে পিটিশন চালু করে তারা। যেখানে লাখ লাখ ভোট পড়ে ফরাসি ফরোয়ার্ডের বিপক্ষে।
বিশ্বকাপের জন্য ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করেছে জাপান। শুক্রবার টোকিওতে কোচ হাজিমে মোরিয়াসুসের ঘোষিত সেই দলে জায়গা করে নিয়েছেন দীর্ঘদিন ইনজুরির সাথে লড়াই করা তাকেহিরো তোমিয়াসু।
ইনজুরির কারণে প্রায় দুই বছর ‘সামুরাই ব্লু’দের হয়ে মাঠে নামা হয়নি সাবেক আর্সেনাল ডিফেন্ডার তোমিয়াসুসের। সবশেষ ২০২৪ সালের জুনে সিরিয়ার বিপক্ষে দেশের জার্সি গায়ে জড়িয়েছিলেন তিনি। গত বছর আর্সেনালের সাথে চুক্তি বাতিলের পর বর্তমানে ডাচ ক্লাব আয়াক্সে খেলছেন এই সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার।
জাপান দলে আরও জায়গা করে নিয়েছেন লিভারপুলের অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার ওয়াতারু এন্দো এবং ৩৯ বছর বয়সী অভিজ্ঞ ফুলব্যাক ইউতো নাগাতোমো।
তোমিয়াসুর ফেরার দিনে জাপানের বিশ্বকাপ দলে বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে কাওরু মিতোমার অনুপস্থিতি। চলতি মাসে উলভারহ্যাম্পটনের বিপক্ষে ম্যাচে হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে পড়ায় ব্রাইটন তারকা মিতোমাকে ছাড়াই মেক্সিকো, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বিমান ধরতে হচ্ছে জাপানকে।
গত দুই বিশ্বকাপে শেষ ১৬ থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল সূর্যোদয়ের দেশ জাপানকে। ২০১৮ সালে বেলজিয়াম এবং ২০২২ সালে ক্রোয়েশিয়ার কাছে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল তাদের। কোচ হিসেবে এটি মোরিয়াসুর দ্বিতীয় বিশ্বকাপ।
জাপানের বিশ্বকাপ স্কোয়াড:
গোলকিপার: জায়ন সুজুকি, তোমোকি হায়াকাওয়া, কেইসুকে ওসাকো।
রক্ষণভাগ: ইউতো নাগাতোমো, শোগো তানিগুচি, কো ইতাকুরা, সুয়োশি ওয়াতানাবে, তাকেহিরো তোমিয়াসু, হিরোকি ইতো, আইয়ুমু সেকো, ইয়ুকিনারি সুগাওয়ারা, জুনোসুকে সুজুকি।
মধ্যমাঠ ও আক্রমণভাগ: ওয়াতারু এন্দো, জুনিয়া ইতো, দাইচি কামাদা, কোকি ওগাওয়া, দাইজেন মায়েদা, রিতসু দোয়ান, আয়াসে উয়েদা, আও তানাকা, কেইতো নাকামুরা, কাইশু সান্নো, তাকেফুসা কুবো, ইউইতো সুজুকি, কেন্টো শিগাই ও কেইসুকে গোতো।
২০২৬ বিশ্বকাপ ট্রফি কার হাতে উঠবে? এই মুহূর্তে সবচেয়ে বহুল ব্যবহৃত শব্দ বোধহয় এটিই! ৪৮ দলের অংশগহণে ২০২৬ বিশ্বকাপে যে ক’দল এগিয়ে তার অন্যতম ফ্রান্স। সাবেক দুইবারের চ্যাম্পিয়নদের এগিয়ে রাখার অন্যতম কারণ - ফরাসি দলটির কোচ দিদিয়ের দেশম একজন সত্যিকারের নেতা। যিনি দেশটির প্রথম বিশ্বকাপ জয়ী দলের অধিনায়কও বটে।
শুধুই একজন দুর্দান্ত কোচ রয়েছে ফ্রান্সের বিশ্বকাপমুখী দলে? বরং রায়ান শেরকি, উসমান দেম্বেলে, দেজিরে দুয়ে, জ্যঁ-ফিলিপ মাতেতা, কিলিয়ান এমবাপে, মাইকেল ওলিসে, মার্কোস থুরাম ও ব্র্যাডলি বারকোলাদের নিয়ে ঘটিত আক্রমণভাগ ফ্রান্সকে দিয়েছে শক্ত ভিত। বিশ্বসেরা আক্রমণভাগ এবং একজন স্বপ্নদেষ্টা কোচের কারণেই ক্রিস্তিয়ঁ কাহেম্বুর বিশ্বাস হ্যাটট্রিক শিরোপার পথেই ফ্রান্স।
১৯৯৮ সালে ফরাসিদের প্রথম বিশ্বকাপ জয়ী দলের ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডারের মতে, দিদিয়ের দেশমের হাত ধরে হ্যাটট্রিক বিশ্বকাপ জিতবে ফ্রান্স।
কাহেম্বুর বলেন,
“নঁতে খেলার সময়েই বয়সের তুলনায় সে (দেশম) অনেক পরিণত ছিল। ১৫ কিংবা ১৬ বছর বয়সেই সে সিনিয়র দলকে নেতৃত্ব দিয়েছে। সে খুবই বুদ্ধিমান এবং ক্যারিশম্যাটিক ব্যক্তি- সত্যিকারের নেতা। সে যেভাবে ফ্রান্স, জুভেন্তুস, মার্সেই ও মোনাকোকে নেতৃত্ব দিয়েছে, তাতে প্রমাণ মেলে; সে যেখানেই গেছে, সফলতা তাকে অনুসরণ করেছে। তার ক্যারিয়ার সত্যিই অসাধারণ।”
দেশমের কোচিংয়ে কাতারের গত বিশ্বকাপেও দুর্দান্ত পারফর্ম করে ফ্রান্স। তবে আর্জেন্টিনার কাছে ফাইনালে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয় ফরাসিদের। এবার যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতেও একই লক্ষ্য নিয়ে যাবে ফ্রান্স।
কাহেম্বুর বলেন,
“ফ্রান্সের ফুটবল ইতিহাসে সে সত্যিকারের অভিভাবক, দেশের দুই বিশ্বকাপ জয়েই সে বড় কারিগর ছিল- আমার বিশ্বাস এবার সে হ্যাটট্রিক করবে। সে আগেই ঘোষণা করেছে যে, এটা তার শেষ বিশ্বকাপ। তাই সবচেয়ে বড় শিরোপা, আরেকটি বিশ্বকাপ জিতে তার বিদায় নেওয়াটাই সবচেয়ে দারুণ হবে।”