৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৯:১২ পিএম

দল নিয়ে বেশ কদিনই ক্ষোভ ঝেড়েছিলেন। টটেনহ্যামের বোর্ড কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে রাগ-ঢাক না রেখেই মনের ঝাল মেটান ক্রিস্তিয়ান রোমেরো। সেই রাগের বসেই কি না কে জানে, ক্যারেমিরোকে বাজেভাবেই ফাউল করে বসেন আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার। তাতে সরাসরি লাল কার্ড দিতে একটুও কাল-ক্ষেপণ করেননি রেফারি। সঙ্গে নিশ্চিত হলো রোমেরোর চার ম্যাচে নিষিদ্ধ থাকা। আর রোমেরোর এমন দুঃস্বপ্নের ম্যাচে হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে তাঁর দল টটেনহ্যামকে।
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে আজ আরও একবার ‘রেড ডেভিলদের’ সুদিন ফেরানোর স্বপ্নের পালে জোর হাওয়া দিলেন মাইকেল ক্যারিক। ঘরের মাঠে তাঁর দল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড টটেনহামকে হারিয়েছে ২-০ গোলে। ব্রায়ান এমবুয়েমোর গোলের পর ব্যবধান দ্বিগুণ করা গোলটি করেন ব্রুনো ফার্নান্দেজ।
দেড় বছর ডাগ-আউটে থেকে যেটা করতে পারেননি রুবেন আমোরিম, সেটা মাত্র ২১ দিনেই করে দেখালেন ইউনাইটেডের কাণ্ডারি হয়ে হাজির হওয়ার ক্যারিক। তাঁর কোচিংয়ে লিগে টানা চার জয় পেয়েছে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডের ক্লাবটি। ফেব্রুয়ারি ২০২৪-এর পর প্রথমবার লিগে টানা চার জয় দেখল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড।
পয়েন্ট টেবিলেও পড়েছে ম্যান ইউনাইটেডের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের ছাপ। শীর্ষে থাকা আর্সেনালের সঙ্গে তারা ব্যবধান কমিয়ে এনেছে ৯ পয়েন্টের। ২৫ ম্যাচে ৪৪ পয়েন্ট নিয়ে চার নম্বরে ম্যান ইউনাইটেড।
নিজেদের মাঠে ম্যাচের ২৯ মিনিট থেকে একজন বেশি নিয়ে খেলার সুবিধা পাওয়া ইউনাইটেড সব পরিসংখ্যানেই টটেনহ্যাম থেকে ঢের এগিয়ে ছিল। ৬৫ শতাংশ বল দখলে রেখে ২৩টি শট নেয় ক্যারিকের দল, লক্ষ্যে রাখে দশটি। বিপরীতে সাতটি শট নেওয়া টটেনহাম মাত্র একটি গোলমুখে রেখেছে।
২৯ মিনিটে ভয়াবহ ভুল করে দলকে বিপদে ফেলেন টটেনহাম ডিফেন্ডার রোমেরো। ক্যাসেমিরোকে ভয়াবহ ট্যাকল করে বসেন তিনি। সঙ্গে সঙ্গেই লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার। অপ্রত্যাশিত এক রেকর্ডেও নাম উঠে যায় তাঁর। রোমেরো এখন পর্যন্ত প্রিমিয়ার লিগে চারটি রেড কার্ড পেয়েছেন। টটেনহামের কোনো খেলোয়াড়দের মধ্যে এটি যৌথ সর্বোচ্চ। ক্লাবটির ইতিহাসে রোমেরোর সমান লাল কার্ড দেখেছেন শুধু ইউনেস কাবুল।
৯ মিনিট পরই ১০ জনের টটেনহামের জালে বল পাঠিয়ে ইউনাইটেডকে এগিয়ে নেন এমবুয়েমো। ব্রুনো ফার্নান্দেসের নেওয়া কর্নার রিসিভ করেন কোবি মাইনুর। ইংলিশ মিডফিল্ডার বল বাড়িয়ে দেন এমবুয়েমোর দিকে। তারপর ১৫ গজের দূর থেকে ক্যামেরুন ফরোয়ার্ড সাইড-ফুটেড ফিনিশে ঠাণ্ডা মাথায় বল জালের ডান দিকের নিচের কোণে পাঠান।
দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের পসরা সাজানো ইউনাইটেড ৮১ মিনিটে ব্যবধান ২-০ করে। দিয়োগো দালোতের ক্রস থেকে বল জালে পাঠান ব্রুনো ফার্নান্দেস। লিগে চলতি মৌসুম সাত গোলের সঙ্গে ১৩ অ্যাসিস্ট হলো পর্তুগিজ মিডফিল্ডারের।
উড়তে থাকা ম্যান ইউনাইটেডের পরের ম্যাচ ওয়েস্ট হামের বিপক্ষে। লিগে মঙ্গলবার প্রতিপক্ষের মাঠে নামবে ‘রেড ডেভিলরা’।
No posts available.
৩ এপ্রিল ২০২৬, ১১:২৭ পিএম

দুই দলের আক্রমণাত্মক শুরুর পরও গোলের দেখা পায়নি কোনো দল। এরপর নির্ধারিত সময়ের খেলা শেষে টাইব্রেকারে ভারতকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছে বাংলাদেশ। টাইব্রেকারে ভারতের একটি শট ঠেকিয়ে নায়ক বনে যান গোলকিপার ইসমাইল হোসেন মাহিন।
শুক্রবার সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে আজ ভারতকে (৪)০-০(৩) ব্যবধানে হারায় বাংলাদেশ। সর্বশেষ ২০২৪ সালেও শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ।
তবে অনূর্ধ্ব-১৯ ক্যাটাগরিতে গতবছর ভারতের কাছে পেনাল্টিতে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল লাল সবুজের প্রতিনিধিদের। সেই ফাইনালের শোধও আজ নেওয়া হলো বাংলাদেশের।
চতুর্থ মিনিটে ডান দিকের কর্নারের কাছ থেকে রোহেন সিংয়ের ক্রসে বক্সে মাথা ছোঁয়ান আরবাশ। তবে বল বেরিয়ে যায় পোস্টের অনেকটা বাইরে দিয়ে। তিন মিনিট পর রোনানের শট সহজেই তালুবন্দি করেন ভারতীয় গোলকিপার সুরাজ সিং। প্রতি আক্রমণে বাংলাদেশ গোলকিপার মাহিনের পরীক্ষা নেয় ভারত।
১৩ মিনিটে রোনারের দারুণ ফ্রি কিক থেকে বক্সে হেড নেন মিঠু। তবে অল্পের জন্য বল খুঁজে পায়নি জালের দেখা। অল্পের জন্য গোল না পেয়ে হতাশায় মুখ ঢাকেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।
১৯ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে মানিকের পাসে গোলমুখের সামনে রোনানের দারুণ প্রচেষ্টা আটকে দেন প্রতিপক্ষ গোলকিপার।
৩২ মিনিটে বিপদ থেকে বেঁচে যায় বাংলাদেশ। গোলকিপার মাহিন পোস্ট ছেড়ে কিছুটা উপরে উঠে আসেন, তবে বলের নাগাল পাননি। এ সময় বক্সের আশেপাশেই বল নিয়ে আতঙ্ক ছড়ায় ভারত, তখনও ফাঁকা পোস্ট; ডিফেন্ডারদের কল্যাণে এ যাত্রায় অরক্ষিত থাকে বাংলাদেশের পোস্ট। দুই মিনিট পর সেই একইভাবে উপরে উঠে এসে বাংলাদেশকে বিপদে প্রায় ফেলছিলেন মাহিন। এবারও রক্ষণভাগের খেলোয়াড়েরা ছিলেন সজাগ।
৩৬ মিনিটে আবারও গোলের ভালো সুযোগ তৈরি করে ভারত। কর্নার কিকের পর গোলমুখের সামনে জটলা তৈরি হয়। একাধিক প্রচেষ্টার পর গোলে হেড নেন ভারতের জর্ডিক আবরানচেস। তবে অনায়াসেই বল গ্লাভসবন্দি করেন মাহিন।
যোগ করা সময়ে মোর্শেদের ফ্রি কিক ভারতীয় রক্ষণের দৃঢ়তায় ফিরে আসে। বক্সের একদম সামনে থেকে ফিরতি বলে অনেকটা ওভারহেড কিকের মতো শট নেন রোনান। তবে বল চলে যায় পোস্টের উপরে দিয়ে। এ সময় টানা আক্রমণে ভারতীয় রক্ষণকে নাড়িয়ে দেয় বাংলাদেশ। যদিও গোল আদায় করতে পারেননি রোনান, মোর্শেদরা। শেষ পর্যন্ত গোলশূন্য বিরতিতে যায় দুই দল।
৪৮ মিনিট থেকে ভারত আক্রমণাত্মক মেজাজে খেলা শুরু করলেও বাংলাদেশের রক্ষণভাগ ছিল অটুট। ৫১ মিনিটে ভারত টানা আক্রমণ চালিয়ে বলের পজিশন নিজেদের দখলে রাখার চেষ্টা করে। তবে ৫৪ মিনিটে কাউন্টার অ্যাটাকে গিয়ে ভারতকে চাপে ফেলে দেয় বাংলাদেশ।
ম্যাচের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মাঠের পরিবেশও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ৬২ মিনিটে গোলের ভালো সুযোগ আসে রোনানের সামনে। বক্সের সামনে থেকে মানিকের উড়িয়ে মারা বল বুক দিয়ে মাটিতে নামাতে চাইলে নিয়ন্ত্রণ হারান এই ফরোয়ার্ড। দুই মিনিট পর থ্রো থেকে বাংলাদেশের রক্ষণের পরীক্ষা নেয় ভারত।
৬৬ মিনিটে নাজমুল ফয়সালকে তুলে ডেকলান সুলিভানকে মাঠে নামান বাংলাদেশ কোচ। ৮২ মিনিটে আরবাশের দূরপাল্লার শট বাংলাদেশের উপরের জাল কাঁপায়। পরের মিনিটে ৮ এর নিচু ক্রসে গোলমুখের সামনে বলে টোকা দেন রিসি যাদব। তবে বল চলে যায় দূরের পোস্ট ঘেঁষে।
৯০ মিনিটে প্রতি আক্রমণে উঠে বাংলাদেশ। তবে বক্সে ঢুকলে ডেকলানকে কর্নার করে দেন ভারতের ডিফেন্ডার বুনসং সিং। এরপর সেট পিসে অসফল হয় বাংলাদেশ।
যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে সুলিভান ব্রাদার্সের জোড়া ক্যামিওতে গোলের ভালো সুযোগ তৈরি করে বাংলাদেশ। ডেকলান ডানপ্রান্ত দিয়ে গতিময় দৌড়ে বক্সের দারুণ এক পাস দেন রোনানকে। তবে এই ফরোয়ার্ড শট নেওয়ার আগে ভারতের গোলকিপার সুরাজ সিং আটকে দেন।
একটু পরই শেষ হয় নির্ধারিত সময়ের খেলা। নিয়ম অনুযায়ী ৯০ মিনিট শেষে ফাইনাল নিস্পত্তি হওয়ার কথা ছিল পেনাল্টি শ্যুটআউটে। যেখানে আগে শট পায় ভারত।
প্রথম পেনাল্টি কিক ঠেকিয়ে দেন মাহিন। ভারতের রিষি সিংয়ের নেওয়া নিচু শট ডান দিকে ঝাপিয়ে ঠেকিয়ে দেন বাংলাদেশ গোলকিপার। এরপর বা-পায়ের নিচু শটে বাংলাদেশকে এগিয়ে দেন মোর্শেদ।
নিজেদের দ্বিতীয় শটে মোহাম্মদ আরবাশ গতিময় শটে পরাস্ত করেন মাহিনকে। ঠান্ডা মাথায় বাংলাদেশের দ্বিতীয় শটে জাল কাঁপান চন্দন রায়।
তৃতীয় শটে স্যামসন সমতায় ফেরান ভারতকে। তবে বাংলাদেশের হাতে তখনও এক বাকি ছিল। আবদুল রিয়াদ ফাহিমের সফল স্পটকিকে আবার লিড নেয় বাংলাদেশ।
ভিশাল যাদব চতুর্থ শটে আবার সমতায় ফেরান ভারতকে। তবে বাংলাদেশের স্যামুয়েল রাাকশাম টপ কর্নার দিয়ে লক্ষ্যভেদ করতে চাইলে পোস্টে লেগে ফিরে আসে। দুই দলের চার শট নেওয়ার পর ৩-৩ সমতা বিরাজ করে। এরপর শেষ শট নিতে এসে একইভাবে মিস করেন ভারতের ওমাং দোদুম। ফাইনাল কিক নিতে এসে কোনো ভুল করেননি রোনান। চাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে ভারতকে হারিয়ে শিরোপা ধরে রাখে বাংলাদেশ।

আন্তর্জাতিক বিরতির পর ফিরল ক্লাব ফুটবলের রমরমা উৎসব। লা লিগায় শুরু হচ্ছে আজ। স্প্যানিশ লিগটিতে রিয়াল মাদ্রিদ মাঠে নামবে আগামীকাল। মায়োর্কার বিপক্ষে ম্যাচটিকে লিগের নয়টি ‘ফাইনালের’ একটি বলছেন লস ব্লাঙ্কোসদের কোচ আলভারো আরবেলোয়া।
লিগ জেতার দৌড়ে এগিয়ে থাকতে মৌসুমের শেষ অংশ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এক একটি ম্যাচেই বদলে যেতে পারে সমীকরণ। লা লিগায় পয়েন্ট টেবিলে দুই নম্বরে আছে রিয়াল মাদ্রিদ। ২৯ ম্যাচে ২২ জয়, ৩ ড্র ও ৪ হারে ক্লাবটির সংগ্রহ ৬৯। সমান ম্যাচ খেলে শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার চেয়ে চার পয়েন্ট পিছিয়ে আছে তারা।
লিগে বাকি আছে আর নয়টি ম্যাচ। প্রতিটি ম্যাচকেই ফাইনাল ধরে এগোতে চান রিয়াল কোচ আরবলোয়া,
‘আমরা যারা এখানে থেকে কাজ করেছি, আমরা কঠোর এবং কার্যকরভাবে প্রস্তুতি নিয়েছি। আগামীকালের ম্যাচ এবং ঘরের মাঠে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে আমরা সম্পূর্ণভাবে সচেতন। প্রতিপক্ষও যেমন পয়েন্টের জন্য লড়ছে, আমরাও তেমনি। বিরতির পর মাঠে খেলতে সহজ হবে না। লা লিগায় আমাদের সামনে নয়টি ফাইনাল বাকি, এবং আগামীকাল প্রথম ফাইনাল।’
কোনো খেলোয়াড়ের চোট ছাড়া আন্তর্জাতিক বিরতি শেষ হওয়ায় স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছেন আরবেলোয়া,
‘খেলোয়াড়রা আন্তর্জাতিক ম্যাচ থেকে ভালোভাবে ফিরেছে। সৌভাগ্যক্রমে, সবাই নিরাপদ এবং সুস্থ রয়েছে, যা জাতীয় দলের সঙ্গে যাত্রার প্রথম উদ্দেশ্য। অধিকাংশ খেলোয়াড়ের ইতিবাচক অভিজ্ঞতা হয়েছে—মিনিট পেয়েছে এবং উচ্চ মানের ফুটবল খেলেছে।’
চলতি মৌসুমে সম্ভাব্য দুটি শিরোপা জিততে পারে রিয়াল মাদ্রিদ। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ম্যাচ ধরে ধরে সতর্কতার সঙ্গে শেষ করতে চান আরবেলোয়া। ঘরের মাঠে কাল অবনমন অঞ্চলে থাকা মায়োর্কার বিপক্ষে ম্যাচটি সহজ হবে না বলছেন তিনি,
‘আমরা সেখানে পৌঁছেছি যেখানে আমরা চেয়েছিলাম—লা লিগা এবং চ্যাম্পিয়নস লিগ উভয়ের জন্য লড়াই করতে। আমাদের একমাত্র লক্ষ্য আগামীকালের ম্যাচ জেতা, আর মায়োর্কা ম্যাচ শেষ হলে আমরা পরবর্তী ম্যাচের দিকে নজর দেব। প্রতিটি ম্যাচেই আমরা লিগ ও চ্যাম্পিয়নস লিগের জন্য খেলছি। কোনো ভুল করার সুযোগ নেই, এবং তাই আগামীকাল মাঠে নামার সময় আমাদের পূর্ণ সচেতন থাকতে হবে—কারণ এটি একটি কঠিন লড়াই হতে যাচ্ছে।’
আন্তর্জাতিক বিরতির পর প্রায়ই বড় দলগুলোকে হোঁচট খেতে দেখা যায়। দলের সঙ্গে মানিয়ে নিতে খানিকটা বেগ পেতে হয় খেলোয়াড়দের। তবে শিষ্যরা প্রস্তুত বলেই মনে করছেন রিয়ালের কোচ,
‘বিরতির পর আবার ম্যাচের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া সহজ হয় না, তবে আমি খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণ, তাদের ইচ্ছা, মনোভাব, মানসিক দৃঢ়তা এবং আত্মবিশ্বাসে ভরসা করি। আমি তাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ও প্রেরণা দেখছি। তারা মানসিকভাবে প্রস্তুত লিগ ও চ্যাম্পিয়নস লিগের জন্য লড়াই করতে, জানি যে এটি সহজ হবে না।’

মিশরের বিপক্ষে স্পেনের প্রীতি ম্যাচে দর্শকদের ইসলামবিদ্বেষী স্লোগান তোলপাড় সৃষ্টি করেছে স্পেনের ফুটবলে। বর্ণবাদী এই ঘটনায় দেশটির ফুটবল সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তি ছাড়াও রাষ্ট্রীয়ভাবে কড়া নিন্দা জানানো হয়েছে। পাশাপাশি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও নিশ্চিত করা হয়েছে। ইসলামবিদ্বেষী স্লোগানের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান স্প্যানিশ তারকা লামিনে ইয়ামাল। এবার এ নিয়ে কড়া বার্তা দিলেন বার্সেলোনার কোচ হান্সি ফ্লিকও।
লা লিগায় আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে ম্যাচের আগে ইয়ামালের সাহসিকতার প্রশংসা করেন ফ্লিক। আর যারা এই ধরনের স্লোগান দিয়েছে তাদের কঠোর সমালোচনাও করেছেন কাতলান ক্লাবটির কোচ,
‘আমি মনে করি লামিনে একটি অসাধারণ বিবৃতি দিয়েছে। ফুটবল মানেই সহবস্থান। কিছু মানুষ এটা বুঝতে পারছে না, এটা হতাশাজনক।’
ফ্লিক আরও বলেন,
‘এখন সময় এসেছে ভেবে দেখা এবং আমাদের জীবন ও ফুটবল থেকে আমরা কী চাই তা নির্ধারণ করার। আমরা বর্ণবাদ চাই না। আমরা সবাই চাই যে আমাদের সম্মান জানানো হোক—জাতি বা ধর্ম নির্বিশেষে। পরিবর্তনের সময় এসেছে।’
বার্সেলোনায় আরসিডিই স্টেডিয়ামে মুসলিমপ্রধান দেশ মিসর ও স্পেনের মধ্যকার ম্যাচের প্রথমার্ধে গ্যালারি থেকে মুসলিমবিরোধী স্লোগান শোনা যায়। স্লোগানগুলো সরাসরি ইয়ামালকে লক্ষ্য করে না হলেও তিনি বিষয়টিকে ব্যক্তিগতভাবেই নেন।
ইয়ামাল তাঁর পোস্টে লেখেন,
‘আমি মুসলিম, আলহামদুলিল্লাহ। স্টেডিয়ামে “তুমি যদি লাফ না দাও, তবে তুমি মুসলিম”—এ ধরনের স্লোগান দেওয়া হচ্ছিল। আমি জানি, এগুলো প্রতিপক্ষকে লক্ষ্য করে বলা হয়েছে, ব্যক্তিগতভাবে আমাকে নয়। তবু একজন মুসলিম হিসেবে এটি অসম্মানজনক এবং সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।’
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এ ঘটনাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে নিন্দা জানান। তিনি লেখেন,
‘মুষ্টিমেয় অসভ্য লোকের আচরণে স্পেনকে আমরা কলঙ্কিত হতে দিতে পারি না। স্পেন একটি বহুত্ববাদী ও সহনশীল দেশ।’
ইসলামবিদ্বেষী স্লোগানের স্পেনের তদন্তের পাশপাশি ফিফাও বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থাটি ম্যাচের বিভিন্ন প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করবে। ফলে স্পেনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে।

দীর্ঘ ৯ বছরের সম্পর্কের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা মোহামেদ সালাহকে নিয়ে আবেগঘন মন্তব্য করেছেন লিভারপুলের কোচ আর্নে স্লট। বিদায়ী মৌসুমে ক্লাবকে আরও দুইটি শিরোপা জিতিয়ে ক্লাব ছাড়বেন সালাহ- এটাই প্রত্যাশা স্লটের।
শনিবার বিকেলে এফএ কাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে ম্যানচেস্টার সিটির মুখোমুখি হবে লিভারপুল। এই ম্যাচের আগে উঠে আসে সালাহর বিদায়ের প্রসঙ্গও। তখন মিশরিয়ান কিংবদন্তিকে নিয়ে উচ্চকিত মন্তব্যই করেন লিভারপুল কোচ।
“এই ক্লাবের জন্য সালাহ যা করেছেন, তা অবিশ্বাস্য। এত বছর ধরে প্রতি তিন দিন পরপর মাঠে নেমে গোল করা, অ্যাসিস্ট করা- তার প্রভাব ছিল অসাধারণ। আমি শুধু আশা করি, মৌসুম শেষে বিদায়ের আগে সে আরও দুইটি ট্রফি জিতবে।”
গত সপ্তাহেই ঘোষণা দিয়েছেন, চলতি মৌসুম শেষে লিভারপুল ছাড়বেন সালাহ। ২০১৭ সালে ক্লাবে যোগ দেওয়ার পর এখন পর্যন্ত ২৫৫ গোল করেছেন এই মিশরীয় ফরোয়ার্ড।
লিভারপুলের দুটি প্রিমিয়ার লিগ, একটি এফএ কাপ, দুটি লিগ কাপ ও একটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপায় তিনি রেখেছেন বড় অবদান।
এবার এফএ কাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে ম্যান সিটির বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন সালাহ- এটাই আশা স্লটের।
প্রিমিয়ার লিগে লিভারপুল বর্তমানে পঞ্চম স্থানে, শীর্ষে থাকা আর্সেনালের চেয়ে ২১ পয়েন্ট পিছিয়ে। তবে ইউরোপে এখনও আশা বেঁচে আছে। ইউয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার-ফাইনালে উঠেছে তারা। আগামী বুধবার প্যারিসে পিএসজির বিপক্ষে কঠিন লড়াই অপেক্ষা করছে স্লটের দলের সামনে।

গুরুত্বপূর্ণ সময়ে মৌসুমে নিজেদের সেরা ফুটবলারকে নিয়ে অনিশ্চিয়তায় বায়ার্ন মিউনিখ। চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে ম্যাচে হ্যারি কেইনকে পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় আছে বাভারিয়ানরা।
চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার-ফাইনালের প্রথম লেগে মঙ্গলবার রিয়ালের মুখোমুখি হবে বায়ার্ন। স্প্যানিশ জায়ান্টদের ডেরা সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে কেইনের খেলতে পারা নিয়ে সন্দিহান বায়ার্ন কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানি। গোড়ালির চোটে পড়ে মাঠের বাইরে আছে ইংলিশ অধিনায়ক।
উরুগুয়ের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের ১-১ ড্র ম্যাচে বিশ্রামে ছিলেন ৩২ বছর বয়সী কেইন। পরে অনুশীলনে চোট পাওয়ায় জাপানের বিপক্ষে ১-০ গোলে যাওয়া ম্যাচেও খেলেননি বায়ার্নের ইংলিশ ফরোয়ার্ড।
বুন্দেসলিগায় ফ্রেইবুর্গের বিপক্ষে ম্যাচের আগে বায়ার্ন কোচ কোম্পানি জানিয়েছেন,
‘জাতীয় দলে অনুশীলনের সময় গোড়ালিতে ব্যথা অনুভব করেন কেইন। ফলে লিগের এই ম্যাচে তাঁর থাকার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।’
কেইনের চোটের পরিস্থিতি যে খুব একটা ভালো না—সেটা স্বীকার করেও অবশ্য আশার আলো দেখছেন বায়ার্ন কোচ। কোম্পানির বিশ্বাস, চ্যাম্পিয়নস লিগ কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে স্প্যানিশ জায়ান্টদের বিপক্ষে ফিরতে পারবেন কেইন।
আন্তর্জাতিক বিরতিতে কেইনের চোট নিয়ে ইংল্যান্ড কোচ থমাস টুখেল জানিয়েছিলেন, ‘প্রায় হঠাৎ করেই ছোট একটি চোট পায় সে।’ অনুশীলনের মাত্র ১৫ মিনিট পরই মাঠ ছাড়তে হয় তাকে। টুখেল সাফ জানিয়ে দেন, ওই ম্যাচে খেলার ‘কোনো সম্ভাবনাই ছিল না।’
চলতি মৌসুমে দুর্দান্ত ছন্দে আছেন কেইন। বুন্দেসলিগায় ২৬ ম্যাচে করেছেন ৩১ গোল, আর চ্যাম্পিয়নস লিগে ৯ ম্যাচে তার গোল সংখ্যা ১০।