
বাবা হিমশিম খেতেন চার সন্তানের মুখে খাবার তুলে দিতে। একবেলা পৌরসভায় মালির চাকরি, অন্যবেলায় এলাকার ক্লাবে কিট ম্যান। এতসবের মধ্যেও রোনালদোকে ফুটবলার বানাতে ছিল আপ্রাণ প্রয়াস। সেই বাবা আজকের রোনালদোকে দেখে যেতে পারেননি। যা নিয়ে দ্য গ্রেটের আক্ষেপের অন্ত নেই।
সালটা ১৯৮৫। মাদেইরাতে রোনালদো যখন মায়ের গর্ভে। ডাক্তার বলেছিলেন বাচ্চাটা রাখা মায়ের আর সন্তানের দুজনের জন্যেই ক্ষতির কারণ হতে পারে। তবে মায়ের মন মানেনি কোন ভাবেই। হাজারো অনিশ্চয়তার ভীড়ে নিজের সন্তানকে জন্ম দেন ঠিকই। আর বিশ্ব পায় ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো দস সান্তোস অ্যাভেইরোকে।
সেই দিনের একে একে কত বসন্ত পার হলো। আজকের ৫ ফেব্রুয়ারিতে সংখ্যাটা নাকি ৪০ হলো, রোনালদো? সত্যিই, এসব অবিশাস্য কিছুও বিশ্বাস করতে হয়? আমরা তো আজও সেই তরুণ রোনালদোকেই দেখি। যে গোল করে, গোল করায়। নিত্যনতুন উদযাপন করে দেখায়। আচ্ছা, সংখ্যাটাই স্রেফ বেড়েছে। নাহ বয়স কিন্তু আপনার বাড়ছে না রোনালদো। ওই বয়স নামক বস্তুটা আপনাকে ছুঁতেই পারেনা। তাইতো ওসব চল্লিশ টল্লিশ কেউ গোনে না, আপনার ১০০০ গোলের স্বপ্নে দিবারাত্রি বিভোর ভক্তরা।
মাদেইরায় সেদিন আপনার পরিবার আপনাকে পেয়ে কতটা খুশি হয়েছিল? পরিবারের সবচেয়ে ছোট্ট মেহমান হিসেবে তারা পেয়েছিল আপনাকে। ঘরে তো আরো সন্তান ছিল আপনি কি আলাদা ছিলেন তাদের থেকে? ছিলেন। আপনি তো আলাদাই, সেটা সেদিন কেউ না বুঝলেও আজ গোটা দুনিয়া জানে।
আমরা রোনালদোকে দেখি। রোনালদোর প্রাপ্তি দেখি। দেখি গোল, দেখি রেকর্ড। অথচ রোনালদোর অন্য একটা পাশ রয়েছে। যেখানে থাকে অপ্রাপ্তি নামক শব্দটাও। যেখানে থাকে বাবার সাথে মন খুলে কথা না বলতে পারার আফসোস।
বাবা মাঝে মাঝে স্কুল পরিষ্কারেরও কাজ করতেন। তার জন্য দিনের পর দিন বন্ধুদের থেকে শুনতে হতো খোঁটাও। রোনালদো সবই মনে রেখেছেন। পড়াশোনাটা যে তাকে দিয়ে হচ্ছে না তা বুঝে গিয়েছিলেন আগেই। তার ধ্যান জ্ঞ্যান ছিল ফুটবল, ঘুমোতেও জেতেন ফুটবল কোলে নিয়ে। তারপর একদিন সেই ফুটবলই তো দূর করল তার সব অভাব, দারিদ্র, দুঃখ, কষ্ট।
একদিন কি নিদারুণ অভাব-অনটন কাঁদিয়েছে আপনাকে। কষ্ট দিয়েছে, শিখিয়েছে শক্ত হতে। চার ভাই বোন মিলে বেড়ে উঠেছেন একটা কামরার মধ্যে। গাদাগাদি করে থাকা সেই রাতগুলো? আহ, কেউই দেখেনি সেই অন্ধকারে আপনার আলোয় ঝলমল করা চোখ জোড়াকে। মাদেইরার একটা ছোট্ট ঘর থেকে যে চোখ জোড়া স্বপ্ন দেখেছিল দুনিয়া শাসনের।
রোনালদো প্রায় অনেক ইন্টারভিউতেই আফসোস করে বলেন, নিজের পরিবারে তিনি হীরের টুকরো ছিলেন। বাবা অনেক প্রাউড ফিলও করতেন তাকে নিয়ে। তবে বাবার সাথে কখনও মন খুলে কথা বলা হয়নি। ২০০৫ এ চলে যাওয়া লোকটা এর পরের গল্পটা দেখেননি। তবে রোনালদোর বিশ্বাস, ওপার থেকে ঠিক দেখেন। দুনিয়া জয় করা রোনালদোর এ এক না শেষ হওয়া আক্ষেপের গল্প।
জন্মদিনে আমরা রোনালদোর রেকর্ড দেখি, গোল দেখি, সংখ্যার খেলায় মাতি। আজ নাহয় একটা ছোট্ট শহরের ছোট্ট ছেলের দুনিয়া জয়ের পর তার ভেতের থাকা আফসোসের উপাখ্যান জানলাম। রোনালদো আপনার সে আফসোস এ জগতের কেউই মেটাতে পারবে না। তবে জন্মদিনে একটা শুভেচ্ছাবার্তা রেখে বলতে চাই, আপনি আপনার পরিবারেরই না গোটা দুনিয়ার জলজল করা এক হীরের টুকরো। বয়সের ঘর কেউ মনে রাখবে না। আপনি রোনালদো। বয়স উপাখ্যানটা আপনার জন্য না।
ওই যে আপনি বলেন না, আপনার ভালোবাসা আমাকে শক্তিশালী করে, আপনার ঘৃণা আমাকে অপ্রতিরোধ্য করে।" এই কথার মতোই আপনি যেমন ওদের ঘৃণার কাছে অপ্রতিরোধ্য। তেমনি বয়সের কাছেও।
No posts available.

চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোর প্রথম লেগে পিএসজির মাঠে ৫-২ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছে চেলসি। বুধবার প্যারিসের পার্ক দেস প্রিন্সেসে মাঠের পারফরম্যান্সের চেয়েও বেশি আলোচনায় চেলসি উইঙ্গার পেদ্রো নেতো। ম্যাচের ইনজুরি টাইমে মেজাজ হারিয়ে এক বল বয়কে ধাক্কা দিয়ে বসেন পর্তুগিজ তারকা।
ঘটনা ম্যাচের ৯০+১ মিনিটে, তখন ৪-২ ব্যবধানে পিছিয়ে চেলসি। একে তো অন্তিম মুহুর্তে। তার মধ্যে বল দিতে দেরি করছিল বল বয়। মেজাজ হারিয়ে ওই বল বয়কে ধাক্কা দিয়ে বসেন নেতো।
যদিও ভিএআর চেক করার পর কোনো কার্ড দেখানো হয়নি, তবে ম্যাচ শেষে নিজের ভুল বুঝতে পেরে ওই বল বয়ের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
টিএনটি স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে চেলতি তারকা বলেন, ‘ওই বল বয়ের কাছে ক্ষমা চেয়েছি। ম্যাচ হারের হতাশায় দ্রুত বল পাওয়ার তাড়না থেকে আবেগের বশে তাকে একটা ধাক্কা দিয়ে ফেলেছিলাম। আমি আসলে এমন মানুষ নই। ম্যাচের উত্তেজনার এমনটা হয়ে গেছে।’
আরও পড়ুন
| একজনের অনুরোধে ভারতের কোচের দায়িত্বে গম্ভীর |
|
নেতোর ফরাসি ফরাসি ভাষায় দক্ষতা কম হওয়ায় তার জাতীয় দলের সতীর্থ ও পিএসজি তারকা ভিতিনহা মধ্যস্থতা করতে এগিয়ে আসেন। তিনি ওই বল বয়কে বুঝিয়ে বলেন, নেতো আসলে শান্ত স্বভাবের মানুষ।
সেই বল বয়ের কাছে ৩৫ বার ক্ষমা চাওয়ার কথা জানিয়ে নেতো বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত সে (বল বয়) হেসেছে। আমি তাকে আমার জার্সি দিয়েছি এবং অন্তত ৩৫ বার 'সরি' বলেছি। সে বিষয়টি বুঝতে পেরেছে এবং এখন খুশি।’
চেলসির প্রধান কোচ লিয়াম রোরেনিয়রও এই ঘটনার জন্য ক্লাবের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চেয়েছেন। বল বয়কে ধাক্কা দেওয়ার ঘটনায় ইউরোপের ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা (ইউয়েফা) নেতোর বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয় কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
চেলসি ও পিএসজির কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ের ভাগ্য নির্ধারিত হবে আগামী মঙ্গলবার স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে ফিরতি লেগে। তার আগে শনিবার প্রিমিয়ার লিগে নিউক্যাসল ইউনাইটেডের কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে ব্লুজদের।

লিওনেল মেসির ক্যারিয়ারের ৯০০তম গোলের ঐতিহাসিক মুহূর্তটি দেখার অপেক্ষায় ছিল ফুটবল বিশ্ব। তবে কনকাকাফ চ্যাম্পিয়নস কাপের শেষ ষোলোর প্রথম লেগের ম্যাচে সেই অপেক্ষা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে ন্যাশভিল এসসি।
আজ ভোরে ন্যাশভিলের মাঠে গোলশূন্য ড্র করেছে বর্তমান এমএলএস চ্যাম্পিয়ন ইন্টার মায়ামি। আগামী বুধবার ইন্টার মায়ামির ঘরের মাঠে হবে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার ফয়সালা।
আরও পড়ুন
| চেলসির বিপক্ষে ৭ গোলের রোমাঞ্চে এগিয়ে গেল পিএসজি |
|
গত শনিবার ডিসি ইউনাইটেডের বিপক্ষে এমএলএসের লিগ ম্যাচে মায়ামির জার্সিতে ৮০ এবং ক্যারিয়ারের মোট ৮৯৯তম গোল করেছিলেন মেসি। যার মধ্যে বার্সেলোনার হয়ে ৬৭২, পিএসজির হয়ে ৩২ এবং আর্জেন্টিনার জার্সিতে ১১৫ আন্তর্জাতিক গোল রয়েছে।
এদিন ম্যাচের ৫৭ মিনিটে ডি-বক্সের ডান প্রান্ত থেকে নেওয়া মেসির ডান পায়ের শটটি দারুণভাবে রুখে দেন ন্যাশভিল গোলকিপার ব্রায়ান শোয়াক। ৯ মিনিট পর ন্যাশভিলকেও হতাশ হতে হয়। ক্রিশ্চিয়ান এস্পিনোজার কর্নার থেকে রিড বেকার-হুইটিংয়ের জোরালো হেড ঝাঁপিয়ে পড়ে রক্ষা করেন মায়ামির গোলকিপার ডেন সেন্ট ক্লেয়ার। রক্ষণভাগের খেলোয়াড়দের দৃঢ়তায় শেষ পর্যন্ত কোনো দলই গোলের দেখা পায়নি।
প্রথম লেগে গোল না পেলেও মায়ামি তাদের ঘরের মাঠে ফিরতি লেগের আগে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। আগামী বুধবার নিজেদের মাঠে জয় পেলেই চ্যাম্পিয়নস কাপের পরবর্তী রাউন্ডে জায়গা করে নেবে মেসির দল।
তার আগে এমএলএসে শার্লট এফসির বিপক্ষে রোববার ভোরে মাঠে নামবে মায়ামি। সমর্থকদের প্রত্যাশা, সেই ম্যাচেই কাঙ্ক্ষিত ৯০০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করবেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক।

ম্যানচেস্টার সিটি ম্যাচের আগে কিলিয়ান এমবাপে, জুড বেলিংহাম ও রদ্রিগোর একসঙ্গে না থাকা নিয়ে আলোচনা হলো বেশ। চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোর প্রথম লেগ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে; তবুও অনেকেই পিছিয়ে রাখলেন রিয়াল মাদ্রিদকে। শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি ৩-০ গোলে জিতেছে লস ব্ল্যাঙ্কোসরা। দাপুটে জয়ের পর রিয়াল মাদ্রিদ কোচ আলভারো আরবেলোয়া বলেছেন, ‘রিয়াল মাদ্রিদকে কখনও বাদ দেওয়া উচিত নয়।’
বুধবার রাতে রিয়ালের সামনে সেভাবে দাঁড়াতে পারেনি ম্যানচেস্টার সিটি। বেশ কয়েকবার আক্রমণ শানালেও গোলকিপার থিবো কোর্তোয়া ছিলেন অবিশ্বাস্য। খেলা শেষে আরবেলোয়া বলেন, ‘এই ম্যাচে আমরা আমাদের পরিকল্পনা মেনে খেলেছি, সত্যিকারের একটি দল হিসেবে খেলেছি। সিটি হোক বা এলচে, যে কোনো ম্যাচ জিততে হলে এভাবেই দল হয়ে খেলতে হবে।’
রিয়ালের হয়ে এদিন জ্বলে ওঠেন ভালভার্দে, আলেকজান্ডার আর্নোল্ড, ব্রাহিম দিয়াজরা। কোচ আরবেলোয়া বলেন, ‘তারা অসাধারণ মানের ফুটবলার, কিন্তু সবাই যখন একই ধারণা নিয়ে খেলতে পারে, তখন তারা আরও ভালো হয়ে ওঠে। আজ তারা সেটাই করেছে।’
আরও পড়ুন
| বিশ্বকাপের বাজেট ১২শ কোটি টাকা কমাল ফিফা |
|
প্রত্যেকে নিজেদের অবস্থান থেকে দারুণ খেলেছেন। তবে হ্যাটট্রিক করে ম্যাচের সব আলো কেড়ে নিয়েছেন ভালভার্দে। তাঁর প্রশংসা করতে গিয়ে আরবেলোয়া বলেন, ‘আমি তাঁর অনেক সময়ই সমালোচনা করি। এতটাই যে কখনও কখনও মনে হয় সে হয়ত আমাকে ঘৃণা করতে শুরু করবে। রিয়াল মাদ্রিদের একজন খেলোয়াড়ের যেমন হওয়া উচিত, সবকিছুই ভালভার্দের মধ্যে আছে। আজকের (গতকাল) রাতে সে আমাকে গর্বিত করেছে। এত ত্যাগের পর এটা তাঁর প্রাপ্য।’
রিয়াল মাদ্রিদকে কখনও বাদ দেওয়া উচিত নয় মন্তব্য করে আরবেলোয়া বলেন, ‘আপনারা হয়ত এতটা আশা করেননি, তাই না? বার্নাব্যু আর খেলোয়াড়রা যেভাবে উপভোগ করেছে তা দেখে আমি খুব খুশি। তারা কঠোর পরিশ্রম করেছে। বাইরে থেকে অনেকেরই মনে ছিল না যে এই দলটির ওপর খুব বেশি ভরসা করা যায়। কিন্তু আমরা দেখিয়ে দিয়েছি। আমরা রিয়াল মাদ্রিদ, আমাদের কখনওই বাদ দেওয়া উচিত নয়।’
আগামি মঙ্গলার রাতে ইতিহাদে দ্বিতীয় লেগের খেলায় ম্যানচেস্টার সিটিকে মোকাবিলা করবে রিয়াল মাদ্রিদ। সেখানেই হবে মীমাংসা, কে যাবে পরের রাউন্ডে। ৩-০ গোলে এগিয়ে থাকলেও সেই ৯০ মিনিটের সতর্ক বার্তা দিয়েছেন রিয়াল কোচ, ‘আমি সমর্থকদের জন্য খুব খুশি। তারা চ্যাম্পিয়নস লিগে এমন একটা রাত পাওয়ার যোগ্য ছিল। তবে এখনও কাজ শেষ হয়নি। ম্যানচেস্টারে আমাদের সামনে আরও ৯০ মিনিটের কঠিন লড়াই অপেক্ষা করছে। আমরা ম্যাচ বিশ্লেষণ করব এবং দেখব কোথায় সিটি সুযোগ তৈরি করেছে। কিন্তু মূল ধারণা একই। প্রথম মিনিট থেকে ৯০ মিনিট পর্যন্ত লড়াই করা এবং বল পেলে গোল করার চেষ্টা করা।’

প্যারিসের পার্ক দেস প্রিন্সেসে ৭৩ মিনিট পর্যন্ত লড়াইটা ছিল সমানে সমান। কিন্তু শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তা, গোলকিপার ফিলিপ জর্জেনসেনের ভুল, আর সুপার সাব খিভিচা কাভারেৎস্খেলিয়ার জোড়া গোলে সব ওলটপালট হয়ে গেল।
বুধবার রাতে চ্যাম্পিয়নস লিগের গত মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন পিএসজির কাছে ৫-২ ব্যবধানে হেরেছে চেলসি। আগামী মঙ্গলবার স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে ফিরতি লেগে মাঠে নামার আগে এখন তিন গোলের বিশাল ব্যবধানে পিছিয়ে থাকল লিয়াম রোসেনিয়রের দল।
ম্যাচের ১০ মিনিটেই ওসমান ডেম্বেলের ক্রস দারুণভাবে হেডে ব্র্যাডলি বারকোলাকে দেন জোয়াও নেভেস। সেখান থেকে বারকোলার জোরালো শটে লিড নেয় পিএসজি।
আরও পড়ুন
| বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়াল ইরান |
|
২৮ মিনিটে এনজো ফার্নান্দেজের দারুণ এক পাস থেকে গোল করে চেলসিকে সমতায় ফেরান মালো গুস্তো। কিন্তু লিড বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেনি সফরকারীরা। ৪০ মিনিটে প্রতি আক্রমণে মাঝমাঠ থেকে বল টেনে নিয়ে পিএসজিকে আবারও এগিয়ে দেন গত বছরের ব্যালন ডি’অর জয়ী ডেম্বেলে।
দ্বিতীয়ার্ধে চেলসি আবারও ম্যাচে ফেরে। ৫৭ মিনিটে দলকে ২-২ সমতায় ফেরান এনজো ফার্নান্দেজ। ৭৪ মিনিটে নিজেদের বক্সের সামনে গোলকিপার ফিলিপ জর্জেনসেনের ভুল পাস সরাসরি চলে যায় বারকোলার পায়ে। সেই সুযোগে ভিতিনহা চেলসি গোলকিপারের মাথার ওপর দিয়ে বল জালে পাঠিয়ে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে দেন পিএসজিকে।
৭৯ মিনিটে জোয়াও পেদ্রো বল জালে জড়ালেও অফসাইডের কারণে সমতায় ফেরা হয়নি চেলসির। ম্যাচের শেষ দিকে দাউয়ের পরিবর্তে মাঠে নেমে চেলসি রক্ষণভাগকে লন্ডভন্ড করে দেন জর্জিয়ান ফরোয়ার্ড খিভিচা কাভারেৎস্খেলিয়া।
৮৬ মিনিটে ডি-বক্সের প্রান্ত থেকে অসাধারণ এক বাঁকানো শটে গোল করার পর যোগ করা সময়ের শেষ মুহূর্তে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে চেলসির হার নিশ্চিত করেন কাভারেৎস্খেলিয়া। ৫-২ ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে লুইস এনরিকের শিষ্যরা।
বোদো/গ্লিম্ট রূপকথা অব্যাহত
চ্যাম্পিয়নস লিগের অভিষেক মৌসুমে বোদো/গ্লিম্টের রূপকথা যেন থামার নামই নেই। শেষ ষোলোর প্রথম লেগের ম্যাচে বুধবার রাতে পর্তুগিজ জায়ান্ট স্পোর্টিং লিসবনকে ৩-০ ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের পথে বড় এক পা বাড়িয়ে রাখল নরওয়ের ক্লাবটি।
ম্যানচেস্টার সিটি, আতলেতিকো মাদ্রিদ এবং ইন্টার মিলানকে হারানোর পর এটি তাদের টানা পঞ্চম জয়।
আরও পড়ুন
| ভালভার্দের হ্যাটট্রিকে রিয়ালের দাপুটে জয়, লেভারকুসেনে ড্র নিয়ে ফিরল আর্সেনাল |
|
ম্যাচের ৩২ মিনিটে সান্দ্রে ফেটের নেওয়া পেনাল্টি থেকে এগিয়ে যায় স্বাগতিক বোদো/গ্লিম্ট। বিরতির ঠিক আগে গ্যালারিতে উৎসবের আমেজ বাড়িয়ে দেন ওলে ব্লমবার্গ। চমৎকার এক প্রথম টাচে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে ব্যবধান ২-০ করেন তিনি। ৭১ মিনিটে ক্যাসপার হগ বল জালে পাঠিয়ে ৩-০ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করেন।
আগামী মঙ্গলবার ফিরতি লেগে লিসবনের জোসে আলভালাদে স্টেডিয়ামে আতিথ্য নেবে বোদো/গ্লিম্ট। এই বাধা টপকাতে পারলে কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ হতে পারে আর্সেনাল অথবা বায়ার লেভারকুসেন।

চলতি বছর ফিফা বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে দেখা দিয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। বুধবার দেশটির ক্রীড়ামন্ত্রী আহমেদ দোনিয়ামালি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে সহ-আয়োজিত বিশ্বকাপে ইরানের অংশ নেওয়া সম্ভব নয় হতে পারে। তার মন্তব্যের পর প্রথমবারের মতো বড় কোনো টুর্নামেন্ট থেকে দল প্রত্যাহারের সম্ভাবনা নিয়ে ভাবতে শুরু করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা।
ক্রীড়ামন্ত্রী দোনিয়ামালি বলেছেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর পুরো অঞ্চলে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ইরানের জন্য বাস্তবসম্মত নয়।
আরও পড়ুন
| বিশ্বকাপের বাজেট ১২শ কোটি টাকা কমাল ফিফা |
|
তবে এ নিয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ফলে পরিস্থিতি কী দাঁড়ায়, তা নিয়ে অপেক্ষায় রয়েছে ফিফা। কারণ আগামী জুনে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপে ইরানের খেলার সূচিও এরই মধ্যে নির্ধারিত।
সূচি অনুযায়ী, ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ইরানের প্রতিপক্ষ হওয়ার কথা নিউ জিল্যান্ড।
দোনিয়ামালির বক্তব্যের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো জানিয়েছিলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে আশ্বস্ত করেছেন- যুক্তরাষ্ট্রে আয়োজিত বিশ্বকাপে খেলতে ইরানকে স্বাগত জানানো হবে।
ইরান যদি শেষ পর্যন্ত সরে দাঁড়ায়, তাহলে বিশ্বকাপের নিয়ম অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবে ফিফা। টুর্নামেন্টের বিধির ৬ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো দল প্রত্যাহার করলে সংস্থাটি চাইলে অন্য কোনো দেশকে ডাকতে পারে। এমনকি একই মহাদেশ থেকে দল নেওয়ার বাধ্যবাধকতাও নেই।
ফিফার সাবেক ফুটবল রেগুলেটরি পরিচালক জেমস কিচিং বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, আধুনিক ফুটবলে এমন ঘটনার নজির নেই। তার মতে, কোনো দল সরে দাঁড়ালে কাকে নেওয়া হবে বা আদৌ কাউকে নেওয়া হবে কি না- এ সিদ্ধান্ত পুরোপুরি ফিফার হাতে।
আরও পড়ুন
| বিশ্বকাপের প্রাইজমানি ঘোষণা আইসিসির |
|
নিয়ম অনুযায়ী দল প্রত্যাহার করলে সংশ্লিষ্ট ফেডারেশনের ওপর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগও রয়েছে। যদিও বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ইরান সরে দাঁড়ালে ফিফা শাস্তি দেবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন কিচিং।
এশিয়া অঞ্চলের বাছাইপর্বে গ্রুপ ‘এ’ চ্যাম্পিয়ন হয়ে টানা চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপে জায়গা করে নেয় ইরান। তাই শেষ পর্যন্ত যদি তাদের জায়গা খালি হয়, তাহলে এশিয়া থেকেই নতুন কোনো দল নেওয়ার সম্ভাবনাই বেশি- তবে সেটিও সহজ সিদ্ধান্ত হবে না।