৫ মে ২০২৬, ৩:৩৮ পিএম

আগামী রোববার এল ক্লাসিকোতে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার বিপক্ষে মাঠে নামবে রিয়াল মাদ্রিদ। এই ম্যাচে পয়েন্ট হারালেই টানা দ্বিতীয়বারের মতো লা লিগার শিরোপা হাতছাড়া হবে লস ব্ল্যাঙ্কোসদের। দল যখন ট্রফিহীন মৌসুম কাটানোর দ্বারপ্রান্তে তখন নিজের ব্যাক্তিগত জীবন নিয়ে বিতর্কের মুখে পড়েছেন কিলিয়ান এমবাপে।
গত ২৫ এপ্রিল রিয়াল বেতিসের বিপক্ষে ম্যাচে অস্বস্তি অনুভব করায় মাঠ ছেড়ে যান এমবাপে। মেডিকেল পরীক্ষায় তাঁর হাঁটুতে সমস্যা ধরা পড়েছিল। এরপর পুনর্বাসনে যান এই ফরোয়ার্ড।
রোববার রাতে এস্পানিওলের বিপক্ষে মাঠে নামে রিয়াল। ম্যাচ শুরুর ১২ মিনিট আগে এমবাপের ব্যক্তিগত জেটে মাদ্রিদে অবতরণ করার দৃশ্য প্রচার করে এল চিরিংগিতো। ইতালির ক্যাগলিয়ারিতে অভিনেত্রী এস্তের এক্সপোসিটোর সাথে ছুটি কাটিয়ে ম্যাচের আগমুহূর্তে ফেরায় ভক্ত ও সংবাদমাধ্যমে বেশ সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
স্পেনের জনপ্রিয় দৈনিক ক্রীড়া সংবাদপত্র ‘এএসের’ খবর, দলের নাজুক সময়ে এমবাপের নিবেদন নিয়ে সতীর্থদের মাঝে দূরত্ব তৈরি হয়েছে। যদিও ক্লাব তাকে বিশ্রামের অনুমতি দিয়েছিল, তবে সেটি এমনভাবে জনসমক্ষে আসবে—তা কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনায় ছিল না।
এই বিষয়ে রিয়াল কোচ আলভারো আরবেলোয়া বলেন, ‘মেডিকেল টিমই নির্ধারণ করে কার কখন অনুশীলনে থাকা উচিত। তবে ব্যক্তিগত সময়ে কে কী করবেন, তা আমাদের বিচারের বিষয় নয়। গত সপ্তাহের পরীক্ষার পর মনে হচ্ছে তাঁর ফিরতে আরও কিছুটা সময় লাগবে।‘
চলতি মৌসুমে ৪১ ম্যাচে ৪১ গোল করেছেন এমবাপে। বার্সেলোনার বিপক্ষে ম্যাচের আগে পুনরায় পরীক্ষা করা হবে তাঁর। এরপরই জানা যাবে এল ক্লাসিকোতে মাঠে নামতে পারবেন কি না। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচের আগে মাঠের বাইরের বিতর্ক রিয়াল মাদ্রিদ শিবিরে নতুন অস্থিরতা তৈরি করেছে।
No posts available.

রিয়াল মাদ্রিদের আক্রমণভাগের মধ্যমণি ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। স্প্যানিশ জায়ান্ট ক্লাবটিতে গত আট মৌসুমে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়ে এই ব্রাজিলিয়ান হয়ে উঠেছেন ইউরোপীয় ফুটবলের অন্যতম সেরা। রিয়ালের দীর্ঘমেয়াদি ‘প্রজেক্টে’ ভিনিই যে প্রাণভোমরা সেটা সবারই জানা। অথচ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর ক্লাবটির চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার হয়েই নাকি এতদিন মাঠ মাতানোর কথা ছিল ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গাররের।
বার্সেলোনার সাবেক সভাপতি জোসেপ মারিয়া বার্তোমেউ এক বিস্ফোরক তথ্যে জানিয়েছেন, রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার আগে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের সঙ্গে বার্সার একটি প্রাথমিক চুক্তি সম্পন্ন হয়েছিল। ভিনিসিয়ুস যখন ব্রাজিলে খেলছিলেন, তখনই কাতালান ক্লাবটি তাঁর পরিবার এবং প্রতিনিধিদের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনা করে এই চুক্তিতে পৌঁছায়। বার্সা এই ব্রাজিলীয় তরুণকে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা উদীয়মান প্রতিভা হিসেবে বিবেচনা করেছিল এবং খুব দ্রুতই তাঁর স্বাক্ষর নিশ্চিত করতে চেয়েছিল।
তবে শেষ পর্যন্ত সেই চুক্তি আর বাস্তবে রূপ নেয়নি। বার্সেলোনার সঙ্গে প্রাথমিক সমঝোতা থাকলেও রিয়াল মাদ্রিদ অনেক বেশি শক্তিশালী এবং আকর্ষণীয় আর্থিক প্রস্তাব নিয়ে হাজির হয়। মূলত রিয়ালের সেই লোভনীয় প্রস্তাবের কারণেই ভিনিসিয়ুস ন্যু ক্যাম্পে না গিয়ে শেষ মুহূর্তে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুকেই নিজের নতুন ঠিকানা হিসেবে বেছে নেন।
রিয়াল মাদ্রিদ কীভাবে এই দৌড়ে জয়ী হলো, তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন বার্তোমেউ। ২০১৭ সালের মে’তে রিয়াল এবং ফ্লামেঙ্গোর সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন করে তৎকালীন ১৬ বছর বয়সী ভিনিকে দলে ভেড়ানোর জন্য। নিয়ম অনুযায়ী, ২০১৮ সালের জুলাইয়ে তাঁর বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার পর এই দলবদল আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়। বার্তোমেউ নিশ্চিত করেছেন, ভিনিসিয়ুসের সঙ্গে রিয়ালের চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার আগে বার্সেলোনা তাঁর সাথে আলোচনার ক্ষেত্রে যথেষ্ট অগ্রসর হয়েছিল।
ইএসপিএন দেপোর্তেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বার্তোমেউ বলেন,
‘ভিনিসিয়ুস জুনিয়র আমাদের (বার্সেলোনা) পছন্দের তালিকায় ছিলেন। আমরা তাঁর পরিবার এবং এজেন্টদের সাথে কথা বলেছিলাম এবং প্রকৃতপক্ষে একটি প্রাথমিক সমঝোতাও হয়ে গিয়েছিল। তবে রিয়াল মাদ্রিদ সম্ভবত বার্সেলোনার চেয়ে আরও ভালো প্রস্তাব দিয়েছিল এবং ভিনিসিয়ুসকে লুফে নিয়েছিল।’
সেই সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার পর প্রতিদ্বন্দ্বিতার রূপই বদলে গেল। রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার পর থেকে ভিনিসিয়ুস ‘লস ব্লাঙ্কোসদের’ হয়ে নিজের আট মৌসুমে সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৩৭২টি ম্যাচে মাঠে নেমেছেন, যেখানে তাঁর গোলসংখ্যা ১২৭টি এবং অ্যাসিস্ট ১০০টি। রিয়ালের লা লিগা এবং চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ে পালন করেছেন মুখ্য ভূমিকা; যার মধ্যে ২০২২ সালের চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে লিভারপুলের বিপক্ষে করা জয়সূচক গোলটি স্বরণীয় হয়ে থাকবে।

ব্যর্থতার চোরাবালিতে ঘুরপাক খাওয়া মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব লিগে পরপর দুই ম্যাচে ফকিরেরপুল এবং পিডব্লিউডিকে হারায়। এরপর বসুন্ধরা কিংসের কাছে আগের ম্যাচে হার। আজ সহজ জয়ে আরামবাগ ক্রীড়া সংঘকে হারিয়ে ফের জয়ে ফিরলো সাদা-কালোরা। সৌরভ দেওয়ান এবং রহিম উদ্দিনের গোলে পাওয়া এই জয়ে লিগ টেবিলে নিজেদের অবস্থান একটু উঁচুতে তুললো মতিঝিল পাড়ার ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটি।
মানিকগঞ্জের শহীদ মিরাজ-তপন স্টেডিয়ামে শনিবার বাংলাদেশ ফুটবল লিগে দ্বিতীয় লেগের দেখায় আরামবাগকে ২-০ গোলে হারিয়েছে মোহামেডান। দুই দলের প্রথম লেগের ম্যাচটি ড্র হয়েছিল ১-১ গোলে। এই জয়ে ১৬ ম্যাচে ২০ পয়েন্ট নিয়ে এক ধাপ এগিয়ে পঞ্চম স্থানে উঠেছে মোহামেডান। ১৬ রাউন্ড শেষে শীর্ষে থাকা বসুন্ধরা কিংসের চেয়ে ১৫ পয়েন্ট এবং দ্বিতীয় স্থানে থাকা আবাহনীর চেয়ে ১৪ পয়েন্ট পিছিয়ে আছে তারা।
এদিন শুরুতেই এগিয়ে যেতে পারত মোহামেডান। অষ্টম মিনিটে বাম দিকের বাইলাইনের উপর থেকে জুয়েল মিয়ার বাড়ানো পাসে টোকা দিয়েছিলেন স্যামুয়েল বোয়াটেং, কিন্তু বল পোস্টে লেগে ফিরে। ১৮ মিনিটে বক্সের ভেতরে বলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার লড়াইয়ে ঘানার ল্যানটেই মিলসের বুক অবদি পা তুলে দেন মোহামেডানের মিনহাজ রাকিব, ব্যথায় মাটিতে শুয়ে পড়েন তিনি, এরপর কিছুক্ষণ চিকিৎসা নিয়ে মাঠ ছাড়েন মিলস। ফাউলের বাঁশি বাজাননি রেফারি।
৪০মিনিটে শান্তর থ্রু পাস ধরতে সৌরভ ছুটেছিলেন বক্সে, কিন্তু তিনি পৌঁছানোর আগেই দারুণ ক্ষিপ্রতায় পোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে বিপদমুক্ত করেন আজাদ। একটু পর আরিফের শটও ঝাঁপিয়ে আটকান তিনি। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে মিলসের ক্রসে বক্সে ফাঁকায় থাকা কুয়ামে কিজিতো হেড লক্ষ্যে রাখতে পারেননি। বলের অবস্থানের তুলনায় একটু বেশি লাফিয়ে ওঠায় ঘানার এই ফরোয়ার্ডের হেডে বল নিচে ড্রপ খেয়ে ক্রসবারের উপর দিয়ে বেরিয়ে যায়। সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট হয় আরামবাগের।
৫০ মিনিটে মোহামেডানকে আবারও হতাশ করেন আজাদ। তবে, পরের মিনিটে আর পারেননি। সাইফুলের পাসের নাগাল বোয়াটেং পাননি, পোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে আসা আজাদও ক্লিয়ার করতে পারেননি। আলগা বল অনায়াসে জালে জড়িয়ে দেন সৌরভ। গোলের অপেক্ষা ফুরায় শিরোপাধারী মোহামেডানের।
৭৫ মিনিটে মোহামেডানের ব্যবধান হয় দ্বিগুণ। ডান দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে আরিফের কাটব্যাকে বদলি নামা রহিম নিখুঁত প্লেসিং শটে জাল খুঁজে নেন। বাকি সময় নির্বিঘ্নে পার করে, পঞ্চম জয় তুলে নেয় আব্দুল কাইয়ুম সেন্টুর দল।
দিনের অন্য ম্যাচে মুন্সীগঞ্জে পাকিস্তানি ফরোয়ার্ড শায়েক দোস্তের জোড়া গোলে ৩-১ ব্যবধানে রহমতগঞ্জ মুসলিম ফ্রেন্ডস অ্যান্ড সোসাইটিকে হারিয়েছে ব্রাদার্স ইউনিয়ন। এই হারে ১৯ পয়েন্ট নিয়ে এক ধাপ পিছিয়ে ষষ্ঠ স্থানে নেমে গেছে রহমতগঞ্জ। ১৭ পয়েন্ট নিয়ে সপ্তম স্থানে আছে ব্রাদার্স। মোহামেডানের বিপক্ষে হারের পর ১৪ পয়েন্ট নিয়ে অবনমন অঞ্চলের ঠিক উপরে আছে আরামবাগ, দশ দলের মধ্যে অষ্টম।

ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় দ্বৈরথ ‘এল ক্লাসিকো’র আগে সব আলোচনা হওয়ার কথা ছিল মাঠের কৌশল আর রণপরিকল্পনা নিয়ে। তবে রিয়াল মাদ্রিদের সময়টা চলছে এখন ‘কালবৈশাখী ঝড়’। মাঠের ফুটবলের চেয়েও এখন বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে ড্রেসিংরুমের অস্থিরতা। লস ব্লাঙ্কোসদের ঘরে অনেক দিন ধরে চলা অসন্তোষ বিস্ফোরিত হয় অনুশীলনে ভালভার্দে ও চুয়ামেনির হাতাহাতির পর। স্বাভাবিকভাবেই মাঠের বাইরের সেই উত্তাপ সরাসরি এসে লেগেছে কোচের সংবাদ সম্মেলনেও।
প্রিয় শিষ্যদের নিয়ে একের পর এক অস্বস্তিকর প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে রিয়াল মাদ্রিদের কোচ আলভারো আরবেলোয়াকে। চরম কঠিন এই সময়ে রিয়ালের খেলোয়াড়দের পাশে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়ে তাদের প্রতি নিজের অকুণ্ঠ সমর্থন প্রকাশ করলেন আরবেলোয়া।
লা লিগার চলতি মৌসুমে দ্বিতীয় ‘এল ক্লাসিকো’তে আগামীকাল স্পটিফাই ক্যাম্প ন্যু-তে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার মুখোমুখি হবে রিয়াল। এই মহারণ ছাপিয়ে গত কয়েক দিনে ঠিক কী ঘটেছিল, তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে আরবেলোয়া বলেন,
‘আমার দুটি কথা বলার আছে। প্রথমত, ক্লাবের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা, ক্ষিপ্রতা এবং স্বচ্ছতার জন্য আমি অত্যন্ত গর্বিত। দ্বিতীয়ত, খেলোয়াড়রা তাদের ভুল স্বীকার করেছে, অনুশোচনা প্রকাশ করেছে এবং ক্ষমা চেয়েছে। আমার জন্য এটুকুই যথেষ্ট।’
আরবলোয়া আরও যোগ করেন,
‘আমি যা করব না তা হলো—তাদের জনসমক্ষে ফাঁসিকাষ্ঠে ঝোলানো, কারণ তারা এর যোগ্য নয়। বিশেষ করে গত চার মাস বা বিগত কয়েক বছরে তারা আমাকে যা দেখিয়েছে, তারপরে তো নয়ই। তারা প্রমাণ করেছে যে রিয়াল মাদ্রিদের খেলোয়াড় হওয়ার অর্থ কী, এবং আমি সেটা ভুলে যাব না।’
সাবেক রিয়াল মাদ্রিদের কিংবদন্তি হুয়ানিটোর উদাহরণ টেনে আরবেলোয়া বলেন,
‘আমি সবসময় একটি উদাহরণ দেই। আমার কাছে একজন খেলোয়াড় আছেন যিনি রিয়াল মাদ্রিদ খেলোয়াড়ের প্রকৃত আদর্শ, আর তিনি হলেন হুয়ানিটো। এখন প্রশ্ন হলো, হুয়ানিটো কি কখনো ভুল করেননি?’
চলতি সপ্তাহের শুরুতে অনুশীলনের সময় ফেদেরিকো ভালভার্দে এবং অরেঁলিয়ে চুয়ামেনির মধ্যে এক হাতাহাতির ঘটনা ঘটে, যার ফলে ভালভার্দে ১০ থেকে ১৪ দিনের জন্য মাঠের বাইরে ছিটকে গেছেন। এই দুই তারকাকে নিয়ে আরবেলোয়া বলেন,
‘ভালভার্দে এবং চুয়ামেনি আমাদের কাছ থেকে এটুকু প্রাপ্য যে—আমরা যেন এই ঘটনা পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাই এবং এই ক্লাবের হয়ে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিই। আমি তাদের নিয়ে গর্বিত। এই ঘটনাকে পুঁজি করে কেউ তাদের পেশাদারিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলবে, তা আমি হতে দেব না।’
রিয়াল কোচ কড়া ভাষায় আরও বলেন,
‘তারা পেশাদার নয় কিংবা তারা আমাকে অসম্মান করেছে—এমন দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা। ঠিক যেমন এটিও একটি মিথ্যা যে, আমার সঙ্গে সমস্যার কারণে কেউ কেউ একাদশে সুযোগ পাচ্ছে না; যারা এসব ছড়ায়, তাদের উচিত রিয়াল মাদ্রিদের বাইরে গিয়ে নিজের চরকায় তেল দেওয়া।’
গুঞ্জন আছে রিয়াল মাদ্রিদের কোনো খেলোয়াড় ড্রেসিংরুমের তথ্য ফাঁস করছেন। অজ্ঞাত এই ‘গুপ্তচরকে’ হুঁশিয়ারি দিয়ে আরবেলোয়া বলেন, ‘ড্রেসিংরুমের তথ্য ফাঁসের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে আরবেলোয়া বলেন,
‘আমি আবারও বলছি, কারণ হয়তো আমি পরিষ্কার করে বলতে পারিনি: ড্রেসিংরুমের ভেতরকার খবর বাইরে ফাঁস করা রিয়াল মাদ্রিদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল। এটি এই লোগো বা ব্যাজের অবমাননা।’
ড্রেসিংরুমের অনাকাঙ্ক্ষিত এই সংঘাতকে ভবিষ্যতের জন্য শিক্ষণীয় এক পাঠ হিসেবে উল্লেখ করে আরবেলোয়া সকলকে মাঠের ফুটবলে ফেরার তাগিদ দেন,
‘এটি মোটেও কোনো সুখকর পরিস্থিতি নয়। এটি সবার জন্য একটি উদাহরণ হিসেবে থাকা উচিত এবং ব্যস, এটুকুই। আমাদের এখন এই অধ্যায় পেছনে ফেলে সামনে তাকাতে হবে, এটি থেকে শিক্ষা নিতে হবে এবং ভুলে গেলে চলবে না যে আগামীকাল বার্সেলোনা বনাম রিয়াল মাদ্রিদ ম্যাচ রয়েছে।’

ফুটবল মাঠের সবুজ গালিচায় যখন পৃথিবীর নানা প্রান্তের মানুষ এসে দাঁড়ায়, তখন সেখানে উচ্চতা বা শারীরিক গড়ন কোনো বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। তবে ২০০৬ জার্মানি বিশ্বকাপে সার্বিয়া এন্ড মন্টিনিগ্রোর সঙ্গে আইভরি কোস্টের ম্যাচে এক অদ্ভুত দৃশ্য দেখা দিয়েছিল। সেই ম্যাচের স্মৃতি আজও মনে করিয়ে দেয়, ফুটবল মাঠ সাম্যের সঙ্গে বিস্ময়কর বৈচিত্র্যের এক মিলনমেলাও।
ম্যাচের শুরুতেই যখন দুই দলের খেলোয়াড়রা একে অপরের মুখোমুখি হলেন, দর্শকদের চোখ আটকে গেল অদ্ভুত এক দৃশ্যে। একদিকে সার্বিয়ার দানবীয় স্ট্রাইকার নিকোলা জিগিচ, যার উচ্চতা ছিল ২.০২ মিটার (প্রায় ৬ ফুট ৭ ইঞ্চি)। ঠিক তাঁর পাশেই আইভরি কোস্টের চটপটে উইঙ্গার বকারি কোনে, যাঁর উচ্চতা ১.৬৩ মিটার (প্রায় ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি)। যখন তারা একে অপরের একদম কাছে এসে দাঁড়ালেন, দেখা গেল তাদের মধ্যে উচ্চতার ব্যবধান ছিল পাক্কা ৩৯ সেন্টিমিটার! বিশ্বকাপের সুদীর্ঘ দুই প্রতিপক্ষের মধ্যে এত বড় শারীরিক ব্যবধান এর আগে বা পরে আর কখনো রেকর্ড করা হয়নি। এটি যেন ছিল মাঠের বুকে এক জীবন্ত 'ডেভিড বনাম গোলিয়াথ' আখ্যান।
মজার ব্যাপার হলো, সেই একই ম্যাচে জিগিচ যখন আইভরি কোস্টের আরেক রক্ষণভাগের খেলোয়াড় আর্থার বোকার সামনে গিয়ে দাঁড়ালেন, সেখানেও দেখা গেল ৩৬ সেন্টিমিটারের এক বিশাল ফারাক। ১.৬৬ মিটারের বোকা যখন জিগিচকে আটকানোর চেষ্টা করছিলেন, গ্যালারিতে থাকা দর্শকদের মনে হচ্ছিল কোনো রূপকথার পাহাড় আর সমতলের লড়াই চলছে।
সেই ২০০৬ সালের বিশ্বকাপটিই যেন ছিল এই অসম উচ্চতার লড়াইয়ের এক অভূতপূর্ব বছর। মাঠের অন্য প্রান্তে দেখা গেল ২.০১ মিটারের দীর্ঘদেহী ডেনিস লরেন্স যখন ইংল্যান্ডের অ্যারন লেননের মোকাবিলা করছিলেন, তখন সেখানেও ছিল ৩৬ সেন্টিমিটারের ব্যবধান। আবার স্বাগতিক জার্মানির আকাশছোঁয়া পার মার্টেস্যাকার যখন ইকুয়েডরের ক্রিস্তিয়ান লারার সামনে দেওয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন, তখনও সেই একই ৩৬ সেন্টিমিটারের বৈচিত্র্য ফুটে উঠেছিল। উল্লেখ্য, এই লারা হলেন এই শতাব্দীতে বিশ্বকাপে খেলা সবথেকে কম উচ্চতার খেলোয়াড়, যার উচ্চতা ছিল মাত্র ১.৬২ মিটার।
ফুটবলের সেই রোমাঞ্চকর ক্ষণগুলো আজও মনে করিয়ে দেয়, মাঠে কে কত লম্বা বা কে কত ছোট তা শেষ পর্যন্ত মুখ্য থাকে না। জিগিচের মতো দীর্ঘদেহীরা যেমন মাথার ওপর দিয়ে আসা বল নিয়ন্ত্রণে পারদর্শী, তেমনি বকারি কোনে বা লারার মতো ফুটবলাররা ঘাসের ওপর দিয়ে এমন বিদ্যুৎগতিতে ছুটে যান, দীর্ঘদেহীদের পক্ষে তাঁদের ধরা ছোঁয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে।

১৯৭৪ সালের সেই জার্মানি বিশ্বকাপ। ফুটবলের মানচিত্রে তখন এক নতুন বিপ্লবের নাম ‘টোটাল ফুটবল’। আর সেই মহাকাব্যের কেন্দ্রীয় চরিত্র একজনই—ইয়োহান ক্রুইফ। তাঁর খেলার ধরন কেবল ফুটবল ছিল না, ছিল যেন মাঠের ক্যানভাসে আঁকা এক জীবন্ত জ্যামিতি।
২০২৬ বিশ্বকাপের বাকি আর ৩৩ দিন। বিশ্বকাপের প্রসঙ্গ এলে ক্রুইফের অবিশ্বাস্য কীর্তিও সতেজ হয়ে ওঠে। ১৯৭৪ বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসের হয়ে ক্রুইফ ৩৬টি গোলের সুযোগ তৈরি করেছিলেন। এক বিশ্বকাপে কোনো একক খেলোয়াড়ের তৈরি করা সর্বোচ্চ সুযোগের রেকর্ড এটি, যা আজও কেউ ভাঙতে পারেনি। এমনকি ফুটবল ঈশ্বর দিয়েগো ম্যারাডোনাও ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ২৭টি সুযোগ তৈরি করে ক্রুইফের পেছনে পড়ে আছেন।
গল্পটা শুরু হয় সেই কমলা রঙের জার্সি গায়ে এক ‘উড়ন্ত ডাচম্যানের’ অবিশ্বাস্য দাপট দিয়ে। ক্রুইফ মাঠে থাকা মানেই ছিল প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের জন্য এক গোলকধাঁধা। বল পায়ে নিয়ে যখন তিনি ছুটতেন, মনে হতো ঘাসের ওপর দিয়ে কোনো জাদুকর হেঁটে যাচ্ছেন। সেই বিশ্বকাপে তিনি ৭ ম্যাচে ৩টি গোল করেছিলেন, ৩ গোলে সরাসরি সহায়তা করেছিলেন। কিন্তু পরিসংখ্যান দিয়ে ক্রুইফকে বোঝা অসম্ভব।
সুইডেনের বিপক্ষে সেই ঐতিহাসিক ম্যাচের কথা ভাবুন। মাঠের এক কোণে বল নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন ক্রুইফ, সামনে সুইডিশ ডিফেন্ডার ওলসন। হঠাৎ শরীরের এক মোচড়ে বলটিকে নিজের পায়ের পেছন দিয়ে ঘুরিয়ে নিলেন—জন্ম নিল ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা কারুকার্য ‘ক্রুইফ টার্ন’। সেই ম্যাচে তিনি রেকর্ড ১২টি সফল ড্রিবলিং করেছিলেন। ফুটবলের দীর্ঘ ইতিহাসে তাঁর চেয়ে বেশি ড্রিবলিং করতে পেরেছেন কেবল তিনজন— ১৯৯৪ বিশ্বকাপে ইতালির বিপক্ষে নাইজেরিয়ার তারকা জে-জে ওকোচা (১৫টি), ১৯৭০ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের জাইরজিনহো ১৩টি সফল ড্রিবলিং করেছিলেন উরুগুয়ের বিপক্ষে এবং ১৯৯০ বিশ্বকাপে ক্যামেরুনের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের পল গ্যাসকোয়েন (১৩টি)।
ক্রুইফ কেবল একজন খেলোয়াড় ছিলেন না, ছিলেন মাঠের ভেতর একজন কোচ! তিনি জানতেন কখন কাকে কোথায় পাস দিতে হবে, কখন নিজে আক্রমণ করতে হবে। তাঁর ৩৬টি গোলের সুযোগ তৈরির পরিসংখ্যানই বলে দেয়, তিনি গোল করার চেয়ে গোল করানোর কারিগর হিসেবে কতটা নিখুঁত ছিলেন। তবে আক্ষেপও কম ছিল না ক্রুইফের নেদারল্যান্ডস শিরোপার কাছাকাছি গিয়েও ফাইনালে ২-১ গোলে হেরে যায় পশ্চিম জার্মানির কাছে।
ফুটবল আসবে, ফুটবল যাবে; কিন্তু সেই সরু গড়নের ডাচ ফুটবলারের পায়ের জাদু আর টোটাল ফুটবলের সোনালী দিনগুলো চিরকাল ফুটবল অমর হয়ে থাকবে। ক্রুইফ মানেই সেই অমর সৃষ্টিশীলতা, যা আজও ফুটবলকে সুন্দর ও শৈল্পিক করে রেখেছে।