
বিশ্বকাপ ফুটবল ইতিহাসের এমন কিছু অবিস্মরণীয় মুহূর্ত উপহার দিয়েছে, যা কেবল ম্যাচের ফল নির্ধারণ করেনি, স্থান করে নিয়েছে ইতিহাসের পাতায়। ১৯৮৬ সালে ডিয়েগো ম্যারাডোনার সেই অবিশ্বাস্য 'সোলো রান' থেকে শুরু করে ব্রাজিলের মাঠে হামেস রদ্রিগেসের সেই চোখধাঁধানো ভলি—এই গোলগুলো ফুটবলপ্রেমীদের প্রজন্মের পর প্রজন্মকে আজও সমানভাবে রোমাঞ্চিত করে। দেখে নেওয়া যাক ইতিহাসের সেরা ১০টি জাদুকরী।
১. ডিয়েগো ম্যারাডোনা বনাম ইংল্যান্ড (১৯৮৬)
বিশ্বকাপের সেরা গোলের তালিকা করলে সবার আগেই আসবে এই গোলটির নাম। ১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে নিজের অর্ধে বল পেয়েছিলেন ম্যারাডোনা; এরপর শুরু হয় ফুটবল ইতিহাসের সেই অবিস্মরণীয় 'সোলো রান'। মাত্র ১১ সেকেন্ডের জাদুকরী ছন্দে ইংল্যান্ডের পাঁচজন ডিফেন্ডার এবং গোলকিপারকে কাটিয়ে ঠান্ডা মাথায় বল জালে জড়ান আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি। ফুটবল ইতিহাসে এই গোলটি 'গোল অফ দ্য সেঞ্চুরি' বা শতাব্দীর সেরা গোল হিসেবে স্বীকৃত, যা আজও ম্যারাডোনার ফুটবলীয় মস্তিস্ক ও শ্রেষ্ঠত্বের এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি।
২. কার্লোস আলবার্তো বনাম ইতালি (১৯৭০)
ম্যারাডোনার গোলটি যদি হয় একক নৈপুণ্যের শ্রেষ্ঠ উদাহরণ, তবে ১৯৭০-এর ফাইনালে কার্লোস আলবার্তোর করা এই গোলটি ছিল দলগত ফুটবলের এক অনন্য মহাকাব্য। ব্রাজিলের সেই কিংবদন্তি দলটি পুরো মাঠজুড়ে অসাধারণ পাসিং ফুটবলের পসরা সাজিয়েছিল, যার শেষ প্রান্তে পেলের বাড়ানো এক মাপা পাস খুঁজে নেয় আলবার্তোকে। ব্রাজিলের অধিনায়ক বুলেট গতির এক শটে বল জালে জড়ান, যা ইতালির বিপক্ষে ফাইনাল ম্যাচটির ইতি টানে। আজও ফুটবল বিশ্বের অনেকে এটিকে ইতিহাসের সেরা ‘দলগত গোল’ হিসেবে বিবেচনা করেন।
৩. হামেস রদ্রিগেস বনাম উরুগুয়ে (২০১৪)
২০১৪ বিশ্বকাপে উরুগুয়ের বিপক্ষে এই চোখধাঁধানো ভলি দিয়েই বিশ্বমঞ্চে নিজের রাজকীয় আগমনী বার্তা দিয়েছিলেন হামেস রদ্রিগেস। পেনাল্টি বক্সের বাইরে বুক দিয়ে বলটি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে মুহূর্তের মধ্যেই বাঁ-পায়ে এক দুর্দান্ত শট নেন এই কলম্বিয়ান তারকা; বলটি ক্রসবারে লেগে সজোরে জালে আছড়ে পড়ে। নিখুঁত ফিনিশিংয়ের অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকা এই গোলটি পরবর্তীতে ফিফা পুসকাস অ্যাওয়ার্ড জয় করে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটি আজও অন্যতম নান্দনিক গোল হিসেবে স্বীকৃত।
৪. পেলে বনাম সুইডেন (১৯৫৮)
মাত্র ১৭ বছর বয়সে ১৯৫৮ বিশ্বকাপের ফাইনালে পেলে এমন এক কীর্তি গড়েছিলেন, যা ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আইকনিক মুহূর্ত হয়ে আছে। ডি-বক্সের ভেতর এক ডিফেন্ডারের মাথার ওপর দিয়ে বলটি আলতো করে তুলে দিয়ে , অসামান্য ক্ষিপ্রতায় এবং শান্ত মাথায় ভলিতে গোলকিপারকে পরাস্ত করেন এই ব্রাজিলিয়ান ‘কালো মানিক’। সেই মুহূর্তেই ফুটবলবিশ্ব বুঝতে পেরেছিল, তারা যুগের সেরা এক মহাতারকার জন্ম হতে দেখল।
৫. রবিন ফন পার্সি বনাম স্পেন (২০১৪)
২০১৪ বিশ্বকাপের অন্যতম আইকনিক দৃশ্য হয়ে আছে রবিন ফন পার্সির সেই 'ফ্লাইং ডাচম্যান' গোলটি। ডেলি ব্লিন্ডের লম্বা পাস যখন স্পেনের বক্সের দিকে আসছিল, ফন পার্সি নিজেকে শূন্যে ভাসিয়ে এক অবিশ্বাস্য ডাইভিং হেডে বলটি গোলকিপার ইকার ক্যাসিয়াসের মাথার ওপর দিয়ে জালে পাঠিয়ে দেন। সেই ম্যাচে তৎকালীন ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে ৫-১ গোলে বিধ্বস্ত করেছিল নেদারল্যান্ডস, তবে ফন পার্সির সেই উড়ন্ত ফিনিশিংটিই পুরো ম্যাচের সব আলো কেড়ে নিয়েছিল।
৬. সাঈদ আল-ওয়াইরান বনাম বেলজিয়াম (১৯৯৪)
বিশ্বকাপের ইতিহাসে কোনো আন্ডারডগ বা কম শক্তির দলের অবিস্মরণীয় মুহূর্তগুলোর কথা বললে সাঈদ আল-ওয়াইরানের এই গোলটি সবার উপরে থাকবে। নিজেদের সীমানার অনেক ভেতর থেকে বল পেয়ে তিনি বেলজিয়ান ডিফেন্সকে তছনছ করে এক জাদুকরী 'সোলো রান' শুরু করেন এবং শেষ পর্যন্ত ঠান্ডা মাথায় ফিনিশ করেন। এই অসাধারণ গোলটি সৌদি আরবকে নকআউট পর্বে পৌঁছাতে সাহায্য করেছিল এবং এর শৈল্পিকতা ম্যারাডোনার ৮৬-র সেই বিখ্যাত গোলের সঙ্গে তুলনা কুড়িয়েছিল।
৭. ডিয়েগো ম্যারাডোনা বনাম বেলজিয়াম (১৯৮৬)
সেরা গোলের তালিকায় ম্যারাডোনার নাম দুইবার থাকাই স্বাভাবিক। বেলজিয়ামের বিপক্ষে সেমিফাইনালের এই গোলটি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তাঁর সেই মহাকাব্যিক গোলের ছায়ায় ঢাকা পড়ে গেলেও, এটি ছিল ভারসাম্যের এক অবিশ্বাস্য প্রদর্শনী। চারজন ডিফেন্ডারকে ড্রিবলিংয়ের ছন্দে নাচিয়ে ম্যারাডোনা নিজের ট্রেডমার্ক ভঙ্গিতে বলটি গোলকিপারের পাশ দিয়ে জালে জড়িয়ে দেন।
৮. রবার্তো ব্যাজিও বনাম চেকোস্লোভাকিয়া (১৯৯০)
১৯৯০ বিশ্বকাপে ইতালিয়ান কিংবদন্তি রবার্তো বাজ্জিওর ফুটবলীয় প্রতিভা বিশ্বমঞ্চে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে দারুণ ড্রিবলিং আর গতির ঝড়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে এলোমেলো করে তিনি এগিয়ে যান। ডি-বক্সের ভেতর আঁকাবাঁকা পথে ঢুকে পড়ার পর অত্যন্ত নিখুঁতভাবে তিনি আক্রমণটির ইতি টানেন। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটি আজও অন্যতম নান্দনিক ‘সোলো গোল’ হিসেবে গণ্য করা হয়।
৯. ডেনিস বার্গক্যাম্প বনাম আর্জেন্টিনা (১৯৯৮)
নিখুঁত কারিগরি দক্ষতার এক অসাধারণ নিদর্শন হয়ে আছে এই গোল। ১৯৯৮ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের একদম শেষ মুহূর্তে ফ্রাঙ্ক ডি বোয়ারের বাড়ানো একটি লম্বা ডায়াগোনাল পাস খুঁজে নেয় ডেনিস বার্গক্যাম্পকে। ডাচ এই জাদুকর প্রথম স্পর্শেই বলটি অবিশ্বাস্যভাবে নিয়ন্ত্রণে নেন, দ্বিতীয় টাচে ডিফেন্ডার রবার্তো আয়ালাকে ছিটকে দেন এবং তৃতীয় টাচে অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় ভলিতে গোল করেন। মাত্র কয়েক সেকেন্ডের এই শৈল্পিক গোল ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আইকনিক দৃশ্য হয়ে আছে।
১০. বেঞ্জামিন পাভার্ড বনাম আর্জেন্টিনা (২০১৮)
২০১৮ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে বেঞ্জামিন পাভার্ডের সেই সমতাসূচক গোলটি মুহূর্তেই টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা দৃশ্যে পরিণত হয়। বক্সের বাইরে থেকে আসা একটি বাউন্সিং বলকে ফরাসি এই ডিফেন্ডার নিখুঁত এক হাফ-ভলিতে বাঁক খাইয়ে পোস্টের ওপরের কোণা দিয়ে জালে পাঠিয়ে দেন। সাত গোলের সেই শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে ফ্রান্স ৪-৩ ব্যবধানে জিতে এবং শেষ পর্যন্ত সেবার তারা বিশ্বচ্যাম্পিয়নই হয়।
No posts available.
১৪ মে ২০২৬, ৯:১৭ পিএম
১৪ মে ২০২৬, ৮:১২ পিএম
১৪ মে ২০২৬, ৮:০৩ পিএম

ফিফা বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে যখন বিশ্বজুড়ে উন্মাদনা তুঙ্গে, ‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’কে বরণ করে নিতে তখন অনন্য এক উদ্যোগ নিয়েছে ম্যাসাচুসেটস পোর্ট অথরিটি (ম্যাসপোর্ট)। বোস্টনের ওয়াটারফ্রন্টে দারুণ একটি বিশ্বরেকর্ড গড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা। বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল তৈরির মাধ্যমে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম লেখানোর পরিকল্পনা করেছে ম্যাসপোর্ট।
ম্যাসপোর্ট সম্প্রতি ঘোষণা করেছে, আগামী জুনে পূর্ব বোস্টনের পিয়ার্স পার্ক-২-এ তারা বিশ্বের বৃহত্তম ফুটবল প্রদর্শনী করতে যাচ্ছে। মূলত আসন্ন বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো উদযাপনের অংশ হিসেবে এবং বোস্টন হারবারের দুই পাড় থেকে পর্যটকদের আকর্ষণ করতেই এই বিশাল উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাবিত এই ফুটবলটির উচ্চতা হবে ৪৫ ফুট। এর মাধ্যমে ২০১৩ সালে কাতারের দোহায় গড়া ৩৮ ফুট ১১.৮ ইঞ্চির বর্তমান গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডটি টপকে যাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। গিনেস কর্তৃপক্ষ এটি যাচাই করলে এটিই হবে ইতিহাসের বৃহত্তম ফুটবল।
আগামী ১২ থেকে ১৮ জুন পর্যন্ত বিশাল এই ফুটবলটি বোস্টনে প্রদর্শিত হবে। আর ১৩ জুন আয়োজন করা হয়েছে একটি বিশেষ 'কমিউনিটি ডে' ইভেন্ট। ফক্সবরোর বোস্টন স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের যে ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে, সেগুলোকে উদযাপন করতেই এই বিশাল রেকর্ড গড়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
দর্শনার্থীরা পূর্ব বোস্টনের মনোরম দৃশ্য উপভোগের পাশাপাশি এই ফুটবলটির সঙ্গে ছবি তোলা ও দেখার সুযোগ পাবেন। এই আয়োজনে পরিবার নিয়ে উপভোগ করার মতো বিভিন্ন খেলাধুলা ও বিনোদনের ব্যবস্থা থাকবে। তবে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সেখানে সরাসরি বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচ দেখার সুযোগ থাকবে না।
ম্যাসপোর্টের সিইও রিচ ডেভি এক বিবৃতিতে বেশ গর্বের সঙ্গেই বলেন,
‘ম্যাসাচুসেটস যখন ফিফা বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন আমরা বোস্টনে পুরো বিশ্বকে স্বাগত জানাতে পেরে গর্বিত। পূর্ব বোস্টনের এই আইকনিক প্রদর্শনী মানুষকে একত্রিত করবে এবং বিশ্বকাপের আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ করে দেবে।’
এবারের বিশ্বকাপে ফক্সবরোর জিলেট স্টেডিয়ামে মোট সাতটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। এই আয়োজনের মাধ্যমে স্থানীয় ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে নতুন করে উদ্দীপনা তৈরি করতে চায় ম্যাসপোর্ট।

বাংলাদেশ ফুটবলে হাভিয়ের কাবরেরা অধ্যায় শেষ হওয়ার পর নতুন কোচের সন্ধানে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। জামাল ভূঁইয়া ও হামজা চৌধুরীদের কোচ হতে আগ্রহ প্রকাশ করে মোট ২৩০টি আবেদনপত্র জমা পড়ে বাফুফেতে। বাছাই ধাপ পেরিয়ে সেখান থেকে ১১ জনে নামিয়ে আনা হয়। এখান থেকেই একজনকে চূড়ান্তভাবে দেওয়া হবে নিয়োগ।
জাতীয় ফুটবল দলের নতুন প্রধান কোচ ঘোষণার নির্ধারিত তারিখ ১৫ মে। এর আগে জাতীয় দল কমিটির সর্বশেষ (১৩ মে) সভার সূত্রমতে, ওয়েলস জাতীয় দলের সাবেক কোচ ক্রিস কোলম্যান বর্তমানে কোচ হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে। গ্যারেথ বেলদের মতো তারকাদের সামলানো কোলম্যান ক্লাব ফুটবলে ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে খেলেছেন। কোচ হিসেবে রিয়াল সোসিয়েদাদ, সান্ডারল্যান্ড ও ফুলহামের মতো ক্লাবে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর।
কোলম্যানের পাশাপাশি সমানভাবে আলোচনায় হাঙ্গেরির সাবেক জার্মান কোচ বার্নড স্টর্ক। বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের হয়ে ১৪৬টিসহ বুন্দেসলিগায় ১৭০টি ম্যাচ খেলা সাবেক এই ডিফেন্ডার হাঙ্গেরি ও কাজাখস্তানের কোচ হিসেবেও কাজ করেছেন।
বৃহস্পতিবার ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা দেখতে গিয়ে কোচ ইস্যু নিয়ে কথা বলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
তিনি বলেন,
‘আমার সাথে ইতিমধ্যে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি তাবিথ আউয়ালের কথা হয়েছে এবং তার যে টিম রয়েছে তাদের সাথেও আমরা আলোচনা করেছি। এবং সেই কোচের যে শর্টলিস্ট, সেটা সম্পর্কেও তিনি আমাকে অবগত করেছেন।’
ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন,
‘আমরা আশা করি, দুই-এক দিনের ভেতরেই চূড়ান্তভাবে সিদ্ধান্ত নেব যে, আমরা কাকে কোচ হিসেবে নিয়োগ দেব। একজন ফুটবলার হিসেবে এবং বাংলাদেশের মানুষের ফুটবল নিয়ে যে উৎসাহ-উদ্দীপনা রয়েছে, আমরা আশা করি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন এবং পাশাপাশি আমাদের সারা বাংলাদেশের যে দর্শকদের যে চাওয়া ও প্রত্যাশা রয়েছে, আমরা সর্বোচ্চভাবে গুরুত্ব দিয়ে যাকে সেরা মনে হবে এবং যাকে নিয়োগ দিলে আমাদের ফুটবল এগিয়ে যাওয়ার অনেক বেশি সম্ভাবনা থাকবে, সেই মানুষটিকে নিয়োগ দেব ইনশাল্লাহ।'
গুণী এবং অভিজ্ঞ কোচ নিয়োগের ক্ষেত্রে ব্যয়ও বড় ফ্যাক্টর । কোচের ব্যয় বহন করার একটা বড় বিষয় সামনে আসতে পারে। বাফুফের সামর্থ্য আছে কি না?
সাংবাদিকদের এমন এক প্রশ্নে আমিনুল বলেন,
‘আমি ইতিমধ্যে বলেছি যে বাফুফের সাথে এক হয়ে আমরা বেস্ট পসিবল কোচকে নিয়োগ দেওয়ার জন্য যা করণীয়, সব সার্বিক সহযোগিতা বাফুফের পক্ষে থাকবে ইনশাল্লাহ।’

আসন্ন বিশ্বকাপকে সামনে রেখে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ফুটবল বিশ্ব। তবে এবার মাঠের লড়াই শুরুর আগেই আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে উত্তর আমেরিকার প্রচণ্ড দাবদাহ। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠেয় এই টুর্নামেন্টে খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে ফিফাকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন একদল বিশ্বসেরা বিজ্ঞানী। তাদের মতে, ফিফার বর্তমান তাপ-নিরাপত্তা ব্যবস্থা একেবারেই 'অপ্রতুল', যা ফুটবলারদের জীবনকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিতে পারে।
স্বাস্থ্য, জলবায়ু এবং ক্রীড়া পারফরম্যান্স বিষয়ক আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের একটি খোলা চিঠিতে বলা হয়েছে যে, ফিফার বর্তমান নির্দেশিকাগুলো আধুনিক বিজ্ঞানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং একে কোনোভাবেই যৌক্তিক বলা চলে না। তারা ফিফাকে আরও শক্তিশালী সুরক্ষা ব্যবস্থা চালু করার আহ্বান জানিয়েছেন, যার মধ্যে রয়েছে দীর্ঘতর 'কুলিং ব্রেক' বা বিরতি এবং চরম আবহাওয়ায় খেলা বিলম্বিত বা স্থগিত করার বিষয়ে আরও স্পষ্ট নীতিমালা।
যৌথ আয়োজিত গ্রীষ্মকালীন টুর্নামেন্টে তাপপ্রবাহ একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে বলে আশঙ্কা করে গবেষকরা সতর্ক করেছেন। তাদের মতে, মোট ১৬টি স্টেডিয়ামের মধ্যে ১৪টিতেই তাপমাত্রা বিপজ্জনক মাত্রা ছাড়িয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে দক্ষিণ যুক্তরাষ্ট্র এবং উত্তর মেক্সিকোর কিছু অংশে দিনের গড় তাপমাত্রা সাধারণত ৩০ থেকে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকে, যা তীব্র গরমের সময় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠে যেতে পারে।
যখন তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, বাতাসের গতিবেগ এবং সূর্যালোকের তীব্রতা একত্রে বিবেচনা করা হয়, তখন এই আয়োজক শহরগুলোতে থাকা খেলোয়াড়দের শরীরে চরম মাত্রার 'হিট স্ট্রেস' বা তাপজনিত শারীরিক অসুস্থতার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে। তবে ফিফা জানিয়েছে, তারা খেলোয়াড়, রেফারি, ভক্ত, স্বেচ্ছাসেবক এবং কর্মীদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা রক্ষায় অঙ্গীকারবদ্ধ এবং টুর্নামেন্ট পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই জলবায়ুজনিত ঝুঁকিগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বিজ্ঞানীদের মতে, ফিফা খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্য নিয়ে এক ধরনের ‘বেপরোয়া’ মনোভাব দেখাচ্ছে। এই খোলা চিঠির সমন্বয়কারী এবং 'নিউ ওয়েদার ইনস্টিটিউট'-এর পরিচালক অ্যান্ড্রু সিমস বিবিসি স্পোর্টকে বলেন,
‘খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা এই মুহূর্তে অত্যন্ত জরুরি একটি বিষয়, কারণ শরীর অতিরিক্ত উত্তপ্ত হয়ে গেলে খুব দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। আমাদের আশঙ্কা, ফিফা খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে এক ঝুঁকিপূর্ণ খেলা খেলছে।’
কানেকটিকাট বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডগলাস কাসা নিজেও এই চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন। তিনি জানান যে ফিফার বর্তমান নির্দেশিকাগুলোর বড় একটি অংশই আদর্শ মানের ধারেকাছে নেই। তার মতে,
‘প্রতি অর্ধে পানির বিরতি (হাইড্রেশন ব্রেক) অবশ্যই তিন মিনিটের চেয়ে বেশি হতে হবে—এটি অন্তত পাঁচ মিনিট, আর সম্ভব হলে ছয় মিনিট হওয়া উচিত। আমরা আশা করছি এই খোলা চিঠিটি ফিফাকে টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই তাদের তাপ-সংক্রান্ত নির্দেশিকাগুলো আপডেট করতে বাধ্য করবে।’
২০২৬ বিশ্বকাপ নিয়ে উদ্বেগের কারণ মূলত চরম আবহাওয়ার পূর্বাভাস। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর গ্রীষ্মকালীন আবহাওয়ায় প্রচণ্ড তাপপ্রবাহের পাশাপাশি বজ্রঝড়, এমনকি দাবানলের কারণে বাতাসের নিম্নমানের মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে। 'ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশন' -এর নতুন এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ১৯৯৪ সালে একই মহাদেশে আয়োজিত বিশ্বকাপের তুলনায় এবারের আসরে খেলোয়াড় এবং দর্শকদের অনেক বেশি কষ্টকর তাপ ও আর্দ্রতার মুখোমুখি হতে হবে।
বর্তমানে ফিফা খেলোয়াড়দের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে যে পদক্ষেপগুলো নিয়েছে, সেগুলো মূলত আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ এবং মাঠের ভেতর তাৎক্ষণিক স্বস্তি প্রদানের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। ফিফার ‘খেলোয়াড় কল্যাণে অঙ্গীকারের’ অংশ হিসেবে প্রতিটি ম্যাচের দুই অর্ধে তিন মিনিটের বাধ্যতামূলক 'কুলিং ব্রেক' বা বিরতির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যা আবহাওয়ার পরিস্থিতি যাই হোক না কেন কার্যকর থাকবে। এছাড়া খোলা মাঠে আয়োজিত সব ম্যাচের ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত কর্মকর্তা এবং বদলি খেলোয়াড়দের জন্য থাকছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বেঞ্চের ব্যবস্থা।
তাপমাত্রা পরিমাপের জন্য ফিফা খেলাধুলার জগতে অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি 'ওয়েট বাল্ব গ্লোব টেম্পারেচার' ব্যবহার করে। এটি মূলত তাপমাত্রা, আর্দ্রতা এবং বাতাসের প্রভাব মিলিয়ে মানবদেহের ওপর তাপের প্রকৃত চাপ পরিমাপ করে। অ্যাথলেটদের জন্য এই পরিমাপে ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসকে একটি সতর্কসংকেত হিসেবে ধরা হয়। ফিফার জরুরি চিকিৎসা নির্দেশিকা অনুযায়ী, যদি এই মান ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি বা তার বেশি হয়, তবে তাপজনিত অসুস্থতা রোধে আয়োজকদের বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
খেলোয়াড়দের পাশাপাশি দর্শকদের স্বস্তির কথা মাথায় রেখেও কিছু পরিকল্পনা নিয়েছে ফিফা। অতিরিক্ত গরমের পূর্বাভাস থাকলে দর্শকরা নিজেদের সাথে সিল করা পানির বোতল নিয়ে স্টেডিয়ামে প্রবেশের অনুমতি পাবেন। এছাড়া ভেন্যুগুলোতে ছায়াযুক্ত এলাকা বৃদ্ধি, কুয়াশা তৈরির যন্ত্র কুলিং বাস এবং অতিরিক্ত পানি সরবরাহের মতো বিশেষ ব্যবস্থা চালু করা হবে।

ফুটবল বিশ্বকাপ দরজায় কড়া নাড়ছে। ১৯৩০ সালে মাত্র ১৩টি দলের অংশগ্রহণে উরুগুয়েতে বসেছিল বিশ্বকাপের প্রথম আসর। কালের পরিক্রমায় ২০২৬ সালের ১১ জুন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে বসতে যাচ্ছে 'গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ'-এর ২৩তম আসর। শতবর্ষ ছুঁই ছুঁই এই টুর্নামেন্ট এরই মধ্যে সাক্ষী হয়েছে অজস্র রোমাঞ্চকর ঘটনার।
প্রথম বিশ্বকাপের উদ্বোধনী দিনে একক ম্যাচের বদলে দুটি ম্যাচ একই সময়ে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। একটি ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল ফ্রান্স ও মেক্সিকো। যেখানে ফ্রান্স ৪-১ ব্যবধানে জয় পায়। আরেক ম্যাচে বেলজিয়ামের বিপক্ষে লড়েছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এস্তাদিও গ্র্যান পার্কে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্র ৩-০ ব্যবধানে জয়ী হয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে শুভ সূচনা করেছিল।
বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম গোলটি করেন ফ্রান্সের লুসিঁয়ে লরাঁ। অন্যদিকে বেলজিয়ামকে ৩-০ গোলে হারানো ম্যাচে বিশ্বকাপের প্রথম ক্লিনশিট পেলেন যুক্তরাষ্ট্রের জিম ডগলা। এরপরই টানা ২৮ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে গোলশূন্য কোনো ম্যাচ দেখার জন্য।
১৯৫৮ সালের সুইডেন বিশ্বকাপে টুর্নামেন্টের ষষ্ঠ আসরের ১১০তম ম্যাচে এসে প্রথমবার গোলশূন্য ড্র হয়। ড্র করা সেই ম্যাচটি হয়েছিল এমন দুটি দলের মধ্যে, যারা পরবর্তী চারটি ট্রফির সবকটিই নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিয়েছিল—ব্রাজিল ও ইংল্যান্ড।
বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবার গোল করতে না পারাটা ব্রাজিলের জন্য উল্টো আশীর্বাদ হয়ে ধরা দেয়। সেই আসরে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিপক্ষে তৎকালীন কোচ ভিসেন্তে ফিওলা দুই প্রতিভাকে দলে সুযোগ দেন—অপ্রতিরোধ্য উইঙ্গার গারিঞ্চা এবং মাত্র ১৭ বছর বয়সী তরুণ পেলে। এই গারিঞ্চা আর পেলের জাদুকরী নৈপুণ্যেই পরবর্তীতে ব্রাজিল টানা দুইবার বিশ্বজয়ের অনন্য স্বাদ পায়।

ইরানের রাজধানী তেহরান যেন রূপ নিল উৎসবের শহরে। এনকেলাব স্কয়ারে হাজার হাজার সমর্থকের উপস্থিতিতে বিশ্বকাপগামী জাতীয় দলের জন্য একটি বর্ণাঢ্য বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রে খেলতে যাওয়া নিয়ে তৈরি হওয়া উদ্বেগের মধ্যেই এই অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হলো।
ইরানের খেলোয়াড়রা দেশাত্মবোধক বক্তব্য দেওয়ার সময় উপস্থিত জনতা তাদের ব্যাপক করতালি দিয়ে উৎসাহিত করেন। এই অনুষ্ঠানেই ইরানের বিশ্বকাপের জার্সি উন্মোচন করা হয়। এখান থেকেই দলটি তাদের পরবর্তী প্রস্তুতির জন্য তুরস্কে একটি প্রশিক্ষণ ক্যাম্পের উদ্দেশ্যে রওনা হবে।
ইসলামিক রিপাবলিক অফ ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহেদি তাজ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেন, ‘গত চারটি বিশ্বকাপ অভিযানের মধ্যে এটিই সেরা বিদায় সংবর্ধনা।
মেহেদি তাজ আরও যোগ করেন,
‘খেলোয়াড়রা জনগণের সঙ্গে আছে এবং এই জনতা দেশের মর্যাদা, সম্মান ও শক্তির পক্ষে দাঁড়িয়েছে। ফলাফল যা-ই হোক না কেন, সেখানে যেন ইরানের পতাকা উড্ডীন থাকে এবং রক্ষা করা হয়।’
গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এবারের বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছিল। এরমধ্যে কদিন আগে তাজ-এর নেতৃত্বে এফএফআইআরআই-এর একটি প্রতিনিধি দল টরন্টোর প্রধান বিমানবন্দর থেকে ফিরে যায়। কানাডিয়ান ইমিগ্রেশনের আচরণের সমালোচনা করে তারা ভ্যাঙ্কুভারে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ-পূর্ব ফিফার একটি সভা মিস করেন। তাদের দাবি, বৈধ ভিসা থাকা সত্ত্বেও ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা তাদের সাথে ‘অগ্রহণযোগ্য আচরণ’ করেছেন।
এবারের বিশ্বকাপে ইরানের তিনটি গ্রুপ পর্বের ম্যাচই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে খেলোয়াড় এবং কর্মকর্তাদের ভিসা নিশ্চিত করে তাদের যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ার পুরো দায়িত্ব এখন ফিফার ওপর ছেড়ে দিয়েছে ইরান।
এই বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ফুটবল ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক হেদায়েত মোমবেইনি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেন,
‘ভিসা সংক্রান্ত কোনো খবর এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেনি। আমরা আশা করছি নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই এর সমাধান হয়ে যাবে।’
হেদায়েত মোমবেইনি আরও যোগ করেন,
‘ফিফা আমাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। আশা করি সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ হবে এবং খেলোয়াড়রা সময়মতো তাদের ভিসা পেয়ে যাবেন।’
আগামী ২৯ মে আনতালিয়াতে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচে গাম্বিয়ার মুখোমুখি হবে ইরান। মোমবেইনি জানিয়েছেন, তুরস্কে অবস্থানকালীন তারা আরও একটি প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।