
ভিনিসিয়ুসক জুনিয়রকে বর্ণবাদী গালি দিয়ে শাস্তি পেলেন জিয়ানলুকা প্রেস্তিয়ান্নি। বেনফিকার আর্জেন্টাইন এই উইঙ্গারকে সাময়িকভাবে এক ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করেছে ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা ইউয়েফা। তাতে বুধবার চ্যাম্পিয়নস লিগে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে ম্যাচে তাকে ছাড়াই মাঠে নামতে হবে বেনফিকাকে।
আজ উয়েফা এক বিবৃতিতে প্রেসতিয়ান্নিকে নিষিদ্ধ করার কথা জানিয়েছে,
‘আমরা মিস্টার জিয়ানলুকা প্রেসতিয়ান্নিকে উয়েফা ক্লাব প্রতিযোগিতায় পরের ম্যাচের জন্য সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
চ্যাম্পিয়নস লিগের প্রথম লেগের ম্যাচে রিয়াল মাদ্রিদের জয়ের পর ভিনিসিয়ুস অভিযোগ করেন, প্রেসতিয়ান্নি তাঁকে লক্ষ্য করে বর্ণবাদী মন্তব্য করেছেন। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে উয়েফা একজন নৈতিকতা ও শৃঙ্খলা পরিদর্শক নিয়োগ করেছে বিষয়টি তদন্তের জন্য। সংস্থাটি জানিয়েছে, তদন্ত শেষ হলে প্রেসতিয়ান্নির জন্য আরও বড় শাস্তি আসতে পারে। উয়েফার নিয়ম অনুযায়ী, বর্ণবাদের অভিযোগ প্রমাণিত হলে অন্তত ১০ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পেতে পারেন এই প্রেস্তিয়ান্নি।
গত সপ্তাহে বেনফিকার মাঠ লিসবনে প্রথম লেগের ম্যাচে বর্ণবাদের ওই ঘটনার পর ১০ মিনিটের খেলা বন্ধ থাকে। ভিনিসিয়াস মাঠে রেফারিকে অভিযোগ জানান এবং পরে নিজের দল সহ সাময়িকভাবে মাঠ ত্যাগ করেন। ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার অভিযোগ করেন তাকে ‘বানর’ ডাকা হয়েছিল।
অবশ্য ভিনিসিয়ুসের অভিযোগ অস্বীকার করেন প্রেস্তিয়ান্নি। এমনকি বেনফিকাও এই ঘটনায় নিজেদের খেলোয়াড়ের পাশেই দাড়িয়েছে। ক্লাবটি এক বিবৃতিতে জানায়, তারা তদন্তে সব ধরনের সহযোগিতা করবে, তবে প্রেসতিয়ান্নি কোনো ‘ষড়যন্ত্রের’ শিকার কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা উচিত। প্রেসতিয়ান্নি নিজেও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
No posts available.
২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৯:৪১ পিএম
২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৭:১৭ পিএম

লিওনেল মেসির বার্সেলোনা ছাড়ার সেই মুহূর্ত ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম ট্র্যাজেডি বললে ভুল হবে না। এখনো কাতালান ক্লাবটির অনেক সমর্থকদের কাছে ক্লাবের ইতিহাসের সেরা ফুটবলারের বিদায় দুঃস্বপ্নের মতো। কেন ক্লাবের সেরা ফুটবলারকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছিল বার্সা? এর আগে অনেকবারই এ প্রসঙ্গে মুখ খুলেছিলেন স্প্যানিশ ক্লাবটির প্রেসিডেন্ট হোয়ান লাপোর্তা। এবার এক সাক্ষাৎকারে খোলামেলাভাবেই জানালেন ঠিক কী ঘটেছিল মেসির সঙ্গে, কেন মেসির সঙ্গে বার্সার সভাপতি লাপোর্তার সম্পর্ক আর আগের মতো নেই।
বার্সেলোনার প্রেসিডেন্ট থেকে কদিন আগে পদত্যাগ করেন লাপোর্তা। ক্লাবটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রার্থী হতে নিয়মানুযায়ী সরে দাড়ান তিনি। নির্বাচনের আগে কাতালুনিয়া রেডিও’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে লাপোর্তা মেসির বিদায়ের পেছনের আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কারণ ব্যাখ্যা করেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এমন কোনো চুক্তিতে যেতে চায়নি ক্লাব, যা দীর্ঘমেয়াদে বার্সেলোনার ক্ষতি করতে পারে।
সিভিসি নামে একটি চুক্তিতে যেতে না চাওয়ার কারণেই নাকি মেসি ছাড়তে বাধ্য হয় বার্সা। এই চুক্তি অনুযায়ী মাঠের ও বাণিজ্যিক উন্নয়নের জন্য তহবিল পেত ক্লাব কিন্তু সেই চুক্তি দীর্ঘমেয়াদে ক্লাবের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে লাপোর্তা তা স্বীকার করেন, ‘তাকে (মেসি) নিবন্ধন করাতে আমরা সিভিসি চুক্তিতে যেতে চাইনি, কারণ আমরা মনে করেছি এটি ক্লাবের জন্য ক্ষতিকর। বার্সেলোনা খেলোয়াড়, কোচ বা সভাপতি সবকিছুর ঊর্ধ্বে—তাই আমরা সেটা করতে পারিনি। সভাপতি হিসেবে এটিই আমাকে সবচেয়ে বেশি কষ্ট দিয়েছে।’
লাপোর্তা আরও যোগ করেন, ‘কুমান, জাভি, পিকে ও অন্যদের বিদায়ের মতো এগুলো হতাশাজনক মুহূর্ত। সময়গুলো কঠিন ছিল, কিন্তু আমরা সেই ঝুঁকি নিতে পারিনি। তার চুক্তির অঙ্ক নবায়ন করলে আমাদের পক্ষে বহন করা অসম্ভব হয়ে যেত—এ কারণেই সে থাকতে পারেনি।’
তারপর লাপোর্তা মেসির সঙ্গে নিজের ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও প্রথম দফার সভাপতি থাকার সময় থেকে গড়ে ওঠা স্নেহ-ভালোবাসার স্মৃতিও তুলে ধরেন। তিনি স্বীকার করেন, মানবিক দিক থেকে এই বিচ্ছেদ মোটেও সহজ ছিল না,
‘আমার প্রথম মেয়াদ থেকেই মেসি ও আরও কয়েকজন খেলোয়াড়কে আমি চিনতাম। তাদের প্রতি স্বাভাবিকভাবেই ভালোবাসা ও গভীর শ্রদ্ধা তৈরি হয়।’
লিওনেল মেসির মতো কিংবদন্তির ক্লাব ছাড়ার সহ খেলোয়াড়দের প্রতি শ্রদ্ধা থাকলেও ক্লাবে সবার ওপরে রাখছেন লাপোর্তা,
‘আমরা এসব খেলোয়াড়ের প্রতি ভীষণ কৃতজ্ঞ, কিন্তু বার্সাও তাদের জন্য অনেক কিছু করেছে। পরিস্থিতি এমন ছিল যে তা সম্ভব হয়নি, আর লিওর পক্ষে ক্লাবে থাকা আর সম্ভব ছিল না।’
তবে সময়ের সঙ্গে দুজনের সম্পর্কও আর আগের মতো থাকেনি বলেও জানান লাপোর্তা। তাঁর মতে,
২০২৩ সালের ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠানের একটি ঘটনা দুজনের দূরত্ব আরও বাড়িয়ে দেয়, ‘মেসির সঙ্গে সম্পর্ক আগের মতো নেই। ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠানে আমি তাকে শুভেচ্ছা জানাতে গেলে সে মনে করেছিল আমাদের একে অপরকে শুভেচ্ছা জানানো উচিত নয়।’
অবশ্য এখন সম্পর্ক কিছুটা উন্নতি হয়েছে বলছেন বার্সার সদ্য সাবেক সভাপতি,
‘এরপর থেকে কিছুটা কাছাকাছি আসার চেষ্টা হয়েছে এবং আমরা আশা করি ভবিষ্যতে সেটি আরও এগোবে। সম্পর্ক কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তবে সে বার্সেলোনার কিংবদন্তি।’
বর্নাঢ্য ক্যারিয়ারের প্রায় পুরোটাই বার্সেলোনায় কাটিয়ে দেওয়া মেসির সব সাফল্য এসেছে ন্যু ক্যাম্পের ক্লাবটির হাত ধরে। ২০২১ সালের জুনে এই ক্লাব ছাড়ার আগে সম্ভাব্য সব দলীয় কিংবা ব্যাক্তিগত শিরোপা জিতেছেন রেকর্ড আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী ইন্টার মায়ামির মহাতারকা।

প্রায় পাঁচ বছর পর যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। আজ সংবাদ সম্মেলন ডেকে ক্লাবের সাধারণ সভা (এজিএম) ও বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচনের সময় জানানো হয়। ক্লাব প্রাঙ্গণে যখন সাংবাদিক, ক্লাব কর্তা, সদস্যদের আনাগোনা; মোহামেডানের প্রাকটিস উঠোন তখন খা খা মরুভূমি। ১১ দিন পর শুরু হবে বাংলাদেশ ফুটবল লিগের খেলা, অথচ পাওনা টাকা না পাওয়ায় এদিন অনুশীলন বর্জন করেছেন খেলোয়াড়েরা।
নতুন মৌসুমের শুরু থেকেই খুঁড়িয়ে চলছে মোহামেডান। পেশাদার লিগ যুগের শুরুর পর প্রথমবার ২০২৪-২৫ মৌসুমে লিগ শিরোপা ঘরে তুলেছে মতিঝিল পাড়ার ক্লাবটি। কিন্তু শিরোপা ধরে রাখার মিশনে ঘর গোছাতে পারেনি ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা। এমনকি মধ্যবর্তী দলবদলেও চমক দিতে পারেনি সাদা-কালোরা।
ইমানুয়েল সানডে, সুলেমান দিয়াবাতে, ইমানুয়েল টনিদের হারানোর পর লিগে ৯ ম্যাচ শেষে ১০ পয়েন্ট নিয়ে ষষ্ঠ অবস্থানে আছে মোহামেডান। প্রথম পর্বের শেষ রাউন্ডের আগে ফেসবুকে এক পোস্টে ব্যক্তিগত কারণ (বাবার অসুস্থতা) দেখিয়ে উজবেকিস্তান চলে যান অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার মুজাফফর মুজাফফরভ। যদিও জানা গিয়েছিল পাওনা টাকা ঠিকমতো না পাওয়ার অসন্তুষ্টি নিয়েই ক্লাব ছেড়েছিলেন তিনি।
ঘরোয়া ফুটবলের দ্বিতীয় পর্ব শুরুর আগে অবশ্য ক্লাবে যোগ দিয়েছেন মুজাফফরভ। কিন্তু প্রিয় আঙিনায় এসে পুরোনো চিত্রই দেখতে হলো তাঁকে। আজ ক্লাবের বেশিরভাগ খেলোয়াড় অনুশীলন করেননি। কয়েকজন জুনিয়র খেলোয়াড়ের সঙ্গে মোহামেডানের উঠোনে হালকা অনুশীলনে নামেন উজবেক মিডফিল্ডার।
সূত্র জানায়, দেশি খেলোয়াড়দের বেতন বকেয়া রেখে বিদেশি কয়েকজন খেলোয়াড়ের টাকা পরিশোধ করা শুরু করেছে ক্লাব। তাতে লোকাল খেলোয়াড়দের আপত্তি নেই। কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় যে বিদেশি খেলোয়াড়েরা টাকা না পেলে ফিফায় অভিযোগ করতে পারেন, তাতে ক্লাবের সম্মান ক্ষুণ্ন হবে, যে কারণে এই বিষয়টি তাঁরা স্যাক্রিফাইস করতে চান। কিন্তু নিজেদের পাওনা টাকা কবে পাবেন তার একটা নিশ্চয়তা চাইছেন এই খেলোয়াড়েরা।
অনুশীলন না করা নিয়ে মোহামেডানের এক খেলোয়াড় বলেন,
'আসলে খেলোয়াড়েরা ঠিকমতো পেমেন্ট পাচ্ছে না। তারপরও এটা মেনে নিয়েই আছে, একদম খারাপ অবস্থা যেটা বলা যায়। কিন্তু আমাদের পেমেন্ট লিগের প্রথম পর্ব শেষ হওয়ার পরেই দেওয়ার কথা ছিল, তখনও দেয় নাই। যাতায়াত খরচ দিয়ে বাসায় পাঠিয়েছে, বলা হয়েছিল বাসায় গেলে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। এরপর বলা হয় জাতীয় নির্বাচনের পরে টাকা নিয়ে কোনো সমস্যা হবে না। তো জাতীয় নির্বাচন গেলো, কিন্তু আমরা তো টাকা পেলাম না।'
'পেমেন্ট তো অনেকগুলোই বাকি। ক্লিয়ার তো কোনটাই করে নাই। রমজান মাস আসছে, সবার তো পরিবার আছে। এমন হয়েছে যে বাজারঘাট, বাসা ভাড়া, আনুষঙ্গিক খরচ দেওয়ার মতো অবস্থা প্লেয়ারদের নাই।'
একটা সময় মৌসুম শুরুর আগে সাধারণত ক্লাব থেকে খেলোয়াড়েরা ৬০-৭০ শতাংশ পর্যন্ত টাকা পেতেন। চুক্তির বাকি টাকা মৌসুমের বাকি সময়ে অল্প অল্প করে দেওয়া হতো। কিন্তু গত কয়েক বছরে দেশের ফুটবলে সে সবের চর্চা নেই বললেই চলে। মোহামেডানের নিদারুণ আর্থিক সঙ্কটে এবার মৌসুমের শুরুতে মোটা অঙ্ক পাননি খেলোয়াড়েরা। জানা যায় আগের দুই-এক মৌসুমের টাকাও বকেয়া।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে মোহামেডানের এক খেলোয়াড় বলেন,
'আগে তো ক্লাব থেকে খেলোয়াড়েরা একটা ভালো টাকা পেতো। প্রথমে ১৫-২০ লাখ, ১০ লাখ যাই হোক একটা মোটা টাকা পেতো, যা দিয়ে সারা বছর খরচ করতে পারত। এখন তো ওই টাকাটাও পায় না। টুকটাক স্যালারি দেয়, তাও ধরেন যেমন প্রথম পর্ব শেষে যা দেওয়ার কথা... স্যালারি যেটা, সেটার ৫০ শতাংশও দেয় নাই। এখন আজকে প্লেয়াররা বলছে যে প্র্যাকটিস করবে না।'
অনুশীলন না করার কোনো ইচ্ছে ছিল না বলে জানান খেলোয়াড়েরা। তবে তাদেরকে কেউ অন্তত পাওনা টাকার ব্যাপারে আশ্বস্ত করুক এটা চান অনুশীলন বর্জন করা খেলোয়াড়েরা। ক্লাবের স্বার্থে ম্যাচও খেলবেন, নিজেদের কষ্ট চাপা রেখে। ওই খেলোয়াড় বলেন,
'যাই হোক আমরা তো আসলে টাকা না দিলেও খেলবো। প্লেয়াররা খেলবে না যে তা না। এটা কমিটমেন্টের একটা বিষয় আছে যে অমুক দিন দিবো বা তমুক দিন দিবো বা ঈদের আগে দিব। কিন্তু কেউ কমিটমেন্ট করতে আসে না। যে আজকে প্র্যাকটিস করে নাই, প্লেয়ারদের ডেকে যে একটু কথা বলবে, সেই লোকটা আর নাই।'
'কেউ তো বললো না যে ঠিক আছে আজকে করো নাই কালকে সবাই প্র্যাকটিস করো। আমরা নির্বাচনের পরে... প্লেয়াররা তো স্যাক্রিফাইস করেই আসছে।'
টাকা না পেয়ে, কিংবা আর্থিক প্রতিশ্রুতি না পেয়েও হয়ত আবার মাঠের অনুশীলনে ফিরবে সাদা-কালো ব্রিগেড। ম্যাচে নিংড়ে দেবেন সর্বোচ্চটা, কিন্তু তাদের দিকটা ভাবার মতো কেউ কি এগিয়ে আসবে, সেটি আপাতত জানা-দেখার অপেক্ষা।

জুনে শুরু ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ। অংশগ্রহণকারী ৪৮ দল সারছে শেষ মুহুর্তের প্রস্তুতি। এরই মধ্যে দুঃসংবাদ পেল ইংল্যান্ড। দলটির অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার রুবেন লাফটাস-চিক চোয়াল ভেঙেছেন। ক্লাব থেকে প্রাপ্ত সংবাদ—বিশ্বকাপ অধ্যায় শেষ এসি মিলান তারকার।
রবিবার সিরি’আতে পারমার বিপক্ষে মাত্র দশম মিনিটে মাঠ ছাড়তে হয় লাফটাস-চিককে। পারমার গোলকিপার এদোয়ার্দো করভির সঙ্গে সংঘর্ষ হয় তার। এরপর স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়তে দেখা যায় লাফটাস-চিককে। সেখান থেকে দ্বারস্ত হতে হয় চিকিৎসকের। ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত ১-০ গোলে হেরে যায় মিলান।
ইতালীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, লাফটাস-চিকের আঘাতটি গুরুতর। স্কাই স্পোর্টস ইতালিয়া জানিয়েছে, “উপরের দুটি দাত ভেঙে তার। কেটে গেছে মাড়ির উপরের অংশ। পাশাপাশি ইংল্যান্ড তারকা হাড়েও আঘাত পেয়েছেন।”
প্রতিবেদন অনুযায়ী, লাফটাস-চিক সোমবার অপারেশন করবেন এবং কয়েক মাস মাঠের বাইরে থাকতে পারেন তিনি।
সবকিছু বিবেচনায় বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার ঝুঁকিতে লাফটাস-চিক। টুর্নামেন্ট মাত্র চার মাস দূরে। অপারেশন ও পুনরুদ্ধারে দীর্ঘ সময় প্রয়োজন হলে তাকে নাও পেতে পারে ইংল্যান্ড।
৩০ বছর বয়সী লাফটাস-চিক ২০১৮ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের দলে খেলেছেন। তখন গ্যারেথ সাউথগেটের নেতৃত্বে ইংল্যান্ড ১৯৯০ সালের পর প্রথমবার সেমিফাইনালে পৌঁছে। কিন্তু ক্রোয়েশিয়ার কাছে অতিরিক্ত সময়ে হেরে বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়ে।
লাফটাস-চিক এরপর আন্তর্জাতিক দলে সেভাবে সুযোগ পাননি। তবে থমাস টুখেল তাকে গত বছর থ্রি লাইন্স দলে পুনরায় সুযোগ দেন। অক্টোবরে ওয়েলসের বিপক্ষে ৩-০ জয়ে তিনি সাবস্টিটিউট হিসেবে খেলেছিলেন।
অপরদিকে, লাফটাস-চিকের চোট এসি মিলানের জন্যও বড় ধাক্কা ছিল। শীর্ষে থাকা প্রতিদ্বন্দ্বী ইন্টার মিলান তাদের থেকে ১০ পয়েন্ট এগিয়ে গিয়েছে, ফলে মিলানের শিরোপা আশা ক্ষুণ্ন হয়েছে।

টটেনহ্যাম হটস্পারের বিপক্ষে ৪-১ ব্যবধানে জয় তুলে প্রিমিয়ার লিগে শীর্ষস্থান ধরে রাখল আর্সেনাল। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে জোড়া গোল করেছেন এবেরেচি এজে। যা তাঁকে সাবেক আর্সেনাল স্ট্রাইকার থিয়েরি হেনরি ও রবিন ভ্যান পেরসির রেকর্ড স্পর্শে সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে।
এজে এই মৌসুমে ইতোমধ্যেই টটেনহামের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেছেন। এখন পর্যন্ত দুই ম্যাচে পাঁচটি গোল করেছেন তিনি। উত্তর লন্ডন ডার্বিতে একটি লিগ মৌসুমে চার বা তার বেশি গোল করা দ্বিতীয় খেলোয়াড় এজে। ১৯৩৪-৩৫ মৌসুমে এই কৃতিত্ব করেছিলেন টেড ড্রেক।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৭৮ সালের পর টটেনহামের বিপক্ষে সর্বকালের সবচেয়ে বড় এওয়ে ম্যাচে জয় উদযাপন করেছে আর্সেনাল। এটি দ্বিতীয় মৌসুম যখন আর্সেনাল উভয় লিগ ম্যাচেই স্পার্সের বিপক্ষে তিন বা তার বেশি গোল ব্যবধানে জিতেছে। এর আগে ১৯৩৪-৩৫ মৌসুমে এমনটা ঘটেছিল।
এজে এই মৌসুমে মাত্র ১৪টি ম্যাচ শুরু করেছেন এবং ২৩ নভেম্বরের পর থেকে আর্সেনালের হয়ে পূর্ণ ৯০ মিনিট খেলেননি। ম্যাচের পর স্কাই স্পোর্টসকে সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন,
“আমি সবসময় চেষ্টা করি এমন অবস্থানে থাকতে, যাতে সঠিক জায়গা খুঁজে পাই এবং সুযোগ তৈরি করতে পারি। এ পর্যন্ত আসতে অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে। আর সেটা কাজ করেছে। আমরা ভালো পারফরম্যান্স করেছি। যা করতে চেয়েছি, তাই হয়েছে—এটাই মূল বিষয়।”
উলভসের বিপক্ষে হতাশাজনক ড্রয়ের প্রতিক্রিয়ার গুরুত্ব নিয়ে প্রশ্নে এজে যোগ করেন,
“হ্যাঁ, নিশ্চয়ই, এটিই মূল বিষয়। আমরা জানি আমাদের সামর্থ্য। আমাদের প্রতিটি ম্যাচে প্রাধান্য নিয়ে খেলা এবং জয় করা দরকার, আর সেই খেলোয়াড় রয়েছে। এটা গুরুত্বপূর্ণ জয় এবং আমরা এগিয়ে চলব।”
এজের এই মৌসুমে এমিরেটস স্টেডিয়ামে পাঁচটি প্রিমিয়ার লিগ গোল, যার মধ্যে ৮০ শতাংশ গোলই উত্তর লন্ডন ডার্বি থেকে প্রাপ্ত।

মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) ও বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচন হবে আগামী ৯ মার্চ। প্রায় পাঁচ বছর পর হতে চলা এজিএম এবং ভোট গ্রহণ হবে শাহবাগের ঢাকা ক্লাবে।
মোহামেডান ক্লাবের সর্বশেষ নির্বাচন হয়েছিল ২০২১ সালের ৬ মার্চ।
নতুন পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচনে ভোট দেবেন মোট ৩৭১ জন সদস্য। যার মধ্যে তিনজন দাতা সদস্য রয়েছেন। ১৭ সদস্যের পরিচালনা পর্ষদে পরিচালক পদ ১৬ টি এবং একজন সভাপতি থাকবেন।
আজ সোমবার ক্লাব প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন,
'নিয়ম অনুযায়ী প্রতি ২ বছর পরপর নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও প্রায় পাঁচ বছর পেরিয়ে গেছে।'
বিলম্বের কারণ ব্যাখ্যা করে কাজল জানান, ক্লাবটি এসসি লিমিটেড কোম্পানিতে রূপান্তরিত হওয়ার পর কোম্পানি আইনে নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে গেলে নির্বাচন আয়োজনের জন্য আদালতের অনুমতি বাধ্যতামূলক হয়ে পড়ে।
তিনি বলেন, 'আদালত এখন মার্চের মধ্যেই নির্বাচন আয়োজনের নির্দেশ দিয়েছে।'
গত রোববার খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। যা ক্লাব প্রাঙ্গনের নোটিশ বোর্ডেও সাঁটানো হয়েছে।
আগামীকাল মঙ্গলবার ও বুধবার মনোনয়নপত্র বিক্রি হবে এবং ১ মার্চ প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দেবেন। ৩ মার্চ মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই, আপত্তি ও প্রত্যাহারের পর ৪ মার্চ চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে। এরপর ৯ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে ভোটগ্রহণ।
ব্যারিস্টার কাজল বলেন,
'কমিশনের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকে আশ্বস্ত করতে চাই, এই নির্বাচন সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হবে। আমাদের মূল অঙ্গীকার একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করা।'
এজিএম প্রস্তুতি কমিটির সদস্য সচিব ও সাবেক পরিচালক-ইনচার্জ লোকমান হোসেন ভূঁইয়া আশা প্রকাশ করেন, একটি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং নতুন পরিচালনা পর্ষদ মোহামেডান এসসিকে আরও উচ্চতায় নিয়ে যাবে।