২০ মে ২০২৬, ১১:১৪ পিএম

বিশ্বকাপের ইতিহাসে এমন ২২ জন ফুটবলার রয়েছেন যারা ভিন্ন দেশে জন্মগ্রহণ করেও শিরোপা জয়ের গৌরব অর্জন করেছেন। এই তালিকায় সিংহভাগ ফুটবলারই ইতালি, আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্সের। ইতিহাসে এমন ফুটবলারও রয়েছেন, যিনি দুটি ভিন্ন দেশের জার্সিতে বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলেছেন।
১৯৩৪ সালে ইতালিকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করতে ভূমিকা রেখেছিলেন—আত্তিলিও দেমারিয়া, এনরিকে গুয়াইতা, লুইস মন্তি ও রাইমুন্দো ওরসি। এই তিনজনের জন্মস্থান আর্জেন্টিনা। আনফিলোগিনো গুয়ারিসি ব্রাজিলের। ফেলিস বোরেল ফ্রান্সে এবং মারিও ভার্গলিয়েন জন্মস্থান ক্রোয়েশিয়ায়।
লুইস মন্তি বিশ্বকাপের ইতিহাসে একমাত্র খেলোয়াড় যিনি দুটি ভিন্ন দেশের হয়ে ফাইনাল খেলার অনন্য রেকর্ড গড়েছেন। ১৯৩০ সাল তথা প্রথম বিশ্বকাপের ফাইনালে উরুগুয়ের কাছে ৪-২ ব্যবধানে হেরে যাওয়া আর্জেন্টিনা দলেও তিনি ছিলেন।
ভিন্ন দেশে জন্মগ্রহণ করা খেলোয়াড়দের মধ্যে যারা পরবর্তীতে অন্য দেশের হয়ে বিশ্বকাপ জিতে সবচেয়ে বেশি আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন তাদের মধ্যে অন্যতম—ফ্রান্সের মার্সেই দেশাই (জন্ম: ঘানা) ও পাত্রিক ভিয়েরা (জন্ম: সেনেগাল), জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসা (জন্ম: পোল্যান্ড) ও লুকাস পোদোলস্কি (জন্ম: পোল্যান্ড) এবং ইতালির ক্লাউদিও জেনতিলে (জন্ম: লিবিয়া)।
২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে এই তালিকায় যুক্ত হতে পারে আরও কিছু নতুন নাম। আর্জেন্টিনার নিকো পাজ (জন্ম: স্পেন), মাতেও পেলেগ্রিনো (জন্ম: স্পেন) ও জিউলিয়ানো সিমিওনে (জন্ম: ইতালি) কিংবা ফ্রান্সের মাইকেল অলিসে (জন্ম: ইংল্যান্ড) ও মার্কাস থুরামদের (জন্ম: ইতালি) সুযোগ রয়েছে এই কীর্তিতে ভাগ বসানোর।
২০২৬ বিশ্বকাপের অন্যতম ফেভারিট দলগুলোর স্কোয়াডে থাকা আরও বেশ কয়েকজন তারকা খেলোয়াড় এই তালিকায় নাম লেখাতে পারেন। যাদের অন্যতম ইংল্যান্ডের মার্ক গেয়িহে (জন্ম: আইভরি কোস্ট), জার্মানির ভালদেমার আন্তন (জন্ম: উজবেকিস্তান) এবং পর্তুগালের দুই তারকা দিয়েগো কোস্তা (জন্ম: সুইজারল্যান্ড) ও ম্যাথিউস নুনেস (জন্ম: ব্রাজিল)।
No posts available.
২০ মে ২০২৬, ৯:১৮ পিএম
২০ মে ২০২৬, ৭:৪৯ পিএম

২০২৬ বিশ্বকাপে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর (ডিআর কঙ্গো) ঐতিহাসিক যোগ্যতা অর্জনকে ঘিরে যে উন্মাদনা তৈরি হয়েছিল, তা হঠাৎ করেই এক গুরুতর স্বাস্থ্য উদ্বেগে রূপ নিয়েছে। ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় মঞ্চে নিজেদের প্রথম উপস্থিতির জন্য যখন প্রস্তুতি নিচ্ছিল এই আফ্রিকান দেশটি, ঠিক তখনই তারা এমন এক চিকিৎসা জরুরি অবস্থার কেন্দ্রে চলে এসেছে—যা কেবল তাদের নিজেদের প্রশাসনকেই নয়, বরং ফিফা এবং যৌথ আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার আয়োজক কমিটিগুলোকেও চরম চিন্তায় ফেলে দিয়েছে।
কঙ্গোতে নতুন করে ইবোলার প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় বিশ্বজুড়ে মহামারি সংক্রান্ত জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেও দেশটির সমস্ত পরিকল্পনা ছিল কেবলই মাঠের খেলায়। তবে মধ্য আফ্রিকার কিছু অংশে ‘এন্ডেমিক’ বা স্থানীয় রোগ হিসেবে পরিচিত এই মারাত্মক ভাইরাসের পুনরুত্থান, বিশ্বকাপের ঠিক আগমুহূর্তে কঙ্গোর অগ্রাধিকারের তালিকা সম্পূর্ণ বদলে দিতে বাধ্য করেছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বুধবার নিশ্চিত করেছে যে, ডিআর কঙ্গোয় ইবোলার ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি। তবে এটি এখনো বৈশ্বিক মহামারি পর্যায়ের জরুরি অবস্থা হিসেবে রূপ নেয়নি। দেশটিতে এখন পর্যন্ত বেশ কয়েক ডজন নিশ্চিত কেস পাওয়া গেছে, যার পাশাপাশি ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সন্দেহভাজন প্রায় ৬০০টি এবং মৃতের সংখ্যা ১৩৯ জন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে ফিফা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে,
‘ইবোলা প্রাদুর্ভাবের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে ফিফা সম্পূর্ণ অবগত রয়েছে এবং এটি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। ডিআর কঙ্গো ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সাথেও সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে, যাতে দলটিকে সব ধরনের চিকিৎসা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত নির্দেশনা সম্পর্কে অবগত রাখা নিশ্চিত করা যায়।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, একটি নিরাপদ ও ঝুঁকিমুক্ত টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে ২০২৬ বিশ্বকাপের তিন আয়োজক দেশের সরকারের সাথে কাজ করে যাচ্ছে ফিফা। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট, সিডিসি (সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন) ও ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি, মেক্সিকোর স্বাস্থ্য সচিবালয় এবং কানাডার পাবলিক হেলথ এজেন্সির পাশাপাশি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও (ডব্লিউএইচও) রয়েছে। টুর্নামেন্টের সাথে জড়িত প্রত্যেকের স্বাস্থ্য সুরক্ষাই ফিফার কাছে সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার।
২০২৬ বিশ্বকাপে ‘গ্রুপ কে’-তে পড়েছে ডিআর কঙ্গো, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ পর্তুগাল, কলম্বিয়া এবং উজবেকিস্তান। কঙ্গোর ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টন, ডালাস এবং সিয়াটলে। এর মধ্যে হিউস্টনে পর্তুগালের বিপক্ষে তাদের ম্যাচটিতে গ্যালারি উপচে পড়া ভিড় হওয়ার কথা, যা আয়োজকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

২০৩০ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে দুই স্তরের বাছাইপর্বের প্রক্রিয়া তৈরি করতে যাচ্ছে ইউয়েফা। নতুন এই নিয়মের ফলে সান মারিনো, জিব্রাল্টার কিংবা অ্যান্ডোরার মতো দুর্বল বা ছোট দলগুলোর বিপক্ষে ইউরোপের বড় ফুটবল পরাশক্তিদের আর মাঠে নামতে হবে না।
বাছাইপর্বের একপেশে ও কম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচগুলো বাদ দেওয়ার জন্য ফুটবল বিশ্লেষক ও সমালোচকেরা দীর্ঘদিন ধরেই দাবি জানিয়ে আসছিলেন।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ২০২৮ নেশনস লিগের র্যাঙ্কিংয়ের ওপর ভিত্তি করে শীর্ষ ৩৬টি দেশকে 'লিগ ১'-এর অধীনে ১২টি দল করে মোট ৩টি গ্রুপে ভাগ করা হবে। অন্যদিকে, বাকি ১৮টি দেশ খেলবে সম্পূর্ণ আলাদা একটি টুর্নামেন্টে। ধারণা করা হচ্ছে, এই পদ্ধতি দুর্বল দলগুলোর জন্য আরও বেশি ন্যায়সঙ্গত হবে, যেখানে তাদের ম্যাচ জেতার বা ভালো ফলাফল করার সুযোগ থাকবে অনেক বেশি।
বিশ্বকাপের এই বাছাইপর্বের পুরো প্রক্রিয়াটি চ্যাম্পিয়নস লিগের বর্তমান ফরম্যাটের আদলে সাজানো হয়েছে। ২০২৬ বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে যেখানে কোনো কোনো দেশকে ৬টি আবার কোনো কোনো দেশকে ৮টি ম্যাচ খেলতে হয়েছে, নতুন নিয়মে এখন সব দলকেই সমান ৬টি করে ম্যাচ খেলতে হবে।
১২টি দলের একেকটি গ্রুপে থাকা প্রতিটি দল ৬টি ভিন্ন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ৩টি হোম এবং ৩টি অ্যাওয়ে ম্যাচ খেলবে। এই প্রতিপক্ষগুলো নির্ধারণ করা হবে পটের ভিত্তিতে—প্রতিটি পট থেকে দুটি করে দল প্রতিপক্ষ হিসেবে মিলবে। এর ফলে গ্রুপ পর্বের চেনা ফরম্যাট—যেখানে একই গ্রুপের সব দল একে অপরের বিরুদ্ধে হোম ও অ্যাওয়ে ম্যাচ খেলত—সেই প্রথা উঠে যাচ্ছে।
'লিগ ১'-এর প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ বা সেরা র্যাঙ্কিংয়ের দলগুলো সরাসরি বিশ্বকাপের টিকিট পাবে। আর বাকি জায়গাগুলো নির্ধারণ করা হবে প্লে-অফের মাধ্যমে। তবে কতটি দল সরাসরি সুযোগ পাবে, সেই সুনির্দিষ্ট সংখ্যাটি উয়েফা এখনো চূড়ান্ত করেনি।
বাকি থাকা তলানির ১৮টি দেশ অংশ নেবে 'লিগ ২'-এ। বর্তমান নেশনস লিগের ফরম্যাট অনুযায়ী হিসাব করলে—'লিগ সি'-র গ্রুপ চ্যাম্পিয়নরা ছাড়া বাকি সব দল এবং 'লিগ ডি'-র ৭টি দেশই মূলত এই স্তরে খেলবে। তবে 'লিগ ২'-এ খেললেও এই ছোট দেশগুলোর সামনেও প্লে-অফের মাধ্যমে বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করার সুযোগ থাকবে।
ইউয়েফা সভাপতি আলেকসান্দার সেফেরিন বলেন,
‘নতুন এই ফরম্যাট প্রতিযোগিতার ভারসাম্য আরও উন্নত করবে, গুরুত্বহীন বা ডেড ম্যাচের সংখ্যা কমাবে এবং ফুটবলপ্রেমীদের আরও আকর্ষণীয় ও গতিময় এক প্রতিযোগিতা উপহার দেবে। একই সাথে আন্তর্জাতিক ক্যালেন্ডারে অতিরিক্ত কোনো ম্যাচের দিন (ডেট) না বাড়িয়েই এটি সব দলের জন্য চূড়ান্ত পর্বে যাওয়ার সমান সুযোগ নিশ্চিত করবে।’
উয়েফা আরও ঘোষণা করেছে যে, ২০২৮ সাল থেকে নেশনস লিগের কাঠামোতেও পরিবর্তন আনা হবে। নতুন নিয়মে টুর্নামেন্টটি ১৮টি করে দল নিয়ে মোট ৩টি স্তরে বিভক্ত হবে—যেখানে প্রতি ডিভিশনে ৬টি করে দল নিয়ে ৩টি গ্রুপ থাকবে। দলগুলোকে আগের মতোই ৬টি ম্যাচ খেলতে হবে, তবে প্রতিপক্ষ থাকবে ৫টি ভিন্ন দল।
এখানে ৬টি করে দল নিয়ে মোট ৩টি পট করা হবে। উদাহরণস্বরূপ—১ নম্বর পটে থাকা একটি দল, একই পটের অন্য একটি দলের বিপক্ষে হোম ও অ্যাওয়ে (নিজেদের মাঠে ও প্রতিপক্ষের মাঠে) ভিত্তিতে দুটি ম্যাচ খেলবে। এর পাশাপাশি ২ নম্বর ও ৩ নম্বর পট থেকে দুটি করে দলের বিপক্ষে (হোম অথবা অ্যাওয়ে ভিত্তিতে) বাকি ম্যাচগুলো খেলবে। তবে টুর্নামেন্টের সেমিফাইনাল, ফাইনাল এবং দলগুলোর উন্নতি ও অবনমন প্রক্রিয়া আগের নিয়মেই চালু থাকবে।

যুক্তরাষ্ট্রে লিওনেল মেসির প্রভাব যেন দিন দিন এক অভূতপূর্ব উচ্চতায় পৌঁছে যাচ্ছে। এবার ইন্টার মায়ামির আর্জেন্টাইন মহাতারকাকে সম্মান জানাতে তাঁর নিজের নামে একটি রাস্তার নামকরণ করা হয়েছে। ২০২৬ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মেসির আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তার কথা মাথায় রেখে নিউ জার্সির একটি স্থানীয় টাউনশিপ তাদের একটি রাস্তার অংশের নাম দিয়েছে ‘লিও মেসি ওয়ে’।
১৩ হাজারেরও কম জনসংখ্যার এই ছোট্ট শহরটি তাদের শেরম্যান অ্যাভিনিউয়ের একটি নির্দিষ্ট অংশকে আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী মেসির নামে নামকরণের জন্য বেছে নিয়েছে। মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) অভিষেকের পর থেকে উত্তর আমেরিকার ফুটবলে ইন্টার মায়ামি অধিনায়কের যে বিশাল প্রভাব, এই উদ্যোগটি তারই একটি স্থায়ী স্মারক হিসেবে কাজ করবে।
বিশ্বকাপ দরজায় কড়া নাড়তে থাকায় নিউ জার্সির স্থানীয় কমিউনিটি লিডাররা টুর্নামেন্টের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার নানা উপায় খুঁজছেন। আর বার্কলে হাইটস উপশহরটি মেটলাইফ স্টেডিয়ামের খুব কাছে হওয়ায় তারা বিশ্বকাপের এই আবহকে দারুণভাবে লুফে নিচ্ছে; কারণ এই স্টেডিয়ামটিই বিশ্বফুটবলের এই মহাযজ্ঞের অন্যতম প্রধান ভেন্যু।
মূলত 'বিএইচ ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ ২৬ টাস্ক ফোর্স'-এর উদ্যোগে এই নামকরণ করা হয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই ক্রীড়া উৎসবটি যৌথভাবে আয়োজন করার প্রস্তুতি হিসেবে স্থানীয়দের মাঝে উত্তেজনা ছড়িয়ে দিতে এবং বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান আয়োজনের লক্ষ্যে এই বিশেষ প্রশাসনিক গ্রুপটি গঠন করা হয়েছিল। নিজেদের প্রজন্মের সেরা ফুটবলারের নামে রাস্তার নামকরণ করাটাকেই স্থানীয়দের বিশ্বকাপের সাথে যুক্ত করার সবচেয়ে সেরা উপায় হিসেবে বেছে নিয়েছে তারা।
‘লিও মেসি ওয়ে’ সাইনটি যেখানে বসানো হয়েছে, সেটি মোটেও কোনো কাকতালীয় বিষয় নয়। কৌশলগতভাবেই এটি ‘পাত্রিয়া স্টেশন ক্যাফে’র ঠিক পাশেই স্থাপন করা হয়েছে, যা এই অঞ্চলের আর্জেন্টাইন ভক্তদের জন্য একটি আত্মিক আশ্রয়স্থল হয়ে উঠেছে। আর্জেন্টাইন নৃত্যশিল্পী ক্যারোলিনা জোকালস্কির হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত এই ক্যাফেটি আলবিসেলেস্তে কমিউনিটি এবং ফুটবলপ্রেমীদের আড্ডার একটি অত্যন্ত সুপরিচিত মিলনমেলা।
ভক্ত-সমর্থকদের ছবি তোলার জন্য জায়গাটি ইতিমধ্যেই দারুণ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে, যা আরও একবার প্রমাণ করে যে—মেসির প্রভাব শুধু মাঠের সবুজ ঘাসেই সীমাবদ্ধ নয়, তা নিউ ইয়র্ক মেট্রোপলিটন অঞ্চলের মানুষের দৈনন্দিন জীবনকেও গভীরভাবে প্রভাবিত করছে।
মেসির আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হবে ১৭ জুন আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। ‘জে’ গ্রুপে তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আলবিসেলেস্তাদের পরের ম্যাচ ২২ জুন অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে। ২৮ জুন জর্ডানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শেষ হবে লিওনেল স্কালোনিদের গ্রুপপর্ব।

বিশ্বকাপের ঠিক আগমুহূর্তে চোটের কারণে স্বপ্নভঙ্গের স্তব্ধতা কাটিয়ে অবশেষে মুখ খুলেছেন ফেরমিন লোপেজ। মেটাটারসাল ফ্র্যাকচারের (পায়ের পাতার হাড় ভাঙা) পর বার্সেলোনার স্প্যানিশ মিডফিল্ডারের সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। মাঠের বাইরে ছিটকে যাওয়ার এই দুঃসময়ে পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শুরু করার আগে ভক্ত-সমর্থকদের উদ্দেশ্যে আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন তিনি।
লা লিগার একদম শেষ লগ্নে পাওয়া পায়ের চোটের পর ফেরমিন লোপেজের সফল অস্ত্রোপচারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বার্সেলোনা। গত রোববার রিয়াল বেটিসের বিপক্ষে ৩-১ গোলে জয়ের ম্যাচটিতে ডান পায়ের পঞ্চম মেটাটারসাল (পায়ের পাতার বাইরের দিকের হাড়) ভেঙে যাওয়ায় এই তরুণ মিডফিল্ডারকে ছুরি-কাঁচির নিচে যেতে হয়। ওই ম্যাচে চোটের কারণে প্রথমার্ধ শেষেই তাকে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল।
অস্ত্রোপচার সফল হওয়ার পর বার্সার পক্ষ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে,
‘ডান পায়ের পঞ্চম মেটাটারসাল ফ্র্যাকচারের কারণে ফেরমিনের সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। হসপিটাল দে বার্সেলোনা-তে ডক্টর আন্তোনি দালমাউ কোলের তত্ত্বাবধানে এবং ক্লাবের মেডিকেল সার্ভিসের পর্যবেক্ষণে এই অস্ত্রোপচার করা হয়। তার মাঠে ফিরতে কতদিন সময় লাগবে, তা পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করে পরবর্তীতে নির্ধারণ করা হবে।’
অস্ত্রোপচারের পর সামাজিক মাধ্যমে ভক্তদের উদ্দেশ্যে দেওয়া বার্তায় নিজের হতাশা মোটেও লুকিয়ে রাখেননি ২৩ বছর বয়সী তারকা লোপেজ। ২০২৬ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে স্পেন দল যখন তাদের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত, ঠিক তখনই এই চোটের আঘাত তার মনে কতটা গভীর ক্ষত তৈরি করেছে, তা স্পষ্ট ফুটে উঠেছে তাঁর কথায়। একজন পেশাদার অ্যাথলেট যখন ক্যারিয়ারের সেরা ছন্দে থাকেন, তখন এই ধরনের ধাক্কা মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর কতটা চাপ ফেলে—সে কথাই অকপটে স্বীকার করেছেন তিনি।
নিজের পোস্টে ফেরমিন লিখেছেন,
‘অস্ত্রোপচার খুব ভালোভাবে সফল হয়েছে। আমি এখনই আরও শক্তিশালী হয়ে মাঠে ফেরার কথা ভাবছি—শারীরিক এবং মানসিক, উভয় দিক থেকেই। জীবন আর ফুটবল—দুটোই বড্ড নিষ্ঠুর, বিশেষ করে যখন আপনি এটা সবচেয়ে কম আশা করবেন কিংবা আপনার সঙ্গে এমনটা হওয়া মোটেও উচিত নয়। তবে আপনাকে মেনে নিতেই হবে যে, এটাও এই যাত্রারই একটা অংশ।’
লোপেজ আরও যোগ করেন,
‘এটি আমার জন্য অত্যন্ত কঠিন একটা সময় এবং ক্যারিয়ারের আরও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে কোনো সন্দেহ নেই যে, আমি এই বাধা কাটিয়ে উঠব। এখন বাড়ি বসে জাতীয় দল আর আমার সতীর্থদের সমর্থন জোগানোর সময়। যারা পাশে থেকেছেন এবং সুন্দর সব বার্তা পাঠিয়েছেন, তাদের সবাইকে আমার হৃদয়ের গভীর থেকে ধন্যবাদ।’
চলতি মৌসুমে বার্সেলোনার হয়ে ৪৮ ম্যাচে ১৩টি গোল এবং ১৭টি অ্যাসিস্ট করেছেন লোপেজ। দুর্দান্ত এই ছন্দের কারণে স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের শুরুর একাদশে তাঁর জায়গা পাওয়ার জোরালো সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু আগামী জুনে টুর্নামেন্ট শুরু হতে যাওয়ার মুখে, এই চোটের দীর্ঘ পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার কারণে বিশ্বকাপ খেলার সব স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে গেল।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা যাচ্ছে, প্রায় তিন মাসের মতো মাঠের বাইরে থাকতে হতে পারে লোপেজের। তাতে বিশ্বফুটবলের এই মহাযজ্ঞ তো বটেই, এমনকি বার্সেলোনার পুরো প্রাক-মৌসুমের প্রস্তুতিও মিস করবেন তিনি।

দীর্ঘ ২২ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা জিতেছে আর্সেনাল। লিগের শেষ মুহূর্তের চরম স্নায়ুচাপের মধ্যেও মিকেল আরতেতার শিষ্যরা দারুণ লড়াকু মানসিকতা দেখিয়েছে। তবে আগামী রোববার ট্রফি উদযাপনে দলের দুই খেলোয়াড়ের কপালে চ্যাম্পিয়ন মেডেল জুটবে কি না, তা নিয়ে আছে অনিশ্চয়তা।
প্রিমিয়ার লিগের শিরোপার লড়াই টিকিয়ে রাখতে মঙ্গলবার ম্যানচেস্টার সিটির সামনে সমীকরণ ছিল একটাই—বোর্নমাউথের বিপক্ষে তাদের মাঠেই জিততে হবে। কিন্তু সিটি সেই ম্যাচে জয় পেতে ব্যর্থ হওয়ায় এক ম্যাচ বাকি থাকতেই প্রিমিয়ার লিগের ট্রফি নিশ্চিত হয়ে যায় আর্সেনালের।
আগামী রোববার লিগের শেষ ম্যাচে ক্রিস্টাল প্যালেসের মুখোমুখি হবে আর্সেনাল। সেলহার্স্ট পার্কে সেই ম্যাচ শেষেই প্রিমিয়ার লিগের ট্রফি উঁচিয়ে ধরবেন গানার্স অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ড। তবে ট্রফি ছোঁয়ার এই মহা-উৎসবেও দলের দুই তারকার কপালে কাঙ্ক্ষিত চ্যাম্পিয়ন মেডেল জুটবে কি না, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।
প্রিমিয়ার লিগের নিয়ম অনুযায়ী, চ্যাম্পিয়ন দলের কোনো খেলোয়াড় যদি মেডেল পেতে চান, তবে তাকে লিগে অন্তত ৫টি ম্যাচ খেলতে হবে। আগে এই নিয়মে ১০টি ম্যাচ খেলার বাধ্যবাধকতা থাকলেও পরবর্তীতে তা কমিয়ে ৫ ম্যাচ করা হয়। গানার্স স্কোয়াডের সিংহভাগ খেলোয়াড়ই খুব সহজেই এই কোটা পূরণ করে ফেলেছেন। এমনকি গ্রীষ্মকালীন দলবদলে যোগ দেওয়া ক্রিস্তিয়ান নরগার্ডও লিগে ৬টি ম্যাচ খেলে মেডেল নিশ্চিত করে ফেলেছেন।
একইভাবে, মাত্র ১৬ বছর বয়সেই ফুটবল বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করা বিস্ময়বালক ম্যাক্স ডাওম্যানও লিগে ৫টি ম্যাচ খেলে এই তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন। তাতে প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে মেডেল জয়ের অনন্য কীর্তি গড়লেন ডাওম্যান। অন্যদিকে, গত জানুয়ারিতে ধারে (লোন) মার্শেইতে চলে যাওয়ার আগে ইথান নওয়ানেরিও ৬টি ম্যাচ খেলে নিজের মেডেলটি নিশ্চিত করে রেখেছিলেন।
মেডেল মিস করছেন যারা
আর্সেনালের চ্যাম্পিয়ন স্কোয়াডের সেই দুই দুর্ভাগা হাই-প্রোফাইল তারকা কে, যারা পর্যাপ্ত ম্যাচ না খেলায় মেডেল পাচ্ছেন না? তাদের মধ্যে সবচেয়ে সিনিয়র এবং হাই-প্রোফাইল নামটি হলো ইংলিশ ক্লাবটির দ্বিতীয় গোলকিপার কেপা আরিজাবালাগা।
স্প্যানিশ গোলকিপার কেপা চেলসি থেকে ধারে আর্সেনালে এসেছিলেন। চলতি মৌসুমে তিনি গানার্সদের হয়ে সব মিলিয়ে ১১টি ম্যাচ খেললেও তার প্রায় সবগুলোই ছিল কাপ টুর্নামেন্টে। প্রিমিয়ার লিগে এবার একটি ম্যাচও মাঠে নামা হয়নি তার। কারণ, লিগে গোল্ডেন গ্লাভস জয়ী ডেভিড রায়া পুরো মৌসুম জুড়েই ছিলেন আর্সেনাল পোস্টের নিচে অতন্দ্র প্রহরী।
মেডেলের জন্য টেকনিক্যালি যোগ্য নন দলের তৃতীয় পছন্দের গোলকিপার টমি সেটফোর্ডও। আয়াক্স একাডেমি থেকে আসা ২০ বছর বয়সী এই তরুণ আর্সেনালের মূল স্কোয়াডের সদস্য হলেও চলতি মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগের একটি ম্যাচেও স্কোয়াডে জায়গা পাননি। তাঁর একমাত্র ম্যাচটি ছিল এফএ কাপে, যেখানে উইগান অ্যাথলেটিকের বিপক্ষে চতুর্থ রাউন্ডের ম্যাচে শেষ দিকে কেপার বদলি হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন তিনি। তবে লিগে না হলেও ম্যানসফিল্ডের বিপক্ষে ম্যাচ এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগের বেশ কয়েকটি ম্যাচে বেঞ্চে ছিলেন তিনি।
এই তালিকায় থাকা অন্য খেলোয়াড় হলেন ১৬ বছর বয়সী তরুণ ডিফেন্ডার মার্লি স্যালমন। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৪টি ম্যাচ খেললেও প্রিমিয়ার লিগে এখনো তার অভিষেকই হয়নি।
৪০ মেডেলের বিশেষ ‘কোটা’
তবে এই তিনজনের জন্য এখনই আশার আলো একবারে নিভে যায়নি। নিয়ম অনুযায়ী, চ্যাম্পিয়ন দল নিজেদের ইচ্ছেমতো বণ্টন করার জন্য প্রিমিয়ার লিগ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ৪০টি মেডেল পায়। ফলে ক্লাব কর্তৃপক্ষ চাইলে এই তিন ফুটবলারকে স্মারক হিসেবে মেডেল দিতেই পারে। তবে এই ৪০টির বাইরে অতিরিক্ত মেডেলের প্রয়োজন হলে প্রিমিয়ার লিগ বোর্ডের বিশেষ অনুমতির দরকার হয়, যা সাধারণত ব্যতিক্রমী কোনো পরিস্থিতি ছাড়া দেওয়া হয় না।
সব মিলিয়ে এটি আর্সেনালের ১৪তম লিগ শিরোপা। তবে আরতেতার দলের সামনে ডাবল জয়ের এক মহাকাব্যিক সুযোগ অপেক্ষা করছে। আগামী ৩০ মে বুদাপেস্টে ইউয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে প্যারিস সেন্ট জার্মেইর (পিএসজি) মুখোমুখি হবে গানার্সরা। সেই ম্যাচ জিততে পারলে দীর্ঘদিনের ইউরোপিয়ান ট্রফির খরাও ঘুচবে লন্ডনের ক্লাবটির।