ফুটবল

ক্রীড়াঙ্গনের সঙ্কট নিরসনে ক্রীড়া সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রতিমন্ত্রী আমিনুলের মতবিনিময়

 
ফুটবল করেসপন্ডেন্ট
ফুটবল করেসপন্ডেন্ট
ঢাকা

২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৫:১৪ পিএম

news-details

নতুন সরকারের যুব ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হক। নিজের তৃতীয় কর্মদিবসে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে (এনএসসি) আজ ক্রীড়া সাংবাদিকদের সঙ্গে বসেন আমিনুল। সেখান সবার কাছ থেকে ক্রীড়াঙ্গনের সংকটের বিষয়গুলো শুনেছেন; সেই সঙ্গে সমাধানের পরামর্শও নিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।

 

অনুষ্ঠানের শুরুতে ক্রীড়াঙ্গন নিয়ে বিএনপির লক্ষ্য পরিকল্পনার বিষয়টি সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন আমিনুল। এরপর জেলা ক্রীড়া সংস্থা নিয়ে সাংবাদিকের মতামত শুনতে চান। জেলা পর্যায় থেকে খেলোয়াড়রা উঠে এসে জাতীয় দলে খেলে তেমনি সংগঠকেরা জেলা-বিভাগ থেকে মনোনীত হয়ে ফেডারেশনে পদে বসে। তাই জেলা ক্রীড়া সংস্থার বিষয়টি প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন।

 

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের বাজেট অত্যন্ত সীমিত। এনএসসি জেলা ক্রীড়া সংস্থাকে খুবই স্বল্প অনুদান দেয়। যা দিয়ে জেলায় সকল খেলা পরিচালনা করা সম্ভবও হয় না। তাই সাংবাদিকরা জেলা পর্যায়ে বাজেট বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। জেলা-বিভাগে স্টেডিয়াম থাকলেও সেটা ব্যবহার অনুপযোগী। অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণও গুরুত্বারোপ করেন অনেকে। জেলা ক্রীড়া সংস্থার পাশাপাশি মহিলা জেলা ক্রীড়া সংস্থাও রয়েছে প্রতি জেলায়।

 

মহিলা ক্রীড়া সংস্থা জন্ম থেকেই অ্যাডহক কমিটি দ্বারা পরিচালিত। মহিলা ক্রীড়া সংস্থার কার্যালয়, বাজেট সব কিছুতেই সীমাবদ্ধতা রয়েছে। জেলা ক্রীড়া সংস্থায় গঠনতন্ত্র সংস্কার করেও নির্বাচনের প্রস্তাব দেন সাংবাদিকরা। তৃণমূল পর্যায়ের সাংবাদিকদের মতামত বক্তব্য শুনে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন,

‘আমরা খেলাধুলাকে তৃণমূল থেকে জনপ্রিয় করে তুলতে চাই। অবকাঠামো নয়, আমরা খেলার মাঠকে গুরুত্ব দিচ্ছি। যাতে জেলা পর্যায়ে শিশু-কিশোররা খেলার পরিবেশ পায়।’

 

প্রতিমন্ত্রী জানান, দীর্ঘদিন ধরে অনিয়মিত থাকা জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার এবার থেকে নিয়মিত দেওয়া হবে। ইতোমধ্যে ২০২১, ২০২২ ২০২৩ সালের জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার প্রদানের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন,

‘জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার নিয়মিত করতে আমরা ইতোমধ্যেই কাজ শুরু করেছি। ২০২৪ ও ২০২৫ সালের পুরস্কার নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান–এর সঙ্গে আলোচনা করব। এরপর থেকে প্রতিবছর যেন নিয়মিতভাবে এই পুরস্কার দেওয়া যায়, সে চেষ্টা থাকবে।’

 

অলিম্পিকে পদক এখনো স্বপ্ন বাংলাদেশের কাছে। তাই ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী সাফ, এশিয়ান ধাপে ধাপে এগোতে চান। কোন খেলাগুলোকে আন্তর্জাতিক বিবেচনায় গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন সাংবাদিকদের কাছে জানতে চান। অনেক সাংবাদিক দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে শুটিং, আর্চারির নাম উচ্চারণ করেছেন। এরপর তৃতীয় নামটি এসেছে হকির। অনেক দিন থেকেই ক্রীড়াঙ্গনের সবাই শুনে আসছে হকির অনেক সম্ভাবনা কিন্তু হকির সংগঠকদের মধ্যে অন্তঃকোন্দলও সমস্যা। এটাও সাংবাদিকরা তুলে ধরেছেন ক্রীড়া মন্ত্রীর কাছে।

 

বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের তীর্থস্থান পল্টন-গুলিস্থান। সেই এলাকা সন্ধ্যার পর থেকে মাদকের অভয়ারণ্য। নিরাপত্তা ব্যবস্থা খুবই দুর্বল, গতকাল সাংবাদিকদের সংগঠন বাংলাদেশ স্পোর্টস জার্নালিস্ট কমিউনিটিতে চুরির ঘটনা ঘটেছে। স্টেডিয়ামের নিরাপত্তা পরিবেশ নিয়ে সামগ্রিকভাবে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে।

 

আমিনুল হক সাবেক জাতীয় অধিনায়ক। তৃণমূলের ফুটবলার থেকে এখন ক্রীড়াঙ্গনের সর্বোচ্চ ব্যক্তি। তিনি সাংবাদিকদের ক্রীড়াঙ্গনের স্বার্থে সত্য বাস্তব জিনিস তুলে ধরার আহ্বান জানান এবং তার সময়ে ক্রীড়াঙ্গনে মুক্ত সাংবাদিকতার পরিবেশ থাকবে বলেও অঙ্গীকার করেন। আমিনুল হক ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হওয়ার পর আজই জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে প্রথম এসেছেন। সাবেক তারকা ক্রীড়াবিদ সংগঠক কামরুন নাহার ডানা, এশিয়ান আর্চারি ফেডারেশনের সভাপতি কাজী রাজিব উদ্দিন আহমেদ চপলসহ অনেকেই ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

 

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন

No posts available.

bottom-logo