
শুরুটা ভালোই ছিল চেলসির। একের পর এক আক্রমণে জালের দেখাও খুঁজে পেয়েছিল তারা। যদিও অফসাইডের ফাঁদে গোল মেলেনি। প্রথম ৩০ মিনিটে একটি শটও লক্ষ্যে রাখতে না পারা ম্যানচেস্টার সিটি এরপরই গুছিয়ে নেয়। প্রথমার্ধে গোল না পেলেও দ্বিতীয়ার্ধে তিন তিনবার ব্লুজদের জাল কাঁপায় পেপ গার্দিওলার শিষ্যরা। দারুণ জয়ে লিগ শিরোপা রেসে আর্সেনালের আরও কাছে পৌঁছাল ম্যানসিটি।
রোববার রাতে লিগ ম্যাচে চেলসিকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে সিটি। ইতিহাদে প্রথম লেগে ১-১ গোলে ড্র করেছিল দুই দল। লন্ডনে রোববার জালের দেখা পেয়েছেন সিটির নিকো ও'রাইলি, জেরেমি ডোকু ও মার্ক গুইয়েহি। জোড়া অ্যাসিস্ট রায়ান শেরকির।
চ্যাম্পিয়নস লিগে রিয়াল মাদ্রিদের কাছে হেরে বিদায় নেওয়ার পর এ নিয়ে পরপর তিন জায়ান্ট টিমকে হারাল ম্যানসিটি। লিগ কাপের ফাইনালে আর্সেনালকে ২-০ গোলে হারানোর পর গত ৪ মার্চ এফএ কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে লিভারপুলকে ৪-০ গোলে হারায় গার্দিওলার দল। আর রোববার রাতে তাদের সামনে বিধ্বস্ত হলো লিয়াম রোসেনিয়রের চেলসি।
আগের দুই লিগ ম্যাচের একটিতে এভারটনের সঙ্গে ৩-০ এবং অপরটিতে নিউক্যাসলের কাছে ১-০ গোলে হারে চেলসি। ২০২৩ সালের মে মাসের পর টানা তিন লিগ ম্যাচে পরাজয়ের স্বাদ পেল পশ্চিম লন্ডনের ক্লাবটি।
এদিনকার জয়ে লিগ টেবিলে ৭০ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে থাকা আর্সেনালের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে ম্যানসিটি। এক ম্যাচ কম খেলে ৬ পয়েন্ট দুরে সিটিজেনরা। সমান ৫৫ পয়েন্ট পেয়ে তিন ও চারে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও অ্যাস্টন ভিলা। ৫২ পয়েন্ট পেয়ে পাঁচে লিভারপুল। ছয়ে থাকা চেলসির ঝুলিতে ৪৮ পয়েন্ট।
স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে বিরতি থেকে ফিরেই চেলসির রক্ষণে চাপ বাড়ায় ম্যানসিটি। বক্সে ভাল জায়গায় হালান্ড বল পেলেও তাঁকে শট নিতে দেননি জোরেল হ্যাটো। খানিক পর শেরকির শট বেরিয়ে যায় দূরের পোস্ট ঘেঁষে। তবে ৫১ মিনিটে অতিথিদের আটকে রাখতে পারেনি চেলসি। বক্সের সামনে থেকে শেরকির ক্রসেই হেডে টপ কর্নার দিয়ে জাল কাঁপান ও'রাইলি।
৫৭ মিনিটে ছোট কর্নারের পর ডোকুর সঙ্গে বল দেওয়া নেওয়া করে এস্তেভাও ও হ্যাটোকে কাটিয়ে বক্সের সামনে থেকে শেরকি পাস বাড়ান গুইহেকিকে। গোলমুখের সামনে বল পেয়ে লিড দ্বিগুণ করতে কোনো ভুল করেননি ইংলিশ সেন্টারব্যাক।
৬৬ মিনিটে আক্রমণে ওঠে চেলসি। বাঁ-দিক থেকে কুকুরেইয়ার ক্রসে পালমারের শট গুইয়েহির ব্লকে কর্নার পায় স্বাগতিকরা।
দুই মিনিট পর চেলসির বক্সের সামনে কাইসেদোর কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে বটম কর্নার দিয়ে গোল করেন ডোকু। সিটিজেনরা এগিয়ে যায় ৩-০ গোলে।
৭০ মিনিটে ভাল জায়গায় পালমারের ক্রস পেলেও পেদ্রো জালে বল জড়াতে পারেননি। খানিক পর কুকুরেইয়ার জোরালো নিচু শট একটুর জন্য খুঁজে পায়নি জালের দেখা। ৮৩ মিনিটে এবার চেলসি ডিফেন্ডারকে গোলবঞ্চিত রাখেন সিটি গোলকিপার। দুই মিনিট পর বক্সের সামনে পাওয়া ফ্রি কিক গ্লাভসবন্দী করেন দোন্নারুমা। পালমার দারুণ শটে সিটির রক্ষণ দেয়াল ভেদ করলেও অতিথি দলের গোলকিপার ছিলেন অবিচল। শেষ ক্লিনশিট রেখেই মাঠ ছাড়ে অতিথিরা।
No posts available.
১২ এপ্রিল ২০২৬, ৭:৩৫ পিএম
১২ এপ্রিল ২০২৬, ৭:১১ পিএম

সম্প্রতি আইরিশ কোচ মার্ক কক্সের অধীনে মালদ্বীপে হওয়া সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপ খেলে বাংলাদেশ। সেখানে ফাইনালে ভারতকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে লাল সবুজের প্রতিনিধিরা। কক্সের সঙ্গে এই টুর্নামেন্টের জন্যই এক মাসের চুক্তি করেছিল বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। নতুন করে কোচ চেয়ে এরই মধ্যে নিয়োগ দিয়েছে ফেডারেশন।
আজ ডেভেলপমেন্ট কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন সহসভাপতি ও কমিটির চেয়ারম্যান নাসের শাহরিয়ার জাহেদি। সেখানে শুরুতেই তিনি সাফ চ্যাম্পিয়ন দল এবং দলের সঙ্গে থাকা কন্টিনজেন্টকে ধন্যবাদ জানান। সেই সঙ্গে নতুন কোচ নিয়োগের ব্যাপারেও কথা বলেন,
‘আমরা এবার বয়সভিত্তিক দলগুলোর জন্য অর্থাৎ ইয়ুথ এবং গ্রাসরুট ফুটবলের জন্য কোচ নিয়োগ করতে যাচ্ছি। এটা নিয়ে সার্কুলার দেওয়া হয়েছে। জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায় থেকে আবেদন আহ্বান করছি এবং চেষ্টা করব এপ্রিলের ভেতরেই কোচ নির্বাচন করে ফেলতে, যাতে মে মাসের মাঝামাঝি থেকেই তিনি দায়িত্ব নিতে পারেন। সেইসঙ্গে আমাদের যারা ফেডারেশনের কোচ আছেন তাদেরকে দিয়ে আমরা অনূর্ধ্ব-১৭ এবং অনূর্ধ্ব-২০ এর জন্য একটা শক্তিশালী কোচিং স্কোয়াড তৈরি করতে চাচ্ছি।’
মার্ক কক্সের অধীনেই বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পরও তাঁকে কেন বিবেচনা করা হচ্ছে না। এমন প্রশ্ন ওঠে প্রেস ব্রিফিংয়ে। সেখানে অবশ্য কক্সের আসার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি বাফুফে সহসভাপতি। এ বিষয়ে নাসের শাহরিয়ার জাহেদি বলেন,
‘মার্ক কক্সের সঙ্গে এক মাসের চুক্তি ছিল। এই সময়টা তিনি খুব সফলতার সঙ্গে সম্পন্ন করেছেন। আমরা তাঁকে মূল্যায়ন করেছি। যাওয়ার সময় তাঁকে আরও অনুপ্রেরণামূলক ইনসেন্টিভ দিয়েছি। তো এক মাস পরে আমাদের কোচ নিতে হতো। যদি মার্ক কক্সকেও নিতে হয় ওটা একটা প্রক্রিয়াতে যেতে হবে।’
মার্ক কক্সকে নিয়ে সার্টিফিকেট জালিয়াতির মতো কিছু নেতিবাচক সংবাদ আসে এই সময়ে। কোচের বিষয়টি নিয়ে নাসের শাহরিয়ার জাহেদি বলেন,
‘কক্সের বায়োডাটাতে কখনোই বলে নাই সে প্রো লাইসেন্স হোল্ডার। সে বলেছে সে ‘এ’ গ্রেড লাইসেন্স হোল্ডার। এটা আসলে একটু ভুল বোঝাবুঝি ছিল।’
বাফুফের এই সহ-সভাপতিকে এদিন কথা বলতে হয় মালদ্বীপ সফরে দলের ম্যানেজার সামিদ কাশেমকে নিয়েও। প্রতিযোগিতায় গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে মেজাজ হারিয়ে হলুদ কার্ড দেখেন দলের ম্যানেজার। বয়সভিত্তিক দলের খেলোয়াড়েরা আবেগী হয়ে পড়বেন এটা স্বাভাবিক। কিন্তু ওই সময়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার দায়িত্ব থাকে কোচ-ম্যানেজারের কাঁধে। উল্টো ম্যানেজারই মাঠের মধ্যে প্রবেশ করে হলুদ কার্ড দেখেন। সেই সময়ে এটাকে অনেকেই অপেশাদার আচরণ বলে আখ্যায়িত করেছেন। এ নিয়ে আজ জানতে চাইলে ডেভেলপমেন্ট কমিটির ওই সদস্যের পাশেই দাঁড়ালেন নাসের শাহরিয়ার জাহেদি। তিনি ম্যানেজারের ভুল দেখেননি সেখানে; বরং সাফের রেফারিংকেই কাঠগড়ায় তুলেছেন। যদিও ডেভলপমেন্ট কমিটিতে সাইদ হাসান কানন এবং শফিকুল ইসলাম মানিকের মতো সাবেক তারকা ফুটবলাররা আছেন। তাঁরা থাকতেও সাইদ কাশেমকে কেন মালদ্বীপ পাঠানো হলো সেই প্রশ্নই উঠছে বারবার।

রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে তাঁর খেলোয়াড়ি সম্পর্ক শেষ হয়েছে বছর দুয়েক হলো। এখনও সাবেক মিডফিল্ডার টনি ক্রুসকে মনে-প্রাণে ধারণ করে সান্তিয়াগো বার্নাব্যু। মাদ্রিদের ক্লাবের জার্সিতে ৪৬৫ ম্যাচ এবং ২০টিরও অধিক শিরোপা জেতা এই ফুটবলারের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে মুখিয়ে ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ প্রশাসন।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম দিয়ারিও এএস জার্মানির বিশ্বকাপজয়ী খেলোয়াড়কে নিয়ে রবিবার একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। যেখানে বলা হয়েছে, রিয়াল মাদ্রিদ তাদের সাবেক তারকা টনি ক্রুসকে ক্লাবের ম্যানেজমেন্ট বা প্রশাসনিক কোনো দায়িত্বে ফিরিয়ে আনতে চায়।
দিয়ারিও জানায়, রিয়ালের হয়ে ১০ বছরের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার শেষ করা ‘স্নাইপার’ খ্যাত টনি ক্রুসকে ক্লাবের উচ্চপদস্থ কোনো ভূমিকায় যুক্ত করার জন্য রিয়ালের অভ্যন্তরে ইতোমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও ক্রুসের কাছে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রস্তাব পাঠানো হয়নি। তবে তাকে কোন পদে বসানো সবচেয়ে ভালো হবে, তা নিয়ে পরিকল্পনা শুরু করেছে মাদ্রিদ।
আরও পড়ুন
| আলফাজকে সরিয়ে দিল মোহামেডান |
|
খেলুড়ে জীবনে ক্লাব এবং ক্লাব প্রেসিডেন্ট পেরেজের সাথে দারুণ সম্পর্ক ছিল ক্রুসের। কোনো সমস্যার কথা কখনোই প্রকাশ্যে আসেনি—না তাঁর খেলোয়াড়ি জীবনে, না বিদায়ের বেলায়। ফলে প্রেসিডেন্ট নিজেই চান, জার্মান তারকা যেন তাঁর ক্লাবের অংশ হয়ে থাকেন।
ক্রুস অবসরের পর মাদ্রিদের বোয়াদিয়া দেল মন্তে এলাকায় নিজের একটি ফুটবল একাডেমি চালু করেছেন। সেখানে তিনি শিশুদের কোচিং করান এবং সময় কাটান। সম্প্রতি ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ক্রুসকে তাঁর একাডেমির দল নিয়ে রিয়াল মাদ্রিদের যুব দলের বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচে ডাগআউটে কোচ হিসেবে দেখা গেছে। এবার হয়তো তাঁকে দেখা যাবে রিয়ালে, নতুন কোনো ভূমিকায়।

বাংলাদেশ ফুটবল লিগে (বিএফএল) প্রত্যাশানুযায়ী পারফরম্যান্স না হওয়ায় কোচ আলফাজ আহমেদকে বরখাস্ত করেছে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে তারা। মৌসুমের বাকি ম্যাচগুলোতে আলফাজের পরিবর্তে ডাগআউট সামলাবেন সহকারী কোচ আব্দুল কায়ুম সেন্টু। টিম লিডারের দায়িত্বে থাকবেন আমিরুল ইসলাম বাবু।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মোহামেডান জানায়,
‘ফুটবল দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের ধারাবাহিক সাফল্য ও উন্নয়নের দিকে ধাবিত হওয়ার বিষয়টি পরিচালনা পর্ষদ গভীরভাবে বিবেচনা করে জনাব আলফাজ আহমেদকে প্রধান কোচের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন। মৌসুমের বাকি খেলাগুলো সুষ্ঠ ও সুন্দরভাবে পরিচালনার জন্য সহকারী কোচ জনাব আব্দুল কায়ুম সেন্টুকে ফুটবল দলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান কোচের দায়িত্ব এবং ক্লাবের স্থায়ী সদস্য জনাব মো. আমিরুল ইসলাম বাবুকে ফুটবল দলের সার্বিক দায়িত্ব পালনের জন্য টিম লিডার হিসাবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।’
আরও পড়ুন
| ফিটনেস ‘ট্যাঙ্ক ভরেছেন’ নেইমার , টানা ম্যাচ খেলাতে চান কুকা |
|
লিগে ১০ দলের মধ্যে ১২ ম্যাচে ১১ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের সাতে আছে মোহামেডান। রেলিগেশন পর্যায় থেকে থেকে মাত্র দুই পয়েন্ট দূরে। সর্বশেষ ম্যাচে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আবাহনীর বিপক্ষে কুমিল্লায় এগিয়ে গিয়ে হেরেছে ১-২ ব্যবধানে। ফেডারেশন কাপ ও লিগ মিলিয়ে টানা ৮ ম্যাচ জয়হীন মতিঝিল পাড়ার ক্লাবটি। অথচ গত মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে তারা। ফেডারেশন কাপেও খুব একটা সুবিধাজনক অবস্থায় নেই। ৩ ম্যাচে ৫ পয়েন্ট নিয়ে আছে ‘বি’ গ্রুপের চারে। প্লে অফে যেতে হলে শেষ ম্যাচে জয়ের বিকল্প নেই তাদের।
২০২৩ সালে মোহামেডানের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব পান আলফাজ। তাঁর অধীনে ২৩ বছরের খরা কাটিয়ে গত মৌসুমে লিগ শিরোপা জেতে সাদা–কালোরা। ২০২৩ সালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আবাহনীকে হারিয়ে জেতে ফেডারেশন কাপের শিরোপাও।

দীর্ঘদিন পর পূর্ণ সময় খেলেছেন নেইমার। আর তাতেই সন্তুষ্ট সান্তোসের কোচ কুকা। তাঁর মতে, শারীরিকভাবে নিজেকে নতুন করে প্রস্তুত করেছেন দলের দশ নম্বর জার্সিধারী তারকা। কুকুর ভাষায়,‘ট্যাঙ্ক ভরেছেন’ নেইমার। সামনে টানা কয়েকটি ম্যাচে তাঁকে খেলানোর পরিকল্পনাও করছেন কোচ।
ব্রাজিলিয়ান লিগে আতলেতিকো মিনেইরোর বিপক্ষে ১-০ গোলের জয়ে পুরো ৯০ মিনিট মাঠে ছিলেন নেইমার। ম্যাচে খুব বেশি চোখে না পড়লেও কুকার মতে, আগের তুলনায় অনেক বেশি ফিট ও সক্রিয় দেখিয়েছে তাঁকে।
দলের সঙ্গে ইকুয়েডরে না গিয়ে ব্রাজিলেই থেকে অনুশীলন করেছিলেন নেইমার। শারীরিক ও কারিগরি প্রস্তুতিতেই জোর দিয়েছিলেন তিনি। সেই পরিকল্পনা সফল হয়েছে বলেই মনে করছেন কোচ।
আরও পড়ুন
| নেইমারের নতুন গন্তব্য নিয়ে বড় চমকের অপেক্ষা |
|
ম্যাচ শেষে কুকা বলেন,
‘নেইমার নিজের শক্তি ফিরে পেয়েছে। এই ম্যাচে তার পারফরম্যান্স ছিল শারীরিক ও প্রতিযোগিতামূলক দিক থেকে সেরা। এখন ধারাবাহিকভাবে খেলাই লক্ষ্য। যদিও প্রতি ম্যাচে নব্বই মিনিট খেলানোর প্রয়োজন নেই, বরং তিন দিন পরপর ম্যাচে তাকে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে হবে।’
আগামী ১০ দিনে নিজেদের মাঠে আরও তিনটি ম্যাচ খেলবে সান্তোস। কোপা সুদামেরিকানায় রেকোলেতা, এরপর লিগে ফ্লুমিনেন্সে এবং কোপা দো ব্রাজিলে কোরিতিবার বিপক্ষে খেলবে তারা। প্রায় এক বছর পর টানা চার ম্যাচ খেলার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে নেইমারের সামনে।
আরও পড়ুন
| বার্সায় যাওয়ার পথ রুদ্ধ, সাবেক খেলোয়াড়কে আটকাল রিয়াল |
|
কুকা বলেন,
‘ম্যাচে ম্যাচে নেইমার উন্নতি করছে। সে থেকে গিয়ে কাজ করেছে, যার ফল এখন দেখা যাচ্ছে। ৯০ মিনিট খেলানো ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, তবে আমরা পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেব। সে খেলাটা উপভোগ করছে—এটাই সবচেয়ে বড় বিষয়।’
আতলেতিকো মিনেইরোর বিপক্ষে গোল বা অ্যাসিস্ট না পেলেও আক্রমণে উজ্জ্বল ছিলেন নেইমার। ৫টি শট নিয়েছেন, প্রতিপক্ষের কাছ থেকে আদায় করেছেন সর্বোচ্চ ৫টি ফাউল। পরিসংখ্যানেও ছিলেন দলের অন্যতম সেরা।
নেইমারের এই ফর্ম শুধু সান্তোসের জন্যই নয়, গুরুত্বপূর্ণ ব্রাজিল জাতীয় দলের জন্যও। ২০২৬ বিশ্বকাপের দলে জায়গা পেতে হলে নিজেকে প্রমাণের সুযোগ এখনই। স্কোয়াড ঘোষণার আগে হাতে আছে আর মাত্র কয়েকটি ম্যাচ।

সাবেক এক খেলোয়াড়ের বার্সেলোনায় যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা চূড়ান্তভাবে ভেস্তে দিল রিয়াল মাদ্রিদ। ক্লাব ছেড়ে যাওয়ার এক মৌসুমের মধ্যেই চুক্তির বিশেষ ধারাগুলো প্রয়োগ করে সেই খেলোয়াড়ের সম্ভাব্য দলবদল আটকে দিয়েছে স্প্যানিশ জায়ান্টরা।
স্পেনের সংবাদমাধ্যম এএসের প্রতিবেদন, চলতি মৌসুমে বড় চমক হয়ে ওঠা ভিক্টর মুনিয়োসকে দলে ভেড়াতে আগ্রহ দেখিয়েছিল বার্সেলোনা। রিয়াল মাদ্রিদের একাডেমি থেকে উঠে আসা এই উইঙ্গার ওসাসুনার হয়ে খেলছেন এবং পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি স্পেন দলে সুযোগও পেয়েছেন। জাতীয় দলের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে তাঁর সাম্প্রতিক ফর্মের স্বীকৃতি হিসেবেই এই ডাক দিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন
| নেইমারের নতুন গন্তব্য নিয়ে বড় চমকের অপেক্ষা |
|
তবে দলবদলের বিষয়ে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এখনো রিয়াল মাদ্রিদের হাতেই রয়েছে। মুনিয়োসের ক্ষেত্রে ‘ফার্স্ট রিফিউজাল’ বা অগ্রাধিকারমূলক ক্রয়াধিকার, পুনরায় দলে ফেরানোর ধারা এবং ভবিষ্যতে বিক্রি হলে আর্থিক অংশীদারিত্ব—এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত এখনো বহাল রয়েছে। ক্লাবটির অনুমতি ছাড়া তার অন্য দলে যাওয়া প্রায় অসম্ভব।
রিয়াল মাদ্রিদ পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, কোনোভাবেই তারা মুনিয়োসকে বার্সেলোনায় যেতে দেবে না। সাম্প্রতিক সময়ে কাতালান ক্লাবটিতে তার সম্ভাব্য যোগদান নিয়ে নানা গুঞ্জন উঠলেও মাদ্রিদের অবস্থান একেবারেই অনড়।
রিয়াল মাদ্রিদের যুব একাডেমি ‘লা ফাব্রিকা’ থেকে উঠে আসা খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরেই একটি নির্দিষ্ট নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। তিন মৌসুমের যৌথ চুক্তির আওতায় থাকা এসব ফুটবলারের দলবদলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত থাকে ক্লাব কর্তৃপক্ষের হাতে। গত পাঁচ বছর ধরে এই নীতিতে অটল রয়েছে মাদ্রিদ, যেখানে কোচিং স্টাফ ও পরিচালকরাও একই অবস্থান বজায় রেখেছেন।
মুনিয়োসের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। রিয়াল মাদ্রিদ মনে করছে, ওসাসুনার সঙ্গে তাদের চুক্তি যথেষ্ট শক্ত এবং এতে কোনো ফাঁক নেই। ফলে দ্রুতগতির এই উইঙ্গার বার্সেলোনায় যাচ্ছেন না বলেই তারা নিশ্চিত।
আরও পড়ুন
| ইউরোপের শীর্ষে লিগে প্রথম নারী হেড কোচ |
|
এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে তার এজেন্ট পরিবর্তন নিয়েও জল্পনা তৈরি হয়েছিল। তবে ক্লাব-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, এই পরিবর্তন কয়েক মাস আগেই পরিকল্পিত ছিল, এটি কোনো নির্দিষ্ট ক্লাবে যোগ দেওয়ার ইঙ্গিত নয়। বরং দীর্ঘমেয়াদি ক্যারিয়ার ব্যবস্থাপনাকে আরও উন্নত করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে শুধু বার্সেলোনা নয়, ইংল্যান্ড ও ইতালির কয়েকটি ক্লাবও ইতোমধ্যে মুনিয়োসের পরিস্থিতি নিয়ে আগ্রহ দেখাতে শুরু করেছে। তার চুক্তিতে প্রায় চার কোটি ইউরোর মুক্তি ধারা থাকলেও রিয়াল মাদ্রিদ চাইলে তুলনামূলক কম অর্থে তাকে পুনরায় দলে ভেড়াতে পারবে।
চলতি মৌসুমে লিগে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে নজর কেড়েছেন এই তরুণ উইঙ্গার। ইতোমধ্যে জাতীয় দলের হয়ে দুই ম্যাচ খেলেছেন তিনি। সামনে বিশ্বকাপ দলে জায়গা করে নেওয়াই এখন তার প্রধান লক্ষ্য।