১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ২:৪৫ এম

ম্যানচেস্টার সিটিতে ছোট তবে সফল একটা সময় কাটিয়েছেন। আর্জেন্টিনার হয়ে এরই মধ্যে জিতে ফেলেছেন বিশ্বকাপ ও কোপা আমেরিকা। হুলিয়ান আলভারেজকে দলে টেনে আতলেতিকো মাদ্রিদ তাই তাকে ঘিরে বুনছে বড় স্বপ্ন। স্প্যানিশ ক্লাবের হয়ে তরুণ এই স্ট্রাইকার প্রথম গোল করার পর কোচ দিয়েগো সিমেওনে বলেছেন, সামনের পথচলায় তাদের সাফল্যে অবদান রাখবেন আলভারেজ।
এই গ্রীস্মের দলবদলে সিটি থেকে ৭৫ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে আতলেতিকোয় নাম লেখান আলভারেজ। গত জুলাইয়ে আর্জেন্টিনার কোপা আমেরিকা জয়ে ভালো অবদান রেখে নতুন ক্লাবে আসায় তার কাছে শুরু থেকেই প্রত্যাশা একটু বেশিই ছিল। তবে প্রথম চার ম্যাচে রীতিমত হতাশ করেন তিনি। ব্যর্থ হন গোল করতে। অবশেষে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পেয়েছেন গত রবিবার লা লিগায়, ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে। ডাগআউটে সেই গোলের বিশেষ উদযাপন করতে দেখা গেছে সিমেওনেকে।
ম্যাচের পর সিমেওনে বলেছেন, এই গোলটি আলভারেজকে নিজের ওপর বিশ্বাস ফিরে পেতে সাহায্য করবে। “তার সতীর্থ এবং সমর্থকরা তার গোলটি যেভাবে উদযাপন করেছে, সেটা বিশেষ কিছু ছিল। স্ট্রাইকারদের জন্য গোলই সব। সে ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে হাজির হয়েছে। সে সঠিক জায়গায় ছিল এবং সুযোগের সেরাটা কাজে লাগিয়েছে। তার গোল পাওয়াটা আমাদের দরকার ছিল, কারণ এখন সে স্থির থাকবে। এখন থেকে সে কেবল উন্নতি করতে থাকবে।”
ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে আলভারেজ দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে যখন নামেন, দল আতলেতিকো তখন ২-০ গোলে এগিয়ে। ইনজুরি টাইমের তৃতীয় মিনিটে স্কোরলাইন ৩-০ করেন ২৪ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকার।
লা লিগায় ৫ ম্যাচে ১১ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে আছে আতলেতিকো। সমান পয়েন্টে গোল পার্থক্যে পিছিয়ে তিনে রিয়াল মাদ্রিদ। আর ১৫ পয়েন্ট নিয়ে সবার ওপরে বার্সেলোনা, যারা দিনের অন্য ম্যাচে জিরোনাকে হারিয়েছে ৪-১ গোলে।
No posts available.
৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪:০৮ পিএম
৭ এপ্রিল ২০২৬, ২:৫৫ পিএম
৭ এপ্রিল ২০২৬, ১:১০ পিএম
৭ এপ্রিল ২০২৬, ১২:২১ পিএম

আক্রমণাত্মক শুরুর পর দ্রুতই গোলের দেখা পেল বসুন্ধরা কিংস। এরপর পুরো ম্যাচে সেই ধারা বজায় রেখেছেন রাকিব-ফাহিমরা। নিয়মিত বিরতিতে গোল দিয়ে শেষ পর্যন্ত বড় ব্যবধানেই আরামবাগ ক্রীড়া সংঘকে হারিয়েছে ফেডারেশন কাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।
মঙ্গলবার কুমিল্লার ভাষা সৈনিক শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে ফেডারেশন কাপের খেলায় আরামবাগকে ৫-০ গোলে হারিয়েছে বসুন্ধরা কিংস। ফেডারেশন কাপে এর আগের দুই ম্যাচেই ড্র করেছিল বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। অবশেষে জয়ের দেখা পেল তারা। এই জয়ে তিন খেলায় ৫ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলে দুইয়ে কিংস। সমান ম্যাচে এখনও জয়ের দেখা পায়নি তলানিতে থাকা আরামবাগ।
বসুন্ধরা কিংসের হয়ে আজ জোড়া গোল করেছেন দোরিয়েলতন গোমেজ নাসিমেন্তো। একবার করে জালের দেখা পেয়েছেন রাকিব হোসেন, সোহেল রানা জুনিয়র ও ফয়সাল আহমেদ ফাহিম। দুটি অ্যাসিস্ট করা ফাহিমের নামে হ্যাটট্রিক থাকতে পারত, তবে দুবার বল জালে জড়িয়েও অফসাইডে কাটা পড়েছেন জাতীয় দলের এই উইঙ্গার।
এদিন ম্যাচের তৃতীয় মিনিটেই ভালো সুযোগ আসে বসুন্ধরা কিংসের সামনে। আক্রমণে উঠে গোলপোস্টের কাছ থেকে ক্যাটব্যাক দেওয়ার জন্য অবশ্য কাউকে খুঁজে পাননি দোরিয়েলতন।
১৪ মিনিটে সোহেল রানার থ্রু পাসে আকাশে উড়িয়ে মারেন ফাহিম। এ সময় পরপর দুটি কর্নার আদায় করে নেয় কিংস। শেষটি থেকেই দোরিয়েলতন দলকে এগিয়ে দেন। কর্নার প্রতিহতের পর ফিরতি বলে সেই কর্নারের কাছ থেকে ক্রস দেন ফাহিম। অনেকটা লাফিয়ে হেডে লক্ষ্যভেদ করেন ব্রাজিলিয়ান তারকা।
২২ মিনিটে ডান দিক থেকে রাকিবের ক্রস; আলতো টোকায় লিড দ্বিগুণ করেন গোলমুখের সামনে ফাঁকায় দাঁড়িয়ে থাকা ফাহিম। ৫ মিনিট পর আবারও রাকিবের দারুণ একটা নিচু ক্রস। তবে এবার সেটি কর্নার করে দেন আরামবাগের ডিফেন্ডার নিক্সন চাকমা।
আরও পড়ুন
| এবারই প্রথম নয়, ইউরোপের দলের বিপক্ষে আগেও খেলেছিল বাংলাদেশ |
|
৪১ মিনিটে সানডের পাস থেকে দোরিয়েলতন শট নিলে বল বেরিয়ে যায় দূরের পোস্ট পোস্ট ঘেঁষে। ওই মিনিটেই ফাহিমের দারুণ ক্রস খুঁজে পায়নি কাউকে। চার মিনিট পর হেডে জাল কাঁপান আরামবাগের জাহিদুল। গোলের উদযাপন করার আগেই অবশ্য ওড়ে অফসাইডের পতাকা। জোড়া গোলে পিছিয়ে পড়ার পর থেকে কিছুটা আক্রমণাত্মক হয়ে খেলে আরামবাগ।
বিরতির পর ৫২ মিনিটে ইমানুয়েল সানডে আরামবাগের গোলকিপার আজাদের পায়ের নিচ দিয়ে বল জালে ঠেলে দেন। ৩-০ গোলে এগিয়ে যায় বসুন্ধরা কিংস। ৫৫ মিনিটে ফাহিমের আরও একটি নিচু ক্রসে দলকে এগিয়ে দেন দোরিয়েলতন।
৬৬ মিনিটে ফাহিমের শট ঠেকিয়ে দেন আরামবাগের গোলকিপার আজাদ। কিন্তু বল বিপদমুক্ত হয়নি। বক্সে জটলার মধ্য থেকে বটম কর্নার দিয়ে দলের স্কোরলাইন ৫-০ করেন সোহেল রানা জুনিয়র। যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে হ্যাটট্রিক হতে পারত দোরিয়েলতনের; কিন্তু দারুণ হেডেও গোল পাননি তিনি।
‘বি’ গ্রুপের দিনের অপর ম্যাচটি মাঠে গড়ায় বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায়। টেবিল টপার থেকে পুলিশ এফসির বিপক্ষে মাঠে নামে ফর্টিস ফুটবল ক্লাব। যদিও তারা এগিয়ে গিয়ে ১-২ গোলে হেরেছে পুলিশের কাছে। এই জয়ে ৩ খেলায় এক জয় এক হারে টেবিলের শীর্ষস্থানে উঠেছে পুলিশ। চার ম্যাচে ৫ পয়েন্ট পেয়ে তিনে নেমে গেছে ফর্টিস।

প্রথমবারের মতো ইউরোপে খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ দল। ৫ জুন সান মারিনোর বিপক্ষে ফিফা প্রীতি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। তবে ইউরোপের কোনো দলের বিপক্ষে এটিই বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ নয়। এর আগে ইউরোপের দুটি দলের বিপক্ষে ম্যাচ খেলেছে।
২০০১ সালে তিন মহাদেশের ১৩ দল নিয়ে সাহারা কাপ আয়োজন করে ভারত। সেই টুর্নামেন্টে গ্রুপ ‘এ’-তে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ছিল বসনিয়া এন্ড হার্জেগোভিনা ও এফআর যুগোস্লাভিয়। দুটো দলই ইউরোপের। বসনিয়া তো এবার ইতালিকে বিদায় করে বিশ্বকাপেই জায়গা করে নেয়। ওই টুর্নামেন্টেই কোচির জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে প্রথম ম্যাচে বসনিয়ার কাছে ২-০ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ। সেই ম্যাচে জোড়া গোল করেন আলমেদিন হোতা। বসনিয়ার হয়ে ২২ ম্যাচ খেলা এই মিডফিল্ডার এখনো অপেশাদার ফুটবল ও ফুটসাল খেলে যাচ্ছেন।
দ্বিতীয় ম্যাচে যুগোস্লাভিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশ হারে ৪-১ গোলে। সেই ম্যাচে বাংলাদেশের হয়ে একমাত্র গোলটি করেন ফিরোজ মাহমুদ। বাংলাদেশ এগিয়ে যায় তাঁর গোলে। যদিও পরে তা ধরে রাখতে পারেনি। যুগোস্লাভিয়া ২০০৩ সালে সার্বিয়া ও মন্টেনেগ্রো হিসেবে আবির্ভুত হয়। ২০০৬ সালে অবশ্য সার্বিয়া আর মন্টেনেগ্রো আলাদা দলে পরিণত হয়।
২৫ বছর পর বাংলাদেশ আবারও পেতে যাচ্ছে ইউরোপীয় দলের বিপক্ষে খেলার স্বাদ। তবে এবার ইউরোপের দলের বিপক্ষে ইউরোপের মাটিতেই খেলবেন হামজা-জামালরা। ১৯৮৭ সালে প্রথম ম্যাচ খেলা সান মারিনো এখন পর্যন্ত জয় পেয়েছে মাত্র ৩ ম্যাচে। তিনটিই লিখটেনস্টেইনের বিপক্ষে। যার দুটি ২০২৪ সালে। নেশনস লিগে প্রমোশন পেয়ে আগামী মৌসুমে তৃতীয় স্তরে খেলবে তারা। সম্প্রতি বিশ্বকাপে খেলা বসনিয়ার সঙ্গে কেবল ১-০ গোলে হেরেছে সান মারিনো। নিয়মিতই তারা খেলে ইউরোপের পরাশক্তি দলগুলোর বিপক্ষে।

দেশের ফুটবল ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায় যোগ হতে যাচ্ছে। প্রথমবারের মতো ইউরোপের কোনো দেশের বিপক্ষে মাঠে নামতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। আগামী ৫ জুন ইতালির পার্শবর্তী দেশ সান মারিনোর বিপক্ষে একটি আন্তর্জাতিক ফিফা টায়ার-১ প্রীতি ম্যাচ খেলবেন হামজা-জামালরা।
বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে সান মারিনোর মাটিতেই। এর মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো ইউরোপের মাটিতে খেলার অভিজ্ঞতা অর্জন করবে বাংলাদেশ।
ম্যাচটি দুই দলের জন্যই ঐতিহাসিক এক মাইলফলক হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ যেমন প্রথম কোনো ইউরোপীয় প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হবে, তেমনি সান মারিনোও তাদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো খেলবে কোনো এশিয়ান দলের বিপক্ষে।
তবে ইউরোপের মাটিতে খেলার জন্য বাংলাদেশ বেছে নিয়েছে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের সবচেয়ে তলানির দলটিকে (২১১)। বর্তমানে বাংলাদেশ এই তালিকার ১৮১তম স্থানে।

এএফসি উইমেন'স অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপে দারুণ কিছু অর্জনের হাতছানি বাংলাদেশের সামনে। গ্রুপ পর্বের শেষ খেলায় আজ আফঈদা-সাগরিকারা মুখোমুখি হবেন ভিয়েতনামের। যাদেরকে হারানো গেলে মিলবে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট! ড্র করেও এমন কিছু অর্জন করতে পারে বাংলাদেশের মেয়েরা। তখন অবশ্য তাকিয়ে থাকতে হবে অন্য দলের খেলার দিকে।
থাইল্যান্ডের ননথাবুড়ি স্টেডিয়ামে ভিয়েতনামের বিপক্ষে বাংলাদেশের ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টায়। সরাসরি দেখাবে চ্যানেল টি-স্পোর্টস।
গ্রুপ পর্বে খেলা আগের দুই ম্যাচেই হেরেছে বাংলাদেশের মেয়েরা। প্রথম ম্যাচে স্বাগতিক থাইল্যান্ডের বিপক্ষে ২-০ গোলে এগিয়ে থাকার পরও হারতে হয়েছিল ২-৩ ব্যবধানে। পরের ম্যাচে চীনের সঙ্গে হার ২-০ গোলে। প্রতিযোগিতায়র তিন গ্রুপ থেকে শেষ আট নিশ্চিত করেছে ৬টি দল। এবার বাকি দুটি স্থানের জন্য লড়াই ৬ দলের। কেননা তিন গ্রুপের তৃতীয় দল হওয়া শীর্ষ দুই দল জায়গা পাবে কোয়ার্টার ফাইনালে।
আজকের ম্যাচে বাংলাদেশ জিতলে কোয়ার্টার ফাইনাল অনেকটাই নিশ্চিত হবে। সেক্ষেত্রে ভারত-চাইনিজ তাইপে কিংবা উজবেকিস্তান-জর্ডানের মধ্যকার যে কোনো একটি ম্যাচ ড্র কিংবা দুটি ম্যাচের ফলাফল বড় ব্যবধানে না হলেও হবে।
আর ড্র করেও বাংলাদেশের সুযোগ থাকবে পরের রাউন্ডে যাওয়ার। কারণ গোলগড়ে তৃতীয় সেরার রেসে থাকা সবার চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ। আসরে ৫ গোল হজম করার বিপরীতে দুই গোল দিয়েছেন সাগরিকারা। যে কারণে বাংলাদেশের গোলগড় (-৩)। দুই ও তিনে থাকা তাইপে (-৭) এবং উজবেকিস্তান (-৮) বেশ পিছিয়ে।
বাংলাদেশের জন্য ম্যাচটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেটি ম্যাচের আগেরদিন জানান দলের ফরোয়ার্ড সৌরভী আকন্দ প্রীতিও। আজকের ম্যাচে জিততে সর্বোচ্চটা দিয়ে লড়াই করবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচের চাপ সামলে অর্পিতা বিশ্বাসরা মাঠ থেকে জয় নিয়ে ফিরবেন সেই প্রত্যাশা লাল সবুজ সমর্থকদের।

সমীকরণ সহজ—একদল বাদ পড়বে, অন্য দল টিকে থাকবে শিরোপার রেসে। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় রাত ১ টায় চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের ফার্স্ট লেগে মুখোমুখি হচ্ছে ফুটবল বিশ্বের দুই জায়ান্ট ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ ও বায়ার্ন মিউনিখ। এই ম্যাচ একদলের দুঃখ মোচনের উপলক্ষ্য, অন্য দলের ঘুরে দাঁড়ানোর প্রেরণা।
বাঁচা-মরা লড়াইয়ে রিয়াল মাদ্রিদ এই ম্যাচ খেলতে যাচ্ছে লা লিগা শিরোপা প্রায় হাতছাড়া করে। লিগে নিজেদের সবশেষ ম্যাচে মায়ার্কোর কাছে ২-১ গোলে হেরেছে আলভারো আরবেলোয়ার দল। বুন্দেসলিগা জায়ান্ট বায়ার্নও তাদের শেষ ম্যাচ নাটক জমিয়ে জিতেছে। ফ্রেইবুর্গের কাছে অন্তিম লড়াইয়ের ড্রামায় ম্যাচটা ৩-২ ব্যবধানে বাগিয়েছে ভিনসেন্ট কোম্পানির দল।
মায়ার্কোর বিপক্ষে হারলেও অবশ্য দমে যেতে চান না রিয়াল কোচ। বরং হারের দিনই তিনি জানিয়ে দেন, দুঃসময় ভুলে ঘুরে দাঁড়াতে চায় তার দল। ইন্টারন্যাশনাল ব্রেকের আগে ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে জয়ে শক্তি খোঁজার চেষ্টা করছেন তিনি। তার মধ্যে ইতিহাস বলে, চ্যাম্পিয়নস লিগে রিয়াল মাদ্রিদ কোনো যুক্তি মানে না। সবাই যখন ধরে নেয় তারা শেষ, তখনই ঘুরে দাঁড়িয়ে অসম্ভবকে সম্ভব করে তোলে বার্নাব্যুর যোদ্ধারা। বিষয়টি বায়ার্নের চেয়ে কার বেশি মনে রাখার কথা?
আরও পড়ুন
| এসি মিলানকে হারাল নাপোলি, চ্যাম্পিয়নস লিগ দৌড়ে জুভেন্তাস |
|
চ্যাম্পিয়নস লিগে বায়ার্নের বিপক্ষে সবশেষ মুখোমুখিতে হোসেলুর গোলে জিতেছিল রিয়াল। পারস্পরিক মুখোমুখিতেও খানিক এগিয়ে লস ব্লাঙ্কোসরা। ১৩ জয়ের বিপরীতে বাভারিয়ানদের জয় ১১টি। ৪টি ম্যাচ হয়েছে ড্র। নক আউট ম্যাচে শেষ ৫ দেখায় বেশির ভাগ জয়ই রিয়ালের দিকে।
সংখ্যা কিংবা ইতিহাস রিয়ালের পক্ষে হলেও রিয়ালের বর্তমান অবস্থা কিছুটা নাজুক। লা লিগা হেলায় হারানো কিংবা তারকা খেলোয়াড়দের জ্বলে উঠতে না পারা। একই সঙ্গে কোচ পরিবর্তনের বিষয়টি বেশ ভাবাচ্ছে রিয়ালকে। যে জাবি আলোনসোর কাছে বছর দুয়েক আগে বুন্দেসলিগায় টাইটেল হারিয়েছিল বায়ার্ন মিউনিখ। সেই জাবি এখন আর সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর ডাগ আউটে নেই। সব মিলিয়ে চিন্তায় থাকতে হচ্ছে সর্বোচ্চ ১৫ বার চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ী রিয়ালকে। বার্নাব্যু থেকে জয় নিজেদের পক্ষে না রাখতে পারলে সেকেন্ড লেগে আলিয়াঞ্জ অ্যারেনাতে বিপদে পড়তে হতেও পারে তাদের।
এই ম্যাচে রিয়ালের গোলপোস্টের নিচে দেখা যাবে আন্দ্রে লুনিনকে। থিবো কোর্তোয়ার ইনজুরির কারণে লুনিন যে থাকবেন, সেটা অনেকটা পরিষ্কার। চ্যাম্পিয়নস লিগে সবশেষ যখন বায়ার্নের মুখোমুখি হয়েছিল রিয়াল, তখন গোলপোস্টের নিচে ছিলেন লুনিন।
চোট কাটিতে দলে ফিরেছেন রাইটব্যাক এদের মিলিতাও। দীর্ঘ সময় দলের বাইরে ছিলেন ব্রাজিল ডিফেন্ডার। এই পজিশনে আরও দেখা যেতে পারে ডিন হুইসেন, গার্সিয়া ও অ্যান্টোনি রুডিগারকে।
মিডফিল্ডে আবারও ফিরছেন সবশেষ লা লিগায় মায়ার্কো ম্যাচে না থাকা ভালভার্দে। এই পজিশনে তার সাথে দেখা যেতে পারে চুয়ামেনি ও আর্দা গুলেরকে। অ্যাটাকিং পজিশনে কিলিয়ান এমবাপে ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।
রিয়ালের বিপক্ষে বায়ার্নের শুরুর একাদশে থাকবেন হ্যারি কেইন। বুন্দেসলিগায় ৩১ গোল করা ইংলিশ ফরোয়ার্ড সবশেষ ম্যাচে ছিলেন না। আর ফরোয়ার্ড লাইনে থাকবেন লুইস দিয়াস, গ্যানাব্রি ও মাইকেল ওলিসে। বর্তমানে দুর্দান্ত ফর্মে আছেন গ্যানাব্রি। লিভারপুলের নামের সুবিচার করা দিয়াসও যেন মুখিয়ে থাকেন গোল নেশায়। আর ওলিসের কথা না বললেই নয়। বুন্দেসলিগায় ২৭ ম্যাচে ১৯ অ্যাসিস্ট এবং ১১ গোল ফরাসি ফরোয়ার্ডের।
মিডফিল্ডে বরাবরের মতোই থাকছেন জশুয়া কিমিখ ও লিওন গোরেৎজকা। আর রাইটব্যাক পজিশনে থাকছেন জোসিপ স্ট্যানিসিচ, সেন্টারব্যাকে দায়োত উপামেকানো ও জোনাথন তাহ। লেফটব্যাক পজিশনে অস্ট্রিয়ার কনরাড লাইমার। গোল পোস্টের নিচে থাকবেন ম্যানুয়েল নয়্যার। তাকে সামলাতে হবে এমবাপে ও ভিনির মতো বিশ্বসেরা দুই অ্যাটাকারকে।
আরও পড়ুন
| কক্সবাজারে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মাণে তোড়জোড় |
|
ব্যর্থতা আর গ্লানি মুখে নিজেকে প্রমাণ করতে চান আরবেলোয়া। লা লিগা কষ্ট ভুলে যেতে না তিনি। ম্যাচের আগে এমনটাই জানিয়েছেন তিনি। আরবেলোয়া বলেন, ‘‘এমন দিনে রিয়াল সবসময় সেরাটা দেবে। আমরা জানি বায়ার্ন মাঠে আমাদের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেবে। বার্নাব্যুর ম্যানসিটির মতো আরেকটা অভিজ্ঞতা হবে। সে ব্যাপারে আমি নিশ্চিত।’’
রিয়ালকে গুড়িয়ে দেওয়ার মতো কোনো পরিকল্পনা নেই বায়ার্ন কোচের। তবে জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী ভিনসেন্ট, “এই স্তরে প্রতিটি দলই বিপজ্জনক। হ্যাঁ, আমরা গোল হজম করতে পারি, তবে আমরাও গোল করতে পারি। রিয়ালের মতো দলের বিপক্ষে এমন কোনো গেম প্ল্যান করা যায় না, যা সব ধরনের বিপদ পুরোপুরি দূর করে দিতে পারে। আর এই কারণেই মানুষ এমন ম্যাচ দেখতে আসে।”
রিয়ালের শুরুর সম্ভাব্য একাদশ: আন্দ্রে লুনিন (গোলকিপার), এদার মিলিতাও, ডিন হুইসেন, গার্সিয়া, রুডিগার, ভালভার্দে, চুয়ামেনি, আর্দা গুলের, কিলিয়ান এমবাপে ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।
বায়ার্নের শুরুর সম্ভাব্য একাদশ: ম্যানুয়েল নয়্যার (গোলকিপার), জোসিপ স্ট্যানিসিচ, দায়োত উপামেকানো, জোনাথন তাহ, জশুয়া কিমিখ, লিওন গোরেৎজকা, লুইস দিয়াস, গ্যানাবেরি ও মাইকেল ওলিসে ও হ্যারি কেইন।