২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ৮:১২ পিএম

প্রায় ১৯ বছর পর গত মৌসুমে বাংলাদেশ ফুটবল লিগে (বিএফএল) নাম লেখায় ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাব। ১৮ ম্যাচে তিন জয় এবং এক ড্রয়ে ১০ পয়েন্ট পেয়ে অবনমিত হয়ে ক্লাবটি নেমে যায় বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নশিপ লিগে। তবে সামনের মৌসুমে ফের শীর্ষ লিগে খেলতে এরই মধ্যে দল গুছিয়ে মাঠে নেমে পড়েছে মতিঝিল পাড়ার ঐতিহ্যবাহী ক্লাব ওয়ান্ডারার্স। এজন্য তারা দলে ভিড়িয়েছে ৩৯ বছর বয়সী ফরাসি কোচ লোরঁ আনিয়েসকে। দেশের পেশাদার লিগের ১০ ক্লাবের মধ্যেই কেবল দুজন আছেন বিদেশী কোচ। সেখানে চ্যাম্পিয়নশিপের কোন ক্লাব ফ্রান্স থেকে উড়িয়ে এনেছে ইউয়েফা ‘এ’ লাইসেন্সধারী কোচকে। বাংলাদেশের ফুটবলে এমন ঘটনা সচরাচর দেখা যায় না। ৮৯ বছর বয়সী এই ক্লাবকে আবারও স্বর্ণালী সময়ে ফিরিয়ে আনতে কাজ করতে চান কোচ আনিয়েস। ঢাকার ক্লাবটি নিয়ে তার ভবিষ্যৎ ভাবনা এবং ব্যক্তিগত বিষয়ে কথা বলেছেন টি-স্পোর্টসের সঙ্গে।
টি-স্পোর্টস : বাংলাদেশে স্বাগতম। ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাবে কিভাবে আসলেন
লোরঁ আনিয়েস : ধন্যবাদ। এই সুযোগটি আমি পাই আমার এজেন্টের মাধ্যমে। এটি আমার জন্য খুব ভালো সুযোগ। এই সুযোগ দেওয়ার জন্য ক্লাব ও আমার এজেন্টকে ধন্যবাদ জানাই। এখানে এসে খুব আনন্দিত ও গর্বিত বোধ করছি।
টি-স্পোর্টস : বাংলাদেশ সম্পর্কে, বাংলাদেশের ফুটবল সম্পর্কে আগে থেকে জানতেন?
লোরঁ আনিয়েস : না, এটা আমার প্রথম বাংলাদেশ ভ্রমণ। এর আগে আমি চীনে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড একাডেমির কোচ হিসেবে কাজ করেছি, এর পূর্বে ফ্রান্সে পাউ এফসির (ফরাসি লিগ-২ এর ক্লাব) অনূর্ধ্ব-১৭ দলের হেড কোচ ছিলাম।
টি-স্পোর্টস : বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন খেলোয়াড়দের সঙ্গে কাজ করছেন; তাদের সঙ্গে ভাষাগত যোগাযোগটা কীভাবে করেন?
লোরঁ আনিয়েস : আমার ইংরেজি খুব একটা ভালো নয়। এজন্য আমি সহজ শব্দ ব্যবহার করি। ওদের আমি প্রচুর ছবি ও ভিডিও দেখাই, যাতে আমার ধারণাগুলো বোঝাতে পারি। এখানে সে (ক্লাবের সহকারী কোচ জাকির হোসেন) আমার অনুবাদে সাহায্য করে। তবে ফুটবলের ভাষা সারা বিশ্বে একই।
টি-স্পোর্টস : যদিও মাত্র তিন দিন হলো এখানে, তবুও জানতে চাই ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের পরিবেশ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন কি হবে?
লোরঁ আনিয়েস : শুনেছি ওয়ান্ডারার্স একটি ঐতিহ্যবাহী ক্লাব। আমি ক্লাবের সম্পর্কে ইন্টারনেটে তথ্য সংগ্রহ করে দেখার চেষ্টা করেছি। এখানকার খেলার ধরণ মোটামুটি সবারই এক। আমি শর্ট পাসিং ও পজেশন ধরে রাখার ফুটবল পছন্দ করি; সেটাই অনুশীলন করিয়েছি। খেলোয়াড়রা ডুয়েলে শক্তিশালী, শীর্ষ ক্লাবে খেলার যোগ্যতা আছে ওরা; তবে ট্যাকটিক্যাল দিকে উন্নতির সুযোগ আছে।
টি-স্পোর্টস : এখানে আপনার কোচিং স্টাফদের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা কেমন হলো ?
লোরঁ আনিয়েস : আমরা এক হয়ে কাজ করি। কোচিং স্টাফদের বিশ্বাস করি, তাদের ওপর আস্থা রাখি। তারা ক্লাব, দেশ ও খেলোয়াড়দের সম্পর্কে ভালো জানে। সিদ্ধান্ত আমি নিই, কিন্তু অবশ্যই তাদের মতামত নিয়ে করি বা করার চেষ্টা করব।
টি-স্পোর্টস : আপনার কোচিংয়ে ওয়ান্ডারার্সে কি প্রভাব রাখতে চান, লক্ষ্য কি এই ক্লাবের হয়ে?
লোরঁ আনিয়েস : আমার লক্ষ্য স্পষ্ট— এই ক্লাবকে প্রোমোট করে প্রথম বিভাগের লিগে (বিএফএল) নিয়ে যাওয়া। ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের স্থান প্রথম বিভাগে (বিএফএল) থাকা উচিত; এটা আমার, পুরো কোচিং স্টাফ ও খেলোয়াড়দের দায়িত্ব।
টি-স্পোর্টস : আপনার কোচিং দর্শন কি?
লোরঁ আনিয়েস : আমার দর্শন- রক্ষণে শৃঙ্খল অপরিহার্য। বল না থাকলে শৃঙ্খলা জরুরি; বল পেলে আমি দলকে বল ধরে রাখতে ও পেছন থেকে শর্ট পাসে আক্রমণ গড়তে চাই। ফুটবল হলো শক্তির ভারসাম্য, আর আমি ম্যাচে সেই নিয়ন্ত্রণের খেলায় জিততে চাই।
টি-স্পোর্টস : বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের ফুটবল মানের পার্থক্য কোথায় দেখেন?
লোরঁ আনিয়েস : ফ্রান্স ও ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপ বিশ্বের সেরা। তবে বাংলাদেশি লেভেলও খারাপ না। এখানকার ফুটবলার বেশিরভাগই লং বলে খেলে। আমি আরও বল পজেশন ধরে রেখে খেলার মান বাড়াতে কাজ করব।
টি-স্পোর্টস : ফুটবল কোচ হিসেবে যাত্রা কীভাবে শুরু হয়েছিল?
লোরঁ আনিয়েস : ১৮ বছর বয়সে কোচিং শুরু করেছি। আগে আমি খেলোয়াড় ছিলাম, তবে ইনজুরিতে (হাঁটুর) পড়ায় আমাকে কোচিংয়ের পথ বেছে নিতে হয়। তখন থেকেই আমি বিভিন্ন বয়স ও স্তরের খেলোয়াড়দের কোচিং করিয়েছি। ফ্রান্সের পর এশিয়ায় কাজ করার সুযোগ আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ— কারণ ফুটবলই আমার জীবন।
টি-স্পোর্টস : আপনি চীনা ফুটবলে কাজ করেছেন, সেখানকার অভিজ্ঞতা কেমন?
লোরঁ আনিয়েস : চীনে আমি মূলত যুব একাডেমিতে কাজ করেছি (৯–১০ বছর বয়সী শিশুদের সঙ্গে)। প্রথম ও দ্বিতীয় বিভাগের যে কয়েকটি ম্যাচ দেখেছি, সামগ্রিকভাবে মান ফ্রান্সের তুলনায় কম।
টি-স্পোর্টস : ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কিছু যদি বলতেন
লোরঁ আনিয়েস : আমি ফ্রান্সের দক্ষিণ পশ্চিমের বর্দো শহরে থাকি। সেখানেই বেড়ে ওঠা, ফুটবলার হওয়া। খেলোয়াড় হিসেবে আমি রাইট ব্যাক খেলতাম। আমার স্ত্রী ও দুই কন্যা আছে। বড় মেয়ের বয়স ১৩ বছর এবং ছোট মেয়ের বয়স পাঁচ বছর।
টি-স্পোর্টস : প্রিয় কোচ ও ফুটবল অনুপ্রেরণা—
লোরঁ আনিয়েস : পেপ গার্দিওলা আমার পছন্দের কোচ। ক্লপ (ইয়ুর্গেন) ও মার্সেলো বিয়েলসাকেও শ্রদ্ধা করি। জিদান আমার প্রিয় খেলোয়াড়। আর ১৯৯৮ বিশ্বকাপ আমার জন্য স্মরণীয় অভিজ্ঞতা।
টি-স্পোর্টস : এর মধ্যে আপনার স্বদেশী বিশ্বকাপজয়ী কোচ এবং খেলোয়াড় দিদিয়ের দেশম নেই…
লোরঁ আনিয়েস : ওহ এটা বলতে ভুলে গেছি। সে অবশ্যই একজন অনুকরণীয় কোচ এবং খেলোয়াড়। তিনি ফ্রান্সের একমাত্র ব্যক্তি যিনি কোচ এবং খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপ জিতেছেন। সে দারুণ একজন ফুটবল ম্যানেজার।
টি-স্পোর্টস : বাংলাদেশি খেলোয়াড়দের মূল্যায়ন—
লোরঁ আনিয়েস : আমি বিস্মিত— বাংলাদেশি খেলোয়াড়রা ডুয়েলে শক্তিশালী। হেডে এবং টেকনিক্যালি ভালো। ট্যাকটিক্যাল দিক নিয়ে কাজ করা দরকার— এটাই আমরা ট্রেনিংয়ে করছি।
No posts available.
৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৫:৩৮ পিএম

২০২৯ সালের উইয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনাল আয়োজনের জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছে এফসি বার্সেলোনা। কাতালান ক্লাব জানিয়েছে, বার্সেলোনা সিটি কাউন্সিল ও কাতালান সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে তারা উইয়েফার কাছে প্রাথমিক আবেদনপত্র জমা দিয়েছে।
মঙ্গলবার দেওয়া এক বিবৃতিতে বার্সেলোনা জানায়, আয়োজক শহর হিসেবে বার্সেলোনা এবং ভেন্যু হিসেবে স্পটিফাই ক্যাম্প ন্যুকে প্রস্তাব করেছে তারা। তবে পুরো বিষয়টি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং উইয়েফার আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের ওপর নির্ভরশীল।
ক্লাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উইয়েফার নির্ধারিত প্রোটোকল অনুযায়ী প্রার্থিতার উপযোগিতা যাচাইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় প্রাথমিক নথিপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। চূড়ান্ত আবেদনটি ২০২৬ সালের জুনের শুরুতে জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। তখন পূর্ণাঙ্গ ডসিয়ারের মাধ্যমে ফাইনাল আয়োজনের যোগ্যতা প্রমাণ করা হবে।
বার্সেলোনার ঘোষণার আগেই বার্সেলোনার কাউন্সিলের গভর্নিং কমিশন এই প্রার্থিতায় অনুমোদন দেয় এবং ‘হোস্ট সিটি এগ্রিমেন্ট’-এ সম্মতি জানায়। একই সঙ্গে কাতালান সরকারও উদ্যোগটির প্রতি সমর্থন জানায়।
উল্লেখ্য, গত ৩১ অক্টোবর উয়েফা নিশ্চিত করে যে ২০২৮ ও ২০২৯ মৌসুমের ক্লাব প্রতিযোগিতার ফাইনাল আয়োজনের জন্য ১৫টি ফেডারেশন আগ্রহপত্র জমা দিয়েছে। এর মধ্যে ২০২৯ সালের পুরুষদের চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালের সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবেও তালিকায় রয়েছে ক্যাম্প ন্যু।
উইয়েফার নির্বাহী কমিটি ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে চূড়ান্ত আয়োজক শহর ও স্টেডিয়াম নির্বাচন করবে। সে ক্ষেত্রে বার্সেলোনার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে থাকছে লন্ডনের ঐতিহ্যবাহী ওয়েম্বলি স্টেডিয়াম।
ক্যাম্প ন্যুর চলমান সংস্কারকাজ ২০২৯ সালের আগেই শেষ হওয়ার কথা। শুধু চ্যাম্পিয়নস লিগ নয়, স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কোর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিতব্য ২০৩০ বিশ্বকাপের ফাইনাল ভেন্যু হিসেবেও স্টেডিয়ামটিকে বিবেচনায় রেখেছে স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন।

সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে দারুণ ছন্দে এগোচ্ছে বাংলাদেশ। টুর্নামেন্টে নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচে ভুটানকে ১২-০ গোলে উড়িয়ে শুরু। এরপর শক্তিশালী ভারতকে ২-০ ব্যবধানে হারায় লাল-সবুজের মেয়েরা। পরপর দুই জয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই ফাইনাল নিশ্চিত করেছেন অর্পিতা বিশ্বাসরা।
নেপালে দলের সঙ্গে থেকে ফুটবলারদের অনুপ্রাণিত করছেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) নারী উইংয়ের চেয়ারম্যান মাহফুজা আক্তার কিরণ।
আগামীকাল লিগ পর্বের শেষ ম্যাচে নেপালের বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। খেলাটি শুরু হবে বিকাল ৩টা ১৫ মিনিটে। নেপালের পোখারায় হতে যাওয়া খেলাটি সরাসরি দেখা যাবে ইউটিউবে।
বাংলাদেশ দলের ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট কিরন। বাফুফের পাঠানো ভিডিও বার্তায় বলেন—
'বাংলাদেশ শুধু ফাইনালই খেলবে না, দেশে ফিরবে শিরোপা নিয়ে।'
কিরণ বলেন,
'বাংলাদেশ দল অনেক ভালো অবস্থানে আছে। প্রথম ম্যাচে ভুটানের সঙ্গে ওরা অনেক ভালো খেলেছে এবং অনেক গোল করেছে। এরপর গতকাল (সোমবার) ভারতের সঙ্গে প্রথমার্ধে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই ছিল। তারপরও দুই গোল করেছে। দ্বিতীয়ার্ধে গোল না হলেও ভালোভাবেই মেয়েরা সামলেছে।'
ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের দুই গোলই এসেছে প্রথমার্ধে। অর্পিতা বিশ্বাস ও আলপি আক্তারের নৈপুণ্যে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় বাংলাদেশ। সেই জয়েই বাংলাদেশ পৌঁছে যায় ফাইনালের দোরগোড়ায় বরং এক ম্যাচ বাকি থাকতেই নিশ্চিত হয়ে যায় ফাইনাল।
ফাইনাল নিশ্চিতের পর বুধবার নেপালের বিপক্ষে ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য এক অর্থে নিয়মরক্ষার। এই ম্যাচের জয়-পরাজয়ের ওপর তেমন কিছু নির্ভর করবে না। তারপরও জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়েই ফাইনালের মঞ্চে মাঠে নামতে চায় পিটার বাটলারের দল। কিরণ বলেন,
'আগামীকাল নেপালের বিপক্ষে খেলা। আমার বিশ্বাস মেয়েরা নেপালের সঙ্গে খুব ভালোভাবেই জিতবে।'
দলের ভেতরের পরিবেশ এবং মানসিক প্রস্তুতির দিকেও আলাদা গুরুত্ব দিচ্ছেন নারী উইং চেয়ারম্যান। প্রতিদিনই তিনি দলের কাছে যাচ্ছেন এবং খেলোয়াড়দের সঙ্গে কথা বলছেন, যাতে তারা আরও আত্মবিশ্বাসী থাকে। কিরণের ভাষ্য,
'আমি প্রতিদিনই টিমের কাছে যাচ্ছি যাতে মেয়েরা অনুপ্রানিত হয়।'
ফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ এখনো নিশ্চিত নয়। কাল দুপুরে ভুটানের বিপক্ষে খেলা আছে ভারতের। এরপর বিকালে নেপালের সঙ্গে ম্যাচ বাংলাদেশের। ভুটান এরই মধ্যে টুর্নামেন্টে থেকে ছিটকে গেছে। নেপাল কিংবা ভারতই ফাইনালে বাংলাদেশের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ।
বাংলাদেশের বিপক্ষে ১২-০ গোলে হারা ভুটান ভারতের সামনে চ্যালেঞ্জ হবে না মনে করেন অনেকে। যে কারণে কিরনও মনে করেন ফাইনালে উঠতে পারে ভারত,
'আমার বিশ্বাস ফাইনালে বাংলাদেশ এবং ভারত যাবে। ওদের আমরা আরেকবার পাবো। এবং আমার বিশ্বাস ফাইনালে মেয়েরা অনেক ভালো খেলবে এবং চ্যাম্পিয়ন ট্রফি নিয়েই আমরা দেশে ফিরব।'
টুর্নামেন্টে ধারাবাহিক ভালো করায় কিরন কৃতিত্ব দিয়েছেন দল, কোচিং স্টাফ এবং সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টাকে।

নামে, ভারে ও অভিজ্ঞতায় আর্জেন্টিনার ফুটবলে লিওনেল মেসির তুলনা নেই। দীর্ঘ প্রতীক্ষার বিশ্বকাপ খরা কাটাতে আলবিসেলেস্তেদের যাত্রায় সবচেয়ে বড় ভূমিকা ছিল তাঁরই। তবে আরেকটি বিশ্বকাপে মেসিকে দেখা যাবে কি না—সে প্রশ্নের কেন্দ্রে এখন বয়স।
বিশ্বকাপ প্রসঙ্গে বারবার প্রশ্ন উঠলেও এ নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো প্রতিশ্রুতি দেননি মেসি। জাতীয় দলের কোচ লিওনেল স্কালোনিও স্পষ্ট করে বলেছেন, বিশ্বকাপে খেলার সিদ্ধান্ত পুরোপুরি মেসির ব্যক্তিগত বিষয়। তবে ইন্টার মায়ামিতে তাঁর বর্তমান কোচ ও সাবেক সতীর্থ হাভিয়ের মাশ্চেরানো মনে করেন, আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ পরিকল্পনায় মেসি এখনো গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
মাশ্চেরানো জানান, স্কালোনি মেসির জন্য দরজা খোলা রেখেছেন। দুজনের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ও আলোচনা চলছে। সবুজ সংকেত মিললে সর্বকালের অন্যতম সেরা এই ফুটবলারকে দলে নিতে কোনো দ্বিধা থাকবে না। কারণ ১০ নম্বর পজিশনে মেসি এখনো আর্জেন্টিনার জন্য প্রতীকী ও প্রভাবশালী উপস্থিতি।
৩৮ বছর বয়সী মেসি কি তাঁর ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ বিশ্বকাপে খেলতে পারেন—এমন প্রশ্নে মাশ্চেরানোর উত্তর,
“হ্যাঁ, কেন নয়?”
খেলোয়াড় হিসেবে মেসির শারীরিক অবস্থান কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে মাশ্চেরানো বলেন,
“আমি খেলোয়াড়দের কাছাকাছি থাকতে পছন্দ করি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—তারা কেমন অনুভব করছে। নিজের শরীর কীভাবে সাড়া দিচ্ছে, সেটা খেলোয়াড়দের চেয়ে ভালো কেউ জানে না।”
বিশ্বকাপে শিরোপা ধরে রাখার সম্ভাবনা নিয়ে আস্থা প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন,
“আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েই যাবে। তারা দীর্ঘদিন ধরেই উচ্চমানের প্রতিযোগিতায় খেলছে এবং দলে আছে অসাধারণ সব ফুটবলার।”
বিশ্বকাপের মূল পর্বে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ড ইতিমধ্যে মেসির দখলে—২৬ ম্যাচ। সেই সংখ্যাটা আরও বাড়ানোর সুযোগ আছে তাঁর সামনে। পাশাপাশি বাড়তে পারে আন্তর্জাতিক ম্যাচের সংখ্যাও, যা বর্তমানে ১৯৬।
২০২৬ বিশ্বকাপে শিরোপা রক্ষার অংশ হওয়া নিয়ে আগেও নিজের ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন মেসি। সে সময় তিনি বলেছিলেন,
“আমি আশা করি সেখানে থাকতে পারব। আগেও বলেছি, আমি থাকতে চাই। সবচেয়ে খারাপ হলেও গ্যালারিতে বসে খেলা দেখব—তবু সেটা বিশেষ হবে। বিশ্বকাপ সবার জন্যই বিশেষ, বিশেষ করে আমাদের জন্য।”
স্কালোনির সঙ্গে সম্পর্ক ও আলোচনা প্রসঙ্গে মেসির ভাষ্য,
“আমরা বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছি। সে আমাকে বোঝে। আমরা সবকিছু নিয়েই আলোচনা করি। সে সবসময় বলে—যেকোনো ভূমিকায় হলেও আমাকে সেখানে দেখতে চায়। আমাদের মধ্যে গভীর বিশ্বাসের সম্পর্ক আছে।”

রাশিয়ার ওপর ফুটবলের নিষেধাজ্ঞা শিথিলের ইঙ্গিত দেওয়ায় ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর তীব্র সমালোচনা করেছে ইউক্রেন। দেশটির ক্রীড়ামন্ত্রী মাতভি বিদনি ইনফান্তিনোর মন্তব্যকে দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে আখ্যা দিয়েছেন।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে হামলার পর রাশিয়ার জাতীয় দল ও ক্লাবগুলোকে সব ধরনের আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে নিষিদ্ধ করে ফিফা ও ইউয়েফা। ফলে ২০২২ বিশ্বকাপ, ইউরো ২০২৪ এবং আগামী জুনে ২০২৬ বিশ্বকাপ-কোনোটিতেই অংশ নিতে পারেনি রাশিয়া।
সম্প্রতি ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো বলেন,
‘এই নিষেধাজ্ঞা কোনো ফল আনেনি এবং এতে আরও হতাশা ও ঘৃণা তৈরি হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ইউরোপের অন্য দেশে রাশিয়ার ছেলে-মেয়েরা খেলতে পারলে তা ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।’
জবাবে ইউক্রেনের ক্রীড়ামন্ত্রী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন,
‘ইনফান্তিনোর বক্তব্য বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন। তাঁর দাবি, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে রাশিয়ার হামলায় ৬৫০ জনের বেশি ইউক্রেনীয় ক্রীড়াবিদ ও কোচ নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে শতাধিক ফুটবলার।’
রাশিয়ার আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ফেরার বিরুদ্ধে অবস্থান নেন বিদনি। তিনি বলেন,
‘যুদ্ধ কোনো রাজনীতি নয়, এটি একটি অপরাধ। রাশিয়াই খেলাধুলাকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করছে।’
নিষেধাজ্ঞার পরও রাশিয়া পুরোপুরি আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। তাঁরা ফিফা বা উয়েফার অনুমতি ছাড়াই পশ্চিমা দেশের বাইরে কিছু প্রীতি ম্যাচ খেলেছে।
এর আগেও রাশিয়া ও বেলারুশের ক্রীড়াবিদদের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ায় আন্তর্জাতিক প্যারালিম্পিক কমিটির সমালোচনা করেছিল ইউক্রেন। যদিও নিষেধাজ্ঞা শিথিল হলেও মার্চে শীতকালীন প্যারালিম্পিকে অংশ নিতে পারছে না দুই দেশের অ্যাথলেটরা।

রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দিতে চান আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ। এমনটাই জানালেন স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ওকে ডিয়ারিও-র একজন সাংবাদিক। এদুয়ার্দো ইন্দারের দাবি, সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে খেলার স্বপ্নের কথা ইতোমধ্যে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে স্প্যানিশ জায়ান্ট ক্লাবটিকে জানিয়েছেন আর্জেন্টাইন তারকা মিডফিল্ডার।
রিয়ালে এনজোর খেলার আগ্রহের গুঞ্জন অবশ্য নতুন কিছু নয়। এর আগেও একাধিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে তাঁর মাদ্রিদ ‘প্রীতি’ কথা। গত গ্রীস্মের দলবদলের আগে এনজোর সঙ্গে রিয়ালের নাম জড়ানো হয়েছিল, তবে শেষ পর্যন্ত চেলসিতেই থাকতে হয় তাঁকে।
রেকর্ড ট্রান্সফার ফিতে চেলসিতে যোগ দেওয়া এনজো ক্লাবের পরিকল্পনা এবং লন্ডনের জীবনযাপন-দুটো নিয়েই নাকি এখন হতাশ। ঘনিষ্ঠ মহলে তিনি বারবার রিয়াল মাদ্রিদের জার্সি গায়ে তোলার ইচ্ছার কথা বলেছেন।
রিয়াল মাদ্রিদ নতুন মৌসুমে মঝামাঠে শক্তি বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। সেই প্রেক্ষাপটে এনজোর নাম অভ্যন্তরীণ আলোচনায় এসেছে। তবে এই দলবদল বাস্তবে রূপ নিতে বড় বাধা এনজোর বিশাল ট্রান্সফার ফি।
২০২৩ সালের জানুয়ারিতে ১২১ মিলিয়ন ইউরোতে বেনফিকা থেকে চেলসিতে যোগ দেন এনজো। ২৫ বছর বয়সী মিডফিল্ডারকে বিক্রি করতে ১৪০ মিলিয়ন ইউরোর কমে আলোচনায় বসতে রাজি নয় লন্ডনের ক্লাবটি। ফলে এনজোর বার্নাব্যু স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেয় কি না, তা নির্ভর করছে দুই ক্লাবের অবস্থানের ওপর।
চেলসিতে ১০৫ ম্যাচে ২৭ গোল করেছেন এনজো। ক্লাবটির সঙ্গে ২০৩২ সাল পর্যন্ত চুক্তি রয়েছে এই মিডফিল্ডারের।
২০২২ কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার মধ্যমাঠের মধ্যমণি হিসেবে আবির্ভূত হন এনজো। আলবিসেস্তাদের তৃতীয়বারের মতো বিশ্বসেরা হওয়ার আসরে সেরা উদীয়মান খেলোয়াড় নির্বাচিত হন তিনি।