৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ৬:১৬ পিএম

চলতি মৌসুম থেকে নতুন ফরম্যাটে আয়োজিত হচ্ছে ইউয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ। তাতে বেড়েছে ম্যাচের সংখ্যা। এর মধ্যে ফিফা আবার ঘোষণা দিয়েছে ক্লাব বিশ্বকাপেরও। তাতে ম্যাচের সংখ্যা যেন হুর হুর করেই বেড়ে চলছে। ফুটবলাররা বনে যাচ্ছেন ‘মেশিন’। ম্যাচপ্রতি দিন তিনেকও বিশ্রামের সুযোগ মিলছে না। চোটও তাই ফুটবলারদের নিয়মিত বন্ধু বনে যাচ্ছে। যা নিয়ে হরহামেশাই অভিযোগ জানাচ্ছেন কোচ ফুটবলাররা। সেটা বিবেচনায় নিয়ে পরিবর্তনের পথে হাঁটতে চাচ্ছে ইউয়েফা।
নকআউট থেকে অতিরিক্ত সময়ের হিসেব নিকেশটা বদলের দিকেই নজর দিচ্ছে তারা। সেমিফাইনালের আগ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ের বদলে সরাসরি টাইব্রেকারের কথা ভাবছে ইউয়েফা। সম্প্রতি এমন তথ্য দিয়েছে গার্ডিয়ান। যদিও এটা এখনো আলোচনা চলছে ইউয়েফার ভেতরে। এই নিয়ে এখনো পুরোপুরি কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলেই তারা জানাচ্ছে।
তবে সিদ্ধান্তে বদল আনলেও অপেক্ষা করতে হবে আরও অন্তত দুই মৌসুমে। ২০২৭ পর্যন্ত ইউয়েফার মিডিয়া স্বত্ব বিক্রি করা হয়েছে বেশ আগেই। ফলে এই সময়ের মধ্যে চাইলেও তারা এই নিয়মে পরিবর্তন আনতে পারবে না। তাদের অপেক্ষা করতে হবে ২০২৭ পর্যন্ত।
এর আগে আমরা আন্তর্জাতিক বেশ কিছু টুর্নামেন্ট এমনটা দেখেছিলাম। বিশেষ করে কোপা আমেরিকায়। গেল কয়েক আসরেই কোপা আমেরিকার নকআউট পর্বে অতিরিক্ত সময়ের জায়গায় সরাসরি টাইব্রেকার দেখেছি। কেবল ফাইনালেই আমরা দেখেছি অতিরিক্ত সময়ের পর টাইব্রেকারের। সেই ধারা এবার দেখা যেতে পারে ইউয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগেও।
No posts available.
৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ১২:০৪ পিএম

৩২ দলের বিশ্বকাপ দেখেই অভ্যস্ত ফুটবলপ্রেমীরা। আসন্ন ২০২৬ বিশ্বকাপে বদলে গেছে সেই ধারা। যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডার যৌথ আয়োজিত বিশ্বকাপে খেলবে ৪৮টি দেশ। ইতিমধ্যে হয়ে গেল ‘গ্রেটেস্ট শো অর্ন আর্থের’ ড্র’ও। এর মধ্যে থিয়েরি অঁরি একটি ভিডিও ক্লিপ দেখে ধাঁধায় পড়তে পারেন যেকোনো ফুটবল সমর্থকই। ৪৮ নয় আসন্ন বিশ্বকাপে কি তবে ৪৯টি দল দেখা যাবে?
দক্ষিণ কোরিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম গাড়ি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান কিয়া গতকাল ঘোষণা করেছে, তারা ২০২৬ সালের আসন্ন ফিফা বিশ্বকাপের জন্য একটি বিশ্বব্যাপী প্রচারণা চালু করেছে। কিয়া ২০০৭ সাল থেকে ফিফার আনুষ্ঠানিক স্পন্সর হিসেবে রয়েছে।
গত ৬ ডিসেম্বর নতুন একটি টিজার প্রকাশ করে কিয়া। সেই টিজারে দেখা যায় আর্সেনাল কিংবদন্তি অঁরি একেবারে তৈরি হয়ে বিশ্বকাপের ড্র পরিচালনা করছেন। বিশ্বকাপের ড্রয়ের মতোই একটি পাত্র থেকে একের পর এক বল তুলে দেখাচ্ছেন দেশের নাম। যার মধ্যে ইংল্যান্ড, স্পেন, ব্রাজিল এবং বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাও রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো – এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নামের কাগজের টুকরোও দেখান। একে একে উঠে আসে সৌদি আরব, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়াও মতো দেশের নামও। তবে শেষ বলটিতেই ছিল চমক। বলটি ঘুরিয়ে খোলার পর কোনোও দেশের নাম নয় বরং লিখা আছে ‘৪৯তম দল’। এরপর রহস্য আরও বাড়িয়ে দিয়ে ভ্রু উঁচু করে দর্শকদের দিকেই যেন প্রশ্ন ছুঁড়ে দিলেন এই কিংবদন্তি।
তবে কি বিশ্বকাপে দেখা যাবে ৪৯ নম্বর দল? না, তেমন কিছুই নয়। এই ‘৪৯তম দল’ আসলে কিয়ার বিশ্বকাপ ক্যাম্পেইনের অফিসিয়াল শিরোনাম। যা টুর্নামেন্টের অফিসিয়াল ম্যাচ বল বয়দের প্রেরণাদায়ক গল্প ও দক্ষতাকে উদযাপন করে।
এই উদ্যোগটি গত ৫ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত অফিসিয়াল ফিফা বিশ্বকাপ ড্র-এর পাশাপাশি প্রকাশিত হয়েছে। আসন্ন বিশ্বকাপে এমন অনেক আড়ালে থাকা নায়কদের অপ্রকাশিত অবদান এবং গল্পগুলো ফুটিয়ে তোলা হবে।
আগামী ১১ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া ৪৮ দলের বিশ্বকাপে এখনও ছয়টি দল চূড়ান্ত হয়নি। আগামী বছরের মার্চে ২২ দলের প্লে-অফ শেষে বাকি ছয় দলের টিকিট নিশ্চিত হবে। এরমধ্যে বিশ্বকাপের সূচি ও ভেন্যুও প্রকাশ করেছে ফিফা।

ঢাকায় চলছে লাতিন-বাংলা ফুটবল সুপার কাপ। আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল ও বাংলাদেশের মধ্যে মেলবন্ধনের প্রতীক হিসেবে এই টুর্নামেন্ট আয়োজন করেছে এএফবি বক্সিং প্রমোশন ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড। সেই প্রীতির টুর্নামেন্টেই ঘটে গেল অপ্রীতিকর ঘটনা।
বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের ইতিহাস ও গৌরব বহন করে ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়াম। গতকাল বাংলাদেশের রেড অ্যান্ড গ্রিন ফিউচার স্টার দল ও আর্জেন্টিনার আতলেতিকো চার্লন ক্লাবের ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়। ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের লাঞ্ছিত ও শারীরিক হেনস্থা করেছে দায়িত্বরত এলিট সিকিউটিরি ফোর্সের সদস্যরা।
খেলা শেষ হওয়ার পর স্টেডিয়ামের ভিআইপি গেট দিয়ে মাঠে প্রবেশ করতে চাইলে সিকউরিটি ফোর্সের লোক দিয়ে স্টেডিয়ামে কয়েকজন সাংবাদিককে শারীরিক হেনস্থা করা হয়। এ সময় টি-স্পোর্টসের সাংবাদিক রুবেল রেহানের ওপর চড়াও হয় ১০-১২ জন ফোর্স সদস্য। সেখানে টুর্নামেন্টের কার্ডধারী লোকজনও ছিলেন।
ঘটনার সময় ভুক্তভোগী সাংবাদিকের পাশেই ছিলেন যমুনা টেলিভিশনের সিনিয়র রিপোর্টার মেহেদী নাঈম। সেই ঘটনার বর্ণনা তাঁর কণ্ঠে, ‘ম্যাচ শেষ হওয়ার পরে আমি ভিআইপি গেইট দিয়ে যাই। যে গেইট দিয়ে সবাই যেতে পারে। আমি দেখছিলাম ম্যাচ শেষ হওয়ার পর অনেক বাইরের লোকজন এবং সাংবাদিকেরাও ভেতরে ঢুকে যায়। আমি আসার কিছুক্ষণ আগে উনি (ঘটনার শিকার হওয়া সাংবাদিক) আসেন। তখন উনি ঢোকার চেষ্টা করছিলেন, কিন্তু সেখানে তাঁর সঙ্গে কি কথা হয়েছে তা আমি শুনতে পাইনি। তারপর দেখি ওনাকে ধাক্কা দিয়ে আমার সামনেই দূরে ফেলে দেয়। সেখানে এক-দুই করে অনেকজন প্রথমে ধাক্কা দেয়, তারপর একদম টেনে-হিঁচড়ে হাত দিয়ে আঘাত করে সেখান থেকে বাইরে রাস্তায় বের করে দেয়।’
আরও পড়ুন
| চ্যাম্পিয়ন্স লিগে কলঙ্কজনক সেই স্মৃতির সামনে বার্সা |
|
ঘটনার সময় কেবল টি-স্পোর্টসের সাংবাদিকই শারীরিকভাবে লাঞ্ছিতের শিকার হননি, সেখানে যমুনা টেলিভিশনের সাংবাদিক প্রতিবাদ করায় তাকেও তোপের মুখে পড়তে হয়। এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘সেই সাংবাদিককে যখন বের করে দেওয়া হয়, তারপর আমি নিজে প্রটেস্ট করি কেন তাকে মারা হলো। কিন্তু আমি সেখানে একা ছিলাম। আমি ক্যামেরা দিয়ে ছবি তুলতে চাই, তখন তারা আমার হাত থেকেও ক্যামেরা টেনে নেওয়ার চেষ্টা করে। আমাকেও তোপের মুখে ফেলে দেয়।'
নাঈম দ্রুতই বিষয়টি সাংবাদিকদের, টুর্নামেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান ও বাফুফের কয়েকজন কর্মকর্তাকে জানান। নাঈম বলেন, ‘সাংবাদিকরা হচ্ছেন পার্ট অব স্পোর্টস। ক্রীড়াঙ্গনে অ্যাথলেটরা খেলে এবং আমরা সেটি তুলে ধরি, গঠনমূলক সমালোচনাও করি। আমরাও পার্ট অব স্পোর্টস। আমরা একে অপরকে সহায়তা করি। কিন্তু এই ধরনের ঘটনাকে আমি বলব একজন সাংবাদিককে লাঞ্ছিত করা একজন অ্যাথলেটকে লাঞ্ছিত করার সমান। অ্যাথলেটকে মারলে যে বিচার হওয়া উচিত একজন ক্রীড়া সাংবাদিককে মারলেও সেই একই বিচার হওয়া উচিত।’
মাঠে ওই ঘটনার পর মানবজমিন পত্রিকার সিনিয়র ক্রীড়া সাংবাদিক ও বাংলাদেশ ক্রীড়া লেখক সমিতির (বিএসপিএ) সাধারণ সম্পাদক সামন হোসেন এবং দেশ রূপান্তর পত্রিকার সিনিয়র ক্রীড়া সাংবাদিক সুদীপ্ত আনন্দ ছুটে যান ঘটনাস্থলে। তাঁরা জানতে চান একজন সাংবাদিক কেন শারীরিকভাবে হেনস্থা করা হলো? সে সময় এলিট সিকিউরিটি ফোর্সের ইনচার্জ শামীম বিষয়টি উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। অস্বীকারই করলেন তিনি, ‘আমি কারো গায়ে হাত তুলিনি বা এখানকার কেউ এসবের সঙ্গে জড়িত না।’ সে সময়ে টেলিভিশেনের ক্যামেরা বের করে সবার সামনে মারধরের ভিডিও দেখানো হয়, সেটি দেখেও তিনি নিজের অবস্থানে অনড় থাকেন। বলেন, ‘এসব ভুয়া।’
কিছুক্ষণ পর এএফবি লাতিন-বাংলা কাপ আয়োজনের প্রধান মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, এই ঘটনার দায় তিনি নেবেন না। কে বা কারা করেছে সেটিও তিনি জানেন না।

খুব কঠিন সময় পার করছে তখন বার্সেলোনা। জাভি হার্নান্দেজের কোচিং কাতালান ক্লাবটি ইউরোপের দ্বিতীয় সারির প্রতিযোগিতা ইউরোপা লিগে খেলতে হয়েছে। তবে সেটা তো লজ্জার কিছু নয়।
২০২২ সালের ১৪ এপ্রিল, বার্সার সাম্প্রতিক ইতিহাসের সবচেয়ে অপমানজনক এবং ‘কলঙ্কজনক’ রাতগুলোর একটির স্বাক্ষী হয়েছে এক ম্যাচে। ইউরোপা লিগে জার্মান ক্লাব আইনট্রাখ্ট ফ্রাঙ্কফুর্টের কাছে কোয়ার্টার ফাইনালের দুই লেগ মিলিয়ে ২-৩ গোলে হারে স্প্যানিশ জায়ান্টরা। অবশ্য হার-জিত তো ম্যাচে থাকবেই , তাতে লজ্জার কি হলো?
সেই দুঃস্বপ্নের রাতে ফ্রাঙ্কফুর্টের ৩০ হাজার সমর্থক ক্যাম্প ন্যু’কে নিজেদের মাঠ বানিয়ে ফেলেছিল। বার্সার অনেক সমর্থক ওই ম্যাচে নিজেদের টিকিট বেশি দামে ফ্রাঙ্কফুর্ট সমর্থকদের কাছে বেচে দেয়। সুযোগটি কাজে লাগিয়ে হাজার হাজার জার্মান সমর্থক বার্সেলোনায় ভিড় করে এবং টিকিটের এই ‘কালোবাজারি’ পরিস্থিতি কাজে লাগিয়ে ক্যাম্প ন্যু’এ ঢুকে পড়তে সক্ষম হয়। পুরো গ্যালারি থেকে সাদা ঢেউ যেন আছড়ে পড়ছিল। ফ্রাঙ্কফুর্ট সমর্থকদের সাদা জার্সি আর উল্লাস ধ্বনিতে মনে হচ্ছিল বুঝি কোনো অ্যাওয়ে ম্যাচ খেলছে বার্সা। সেই ঘটনা বার্সার খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও ক্লাব কর্তাদের মনে গভীর দাগ কেটেছিল।
প্রায় তিন বছর আট মাস পর আবার সেই ফ্রাঙ্কফুর্টের মুখোমুখি হচ্ছে বার্সেলোনা। আজও ঘরের মাঠে জার্মান ক্লাবটিকে আতিয়েতা দেবে তারা। তবে এবার আর একই ভুলের পুনরাবৃত্তি হতে দিবে না পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ীরা। বুন্দেসলিগার ক্লাবটির সমর্থকদের জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যাক আসন বরাদ্দ থাকবে।
আরও পড়ুন
| বিশ্বকাপে নতুন নিয়ম, ম্যাচে থাকবে তিন ধাপের বিরতি |
|
দারুণ ছন্দ নিয়েই ফ্রাঙ্কফুর্টের বিপক্ষে মাঠে নামছে বার্সা। সবশেষ তিন ম্যাচে দাপট দেখিয়ে জিতেছে হান্সি ফ্লিকের দল। এই তিন ম্যাচে প্রতিপক্ষের জালে আট গোল দিয়েছে রবার্ট লেভানডফস্কি-লামিনে ইয়ামালরা। লা লিগায় পয়েন্ট টেবিলে দুইয়ে থাকা রিয়াল মাদ্রিদ থেকে চার পয়েন্ট বেশি নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে তারা।
অবশ্য চলতি মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন্স লিগে মোটেও সুবিধা করতে পারছে না বার্সা। পাঁচ ম্যাচের দুটিতে জয়ের বিপরীতে হেরেছে সমান দুটিতে ড্র হয়েছে অন্যটি। সবশেষ স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে চেলসির কাছে বিধ্বস্ত হয় তারা। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সরাসরি শেষ ষোলো নিশ্চিত করতে হলে ফ্রাঙ্কফুর্টের বিপক্ষে জয়ের বিকল্প নেই বার্সার।
২০২৫-২৬ মৌসুমে ছন্দে নেই ফ্রাঙ্কফুর্ট। বুন্দেসলিগায় ১৩ ম্যাচের ছয়টিতে জিতে ২১ পয়েন্ট নিয়ে সাত নম্বরে তারা। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের চলতি আসরে কেবল একটি ম্যাচে জয় পেয়েছে ডিনো টপমোলারের দল।
ফ্রাঙ্কফুর্টের রক্ষণভাগ এই মৌসুমে একেবারেই ভঙ্গুর। এই মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ২০ ম্যাচে তারা হজম করেছে ৪৪ গোল। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে তাদের অবস্থা আরও শোচনীয়—আতলেটিতো মাদ্রিদ ও লিভারপুলের কাছে দু’বার ৫-১ ব্যবধানে হার, আটালান্তার কাছে ঘরের মাঠে ৩-০ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছে তারা। নিজেদের সবশেষ ম্যাচে বুন্দেসলিগায় আরবি লাইপজিগের কাছে ৬-০ গোলে হেরে রীতিমতো ধংসস্তুপে পরিণত হয়েছে।
প্রতিপক্ষের দূর্বলতার বিপরীতে নিজেরা দারুণ ছন্দে থাকলেও সতর্ক বার্সা কোচ ফ্লিক। ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, ‘চ্যাম্পিয়ন্স লিগ একটি আলাদা প্রতিযোগিতা, এবং আগের ফলাফল এখানে প্রাসঙ্গিক নয়। ফ্রাঙ্কফুর্ট একটি শক্তিশালী দল, তরুণ ও গতিশীল, এবং বিভিন্ন সিস্টেমে মানিয়ে নিতে সক্ষম। আমরা তিনটি পয়েন্ট নিশ্চিত করার জন্য সর্বোচ্চ স্তরে খেলার চেষ্টা করব। যদিও তাদের শেষ ম্যাচ সেরা ছিল না, আমি তাদের বিপক্ষে সম্ভাব্য বিপদের ব্যাপারে সচেতন।’

আগামী বছরের বিশ্বকাপে নতুন নিয়ম চালু করছে ফিফা। গরমের কথা বিবেচনায় রেখে সব ম্যাচে পানি পানের জন্য প্রথমার্ধের বিরতি ছাড়াও দুই অর্ধে দেওয়া হবে আরও দুটি বিরতি।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই খবর জানিয়েছে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্তা সংস্থা ফিফা। এই নিয়ম অনুযায়ী, দুই অর্ধেই ২২ মিনিট খেলা হওয়ার পর ৩ মিনিটের পানি পানের বিরতি ডাকবেন ম্যাচ রেফারি।
মাঠে গরম মোকাবিলার জন্য আগেও ছিল পানি পানের 'কুলিং ব্রেক' নিয়ম। তবে সেটির জন্য শর্ত ছিল, ম্যাচ শুরুর সময় তাপমাত্রা ৩১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হলেই কেবল প্রতি অর্ধের ৩০ মিনিট পর দেওয়া হতো কুলিং ব্রেক।
নতুন নিয়মে ম্যাচের আবহ যেমনই হোক, প্রতি অর্ধে ২২ মিনিট পরই ডাকা হবে পানি পানের বিরতি। বিশ্বকাপের প্রধান টুর্নামেন্ট অফিসার মানোলো জুবিরিয়া জানিয়েছেন, ২০ বা ২১ মিনিটে চোটজনিত বিরতি এলে সেটি বিবেচনায় এনে আগেও বিরতি ডাকতে পারবেন ম্যাচ অফিসিয়ালরা।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, মেক্সিকোতে আগামী বছরের জুন-জুলাইয়ে হবে বিশ্বকাপের নতুন আসর। অনেকের ধারণা, বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটিই হবে সবচেয়ে উষ্ণ আসর। তাই আগেভাগেই পানি পানের বিরতির নিয়মের ঘোষণা দিয়ে রাখল ফিফা।

বিশ্বকাপের প্রথম সংস্করণের চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ে। ১৯৩০ সালে প্রথমবার আয়োজিত টুর্নামেন্টের স্বাগতিকও ছিল ল্যাটিন আমেরিকার এই দেশ। ১৯৫০ সালে ব্রাজিলে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় উরুগুয়ে। এরপর আর এই সোনালী ট্রফি ছোঁয়া হয়নি তাদের। কিন্তু দু’বার বিশ্বকাপ জিতেও কেন চার তারকা সংবলিত জার্সি গায়ে মাঠে নামে উরুগুয়ে?
সাধারণত বিশ্বকাপ জয়ীরা তাদের শিরোপার সংখ্যা প্রদর্শন করে জার্সির ওপরে তারকার মাধ্যমে। যেমন, এই টুর্নামেন্টের সবচেয়ে সফল দল ব্রাজিলের জার্সিতে পাঁচটি আছে তারা রয়েছে, আর ইতালি ও জার্মানির জার্সিতে আছে চারটি করে তারা।
কিন্তু লা সেলেস্তে কিংবা উরুগুয়ের জাতীয় দল—তাদের জার্সিতে চারটি তারা ব্যবহার করে, যদিও ইতিহাসে তারা কেবল দু’বার বিশ্ব জয় করেছে।
দুই বার বিশ্বকাপ জয় ছাড়াও উরুগুয়ে ১৯২৪ এবং ১৯২৮ সালের দুটি অলিম্পিক খেতাবও জিতেছিল। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই অলিম্পিক জয় কি জার্সিতে তারকা হিসেবে প্রদর্শন করার সুযোগ আছে?
এখানেই কার্যকর হয় আনুষ্ঠানিক অলিম্পিক নিয়ম। ১৯২৪ সালের প্যারিস অলিম্পিকের আগে কোনো পেশাদার খেলোয়াড় অংশগ্রহণ করতে পারত না। কিন্তু ১৯২৮ সালের আমস্টারডাম অলিম্পিকের পর একটি নতুন নিয়ম চালু করা হয়, যেখানে কেবল ২৩ বছরের নিচে বয়সের খেলোয়াড়রা অংশগ্রহণ করতে পারবে।
এই কারণে, ১৯২৪ ও ১৯২৮ সালের অলিম্পিক খেলা একমাত্র ব্যতিক্রম হিসেবে গণ্য করা হয় যা পেশাদার খেলোয়াড় সংক্রান্ত নিয়মে হিসেবে ধরা হয়। তখন বিশ্বকাপও শুরু হয়নি। ওই দুই অলিম্পিক আয়োজন করা হয়েছিল ফিফার অধীনেই। তাতে ফিফাও উরুগুয়েকে চার তারকা ব্যবহারের অনুমতি দেয়।
আরও পড়ুন
| গুরুতর মানসিক জটিলতায় বার্সা ডিফেন্ডার, ছাড়তে পারেন ক্লাবও |
|
অবশ্য ২০১০ সালে ফিফা একটি নতুন নিয়ম চালু করে, যেখানে বলা হয় কেবলমাত্র আসল বিশ্বকাপ জিতলেই কোনো জাতীয় দল তাদের জার্সিতে তারকা খোদাই করতে পারবে। উরুগুয়ের ক্ষেত্রে এটি কেবল দুটি জয়।
এখানেই উরুগুয়ে ফুটবল ফেডারেশন ফিফাকে ‘বুদ্ধিদীপ্তভাবে’ পাশ কাটিয়েছে। তারা চারটি তারকা আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের কোট অব আর্মস-এর অংশ হিসেবে উপস্থাপন করেছে। অর্থাৎ দুটি অলিম্পিক স্বর্ণপদক ও উরুগুয়ের ফুটবল ফেডারেশনের ঐতিহ্য ও খেতাবের প্রতিক হিসেবে চার তারা রাখার কথা বলে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
এ নিয়ে অনেক বিতর্কের মুখেও পড়তে হয়েছে উরুগুয়েকে। ২০২২ বিশ্বকাপের আগে উরুগুয়ে জাতীয় ফুটবল দলের স্পন্সর ‘পুমা’ জার্সির ওপরে থাকা চারটি তারা সরানোর কথা বলে। ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা নাকি এমনটাই নির্দেশ দেয়।
তবে উরুগুয়ের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন জার্সি থেকে চার তারা সরাতে অস্বীকৃতি জানায়। এইউএফ জানায়, ফিফা উরুগুয়ের ফুটবল ঐতিহ্যে নিয়ে প্রশ্ন তোলায় অবাক হয়েছে তারা এবং তাদের অবস্থান ‘খুবই স্পষ্ট’ বলে পুনরায় উল্লেখ করে। এমনকি চার তারকার বৈধতা প্রমাণ করার জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত আছে বলে জানায় এইউএফের পক্ষ থেকে।