
সপ্তাহ খানেক আগের ঘটনা, জুড বেলিংহাম তার ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে একটা ছবি শেয়ার করেছিলেন। যেখানে তার সঙ্গে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও কিলিয়ান এমবাপে ছিলেন। ঠিক তার একদিন বাদে রদ্রিগো তার ইনস্টাগ্রামে একটা ছবি শেয়ার করেন যেখানে এমবাপে, ভিনিসিয়ুস থাকলেও ছিলেন না বেলিংহাম। এরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হৈচৈ পড়ে গিয়েছিল। গুঞ্জন উঠেছিল চারজনের মাঝে সম্পর্ক ভাঙার। তবে সেটা উড়িয়ে দিয়েছেন ইংলিশ মিডফিল্ডার। জানিয়েছেন, তাদের মাঝে সব ঠিকঠাকই আছে।
গত মৌসুমে বেলিংহাম, রদ্রিগো, ভিনিসিয়ুস ছিলেন রিয়ালের মূল ত্রয়ী। এবার সেখানে যুক্ত হয়েছেন এমবাপে। ফরাসি তারকার আগমনে রদ্রিগো কিছুটা আড়ালে পড়ে যাচ্ছিলেন বলেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ কিছু কথা চাউর হয়েছিল। তবে স্টুর্টগার্টের সাথে ম্যাচ শেষে সেটি যে শুধুই গুঞ্জন, তাই মনে করিয়ে দিয়েছেন বেলিংহাম।
বেলিংহাম বলেছেন, সবই স্রেফ উড়ো খবর। “সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখলাম চারজনের মধ্যে আমি নেই, কিংবা রদ্রিগো নেই। তারা একটা বাজে পরিস্থিতি তৈরি করতে চেয়েছে। রদ্রিগোর সাথে আমার সম্পর্ক ঠিকঠাক আছে, আমরা লম্বা সময় ধরেই একসাথে আছি। মাঠের বাইরেও আমরা সবাই দারুণ বন্ধু, সবাই একসাথে খেলতে পছন্দ করি। আজকে মাঠেই আমরা তার প্রমাণ রেখেছি।”
এরপর বেলিংহাম কথা বলেছেন ম্যাচ নিয়ে। স্টুর্টগার্টের সাথে ৩-১ গোলে জয় পেলেও দলের যে আরও উন্নতি করতে হবে সেটাও জানিয়েছেন তিনি। “আমাদের এখনো অনেক কিছু উন্নতি করতে হবে। নিজেদের সেরাটা দিতে আমাদের আরও কিছু সময় দরকার। আমরা ধীরে ধীরে উন্নতি করছি। এখন আমাদের আরও ধারাবাহিক হতে হবে।”
No posts available.
১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৩৫ এম
১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:২৯ পিএম
১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৯:৩৪ পিএম

লিসবনে রিয়াল মাদ্রিদ ও বেনফিকার মধ্যকার উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে মাঠের ফুটবল লড়াই ছাপিয়ে বড় হয়ে দাঁড়িয়ে বর্ণবাদের অভিযোগ। ইউয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে রিয়াল মাদ্রিদের ১-০ গোলের জয়ের ম্যাচে বেনফিকার জানলুকি প্রেসতিয়ান্নি ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের মধ্যে ঘটে যাওয়া ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে।
পর্তুগালের রাজধানীতে মঙ্গলবার প্লে-অফের প্রথম লেগে রিয়াল মাদ্রিদের জয়সূচক গোলটি করেন ভিনিসিয়ুস। দ্বিতীয়ার্ধের পঞ্চম মিনিটে দুর্দান্ত এক বাঁকানো শটে বল জালে জড়িয়ে দলকে এগিয়ে দেন ব্রাজিলিয়ান তারকা।
গোলের পরপরই ঘটে বিতর্কিত ঘটনা। টেলিভিশন ফুটেজে দেখা যায়, বেনফিকার আর্জেন্টাইন উইঙ্গার প্রেসতিয়ান্নি জার্সি দিয়ে মুখ ঢেকে ভিনিসিয়ুসের দিকে কিছু একটা বলেন- যা রিয়াল খেলোয়াড়দের মতে ছিল বর্ণবাদী মন্তব্য।
আরও পড়ুন
| ঘুরে দাঁড়ানো জয়ে আশা বাঁচিয়ে রাখল পিএসজি |
|
ঘটনার পর রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ে ফিফার অ্যান্টি-রেসিজম প্রোটোকল চালু করে ‘টাইম আউট’ ঘোষণা দেন। ফলে খেলা বন্ধ থাকে প্রায় ১১ মিনিট। ম্যাচ পুনরায় শুরু হলে পরিবেশ আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বল পেলে ভিনিসিয়ুস ও এমবাপ্পেকে দুয়ো ধ্বনিতে ভাসান দর্শকেরা।
ম্যাচের টিভি ফুটেজে দেখা যায়, প্রেসতিয়ান্নির সামনে দাঁড়িয়ে ‘ব্লাডি রেসিস্ট (বর্ণবাদী)’ বলে চিৎকার করছেন ক্ষুব্ধ এমবাপে। ম্যাচ শেষে স্পষ্ট ভাষায় নিজের অবস্থান জানান তিনি।
রিয়াল মাদ্রিদের এই ফরোয়ার্ড বলেন, ‘আজ রাতে খেলাধুলার গুরুত্ব আর নেই। এটা চ্যাম্পিয়নস লিগ- পৃথিবীর সবচেয়ে বড় প্রতিযোগিতা। এখানে যা ঘটেছে, তা উপেক্ষা করা যায় না। যখন কেউ এমন আচরণ করে, তখন আমাদের কথা বলতেই হয়।’
এমবাপে আরও বলেন, ‘বেনফিকা ক্লাব, তাদের সমর্থক বা কোচের বিরুদ্ধে আমার কোনো অভিযোগ নেই। কিন্তু ইউরোপের শীর্ষ প্রতিযোগিতায় এমন আচরণ করা একজন খেলোয়াড়ের খেলার অধিকার নেই। সে চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলার যোগ্য নয়- এটাই আমার মত।’
রিয়ালের মিডফিল্ডার অহেলিয়া চুয়ামেনিও জানান, তিনি নিজ কানে একাধিকবার ভিনিসিয়ুসের উদ্দেশে বর্ণবাদী শব্দ ব্যবহার করতে শুনেছেন। এমবাপ্পেও একই দাবি করে বলেন, তিনি মাঠ ছাড়তে প্রস্তুত ছিলেন। তবে তাকে খেলা চালিয়ে যেতে রাজি করান ভিনিসিয়ুস।
এই ঘটনার পর প্রেসতিয়ান্নি কোনো মন্তব্য করেননি। বেনফিকা কোচ হোসে মরিনিয়ো জানান, তার খেলোয়াড় অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘ভিনিসিয়ুস এক কথা বলছে, প্রেসতিয়ান্নি আরেক কথা বলছে।’
আরও পড়ুন
| ঘটনাবহুল ম্যাচে ভিনিসিয়ুসের গোলে জিতল রিয়াল |
|
পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ উগরে দেন ভিনিসিয়ুস। তিনি লেখেন, ‘বর্ণবাদীরা আসলে কাপুরুষ। নিজের দুর্বলতা ঢাকতে তারা মুখ ঢাকে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে তাদের শাস্তি দেওয়ার দায়িত্ব যাদের, তারাই অনেক সময় নীরব থাকে।’
ভিনিসিয়ুস আরও জানান, গোল উদ্যাপন করায় তিনি হলুদ কার্ড পেয়েছেন, অথচ বর্ণবাদের ঘটনায় নেওয়া প্রোটোকল ছিল অকার্যকর। তাই তিনি লিখেন, ‘এই ধরনের ঘটনা আমার জীবনে নতুন নয়।’
উল্লেখ্য, ২০২২ সাল থেকে স্পেনে ভিনিসিয়ুসকে লক্ষ্য করে বর্ণবাদী আচরণের ঘটনায় ১৮টি আইনি অভিযোগ দায়ের হয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতেও কোপা দেল রে ম্যাচের আগে একই ধরনের ঘটনার মুখে পড়েছিলেন তিনি।

ম্যাচের প্রথম মিনিট পূর্ণ হওয়ার আগেই গোল হজম। নিজেদের গুছিয়ে নেওয়ার আগে আরও একটি গোল খেয়ে রীতিমতো কোণঠাসাই হয়ে গেল পিএসজি। তবে সেখান থেকে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়াল তারা। তিনটি গোল করে জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ল ফরাসি চ্যাম্পিয়নরা।
ইউয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে প্লে-অফের প্রথম লেগে মোনাকোকে ৩-২ গোলে হারিয়েছে পিএসজি। মঙ্গলবার রাতে প্রতিপক্ষের মাঠে দলের জয়ে দুটি গোল করেন দেজিরে দুয়ে। অন্য গোল আসে আশরাফ হাকিমির পা থেকে।
শুরুতে দুই গোল হজম করলেও ঘুরে দাঁড়িয়ে ম্যাচের বাকি সময় দাপট দেখিয়েই খেলে পিএসজি। প্রায় ৭৩ শতাংশ সময় তাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল বল। গোলের জন্য মোট ২৯টি শট করে লুইস এনরিকের শিষ্যরা। এর মধ্যে ১২টি ছিল লক্ষ্য বরাবর।
আরও পড়ুন
| ঘটনাবহুল ম্যাচে ভিনিসিয়ুসের গোলে জিতল রিয়াল |
|
তবে ম্যাচের ৫৫ সেকেন্ডে প্রথম গোল হজম করে পিএসজিই। কিছু বুঝে ওঠার আগেই পিএসজির ভুলে বল পেয়ে তাদের জাল কাঁপিয়ে দেন ফোলারিন বালাগুন। ১৮তম মিনিটে ফোলারিনের দ্বিতীয় গোলে চাপে পড়ে যায় পিএসজি।
এর কিছুক্ষণ পর পায়ের চোটে মাঠ ছেড়ে যান ওসমান দেম্বেলে। তার বদলি হিসেবে নেমে দুই মিনিটের মধ্যে ম্যাচের ২৯ মিনিটে এক গোল শোধ করেন দেজিরে দুয়ে। পরে ৪১ মিনিটে হাকিমির গোলে সমতা ফেরায় ফরাসি জায়ান্টরা।
ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন আলেকসান্দ্র গোলোভিন। দশ জনের দল নিয়ে আর পিএসজির সঙ্গে লড়াইয়ে কুলিয়ে উঠতে পারেনি মোনাকো। ৬৭ মিনিটে দারুণ ফিনিশিংয়ে করা দুয়ের গোলে নিশ্চিত হয় পিএসজির জয়।
এছাড়া দিনের অন্য ম্যাচে গ্যালাতাসারায়ের কাছে ৫-২ গোলে হেরে বিদায়ঘণ্টা প্রায় বেজেই গেছে জুভেন্টাসের। আগামী বুধবার রাতে দ্বিতীয় লেগের ম্যাচে মুখোমুখি হবে তারা।

শুরু থেকেই চলল আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ। তবে গোল হলো না একটির বেশি। সেই গোলের পরই আবার শুরু হলো অন্য লড়াই। মাঠের ভেতরে-বাইরে মিলিয়ে দেখা গেল অন্যরকম এক পরিস্থিতি। সবকিছু পাশ কাটিয়ে একমাত্র গোলে জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ল রিয়াল মাদ্রিদ।
ইউয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের প্লে-অফের প্রথম লেগে বেনফিকাকে ১-০ গোলে হারিয়েছে স্প্যানিশ জায়ান্ট ক্লাবটি। প্রতিপক্ষের মাঠে মঙ্গলবার রাতের ম্যাচে জয়সূচক গোলটি করেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।
প্রথম পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে বেনফিকার কাছে ৪-২ গোলে হেরেই সরাসরি শেষ ষোলোতে যাওয়ার টিকেট হাতছাড়া করেছিল রিয়াল। মাসখানেকের ব্যবধানে সেই পরাজয়ের কিছুটা হলেও বদলা নিতে পারল আলভারো আরবেলোয়ার দল।
ম্যাচে দাপট দেখিয়েই খেলে রিয়াল। প্রায় ৫৬ শতাংশ সময় বলের দখল তারা রাখে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে। গোলের জন্য করে মোট ১৫টি শট। এর মধ্যে ৮টি ছিল লক্ষ্য বরাবর। তবে গোল হয়নি ১টির বেশি। বিপরীতে ৯টি শট করে ৩টি লক্ষ্য বরাবর রাখতে পারে বেনফিকা।
প্রথমার্ধে রিয়ালের বড় সুযোগ আসে ১৯ মিনিটে। কিন্তু অল্পের জন্য পোস্ট ঘেঁষে চলে যায় ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের শট। এর ৫ মিনিট পর দারুণ ক্ষিপ্রতায় বেনফিকার জোরাল শট ঠেকিয়ে রিয়ালের জাল অক্ষত রাখেন থিবো কর্তোয়া।
পরে ৪০ মিনিটে আবারও দারুণ সুযোগ পায় রিয়াল। ট্রেন্ট অ্যালেকজ্যান্ডার-আর্নল্ডের এগিয়ে দেওয়া বলে খুব কাছ থেকে পা ছোঁয়াতে পারেননি কিলিয়ান এমবাপে। বিরতিতে যাওয়ার আগে আরও দুটি সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি ফরাসি ফরোয়ার্ড।
তবে দ্বিতীয়ার্ধে ফিরে ম্যাচের একমাত্র গোলের উৎস এমবাপেই। ম্যাচের ৫০ মিনিটে তার পাস ধরে ডি-বক্সে ঢুকে জোরাল শটে বল জালে জড়ান ভিনিসিয়ুস। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এটি তার ৩১তম গোল। ব্রাজিলিয়ান ফুটবলারদের মধ্যে তার চেয়ে বেশি গোল শুধু নেইমারের (৪৩)।
গোলের ডেডলক ভেঙে আপত্তিকর উদযাপন করায় হলুদ কার্ড দেখেন ভিনিসিয়ুস। যা মেনে নিতে না পেরে আপত্তি করতে থাকেন তিনি। পরে খেলা শুরুর ঠিক আগে বেনফিকার জানলুকি প্রেসতিয়ান্নির বিরুদ্ধে কিছু একটা অভিযোগ করেন ব্রাজিল ফরোয়ার্ড।
তাৎক্ষণিকভাবে বোঝা যাচ্ছিল না, কী নিয়ে ভিনিসিয়ুসের অভিযোগ। তবে ম্যাচ শেষে ফেদে ভালভার্দে বলেছেন, ভিনিসিয়ুসকে 'বানর' বলে ডেকেছেন প্রেসতিয়ান্নি। যা সরাসরি বর্ণবাদের শামিল। ওই ঘটনায় প্রায় ১০ মিনিট বন্ধ থাকে খেলা।
এরপর আবার খেলা শুরু হলে ৭৯ মিনিটে সুযোগ পান ভিনিসিয়ুস। তবে সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। এর ৬ মিনিট পর প্রতিপক্ষ ফুটবলারকে ফাউল করেন তিনি। ফলে ফ্রি-কিক পেয়ে যায় বেনফিকা।
তবে বেনফিকা কোচ হোসে মরিনিয়ো বারবার কার্ডের জন্য আওয়াজ তুলতে থাকেন। যা পছন্দ হয়নি রেফারির। সাইডলাইনে ম্যাচ অফিসিয়ালের কাছে আপত্তি জানাতে থাকেন ফরাসি এই কোচ। যার ফলে দুই হলুড কার্ড দেখে বহিষ্কৃত হন মরিনিয়ো।
পরে আর তেমন কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি বেনফিকা। ঘরের মাঠে এক গোলের হারে মাঠ ছাড়ে তারা। আগামী বুধবার রিয়ালের মাঠে ফিরতি লেগে মুখোমুখি হবে দুই দল।
এছাড়া চ্যাম্পিয়ন্স লিগের প্লে-অফে দিনের অন্য ম্যাচে নিজেদের ঘরের মাঠে আটলান্টাকে ২-০ গোলে হারায় বরুশিয়া ডর্টমুন্ড। দলের হয়ে গোল দুইটি সের্হু গিরাসি ও ম্যাক্সিমিলান বিয়ের। আগামী বুধবার ফিরতি লেগে খেলবে দুই দল।

আর্সেনালের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ বাড়ালেন বুকায়ো সাকা। ২০৩১ সাল পর্যন্ত ইংলিশ এই ক্লাবটিতে খেলবেন তারকা এই উইঙ্গার। বিবিসি স্পোর্টসের একটি প্রতিবেদন সূত্রের বরাতে জানিয়েছে নতুন এই চুক্তিতে সপ্তাহে ৩ লাখ পাউন্ড বেতন পাবেন সাকা, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৫ কোটি টাকা। গানারদের স্কোয়াডে সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত খেলোয়াড় হতে যাচ্ছেন তিনি।
সাকার সঙ্গে নতুন চুক্তি নিয়ে প্রায় এক বছর ধরে আলোচনা চলছিল আর্সেনালের। গত জানুয়ারিতেই এই উইঙ্গার মৌখিকভাবে আর্সেনালেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত জানান।
২০১৮ সালে জুলাইয়ে আর্সেনালের সিনিয়র দলের অভিষেক হওয়া সাকার ২০২৩ সালে চুক্তি নবায়ন করেছিলেন। ওই চক্তি শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৭ সালে। তবে নতুন চুক্তির মাধ্যমে ২৪ বছর বয়সী এই তারকা নিজের ক্যারিয়ারের সোনালি সময় ‘গানারদের’ জন্যই উৎসর্গ করলেন।
২০২০ সালের পর প্রথম শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে চারটি প্রতিযোগিতায় লড়াই চালিয়ে যাওয়া আর্সেনালের জন্য এটি বড় সুখবরই বটে। চলতি মৌসুমে সবধরনের শিরোপার দৌড়ে থাকা মিকেল আরতেতার দল মূল খেলোয়াড়দের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে বেঁধে রাখার কৌশল নিয়েছে। এর আগে গত গ্রীষ্মে উইলিয়াম সালিবা, গ্যাব্রিয়েল মাগালহেইস, ইথান নুয়ানেরি এবং মাইলিস লুইস-স্ক্যালি নতুন চুক্তিতে সই করেন।
চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৩৩ ম্যাচে ৭ গোল করেছেন সাকা। আর ইংলিশ ক্লাবটির হয়ে সব মিলিয়ে ২৯৬ ম্যাচে করেছেন ৭৭ গোল।

দারুণ ছন্দে আছেন অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া। ৩৮ বছর বয়সেও গোল করে কিংবা করিয়ে দলের জয়ে অবদান রাখছেন। শৈশবের ক্লাব রোসারিও সেন্ট্রালের হয়ে খেলা সাবেক আলেবিসেলেস্তার দুর্দান্ত এই ছন্দই উসকে দিচ্ছে একটি প্রশ্ন। আসন্ন বিশ্বকাপে কী দেখা যাবে ডি মারিয়াকে? অবসর ভেঙে কী আবার আকাশী-সাদা জার্সি গায়ে চড়িয়ে মাঠ মাতাবেন এই কিংবদন্তি।
আর্জেন্টিনার লিগ লিগা প্রফেশনালে গতকাল বারাকা সেন্টালের বিপক্ষে ২-০ গোলে জেতা ম্যাচে একবার বল জালে পাঠান ডি মারিয়া। রোসারিওর আগের দুটি ম্যাচেও সতীর্থদের দিয়ে দুটি গোলও করিয়েছেন ‘এল ফিদিও’। এই ক্লাবের ইতিহাসে ৩৮ বছরের পর গোল করা মাত্র চারজন খেলোয়াড়ের মধ্যে একজন তিনি। ডি মারিয়ার এই পারফরম্যান্সই বলে দিচ্ছে এখনো ফুরিয়ে যাননি তিনি। তাইতো সমর্থক থেকে শুরু করে আর্জেন্টিনার সাবেক ফুটবলাররা পর্যন্ত তাঁর ফিরে আসার দিকে তাকিয়ে আছেন।
যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার তিন তারকা জার্সিতে দেখা যাবে ডি মারিয়াকে, এমনটাই বিশ্বাস করেন আলবিসেলেস্তাদের সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন গোলকিপার উভালদো মাতিলদা ফিল্লোল। ১৯৭৮ সালে আর্জেন্টিনার প্রথম বিশ্বকাপ জয়ী দলের এই সদস্য সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও শেয়ার করেন। যেখানে তিনি লিওনেল স্কালোনির দলে ডি মারিয়ার ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেন।
আর্জেন্টিনার সাবেক বিশ্বজয়ী গোলকিপার ফিল্লোল বলেন, ‘আমি শুনেছি কোচিং স্টাফ এবং কিছু খেলোয়াড় তাকে জাতীয় দলে ফিরতে উৎসাহিত করছেন। এখন যা দেখছি, তিনি অবশ্যই খেলতে আসবেন, এতে কোনো সন্দেহ নেই।
ফিল্লোল আরও বলেন, ‘আমার ধারণা তিনি দলে থাকবেন। আমি মনে করি তারা তাকে পরবর্তী বিশ্বকাপে খেলতে রাজি করাতে সক্ষম হবে।’
আর্জেন্টিনার সাবেক গোলকিপারের ওই পোস্টে ফুটবল সমর্থকরা নিজ নিজ মন্তব্য জানান। কেউ বলেন যে, আলবিসেলেস্তের সঙ্গে তার ক্যারিয়ারের সমাপ্তি ছিল সেরা উপায়, আবার অনেকে ফিলোলের সঙ্গে পুরোপুরি একমত হন। একজন লিখেছেন, ‘খুবই সত্য, পাটো। আশা করি তাই হবে।’ আরেকজনের মন্তব্য ছিল এমন, ‘যদি আমরা আবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হতে চাই, তাকে অবশ্যই যেতে হবে, কোনো শর্ত ছাড়াই।’
অন্য এক সমথর্ক চান ডি মারিয়া অন্তত দলকে সঙ্গ দিক। নিয়মতি একাদশে না খেললেও যেন লিওনেল মেসিদের সঙ্গে দেখা যায় তাকে।
‘এল পাটো’ নামে পরিচিত আর্জেন্টিনার সাবেক গোলকিপার মেসির মেজর লিগ সকারের সঙ্গে আর্জেন্টিনার লিগের তুলনা করে ডি মারিয়ার পারফরম্যান্সের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাঁর মতে মেসির এমএলএসের তুলনায় আর্জেন্টিনার লিগ বেশি প্রতিদ্বন্দ্বীতাপূর্ণ, আর এমন লিগেও নিয়মিত ভালো করছে ডি মারিয়া। তিনি বলেন,
‘আমি মনে করি ডি মারিয়া ভালো করছে। লিও মেসির সঙ্গে তুলনা করলে, লিও এমন একটি লিগে খেলছে যা খুব একটি প্রতিযোগিতামূলক নয়, আর আর্জেন্টিনার ফুটবল অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক। এখানে এমনি এমনি কিছুই পাওয়া যায়না, কেউ কেউকে সহজে জায়গা ছেড়ে দেয়না, , এবং সে ভালো করছে। তার গতিশীলতা আছে, ক্ষুধা আছে, এবং গোল করছে।’
২০২৪ সালের জুলাইয়ে জাতীয় দল থেকে অবসর নেন ডি মারিয়া। আর্জেন্টিনার হয়ে ১৪৫ ম্যাচে ৩১ গোল করেছেন ৩৮ বছর বয়সী কিংবদন্তি। জিতেছেন কোপা আমেরিকার ও বিশ্বকাপ, দুই টুর্নামেন্টের ফাইনালেই করেছেন গোল।