
বাংলাদেশ ফুটবলে প্রথম বছর পূর্ণ করলেন হামজা চৌধুরী। গত বছরের মার্চে প্রথমবার লাল-সবুজ জার্সি পরেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত ইংল্যান্ড প্রবাসী ফুটবলার। এসময় দেশের ১০ ম্যাচের ৯টিতেই খেলেছেন তিনি। গোল করেছেন ৪টি।
প্রিমিয়ার লিগের লেস্টার সিটির মতো ক্লাব থেকে বাংলাদেশ ফুটবলে আবির্ভাব—বিষয়টি খুব সহজ মনে হলেও কম হ্যাপা পোহাতে হয়নি হামজাকে। বরং ইংলিশ ফুটবলের উন্নত পরিবেশে বেড়ে ওঠা একজন ফুটবলারের বাংলাদেশের জার্সিতে খেলার বিষয়টি অলীক শোনাত এক সময়। তার মধ্যে পাসপোর্ট জটিলতা, ক্লাবের অনুমতি, পরিবারের সম্মতি—সবমিলিয়ে বন্ধুর পথ পাড়ি দিতে হয়েছিল ২৮ বর্ষী হামজা চৌধুরীর।
আরও পড়ুন
| রোসেনিওরের সিদ্ধান্তে কপাল পুড়ছে এনজো |
|
বাংলাদেশ ফুটবলে এক বসন্ত কাটানোর পর হামজা যদিও জানিয়েছেন, তাঁর জীবনের সেরা সিদ্ধান্ত লাল-সবুজ জার্সিতে খেলা। সম্প্রতি লেস্টার সিটি ডিফেন্ডার বলেছেন,
‘শুরুতে অনেকে অনেক কথা বলেছিলেন। কিন্তু আজ পেছনে ফিরে তাকালে বুঝি, রক্তে মিশে থাকা মাটির জন্য খেলার সিদ্ধান্তটি কতটা সঠিক ছিল। গ্যালারি ভর্তি দর্শকের গর্জন আর ভালোবাসা আমাকে প্রতিবার মনে করিয়ে দেয়—আমি নিজের ঘরেই ফিরে এসেছি।’
ভারতের বিপক্ষে এশিয়ান কাপ কোয়ালিফায়ার ম্যাচে অভিষেকের পরের ম্যাচে ভুটানের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে প্রথম গোল পান হামজা। এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের পরের ম্যাচে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষেও অ্যাসিস্ট পান ইংল্যান্ড প্রবাসী এই ফুটবলার।
আরও পড়ুন
| তুমি খুবই কুৎসিত— মুসলিম দাবির পর বর্ণবিদ্বেষের শিকার ইয়ামাল (ভিডিও) |
|
এশিয়ান কাপের বাছাইয়ের ম্যাচে বাংলাদেশের তৃতীয় ম্যাচেও গোল পান হামজা। তবে ফিফা প্রীতি ম্যাচে নেপালের বিপক্ষে তাঁর নেওয়া পানেনকা শট ও বাইসাইকেল কিকে গোল বেশ আলোচনার জন্ম দেয়। সেই বাইসাইকেল কিকের বয়স চার মাস হলেও তা আরেকবার স্মরণ করাল আন্তর্জাতিক ফুটবলের নিয়ন্তা সংস্থা—ফিফা।
ফিফা বিশ্বকাপ ফেসবুক পেজে হামজার ছবি পোস্ট করে ক্যাপশনে লেখা হয় সিলেটি ফুয়া। রবিবার সন্ধ্যা নাগাদ সেই পোস্টে মাত্র দুই ঘণ্টায় রিয়্যাক্ট পড়ে ১ লাখ ৪০ হাজার। সাড়ে ৭ হাজার ভক্ত কমেন্ট করেন তাতে এবং পোস্টটি শেয়ার হয় ২ হাজার ৮শ।
No posts available.

একের পর এক আক্রমণ করেও ডেডলক ভাঙতে পারলেন না লামিন ইয়ামাল, মার্কাস রাশফোর্ড। অন্য পাশে ফ্রি কিক পেয়ে সেটিকেই গোলে পরিণত করলেন হুলিয়ান আলভারেজ। তার চমৎকার গোলে ন্যু ক্যাম্পে বার্সেলোনার বিপক্ষে প্রথমার্ধে এগিয়ে আতলেতিকো মাদ্রিদ।
ইউয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে প্রথম লেগের অন্য ম্যাচে পিএসজির সামনে ন্যুনতম লড়াইও করতে পারছে না লিভারপুল। ঘরের মাঠে দেজিরে দুয়ের গোলে প্রথমার্ধ শেষে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে পিএসজি।
পার্ক দে প্রিন্সেসে লিভারপুলকে তেমন কোনো সুযোগই দেয়নি পিএসজি। প্রথমার্ধে প্রায় ৭৫ শতাংশ সময় বলের দখল নিজেদের কাছে রাখে তারা। গোলের জন্য তারা করে মোট ৮টি শট। এর মধ্যে ৫টিই ছিল লক্ষ্য বরাবর। বিপরীতে প্রথমার্ধে লিভারপুলের সম্বল শুধু একটি লক্ষ্যভ্রষ্ট শট।
ম্যাচের ১২ মিনিটে ডি-বক্সের বাম পাশ থেকে প্রায় ১৫ গজ দূর থেকে বাঁকানো শটে বল জালে প্রবেশ করান দেজিরে দুয়ে। এরপর তারা ব্যবধান বাড়ানোর আরও চেষ্টা করে। তবে আর সাফল্য পাননি দুয়ে, ওসুমানে দেম্বেলে, হোয়াও নেভেসরা।
অন্য দিকে নিজেদের ঘরের মাঠে শুরুতে গুছিয়ে উঠতে কিছুটা সময় নেয় বার্সেলোনা। এর মাঝেই প্রথম ৪ মিনিটে দুটি শট করেন রাশফোর্ড। তবে দুটিই ছিল গোলরক্ষক বরাবর। পঞ্চম মিনিটে আতলেতিকোর হয়ে প্রথম শট নেন আলভারেজ। সেটি ঠেকিয়ে দেন বার্সার গোলরক্ষক।
ম্যাচের ১৮ মিনিটে জালের বল প্রবেশ করান রাশফোর্ড। কিন্তু আক্রমণের শুরুতে লামিন ইয়ামাল অফ সাইডে থাকায় বাতিল হয়ে যায় সেই গোল। পরে ম্যাচের ৩০ মিনিটে আবার চেষ্টা করেন রাশফোর্ড। কিন্তু আতলেতিকোর রক্ষণ ভাঙতে পারেননি।
দুই মিনিট পর জাদুকরী কারিকুরিতে ডি-বক্সের ভেতরে ঢুকে যান ইয়ামাল। কিন্তু তিনিও আতলেতিকোর রক্ষণ ভেদ করে বল জালে পাঠাতে পারেননি।
খেলার ধারার বিপরীতে ৪০ মিনিটের মাথায় পাল্টা আক্রমণে ওঠে আতলেতিকো। বল ধরার জন্য ছুটতে থাকা গুইলানো সিমেওনের পেছনের পায়ে লেগে যায় পাও কুবারসির শরীর। রেফারি প্রথমে হলুদ কার্ড দেখালেও, ভিএআরে সেটি বদলে সরাসরি লাল কার্ড দেন।
একইসঙ্গে বিপজ্জনক জায়গায় ফ্রি-কিক পেয়ে যায় আতলেতিকো। ডান পায়ের চমৎকার বাঁকানো শটে ওই ফ্রি-কিক থেকে গোল আদায় করে নেন আর্জেন্টাইন তারকা আলভারেজ। চলতি চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এটি তার নবম গোল।
অতিরিক্ত যোগ করা সময়ে বাম পাশ থেকে চেষ্টা করেন রবার্ট লেওয়ানডফস্কি। তবে তার শট ঠেকিয়ে দেন আতলেতিকো গোলরক্ষক হুয়ান মুসো। তাই শেষ পর্যন্ত পিছিয়ে থেকেই বিরতিতে যেতে হয় স্বাগতিক বার্সেলোনার।
অথচ প্রথমার্ধে মূলত দাপট ছিল কাতালান ক্লাবটির। ৪৫ মিনিটের মধ্যে ৫৫ শতাংশ সময় বলের দখল নিজেদের কাছে রেখেছে তারা। গোলের জন্য ৭টি শট করে ৫টিই ছিল লক্ষ্য বরাবর। কিন্তু জালে প্রবেশ করেনি একটিও। বিপরীতে ২টি শট লক্ষ্যে রেখে একটিতে গোল পেয়ে গেছে আতলেতিকো।

লুইস দিয়াসের গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর হ্যারি কেইনের নৈপুণ্য, শেষদিকে কিলিয়ান এমবাপের শোধ—সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে মঙ্গলবার রিয়াল মাদ্রিদ-বায়ার্ন মিউনিখ ম্যাচের গল্প এমনই। চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের ফার্স্ট লেগে ১-২ ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় ভিনসেন্ট কোম্পানির দল আপাতত স্বস্তিতে।
বাভারিয়ানদের স্বস্তিকর একটি উপলক্ষ্যের মূলে লুইস দিয়াস। লিভারপুলে থেকে গ্রীষ্মের দলবদলে বায়ার্ন মিউনিখে যোগ দেওয়া কলিম্বিয়ান উইঙ্গার যেন আগের ফর্মটাই ধরে রেখেছেন। চ্যাম্পিয়নস লিগে এখন পর্যন্ত ৬টি গোল উপহার দিয়েছেন তিনি। আর দিয়াস নিজেও মনে করেন অ্যানফিল্ডের ক্লাব ছেড়ে বায়ার্নে যোগ দেওয়াটা তার ক্যারিয়ারের অন্যতম সঠিক সিদ্ধান্ত।
প্রায় ৭৫ মিলিয়ন ইউরোতে বায়ার্নে যোগ দেন দিয়াস। ২৯ বছর বয়সী এই উইঙ্গার বাভারিয়ান ক্লাবটিতে প্রথম মৌসুমেই দারুণ ছাপ রেখেছেন। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৪০ ম্যাচে ৩৮টি গোলে সরাসরি অবদান রেখেছেন (২৩ গোল, ১৫ অ্যাসিস্ট)। ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগে এই মৌসুমে তার চেয়ে বেশি গোল অবদান রেখেছেন শুধু হ্যারি কেইন (৫৪), কিলিয়ান এমবাপে (৪৪), মাইকেল ওলিসে (৪১) ও আর্লিং হলান্ড (৪০)।
মৌসুমে সম্ভাব্য ট্রেবল জয়ের পথে বায়ার্ন। আর ভিনসেন্ট কোম্পানির দলে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তে বেশ সন্তুষ্ট দিয়াস। বুধবার ইএসপিএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “বায়ার্নে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তটি ছিল সঠিক। আমি খুবই খুশি এবং প্রতিটি ম্যাচ উপভোগ করছি। আমি নিজেকে দারুণ অনুভব করছি, ভালো ফর্মে আছি—যার অর্থ আমি দলকে সাহায্য করতে প্রস্তুত।’’
রিয়ালের বিপক্ষে ২০টি শট নেওয়া বায়ার্ন আরও এক-দুটি গোল করতে পারত বলে মনে করেন দিয়াস, “আমরা আগেই রিয়াল মাদ্রিদকে বিশ্লেষণ করেছিলাম। প্রথম গোলের মুভটি ঠিক আমাদের পরিকল্পনা অনুযায়ীই হয়েছে। খেলা যত এগিয়েছে, আমরা ততই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেছি, বেশি করে বল দখলে নিয়েছি এবং ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করেছি—এটাই আমরা করতে চাই।’’
ফল যা হয়েছে, তাতে অবশ্য নারাজ দিয়াস। তবে সতীর্থ এবং নিজের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট তিনি, “আমরা খুব খুশি, তবে কিছুটা আক্ষেপ রয়ে গেছে—আরও এক-দুটি গোল করতে পারতাম। খুব শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে আমরা দারুণ খেলেছি।”

২০২৫-২৬ মৌসুমে দু’বার করে লা লিগা ও কোপা দেল’রেতে মুখোমুখি হওয়ার পর এবার চ্যাম্পিয়নস লিগে আতলেতিকো মাদ্রিদের প্রতিপক্ষ হচ্ছে বার্সেলোনা। বুধবার ক্যাম্প ন্যুয়ে বাংলাদেশ সময় রাত একটায় চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের ফার্স্ট লেগে দিয়েগো সিমিওনের দলকে আতিথ্য দিচ্ছে বার্সেলোনা।
সব মিলিয়ে বার্সা তাদের শেষ চারটি ইউরোপীয় ম্যাচের মধ্যে আতলেতিকোর বিপক্ষে মাত্র একটি জয় পেয়েছে। তবে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে অবশ্য সবশেষ ছয় ম্যাচের পাঁচটিই জিতেছে বার্সেলোনা। তবে হাই ভোল্টেজ এই ম্যাচের আগে কিছুটা চিন্তিত ও দ্বিধাগ্রস্ত হান্সি ফ্লিক।
ফ্লিক আগে থেকেই জানতেন আতলেতিকোর বিপক্ষে আন্দ্রিয়াস ক্রিস্টেনসেন, ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ং ও রাফিনিয়াকে পাওয়া যাবে না। এখন মার্ক বার্নালের উপস্থিতি নিয়েও শঙ্কা দেখা দিয়েছে। শনিবার লা লিগার ম্যাচে আতলেতিকোর বিপক্ষে খেলার সময় অ্যাঙ্কেলে চোট পান বার্নাল। রোনালদ আরাউহোকে নিয়েও চিন্তা বাড়ে। আশার কথা উরুগুয়ান ডিফেন্ডারকে দেখা যাবে শুরুর একাদশে।
দলে চোট সমস্যা থাকলেও ফ্লিক মনেকরেন, তাদের মনোযোগ থাকবে ম্যাচের দিকে। জার্মানির এই কোচ বলেন, ‘একমাত্র যে ব্যাপারটায় আমাদের মনোযোগ দেওয়া দরকার তা হলো, আমরা মাঠে কী অর্জন করতে পারি। নিজেরা যা নিয়ন্ত্রণ করতে পারব, এর বাইরের কোনো বিষয় নিয়ে আমি ভাবতে চাই না।’
বার্সেলোনার চূড়ান্ত স্কোয়াড:
জোয়াও কানসেলো, আলেহান্দ্রো বালদে, রোনালদ আরাউহো, পাও কুবার্সি, গাভি, ফেরান তোরেস, পেদ্রি, রবার্ট লেভানডফস্কি, লামিন ইয়ামাল, জোয়ান গার্সিয়া, মার্কাস রাশফোর্ড, ফেরমিন লোপেজ, মার্ক কাসাদো, জেরার্দ মার্তিন, রুনি বারদগজি, দানি ওলমো, জুলস কুন্দে, এরিক গার্সিয়া, ভইচেখ শেজনি, দিয়েগো, কোর্তেস, জাভি এসপার্ট ও টমি।

চ্যাম্পিয়নস লিগের মঙ্গলবার রাতটি রিয়াল মাদ্রিদের জন্য সুখকর ছিল না। ইউরোপের সর্বোচ্চ ১৫ বার চ্যাম্পিয়ন রিয়াল মাদ্রিদ ২০২৫-২৬ মৌসুমের কোয়ার্টার ফাইনালের ফার্স্ট লেগে বায়ার্ন মিউনিখের কাছে ১-২ গোল ব্যবধানে হেরেছে। পিছিয়ে থেকেই আলভারো আরবেলোয়ার শিষ্যরা দ্বিতীয় লেগে আলিয়াঞ্জ এরেনায় খেলতে যাবে।
ব্যর্থতার ম্যাচে রিয়ালের বড় সান্ত্বনা কিলিয়ান এমবাপের গোল। মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে প্রায় ৬ ম্যাচ গোলহীন থাকলেও, সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে এমবাপে শূন্যতা ভাঙেন। চলতি মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগে ১০ ম্যাচে ১৪ গোল করে অসাধারণ মাইলফলক স্পর্শ করেছেন তিনি।
ইউরোপের শীর্ষ ক্লাব প্রতিযোগিতায় এক মৌসুমে ১৪ বা তার বেশি গোল করা সাতজন ফুটবলারদের একজন এখন এমবাপে। চ্যাম্পিয়নস লিগের এক মৌসুমে এখন পর্যন্ত হোসে আলতাফিনি, রুড ভ্যান নিস্টলরয়, লিওনেল মেসি, ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো, রবার্ট লেভানডফস্কি, করিম বেনজেমা এক মৌসুমে ১৪ বা তার চেয়ে বেশি গোল করেছেন।
রিয়াল মাদ্রিদের তৃতীয় তারকা হিসেবে এই কীর্তি গড়েছেন এমবাপে। আল নাসর তারকা রোনালদো এক মৌসুমে ১৪ বা তার বেশি গোল করেছেন তিনবার। ২০১৩-১৪ মৌসুমে রিয়ালের জার্সিতে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ ১৭ গোল করেন সিআরসেভেন।
বায়ার্নকে হারিয়ে রিয়াল যদি সেমিফাইনাল পা রাখে এবং ফাইনালে পৌঁছে, তবে আরও চারটি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবেন এমবাপে। ম্যাচগুলোতে গোল দেখা পেলে পর্তুগিজ সুপারস্টার রোনালদোকেও ছাড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ পাবেন তিনি। আর মাত্র তিনটি গোল হলেই চ্যাম্পিয়নস লিগ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলস্কোরের নামটি হবে এমবাপের।

প্যারিস সেন্ট জার্মেইন (পিএসজি) ম্যানেজার লুইস এনরিক বলেছেন, চ্যাম্পিয়নস লিগে তার দলকে ফেভারিট হিসেবেই দেখছেন অনেকেই—এটা মোটেও উচিত নয়। বুধবার পার্ক দ্য প্রিন্সেসে বাংলাদেশ সময় রাত একটায় চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে লিভারপুলের মুখোমুখির আগে তিনি এ মন্তব্য করেছেন।
২০২৪-২৫ মৌসুমের প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়ন লিভারপুল। অথচ এবার তারা টাইটেল রেসে পিছিয়ে। লিগে অল রেডসদের অবস্থান পঞ্চম স্থানে। আর চ্যাম্পিয়নস লিগেও খুঁড়াতে খুঁড়াতে উঠেছে কোয়ার্টার ফাইনালে। মৌসুমে সব প্রতিযোগিতায় মোট ১৫ বার হেরেছে আর্নে স্লটের দল। এক মৌসুমে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পরাজয় এটি। এর আগে ২০১৪-১৫ মৌসুমে ১৮ ম্যাচ হেরেছিল লিভারপুল।
লিভারপুলের বর্তমান অবস্থানের কারণেই পিএসজিকেই এগিয়ে রাখছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা। তবে লুইস এনরিকে মনে করেন, আজকের প্রতিযোগীতা কঠিনই হতে যাচ্ছে। ম্যাচ পূববর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “লিভারপুলের মতো দলের সঙ্গে খেলা সবসময় সেমিফাইনালে পৌঁছাতে চাই; আমরা জানি এটি কতটা কঠিন হবে, তবে আমরা খুব উৎসাহী।”
এই ম্যাচটি গত মৌসুমের রাউন্ড-অফ-১৬-এর পুনরাবৃত্তি। সে সময় লিভারপুলকে পেনাল্টিতে হারিয়ে পরের রাউন্ডে উঠেছিল পিএসজি। স্প্যানিশ কোচ বলেন, “গত বছর সবাই বলেছিল লিভারপুল ফেভারিট, কিন্তু পিএসজি এগিয়ে গেল।’’
স্প্যানিশ মিডফিল্ডার ফাবিয়ান রুইজ সোমবার ইনজুরির কারণে দলের সঙ্গে অনুশীলনে অংশ নেননি। তবে ফরাসি উইঙ্গার ব্র্যাডলি বারকোলা চোখে আঙুলে সমস্যা কাটিয়ে অনুশীলনে যোগ দিয়েছেন।