
স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ফুটবলের শুরুতে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ড্র'র অতীতটাই বার বার মনে করতে হচ্ছে। ১৯৭৩ সালে মারদেকা কাপে ১-১ গোলে ড্র'র পর সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে খেলায় কোনো সুখবর দিতে পারেনি বাংলাদেশ দল। ২০১৫ সালে ফিফা ফ্রেন্ডলি ম্যাচ কিংবা তার এক দশক পর এ এফসি এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বে নিজেদের ঘরের মাঠে ১-২ গোলে হারের বদলা নিতে পারেনি বাংলাদেশ।
৫৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষম সিঙ্গাপুর ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে প্রবাসী বাংলাদেশের ব্যাপক সমর্থন থেকেও টনিক নিতে পারেনি বাংলাদেশ দল। এ এফসি এশিয়া কাপের 'সি' গ্রুপের বাছাইপর্ব থেকে বিদায় ঘন্টা অনেক আগেই বেজেছে। এই গ্রুপ থেকে এশিয়া কাপের চূড়ান্ত পর্ব নিশ্চিত করা সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে অন্তত একটি পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশ ফুটবল দলের বাড়ি ফেরার দিকে তাকিয়েছিল সমর্থকরা। তবে ৬ হাজার প্রবাসী বাংলাদেশীর হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়েছে। র্যাঙ্কিংয়ে ৩২ ধাপ এগিয়ে থাকা সিঙ্গাপুরের কাছে ১-০ গোলে হেরে এশিয়া কাপ বাছাইপর্ব শেষ করেছে বাংলাদেশ।
৪-৩-৩ ফরমেশনে ২টি পরিবর্তন এনে একাদশ সাজিয়ে হাভিয়ের কারবেরা চেয়েছিলেন মধ্যমাঠের নিয়ন্ত্রন নিতে। গোলরক্ষক মিতুল মারমা এবং মোরসালিনের প্রত্যাবর্তন ম্যাচে বাংলাদেশের খেলা ভালই উপভোগ করেছে সিঙ্গাপুর প্রবাসী দর্শকরা। বল দখলে স্বাগতিকদের ছেড়ে কথা বলেনি বাংলাদেশ দল। বল পজিশনের পরিসংখ্যানে ছিল ফিফটি-ফিফটি। গোল লক্ষ্য করে নেয়া শটেও ছিল সমতা (২-২)। আক্রমনের সংখ্যার দিকে এগিয়ে ছিল বাংলাদেশ ১৪-৫-এ। তবে গোলের খেলা ফুটবলে কৌশলগত দিকে এগিয়ে গেছে সিঙ্গাপুর। ৩১ মিনিটের মাথায় ডিফেন্ডার তপুর ভুলে গোল হজম করে বসে বাংলাদেশ। ওই গোলই তৈরি করেছে ব্যবধান।
ভিয়েতনামের কাছে ফিফা ফ্রেন্ডলি ম্যাচ ০-৩ গোলে হেরে আত্মবিশ্বাসে ধাক্কা খেয়েছে বাংলাদেশ। তার প্রতিফলনই পড়েছে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে অ্যাওয়ে ম্যাচে। স্ট্রাইকিং জোনে থাকা মোরসালিন-ফাহিম-ফাহমিদুলকে গোলপোষ্ট লক্ষ্য করে একটি শটও নিতে দেখা যায়নি প্রথমার্ধে।
তারপরও প্রথমার্ধে গোলের সেরা সুযোগটা পেয়েছিল বাংলাদেশ খেলার ১৪ তম মিনিটে। ডান প্রান্ত দিয়ে ওভারল্যাপিং করে সাদ উদ্দিন দিয়েছিলেন ক্রস সমিত সোমকে লক্ষ্য করে। তবে অনমার্কড সমিত সোমের হেড ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়।
খেলার ধারার বিপক্ষে গোল পেয়ে যায় সিঙ্গাপুর। খেলার ৩১তম মিনিটে কাউন্টার অ্যাটাকে মধ্যমাঠ থেকে বল পেয়ে বিপজ্জনক হয়ে ওঠে সিঙ্গাপুর। ডি বক্স থেকে কুহেয়'র নেওয়া শট গোলরক্ষক মিতুল মারমা ঠেকিয়ে দিলেও বল বিপদমুক্ত করতে পারেননি। ছোট ডি বক্সের সামনে দাঁড়ানো ইখসান ফান্দির পায়ে বল আসলে তার মার্কিংয়ে থাকা তপু বর্মন বল ক্লিয়ার করতে পারেননি। ইখসান দারুণ চতুরতার সঙ্গে বল বাড়িয়ে দেন হারিস স্টুয়ার্টের দিকে। তাঁর নিখুঁত প্লেসিং শটে বল জালে জড়িয়ে যায় (১-০)।
খেলার ৩৯তম মিনিটে সমতার সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। ডান প্রান্ত থেকে আসা লম্বা থ্রো থেকে সাদ ও ফাহিমের মধ্যে বল দেওয়া-নেওয়া হওয়ার পর ফাহিমের শট ক্রসবারের অনেক ওপর দিয়ে চলে যায়।
এক মিনিট পর বাঁ প্রান্ত প্রান্ত দিয়ে আক্রমন থেকে মোরছালিনের নেওয়া শট সিঙ্গাপুর ডিফেন্ডার বাহারুদিন ব্লক করার পরও ছিল সুযোগ। কিন্তু ফিরতি বলে ফাহিম যখন শট নিতে উদ্যত, তখন ডি-বক্সের ভেতর সিঙ্গাপুরের এক ডিফেন্ডারের সঙ্গে ধাক্কা লেগে মাটিতে পড়ে যান ফাহিম। বাংলাদেশের খেলোয়াড়েরা সমস্বরে পেনাল্টির আবেদন জানালেও অস্ট্রেলিয় রেফারি তাতে সাড়া দেননি।
দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশের খেলায় ছিল পরিকল্পনার ছাপ। বিশেষ করে ৭২ মিনিটের মাথায় ফাহমিদুলের জায়গায় মিরাজুল এবং মোরছালিনের জায়গায় বিশ্বনাথকে মাঠে নামানোয় শেষ ১৮ মিনিট একতরফা খেলেছে বাংলাদেশ। দুবার গোলের সুযোগও তৈরি করেছে এই সময়ে। মিড ফিল্ড থেকে উপরে উঠে হামজা চৌধুরীও চেষ্টা করেছেন সমতাসূচক গোলের।
খেলার ৭৫ মিনিটের মাথায় ডান প্রান্ত থেকে সাদউদ্দিনের ক্রস পেয়ে ডি বক্সের বাইরে থেকে হামজা চৌধুরী দ্বিতীয় পোষ্ট লক্ষ্য নিয়েছিলেন শট। পোষ্টের উপর দিয়ে চলে যায় তা।
খেলার ৭৯ তম মিনিটে সমিত সোমের ফ্রি-কিক জটলার মধ্যে পেয়ে হামজা চৌধুরী পেনাল্টি বক্সে দারুণ এক ক্রস দিয়েছিলেন স্ট্রাইকার মিরাজুলকে উদ্দেশ্য করে। তবে হতভাগ্য বাংলাদেশ। মিরাজুলের নেওয়া শট গোলরক্ষক পরাস্ত হলেও দুর্ভাগ্যক্রমে গোলপোস্টে লেগে সেই শটটি প্রতিহত হয়। আশাভঙ্গ হয় হামজার দল।
No posts available.

হৃদরোগজনিত সমস্যার কারণে মাত্র ৩৪ বছর বয়সে পেশাদার ফুটবলকে বিদায় জানিয়ে দিলেন ব্রাজিলের সাবেক মিডফিল্ডার অস্কার দস সান্তোস এম্বোয়াবা জুনিয়র। যাকে শুধু অস্কার নামেই চেনে ফুটবল বিশ্ব।
ব্রাজিলিয়ান ক্লাব সাও পাওলো জানিয়েছে এই খবর। গত নভেম্বরে সাও পাওলোর ট্রেনিংয়ে শারীরিক পরীক্ষার সময় অসুস্থ হয়ে পড়েন ৩৪ বছর বয়সী মিডফিল্ডার। তখন ৫ দিন হাসপাতালে থাকতে হয়েছিল তার।
হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা জানান, ভাসোভ্যাগাল সিনকোপে (হঠাৎ রক্তচাপ ও হৃৎস্পন্দন কমে গিয়ে অজ্ঞান হয়ে যাওয়া) ভুগছেন অস্কার। এই শারীরিক জটিলতায় বেশ আগেই ফুটবল থেকে অবসর নিতে হলো তার।
আরও পড়ুন
| দারুণ জয়ে রিয়ালের চেয়ে ৭ পয়েন্ট এগিয়ে বার্সেলোনা |
|
ক্লাবের সঙ্গে থাকা আরও দুই বছরের চুক্তি বাতিল করে অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ব্রাজিলিয়ান এই তারকা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক আবেগঘন বার্তায় অস্কার বলেন, ‘সাও পাওলোর হয়ে আমি আরও খেলতে চেয়েছিলাম। আমার মনে হয়, সামর্থ্য ও বয়স- দুটোই ছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে এই ঘটনা ঘটেছে।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘এখন আমি অবসর নিচ্ছি। সমর্থক হিসেবে সাও পাওলোর পাশেই থাকব। এই ক্লাবেই আমার ক্যারিয়ার শেষ হচ্ছে- একটি ক্যারিয়ার, যা আমাকে বিশ্বের নানা প্রান্তে নিয়ে গেছে।’
ব্রাজিলের হয়ে ৪৮টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা অস্কার ক্লাব ফুটবলেও রেখে গেছেন উজ্জ্বল ছাপ। ২০১২ সালে চেলসিতে যোগ দিয়ে প্রথম মৌসুমেই জিতেছিলেন ইউয়েফা ইউরোপা লিগ। এরপর ২০১৪-১৫ মৌসুমে জেতেন প্রিমিয়ার লিগ ও লিগ কাপের শিরোপা।
আরও পড়ুন
| বাংলাদেশের দুঃস্বপ্ন মনে করিয়ে নাটকীয় জয় বায়ার্নের |
|
২০১৭ সালে চেলসি ছেড়ে শাংহাই পোর্ট এফসিতে যোগ দেন তিনি। চীনা সুপার লিগে তিনটি শিরোপা জেতার পর ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে শৈশবের ক্লাব সাও পাওলোতে ফিরে আসেন অস্কার। যেখানে বেশি দিন খেলতে পারলেন না তিনি।

ইন্টার মায়ামির নতুন স্টেডিয়ামে প্রথম ম্যাচেই আলো ছড়ালেন লিওনেল মেসি ও লুইস সুয়ারেজ। তবু জয় পেল না মায়ামি। অস্টিন এফসির বিপক্ষে ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়তে হলো তারকাখচিত ক্লাবটির।
নবনির্মিত নু স্টেডিয়ামে রোববার ভোরে মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) ম্যাচে অস্টিনের সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করেছে মায়ামি। এই ম্যাচ দিয়েই পথচলা শুরু হলো প্রায় ২৭ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতাসম্পন্ন মায়ামির স্থায়ী মাঠ নু স্টেডিয়ামের।
ম্যাচে দুই অর্ধে দুটি করে গোল হজম করে পিছিয়ে পড়ে মায়ামি। প্রথমার্ধে মেসি ও পরে দ্বিতীয়ার্ধে গোল করে পরাজয় এড়ান সুয়ারেজ।
জয় না পেলেও পুরো ম্যাচে দাপট দেখিয়েই খেলে মায়ামি। প্রায় ৬১ শতাংশ সময় বলের নিয়ন্ত্রণ ছিল তাদের দখলে। গোলের জন্য মোট ১৯টি শট করলেও মাত্র ৪টি লক্ষ্যে রাখতে পারে তারা। বিপরীতে ৬ শটের ৩টি লক্ষ্য বরাবর করে অস্টিন।
আরও পড়ুন
| দারুণ জয়ে রিয়ালের চেয়ে ৭ পয়েন্ট এগিয়ে বার্সেলোনা |
|
ম্যাচের শুরুতেই স্বাগতিকদের দর্শকদের হকচকিয়ে দেন অস্টিনের ডিফেন্ডার গুইলের্মো বিরো। তবে দশম মিনিটে ম্যাচে সমতা ফিরিয়ে আনেন মেসি। ইয়ান ফ্রের ক্রসে চমৎকার হেডে জাল কাঁপান আর্জেন্টাইন মহাতারকা।
প্রথমার্ধে আর গোলের দেখা পায়নি দুই দল। দ্বিতীয়ার্ধে ফিরে ৫৩ মিনিটে জেডেন নেলসনের গোলে আবার এগিয়ে যায় অস্টিন।
এবার সমতা ফেরাতে প্রায় আধঘণ্টা লেগে যায় মায়ামির। কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে হেড করেন জার্মান বারতেরামি। খুব কাছে বল পেয়ে প্রথম ছোঁয়ায় জালে জড়িয়ে দেন সুয়ারেজ।
এরপর মরিয়া চেষ্টা করেও জয়সূচক গোল পায়নি জায়ান্ট ক্লাবটি। এই ড্রয়ের ফলে এমএলএসের ইস্টার্ন কনফারেন্সে ৬ ম্যাচে ১১ পয়েন্ট নিয়ে চার নম্বরে মায়ামি। সমান ম্যাচে ১৩ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে ন্যাশভিল।

দিনের শুরুতে রিয়াল মাদ্রিদের পরাজয়ে বড় সুযোগ চলে আসে বার্সেলোনার সামনে। তা কাজে লাগাতে কোনো ভুল করেনি কাতালান জায়ান্টরা। শেষ দিকের গোলে দারুণ জয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থান সুসংহত করেছে ক্লাবটি।
মেট্রোপলিটানোয় শনিবার রাতের ম্যাচে আতলেতিকো মাদ্রিদকে ২-১ গোলে হারিয়েছে বার্সেলোনা। অথচ প্রথমে গোল হজম করে পরাজয়ের শঙ্কায় পড়ে গিয়েছিল তারা।
আরও পড়ুন
| বাংলাদেশের দুঃস্বপ্ন মনে করিয়ে নাটকীয় জয় বায়ার্নের |
|
পরে মার্কাস রাশফোর্ড ও রবার্ট লেওয়ানডফস্কির গোলে পূর্ণ ৩ পয়েন্ট পায় বার্সা।
এই জয়ে ৩০ ম্যাচে ৭৬ পয়েন্ট নিয়ে এক নম্বরে বার্সেলোনা। সমান ম্যাচে ৬৯ পয়েন্ট নিয়ে তাদের নিচে রিয়াল। আর ৩০ ম্যাচে ৫৭ পয়েন্ট পাওয়া আতলেতিকো আছে ৪ নম্বরে।
আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ ও গতিময় ফুটবলে সাজানো ম্যাচে ছিল তুমুল উত্তেজনা। সব মিলিয়ে দাপট দেখিয়েই খেলে বার্সেলোনা। প্রায় ৬৯ শতাংশ সময় বলের দখল রেখে ২৩টি শট করে তারা। এর ৯টিই ছিল লক্ষ্য বরাবর। বিপরীতে ৬ শটের ২টি লক্ষ্যে রাখতে পারে আতলেতিকো।
তবে ম্যাচের প্রথম গোলটি করে আতলেতিকোই। ম্যাচের শুরু থেকে একের পর সুযোগ তৈরি করেও কাজে লাগাতে পারেনি বার্সেলোনা। খেলার ধারার বিপরীতে ৩৯ মিনিটে জুলিয়ানো সিমিওনের গোলে লিড নেয় স্বাগতিকরা।
দুই মিনিট পরই অবশ্য সমতা ফিরিয়ে আনে বার্সেলোনা। দানি ওলমোর সঙ্গে দারুণ বোঝাপড়ার পর চমৎকার ফিনিশিংয়ে জালের ঠিকানা খুঁজে নেন রাশফোর্ড।
আরও পড়ুন
| হলান্ডের হ্যাটট্রিকে লিভারপুলকে বিধ্বস্ত করে সেমি ফাইনালে ম্যান সিটি |
|
এরপর হঠাৎ উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে মাঠে। একসঙ্গে হলুদ কার্ড দেখেন বার্সেলোনার ফের্মিন লোপেস এবং আতলেতিকোর নাহুয়েল মোলিনা ও কোকে। প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ের মাঝেই লামিন ইয়ামালকে ফাউল করে লাল কার্ড দেখেন আতলেতিকোর নিকো গনসালেস।
দ্বিতীয়ার্ধের পুরোটা সময় ১০ জন নিয়ে খেলতে হয় দিয়েগো সিমিওনের শিষ্যদের। বিরতির পর প্রথম মিনিটে লাল কার্ড দেখেন বার্সেলোনার জেরার্ড মার্টিনোও। তবে ভিএআর দেখে সেটি বদলে হলুদ কার্ড দেখানো হয়।
একজন কম নিয়ে খেলেও লম্বা সময় বার্সাকে আটকে রাখতে সক্ষম হয় আতলেতিকো। ৭৯ মিনিটে বদলি নেমে ম্যাচের ফল নির্ধারিত করে দেন লেওয়ানডফস্কি। ৮৭ মিনিটের মাথায় তার গোলেই পূর্ণ ৩ পয়েন্ট পায় বার্সেলোনা।

মুহূর্তের জন্য যেন বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-২০ নারী এশিয়ান কাপের উদ্বোধনী ম্যাচের চিত্রনাট্য ফিরে এলো বুন্দেসলিগার ম্যাচে। ৮০ মিনিট পর্যন্ত ২ গোলে এগিয়ে থেকেও, শেষ দিকে ৩ গোল হজম করে বায়ার্ন মিউনিখের কাছে হেরে গেল এসসি ফ্রেইবুর্গ।
জার্মান লিগের ম্যাচটিতে শনিবার রাতে ফ্রেইবুর্গকে ৩-২ গোলে হারিয়েছে বায়ার্ন। অথচ ম্যাচের ৮০ মিনিট পর্যন্ত ০-২ গোলে পিছিয়ে ছিল তারা। সেখান থেকে ইনজুরি টাইমের দুইটিসহ মোট ৩ গোল দিয়ে জয়ের স্বাদ পেয়েছে জার্মান চ্যাম্পিয়নরা।
প্রায় ৭২ ঘণ্টা আগে ফ্রেইবুর্গের মতো একই পরিণতি হয় বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ নারী দলের। অনূর্ধ্ব-২০ নারী এশিয়ান কাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে থাইল্যান্ডের বিপক্ষে ৬৯ মিনিট পর্যন্ত ২-০তে এগিয়ে ছিল বাংলাদেশ। সেখান থেকে ৩ গোল হজম করে ম্যাচটি হেরে যায় তারা।
বায়ার্ন-ফ্রেইবুর্গ ম্যাচে সবকটি গোলই হয়েছে দ্বিতীয়ার্ধে। ৪৬ মিনিটে ডেডলক ভেঙে ফ্রেইবুর্গকে লিড এনে দেন জোহান মানজাম্বি। পরে ৭১ মিনিটে লুকাস হোলারও জালের দেখা পেলে মনে হচ্ছিল অঘটনের জন্ম দিয়েই ফেলবে ফ্রেইবুর্গ।
শেষ পর্যন্ত তা আর হয়নি। ৮১ মিনিটে টম বিশফের গোলে ব্যবধান কমায় বায়ার্ন। পরে ইনজুরি টাইমের প্রথম মিনিটে আবার গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান ২০ বছর বয়সী এই উইং-ব্যাক।
নাটকীয়তার শেষটা লিখেন লেনার্ট কার্ল। ইনজুরি টাইমের নবম মিনিটে জাল কাঁপিয়ে দলকে অবিশ্বাস্য এক জয় এনে দেন তিনি।
এমনিতে ম্যাচে সার্বিক পারফরম্যান্সে পরিষ্কার এগিয়েই ছিল বায়ার্ন। প্রায় ৬৮ শতাংশ সময় বল দখলে রেখে গোলের জন্য ১৯টি শট করে তারা। এর ৯টিই ছিল লক্ষ্য বরাবর। বিপরীতে ১২টি শট করে ৪টি শুধু লক্ষ্যে রাখতে পারে ফ্রেইবুর্গ।
এই জয়ে ২৮ ম্যাচে ৭৩ পয়েন্ট নিয়ে শিরোপার পথে আরও এগিয়ে বায়ার্ন। সমান ম্যাচে ৬২ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে বরুশিয়া ডর্টমুন্ড। বাকি ৬ ম্যাচে আর ৮ পয়েন্ট পেলেই নিশ্চিত হয়ে যাবে বায়ার্নের শিরোপা। ২৮ ম্যাচে ৩৭ পয়েন্ট নিয়ে ৮ নম্বরে ফ্রেইবুর্গ।

দারুণ ছন্দে থেকেই আন্তর্জাতিক বিরতির যায় রিয়াল মাদ্রিদ। টানা ছয় ম্যাচে জয় পাওয়া লস ব্লাঙ্কোসরা মৌসুমের বড় দুটি শিরোপার দৌড়ে ভালোভাবেই টিকে ছিল। তবে জাতীয় দলের দায়িত্ব পালন শেষে যেন খেই হারিয়ে ফেলল রিয়াল। অবনমন অঞ্চলের এক দলের কাছে পয়েন্ট হারাতে হলো তাদের।
লা লিগায় আজ মায়োর্কার বিপক্ষে ২-১ গোলে হেরেছে রিয়াল মাদ্রিদ। প্রতিপক্ষের মাঠে ৪১ মিনিটে পিছিয়ে পড়ার পর শেষদিকে একটি গোল শোধ করে আলভারো আরবেলোয়ার দল। অন্তত এক পয়েন্ট নিয়ে ঘরে ফেরার আশা দেখতে না দেখতেই যোগ করা সময়ে আবার গোল খেয়ে শেষ পর্যন্ত রিক্ত হস্তেই মাঠ ছাড়তে হয় সফরকারীদের।
এই হারে লিগ জেতার দৌড়ে বড় ধাক্কা খেল রিয়াল মাদ্রিদ। ৩০ ম্যাচে ২২ জয়, ৩ ড্র ও ৫ হারে কিলিয়ান এমবাপে-ভিনিসিয়ুস জুনিয়রদের সংগ্রহ ৬৯ পয়েন্ট। শীর্ষে থাকা বার্সেলোনা এক ম্যাচ কম খেলে ৪ পয়েন্ট এগিয়ে আছে। আজ আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে জয় পেলেই ব্যবধান হবে ৭। আর লিগে চলতি মৌসুমে অষ্টম জয় পাওয়া মায়োর্কা ৩১ পয়েন্ট নিয়ে ১৭ নম্বরে আছে। রেলিগেশন জোন থেকে মাত্র দুই পয়েন্ট এগিয়ে আছে তারা।
প্রতিপক্ষের মাঠে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে বেঞ্চে রেখে কিলিয়ান এমবাপে ও ব্রাহিম দিয়াজকে দিয়ে আক্রমনভাগ সাজান রিয়াল মাদ্রিদের কোচ আরবেলোয়া। প্রথমার্ধে দারুণ কিছু সুযোগও পায় রিয়াল। এমবাপের দুটি শট মায়ার্কোর গোলকিপার লিও রোমান। তবে রিয়াল সুযোগ হাতছাড়া করলেও ব্যবধান বাড়াতে ভুল করেনি স্বাগতিকরা। ৪১ মিনিটে ডানদিক থেকে পাবলো মাফেও আক্রমণে ওঠেন। এরপর রিয়ালের বক্সে মানু মরলান্সকে বল বাড়ালে নিচের ডান কোনে বল পাঠিয়ে দেন মায়োর্কার মিডফিল্ডার।
দ্বিতীয়ার্ধে রিয়ালের পারফরম্যান্স ছিল আরও হতাশাজনক। সমতায় ফেরার কয়েকটি কিছু সুযোগ পেলেও মায়োর্কার গোলকিপারের কাছে হার মানতে হয় তাদের। ২৫ বছর বয়সী স্প্যানিশ এই গোলকিপার মোট পাঁচটি দুর্দন্ত সেভ দেন।
৫৯ মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন ভিনিসিয়ুস। তবে দলকে বিপদ থেকে উদ্ধার করতে পারেননি ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গারও। ৮৮ মিনিটে কাঙ্খিত গোল পেয়ে যায় রিয়াল। স্প্যানিশ জায়ান্টদের হয়ে লক্ষ্যভেদ করেন এদের মিলিতাও। আলেকজান্ডার-আর্নল্ডের নেওয়া কর্নার থেকে হেডে বল জড়ান নিচের কোনায়।
যোগ করা সময়ে রিয়ালের জালে আবার বল পাঠালে, নাটকীয় মোড় নেয় ম্যাচ। পাঁচ মিনিটের যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে মায়োর্কার জয়সূচক গোলটি করেন কসোভোর ফরোয়ার্ড ভেদাত মুরকি। শেষ পর্যন্ত হতাশার এক হার সঙ্গী করেই মাঠ ছাড়ে রিয়াল।