১৮ মে ২০২৫, ৬:১৭ পিএম

১৭ বছর বয়সেই রীতিমত হইচই ফেলে দিয়েছেন লামিন ইয়ামাল। বার্সা ফরোয়ার্ড তো এই বয়সেই নামের সঙ্গে যুক্ত করেছেন বিশ্ব সেরার তকমা। তার হাত ধরে বার্সেলোনাও পাচ্ছে সাফল্য। তবে আর এক মৌসুম বাদেই বার্সার সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে ইয়ামালের। নতুন চুক্তি নিয়ে কথা উঠলেও সেটা এখন আলোচনার বাইরে। তবে বার্সেলোনা সভাপতি হোয়ান লাপোর্তা বেশ আত্মবিশ্বাসী ইয়ামালের চুক্তি নিয়ে। বার্সা সমর্থকদের দিয়েছেন স্বস্তির খবর।
আরও পড়ুন
| জয় দিয়েই মৌসুম শেষ করতে হবে, শিষ্যদের বার্তা ফ্লিকের |
|
সম্প্রতি লা ভ্যাঙ্গরদিয়ার সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে লাপোর্তা নিশ্চিত করেছেন চুক্তি প্রায় হয়ে গেছে দুই পক্ষের। এখন কেবল সেটা অনুমদনের অপেক্ষা। খুব সম্প্রতি সেটা হয়ে যাবে বলেও বিশ্বাস বার্সেলোনা সভাপতির।
“ইয়ামাল বার্সায় অনেক উপভোগ করে, তার বন্ধুরা এখানে আছে। দলের সঙ্গে অনেক সময় পার করে। সে দারুণ প্রতিভাবান, কিন্ত দলের জন্য তার নিবেদনটা চোখে পড়ার মত। তার এজেন্ট হোর্হে মেন্দিসের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ করতে পারি সহজেই। তার চুক্তি নবায়ন অনেকটাই হয়ে গেছে এখন কেবল সই করাটাই বাকি। সেটাও হয়ে যাবে।”
এর আগে ইএসপিএনও জানিয়েছিল ইয়ামালের নতুন চুক্তির খবর। বার্সা ডিরেক্টর ডেকোর বরাতে তারা ইঙ্গিত দিয়েছিল নতুন চুক্তি এরই মধ্যে হয়ে গেছে, কেবল সই বাকি। সেই সাথে তারা ইঙ্গিত দিয়েছে নতুন চুক্তিতে ১৮ বছর হলেই সই করবেন ইয়ামাল। বেশ কিছু শর্ত যেখানে নতুন করে যুক্ত করা হচ্ছে, বাড়বে বেতনের অঙ্কও।
গেল মৌসুম ইয়ামাল যেখানে শেষ করেছিলেন, চলতি মৌসুম সেখান থেকে যেন শুরু করেছিলেন। বল পায়ে জাদু দেখিয়ে মুগ্ধ করেছেন। হরহামেশাই প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারদের খাবি খাইয়েছেন। সব মিলিয়ে খেলেছিলেন ৫৩ ম্যাচ, ১৭ গোলের পাশাপাশি করেছেন ২৫ অ্যাসিস্ট।
No posts available.
১৩ মার্চ ২০২৬, ৫:০৬ পিএম
১৩ মার্চ ২০২৬, ৩:০৪ পিএম

আগামী দুই ম্যাচে দল পরিচালনা করতে পারবেন না বেনফিকার কোচ হোসে মরিনিয়ো। গত রোববার ক্লাসিকোতে পোর্তোর সহকারী কোচ লুচো গঞ্জালেজের সঙ্গে উত্তপ্ত বিবাদ এবং লাল কার্ড পাওয়ার কারণে তাঁকে এই শাস্তি দেওয়া হয়েছে।
পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের ডিসিপ্লিনারি কাউন্সিল মরিনিয়োর বিরুদ্ধে দুটি সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। সেই ২-২ সমতার ম্যাচে টেকনিক্যাল এরিয়া ছাড়িয়ে পোর্তোর সাবস্টিটিউট বেঞ্চের দিকে বল নিক্ষেপ করায় তিনি এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পান। পরবর্তী সময়ে লুচো গঞ্জালেজের সঙ্গে উত্তপ্ত বিবাদের জন্য ১১ দিনের নিষোধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। গঞ্জালেজও এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা ও আট দিনের নিষেধাজ্ঞ পেয়েছেন
মরিনিয়ো দাবি করেছেন, তিনি বল স্ট্যান্ডের দিকে নিক্ষেপ করার চেষ্টা করেছিলেন। তাঁর আচরণ উত্তেজনা সৃষ্টি করে এবং জবাবে গঞ্জালেজ তাঁকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলে অভিহিত করেন। মরিনিয়ো ওই সময় আঙ্গুল ও থাম্ব দিয়ে ইঙ্গিত দেখান এবং বারবার বলেন, ‘তুমি ছোট।’
এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা বেনফিকার–আরুকা ম্যাচে কার্যকর হবে। ফেডারেশনের নিয়ম অনুযায়ী দুটি শাস্তি একসঙ্গে প্রযোজ্য হবে না। ১১ দিনের নিষেধাজ্ঞার মধ্যে মার্চ ২১ ভিতোরিয়ার বিপক্ষেও ডাগআউটে দাঁড়াতে পারবেন না এই কিংবদন্তি কোচ।
বেনফিকা এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছে। ক্লাবটি জানিয়েছে, মরিনিয়োর শাস্তি অন্যায় ও অযৌক্তিক।

ম্যাচের শুরুতে আক্রমণাত্মক ফুটবলের আভাস মিললো বাংলাদেশ পুলিশ এফসির কাছ থেকে। সেটি মিলিয়ে গেল খানিক পরেই। খেলা জমলো মূলত দুই অর্ধের শেষ কিছু মিনিটে। বেশ কিছু সুযোগ মিসের হতাশায় ডুবেছে পুলিশ। একই গল্প মোহামেডানেরও। শেষ পর্যন্ত সাদা-কালোদের বিপক্ষে এগিয়ে গিয়েও জিততে না পারার আক্ষেপ নিয়ে মাঠ ছাড়ল পুলিশ।
কুমিল্লার ভাষা সৈনিক শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ ফুটবল লিগের খেলায় মোহামেডানকে মোকাবিলা করে পুলিশ। ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়েছে। প্রথমার্ধেই হয়েছে গোল দুটি। পুলিশের হয়ে লিড এনে দেন পাউলো সান্তোস, মোহামেডানকে খেলায় ফেরান মুজাফফর মুজাফফরভ।
এর আগে চলতি মৌসুমে দুই দলের প্রথম দেখাতেও কোনো দল জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারেনি। ড্র হয়েছিল ১-১ গোলে। আর গত সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ ফেডারেশন কাপের খেলায় পুলিশকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়েছিল সাদা-কালোরা।
শুক্রবার খেলার চতুর্থ মিনিটে সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করে পুলিশ। গোলমুখের সামনে সতীর্থের কাছ থেকে কাটব্যাক পেয়ে শট লক্ষ্যে রাখতে পারেননি রাব্বি হোসেন রাহুল। শুরুর আক্রমণের ধার অব্যাহত রাখে পুলিশ। দুই-একবার মোহামেডানও চেষ্টা করেছে আক্রমণ শানাতে।
১৯ মিনিটে বাঁপ্রান্ত দিয়ে প্রতি আক্রমণে ওঠেন পুলিশের ওদো মোসেস। বক্সে ঢুকে এরপর পাউলো সান্তোসের কাছে ক্রস দেন নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড। যদিও পুলিশের ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড শট রাখতে পারেননি লক্ষ্যে।
দুটি দারুণ সুযোগ মিসের পর কিছুটা যেন খোলসের মধ্যে ঢুকে যায় পুলিশ। দু’দলের খেলায় গতিও কমে আসে এ সময়।
৩৫ মিনিটের পর ফের আক্রমণে পুলিশ। ডান দিক দিয়ে আক্রমণে উঠে বক্সে ঢোকার মুহূর্তে ওদো মোসেসকে ফেলে দেন জাহিদ হাসান শান্ত। পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। ৩৯ মিনিটে সফল স্পট কিকে দলকে এগিয়ে দেন পাউলো সান্তোস।
খেলা জমে ওঠে প্রথমার্ধের শেষ দিকে। ৪১ মিনিটে বক্সের সামনে জাহিদ শান্তর কাছ থেকে বল পেয়ে দুজনকে কাটিয়ে বা পায়ের জোরালো শটে লক্ষ্যভেদ করেন মুজাফফরভ। পুলিশের গোলকিপারের কিছুই করার ছিল না। ১-১ সমতায় ফেরে মোহামেডান।
বিরতির পর পরই মোহামেডানের সুযোগ ছিল এগিয়ে যাওয়ার। তবে কর্নার থেকে সুমন রেজার হেডে বল বেরিয়ে যায় পোস্টের বাইরে দিয়ে।
দ্বিতীয়ার্ধের খেলা যেভাবে শুরু হয়েছিল সেটি আর দেখা যায়নি। আক্রমণাত্মক মেজাজে শুরু করা মোহামেডান পারেনি কার্যকরী কোনো আক্রমণ শানাতে। পুলিশের চেষ্টাও ছিল ঢিমেতালে। ৫০-৭৫ মিনিট পর্যন্ত কোনো দলই সেভাবে প্রতিপক্ষের গোলকিপারের জন্য আতঙ্ক হতে পারেনি।
৭৯ মিনিটে ম্যাচের সবচেয়ে সেরা সুযোগটা মিস করে পুলিশ। বক্সের ডান দিক থেকে একটু বাইরে অপির উড়িয়ে মারা বলে স্বাচ্ছন্দ্যে হেড নেওয়ার সুযোগ পেয়ে যান পাউলো সান্তোস। সেটি তিনি নিয়েছেনও, কিন্তু এত কাছ থেকে তাঁর হেডে বল যায় অনেকটাই উপরে দিয়ে।
৮৮ মিনিটে সুজন হোসেনের দারুণ হেডে এবার পুলিশকে গোলবঞ্চিত করেন মোহামেডান গোলকিপার সুজন। বাঁ পাসের কর্নারের কাছ থেকে ফ্রি কিক নেন টিশেরিং। গোলমুখের সামনে দারুণ হেড পোস্টে রাখেন ফোদে দার্বো। কিন্তু অবিশ্বাস্য দৃঢ়তায় পোস্টের উপর দিয়ে কর্নার করে দেন গোলকিপার সুজন।
যোগ করা সময়ের প্রধম মিনিটে বক্সে জটলার মধ্য থেকে বোয়াটেংয়ের বা পায়ের নিচু শট ডান দিকে ঝাঁপিয়ে আটকে দেন পুলিশের গোলকিপার রাকিবুল হাসান।
যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে আমিরুলের হেডার লক্ষ্যে থাকেনি। গোলমিসের হতাশায় ডুবে যায় পুলিশের খেলোয়াড়েরা। শেষ পর্যন্ত ১-১ গোলের ড্র মেনে মাঠ ছাড়ে দুই দল।
দিনের অপর ম্যাচে ফকিরেরপুল ইয়াংমেন্স ক্লাবকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে রহমতগঞ্জ মুসলিম ফ্রেন্ডস অ্যান্ড সোসাইটি। দারুণ এই জয়ে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের তিনে উঠে এসেছে পুরাণ ঢাকার ক্লাবটি। ১০ পয়েন্ট নিয়ে আটে ফকিরেরপুল।
পয়েন্ট ভাগাভাগি করায় পুলিশ এবং মোহামেডানের অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয়নি। আগের মতোই টেবিলের ছয়ে আলফাজ আহমেদের দল। ১১ খেলায় ১১ পয়েন্ট সাদা-কালোদের। ১৫ পয়েন্ট পেয়ে মোহামেডানের এক ধাপ উপরে পুলিশ।

সেলেসাওর নতুন রূপ! ফ্রান্সের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে ঐতিহাসিক জর্ডান ব্র্যান্ড জার্সিতে অভিষেক হতে যাচ্ছে ব্রাজিলের। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা আনুষ্ঠানিকভাবে জর্ডান ব্র্যান্ডের সঙ্গে এক অভিনব অংশীদারিত্ব ঘোষণা করেছে। এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো কোনো জাতীয় ফুটবল দলের জার্সিতে দেখা যাবে আইকনিক ‘জাম্পম্যান’ লোগো।
২৬ মার্চ ফ্রান্সের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচেই এই ঐতিহাসিক জার্সির অভিষেক হওয়ার কথা। ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ) জানিয়েছে, জর্ডান ব্র্যান্ডের সঙ্গে তাদের এই চুক্তি একটি মাইলফলক। সাও পাওলোতে তারকাখচিত এক অনুষ্ঠানে নতুন অ্যাওয়ে জার্সি উন্মোচন করা হয়। প্রচলিত ধারা ভেঙে এখানে নাইকির পরিচিত ‘সুইশ’ লোগোর জায়গায় ব্যবহার করা হয়েছে মাইকেল জর্ডানের বিখ্যাত ‘জাম্পম্যান’ প্রতীক—যা ফুটবলের ঐতিহ্যকে বিশ্বখ্যাত স্ট্রিটওয়্যার সংস্কৃতির সঙ্গে এক সুতোয় গেঁথেছে।
ফুটি হেডলাইনসের তথ্য অনুযায়ী, ব্রাজিলের ২০২৬ বিশ্বকাপের অ্যাওয়ে জার্সিতে থাকবে ‘জাম্পম্যান’ লোগো। দ্বিতীয় জার্সিটি ১২ মার্চ উন্মোচনের কথা, আর ঐতিহ্যবাহী হলুদ হোম জার্সি প্রকাশ পাবে ১৩ মার্চ। বৃহস্পতিবার সিবিএফ তাদের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে আনুষ্ঠানিকভাবে অ্যাওয়ে জার্সিটি উন্মোচন করে। প্রচারণার ভিডিওতে নতুন জার্সির স্লোগানও তুলে ধরা হয়—আগের বিখ্যাত ‘জোগো বোনিতো’(সুন্দর ফুটবল খেলো) বদলে এসেছে ‘জোগা সিনিসত্রো’ (চোখধাঁধানো ফুটবল খেলো)।
অ্যাওয়ে জার্সিটিতে ব্রাজিলের ঐতিহ্যবাহী নীল ও হলুদ রঙের সমন্বয় বজায় রাখা হয়েছে। তবে এতে যুক্ত হয়েছে কিংবদন্তি ‘এলিফ্যান্ট প্রিন্ট’—যা ১৯৮৮ সালের এয়ার জর্ডান ৩ জুতার নকশার সঙ্গে জড়িত একটি পরিচিত টেক্সচার। ‘এরো-ফিট’ প্রযুক্তিতে তৈরি এই জার্সি আগের তুলনায় ১১ শতাংশ হালকা এবং অনেক বেশি বাতাস চলাচল উপযোগী। উচ্চমানের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি পরিবেশবান্ধবের দিকটি নিশ্চিত করতে শতভাগ পুনর্ব্যবহৃত টেক্সটাইল বর্জ্য ব্যবহার করে এটি তৈরি করা হয়েছে।
সংস্কৃতিগত প্রভাবের কথা বললেন ভিনিসিউস জুনিয়র
রিয়াল মাদ্রিদের তারকা উইঙ্গার ভিনিসিয়ুস জুনিয়র মনে করেন, এই উদ্যোগ শুধু ফুটবল মাঠেই সীমাবদ্ধ নয়; এর প্রভাব আরও বিস্তৃত। সিবিএফের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে সাম্বা তারকা বলেন, ‘ব্রাজিলের প্রতিটি শিশুর জন্য, যারা পায়ে বল নিয়ে স্বপ্ন দেখে, এই অংশীদারিত্বের অর্থ সত্যিই গভীর।
ভিনি আরও বলেন, ‘জর্ডান ব্র্যান্ড এবং আমাদের জাতীয় দল শুধু ফুটবল দিয়েই একত্রিত নয়—এখানে সংস্কৃতি ও মহত্ত্ব একসঙ্গে মিলেছে। যখন ‘জাম্পম্যান’ আমাদের জাতীয় দলের রঙে দেখা যায়, তখন তা বিশ্বের সামনে তুলে ধরে ব্রাজিলের সৃজনশীলতা, আবেগ এবং প্রাণশক্তি। এটি নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে—যাতে তারা প্রতিবার মাঠে নামার সময় স্টাইল, স্বাধীনতা ও গর্ব নিয়ে খেলতে পারে।’
‘লে ব্লু’দের বিপক্ষে অভিষেক
কার্লো আনচেলোত্তির ব্রাজিল দল বিশ্বকাপ অভিযান শুরুর আগে ফ্রান্স ও ক্রোয়েশিয়ার মুখোমুখি হবে। সমর্থকরা প্রথমবারের মতো ‘জাম্পম্যান’ লোগোসহ জার্সি দেখতে পাবেন ২৬ মার্চ। এমন ঐতিহাসিক জার্সির অভিষেকের জন্য এটিই যেন একদম উপযুক্ত বড় মঞ্চ, যেখানে ইউরোপের শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে নিজেদের যাচাই করতে নামবে সেলেসাওরা।
গত পাঁচ ম্যাচে দুই জয় ও একটি ড্র করা ব্রাজিল কিছুটা ওঠানামার মধ্যেই ফ্রান্সের বিপক্ষে মাঠে নামছে। এরপর ১ এপ্রিল ব্রাজিলের প্রীতি ম্যাচ ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে। প্রীতি ম্যাচে গা ঝালিয়ে নেওয়ার পর ‘হেক্সার’ মিশনে নামবে তারা। বিশ্বসেরার মঞ্চে গ্রুপ ‘সি’তে ব্রাজিলের সঙ্গে রয়েছে মরক্কো, হাইতি ও স্কটল্যান্ড।

যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও সাহস ও দৃঢ়তা নিয়ে এএফসি এশিয়ান কাপে অংশ নেওয়ায় ইরানের নারী ফুটবল দলকে প্রশংসা ও সমর্থনের বার্তা দিয়েছে ফুটবল অস্ট্রেলিয়া।
সংস্থাটি এক বিবৃতিতে জানায়, ইরানের নারী ফুটবল দল অস্ট্রেলিয়ায় এসে নিজেদের দেশ, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতিনিধিত্ব করেছে। মাঠের ভেতরে ও বাইরে দলের প্রতিটি খেলোয়াড় ও কর্মকর্তা গর্ব, উদ্দেশ্য এবং ফুটবলের প্রতি গভীর ভালোবাসা নিয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন।
নিজেদের অঞ্চলের কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও দেশের মানুষকে গর্বিত করতে যে দৃঢ়তা ও সাহস দেখিয়েছেন এই ফুটবলার ও কর্মকর্তারা, তা সত্যিই প্রশংসনীয় হিসেবে উল্লেখ করেছে অস্ট্রেলিয়া।
ফুটবল অস্ট্রেলিয়া আরও জানায়, পরিস্থিতি যত জটিলই হোক না কেন, এসব সাহসী নারী সম্মান ও সমর্থন পাওয়ার যোগ্য। কারণ অনেক সিদ্ধান্তই এমন পরিস্থিতিতে নেওয়া হয়েছে, যা বাইরের মানুষের পক্ষে পুরোপুরি বোঝা কঠিন। এই সব খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাকে আমরা বৈশ্বিক ফুটবল পরিবারের অংশ হিসেবেই দেখি।
অস্ট্রেলিয়ার ফুটবল সংস্থা ইরানি দলটির খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের প্রতি বন্ধুত্ব ও সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার কথাও জানায়। যারা অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করছেন, তাদের অস্ট্রেলিয়ার ফুটবল পরিবারের অংশ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে সংস্থাটি।
আর যারা নিজ দেশে ফিরে গেছেন, তাদের উদ্দেশে ফুটবল অস্ট্রেলিয়া কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেছে, ২০২৬ সালের এশিয়া কাপের এই আসরে অংশ নেওয়ার জন্য তারা কৃতজ্ঞ। একই সঙ্গে নিজ দেশে পরিবার ও স্বজনদের কাছে নিরাপত্তা ও মানসিক শান্তি পাওয়ার প্রত্যাশাও জানানো হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার ফুটবল আরও জানায়, এই ফুটবলারদের ফুটবলের প্রতি নিবেদন ও ভালোবাসা উদ্যাপন করার মতো বিষয়। খেলাধুলার প্রতি তাদের এই আবেগই বিশ্বজুড়ে মানুষকে একসূত্রে বাঁধতে পারে।

ম্যাচের টিকিটের বাড়তি দাম নিয়ে সমর্থকদের দীর্ঘদিনের অভিযোগের প্রেক্ষাপটে বড় প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন সাবেক কোচ হুয়ান লাপোর্তা। বার্সেলোনার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে তিনি জানিয়েছেন, মৌসুমি টিকিট না (নন-সিজন টিকিট হোল্ডারস) থাকা দর্শকদের জন্য ম্যাচের টিকিটে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হবে।
সভাপতি নির্বাচনের আগে বিতর্কে লাপোর্তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ভিক্তর ফন্ত ক্লাবের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। আলোচনায় উঠে আসে দলের ক্রীড়া পরিকল্পনা, ক্লাবের বিভিন্ন বিভাগের পরিচালনা, ভবিষ্যৎ খেলোয়াড় কেনাবেচা এবং আগামী বছরগুলোতে ক্লাবের সামগ্রিক দিকনির্দেশনা।
তবে বিতর্কের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিল মাঠে গিয়ে খেলা দেখার ক্রমবর্ধমান খরচ। বিশেষ করে যেসব সমর্থকের মৌসুমি টিকিট নেই, তাদের জন্য ম্যাচ দেখতে যাওয়া এখন অনেক ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে।
আরও পড়ুন
| ধর্ষণ মামলা থেকে মুক্তি বাবরের |
|
এই প্রসঙ্গেই লাপোর্তাকে সরাসরি প্রশ্ন করেন ফন্ত। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘চার সদস্যের একটি পরিবারকে যদি বার্সেলোনা ও সেভিয়ার ম্যাচ দেখতে যেতে ৬৩৬ ইউরো খরচ করতে হয়, তাদের আপনি কী বলবেন?’
এই প্রশ্নের মাধ্যমে সমর্থকদের দীর্ঘদিনের একটি অসন্তোষ সামনে চলে আসে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে টিকিটের দাম বাড়তে থাকায় অনেক সমর্থকই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। জবাবে লাপোর্তা স্বীকার করেন, গত কয়েক বছরে ক্লাবটি কঠিন আর্থিক সময় পার করেছে। সেই পরিস্থিতির প্রভাব অনেক সিদ্ধান্তের ওপর পড়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তবে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি বদলাতে পারে বলে আশাবাদী লাপোর্তা। তিনি বলেন, ‘আমরা কঠিন সময় পার করে এখন ক্লাবকে আবার দাঁড় করিয়েছি। এখন থেকে মৌসুমি টিকিটধারী নন—এমন সমর্থকদের জন্য ম্যাচের টিকিটে ৫০ শতাংশ ছাড় দেওয়া হবে।’
লাপোর্তা আরও যোগ করেন, ‘আমি শুধু কথা বলছি না। আমরা ইতিমধ্যে ভালো কাজ করেছি এবং এখন স্থিতিশীলতার একটি পর্যায়ে প্রবেশ করছি।’
লাপোর্তার এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে বড় ম্যাচের টিকিটের দাম নিয়ে সমর্থকদের যে চাপ রয়েছে, তা অনেকটাই কমে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। আগামী পরশু হবে বার্সেলোনার নির্বাচন।