২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১:১১ পিএম

জাদুকরী এক মুহূর্তের জন্ম দিয়েই দলের নায়ক বনে যাওয়ার ক্ষমতা তো আর সবার থাকে না। খাদের কিনারা থেকে দলকে টেনে তোলার জাদুকরী মন্ত্রটা কেবল গুটিকয়েক বিশেষ প্রতিভারই জানা থাকে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মতো বড় মঞ্চে যখন ছক আর পরিকল্পনা মুখ থুবড়ে পড়ে, তখনই প্রয়োজন হয় এমন একজনের—যিনি এক নিমেষে পাল্টে দেবেন সব হিসাব-নিকাশ।
চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালের প্রথম লেগের মহারণে আজ পিএসজির মুখোমুখি হচ্ছে বায়ার্ন মিউনিখ। বাংলাদেশ সময় রাত একটায় ইউরোপ সেরা প্রতিযোগিতার বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের ঘরের মাঠে নামবে বাভারিয়ানরা। আর পরদিন শেষ চারের আরেক লড়াইয়ে আর্সেনালের প্রতিপক্ষ আতলেতিকো মাদ্রিদ। নিজ নিজ দলের সাফল্যের জন্য কোন খেলোয়াড়রা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন?
১. হ্যারি কেইন (বায়ার্ন মিউনিখ)
তালিকার শীর্ষস্থানটি হ্যারি কেইনেরই প্রাপ্য। গোলই ম্যাচ জেতায়, আর ইংল্যান্ডের এই অধিনায়ক বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে চলতি মৌসুমে সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৪৫ ম্যাচে করেছেন ৫৩টি গোল। ইউরোপের এই মুহূর্তের সবচেয়ে বিধ্বংসী এই ফরোয়ার্ড চ্যাম্পিয়নস লিগের গত চারটি নকআউট ম্যাচেই জালের দেখা পেয়েছেন। ইউরোপ সেরার লড়াইয়ে এক মৌসুমে কোনো ইংলিশ ফুটবলারের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডটি এখন কেইনের দখলে। ২০২৫-২৬ মৌসুমে তিনি করেছেন ১২টি গোল।
আরও পড়ুন
| রিয়ালে প্রথম ১০০ ম্যাচে কে এগিয়ে—এমবাপে নাকি রোনালদো? |
|
কেইনের সামনে এখন প্রথম চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতার হাতছানি, পাশাপাশি বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় (ব্যালন ডি'অর) হওয়ার সুযোগও রয়েছে। ৩২ বছর বয়সী কেইন ভালো করেই জানেন জানেন ব্যক্তিগত এই অর্জন সাধারণত দলের সাফল্যের হাত ধরেই আসে। বায়ার্নের জন্য কেইনের জ্বলে ওঠা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ট্রফি শেষ পর্যন্ত কার শোকেসে যাবে, তা নির্ধারণে এই তারকাই সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখতে পারেন।
২. ভিতিনিয়া (প্যারিস সেন্ট জার্মেই)
অনেকের মতেই এই মুহূর্তে ইউরোপের সেরা মিডফিল্ডার ভিতিনিয়াই। ইংলিশ ক্লাব উলভারহ্যাম্পটন থেকে পিএসজিতে যোগ দেওয়া পর্তুগালের এই ছোটখাটো গড়নের মিডফিল্ডারই লুইস এনরিকের পিএসজি-কে ছন্দে রাখেন। নিখুঁত পাস, গোলের সুযোগ তৈরি থেকে শুরু করে মাঝমাঠের একজন সৈনিক হিসেবে সবকিছুই অবলীলায় করে যাচ্ছেন ভিতিনিয়া।
এই মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সফল পাসের দিক থেকে সবার চেয়ে যোজন যোজন এগিয়ে ভিতিনিয়া। এমনকি প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে (ফাইনাল থার্ড) বল পাঠানো বা ফরোয়ার্ড পাসের ক্ষেত্রেও তিনি অনন্য। ২০০৩-০৪ সাল থেকে 'অপটা'র (Opta) রেকর্ড রাখা শুরু করার পর চ্যাম্পিয়নস লিগের যেকোনো একটি সংস্করণে তাঁর দেওয়া ১,৩৭০টি পাস সর্বোচ্চ। ২৬ বছর বয়সী মিডফিল্ডার এই মৌসুমে আটটি আলাদা ম্যাচে ১০০ বা তার বেশি সফল পাস দিয়েছেন—তার ওপরে আছেন কেবল একজনই, ২০১০-১১ মৌসুমে পেপ গার্দিওলার সেই তুঙ্গে থাকা বার্সেলোনা দলের কিংবদন্তি জাভি হার্নান্দেস। পিএসজির চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপা ধরে রাখার মিশনে ভিতিনিয়া হতে পারেন লুইস এনরিকের তুরুপের তাস।
৩. হুলিয়ান আলভারেজ (আতলেতিকো মাদ্রিদ)
সেমিফাইনালে আর্সেনালের বিপক্ষে ভালো কিছু করতে হলে হুলিয়ান আলভারেজের রুদ্ররূপ দেখার বিকল্প নেই। মাঠের লড়াইয়ে আলভারেজ জ্বলে উঠলেই কেবল পাল্টে যেতে পারে আতলেতিকোর ভাগ্য। গোলপোস্টের সামনে আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডের নিখুঁত ফিনিশিংই ব্যবধান গড়ে দিতে পারে।
আলভারেজ এই মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগে ৯টি গোল করেছেন, যা আতলেতিকোর ইতিহাসে যেকোনো খেলোয়াড়ের এক আসরে করা সর্বোচ্চ গোল। শুধু গোল করাই নয়, প্রতিপক্ষের ওপর চড়াও হয়ে রক্ষণভাগ সামলানোতেও তিনি এক মূর্তিমান আতঙ্ক। এই মৌসুমে ২৬ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড ৮৫৩ বার হাই-ইনটেনসিটি প্রেস করেছেন, যা অন্য যেকোনো খেলোয়াড়ের চেয়ে বেশি, গড়ে প্রতি ম্যাচে যা ৭০টি। মাঠে জানপ্রাণ দিয়ে লড়াই করতে তাঁর জুড়ি নেই। গোলপোস্টের সামনে ক্ষুধার্ত আলভারেজকে বার্সেলোনার বিপক্ষে যেমনটা দেখা গেছে— জাদুকরী ফ্রি-কিকে বল জালে জড়ানোর ক্ষমতা; এই সবকিছুই বিশ্বকাপজয়ী ফরোয়ার্ডকে আতলেতিকোর ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে এগিয়ে রাখছে।
৪. ডেভিড রায়া (আর্সেনাল)
আর্সেনালের রক্ষণভাগের সেই দুর্ভেদ্য ত্রয়ীর প্রতিনিধি হিসেবে আছেন ডেভিড রায়া। যে রক্ষণে আরও আছেন দুই সেন্টার-ব্যাক উইলিয়াম সালিবা এবং গ্যাব্রিয়েল ম্যাগালেস। এই তিনজন যখনই আর্সেনালের হয়ে একসঙ্গে শুরুর একাদশে খেলেছেন, এমন ২২টি চ্যাম্পিয়নস লিগ ম্যাচে গানাররা ১৩টিতেই কোনো গোল হজম করেননি (ক্লিন শিট)। এর মানে হলো, গড়ে প্রতি দুই ম্যাচে আর্সেনাল মাত্র একটি গোল হজম করছেন; আর নিজেদের প্রায় ৫৯ শতাংশ ম্যাচেই তারা প্রতিপক্ষকে গোলবঞ্চিত রাখার এক দারুণ রেকর্ড গড়েছেন।
আরও পড়ুন
| প্যারিসে বায়ার্নের দাপট নাকি পিএসজির প্রতিশোধ |
|
ইউরোপ সেরার মঞ্চে রায়া নিজের পারফরম্যান্স দিয়ে আলাদাভাবে নজর কেড়েছেন। বল পায়ে তার দক্ষতার জন্য খ্যাতি থাকলেও, কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে স্পোর্টিংয়ের বিপক্ষে স্প্যানিশ এই গোলকিপারের অসাধারণ সব সেভই আর্সেনালকে টিকিয়ে রেখেছিল। ৩০ বছর গোলকিপার এই মৌসুমে তার দিকে ধেয়ে আসা ৯০ শতাংশ শটই রুখে দিয়েছেন, যা তাকে গ্লাভস হাতে অন্য সবার চেয়ে যোজন যোজন এগিয়ে রেখেছে। গোলপোস্টের নিচে এমন কঠিন দেয়ালই মিকেল আরতেতার দলকে নিয়ে যেতে পারে ফাইনালে।
৫. মাইকেল ওলিসে (বায়ার্ন মিউনিখ)
মাইকেল ওলিসে এই মৌসুমে রীতিমতো এক চমক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। এই তালিকায় তিনি আরও উপরে থাকতে পারতেন। কিন্তু ভিনসেন্ট কোম্পানির দলে আক্রমণভাগে এত বেশি বিকল্প আছে যে, ফরাসি এই তারকা কোনো ম্যাচে জ্বলে উঠতে না পারলেও দলের খুব একটা সমস্যা হয় না। হ্যারি কেনের ঠিক পেছনে থেকে লুইস দিয়াজ, সার্জ গ্যানাব্রি এবং লেনার্ট কার্লও এবার দারুণ অবদান রাখছেন।
ওলিস যে কতটা অসাধারণ খেলছেন, সেটা পরিসংখ্যানেই স্পষ্ট। ক্রিস্টাল প্যালেস ও রিডিংয়ের সাবেক ২৪ বছর বয়সী তারকা ওলিসে চ্যাম্পিয়নস লিগের এবারের আসরে সফল ড্রিবলিংয়ের তালিকায় তিন নম্বরে আছেন। এমনকি 'বিগ চান্স' বা বড় সুযোগ তৈরির ক্ষেত্রেও তাঁর অবস্থান তিনে। এই দুটি ক্ষেত্রেই শীর্ষে আছেন বার্সেলোনার লামিন ইয়ামাল। তবে সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো, এই মৌসুমে সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে অলিসে ইতিমধ্যেই ২০টি গোল এবং ২৯টি অ্যাসিস্ট নিজের ঝুলিতে পুরেছেন।
No posts available.
৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১:২১ পিএম

বার্সেলোনা থেকে পিএসজি—লিওনেল মেসি ও নেইমারের রসায়ন শুধু মাঠের খেলাতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, রূপ নিয়েছে এক গভীর সখ্যতায়। আবার জাতীয় দলের জার্সি গায়ে যখন তারা একে অপরের মুখোমুখি হন, তখন বন্ধুত্ব হার মানে পেশাদারিত্বের কাছে। তবে সেই লড়াই শেষে আবারও ফুটে ওঠে তাদের হৃদয়ের টান। যেমনটি দেখা গিয়েছিল গত কোপা আমেরিকার ফাইনালে; ব্রাজিলের হারের পর মাঠেই নেইমারকে সান্ত্বনা দিয়েছিলেন বিশ্বজয়ী মেসি।
মেসির সঙ্গে অম্ল-মধুর স্মৃতির রেশ নিয়েই ২০২৬ বিশ্বকাপের পরিকল্পনা সাজাচ্ছেন নেইমার। চোটের বাধা ডিঙিয়ে আবারও হলুদ জার্সি গায়ে মাঠে নামতে মরিয়া সান্তোসের ফরোয়ার্ড। তাঁর স্বপ্নের গন্তব্য এখন একটাই—বিশ্বকাপের ফাইনাল, আর সেখানে প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখতে চান সময়ের সেরা ফুটবলার ও তাঁর পরম ‘বন্ধু’ মেসিকে।
আরও পড়ুন
| আতলেতিকোর মাঠ নিয়ে ইউয়েফার কাছে নালিশ আর্সেনালের |
|
ফুটবল বিশ্বের সব নজর এখন লিওনেল মেসি (৩৮) এবং ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর (৪১) ওপর। আগামী ১১ জুন থেকে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকোর মাটিতে শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপই দুই কিংবদন্তির ‘লাস্ট ডান্স’। একই কথা বলা যেতে পারে নেইমারের ক্ষেত্রেও, যদিও বিশ্বকাপে তাঁর অংশগ্রহণ এখনো নিশ্চিত নয়। সবকিছু নির্ভর করছে ব্রাজিলের প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর।
নেইমার এখন নিজেকে পুরোপুরি ফিট করে তুলতে কঠোর পরিশ্রম করছেন বিশ্বকাপের দলে নিজের জায়গা নিশ্চিত করতে। সম্প্রতি ২০২৬ কোপা সুদামেরিকানায় সান্তোস এবং আর্জেন্টিনার সান লরেঞ্জোর মধ্যকার ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হওয়ার পর আবারও আলোচনার কেন্দ্রে আসেন তিনি। ম্যাচ শেষে আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম ‘টিওয়াইসি স্পোর্টস'-এর সঙ্গে আলাপকালে বিশ্বকাপে খেলার তীব্র ইচ্ছার কথা লুকাননি সাবেক এই বার্সেলোনা ফরোয়ার্ড।
নেইমার বলেন, ‘হ্যাঁ, অবশ্যই আমি বিশ্বকাপ নিয়ে ভাবি। প্রতিটি ব্রাজিলিয়ান খেলোয়াড়ই সেখানে থাকতে চায়, আশা করি আমিও থাকতে পারব।’ যখন মেসির সঙ্গে আবারও দেখা হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়, নেইমার তাঁর মনের ইচ্ছা স্পষ্টভাবেই প্রকাশ করেন। সান্তোস তারকা বলেন, ‘আর্জেন্টিনা এবং ব্রাজিলের মধ্যে একটি ফাইনাল হওয়া হবে অভাবনীয়। আশা করি বিশ্বকাপে আমরা ফাইনালে পৌঁছাব এবং সেখানে মেসির মুখোমুখি হব।’
নেইমারের মূল চ্যালেঞ্জ এখন আগামী ১৮ মে ব্রাজিলের স্কোয়াড ঘোষণার আগে নিজেকে শারীরিকভাবে সেরা অবস্থায় নিয়ে আসা এবং মাঠে নিজের জাদুকরী পারফরম্যান্সে আনচেলোত্তির মন জয় করা। অভিজ্ঞ ইতালিয়ান কোচ আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, নেইমার যদি দলে ডাক না পান তবে সেটি পারফরম্যান্সের অভাবে নয়, বরং কেবল ফিটনেস সমস্যার কারণেই হবে।

চ্যাম্পিয়নস লিগ সেমিফাইনালের প্রথম লেগে আতলেতিকো মাদ্রিদ ও আর্সেনালের ম্যাচটি ড্র হয়েছে ১-১ ব্যবধানে। এই ম্যাচে আতলেতিকোর মাঠে নামার আগে ঘাস নিয়ে ইউয়েফার কাছে অদ্ভুত এক অভিযোগ জমা দিয়েছিল আর্সেনাল।
গানার্সদের দাবি ছিল, মেত্রোপলিতানোতে তাদের খেলার গতি কমিয়ে দিতে ইচ্ছাকৃতভাবে মাঠের ঘাস বড় রাখা হয়েছে। বুধবার রাতে ম্যাচ শুরুর প্রায় এক ঘণ্টা আগে আর্সেনালের ব্যাকরুম স্টাফরা মাঠের কর্মকর্তাদের সাথে তর্কেও জড়ান।
ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচে ঘাসের উচ্চতা ২১ থেকে ৩০ মিলিমিটারের মধ্যে হতে হবে। গানার্সদের আপত্তির মুখে ঘাস মেপে দেখা যায় উচ্চতা ২৬ মিলিমিটার, যা ইউয়েফার নিয়ম অনুযায়ী সম্পূর্ণ বৈধ।
মেত্রোপলিতানোর পিচ নিয়ে প্রতিপক্ষ দলের অসন্তষ্টি অবশ্য নতুন নয়। এর আগে বার্সেলোনা এবং টটেনহ্যামও এই মাঠের পিচ নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেছিল।
গতকাল রাতে মাঠের পরিবেশ বেশ উত্তপ্ত ছিল। ৪৪ মিনিটে ভিক্টর ইয়োকেরেসকে ডি-বক্সের ভেতর ফাউল করে বসেন ডেভিড হাঙ্কো। রেফারি দেরি না করে বাঁশি বাজিয়ে পেনাল্টির নির্দেশ দেন। আতলেতিকোর খেলোয়াড়রা এই সিদ্ধান্তে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
এরপর ম্যাচের ৭৫ মিনিটে বিতর্কিত একটি সিদ্ধান্তে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়। বদলি হিসেবে নামা এবারিচি এজেকে বক্সের ভেতর ফেলে দেন আতলেতিকো ডিফেন্ডার ডেভিড হাঙ্কো। রেফারি সরাসরি পেনাল্টির নির্দেশ দেন। তবে ভিএআর চেকে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত বাতিল হয়।
ম্যাচ শেষে বিষয়টি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আর্সেনাল কোচ মিকেল আরতেতা, ‘আমি প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ কারণ এজের ওপর হওয়া ফাউলটির পেনাল্টি যেভাবে বাতিল করা হয়েছে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। ভিএআর তখনই হস্তক্ষেপ করতে পারে যখন রেফারির সিদ্ধান্তে সুস্পষ্ট ভুল থাকে, কিন্তু এখানে তেমন কিছুই ছিল না। এই একটা সিদ্ধান্ত পুরো ম্যাচের গতিপথ বদলে দিয়েছে। চ্যাম্পিয়নস লিগের মতো সর্বোচ্চ পর্যায়ের ফুটবলে এই ধরণের ভুল কাম্য নয়।‘
আগামী মঙ্গলবার লন্ডনে ফিরতি লেগে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিতের মিশনে নামবে দু’দল। আর্সেনালের ঘরের মাঠ এমিরেটস স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত ১ টায়।

পেশাদার ফুটবল ক্লাবগুলোর জন্য প্রতিটি ম্যাচে অন্তত একজন করে ক্লাবের নিজস্ব (একাডেমির) তরুণ খেলোয়াড় মাঠে রাখা বাধ্যতামূলক করার বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছে ফিফা। গত মঙ্গলবার রাতে অনুষ্ঠিত এক সভায় ফিফা কাউন্সিল একমত হয়েছে যে, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনার পর আগামী এক বছরের মধ্যে এই বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হবে।
কেন এই উদ্যোগ?
মূলত যেসব ক্লাব কেবল চড়া দামে কেনা বা বিদেশি প্রতিভার ওপর নির্ভর করে চলে, তাদের একাডেমিতে বেড়ে ওঠা তরুণদের খেলার সুযোগ বাড়িয়ে দেওয়াই এর মূল লক্ষ্য। ফিফা জানিয়েছে, তাদের উদ্দেশ্য হলো এমন একটি নিয়ম কার্যকর করা যাতে প্রতিটি সিনিয়র ক্লাব দলের জন্য অনূর্ধ্ব-২০ বা অনূর্ধ্ব-২১ ক্যাটাগরির অন্তত একজন ‘হোমগ্রোন’ খেলোয়াড়কে পুরো সময় মাঠে রাখা বাধ্যতামূলক হয়।
বর্তমান নিয়মের সঙ্গে পার্থক্য
এই নতুন নিয়মটি চ্যাম্পিয়নস লিগসহ বর্তমানের অন্যান্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার নিয়মের চেয়ে অনেক বেশি কঠোর হবে। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, ২৫ জনের স্কোয়াডে নির্দিষ্ট সংখ্যক নিজস্ব একাডেমির খেলোয়াড় রাখার বাধ্যবাধকতা থাকলেও, তাদের মূল একাদশে রাখা বা খেলানোর কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।
উদাহরণস্বরূপ, উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, একটি ক্লাবের সর্বোচ্চ ২৫ জনের স্কোয়াডে অন্তত ৮ জন 'স্থানীয়ভাবে প্রশিক্ষিত' খেলোয়াড় থাকতে হয়। উয়েফার সংজ্ঞা অনুযায়ী, ১৫ থেকে ২১ বছর বয়সের মধ্যে কোনো খেলোয়াড় যদি নিজ ক্লাবে বা ওই দেশেরই অন্য কোনো ক্লাবে অন্তত তিনটি পূর্ণ মৌসুম কাটায়, তবেই তাকে ‘স্থানীয়ভাবে প্রশিক্ষিত’ খেলোয়াড় হিসেবে গণ্য করা হয়। কিন্তু ফিফার প্রস্তাবিত এই নতুন নিয়ম কার্যকর হলে, তাদের শুধু স্কোয়াডে রাখলেই চলবে না, পুরো ৯০ মিনিট একজনকে মাঠের খেলায় রাখতেই হবে।
ক্লাব এবং দলবদল বাজারের ওপর প্রভাব
এই নিয়ম চালু হলে খেলোয়াড় কেনাবেচার কৌশলে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে। ক্লাবগুলো তখন নিজেদের একাডেমিতে তরুণ প্রতিভা তৈরি এবং তাদের ধরে রাখার ওপর অনেক বেশি গুরুত্ব দেবে। লিভারপুল কিংবা রিয়াল মাদ্রিদের মতো যেসব ক্লাব বিদেশি তারকাদের ওপর বেশি নির্ভরশীল, তাদের নতুন করে পরিকল্পনা সাজাতে হবে। অন্যদিকে বার্সেলোনা বা বেনফিকার মতো দলগুলো, যারা নিয়মিত অনূর্ধ্ব-২১ হোমগ্রোন খেলোয়াড় মাঠে নামায়, তারা খুব সহজেই এই নিয়মের সঙে মানিয়ে নিতে পারবে। এর ফলে দলবদল বাজারেও পরিবর্তন আসবে; যেহেতু এই নিয়ম মানতে ‘ঘরের ছেলেদের’ গুরুত্ব বাড়বে, তাই বাজারে তাদের দাম বা মূল্যও অনেক বেড়ে যাবে।
মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
অনেকে এই উদ্যোগকে তরুণ খেলোয়াড়দের বিকাশের জন্য বড় সুযোগ হিসেবে দেখলেও, কেউ কেউ এর বাস্তবায়ন নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। বিকল্প হিসেবে অনেকে যেকোনো বয়সের হোমগ্রোন খেলোয়াড় রাখার নমনীয় প্রস্তাব দিয়েছেন। ভ্যাঙ্কুভারে ফিফা কাউন্সিলের সভায় বিভিন্ন কনফেডারেশনের সভাপতিরা শুরুতে এই ধারণাকে সমর্থন দিলেও, সামনে এটি নিয়ে আরও ব্যাপক বিতর্কের সম্ভাবনা রয়েছে। এই আলোচনার একটি প্রধান অংশ হবে 'হোমগ্রোন' শব্দটির একটি সর্বজনীন সংজ্ঞা নির্ধারণ করা, কারণ বর্তমানে একেক লিগে এর সংজ্ঞা একেক রকম।

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ফিফা কংগ্রেস। ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থার অন্তর্ভুক্ত ২১১টি ফেডারেশনের প্রতিনিধিদের এই অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা। তবে কানাডায় বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হতে যাওয়া এই অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া হচ্ছে না ইরানের। ইরানি ফুটবল কর্মকর্তাদের সে দেশে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি।
কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী অনিতা আনন্দ জানিয়েছেন, তাঁর জানামতে ফিফা কংগ্রেস উপলক্ষে কানাডায় আসতে চাওয়া ইরানি ফুটবল কর্মকর্তাদের সে দেশে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। অনিতা আনন্দ মূলত ইরানের সংবাদ সংস্থা তাসনিম-এর একটি প্রতিবেদনের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। মন্ত্রী আনন্দ দাবি করেছেন, ইরানকে এই প্রবেশাধিকার না দেওয়ার বিষয়টি ছিল 'অনিচ্ছাকৃত'।
তাসনিম নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহেদি তাজ এবং আরও দুইজন ইরানি কর্মকর্তাকে টরন্টোর পিয়ারসন বিমানবন্দরে অভিবাসন কর্মকর্তাদের ‘অনুপযুক্ত আচরণের’ কারণে প্রবেশাধিকার দেওয়া হয়নি।
আরও পড়ুন
| রোনালদোর রেকর্ডের রাতে শিরোপার আরও কাছে নাসর |
|
পররাষ্ট্রমন্ত্রী অনিতা আনন্দ এই প্রসঙ্গে বলেন, ‘এটি আমার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়, তবে আমার জানামতে তাদের অনুমতি বাতিল করা হয়েছে। এটি অনিচ্ছাকৃত ছিল, তবে আমি বিষয়টি অভিবাসন মন্ত্রীর (লিনা ডায়াব) ব্যাখ্যার ওপর ছেড়ে দিচ্ছি।’
অনলাইন সংবাদমাধ্যম 'ইরান ইন্টারন্যাশনাল' প্রথম এই খবরটি সামনে আনে। তাদের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মেহেদি তাজকে সোমবার ভিসা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কানাডায় 'সন্ত্রাসী গোষ্ঠী' হিসেবে তালিকাভুক্ত 'আইআরজিসির’ সঙ্গে সম্পৃক্ততার কারণে মঙ্গলবার গভীর রাতে তাকে কানাডা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এই অনুষ্ঠানে ইরানের বর্তমান অবস্থা নিয়ে ফিফার কাছে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
আসন্ন বিশ্বকাপের আগে ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর উপস্থিতিতে এশীয় ফুটবলারদের সবচেয়ে বড় আনুষ্ঠানিক সভায়ও (এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন কংগ্রেস) মঙ্গলবার ইরানের প্রতিনিধিদের দেখা যায়নি। ওই সভায় বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ কিংবা দুই দেশের রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের কারণে ইরানের ম্যাচগুলো যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরিয়ে নেওয়া হবে কি না—এসব নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।
ফিফা কংগ্রেসকে কেন্দ্র করে আগে থেকেই শঙ্কা ছিল, ভিসা জটিলতার কারণে ইরানি প্রতিনিধি দলের ভ্যাঙ্কুভারে ফিফা কংগ্রেসে যোগ দেওয়া এবং এমনকি ১১ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
বিশ্বকাপের সূচি অনুযায়ী, ১৫ জুন ক্যালিফোর্নিয়ার ইঙ্গলউডে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে গ্রুপ 'জি'-তে ইরানের অভিযান শুরু করার কথা রয়েছে। এরপর তাদের পরবর্তী দুটি ম্যাচ মিশর এবং বেলজিয়ামের বিপক্ষে।

চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালের মঞ্চে ইতিহাস গড়লেন হুলিয়ান আলভারেজ। লিওনেল মেসি ও সার্জিও আগুয়েরোর মতো কিংবদন্তিদের পেছনে ফেলে দ্রুততম আর্জেন্টাইন হিসেবে এই টুর্নামেন্টে ২৫ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন আতলেতিকো মাদ্রিদের এই স্ট্রাইকার।
বুধবার রাতে ঘরের মাঠে প্রথম লেগে আর্সেনালকে আতিথ্য দিয়েছিল আতলেতিকো। প্রথমার্ধে ভিক্টর ইয়োকেরেসের গোলে পিছিয়ে পড়ে স্বাগতিকরা। দ্বিতীয়ার্ধের ৫৬ মিনিটে পেনাল্টি পায় আতলেতিকো। সেখান থেকে দৃষ্টিনন্দন শটে স্বাগতিকদের সমতায় ফেরান আলভারেজ।
এই গোলের মাধ্যমে প্রথম আতলেতিকো খেলোয়াড় হিসেবে চ্যাম্পিয়নস লিগের এক মৌসুমে ১০ গোল করার অনন্য রেকর্ড গড়েছেন আলভারেজ। এর আগে ক্লাবটির আর কোনো ফুটবলার একক মৌসুমে এই মাইলফলক স্পর্শ করতে পারেননি।
আরও পড়ুন
| পয়েন্ট ভাগাভাগিতে ফার্স্ট লেগের ইতি টানল আতলেতিকো-আর্সেনাল |
|
চ্যাম্পিয়নস লিগে ৪১ ম্যাচে আলভারেজের গোলসংখ্যা এখন ২৫ টি। এই মাইলফলকে পৌঁছাতে মেসি খেলেছিলেন ৪২ ম্যাচ। আগুয়েরোর লেগেছিল ৪৮ ম্যাচ।
বর্তমানে চ্যাম্পিয়নস লিগের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় শীর্ষে আছেন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো (১৪১), এরপরই মেসি (১২৯), তিনে রয়েছে রবার্ট লেভানডফস্কি (১০৯)।
আলভারেজের সমতাসূচক গোলে প্রথম লেগে আতলেতিকো ও আর্সেনালের ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত ১-১ গোলে ড্র হয়। লন্ডনের ফিরতি লেগে এখন নির্ধারণ হবে ইউরোপসেরার লড়াইয়ে ফাইনালে উঠছে কোন দল।
মঙ্গলবার লন্ডনে আর্সেনালের ঘরের মাঠ এমিরেটস স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত ১ টায়। এই ম্যাচের জয়ী দল ফাইনালে মুখোমুখি হবে বায়ার্ন মিউনিখ অথবা বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পিএসজির। সেমিফাইনালের অন্য ম্যাচে প্রথম লেগে ৫-৪ গোলের রোমাঞ্চকর জয় পেয়েছে পিএসজি।