২৪ ডিসেম্বর ২০২৪, ৫:২৬ পিএম
মঙ্গলবার মাওলানা ভাসানী স্টেডিয়ামে প্যারাগন গ্রুপ বিজয় দিবস হকিতে হকি খেলোয়াড় কল্যাণ ঐক্য পরিষদ অঘটন ঘটিয়ে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীকে ৪-৩ গোলে হারিয়েছে।
হকি খেলোয়াড় কল্যাণ ঐক্য পরিষদেও হয়ে মাঠে নামেন জাতীয় দলের ফরেয়ার্ড পুস্কর খীসা মিমো, হাসান জুবায়ের নিলয়, মিডফিল্ডার প্রিন্স লাল সামন্ত এবং জাতীয় যুব হকি দলের প্রতিশ্রুতিশীল বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়। তার তাদের পারফেক্ট টিমওয়ার্কে শেষ পর্যন্ত হাসে বিজয়ের হাসি।
সাত জাতীয় খেলোয়াড়ের সমন্বয়ে গঠিত বিমানবাহিনীর সাথে সমানে পাল্লা দিয়েই খেলেছে হকি খেলোয়াড় কল্যাণ ঐক্য পরিষদ। ধীওে তারা বসে যায় চালকের আসনে। বিমান বাহিনী শেষ পর্যন্ত আপ্রান চেষ্টা করেও আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি।
হকি খেলোয়াড় কল্যাণ ঐক্য পরিষদের জার্স গায়ে মাঠে নামেন জাতীয় যুব দলের সদস্য আমিরুল ইসলাম, শিমুল ইসলাম, মোঃ আবদুল্লাহ এবং তারা সবাই বার বার প্রতিপক্ষ রক্ষণ ব্যূহ ভেদ করেন।
প্রথম কোয়ার্টার শেষ পর্যন্ত গোলশূন্য থাকার পর ১৭তম মিনিটে রাকিবুল হাসান রকির দুর্দান্ত ফিল্ড গোলে এগিয়ে যায় বিমানবাহিনী। তবে এশিয়ান জুনিয়র হকিতে শীর্ষ ফর্মে থাকা আমিরুল ইসলাম ৩৩তম মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে সমতা আনেন।
৩৫তম মিনিটে হাসান জুবায়ের নিলয় হকি খেলোয়াড় কল্যাণ ঐক্য পরিষদকে এগিয়ে দেন এবং ৪২তম মিনিটে আব্দুল আলিমের গোলে তৃতীয় কোয়ার্টারের শুরুতে দল ৩-১ গোলে এগিয়ে যায়।
আরশাদ হোসেন ৪৪তম মিনিটে বৈদ্যুতিক ফ্লিকে বিমান বাহিনীর দ্বিতীয় গোল করে স্কোর লাইন ৩-২ করেন। তবে ম্যাচের ৫৭ মিনিটে আবদুল আলিমের দ্বিতীয় গোলটি বিমানবাহিনীকে হতাশায় ফেলে দেয়। ৫৯ মিনিটে বিমানবাহিনীর সোহানুর রহমান সবুজ তৃতীয় গোলটি করলেও কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই বাজে খেরা শেষের লম্বা বাঁশি। হকি খেলোয়াড় কল্যাণ ঐক্য পরিষদ খেলোয়াড়রা নেচে নেচে উদযাপন করেন তাদেও স্মরনীয় মুহুর্ত।
শুরু থেকেই প্রতিপক্ষকে চেপে ধরে বাংলাদেশ, সুফল মিলতেও তাই দেরি হয়নি। ধারার বিপরীতে গিয়ে ম্যাচ ফেরে চাইনিজ তাইপে। এরপর এগিয়েও যায় দলটি। আগের ম্যাচে এগিয়ে গিয়ে মালয়েশিয়ার বিপক্ষে হেরেছিল বাংলাদেশ, আবার তেমন হারের চোখরাঙানি নয়ত? এমন দুশ্চিন্তা দূর করতে সময় নেয়নি তারা। ঘুরে দাঁড়িয়ে শেষ পর্যন্ত চাইনিজ তাইপেকে ৮-৩ গোলে বিধ্বস্ত করেছে মশিউর রহমান বিপ্লবের শিষ্যরা।
ভারতের বিহারে রাজগীর স্পোর্টস হকি কমপ্লেক্সে বাংলাদেশের বাধা শুধু তাইনিজ তাইপে ছিল না, পরীক্ষা নিয়েছে ৩২ ডিগ্রি তাপমাত্রার গরমও। প্রথম দুই কোয়ার্টারে সমানতালে লড়ে দুই দল। পরের দুই কোয়ার্টারে স্রেফ বাংলাদেশের আধিপত্য। খেলায় দুটি করে গোল করেন মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, রাকিবুল হাসান রকি ও আশরাফুল ইসলাম। একবার করে প্রতিপক্ষের জাল কাঁপান সোহানুর রহমান সবুজ ও অধিনায়ক রেজাউল করিম বাবু।
চতুর্থ মিনিটে বাংলাদেশকে এগিয়ে দেন আব্দুল্লাহ। সোহানুর রহমান সবুজের পাস থেকে রিভার্স হিটে জাল কাঁপান তিনি। ১০ মিনিটে দূরপাল্লার শটে চাইনিজ তাইপেকে সমতায় ফেরান ইউ সুং সিয়ে। ১৩ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার পায় বাংলাদেশ। তবে আশরাফুলের ড্রাগ ফ্লিক সহজেই ঠেকান চায়নিজ তাইপের গোলরক্ষক ওয়েই ইউ সিয়েন।
আরও পড়ুন
শেষ মুহূর্তে চেলসি ফরোয়ার্ডকে ছিনিয়ে নিল মিলান |
![]() |
দ্বিতীয় কোয়ার্টারের তৃতীয় মিনিটে পরপর দুটি পেনাল্টি কর্নার পায় চায়নিজ তাইপে। প্রথমবার জাল খুঁজে না পেলেও দ্বিতীয় পেনাল্টি থেকে গোল করেন সিয়েন। ডান পাশের দূরূহ কোণে জাল খুঁজে নিয়ে দলকে এগিয়ে দেন ১-২ ব্যবধানে।
মনে হচ্ছিল, দ্বিতীয় কোয়ার্টার শেষ করার আগে হয়ত পিছিয়েই থাকবে বাংলাদেশ। সেটি হতে দেননি আব্দুল্লাহ। ২৬ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে আশরাফুলের বাড়ানো পাসে আলতো ছোঁয়ায় বল জালে পাঠান তিনি। ২-২ ব্যবধানে ড্র নিয়ে বিরতিতে যায় তারা।
তৃতীয় কোয়ার্টারে একক আধিপত্য বিস্তার করে বাংলাদেশ। ৩৬ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে দুর্দান্ত ড্রাগ ফ্লিকে ব্যবধান ৩-২ করেন সবুজ। এরপর একই মিনিটে জোড়া গোল করেন রকি। দুটো গোলই আসে ৪২ মিনিটে। প্রথমটি মেহেদীর পাস থেকে। আর দ্বিতীয় গোলে অবদান কেবল তাঁরই। ৪৫ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে জোরালো শটে দলের ষষ্ঠ গোলটি করেন আশরাফুল।
আরও পড়ুন
একগাদা টেস্ট ক্রিকেটার নিয়েও ‘এ’ দলের ইনিংস হার |
![]() |
শেষ কোয়ার্টারে তিনটি পেনাল্টি কর্নারের দুটি থেকে গোল আদায় করে বাংলাদেশ। ৫৬ মিনিটে গোলের খাতায় নাম লেখান অধিনায়ক বাবু। যদিও পেনাল্টি কর্নার থেকে ড্রাগ ফ্লিক করেছিলেন আশরাফুল। তাঁর শট বাবু স্টিক ছুঁয়ে আশ্রয় নেয় জালে। দুই মিনিট পর নিজের দ্বিতীয় গোলের দেখা পান আশরাফুল। ৬০ মিনিটে চায়নিজ তাইপে এক গোল পরিশোধ করলেও তা শুধু ব্যবধানই কমিয়েছে।
সোমবার ‘বি’ গ্রুপ থেকে শেষ ম্যাচে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন দক্ষিণ কোরিয়ার মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। এর আগে প্রথম ম্যাচে গতকাল মালয়েশিয়ার কাছে ৪-১ গোলে হার মানে বাংলাদেশ দল। এই গ্রুপ থেকে তিন পয়েন্ট করে পেয়েছে তিনটি দল দক্ষিণ কোরিয়া, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া। বাংলাদেশ ম্যাচ খেলেছে দুটি। চাইনিজ তাইপে দুই খেলায় দুটিতেই হেরেছে।
এশিয়া কাপ হকিতে বাংলাদেশের শুরুটা হলো বেশ হতাশার। র্যাঙ্কিংয়ে অনেক এগিয়ে থাকা মালয়েশিয়ার বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ৪-১ গোলের হার নিয়ে মাঠ ছাড়লেন আশরাফুল-রেজাউলরা। বাংলাদেশের হয়ে একমাত্র গোলটি করেন আশরাফুল ইসলাম। তাঁর গোলেই প্রথমে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ, পরে নিজেরা হজম করল এক হালি।
ভারতের রাজগীরে অনুষ্ঠিত ম্যাচে র্যাঙ্কিংয়ে ১২ নম্বরে থাকা মালয়েশিয়ার বিপক্ষে শুরুটা ভালোই হয়েছিল ২৯তম নম্বরে থাকা বাংলাদেশের। প্রথম কোয়ার্টারে ছিল গোলশূন্য ড্র। ম্যাচের ৫ মিনিটেই মালয়েশিয়ার পেনাল্টি কর্নার থেকে সাঈদ চোলানের শট দারুণভাবে ঠেকান গোলরক্ষক বিপ্লব কুজুর।
আরও পড়ুন
এশিয়া কাপ খেলতে ভারতের পথে হকি দল |
![]() |
দ্বিতীয় কোয়ার্টারে আক্রমণাত্মক শুরু করে বাংলাদেশ। ১৬ মিনিটে দলকে এগিয়ে দেন আশরাফুল। ২৫ মিনিটে বাংলাদেশের রক্ষণভাগের ভুলে গোল পেয়ে সমতায় ফেরে মালয়েশিয়া।
তৃতীয় কোয়ার্টারে শুরুতে বিপ্লবের দুর্দান্ত সেভে বেঁচে যায় বাংলাদেশ। কিন্তু ৩৬ মিনিটে আনুয়ারের শটে এগিয়ে যায় মালয়েশিয়া। তারপর বেশ কয়েকবার সুযোগ পেলেও নিজেদের জাল সামাল দিতেই বেশি হিমশিম খেতে হয় বাংলাদেশকে।
শেষ কোয়ার্টারে ফিরে আসার সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। পরপর দুটি পেনাল্টি কর্নার পেলেও কাজে লাগাতে পারেননি আশরাফুল। উল্টো ৪৮ ও ৫৪ মিনিটে দুটি গোল করে জয় নিশ্চিত করে মালয়েশিয়া।
তিন বছর আগের এশিয়া কাপে মালয়েশিয়ার কাছে ৮-১ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ। এবার ব্যবধান কিছুটা কমালেও, হার এড়ানো গেল না। প্রতিযোগিতায় কাল চায়নিজ তাইপের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ।
ভারতে শনিবার শুরু হবে এশিয়া কাপ হকি। টুর্নামেন্টে অংশ নিতে মঙ্গলবার সকাল ১০টায় দেশ ছেড়েছে বাংলাদেশ জাতীয় দল। খেলাগুলো হবে রাজগীর শহরের বিহার স্পোর্টস ইউনিভার্সিটি হকি স্টেডিয়ামে। প্রতিযোগিতার পর্দা নামবে ৭ সেপ্টেম্বর।
রাতের মধ্যে বিহারে পৌঁছে উদ্বোধনী দিনে মাঠে নামবে বাংলাদেশ, প্রতিপক্ষ মালয়েশিয়া। ‘বি’ গ্রুপ থেকে ৩০ আগস্ট বাংলাদেশকে মোকাবিলা করবে চাইনিজ তাইপে। ১ সেপ্টেম্বর গ্রুপের শেষ ম্যাচে লাল সবুজের প্রতিনিধিরা মাঠে নামবে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে।
৮ দলের এই প্রতিযোগিতার আরেক গ্রুপে আছে স্বাগতিক ভারত, চীন, জাপান ও কাজাখস্তান। পয়েন্টে ভিত্তিতে দুই গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দল খেলবে সেমিফাইনালে।
আরও পড়ুন
হকিতে হট্টগোল, খেলোয়াড়দের সম্মানহানির অভিযোগ |
![]() |
হকি এশিয়া কাপের চ্যাম্পিয়ন দল সরাসরি খেলার সুযোগ পাবে ২০২৬ সালের হকি বিশ্বকাপে। বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ থাকবে এই প্রতিযোগিতার ২ থেকে ৫ নম্বর দলেরও। তার আগে অবশ্য বাছাইপর্ব পেরোতে হবে।
হকি এশিয়া কাপে বাংলাদেশ সুযোগ পায় মূলত পাকিস্তান নাম প্রত্যাহার করে নেওয়ায়। আকস্মিক পাওয়া সুযোগ কাজে লাগানোর কথা বলেন দলের খেলোয়াড়েরা। সেরা চার-পাঁচে থেকে বিশ্বকাপ বাছাই খেলার লক্ষ্য মশিউর রহমান বিপ্লবের দলের।
তবে কঠিন এই প্রতিযোগিতার আগেই বড় ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। ১৮ সদস্যের দল থেকে এক সঙ্গে বাদ দেওয়া হয় চার সিনিয়র সদস্যকে— পুস্কর খিসা মিমো, মঈনুল ইসলাম কৌশিক, নাঈম উদ্দিন ও আবেদ উদ্দিন।
বাদ পড়ার কারণ জানেত চাইলে গত মঙ্গলবার রাতে ঘটে অনভিপ্রেত ঘটনা। খেলোয়াড়দের অশ্রাব্য ভাষায় গালির অভিযোগ ওঠে হকি ফেডারেশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর তপনের বিরুদ্ধে। পরে তার অপসারণ দাবিতে জাতীয় স্টেডিয়ামে সংবাদ সম্মেলনও করেন মিমো, নাঈমরা।
এশিয়া কাপ হকির প্রাথমিক দলে রাখা হয়নি পুস্কর খিসা মিমো, মঈনুল ইসলাম কৌশিক, নাঈম উদ্দিন ও মাহবুব হোসেনদের মতো সিনিয়রদের। বাদ পড়াদের অভিযোগ- কেবল অন্যায়ভাবে বাদ দেওয়াই নয়, বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের (বাহফে) কর্মকর্তা আবু জাফর তপনের কাছ থেকে প্রকাশের অযোগ্য গালি এবং সম্মানহানির শিকার হয়েছেন তারা।
মঙ্গলবার রাতে ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল হাসানের রুমে ঘটে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। জানা যায়, রিয়াজুলের সঙ্গে কথা বলার সময় রুমে ঢোকেন জাতীয় দল নির্বাচক কমিটির সদস্য ও ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক আবু জাফর তপন। তার সঙ্গেই কথা বলতে গেলে এক পর্যায়ে তিনি নাঈমে অশ্রাব্য ভাষায় গালি দেন।
আরও পড়ুন
হকি এশিয়া কাপে নেতৃত্বে বাবু, বাদ মিমোসহ চার সিনিয়র |
![]() |
টি-স্পোর্টসের সঙ্গে আলাপে মিমো জানিয়েছেন এই কথা।
“আমাদের মনে হয়েছিল টিম ঘোষণায় অন্যায় করা হয়েছে এবং আমরা ব্যক্তিগত আক্রোশের শিকার। তাই সেক্রেটারির সঙ্গে কথা বলার সময় রুমে ঢোকেন তপন ভাই। তখন সেক্রেটারি তপন ভাইকে বলেন, ওরা কী বলছে শোনেন। পরে ওনার সঙ্গে কথা বলতে গেলে তর্কাতর্কি শুরু হয়।”
“নাঈমকে অশ্রাব্য ভাষায় গালি দেন তপন ভাই। নাঈম এটা মেনে নিতে পারেনি। তখন ও তপন সাহেবকে বলে, কোনো খেলোয়াড়কে এভাবে আপনি গালি দিতে পারেন না। তারপর এক পর্যায়ে ধস্তাধস্তিও হয়।”
আরও পড়ুন
হাঁটুর চোটে মাঠের বাইরে কাই হাভার্টজ |
![]() |
যার বিরুদ্ধে অভিযোগ সেই তপন অবশ্য গালি দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। বুধবার সন্ধ্যায় ফোন করলে এই প্রতিবেদককে বলেন,
“ওরা সেক্রেটারির সঙ্গে কথা বলতে এসেছিল এটা ঠিক। তাদেরকে কেন রাখা হয়নি এটা জানতে চেয়েছে ওরা। এখন কথা যখন হয়, তখন সবকিছু নরমাল হয় না, অনেক সময় উত্তেজিত হয়ে কথা হয়; সেরকমই কথা হয়েছে।”
ঘটনা কেবল উত্তেজিতের মধ্যেই থেকেছে নাকি আপনি নির্দিষ্ট কোনো গালি দিয়েছেন তাদের? এমন প্রশ্নে তপন বলেন,
“অনেক সময় যেটা হয়, রাগের মাথায় মানুষ উচ্চস্বরে কথা বলে এরকম কিছু কথা হয়েছে।”
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অভিযোগ অস্বীকার করায় বরং অবাক হয়েছেন নাঈম। টি স্পোর্টসের সঙ্গে কথোপকথনে তিনিও মিমোর মতো একই অভিযোগ করেন।
“(তপনের বক্তব্য) সম্পূর্ণ মিথ্যা। এ ব্যাপারে আমরা লিখিত অভিযোগ দেবো।”
এরপর জানান দল থেকে বাদ পড়েছেন বলে কোনো ক্ষোভ নেই তার।
“দল থেকে বাদ পড়েছি এটা নিয়ে স্বাভাবিক আছি। কিন্তু কষ্ট লাগছে আমাদের সর্বশেষ ট্যুরের (এএইচএফ কাপ) ক্ষোভ এখানে টেনে আনা হয়েছে। আমরা ওনার (তপন) ব্যক্তিগত আক্রোশের শিকার হয়েছি।”
চলতি বছরের এপ্রিলের এএইচএফ কাপ হকি সামনে রেখে ফেব্রুয়ারিতে কুপার টেস্টের আগে বাদ দেওয়া হয় রাসেল মাহমুদ জিমিকে। সে সময় অভিজ্ঞ তারকার বাদ পড়া নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়ে বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন। এবার একসঙ্গে চারজন সিনিয়র খেলোয়াড়কে এশিয়া কাপের প্রাথমিক দলেই রাখেনি ফেডারেশন।
২৭ আগস্ট থেকে ভারতে শুরু হতে যাওয়া এশিয়া কাপ হকির দল থেকে বাদ পড়েছেন চার সিনিয়র সদস্য— পুস্কর খিসা মিমো, মঈনুল ইসলাম কৌশিক, নাঈম উদ্দিন ও আবেদ উদ্দিন। এতে অনেকটা অনাভিজ্ঞ দল নিয়ে এশিয়ার মঞ্চে যাচ্ছে বাংলাদেশ দল।
চার সিনিয়র খেলোয়াড় বাদ পড়ায় এশিয়া কাপে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবেন রেজাউল করিম বাবু। সহ-অধিনায়ক হিসেবে আশরাফুল ইসলামের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। এর আগেও বাংলাদেশ হকি দলকে নেতৃত্ব দেয়ার অভিজ্ঞতা আছে বাবুর। নতুন করে দায়িত্ব পেয়ে বাবু বললেন, 'বাংলাদেশ দলকে নেতৃত্ব দেওয়া সবসময় আনন্দের। আমি চেষ্টা করব সেই আস্থার প্রতিদান দিতে।’
আরও পড়ুন
হকি এশিয়া কাপে কঠিন গ্রুপে বাংলাদেশ, খেলবে উদ্বোধনী ম্যাচে |
![]() |
বাদ পড়াদের নিয়ে কোচ মশিউর রহমান বিপ্লব বলেন, ‘নির্বাচক কমিটির একসঙ্গে কথা বলে কাজগুলো করেছি। যারা বাদ পড়েছেন তারা ১২০ দিন খেলার বাইরে। দল গঠনের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা এবং তারুণ্যকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে ও যাদের ফিজিক্যাল ফিটনেস ভালো তাদের গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।’
ভারতে গিয়ে খেলতে রাজি না হওয়ায় হকি এশিয়া কাপ থেকে নাম প্রত্যাহার করে পাকিস্তান। এতে সুযোগ পায় বাংলাদেশ। সেটা আগে থেকে অনুমেয় ছিল বলেই ক্যাম্প চালু রেখেছিল বাংলাদেশ। মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে চলমান সেই ক্যাম্পে ছিলেন বাদ পড়াদের চারজনই। তবে দল ঘোষণায় কেন তাদের রাখা হলো না, তা নিয়ে কোচের ব্যাখ্যা, ‘তারা আগের দলে ছিল না। ম্যানেজমেন্ট যদি তাদের ক্যাম্পে না ডাকত তাহলে আপনারাই বলতেন তাদেরকে কেন ডাকলেন না।’
তবে কি তাদের ক্যাম্পে ডাকা হয় নিয়ম রক্ষার জন্য? এমন প্রশ্নে বিপ্লব বলেন, ‘সম্মান রক্ষার্থ্যে তাদের রাখা হয়।’
আরও পড়ুন
কুড়িয়ে পাওয়া সুযোগ কাজে লাগাতে চান হকির সোহান-মিমোরা |
![]() |
হকি এশিয়া কাপে বাংলাদেশ দল:
গোলরক্ষক: বিপ্লব কুজুর, নুরুজ্জামান নয়ন
ডিফেন্ডার: রেজাউল করিম বাবু (অধিনায়ক), আশরাফুল ইসলাম (সহ-অধিনায়ক), ফরহাদ আহমেদ সিটুল, সোহানুর রহমান সবুজ, হোজাইফা হোসেন, আমিরুল ইসলাম, মেহেদী হাসান
মিডফিল্ড: রোমান সরকার, ফজলে হোসেন রাব্বি, আল নাহিয়ান শুভ, তৈয়ব আলী, তানভীর হোসেন সিয়াম
ফরোয়ার্ড: ওবায়দুল হোসেন জয়, রাকিবুল হাসান, আরশাদ হোসেন, মো. আব্দুল্লাহ।
স্ট্যান্ডবাই: শাহিদুল রহমান সাজু
No recent posts available.