
যুব বিশ্বকাপ সামনে রেখে কদিন আগে মালয়েশিয়ায় চারটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলে আসে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২১ হকি দল। এরই ধারাবাহিকতায় এবং উন্নত প্রশিক্ষণের জন্য নভেম্বরে হকি দলকে পাঠানোর কথা ছিল সুইজারল্যান্ডে। কিন্তু ভিসা জটিলতায় সফরটি বাতিল করেছে বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনকে (বাহফে)।
আগামী ২৮ নভেম্বর থেকে ভারতে শুরু হবে অনূর্ধ-২১ হকি বিশ্বকাপ। আর এ মাসের ২৮ তারিখ যাওয়ার কথা ছিল সুইজারল্যান্ডে। প্রায় ২৫ জনের কন্টিনজেন্ট নিয়ে ছিল পরিকল্পনা। তবে এতসংখ্যক জনের ভিসা আবেদনের সময় (সাক্ষাৎকার) দূতাবাস দিতে পারেনি হকি ফেডারেশনকে। যে কারণে সফরটি বাতিল করতে হয়েছে বলে জানা গেছে।
সুইজারল্যান্ডে কেবল স্বাগতিক দেশই নয়, সেখানে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষেও দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলার পরিকল্পনা ছিল নতুন কোচ আইকম্যানের। ইউরোপ সফর বাতিল হওয়া বাংলাদেশকে কিছুটা সমস্যাতেই ফেলে দিল।
যে কারণে এখন ভারতে ১০ দিন আগে দলকে পাঠানোর পরিকল্পনা ফেডারেশনের। ১৮ নভেম্বর ঢাকা ছাড়বে যুব দলটি। ভারতে গিয়ে সুইজারল্যান্ডসহ আরও কয়েকটি দলের সঙ্গে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার ব্যাপারে আলাপ চলমান বলে জানা গেছে।
অনূর্ধ্ব-২১ দলের বিশ্বকাপ প্রস্তুতির মধ্যেই ঢাকায় হবে বিশ্বকাপ হকির বাছাইয়ের প্লে অফ সিরিজ। ১৩, ১৪ ও ১৬ নভেম্বর পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলবে বাংলাদেশ। সিনিয়র জাতীয় দলে অনূর্ধ্ব-২১ দলের ৮ জন খেলোয়াড় রয়েছেন।
No posts available.
৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ৮:২০ পিএম
৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ৭:১৯ পিএম
৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ৫:৩৮ পিএম
৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ৭:৩৭ পিএম
৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ৩:২৬ পিএম

পূর্ব পাকিস্তান আমলে আব্দুস সাদেক, বশির আহমেদ, ইব্রাহিম সাবেরদের হকির স্টিক ওয়ার্ক এতোটাই মুগ্ধতা ছড়িয়েছিল যে, পাকিস্তান আমলে এই ত্রয়ীকে ঘিরে পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালীরা দেখেছে অনেক বড় স্বপ্ন। তবে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে হকি দেখাতে পারেনি বড় কোনো স্বপ্ন। ১৯৭৮ সালে ব্যাংকক এশিয়ান গেমসের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক হকি-তে পথচলা শুরু বাংলাদেশের। এশিয়ান গেমসে কিংবা এশিয়া কাপ হকিতে এক সময়ে সেরা ৬-এ থাকতে পারাটাই ছিল বড় কিছু। এশিয়ার অনগ্রসর হকি দেশগুলোকে নিয়ে এ এইচ এফ কাপে চারবার (২০০৮, ২০১২, ২০১৬, ২০২২) চ্যাম্পিয়ন হওয়াটা ছিল প্রত্যাশিত। সার্কভুক্ত দেশগুলোকে নিয়ে অনুষ্ঠিত সাউথ এশিয়ান গেমসে তিনবার (১৯৯৫, ২০১০, ২০১৬)ব্রোঞ্জ পদক জয়ও ছিল প্রত্যাশিত। অনিয়মিত হকি লিগের বিরূপ প্রভাব পড়তে পড়তে র্যাঙ্কিং নামতে নামতে ২০১১, ২০১২-তে ৪০ এ এসে পর্যন্ত দাঁড়িয়েছিল। সেই তলানী থেকে পর্যায়ক্রমে ২৯ নম্বরে উঠে বাংলাদেশের হকি এখন হকি দেখাচ্ছে অবিশ্বাস্য স্বপ্ন।
বাংলাদেশের হকির আগমনী বার্তা দিচ্ছেন একদল তরুণ তুর্কি। এই প্রথম হকির কোনো বৈশ্বিক আসরে খেলার টিকিট পেয়ে অবিশ্বাস্য অর্জন করেছে বাংলাদেশ জুনিয়র হকি দল। আমিরুল ইসলাম নামের এক তরুণ পেনাল্টি কর্নার স্পেশালিস্টের কৃতিত্বে তামিলনাড়ুুর মাধুরিতে জুনিয়র হকি বিশ্বকাপে চ্যালেঞ্জার ট্রফি জিতে নিয়েছে বাংলাদেশ।
গল্পটা রূপকথার মতো। হকির সেরাদের সঙ্গে লড়াইটা অসম হবে, তা ধরে নিয়েই তামিলনাড়ুর ফ্লাইটে উঠেছে বাংলাদেশ জুনিয়র হকি দল। তবে অসাধ্য সাধনের গল্প লিখেছে দলটি।
প্রিলিমিনারী রাউন্ডে পুল 'এফ'-এ হকির তিন পাওয়ার হাউজ অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে কী লড়াই-ই না করেছে বাংলাদেশের তরুণ তুর্কিরা। দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে মাত্র ১৭ মিনিটের মধ্যে ৩ গোল খেয়ে যখন বড় ব্যবধানে হারের অশনি সংকেত দেখেছে টিম ম্যানেজমেন্ট, সেই ম্যাচেই কিনা আমিরুলের হ্যাটট্রিকে ৩-৩ গোলে ড্র-করে দেখিয়েছে বীরত্ব বাংলাদেশ জুনিয়র দল। অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৩-৫ গোলে এবং ফ্রান্সের কাছে ২-৩ গোলে হার-এ ও ছিল লড়াকু খেলার প্রতিফলন। এই তিনটি ম্যাচের মধ্যে একটি জিততে পারলে ৯ থেকে ১৬ নম্বর পজিশনের লড়াইয়ে থাকতে পারতো বাংলাদেশ।
১৭ থেকে ২৪ নম্বর অবস্থানের লড়াইয়ে শুরুতে ওমানকে গোলবন্যায় ভাসিয়ে (১৩-০) গল্পটা শুরু করে বাংলাদেশ। পরের ম্যাচে এশিয়ান হকির পাওয়ার হাউজ দক্ষিণ কোরিয়াকে ৫-৩ গোলে হারিয়ে মাথা উঁচু করা জয়ে আত্মবিশ্বাস নিয়েছে বাড়িয়ে হকি দল। সোমবার সন্ধ্যায় ইউরোপীয় শক্তি অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে ৫-৪ গোলে জয়ে ১৭তম স্থান নিশ্চিত করে চ্যালেঞ্জার ট্রফি জয়ে তামিলনাড়ুু থেকে উড়িয়েছে বাংলাদেশ জুনিয়র হকি আগমনী বার্তা।
যে রূপকথার প্রধান নায়ক আমিরুল। ৬ ম্যাচে ৫ হ্যাটট্রিক, জুনিয়র হকি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ১৮ গোলে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন ঝাকড়া চুলের বাবরি দোলানো এই পেনাল্টি কর্নার স্পেশালিস্ট। শুধুমাত্র হ্যাটট্রিক মিস করেছেন ফ্রান্সের বিপক্ষে।

শেষ কোয়ার্টারে একের পর এক আক্রমণে বাংলাদেশ শিবিরে ভীতি ছড়ায় অস্ট্রিয়া। ৯টি পেনাল্টি কর্নার আদায় করে নেয় ইউরোপের দলটি। যার মধ্যে গোল পায় তিনটিতে। তারপরও ৫-৩ ব্যবধানে জিতেছে বাংলাদেশ।
অস্ট্রেয়ার বিপক্ষে আবারও হ্যাটট্রিক করেছেন আমিরুল ইসলাম। দারুণ এই জয়ে জুনিয়র হকি বিশ্বকাপে ১৭তম স্থান লাভ করার পাশাপাশি চ্যালেঞ্জার্স কাপ নামের শিরোপাও জিতল লাল সবুজের প্রতিনিধিরা।
ভারতের মাদুরাই আন্তর্জাতিক হকি স্টেডিয়ামে আজ অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে বিশ্বকাপের ১৭তম স্থান নির্ধারণী ম্যাচে টার্ফে নামে বাংলাদেশ। খেলার পাঁচ মিনিটে দুটি পেনাল্টি কর্নার পায় অস্ট্রিয়া। তবে বাংলাদেশের রক্ষণ ভাঙতে পারেনি তারা। প্রথম কোয়ার্টার শেষের বাংলাদেশও পায় দুটি পেনাল্টি কর্নার। দ্বিতীয় পেনাল্টি কর্নার কাজে লাগান আমিরুল ইসলাম। তাঁর গোলে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ।
২৭ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন হুজাইফা হোসেন। পরে আরও দুটি পেনাল্টি কর্নার পেলেও কাজে লাগাতে পারেনি। তৃতীয় কোয়ার্টারে ফিল্ড গোলে ব্যবধান ৩-০ করেন রাকিবুল হাসান রকি। এই কোয়ার্টারে দুটি পেনাল্টি কর্নার পায় বাংলাদেশ। কিন্তু গোলে রূপ দিতে পারেনি। অস্ট্রিয়া অবশ্য এক গোল শোধ করে। ৪৪ মিনিটে গোলটি করেন আন্দোর লোসোনসি।
শেষ কোয়ার্টারে রোমাঞ্চ ছড়ায়। বাংলাদেশের ওপর একের পর এক চাপ তৈরি করে অস্ট্রিয়া। মরিয়া হয়ে ওঠে ম্যাচে ফিরতে। ৫০ ও ৫২ মিনিটে পেনাল্টি স্ট্রোক থেকে গোল করে হ্যাটট্রিক পূরণ করেন আমিরুল। বিশ্বকাপে এটি তাঁর পঞ্চম হ্যাটট্রিক, সবমিলিয়ে গোল করেছেন ১৮টি। যা টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ।
আমিরুলের হ্যাটট্রিকের পরও বাংলাদেশকে জয় পেতে বেশ ঘাম ঝরাতে হয়। শেষ কোয়ার্টারে ৯ পেনাল্টি কর্নার পাওয়া অস্ট্রিয়ার হয়ে ৩ গোল করেন কেলনার বেঞ্জামিন, কায়সার জুলিয়ান ও নিকোউইয়াক মাতেউসজ।

হকির যে কোনো পর্যায়েই প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলছে বাংলাদেশ। ভারতে চলমান জুনিয়র হকি বিশ্বকাপে (অনূর্ধ্ব-২১) উজ্জ্বল বাংলাদেশের পারফরম্যান্স। গ্রুপ পর্বের পর স্থান নির্ধারণী খেলায় ওমানের বিপক্ষে ১৩-০ গোলে জেতার পর শুক্রবার লাল সবুজের প্রতিনিধিরা ঐতিহাসিক এক জয় পেয়েছে হকি বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দেশ দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে। এবার আরও বড় কিছু অর্জনের সামনে মেহরাব হাসান সামিন- আমিরুল ইসলামরা।
সোমবার ১৭তম স্থান নির্ধারণী খেলায় অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে টার্ফে নামবে বাংলাদেশ। এই ম্যাচটি জিতলে বাংলাদেশ স্থান পাবে ১৭-তে। পাশাপাশি ‘চ্যালেঞ্জার্স কাপ’ নামে একটি ট্রফিও পাবে কোচ আইকম্যানের দল, শেষ ৮ দলের মধ্যে সেরা হওয়ায়। দারুণ খেলে এরই মধ্যে প্রশংসা পাচ্ছেন বাংলাদেশ যুব হকি দলের খেলোয়াড়েরা। এবার ট্রফি পেলে সেটি হবে তাঁদের জন্য বাড়তি পাওয়া।
বাংলাদেশ দল এখন অবস্থান করছে ভারতের মাদুরাই। সেখানেই সোমবার বিকেল ৫টায় অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামবে দল। সেখান থেকে মুঠোফোনে দলের অধিনায়ক মেহরাব হাসান বলেন, ‘আমরা এতদূর এসেছি, আর সামনে একটি মাত্র ম্যাচ আছে, সেখানে জয় নিয়ে ফিরতে চাই।’ জিতলে মিলবে ট্রফি। অনুভূতি কাজ করছে বাংলাদেশ অধিনায়কেরও, ‘আমরা যে এ পর্যন্ত আসব সেটি হয়ত আগে ভাবিনি। কেবল ম্যাচ বাই ম্যাচ এবং নিজেদের ওপর বিশ্বাস রেখেছি, এবং দলের সবার অক্লান্ত পরিশ্রমের ফল পেয়েছি। এখন কালকের ম্যাচ জিতলে শুনেছি ট্রফি পাবো। সেটি আমাদের জন্য নিঃসন্দেহে দারুণ হবে।’
বিশ্বকাপে ব্যক্তিগতভাবে অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স দেখিয়ে চলেছেন হকির হামজা খ্যাত আমিরুল ইসলাম। পাঁচ ম্যাচের মধ্যে চারটিতে হ্যাটট্রিকের পাশাপাশি করেছেন মোট ১৫ গোল। নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে বেশ খুশি হকির এই উঠতি তারকা, ‘নিজের পারফরম্যান্সে সত্যি অনেক খুশি। ভাবিনি এতগুলো গোল হবে, কালকে আমাদের শেষ ম্যাচ, সবার কাছে দোয়াপ্রার্থী।’

বিশ্বকাপে বাংলাদেশ প্রথম ম্যাচ খেলে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। হকিতে শক্তিশালী এই দলটির বিপক্ষে লড়াই করে বাংলাদেশ হার মানে ৫-৩ ব্যবধানে। ওই ম্যাচে তিনটি গোলই ছিল আমিরুলের। পরের ম্যাচেও দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেন ফরিদপুর থেকে উঠে আসা এই হকি খেলোয়াড়। ম্যাচটি বাংলাদেশ ড্র করে ৩-৩ ব্যবধানে। এরপর গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ফ্রান্সের বিপক্ষে আরও একবার বুক চিতিয়ে লড়াই করে বাংলাদেশ। তবে সেদিন হারতে হয় ৩-২ গোলে। এবার শেষ ম্যাচটি জিতে দেশে ফিরতে চান আমিরুল। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষেও মেলে ধরতে চান নিজেকে, ‘আমাদের লক্ষ্য ছিল অন্তত সেরা ১৬ এর মধ্যে থাকা। সেটি হয়নি। এখন আমরা ১৭তম হতে চাই। কালকের দেশের মানুষকে আরেকটি জয় উপহার দিতে চাই।’
বিশ্বকাপে কাল জিতলে সেটি হবে আরেকটি নতুন ইতিহাস। সেই সম্ভাবনাও আছে বেশ। একদিন আগে কোরিয়াকে হারানো বাংলাদেশ এখন আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে। তা ছাড়া এফআইএস র্যাঙ্কিংয়ে কোরিয়ার (১৬) চেয়ে পাঁচ ধাপ পেছনে অস্ট্রিয়া (২১)। সেখানে বাংলাদেশের অবস্থান ২৯-এ।
অথচ এই বিশ্বকাপে যাওয়ার আগে সেভাবে সাহস করে আশা দেখাতে পারেনি কেউ। একে তো কঠিন গ্রুপে পড়া, তার সঙ্গে আছে অপ্রতুল সীমাবদ্ধতা। সেসব ছাপিয়ে বিশ্বকাপে আলো কাড়লেন মুন্না, হোজাইফা, আমান, সিয়াম, দ্বীন ইসলাম, আশরাফুল আমিরুল, সামিনরা।
বাংলাদেশের এমন পারফরম্যান্সে বেশ খুশি কিংবদন্তি সাবেক হকি খেলোয়াড় রফিকুল ইসলাম কামাল, ‘বাংলাদেশ যখন বিশ্বকাপে যাচ্ছে তখন কিন্তু সেভাবে হাইপ ছিল না। গ্রুপে কঠিন প্রতিপক্ষ থাকায় অনেকে বলেছেন হালি-হালি গোল খাবে। কিন্তু কি হলো? তাঁরা অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স দেখিয়েছে এবং যেভাবে খেলছে সেটা অবশ্যই প্রশংসনীয়। প্রমাণ করেছে যে বাংলাদেশের হকি কোন লেভেলে আছে। তাঁদের উৎসাহ দেওয়া উচিত। হকি খেলে তাঁরা তো কিছু পায় না, তাঁদের যেন প্রাপ্য সম্মানটা দেওয়া হয়।’
বাংলাদেশে লিগ হয় না দুই বছর হয়ে গেলো। ডাচ কোচ সিগফ্রাইড আইকম্যানের সঙ্গেও প্রাকটিসের সুযোগটা হয়েছে মাত্র ৩-৪ মাসের। তারপরও ভারতে নিজেদের অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন যুবারা। এবার তাঁদের জন্য পুরস্কারের ব্যবস্থা করা উচিত মনে করেন কামাল, ‘প্রথম থেকে ওরা ধারবাাহিক খেলে গেছে। কোনো ম্যাচেই আমাদেরকে হতাশ করেনি। এমন সাফল্যের পর তাঁদের পুরস্কৃত করা উচিত। আশা করি সরকার এবং ফেডারেশনের পক্ষ থেকে পুরস্কারের ঘোষণা আসবে এবং সেই সঙ্গে দেশে এই খেলোয়াড়দের সংবর্ধনাও দেওয়া উচিত হবে।’
হকির জনপ্রিয় খেলোয়াড় ছিলেন মামুনুর রহমান চয়ন। যাকে পেনাল্টি কর্নার স্পেশালিস্ট বলা হতো। তিনিও বাংলাদেশ জুনিয়র হকি দলকে পুরস্কৃত করার পক্ষে, ‘আমি ইতোমধ্যে আশা করছি দেশে আসলে ওদেরকে বড় রকমের একটা পুরস্কার দেওয়া হবে। এবং সেটা দেয়া উচিত।’ বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে কেমন দেখলেন জানতে চাইলে তিনি বেশ কয়েকবারই উচ্চারণ করেন- ‘এক্সেপশনাল।’ পরে অবশ্য বিস্তারিত করে বলেন, ‘ওরা ভারতে যা করছে সেটি এক কথায় অসাধারণ। এমনটা কেউ-ই হয়ত আমরা আশা করিনি, কিন্তু ওরা করে দেখিয়েছে। আমার ওদেরকে নিয়ে গর্ব অনুভব হচ্ছে।’
বাংলাদেশ জাতীয় হকি দলের অধিনায়ক ছিলেন চয়ন। তিনি মোহামেডান, আবাহনী, উষা ক্রীড়া চক্রের মতো ক্লাবের হয়ে খেলেছেন। নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা অনেক। যে কারণে এই তরুণ খেলোয়াড়দের নিয়ে বেশ সতর্ক হতে বললেন তিনি, ‘দেখেন আমাদের সময় দেখেছি বয়সভিত্তিক পর্যায়ে অনেকে ভালো করছে, কিন্তু তাদেরকে সেভাবে আর নার্সিং করা হয়নি। আমি চাইব এই দলটাকে যেন ধরে রাখে, ওদের যেন সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়, তাহলে হবে কি, আমি আশা করছি এই দলটা সিনিয়র বিশ্বকাপেও আমাদের নিয়ে যাবে। তার জন্য ওদের যত্ন নিতে হবে।’ বিশেষভাবে তিনি নজর দিতে বলেছেন এবং আলাদা পুরস্কৃত করতে বলেছেন আমিরুল ইসলামকে। যাকে রত্ন হিসেবে আখ্যায়িত করেন চয়ন।

হকি জগতে পরিচিত নাম পুস্কর খিসা মিমো। বয়সের কারণে দেখিয়ে তাঁকে সর্বশেষ এশিয়া কাপ ও পাকিস্তানের বিপক্ষে ঘরের মাঠে তিন ম্যাচ সিরিজে রাখেনি ফেডারেশন। তবে জাতীয় দলের বাইরে থাকলেও এই ফরোয়ার্ড সব সময়ই খোঁজ রাখেন দেশের হকি। এমনকি জুনিয়র হকি দল দেশ ছাড়ার আগে সবার সঙ্গে দেখা করেছেন, তাদেরকে উৎসাহ দিয়েছেন। আজ জুনিয়র দল নিয়ে বলেন, ‘ওরা যে টিম হয়ে খেলতেছে এটা আমার কাছে খুব ভালো লেগেছে। ওদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস দেখেছি। ওরা ভালো করার জন্য মরিয়া ছিল এবং সেটি করে দেখিয়েছে। আশা করি কালকের ম্যাচও জিতবে এবং আরও একবার দেশকে গর্বিত করবে।’ দেশে ফিরলে পুরো দলকে যেন প্রাপ্য মর্যাদা দেওয়া হয় সেটির দাবিও মিমো রেখেছেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে, বাংলাদেশ সরকার ও হকি ফেডারেশনের কাছে।
ভারতের দলের সঙ্গেই আছেন হকি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল হাসান। সেখান থেকে তিনি বলেন, ‘আমাদের ছেলেরা দারুণ করেছে। ওদের জন্য দোয়া করবেন, আগামীকাল আমাদের শেষ ম্যাচ যেন জিততে পারি। জেনেছি কালকের ম্যাচ জিতলে চ্যালেঞ্জার্স কাপের একটি ট্রফি দেওয়া হবে। এত পরিশ্রমের পর ছেলেদের এটি উৎসাহ দেবে।’
সেই উৎসাহ আরও কয়েকগুন বেড়ে যেতে পারে খেলোয়াড়দের প্রাপ্য সম্মান, মর্যাদা আর অর্থ পুরস্কারে; সেটি নিশ্চয়ই জানা ফেডারেশনের।

জুনিয়র হকি বিশ্বকাপে (অনূর্ধ্ব-২১) আরও একটি জয় তুলে নিল বাংলাদেশ। স্থান নির্ধারণী খেলায় আজ কোরিয়াকে ৫-৩ ব্যবধানে হারিয়েছে লাল-সবুজের জার্সিধারীরা। এই ম্যাচ পিছিয়ে পড়ে ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প লেখে কোচ সিগফ্রাইড আইকম্যানের দল। আবারও নায়ক বাংলাদেশের হকির হামজা আমিরুল ইসলাম।
ভারতের মাদুরাই আন্তর্জাতিক হকি স্টেডিয়ামে ১০ মিনিটে লি মিন হিয়কের গোলে এগিয়ে যায় কোরিয়া। দ্বিতীয় কোয়ার্টারের ২০ মিনিটে পেনাল্টি স্ট্রোক থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করে তিনি। এরপরই শুরু হয় আমিরুলের স্টিকে ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প।
২১ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার পেতেই আশার আলো দেখতে শুরু করে বাংলাদেশ। আমিরুলও হতাশ করেননি। ২৪ মিনিটে আরেকটি পেনাল্টি কর্নারকে গোলে রূপান্তর করেন এই ডিফেন্ডার। ম্যাচে আনেন সমতা।
তৃতীয় কোয়ার্টারে দুটি পেনাল্টি কর্নার পেলেও তা কাজে লাগাতে পারেনি বাংলাদেশ। ৩৫ মিনিটে পেনাল্টি স্ট্রোক থেকে বাংলাদেশকে এগিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি হ্যাটট্রিকের স্বাদ নেন আমিরুল। জুনিয়র হকি বিশ্বকাপে এটি তাঁর চতুর্থ হ্যাটট্রিক। সবমিলিয়ে টুর্নামেন্ট সর্বোচ্চ ১৫ গোল।
বাংলাদেশ এগিয়ে যাওয়ার পর টানা ৫টি পেনাল্টি কর্নার পেলেও কাজে লাগাতে পারেনি কোরিয়া। চতুর্থ কোয়ার্টারে ৫২ মিনিটে ফিল্ড গোলে ব্যবধান ৪-২ করেন ওবায়দুল জয়। ৫৩ মিনিটে মিন হিয়ক নিজের হ্যাটট্রিক পূরণ করলেও তা কেবল সান্ত্বনাই এনে দিয়েছে কোরিয়ার জন্য। কারণ ৬০ মিনিটে বাংলাদেশের হয়ে পঞ্চম গোলটি করেন রাকিবুল হাসান রকি।
এই জয়ের পর ১৭ নম্বরে থেকে বিশ্বকাপ শেষ করা থেকে কেবল এক ধাপ দূরে বাংলাদেশ। মঙ্গলবার ১৭তম স্থান নির্ধারণীর ম্যাচে অস্ট্রিয়ার মুখোমুখি হবে মেহরাব হোসেন সামিনের দল।

জুনিয়র হকি (অনূর্ধ্ব-২১) বিশ্বকাপে পরপর দুই ম্যাচে হ্যাটট্রিক করে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন ড্র্যাগ অ্যান্ড ফ্লিকের বিশেষজ্ঞ আমিরুল ইসলাম। তৃতীয় ম্যাচে করলেও আরও এক গোল। এবার আগের তিন ম্যাচে পারফরম্যান্স ছাপিয়ে গেলেন; করলেন পাঁচ গোল। চলমান জুনিয়র হকি বিশ্বকাপে তাতে বড় ব্যবধানে ওমানকে উড়িয়ে দিল বাংলাদেশ।
আজ ভারতের মাদুরাইতে স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ওমানের বিপক্ষে ১৩-০ গোলে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। টুর্নামেন্টে তৃতীয় হ্যাটট্রিকসহ মোট ১২ গোল করলেন আমিরুল ইসলাম। স্পেনের শীর্ষ গোলদাতা ব্রুনো আভিলারের ৮ গোলকে টপকে গেলেন ফরিদপুরের এই খেলোয়াড়। আমিরুলের পর এদিন আলো কেড়ে নিয়েছেন হ্যাটট্রিক করা রাকিবুল হাসান রকি। ম্যাচসেরাও হয়েছেন তিনি।
প্রথম জয়ে ২৪ জাতির বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ১৭ থেকে ২০তম স্থানের মধ্যে শেষ করবে তা নিশ্চিত হলো। আগামী ৬ ডিসেম্বর ১৭ থেকে ২০তম স্থান নির্ধারণী ম্যাচে বাংলাদেশ এখন দক্ষিণ কোরিয়া এবং মিশরের মধ্যেকার বিজয়ী দলের মুখোমুখি হবে।
এর আগে সাবেক চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া ও বর্তমান রানার্স-আপ ফ্রান্সের বিপক্ষে লড়াকু ম্যাচ খেলা বাংলাদেশ। পরে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে মর্যাদার ড্রয়ে আত্মবিশ্বাস আরও বাড়ে লাল সবুজের দলের। যার প্রভাব দেখা গেল আজকে স্থান নির্বাচনী ম্যাচে।
আরও পড়ুন
| বিশ্বকাপের ফ্রান্সের বিপক্ষে লড়াই করে হারল বাংলাদেশ |
|
এর আগে ২০১৪ সালে জুনিয়র এশিয়া কাপে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২১ দলের বিপক্ষে ৭-০ গোলের বড় ব্যবধানে হেরেছিল ওমান। এই জয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ জুনিয়র হকি দল ২০১৪ সাল থেকে ওমান অনূর্ধ্ব-২১ দলের বিপক্ষে টানা সাতটি ম্যাচে জয়ের রেকর্ড বজায় রাখল।
একাদশ, পঞ্চদশ এবং ফের পঞ্চদশ মিনিটে টানা তিনটি পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল করে লাল-সবুজের দলের জন্য কাজটি সহজ করে দেন আমিরুল। এরপর ১৯তম ও ২৫তম মিনিটে ফরোয়ার্ড রাকিবুল ওপেন প্লে থেকে আরও দুটি গোল করে ব্যবধান বাড়ান। বিরতির পর রাকিবুল ওপেন প্লে থেকে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন এবং আমিরুল আরও দুটি গোল করে তার গোল সংখ্যা পাঁচে নিয়ে যান।
মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ ও মোহাম্মদ সাজুও গোল উৎসবে যোগ দিয়ে দুজনই দুটি করে গোল করেন। অন্যদিকে ওবায়দুল জয় একটি গোল করে স্কোরশিটে নিজের নাম লেখান।