৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ৮:৫১ পিএম
ঢাকাস্থ পাকিস্তান হাইকমিশন, শনিবার হাই কমিশন প্রাঙ্গনে দ্বিতীয় বারের মত মিয়াঁ সুলতান খান দাবা টুর্নামেন্টের আয়োজন করেছে। বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশন টুর্নামেন্টেটি আয়োজনে সার্বিক সহযোগিতা করে। বার্ষিক এই টুর্নামেন্টটি পাকিস্তানের কিংবদন্তি দাবাড়ু মিয়াঁ সুলতান খানের সাফল্যের প্রতি সম্মান জানিয়ে আয়োজন করা হয়।
এই টুর্নামেন্টে কূটনৈতিক সম্প্রদায়, পেশাজীবি, শিক্ষার্থী এবং সাধারণ মানুষ সহ বিভিন্ন ব্যাকগ্রাউন্ডের প্রায় ২০০ জন দাবা খেলোয়াড়ের অংশগ্রহণে করেছে, যা বাংলাদেশে খেলাটিকে ঘিরে তীব্র আকর্ষণের প্রমাণ দেয়।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশনের সভাপতি সৈয়দ সুজাউদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সাংস্কৃতিক সম্পাদক আশরাফুদ্দিন আহমেদ উজ্জল, গ্র্যান্ডমাস্টার নিয়াজ মুর্শেদ এবং বাংলাদেশের প্রথম আন্তর্জাতিক মাস্টার খেলোয়াড় রানী হামিদ।
ফিলিপাইনের রাষ্ট্রদূত নিনা পি কাইংলেট, শ্রীলঙ্কার হাইকমিশনার ধর্মপাল ওয়েরাক্কোদি, ব্রুনাই দারুসসালামের হাইকমিশনার হাজি হারিস বিন উসমানসহ ঢাকাস্থ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতরা এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
টুর্নামেন্টে সাকলাইন মোস্তফা সাজিদ চ্যাম্পিয়ন এবং মনন রেজা নীড় রানার্সআপ হন। সুব্রত বিশ্বাস এবং নাঈম হক যথাক্রমে তৃতীয় এবং চতুর্থ স্থান অর্জন করেন। সাংস্কৃতিক বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী এবং পাকিস্তান হাইকমিশনার সৈয়দ আহমেদ মারুফ টুর্নামেন্টের বিজয়ী এবং সেরা পারফর্মারদের ট্রফি এবং নগদ পুরস্কার প্রদান করেন।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে নিজ বক্তব্য উপদেষ্টা ফারুকী বাংলাদেশের দাবা খেলোয়াড়দের এবং কূটনৈতিক সম্প্রদায়কে একে অপরের সাথে সংযোগ স্থাপনে চমৎকার সুযোগ প্রদানের জন্য পাকিস্তান হাইকমিশনের প্রশংসা করেন। তিনি পাকিস্তান হাইকমিশনের ভবিষ্যতের যেকোনো উদ্যোগে বাংলাদেশ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সর্বাত্মক সহায়তার আশ্বাস দেন।
পাকিস্তানের হাইকমিশনার সৈয়দ আহমেদ মারুফ টুর্নামেন্ট আয়োজনে সহায়তার জন্য বাংলাদেশ সরকার এবং দাবা ফেডারেশনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি ক্রীড়ানুরাগের মাধ্যমে সীমান্ত অতিক্রম করে মানুষে মানুষে সংযোগ জোরদার করার ক্ষেত্রে ক্রীড়া ইভেন্টের গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন “এই ধরণের ইভেন্টের মাধ্যমেই আমরা পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে মানুষে মানুষে যোগাযোগ এবং বন্ধুত্ব ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন জোরদার করার চেষ্টা করছি”। তিনি আরও বলেন এই ইভেন্টের লক্ষ্য হল মিয়াঁ সুলতান খানের সমৃদ্ধ ইতিহাস উদযাপন করা এবং বাংলাদেশের দাবা প্রেমীদের এবং কূটনৈতিক সম্প্রদায়কে একটি সুস্থ বিনোদনে একত্রিত করা।
টুর্নামেন্টের শুরুতে, হাইকমিশনার প্রিন্স করিম আগা খান (৪র্থ) এর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন এবং তাকে পাকিস্তানের একজন প্রকৃত বন্ধু হিসেবে অভিহিত করেন, যিনি তার দূরদর্শী নেতৃত্বে মানব সেবায় অবিস্বরণীয় অবদান রেখেছেন। টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারীরা তার স্মরণে এক মিনিট নীরবতাও পালন করেন।
হাইকমিশনার টুর্নামেন্টের বিজয়ী এবং সেরা খেলোয়াড়দের অভিনন্দন জানান এবং আগামী বছর তৃতীয় মিয়াঁ সুলতান খান টুর্নামেন্টের জন্য সকল অংশগ্রহণকারীদেরকে অগ্রীম শুভকামনা জানান। তিনি সাংস্কৃতিক বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিক, গ্র্যান্ডমাস্টার, আন্তর্জাতিক মাস্টার এবং গণমাধ্যমকর্মীদের অনুষ্ঠানে উপস্থিতির জন্য ধন্যবাদ জানান।
No posts available.
২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৩০ পিএম
২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০:০৯ পিএম
২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১:০৩ পিএম

দেশের অন্যতম সফল খেলা আর্চারি কদিন ধরেই নেতিবাচক খবরের শিরোনামে। ফেডারেশনটির সাধারণ সম্পাদক তানভীর আহমেদ সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমে অভিযোগ করেছেন, তাঁর অগোচরে ফেডারেশনের তহবিল থেকে ১৪ লাখ টাকার মতো উত্তোলন করা হয়েছে। তাঁকে না জানিয়েই পরিবর্তন করা হয়েছে কোষাধ্যক্ষ।
আজ বৃহস্পতিবার এই ইস্যুতে আর্চারি ফেডারেশনের নির্বাহী কমিটি জরুরি বৈঠকে বসে।সভায় কমিটির ১৪ জনের ১০ জন সদস্যই সাধারণ সম্পাদক তানভীর আহমেদের ওপর অনাস্থা জ্ঞাপন করেছেন। তারা কাজ করতে চান না তানভীরের সঙ্গে।
তানভীর আহমেদ যদিও ফেডারেশনে আর্থিক অনিয়ম ঘটেছে বলে সংবাদমাধ্যমে তুলে ধরেছেন, তবে সাম্প্রতিক ট্র্যাক রেকর্ড বলছে ভিন্ন কথা। তানভীর আহমেদই সম্প্রতি একাধিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। সম্প্রতি তিনি যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়েছিলেন কাউকে না জানিয়ে। পরে জানা যায়, সফরে যাওয়ার আগে নিয়ম অনুযায়ী যুগ্ম সম্পাদককে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব না দিয়ে একজন সদস্যকে দায়িত্ব দিয়ে গেছেন। যা কমিটির অন্যরা পরে জানতে পারেন। গত ৫ এপ্রিল হওয়া আর্চারির নির্বাহী কমিটির সভায় বিষয়টি উত্থাপিত হয়। এ সময় তানভীর আহমেদকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। ৭ এপ্রিল ফেডারেশন সভাপতি স্বাক্ষরিত চিঠিতে তানভীরকে এক মাসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়।
৫ এপ্রিলের মিটিংয়েই কোষাধ্যক্ষ পদ থেকে শহিদুজ্জামান সেচ্ছায় সরে যেতে সম্মতি জানান। জানা যায়, ঠিকঠাক দায়িত্ব পালন না করায় সেদিন সভাপতির তোপের মুখে পড়েন তিনি। এরপরই শহিদুজ্জামানের জায়গায় দায়িত্বে আসেন সাইদুজ্জামান তুহিন।
সাধারণ সম্পাদকের অনুপস্থিতিতে নতুন কোষাধ্যক্ষের স্বাক্ষরে আর্চারি ফেডারেশনের ব্যাংক অ্যাকাউন্ড থেকে মোট ২১ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। যার একটি বড় অংশ খরচ হয়েছে জাতীয় দলের বিদেশি কোচের বেতন, আবাসন বাবদ। কোন খাতে কি খরচ হয়েছে তা নোটশিট আকারে ফেডারেশনে লিপিবদ্ধ আছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সভায় উপস্থিত একজন সদস্য বলেন, ‘সাধারণ সম্পাদক পুরো বোর্ডের সম্মানহানি করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন টাকা আত্মসাৎ হয়েছে। অথচ কোথায় কী হয়েছে, সবই লিপিবদ্ধ আছে। উনি (সাধারণ সম্পাদক) তার আপত্তির কথা সভাপতি বরাবর বা বোর্ডে তুলতেই পারতেন। কিন্তু সেটা না করে সংবাদমাধ্যমে নানা অভিযোগ এনেছেন। এটা উনি কি জন্য করেছেন সেটা জানি না। তবে তার ওপর বোর্ডের বেশির ভাগ সদস্যই নাখোশ। হতে পারে নিজের স্বেচ্ছাচারিতা আড়াল করতে তিনি এমন করছেন।’
আর্চারি ফেডারেশনের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক কাজী রাজিব উদ্দিন আহমেদ চপল। দুই যুগের বেশি সময় তিনি এই খেলাটি দেশে বিকশিত করেছেন। পাশাপাশি সরাসরি অলিম্পিকে খেলার অবস্থানে পৌঁছেছেন টানা দুই বার। ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে ক্রীড়াঙ্গনে সকল ফেডারেশনে রদবদল হয়েছে। সেখানে চপলকে আর্চারির সাধারণ সম্পাদক করে একটি প্রজ্ঞাপন হয়। এতে সার্চ কমিটির আহ্বায়ক ক্ষোভে ফেটে পড়েন। এতে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ চপলকে তখন সদস্য করে তানভীর আহমেদকে সাধারণ সম্পাদক করেন। তানভীর আহমেদ আর্চারির আম্পায়ার/জাজ হিসেবে কাজ করেছেন। সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা তেমন না থাকলেও সাধারণ সম্পাদক হয়ে ইতিমধ্যে এক বছর পার করেছেন। নানা সময় কমিটির কর্মকর্তাদের মধ্যে খানিকটা দূরত্ব ও সমন্বয়হীনতা গোপনীয় পর্যায়ে থাকলেও কোষাধ্যক্ষ পরিবর্তন কেন্দ্র করে সেটা প্রকাশ্যে এসে অনাস্থা ও মন্ত্রী তলব পর্যন্ত গড়িয়েছে। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী কিভাবে আর্চারির এই অশান্ত পরিবেশ শান্ত করেন সেটাই এখন দেখার বিষয়।

আজ বিশ্ব উদযাপন করছে টেবিল টেনিসের শতবর্ষ পূর্তি। এমন দিনে বাংলাদেশও বসে নেই। এ বছর স্বাধীনতা পদক জেতা কিংবদন্তি জোবেরা রহমান লিনুকে সংবর্ধনা দিয়েছে বাংলাদেশ টেবিল টেনিস ফেডারেশন (টিটি)। একইসঙ্গে সম্প্রতি সাউথ এশিয়ান ইয়ুথ টেবিল টেনিসে আটটি পদক জেতা বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের সম্মাননা এবং আর্থিক পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে লিনুকে অতিথি করা হয়। তরুণ খেলোয়াড়দের স্বপ্ন থাকে কিংবদন্তি এই ক্রীড়াবিদকে সামনে থেকে দেখার। দুই প্রজন্মের সেই মেলবন্ধনই আজ হয়ে গেল বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের ডাচ বাংলা ব্যাংক অডিটোরিয়ামে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে ভারতের শিমলায় পদকজেতা খেলোয়াড়েরা একে একে আর্থিক পুরস্কারের চেক গ্রহণ করেন লিনুর কাছ থেকে। পুরস্কার প্রদান শেষে বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের কিছু গল্প তিনি তুলে ধরেন সবার সামনে। প্রথমেই বলেন,
'আজ অনেকগুলো কারণে আমি খুশি। ১০০ বছর টেবিল টেনিসের পূর্তি, সে উপলক্ষে এমন আয়োজন এবং সেই দিনে এখানে থাকতে পেরে ভালো লাগছে, আমি ভাগ্যবান যে এমন দিনটি দেখেছি। কিছুদিন আগে আমি স্বাধীনতা পদক পেয়েছি। এটা আমার জন্য, আমার খেলাটার জন্য এবং টিটি ফেডারেশনের জন্য বড় পাওয়া।'
সাফল্যমন্ডিত ক্যারিয়ারে ১৬বার জাতীয় টেবিল টেনিসের চ্যাম্পিয়ন লিনু। দারুণ এই কীর্তির জন্য ওয়ার্ল্ড গিনেসরেকর্ড বুকে নাম উঠেছে তাঁর। কিন্তু এই পথচলা যে মসৃণ ছিল না সেটিও জানান লিনু।
জোবেরা রহমান লিনু ১৯৬৫ সালের ৯ জুন চট্টগ্রামের কাপ্তাইতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা শেখ আবদুর রহমান ছিলেন সরকারি প্রকৌশলী। তাঁর মায়ের নাম আঁখি রহমান। তবে বাবার হাত ধরেই টিটিতে আসা তাঁর।
লিনু কিভাবে টিটি খেলায় আসেন সেই গল্প জানিয়ে বলেন,
'ওরা জানুক কোনো কিছু পেতে শর্ট-কার্ট বলে কিছু নেই। ৯ বছর বয়সে খেলা শুরু করি। দেশ তখন মাত্র স্বাধীন হয়, সেই সময়ে খেলাটা শুরু করা সহজ কিছু ছিল না। বাবা অনেক বেশি সাপোর্টিভ ছিল। আমি এবং আমার বড় বোনকে (মনিরা মোর্শদ হেলেন) খেলতে দিয়েছেন। তখন হাফ প্যান্ট পরে খেলাটা মেনে নেওয়ার মতো সমাজ ব্যবস্থা ছিল না। কিন্তু আমার বাবা আমাদের আধুনিক জীবন-যাপন করার অনুমতি দেন। সেই সঙ্গে এটাও বলেন যে আমাদের কার্যক্রম, আমাদের চলা, কথা বলায় যে কেউ কখনও কষ্ট না পায়। এতটুকু বেসিক শিখেই আমরা বড় হয়েছি।'
এরপর লিনু বলেন নিজের শৈশবের গল্প,
'কাপ্তাইয়ে জন্ম আমার। বনে বনে ঘুরেছি, গাছ থেকে ফল পেরে খেয়েছি, দাড়িয়াবান্ধা, গোল্লাছুট এমন আরও অনেক কিছু খেলে বড় হয়েছি। একদিন দেখি একটা বল নিয়ে বাসায় সবাই খেলছে, সেটা দেখেই আমি বাবাকে বলি এই খেলাটা আমি খেলতে চাই, তখন বাবা আমাকে অনুমতি দেন। সেটা ১৯৭৩ সালের কথা। পরের বছর ঢাকার প্রেস ক্লাবে হওয়া একটি ওপেন টেবিল টেনিসে আমরা দুই বোন আসি। তখন সেখানে সবাই অনেক বড় ছিলেন, আমি তখনও বাচ্চা, কিন্তু খেলাটা যে একটা যুদ্ধ তা আমি বুঝিনি। কিন্তু ওই টুর্নামেন্টে আমরা দুই বোন ফাইনালে উঠি (বড় বোন সিনিয়রে, লিনু জুনিয়রে)। এরপর ১৯৭৭ সালে আমি জাতীয় টেবিল টেনিস প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হই।'
অনুষ্ঠানে তিনি নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবন যাপনের পরামর্শ দেন।
লিনু যখন স্টেজে দাঁড়িয়ে নিজের জীবনের কথা সবার সঙ্গে ভাগাভাগি করছিলেন, তখন করতালি দিয়ে একাধিকবার তাঁকে অভিবাদন জানান উপস্থিত প্রত্যেকে।
গত বছর থাইল্যান্ড থেকে কোচ নিয়ে আসে ফেডারেশন। কদিন আগে জাপানের আরেক কোচকে নিয়োগ দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিদেশি এই কোচ। সেটি দেখেই কি না লিনু নিজের ক্যারিয়ারের একটি টুর্নামেন্টের কথা সবার সামনে তুলে ধরেন। বলেন, '১৯৮০ এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ বসে ভারতের কলকাতায়। সেমি-ফাইনালে জাপানি একজন আমার বিপক্ষে পিছিয়ে ছিল দুই সেটে, কিন্তু এরপর ওর কোচ এসে কি যেন ওকে বলল, এরপর সে আমার সঙ্গে এমনভাবে খেললো যে আমি কিছুই বুঝে উঠতে পারছিলাম না কি করব, তখন আমার কোনো কোচও ছিল না। এখন তো কোচ আছে, বলা হচ্ছে খেলাটা এগিয়ে যাচ্ছে কিন্তু আমি বলব ততটা আগাইনি। কারণ এশিয়ান মঞ্চে পদক আসছে না।' কোচকে নিয়ে তিনি বলেন,
'জাপানিজ কোচের কাছে কিছু বলতে চাই। আপনাকে স্বাগতম। আমি ১৬ বারের জাতীয় চ্যাম্পিয়ন। আপনার কাছে আমার প্রত্যাশা— দারুণ কিছু অর্জন আপনার হাত ধরে আসবে।'
নিজের বক্তব্য শেষে একটি দাবির কথা তুলে শেষ করেন লিনু। শুরু হতে যাচ্ছে নতুন কুড়ি স্পোর্টস। এই আয়োজনে টেবিল টেনিসকে যুক্ত করার দাবি করেন তিনি। প্রধান অতিথি যুব ও ক্রীড়া সচিব মো. মাহবুব-উল-আলমের কাছে একই দাবির কথা জানান ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ক্যাপ্টেন এএম মাকসুদ আহমেদ সনেট। একইসঙ্গে টিটির বয়সভিত্তিক খেলোয়াড়দের সরকারের ক্রীড়া কার্ড ও ক্রীড়া ভাতায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবিও করেন।
নিজের বক্তব্যে সনেট বলেন,
'স্বাধীনতা পুরস্কার পাওয়ায় কিংবদন্তী লিনুকে স্বাগত জানাতে এবং সংবর্ধনা দিতে চেয়েছি। আজকে সেটি দিতে পেরে সত্যি খুব খুশি। অনূর্ধ্ব-১৯ বালক ডাবলসে স্বর্ণ জেতায় তাদেরও অভিনন্দন। আশা করি তারা এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারবে।'

অবশেষে জাতীয় শুটার কামরুন নাহার কলির বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করেছে বাংলাদেশ শুটিং ফেডারেশন। তবে তাঁর ওপর আরোপ করা হয়েছে বেশ কিছু বিধি-নিষেধ। এসব নির্দেশনা অনুসরণের লিখিত অঙ্গীকার দিলেই তবে শুটিং ক্যাম্পে ফিরতে পারবেন তিনি। আর ফেডারেশন আরোপিত নির্দেশনা অমান্য করলে কোনো নোটিশ ছাড়াই সরাসরি পুনরায় বহিষ্কার করবে ফেডারেশন, এমনটাও ওই চিঠিতে জানিয়ে রেখেছে ফেডারেশন।
শুটিং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আলেয়া ফেরদৌস স্বাক্ষরিত বহিষ্কার প্রত্যাহার চিঠিতে কলির প্রতি মিডিয়া সংক্রান্ত নির্দেশনাই একাধিক। ফেডারেশনের অনুমতি ছাড়া মিডিয়ায় বক্তব্য দেওয়া যাবে না। এমনকি সামাজিক মাধ্যমে ফেডারেশনের কোনো সিদ্ধান্ত কিংবা কোন খেলোয়াড়-কোচকে নিয়ে বিশেষভাবে পোস্ট দেয়া যাবে না। কোচের আচরণবিধির পাশাপাশি ক্যাম্পের আইনশৃঙ্খলা মেনে চলতে হবে।
কলিকে আগামী তিন মাস পর্যবেক্ষণ করবে ফেডারেশন। এই সময়ের মধ্যে কোনো ছোটখাটো শৃঙ্খলা ভঙ্গ হলেও স্থায়ী বহিষ্কারের কারণ হতে পারেন তিনি। পর্যবেক্ষণ সময়ের পরেও ফেডারেশনের উল্লিখিত শর্ত ভাঙলে কারণ দর্শানোর নোটিশ ছাড়াই বহিষ্কার পুনরায় কার্যকর হবে এমনটাই চিঠিতে রয়েছে।

চীনের সানিয়ায় চলমান এশিয়ান বিচ গেমস কাবাডিতে শুভ সূচনা করেছে বাংলাদেশ নারী দল। টুর্নামেন্টের অন্যতম শক্তিশালী প্রতিপক্ষ থাইল্যান্ডকে ৫১-৩৪ পয়েন্টের বড় ব্যবধানে আজ হারিয়েছে বাংলাদেশ। ১৭ পয়েন্টের এই বিশাল জয় টুর্নামেন্টে বাংলাদেশকে এক ধাপ এগিয়ে রাখল।
বৃহস্পতিবার ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে খেলতে থাকে বাংলাদেশ। থাইল্যান্ডের খেলোয়াড়রা শুরুতে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও বাংলাদেশের রেইডারদের ক্ষিপ্রতা এবং ডিফেন্ডারদের দৃঢ়তায় তারা খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি। প্রথমার্ধেই ১০ পয়েন্টের ব্যবধানে এগিয়ে থেকে জয়ের সুবাস পেতে শুরু করে বাংলাদেশ দল।
পুরো ম্যাচে বাংলাদেশ মোট ৫১ পয়েন্ট অর্জন করে, যেখানে থাইল্যান্ড আটকে যায় ৩৪ পয়েন্টে। রক্ষণভাগ এবং রেইডিং উভয় বিভাগেই থাইল্যান্ডকে পরাস্ত করেছে বাংলাদেশের মেয়েরা।
এশিয়ান বিচ কাবাডিতে দক্ষিণ এশিয়ার দলগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ বরাবরই সমীহ জাগানিয়া নাম। থাইল্যান্ডের মতো দলকে ১৭ পয়েন্টের ব্যবধানে হারিয়ে বাংলাদেশের নারীরা তাদের শ্রেষ্ঠত্ব পুনরায় প্রমাণ করল। এই জয় নক-আউট পর্বে ওঠার লড়াইয়ে বাংলাদেশকে মানসিকভাবে অনেকখানি চাঙ্গা করে তুলবে। আগামীকাল শুক্রবার বাংলাদেশ দ্বিতীয় ম্যাচ খেলবে নেপালের বিপক্ষে।

দেশের অটোমোবাইল খাতে
বিশ্বমানের প্রযুক্তি ও নির্ভরযোগ্যতার প্রতিশ্রুতি নিয়ে টয়োটা বাংলাদেশ অংশগ্রহণ
করছে ঢাকা মোটর শো’র ১৯তম আসরে। তিন দিনব্যাপী এই
প্রদর্শনী চলবে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত। ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরার (আইসিসিবি) ২ নম্বর হলের
বি-৪ নম্বর স্টলে টয়োটার
প্যাভিলিয়নটি প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য
উন্মুক্ত থাকবে।
এবারের মোটর শোতে টয়োটা
বিশেষভাবে তুলে ধরবে তাদের অত্যাধুনিক হাইব্রিড প্রযুক্তি এবং শক্তিশালী এসইউভি, সেডান ও কমার্শিয়াল লাইনআপ, যা পারফরম্যান্স, ফুয়েল এফিশিয়েন্সি এবং ড্রাইভিং কমফোর্টের
এক অনন্য সমন্বয়। প্রদর্শনীতে
থাকছে টয়োটার করোলা ক্রস, র্যাভ ৪, ইয়ারিস ক্রস,
ভেলোজ, রাশ ও ইয়ারিস সেডান মডেলের গাড়ি।
টয়োটা বাংলাদেশ জানায়, এই প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে টয়োটা বাংলাদেশের বাজারে
তাদের হাইব্রিড প্রযুক্তির অগ্রগতি এবং এসইউভি সেগমেন্টে বৈচিত্র্যপূর্ণ সমাহার
আরও জোরালোভাবে উপস্থাপন করছে। টয়োটার হাইব্রিড গাড়িগুলো উন্নত জ্বালানি সাশ্রয়, কম নির্গমন এবং স্মার্ট ড্রাইভিং অভিজ্ঞতা
নিশ্চিত করে, যা বর্তমান
সময়ের টেকসই গতিশীলতার চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
মোটর শো চলাকালীন
দর্শনার্থীরা টয়োটার
সর্বাধুনিক মডেলগুলো পরিদর্শনের পাশাপাশি ব্র্যান্ডের বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধিদের কাছ
থেকে হাইব্রিড প্রযুক্তি, এসইউভি
পারফরম্যান্স সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন।