৯ মে ২০২৬, ৫:৪৭ পিএম

বাংলাদেশ স্পোর্টস প্রেস অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসপিএ) দ্বি-বার্ষিক সাধারণ সভা ২০২৫ ও নির্বাচন ২০২৬-২৭ আজ শনিবার বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) ডাচ বাংলা ব্যাংক মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভাপতি পদে পুনরায় নির্বাচিত হয়েছেন চ্যানেল ২৪-এর ডেপুটি স্পোর্টস এডিটর রেজওয়ান উজ জামান রাজিব। সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন দৈনিক আগামীর সময়ের সিনিয়র স্পোর্টস রিপোর্টার সুদীপ্ত আহমদ আনন্দ।
কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি রেজওয়ানের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের ১৪৪ জন সদস্য। দ্বিতীয় অধিবেশনে বিএসপিএ’র নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার মোফাখখারুল ইসলাম দিলখোশ। এবারের নির্বাচনে ১৯টি পদের বিপরীতে ১৯টি মনোনয়নপত্র জমা পড়ে। ফলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন সবাই।
এছাড়া দু’জন সহ-সভাপতি পদে দৈনিক নয়াদিগন্তের তালহা বিন নজরুল ও অলআউট স্পোর্টসের আবু নোমান মো. উল্লাহ নির্বাচিত হয়েছেন। দু’জন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন যমুনা টিভির নিউজ প্রেজেন্টার ফয়সাল মুহাম্মদ তিতুমীর ও সময় টিভির ক্রীড়া সাংবাদিক সাজিদ মুস্তাহিদ।
অর্থ সম্পাদক পদে কালের কণ্ঠের স্পোর্টস রিপোর্টার শাহজাহান কবির নির্বাচিত হয়েছেন। সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন চ্যানেল ২৪ এর সিনিয়র স্পোর্টস রিপোর্টার এ কে এম ফয়জুল ইসলাম। পুনরায় দপ্তর সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন মোহাম্মদ মাসুক মিয়া এবং ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন রায়হান উদ্দিন রাসেল।
এছাড়া নির্বাচিত ৯জন কার্যনির্বাহী সদস্য হলেন- খায়রুল ইসলাম শাহীন, এটিএন বাংলার পরাগ আরমান, ক্রীড়া সাংবাদিক কাজী শহীদুল আলম, মিঞা রফিকুল ইসলাম, বাংলা ট্রিবিউনের সিনিয়র ক্রীড়া সাংবাদিক তানজীম আহমেদ, রাশিদা আফজালুন নেসা, মাহফুজুল ইসলাম, টি-স্পোর্টসের সিনিয়র স্পোর্টস রিপোর্টার নাভিল এলাহী খান, সামসুল আরেফীন খান।
ফলাফল ঘোষণার সময় উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশনের অপর দুই সদস্য ইয়াহিয়া মুন্না ও রাহেনুর ইসলাম।
সর্বশেষ মেয়াদেও সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন রেজওয়ান উজ জামান। নতুন করে তাঁর ওপরই আস্থা রেখেছেন সমিতির সাধারণ সদস্যরা। এই মেয়াদে নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রত্যয় চ্যানেল ২৪ এর এই সাংবাদিকের,
‘গত দুই বছর চ্যালেঞ্জিং ছিল। সাফল্য আছে, আক্ষেপও আছে, সীমাবদ্ধতাও আছে আমাদের। এটি দেশের সবচেয়ে প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী সাংবাদিকদের সংগঠন। আমাদের মূল লক্ষ্য ক্রীড়া সাংবাদিকদের মান উন্নয়ন এবং সদস্য যারা আছে তাদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো। সেটা আমরা চেষ্টা করেছি গত দুই বছর। কিছু পেরেছি, কিছু পারিনি। আগামী দুই বছরও আমরা ধারাবাহিকতা রাখতে চাই।’
এছাড়া তিনি জানান নিয়মিত কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা থাকবে এবং সামনে তাঁর একটি বড় ইচ্ছার কথাও জানান। বলেন যে স্পোর্টস জার্নালিস্ট ইনস্টিটিউট করতে চান তিনি।
আগেও দুই মেয়াদে বিএসপিএ’র সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন নতুন নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক সুদীপ্ত আনন্দ। আরও একবার তাঁর ওপর আস্থা রাখায় সংগঠনটির সাধারণ সদস্যদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তিনি। বলেছেন,
‘আজ আমাদের প্রাণের সংগঠন বিএসপিএ’র দ্বিবার্ষিক সাধারণ সভা এবং নির্বাচন ছিল। পুনরায় সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব আমার কাঁধে অর্পণ করেছেন সাধারণ সদস্যরা, তাদের প্রতি অনেক কৃতজ্ঞতা।’
তবে দায়িত্ব পেয়েই বসে থাকতে চান না বিএসপি‘র অভিজ্ঞ এই সাংগঠনিক। প্রতিষ্ঠানটির উন্নতি সাধনে আশা জাগানিয়া কিছু পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন তিনি। বলেছেন,
‘আমরা বিএসপিএ-তে সবসময়ই ক্রীড়া সাংবাদিকদের পেশাগত উন্নতি সাধনে কাজ করি। অতীতে যারা ছিলেন, তারা ভালো কাজ করেছেন; সেই ভালোর ধারাটা অব্যাহত রাখাটাই বড় চ্যালেঞ্জ। আমরা একটা স্পোর্টস জার্নালিস্ট ইনস্টিটিউট করতে চাই বিএসপিএ-র নামে, আশা করি সেই লক্ষ্য আমরা পূরণ করতে পারব। পাশাপাশি ক্রীড়া সাংবাদিক ও সদস্যদের ওয়েলফেয়ারে কিছু অবদান রাখতে পারব বলে বিশ্বাস করি।’

১৪ বছর বিএসপিএ’র কমিটিতে ছিলেন সামন হোসেন। পরপর দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেছেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদকের। এর আগেও ছিলেন সাংগঠনিক সম্পাদক পদে। তবে এবার তিনি আর কমিটিতে থাকছেন না। নির্বাচন থেকে আগেই সরে দাঁড়ান। যাওয়ার আগে দারুণ কিছু কাজ তাঁর সময়ে হয়েছে। সর্বশেষ চার বছরে তথা দুই মেয়াদে নিজের কাজ নিয়ে মূল্যায়নের দায়ভার তিনি ছেড়েছেন সদস্যদের ওপর। যদিও তার আগেই সাধারণ সভায় সাবেক সাধারণ সম্পাদকের কাজে মুগ্ধতার কথা জানান উপস্থিত সব সাধারণ সদস্যরা।
বিদায়ের কিছু দিন আগেও সমিতির উন্নতির লক্ষ্যে বেশ কিছু কাজ এগিয়ে দিয়েছেন সামন হোসেন। যার ফলাফল আগামীতে পাওয়া যাবে। বিশেষকরে সমিতির মান উন্নয়নে বারডেম হাসপাতাল এবং বাংলাদেশ ডায়েবেটিক সমিতির সভাপতি এবং জাতীয় অধ্যাপক ড. একে আজাদ খানের সঙ্গে চুক্তির কাজ এগিয়ে রেখেছেন তিনি। সম্প্রতি আজাদ খান তাঁর আমন্ত্রণে সমিতি ঘুরে গিয়েছেন এবং আশ্বাস দিয়েছেন বিএসপিএ’র পাশে থাকার।
বিদায়ের আগে সাবেক সাধারণ সম্পাদক বলেন,
‘বিএসপিএ ক্রীড়া সাংবাদিকদের সংগঠন। দায়িত্ব নেওয়ার পরে আমাদের চেষ্টা ছিল ক্রীড়া সাংবাদিকদের মানোন্নয়নে কাজ করা। গত দুই বছর বেশ কিছু কাজ করেছি। আমরা তিনটা কর্মশালা করেছি— একটা হচ্ছে ক্রিকেট বোর্ডের সাথে ‘পিস টু প্রেস’। আমরা এমআরডিআই-এর সঙ্গে একটা কর্মশালা করেছি। ভবিষ্যতে আমাদের যে নতুন কমিটি আসবে, তাদের কাছে অনুরোধ থাকবে যে এই যে সাংবাদিকদের মানোন্নয়নে বিএসপিএ যে কর্মসূচি বিগত বছরগুলোতে করেছে, এটার ধারাবাহিকতা সামনে বজায় রাখবে।’
ডায়েবেটিক সমিতির সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরে বিএসপিএ কি সুবিধা পেতে পারে জানতে চাইলে সামন হোসেন বলেন,
‘বারডেমের এবং বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির কাছ থেকে যাতে বিএসপিএ-র সদস্যরা একটা বড় ডিসকাউন্ট পেতে পারে তার জন্য আমরা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছিলাম। বারডেমের ডায়াবেটিক সমিতির যে চেয়ারম্যান, ন্যাশনাল প্রফেসর এ কে আজাদ খান, উনার সঙ্গে আমাদের কয়েক দফায় এ বিষয়ে সভা হয়েছে। শুক্রবার বারডেমের এজিএম অনুষ্ঠিত হয়েছে, সেখানেও আমাদের এ বিষয়টা নিয়ে তারা আলোচনা করেছে। অতি শীঘ্রই বিএসপিএ বারডেমের সঙ্গে একটা চুক্তি করবে। এই চুক্তির আওতায় আমাদের বিএসপিএ-র সকল সদস্যরা বিভিন্ন ধরনের সুবিধা পাবে।’
এবারেই প্রথমবারের মতো বিএসপিএ’র কার্যনির্বাহী কমিটির একজন হয়েছেন টি-স্পোর্টসের সিনিয়র ক্রীড়া সাংবাদিক নাভিল এলাহী খান। সামনের দিনগুলোতে প্রাণের এই সংগঠনকে আরও সামনে এগিয়ে নিতে চান তিনি,
‘বিএসপিএ বাংলাদেশের একটি প্রাতিষ্ঠানিক ও অত্যন্ত সম্মানজনক ক্রীড়া সাংবাদিকদের সংগঠন। এই সংগঠনের এক্সিকিউটিভ কমিটিতে সুযোগ পাওয়া আমার জন্য অবশ্যই অনেক বড় সম্মানের। একই সঙ্গে এটাকে আমি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবেও দেখছি। কারণ আগের কমিটিগুলো বিএসপিএকে যে অবস্থানে নিয়ে গেছে, সেটাকে ধরে রাখা এবং আরও সামনে এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব এখন আমাদের ওপর। ভাগ্য ভালো, আমাদের সঙ্গে একটি দারুণ কমিটি আছে। দেশের অনেক স্বনামধন্য ক্রীড়া সাংবাদিক একসঙ্গে কাজ করছেন। আমি বিশ্বাস করি, সবাই মিলে কাজ করলে ইনশা আল্লাহ আমরা বিএসপিএকে দিন দিন আরও নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারবো। সেটাই এখন আমাদের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য এবং চ্যালেঞ্জ।’
No posts available.
৮ মে ২০২৬, ১০:৫৮ পিএম
৬ মে ২০২৬, ৮:১৯ পিএম

ব্যস্ত নগরের যান্ত্রিকতার মাঝে এক চিলতে স্বস্তি আর প্রাণের স্পন্দন। ছুটির দিনে ধানমন্ডি স্পোর্টস ক্লাবের মাঠে শিশু-কিশোরদের হইচই, বল নিয়ে দৌড়াদৌড়ি আর ব্যাটে-বলের লড়াই যেন সেই প্রাণেরই জানান দিচ্ছে। তবে এই চেনা ছবি এখন আরও বড় স্বপ্নের পথে। দেশের প্রথম ‘সাসটেইনেবল সোশ্যাল স্পোর্টস ক্লাব’ বা টেকসই সামাজিক ক্রীড়া ক্লাব হিসেবে নতুনভাবে পথচলা শুরু করেছে ধানমন্ডি স্পোর্টস ক্লাব।
ছুটির দিনে ক্লাব পরিদর্শনে এসে এই নতুন যাত্রার শুভসূচনা করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। এই ক্লাবের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক এই অধিনায়ক মাঠের কোণে কোণে ঘুরে দেখেন ক্লাবের বর্তমান অবস্থা ও উন্নয়ন কাজ। ফুটবল ও ক্রিকেটের প্রশস্ত মাঠ ঘুরে দেখার পাশাপাশি তিনি কথা বলেন ক্লাবের ক্ষুদে খেলোয়াড়দের সঙ্গে, দেন অনুপ্রেরণা।
অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সবসময় খেলাধুলা ও সামাজিক উন্নয়নের এমন সৃজনশীল উদ্যোগকে স্বাগত জানান। স্থানীয়দের সহযোগিতা নিয়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এই ক্লাবকে এমনভাবে সাজাতে চায়, যাতে এটি একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং সুস্থ সমাজ গঠনের রোল মডেল হয়ে ওঠে।

ফুটবল ও ক্রিকেটে ক্লাবটির ঐতিহ্য দীর্ঘদিনের। তবে এখন শুধু খেলাধুলাই নয়, একে একটি পূর্ণাঙ্গ সামাজিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ক্লাবের স্থায়ী সদস্য ও তাদের পরিবারের জন্য থাকছে ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ও বাস্কেটবলসহ বিভিন্ন ইনডোর গেমসের আন্তর্জাতিক মানের সুবিধা। ভবিষ্যতে এখানে একটি প্রশস্ত সুইমিং পুল, বিশ্বমানের হেয়ার স্যালুন ও স্পা তৈরির পরিকল্পনাও হাতে নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ক্লাবটির আধুনিকায়ন ও মাঠের পরিবেশ রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে ধানমন্ডি সোসাইটি। দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্ব বা সাসটেইনেবিলিটির বিষয়টি মাথায় রেখেই প্রতিটি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পরিবেশবান্ধব ও সামাজিক এই মডেল ঢাকার অন্যান্য ক্লাবের জন্যও উদাহরণ হয়ে থাকবে।
সুস্থ দেহ আর সুস্থ মনের মেলবন্ধনে ধানমন্ডি স্পোর্টস ক্লাব এখন কেবল একটি খেলার মাঠ নয়, বরং একটি আদর্শ সামাজিক মিলনমেলায় পরিণত হওয়ার পথে।

চীনের সাংহাইয়ে চলমান ‘আর্চারি ওয়ার্ল্ড কাপ, স্টেজ-২’-এর দ্বিতীয় দিনে দুর্দান্ত সাফল্য দেখিয়েছেন বাংলাদেশের আর্চাররা। কম্পাউন্ড মহিলা দলগত ইভেন্টে স্বাগতিক চীনকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার পাশাপাশি রিকার্ভ পুরুষ এককে ভারতের শক্তিশালী প্রতিযোগী অতনু দাসকে পরাজিত করেছেন বাংলাদেশের মিশাদ প্রধান।
বুধবার কম্পাউন্ড মহিলা দলগত ইভেন্টের ১/৮ খেলায় বাংলাদেশ ২৩০-২২৯ স্কোরে শক্তিশালী পিপলস রিপাবলিক অব চায়নাকে পরাজিত করে কোয়ার্টার ফাইনালে উন্নীত হয়। তবে কোয়ার্টার ফাইনালে আমেরিকার কাছে ২২৪-২৩৪ স্কোরে হেরে বিদায় নিতে হয় লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের।
অন্যদিকে, কম্পাউন্ড পুরুষ দলগত ইভেন্টে ১/১২ খেলায় বাংলাদেশ ২৩১-২২৭ স্কোরে সিঙ্গাপুরকে হারিয়ে ১/৮ খেলায় উন্নীত হলেও ফ্রান্সের কাছে ২২৯-২৩৪ স্কোরে পরাজিত হয়।
ব্যক্তিগত ইভেন্টে বাংলাদেশের ঐশ্বর্য্য রহমান কম্পাউন্ড পুরুষ এককের ১/২৪ খেলায় ১৪৫-১৪৪ স্কোরে কাজাখস্তানের দিলমুখমেত মুসাকে পরাজিত করে ১/১৬ খেলায় জায়গা করে নিয়েছেন। তবে মহিলা এককে বন্যা আক্তার ও তানিয়া রীমা নিজেদের ম্যাচে পরাজিত হয়ে বিদায় নিয়েছেন।
রিকার্ভ পুরুষ একক ইভেন্টে বাংলাদেশের আর্চাররা দারুণ পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন। ১/৪৮ খেলায় মো. মিশাদ প্রধান ৭-৩ সেটে ভারতের অভিজ্ঞ আর্চার অতনু দাসকে পরাজিত করে বড় চমক দেখান। এছাড়া রামকৃষ্ণ সাহা ৬-২ সেটে কিরগিজস্তানের উলুকবেককে পরাজিত করে ১/২৪ খেলায় উন্নীত হয়েছেন। আব্দুর রহমান আলিফ র্যাংকিংয়ের কল্যাণে ‘বাই’ পেয়ে সরাসরি পরবর্তী রাউন্ডে উন্নীত হন। তবে রাকিব মিয়া চীনের ইউক্সুয়ান লি-এর কাছে পরাজিত হন।
রিকার্ভ মহিলা এককে নাসরিন আক্তার ৬-৪ সেটে কাজাখস্তানের দিয়ানা তুরসুনবেককে হারিয়ে ১/২৪ খেলায় উন্নীত হয়েছেন। তবে সায়মা সালাহ উদ্দিন ও সীমা আক্তার শিমু নিজ নিজ ম্যাচে হেরে আসর থেকে বিদায় নিয়েছেন।
কোয়ালিফিকেশন রাউন্ড শেষে রিকার্ভ পুরুষ দলগত ইভেন্টে ২০টি দেশের মধ্যে নবম স্থান অর্জন করেছে বাংলাদেশ। রিকার্ভ মহিলা দলগত ইভেন্টে ১৫তম এবং মিশ্র দলগত ইভেন্টে (আলিফ ও নাসরিন) ১৩তম স্থান অর্জন করেছে লাল-সবুজ দল।

চলতি বছর নভেম্বরে সৌদি আরবে বসবে ই-স্পোর্টসের বিশ্বকাপখ্যাত ই-স্পোর্টস নেশনস কাপ। প্রথমবারের মতো এই আসরে অংশ নেবে বাংলাদেশ দল। বুধবার রাজধানীর হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান বাংলাদেশ ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ইলেকট্রনিক স্পোর্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ড. ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. মুনিরুল ইসলাম।
মুনিরুল ইসলাম বলেন, ‘ই-স্পোর্টস নেশনস কাপে বাংলাদেশ ১৫টি ভিন্ন ভিন্ন ই-স্পোর্টস শিরোনামে অংশগ্রহণ করবে। যেখানে মোট প্রাইজপুল ২২০ কোটি টাকারও বেশি। এটি দেশভিত্তিক ই-স্পোর্টস টুর্নামেন্টগুলোর মধ্যে এটি সবচেয়ে বড় আয়োজন। এই ঐতিহাসিক আসরের অংশ হতে পেরে আমরা গর্বিত।’
বাংলাদেশ-সহ ১৫০টি দেশ অংশ নেবে এবারের আসরে। ১৫ ইভেন্টে বাংলাদেশ থেকে অংশ নেবে ৫০ জন গেমার। টিম বাংলাদেশের প্রস্তুতি সম্পর্কে দলের ম্যানেজার আগা রাফসান জানান, বাছাইপর্বে বাংলাদেশকে প্রথম এশিয়ার দেশ গুলোর বিপক্ষে লড়তে হবে। লিডার বোর্ডের ২-৩-এ থাকলেই মূল পর্বে খেলতে পারবে বাংলাদেশ। মূলত সেই লক্ষ্য নিয়েই প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছেন বাংলাদেশের গেমাররা।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয় এই টুর্নামেন্টের জন্য সারা দেশ থেকে প্রায় ১৫০০ গেমার রেজিস্ট্রেশন করে। সেখান থেকে ট্রায়াল এবং একাধিক ধাপের বাছাই প্রক্রিয়া শেষে চূড়ান্ত দলটি গঠিত হয়েছে।
ইভেন্টের তিন কোচ ফারহান ইসলাম, মো. আবিদ হোসেন এবং নাজমুস সাকিব, গণমাধ্যমকে বাংলাদেশ দলের প্রস্তুতি সম্পর্কে জানান। তারা বলেন, সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে গেমার বাছাই করা হয়েছে। বেশ জোরেশোরে চলছে দলের প্রস্তুতি। যেহেতু মূল আসর শুরু হতে এখনো দুই মাস বাকি, তাই প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি থাকবে না বলে বিশ্বাস তাদের।

সাংহাইতে আর্চারি বিশ্বকাপ স্টেজ–২ এর প্রথম দিনে আজ মিশ্র অভিজ্ঞতা হয়েছে বাংলাদেশের। কম্পাউন্ড পুরুষ একক ইভেন্টের প্রথম রাউন্ডের খেলায় বাংলাদেশের ঐশ্বর্য্য রহমান ১৪৫-১৪৪ স্কোরের রোমাঞ্চকর ব্যবধানে মেক্সিকোর হুয়ান কার্লোস দেল রিও গুতেরেজকে পরাজিত করেছেন। তিনি উঠেছেন প্রতিযোগিতার দ্বিতীয় রাউন্ডে।
হিমু বাছাড় নেদারল্যান্ডের নিকলাস ব্রিডাল ব্রাইল্ডের সঙ্গে মূল লড়াইয়ে ১৪৩-১৪৩ স্কোরে ড্র করেন। শুটআউটে প্রথম তীরে ড্র করলেও দ্বিতীয় তীরের লড়াইয়ে ৮-১০ ব্যবধানে হেরে তিনি বিদায় নেন। বাংলাদেশের আরেক আর্চার নেওয়াজ আহমেদ রাকিব ১৪৩-১৪৭ স্কোরে কাজাখস্তানের বুনোদ মির্জামেতোভের কাছে হারেন।
মহিলা একক ইভেন্টে বাংলাদেশের তানিয়া রীমা ১৩৯-১৩৪ স্কোরের ব্যবধানে হংকং চায়নার হ্যাং টিং চেংকে হারিয়ে পরবর্তী রাউন্ডে জায়গা করে নিয়েছেন। বন্যা আক্তার 'বাই' পেয়ে ১/২৪ খেলায় উন্নীত হলেও পুষ্পিতা জামান ১৪০-১৪২ স্কোরে সিঙ্গাপুরের এলি টেং টেং লোয়ের কাছে হেরে যান।
আগামীকাল রিকার্ভ ডিভিশনের পাশাপাশি কম্পাউন্ডের পরবর্তী রাউন্ডের খেলাগুলো হবে।

বিশ্বে ৮ হাজার মিটারের বেশি উচ্চতার পর্বত আছে মোট ১৪টি। ২০২৫ সাল পর্যন্ত এই তালিকার চারটি শৃঙ্গে আরোহন করে বাংলাদেশের ইতিহাসে অনন্য কীর্তি গড়েছিলেন পর্বতারোহী বাবর আলী। যা কোনো বাংলাদেশির পক্ষেই আগে সম্ভব হয়নি।
এবার সেই সাফল্যের মুকুটে যুক্ত হলো আরেকটি পালক। শনিবার (২ মার্চ) বাংলাদেশ সময় ভোর ৫টা ৪৫ মিনিটে বাবর আলী পৌঁছে যান মাউন্ট মাকালু-র চূড়ায়। এর মাধ্যমে তিনি জয় করলেন নিজের পঞ্চম ৮ হাজার মিটারের শৃঙ্গ।
৮ হাজার ৪৮৫ মিটার (২৭ হাজার ৮৩৮ ফুট) উচ্চতার মাউন্ট মাকালু পৃথিবীর পঞ্চম উচ্চতম পর্বত। যা নেপালের মহালঙ্গুর হিমাল পর্বতমালায় অবস্থিত। এই শৃঙ্গে এটাই কোনো বাংলাদেশির প্রথম সফল আরোহণ।
নেপালভিত্তিক আউটফিটার মাকালু এডভেঞ্চারের মালিক মোহন লামসালের বরাত দিয়ে গণমাধ্যমকে তথ্যটি নিশ্চিত করেন অভিযানের ব্যবস্থাপক ফারহান জামান।
মাকালু এক্সপেডিশন : দ্য ফিফথ ফ্রন্টিয়ার- শিরোনামের এই অভিযানের আয়োজন করে পর্বতারোহী সংগঠন ভার্টিকেল ড্রিমস।
চূড়ায় ওঠার পথে বাবর আলীর সঙ্গে ছিলেন গাইড অ্যাং কামি শেরপা। অভিযানের পৃষ্ঠপোষকতায় ছিল ভিজ্যুয়াল নিটওয়ার্স লিমিটেড, সামুদা স্পেক-কেম লিমিটেড, মাই হেলথ, চন্দ্রবিন্দু প্রকাশন ও রহমান'স গ্রোসারিজ।
'গ্রেট ব্ল্যাক ওয়ান' নামে পরিচিত মাউন্ট মাকালু হিমালয়ের অন্যতম কঠিন শৃঙ্গ হিসেবে বিবেচিত। অভিযানের উদ্দেশ্যে বাবর আলী গত ৭ এপ্রিল বাংলাদেশ ছাড়েন। ৯ এপ্রিল তুমলিংতার পৌঁছে সেখান থেকে সড়কপথে সেদুয়া গ্রামে যান এবং পরে ট্রেকিং করে ১৮ এপ্রিল অ্যাডভান্সড বেস ক্যাম্পে পৌঁছান।
অভিযানের অংশ হিসেবে উচ্চতার সঙ্গে খাপ খাওয়াতে তিনি ২১ এপ্রিল ক্যাম্প-১ ও পরদিন ক্যাম্প-২-এ ওঠেন। প্রায় ৭ হাজার মিটার উচ্চতা স্পর্শ করে আবার বেস ক্যাম্পে ফিরে আসেন। ২৭ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া দ্বিতীয় রোটেশনে তিনি আবার ক্যাম্প-২ পর্যন্ত উঠে এক রাত কাটিয়ে নেমে আসেন এবং অনুকূল আবহাওয়ার অপেক্ষায় থাকেন।
আবহাওয়া অনুকূলে আসার ইঙ্গিত পেয়ে ৩০ এপ্রিল আবার চূড়ার পথে যাত্রা শুরু করেন। সরাসরি ৬ হাজার ৬০০ মিটার উচ্চতার ক্যাম্প-২তে ওঠার পরদিন ৭ হাজার ৪০০ মিটার উচ্চতার ক্যাম্প-৩-এ পৌঁছান।
সেখানেই বিকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করে মধ্যরাতে শুরু করেন চূড়ান্ত আরোহন। টানা ১,১০০ মিটারেরও বেশি খাড়া পথ অতিক্রম করে ভোরে পৌঁছে যান চূড়ায়।
এর আগে ২০২৪ সালে মাউন্ট এভারেস্ট ও মাউন্ট লোৎসে জয় করে একই অভিযানে দুটি ৮ হাজার মিটারের শৃঙ্গ জয় করা প্রথম বাংলাদেশি হন তিনি। ২০২৫ সালের এপ্রিলে আন্নপূর্ণা ও সেপ্টেম্বরে মাউন্ট মানাসলু (অক্সিজেন ছাড়াই) জয় করে আরও দুটি ইতিহাস গড়েন।
মাউন্ট মাকালু জয় করার মাধ্যমে এখন বিশ্বের ১৪টি ৮ হাজার মিটারের শৃঙ্গের মধ্যে পাঁচটিতে নিজের নাম লিখিয়ে ফেলেছেন বাবর আলী। সবগুলো জয় করার লক্ষ্যে তিনি এগিয়ে চলেছেন দৃঢ় পদক্ষেপে।
তথ্যসূত্রঃ দ্য ডেইলি সান