৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৪৭ পিএম

লে.ক (অব.) ফারুক খান যখন বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের সিনিয়র সহ-সভাপতি, তখন লে. ক. (অব.) লতিফ খান বাংলাদেশ স্কোয়াশ ফেডারেশনের সহ সভাপতি। দু'জনের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক দারুণ। একসঙ্গে পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমী থেকে কমিশন্ড পেয়েছেন। ছিলেন দুজন সেনাবাহিনীতে প্যারাট্রুপার। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় দুজনেই ছিলেন পাকিস্তানে আটকা। সেনাবাহিনী থেকে দুজন প্রায় একই সময়ে (১৯৯১ সাল) নিয়েছেন অবসর। দুজনের সঙ্গে আমার পরিচয়ও প্রায় কাছাকাছি সময়ে। সিনিয়র সাংবাদিক আসিফ আহমেদ ভাই লতিফ ভাই-এর সঙ্গে আমাকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। ক্রীড়া সাংবাদিকতা করছি বলে প্রথম পরিচয়েই খুব আপন করে নিয়েছিলেন লতিফ ভাই। বনানীর এবিসি টাওয়ারের ৮ তলায় ভিজিলেন্স নামের একটি প্রাইভেট সিকিউরিটিজ প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার লতিফ ভাই-কে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গন মনে রাখবে একটি বিশেষ পরিচয়ে। বিকেএসপির প্রথম মহাপরিচালক তিনি। ছিলেন এই দায়িত্বে প্রায় ৫ বছর। বিকেএসপিকে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের নিউক্লিয়াস হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার প্রথম কারিগর তিনি। তার আমলেই ট্রেনিজ হোস্টেল, কলেজ, প্রশাসনিক ভবন, সুইমিং পুল, অ্যাথলেটিক্স ট্র্যাক, ইনডোর জিমনেশিয়াম, হকির অ্যাস্ট্রো টার্ফ, ফুটবল-ক্রিকেটের পৃথক মাঠ-পরিকল্পিত স্পোর্টস কমপ্লেক্স হিসেবে গড়ে ওঠে বিকেএসপি। সে কারণেই দেখা হলে বিকেএসপির স্মৃতিচারণটা করতেন লতিফ ভাই।
নিজে ছিলেন বক্সার। তাই বিকেএসপি ছাড়াও লতিফ ভাই বাংলাদেশের বক্সিং ক্রীড়ার সফল সংগঠক। ২০১০ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত দক্ষিণ এশিয়ান গেমসে বক্সিংয়ে জনি এবং রহিমের হাত ধরে বাংলাদেশের ২টি স্বর্ণপদক জয়েও তার অবদান অসামাণ্য। বক্সিং ফেডারেশনের সে সময়ের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বক্সিংয়ের জন্য একটি ছাদঢাকা মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণেও রেখেছেন ভুমিকা।
স্কোয়াশের জন্য স্বতন্ত্র ভেন্যু স্থাপনে দিয়েছেন দৌঁড় ঝাপ। গুলশান ক্লাবের লম্বা সময়ের সাধারণ সম্পাদক এই ক্লাবটির পরিবেশ এবং ভাবমূর্তি দিয়েছেন বদলে।
এমন এক ক্রীড়া সংগঠক বাংলাদেশের ক্রিকেটেও রেখেছেন অবদান। বাংলাদেশের ক্রিকেটের বাঁক বদলের গল্পে উচ্চারিত হবে তাঁর নাম। ২০০৩ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের শোচনীয় ব্যর্থতা তদন্তে যখন টিম ম্যানেজমেন্ট হয়েছে অভিযুক্ত, তখন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে বেতনভুক্ত একজন ম্যানেজার নিয়োগের দাবিটা উঠেছিল। বিসিবির তৎকালীন উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য এবং সে সময়ের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকো বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ম্যানেজার হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন লে.ক.(অব.) এম এ লতিফ খান-কে। এই একটি নিয়োগে বদলে যায় ক্রিকেট দল। ২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়া সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ দল নতুন ইমেজ তৈরি করে। পাকিস্তান সফরে মুলতান টেস্টে অলক কাপালীর ক্যাচ জুচ্চরি করে ধরার অভিযোগ ম্যাচ রেফারির কাছে তুলে পাকিস্তানের তৎকালীন অধিনায়ক রশিদ লতিফকে বহিষ্কারে বাধ্য করেছেন তিনি। ২০০৪ সালে ইংল্যান্ড সফরে ইংলিশ অধিনায়ক জিওফ্রে বয়কট বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ব্যাটারদেরকে তাঁর মৃত মায়ের সঙ্গে তুলনায় এনে যখন গণমাধ্যমে অপদস্ত করেছেন, তখন তার প্রতিবাদ জানিয়েছেন টিম ম্যানেজার লতিফ। ২০০৪ সালে জিম্বাবুয়ে সফরে বাংলাদেশের প্রথম ওডিআই জয়ই বলুন কিংবা সে বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সেন্ট লুসিয়া টেস্টে গর্বের ড্র, ২০০৫ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট এবং টেস্ট সিরিজ, ওডিআই সিরিজ জয়, যুক্তরাজ্যের কার্ডিফে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে স্মরণীয় জয়, বগুড়ায় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে জয়-প্রতিটি সাফল্যের সঙ্গে মিশে আছেন তিনি।
বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের কেউ শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে নিস্তার পাননি ওই সময়ে। তার আদর্শ দৃষ্ঠান্ত ২০০৪ সালে জিম্বাবুয়ে সফরে বাঁ হাতি স্পিনার মোহাম্মদ রফিককে সফরের মাঝপথে দেশে ফেরত পাঠানো। দলের তরুণ বাঁ হাতি স্পিনার মানজারুল ইসলামের উপর চড়াও হয়েছিলেন রফিক, তার সাজা হিসেবে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে ঢাকায় ফিরে আসতে হয়েছে। ২০০৩ থেকে ২০০৬, এই তিন বছর বাংলাদেশের ক্রিকেটের বদলে যাওয়ার গল্পে লতিফ ভাই-কে স্মরণ করতে হবে বিশেষভাবে।
২০০৭ সালে তৎকালীন তত্বাবধায়ক সরকারের আমলে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচিত কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) ১১ সদস্যের অন্তবর্তীকালীন উপদেষ্টা কমিটি গঠন করে, সেই কমিটিতে ছিলেন লতিফ ভাই। দায়িত্ব পেয়েছিলেন বিসিবির ডেভেলপম্যান্ট কমিটিতে। ২০০৭ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের অভিষেকে বাংলাদেশ দল দারুণ পারফর্ম করেছে, সেখানেও ছিল তার একটি অদ্ভুত আইডিয়া। দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে তিনি পুরো ক্রিকেট দলকে পাঠিয়েছিলেন সিলেট সেনানিবাসে, কমান্ডো ট্রেনিংয়ে। ক্রিকেটারদের শারীরিকভাবে শক্ত সামর্থ এবং মানসিকভাবে শক্ত করতে তাঁর এই আইডিয়া বাস্তবায়ন করেছে বিসিবি।
বিকেএসপির শুরুর দিকের ক্যাডেট দুর্জয়, মাসুদ রানা দিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট এবং ফুটবল দলকে লম্বা সময়ে সার্ভিস। দক্ষিণ এশিয়ার দ্রুততম দৌড়বিদ বিমল চন্দ্র তরফদার, সাঁতারু কারার মিজানদের আবির্ভাব এবং পরিচর্যার পেছনের গল্পেও থাকবে লে.ক (অব.) এম এ লতিফের নাম। সাকিব, মুশফিকদের হাত ধরে বাংলাদেশের সর্বকালের সেরা প্রজন্মের ক্রিকেটারদের আগমনেও বিকেএসপির অবদানের সঙ্গে যুক্ত থাকবে স্বপ্নচারী এই ক্রীড়া সংগঠকের নাম। ঢাকা স্টেডিয়াম এবং গুলশানের নাভানা টাওয়ার থেকে বিসিবি অফিস মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে স্থানান্তর, একাডেমী ভবন নির্মাণেও রেখেছেণ অবদান এই নিভৃতচারী। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক নাজমুল আবেদিন ফাহিম বিকেএসপির কোচ পদে চাকরির নিয়োগদাতার নামও লে. ক. (অব.) এম এ লতিফ। তার আমলের দুই ক্যাডেট রাবিদ ইমাম দীর্ঘদিন ধরে বিসিবির মিডিয়া ডিপার্টমেন্টের প্রধান। আর এক ক্যাডেট সালাউদ্দিন এখন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সিনিয়র সহকারী কোচ। নিজের পিএসএল-এ চাকরি করতে করতে সুসম্পর্ক গড়ে ওঠায় সৈয়দ আবদুল বাতেনের নিয়োগটাও তিনি দিয়েছিলেন বিসিবিতে। শুরু থেকে বিসিবির গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠা গ্র্যাউন্ডস কমিটির ন্যাশনাল ম্যানেজারের পদটা নির্দিষ্ট হয়ে আছে তাঁর জন্য।
বাংলাদেশের ক্রিকেটকে শৃঙ্খলার মধ্যে ফিরিয়ে আনার কারিগর লে. ক. (অব.) এম এ লতিফ ৮৮ বছর বয়সে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন। বুধবার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহির রাজেউন)। তবে রেখে গেছেন বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে অনেক স্মরণীয় স্মৃতি। বাংলাদেশের ক্রিকেটে বাঁক বদলের গল্পে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন তিনি বছরের পর বছর।
No posts available.
৯ মে ২০২৬, ৯:৪২ পিএম
৯ মে ২০২৬, ৫:৪৭ পিএম
৮ মে ২০২৬, ১০:৫৮ পিএম
৬ মে ২০২৬, ৮:১৯ পিএম

দেশব্যাপী চলমান প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচি ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬’-এ ফুটবল ও ক্রিকেটে অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স দেখিয়ে আলোচনায় উঠে এসেছেন দুই খুদে ক্রীড়াবিদ। নওগাঁর আনিতা বাসকের গোলের বন্যা আর বাগেরহাটের আলী মাহমুদ নোবেল বিধ্বংসী বোলিংয়ে চমক দেখিয়েছেন। নিজ নিজ জেলাকে সাফল্যের চূড়ায় নিয়ে গেছেন এই দুই উদীয়মান তারকা।
নওগাঁর পোরশা উপজেলাকে ৭-০ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়ে বালিকাদের ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ধামইরহাট উপজেলা। ফাইনালের এই দাপুটে জয়ের নায়ক ধামইরহাট সুফিয়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী আনিতা বাসকে। ফাইনালে একাই চার গোল করার পাশাপাশি টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কারও জিতেছেন তিনি। পুরো টুর্নামেন্টে দারুণ পারফরম্যান্স উপহার দিয়ে চার ম্যাচে মোট ১২টি গোল করে নিজের জাত চিনিয়েছেন এই স্ট্রাইকার। কৃষক বাবা অনিল বাসকে এবং মা লক্ষ্মী মুরুমুর কন্যা আনিতার নৈপুণ্যে ধামইরহাট উপজেলা এখন জেলা পর্যায়ে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে।
ক্রিকেটের মাঠে বল হাতে ঝড় তুলেছেন বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার আলী মাহমুদ নোবেল। নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের কোয়ার্টার ফাইনালে মোংলা উপজেলার বিপক্ষে মাত্র ২ ওভার বল করে ৬টি উইকেট শিকার করে হইচই ফেলে দিয়েছেন এই খুদে পেসার।
এর আগে চিতলমারীর পক্ষে সৌমিক সমাদ্দারের ২৭ বলে ৬৪ রানের ঝড়ো ইনিংসে ১৩৩ রানের বড় লক্ষ্য পায় মোংলা। এরপর নোবেলের বিধ্বংসী বোলিংয়ের মুখে ১০ ওভারে মাত্র ৫৪ রান সংগ্রহ করতে সক্ষম হয় তারা। চিতলমারী সরকারি এস এম মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র নোবেলের এমন বোলিং নৈপুণ্যেই সহজ জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে চিতলমারী উপজেলা।
তৃণমূল থেকে উঠে আসা এই দুই প্রতিভা ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচির লক্ষ্যকে আরও সার্থক করে তুলেছে। আনিতা ও নোবেলের মতো ক্ষুদে খেলোয়াড়রাই আগামী দিনে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের বড় সম্পদ হয়ে উঠবে বলে আশা আয়োজকদের।

বাংলাদেশ স্পোর্টস প্রেস অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসপিএ) দ্বি-বার্ষিক সাধারণ সভা ২০২৫ ও নির্বাচন ২০২৬-২৭ আজ শনিবার বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) ডাচ বাংলা ব্যাংক মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভাপতি পদে পুনরায় নির্বাচিত হয়েছেন চ্যানেল ২৪-এর ডেপুটি স্পোর্টস এডিটর রেজওয়ান উজ জামান রাজিব। সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন দৈনিক আগামীর সময়ের সিনিয়র স্পোর্টস রিপোর্টার সুদীপ্ত আহমদ আনন্দ।
কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি রেজওয়ানের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের ১৪৪ জন সদস্য। দ্বিতীয় অধিবেশনে বিএসপিএ’র নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার মোফাখখারুল ইসলাম দিলখোশ। এবারের নির্বাচনে ১৯টি পদের বিপরীতে ১৯টি মনোনয়নপত্র জমা পড়ে। ফলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন সবাই।
এছাড়া দু’জন সহ-সভাপতি পদে দৈনিক নয়াদিগন্তের তালহা বিন নজরুল ও অলআউট স্পোর্টসের আবু নোমান মো. উল্লাহ নির্বাচিত হয়েছেন। দু’জন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন যমুনা টিভির নিউজ প্রেজেন্টার ফয়সাল মুহাম্মদ তিতুমীর ও সময় টিভির ক্রীড়া সাংবাদিক সাজিদ মুস্তাহিদ।
অর্থ সম্পাদক পদে কালের কণ্ঠের স্পোর্টস রিপোর্টার শাহজাহান কবির নির্বাচিত হয়েছেন। সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন চ্যানেল ২৪ এর সিনিয়র স্পোর্টস রিপোর্টার এ কে এম ফয়জুল ইসলাম। পুনরায় দপ্তর সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন মোহাম্মদ মাসুক মিয়া এবং ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন রায়হান উদ্দিন রাসেল।
এছাড়া নির্বাচিত ৯জন কার্যনির্বাহী সদস্য হলেন- খায়রুল ইসলাম শাহীন, এটিএন বাংলার পরাগ আরমান, ক্রীড়া সাংবাদিক কাজী শহীদুল আলম, মিঞা রফিকুল ইসলাম, বাংলা ট্রিবিউনের সিনিয়র ক্রীড়া সাংবাদিক তানজীম আহমেদ, রাশিদা আফজালুন নেসা, মাহফুজুল ইসলাম, টি-স্পোর্টসের সিনিয়র স্পোর্টস রিপোর্টার নাভিল এলাহী খান, সামসুল আরেফীন খান।
ফলাফল ঘোষণার সময় উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশনের অপর দুই সদস্য ইয়াহিয়া মুন্না ও রাহেনুর ইসলাম।
সর্বশেষ মেয়াদেও সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন রেজওয়ান উজ জামান। নতুন করে তাঁর ওপরই আস্থা রেখেছেন সমিতির সাধারণ সদস্যরা। এই মেয়াদে নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রত্যয় চ্যানেল ২৪ এর এই সাংবাদিকের,
‘গত দুই বছর চ্যালেঞ্জিং ছিল। সাফল্য আছে, আক্ষেপও আছে, সীমাবদ্ধতাও আছে আমাদের। এটি দেশের সবচেয়ে প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী সাংবাদিকদের সংগঠন। আমাদের মূল লক্ষ্য ক্রীড়া সাংবাদিকদের মান উন্নয়ন এবং সদস্য যারা আছে তাদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো। সেটা আমরা চেষ্টা করেছি গত দুই বছর। কিছু পেরেছি, কিছু পারিনি। আগামী দুই বছরও আমরা ধারাবাহিকতা রাখতে চাই।’
এছাড়া তিনি জানান নিয়মিত কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা থাকবে এবং সামনে তাঁর একটি বড় ইচ্ছার কথাও জানান। বলেন যে স্পোর্টস জার্নালিস্ট ইনস্টিটিউট করতে চান তিনি।
আগেও দুই মেয়াদে বিএসপিএ’র সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন নতুন নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক সুদীপ্ত আনন্দ। আরও একবার তাঁর ওপর আস্থা রাখায় সংগঠনটির সাধারণ সদস্যদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তিনি। বলেছেন,
‘আজ আমাদের প্রাণের সংগঠন বিএসপিএ’র দ্বিবার্ষিক সাধারণ সভা এবং নির্বাচন ছিল। পুনরায় সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব আমার কাঁধে অর্পণ করেছেন সাধারণ সদস্যরা, তাদের প্রতি অনেক কৃতজ্ঞতা।’
তবে দায়িত্ব পেয়েই বসে থাকতে চান না বিএসপি‘র অভিজ্ঞ এই সাংগঠনিক। প্রতিষ্ঠানটির উন্নতি সাধনে আশা জাগানিয়া কিছু পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন তিনি। বলেছেন,
‘আমরা বিএসপিএ-তে সবসময়ই ক্রীড়া সাংবাদিকদের পেশাগত উন্নতি সাধনে কাজ করি। অতীতে যারা ছিলেন, তারা ভালো কাজ করেছেন; সেই ভালোর ধারাটা অব্যাহত রাখাটাই বড় চ্যালেঞ্জ। আমরা একটা স্পোর্টস জার্নালিস্ট ইনস্টিটিউট করতে চাই বিএসপিএ-র নামে, আশা করি সেই লক্ষ্য আমরা পূরণ করতে পারব। পাশাপাশি ক্রীড়া সাংবাদিক ও সদস্যদের ওয়েলফেয়ারে কিছু অবদান রাখতে পারব বলে বিশ্বাস করি।’

১৪ বছর বিএসপিএ’র কমিটিতে ছিলেন সামন হোসেন। পরপর দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেছেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদকের। এর আগেও ছিলেন সাংগঠনিক সম্পাদক পদে। তবে এবার তিনি আর কমিটিতে থাকছেন না। নির্বাচন থেকে আগেই সরে দাঁড়ান। যাওয়ার আগে দারুণ কিছু কাজ তাঁর সময়ে হয়েছে। সর্বশেষ চার বছরে তথা দুই মেয়াদে নিজের কাজ নিয়ে মূল্যায়নের দায়ভার তিনি ছেড়েছেন সদস্যদের ওপর। যদিও তার আগেই সাধারণ সভায় সাবেক সাধারণ সম্পাদকের কাজে মুগ্ধতার কথা জানান উপস্থিত সব সাধারণ সদস্যরা।
বিদায়ের কিছু দিন আগেও সমিতির উন্নতির লক্ষ্যে বেশ কিছু কাজ এগিয়ে দিয়েছেন সামন হোসেন। যার ফলাফল আগামীতে পাওয়া যাবে। বিশেষকরে সমিতির মান উন্নয়নে বারডেম হাসপাতাল এবং বাংলাদেশ ডায়েবেটিক সমিতির সভাপতি এবং জাতীয় অধ্যাপক ড. একে আজাদ খানের সঙ্গে চুক্তির কাজ এগিয়ে রেখেছেন তিনি। সম্প্রতি আজাদ খান তাঁর আমন্ত্রণে সমিতি ঘুরে গিয়েছেন এবং আশ্বাস দিয়েছেন বিএসপিএ’র পাশে থাকার।
বিদায়ের আগে সাবেক সাধারণ সম্পাদক বলেন,
‘বিএসপিএ ক্রীড়া সাংবাদিকদের সংগঠন। দায়িত্ব নেওয়ার পরে আমাদের চেষ্টা ছিল ক্রীড়া সাংবাদিকদের মানোন্নয়নে কাজ করা। গত দুই বছর বেশ কিছু কাজ করেছি। আমরা তিনটা কর্মশালা করেছি— একটা হচ্ছে ক্রিকেট বোর্ডের সাথে ‘পিস টু প্রেস’। আমরা এমআরডিআই-এর সঙ্গে একটা কর্মশালা করেছি। ভবিষ্যতে আমাদের যে নতুন কমিটি আসবে, তাদের কাছে অনুরোধ থাকবে যে এই যে সাংবাদিকদের মানোন্নয়নে বিএসপিএ যে কর্মসূচি বিগত বছরগুলোতে করেছে, এটার ধারাবাহিকতা সামনে বজায় রাখবে।’
ডায়েবেটিক সমিতির সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরে বিএসপিএ কি সুবিধা পেতে পারে জানতে চাইলে সামন হোসেন বলেন,
‘বারডেমের এবং বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির কাছ থেকে যাতে বিএসপিএ-র সদস্যরা একটা বড় ডিসকাউন্ট পেতে পারে তার জন্য আমরা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছিলাম। বারডেমের ডায়াবেটিক সমিতির যে চেয়ারম্যান, ন্যাশনাল প্রফেসর এ কে আজাদ খান, উনার সঙ্গে আমাদের কয়েক দফায় এ বিষয়ে সভা হয়েছে। শুক্রবার বারডেমের এজিএম অনুষ্ঠিত হয়েছে, সেখানেও আমাদের এ বিষয়টা নিয়ে তারা আলোচনা করেছে। অতি শীঘ্রই বিএসপিএ বারডেমের সঙ্গে একটা চুক্তি করবে। এই চুক্তির আওতায় আমাদের বিএসপিএ-র সকল সদস্যরা বিভিন্ন ধরনের সুবিধা পাবে।’
এবারেই প্রথমবারের মতো বিএসপিএ’র কার্যনির্বাহী কমিটির একজন হয়েছেন টি-স্পোর্টসের সিনিয়র ক্রীড়া সাংবাদিক নাভিল এলাহী খান। সামনের দিনগুলোতে প্রাণের এই সংগঠনকে আরও সামনে এগিয়ে নিতে চান তিনি,
‘বিএসপিএ বাংলাদেশের একটি প্রাতিষ্ঠানিক ও অত্যন্ত সম্মানজনক ক্রীড়া সাংবাদিকদের সংগঠন। এই সংগঠনের এক্সিকিউটিভ কমিটিতে সুযোগ পাওয়া আমার জন্য অবশ্যই অনেক বড় সম্মানের। একই সঙ্গে এটাকে আমি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবেও দেখছি। কারণ আগের কমিটিগুলো বিএসপিএকে যে অবস্থানে নিয়ে গেছে, সেটাকে ধরে রাখা এবং আরও সামনে এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব এখন আমাদের ওপর। ভাগ্য ভালো, আমাদের সঙ্গে একটি দারুণ কমিটি আছে। দেশের অনেক স্বনামধন্য ক্রীড়া সাংবাদিক একসঙ্গে কাজ করছেন। আমি বিশ্বাস করি, সবাই মিলে কাজ করলে ইনশা আল্লাহ আমরা বিএসপিএকে দিন দিন আরও নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারবো। সেটাই এখন আমাদের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য এবং চ্যালেঞ্জ।’

ব্যস্ত নগরের যান্ত্রিকতার মাঝে এক চিলতে স্বস্তি আর প্রাণের স্পন্দন। ছুটির দিনে ধানমন্ডি স্পোর্টস ক্লাবের মাঠে শিশু-কিশোরদের হইচই, বল নিয়ে দৌড়াদৌড়ি আর ব্যাটে-বলের লড়াই যেন সেই প্রাণেরই জানান দিচ্ছে। তবে এই চেনা ছবি এখন আরও বড় স্বপ্নের পথে। দেশের প্রথম ‘সাসটেইনেবল সোশ্যাল স্পোর্টস ক্লাব’ বা টেকসই সামাজিক ক্রীড়া ক্লাব হিসেবে নতুনভাবে পথচলা শুরু করেছে ধানমন্ডি স্পোর্টস ক্লাব।
ছুটির দিনে ক্লাব পরিদর্শনে এসে এই নতুন যাত্রার শুভসূচনা করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। এই ক্লাবের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক এই অধিনায়ক মাঠের কোণে কোণে ঘুরে দেখেন ক্লাবের বর্তমান অবস্থা ও উন্নয়ন কাজ। ফুটবল ও ক্রিকেটের প্রশস্ত মাঠ ঘুরে দেখার পাশাপাশি তিনি কথা বলেন ক্লাবের ক্ষুদে খেলোয়াড়দের সঙ্গে, দেন অনুপ্রেরণা।
অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সবসময় খেলাধুলা ও সামাজিক উন্নয়নের এমন সৃজনশীল উদ্যোগকে স্বাগত জানান। স্থানীয়দের সহযোগিতা নিয়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এই ক্লাবকে এমনভাবে সাজাতে চায়, যাতে এটি একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং সুস্থ সমাজ গঠনের রোল মডেল হয়ে ওঠে।

ফুটবল ও ক্রিকেটে ক্লাবটির ঐতিহ্য দীর্ঘদিনের। তবে এখন শুধু খেলাধুলাই নয়, একে একটি পূর্ণাঙ্গ সামাজিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ক্লাবের স্থায়ী সদস্য ও তাদের পরিবারের জন্য থাকছে ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ও বাস্কেটবলসহ বিভিন্ন ইনডোর গেমসের আন্তর্জাতিক মানের সুবিধা। ভবিষ্যতে এখানে একটি প্রশস্ত সুইমিং পুল, বিশ্বমানের হেয়ার স্যালুন ও স্পা তৈরির পরিকল্পনাও হাতে নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ক্লাবটির আধুনিকায়ন ও মাঠের পরিবেশ রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে ধানমন্ডি সোসাইটি। দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্ব বা সাসটেইনেবিলিটির বিষয়টি মাথায় রেখেই প্রতিটি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পরিবেশবান্ধব ও সামাজিক এই মডেল ঢাকার অন্যান্য ক্লাবের জন্যও উদাহরণ হয়ে থাকবে।
সুস্থ দেহ আর সুস্থ মনের মেলবন্ধনে ধানমন্ডি স্পোর্টস ক্লাব এখন কেবল একটি খেলার মাঠ নয়, বরং একটি আদর্শ সামাজিক মিলনমেলায় পরিণত হওয়ার পথে।

চীনের সাংহাইয়ে চলমান ‘আর্চারি ওয়ার্ল্ড কাপ, স্টেজ-২’-এর দ্বিতীয় দিনে দুর্দান্ত সাফল্য দেখিয়েছেন বাংলাদেশের আর্চাররা। কম্পাউন্ড মহিলা দলগত ইভেন্টে স্বাগতিক চীনকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার পাশাপাশি রিকার্ভ পুরুষ এককে ভারতের শক্তিশালী প্রতিযোগী অতনু দাসকে পরাজিত করেছেন বাংলাদেশের মিশাদ প্রধান।
বুধবার কম্পাউন্ড মহিলা দলগত ইভেন্টের ১/৮ খেলায় বাংলাদেশ ২৩০-২২৯ স্কোরে শক্তিশালী পিপলস রিপাবলিক অব চায়নাকে পরাজিত করে কোয়ার্টার ফাইনালে উন্নীত হয়। তবে কোয়ার্টার ফাইনালে আমেরিকার কাছে ২২৪-২৩৪ স্কোরে হেরে বিদায় নিতে হয় লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের।
অন্যদিকে, কম্পাউন্ড পুরুষ দলগত ইভেন্টে ১/১২ খেলায় বাংলাদেশ ২৩১-২২৭ স্কোরে সিঙ্গাপুরকে হারিয়ে ১/৮ খেলায় উন্নীত হলেও ফ্রান্সের কাছে ২২৯-২৩৪ স্কোরে পরাজিত হয়।
ব্যক্তিগত ইভেন্টে বাংলাদেশের ঐশ্বর্য্য রহমান কম্পাউন্ড পুরুষ এককের ১/২৪ খেলায় ১৪৫-১৪৪ স্কোরে কাজাখস্তানের দিলমুখমেত মুসাকে পরাজিত করে ১/১৬ খেলায় জায়গা করে নিয়েছেন। তবে মহিলা এককে বন্যা আক্তার ও তানিয়া রীমা নিজেদের ম্যাচে পরাজিত হয়ে বিদায় নিয়েছেন।
রিকার্ভ পুরুষ একক ইভেন্টে বাংলাদেশের আর্চাররা দারুণ পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন। ১/৪৮ খেলায় মো. মিশাদ প্রধান ৭-৩ সেটে ভারতের অভিজ্ঞ আর্চার অতনু দাসকে পরাজিত করে বড় চমক দেখান। এছাড়া রামকৃষ্ণ সাহা ৬-২ সেটে কিরগিজস্তানের উলুকবেককে পরাজিত করে ১/২৪ খেলায় উন্নীত হয়েছেন। আব্দুর রহমান আলিফ র্যাংকিংয়ের কল্যাণে ‘বাই’ পেয়ে সরাসরি পরবর্তী রাউন্ডে উন্নীত হন। তবে রাকিব মিয়া চীনের ইউক্সুয়ান লি-এর কাছে পরাজিত হন।
রিকার্ভ মহিলা এককে নাসরিন আক্তার ৬-৪ সেটে কাজাখস্তানের দিয়ানা তুরসুনবেককে হারিয়ে ১/২৪ খেলায় উন্নীত হয়েছেন। তবে সায়মা সালাহ উদ্দিন ও সীমা আক্তার শিমু নিজ নিজ ম্যাচে হেরে আসর থেকে বিদায় নিয়েছেন।
কোয়ালিফিকেশন রাউন্ড শেষে রিকার্ভ পুরুষ দলগত ইভেন্টে ২০টি দেশের মধ্যে নবম স্থান অর্জন করেছে বাংলাদেশ। রিকার্ভ মহিলা দলগত ইভেন্টে ১৫তম এবং মিশ্র দলগত ইভেন্টে (আলিফ ও নাসরিন) ১৩তম স্থান অর্জন করেছে লাল-সবুজ দল।

চলতি বছর নভেম্বরে সৌদি আরবে বসবে ই-স্পোর্টসের বিশ্বকাপখ্যাত ই-স্পোর্টস নেশনস কাপ। প্রথমবারের মতো এই আসরে অংশ নেবে বাংলাদেশ দল। বুধবার রাজধানীর হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান বাংলাদেশ ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ইলেকট্রনিক স্পোর্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ড. ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. মুনিরুল ইসলাম।
মুনিরুল ইসলাম বলেন, ‘ই-স্পোর্টস নেশনস কাপে বাংলাদেশ ১৫টি ভিন্ন ভিন্ন ই-স্পোর্টস শিরোনামে অংশগ্রহণ করবে। যেখানে মোট প্রাইজপুল ২২০ কোটি টাকারও বেশি। এটি দেশভিত্তিক ই-স্পোর্টস টুর্নামেন্টগুলোর মধ্যে এটি সবচেয়ে বড় আয়োজন। এই ঐতিহাসিক আসরের অংশ হতে পেরে আমরা গর্বিত।’
বাংলাদেশ-সহ ১৫০টি দেশ অংশ নেবে এবারের আসরে। ১৫ ইভেন্টে বাংলাদেশ থেকে অংশ নেবে ৫০ জন গেমার। টিম বাংলাদেশের প্রস্তুতি সম্পর্কে দলের ম্যানেজার আগা রাফসান জানান, বাছাইপর্বে বাংলাদেশকে প্রথম এশিয়ার দেশ গুলোর বিপক্ষে লড়তে হবে। লিডার বোর্ডের ২-৩-এ থাকলেই মূল পর্বে খেলতে পারবে বাংলাদেশ। মূলত সেই লক্ষ্য নিয়েই প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছেন বাংলাদেশের গেমাররা।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয় এই টুর্নামেন্টের জন্য সারা দেশ থেকে প্রায় ১৫০০ গেমার রেজিস্ট্রেশন করে। সেখান থেকে ট্রায়াল এবং একাধিক ধাপের বাছাই প্রক্রিয়া শেষে চূড়ান্ত দলটি গঠিত হয়েছে।
ইভেন্টের তিন কোচ ফারহান ইসলাম, মো. আবিদ হোসেন এবং নাজমুস সাকিব, গণমাধ্যমকে বাংলাদেশ দলের প্রস্তুতি সম্পর্কে জানান। তারা বলেন, সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে গেমার বাছাই করা হয়েছে। বেশ জোরেশোরে চলছে দলের প্রস্তুতি। যেহেতু মূল আসর শুরু হতে এখনো দুই মাস বাকি, তাই প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি থাকবে না বলে বিশ্বাস তাদের।