৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৪৭ পিএম

লে.ক (অব.) ফারুক খান যখন বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের সিনিয়র সহ-সভাপতি, তখন লে. ক. (অব.) লতিফ খান বাংলাদেশ স্কোয়াশ ফেডারেশনের সহ সভাপতি। দু'জনের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক দারুণ। একসঙ্গে পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমী থেকে কমিশন্ড পেয়েছেন। ছিলেন দুজন সেনাবাহিনীতে প্যারাট্রুপার। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় দুজনেই ছিলেন পাকিস্তানে আটকা। সেনাবাহিনী থেকে দুজন প্রায় একই সময়ে (১৯৯১ সাল) নিয়েছেন অবসর। দুজনের সঙ্গে আমার পরিচয়ও প্রায় কাছাকাছি সময়ে। সিনিয়র সাংবাদিক আসিফ আহমেদ ভাই লতিফ ভাই-এর সঙ্গে আমাকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। ক্রীড়া সাংবাদিকতা করছি বলে প্রথম পরিচয়েই খুব আপন করে নিয়েছিলেন লতিফ ভাই। বনানীর এবিসি টাওয়ারের ৮ তলায় ভিজিলেন্স নামের একটি প্রাইভেট সিকিউরিটিজ প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার লতিফ ভাই-কে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গন মনে রাখবে একটি বিশেষ পরিচয়ে। বিকেএসপির প্রথম মহাপরিচালক তিনি। ছিলেন এই দায়িত্বে প্রায় ৫ বছর। বিকেএসপিকে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের নিউক্লিয়াস হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার প্রথম কারিগর তিনি। তার আমলেই ট্রেনিজ হোস্টেল, কলেজ, প্রশাসনিক ভবন, সুইমিং পুল, অ্যাথলেটিক্স ট্র্যাক, ইনডোর জিমনেশিয়াম, হকির অ্যাস্ট্রো টার্ফ, ফুটবল-ক্রিকেটের পৃথক মাঠ-পরিকল্পিত স্পোর্টস কমপ্লেক্স হিসেবে গড়ে ওঠে বিকেএসপি। সে কারণেই দেখা হলে বিকেএসপির স্মৃতিচারণটা করতেন লতিফ ভাই।
নিজে ছিলেন বক্সার। তাই বিকেএসপি ছাড়াও লতিফ ভাই বাংলাদেশের বক্সিং ক্রীড়ার সফল সংগঠক। ২০১০ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত দক্ষিণ এশিয়ান গেমসে বক্সিংয়ে জনি এবং রহিমের হাত ধরে বাংলাদেশের ২টি স্বর্ণপদক জয়েও তার অবদান অসামাণ্য। বক্সিং ফেডারেশনের সে সময়ের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বক্সিংয়ের জন্য একটি ছাদঢাকা মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণেও রেখেছেন ভুমিকা।
স্কোয়াশের জন্য স্বতন্ত্র ভেন্যু স্থাপনে দিয়েছেন দৌঁড় ঝাপ। গুলশান ক্লাবের লম্বা সময়ের সাধারণ সম্পাদক এই ক্লাবটির পরিবেশ এবং ভাবমূর্তি দিয়েছেন বদলে।
এমন এক ক্রীড়া সংগঠক বাংলাদেশের ক্রিকেটেও রেখেছেন অবদান। বাংলাদেশের ক্রিকেটের বাঁক বদলের গল্পে উচ্চারিত হবে তাঁর নাম। ২০০৩ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের শোচনীয় ব্যর্থতা তদন্তে যখন টিম ম্যানেজমেন্ট হয়েছে অভিযুক্ত, তখন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে বেতনভুক্ত একজন ম্যানেজার নিয়োগের দাবিটা উঠেছিল। বিসিবির তৎকালীন উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য এবং সে সময়ের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকো বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ম্যানেজার হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন লে.ক.(অব.) এম এ লতিফ খান-কে। এই একটি নিয়োগে বদলে যায় ক্রিকেট দল। ২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়া সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ দল নতুন ইমেজ তৈরি করে। পাকিস্তান সফরে মুলতান টেস্টে অলক কাপালীর ক্যাচ জুচ্চরি করে ধরার অভিযোগ ম্যাচ রেফারির কাছে তুলে পাকিস্তানের তৎকালীন অধিনায়ক রশিদ লতিফকে বহিষ্কারে বাধ্য করেছেন তিনি। ২০০৪ সালে ইংল্যান্ড সফরে ইংলিশ অধিনায়ক জিওফ্রে বয়কট বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ব্যাটারদেরকে তাঁর মৃত মায়ের সঙ্গে তুলনায় এনে যখন গণমাধ্যমে অপদস্ত করেছেন, তখন তার প্রতিবাদ জানিয়েছেন টিম ম্যানেজার লতিফ। ২০০৪ সালে জিম্বাবুয়ে সফরে বাংলাদেশের প্রথম ওডিআই জয়ই বলুন কিংবা সে বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সেন্ট লুসিয়া টেস্টে গর্বের ড্র, ২০০৫ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট এবং টেস্ট সিরিজ, ওডিআই সিরিজ জয়, যুক্তরাজ্যের কার্ডিফে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে স্মরণীয় জয়, বগুড়ায় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে জয়-প্রতিটি সাফল্যের সঙ্গে মিশে আছেন তিনি।
বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের কেউ শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে নিস্তার পাননি ওই সময়ে। তার আদর্শ দৃষ্ঠান্ত ২০০৪ সালে জিম্বাবুয়ে সফরে বাঁ হাতি স্পিনার মোহাম্মদ রফিককে সফরের মাঝপথে দেশে ফেরত পাঠানো। দলের তরুণ বাঁ হাতি স্পিনার মানজারুল ইসলামের উপর চড়াও হয়েছিলেন রফিক, তার সাজা হিসেবে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে ঢাকায় ফিরে আসতে হয়েছে। ২০০৩ থেকে ২০০৬, এই তিন বছর বাংলাদেশের ক্রিকেটের বদলে যাওয়ার গল্পে লতিফ ভাই-কে স্মরণ করতে হবে বিশেষভাবে।
২০০৭ সালে তৎকালীন তত্বাবধায়ক সরকারের আমলে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচিত কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) ১১ সদস্যের অন্তবর্তীকালীন উপদেষ্টা কমিটি গঠন করে, সেই কমিটিতে ছিলেন লতিফ ভাই। দায়িত্ব পেয়েছিলেন বিসিবির ডেভেলপম্যান্ট কমিটিতে। ২০০৭ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের অভিষেকে বাংলাদেশ দল দারুণ পারফর্ম করেছে, সেখানেও ছিল তার একটি অদ্ভুত আইডিয়া। দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে তিনি পুরো ক্রিকেট দলকে পাঠিয়েছিলেন সিলেট সেনানিবাসে, কমান্ডো ট্রেনিংয়ে। ক্রিকেটারদের শারীরিকভাবে শক্ত সামর্থ এবং মানসিকভাবে শক্ত করতে তাঁর এই আইডিয়া বাস্তবায়ন করেছে বিসিবি।
বিকেএসপির শুরুর দিকের ক্যাডেট দুর্জয়, মাসুদ রানা দিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট এবং ফুটবল দলকে লম্বা সময়ে সার্ভিস। দক্ষিণ এশিয়ার দ্রুততম দৌড়বিদ বিমল চন্দ্র তরফদার, সাঁতারু কারার মিজানদের আবির্ভাব এবং পরিচর্যার পেছনের গল্পেও থাকবে লে.ক (অব.) এম এ লতিফের নাম। সাকিব, মুশফিকদের হাত ধরে বাংলাদেশের সর্বকালের সেরা প্রজন্মের ক্রিকেটারদের আগমনেও বিকেএসপির অবদানের সঙ্গে যুক্ত থাকবে স্বপ্নচারী এই ক্রীড়া সংগঠকের নাম। ঢাকা স্টেডিয়াম এবং গুলশানের নাভানা টাওয়ার থেকে বিসিবি অফিস মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে স্থানান্তর, একাডেমী ভবন নির্মাণেও রেখেছেণ অবদান এই নিভৃতচারী। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক নাজমুল আবেদিন ফাহিম বিকেএসপির কোচ পদে চাকরির নিয়োগদাতার নামও লে. ক. (অব.) এম এ লতিফ। তার আমলের দুই ক্যাডেট রাবিদ ইমাম দীর্ঘদিন ধরে বিসিবির মিডিয়া ডিপার্টমেন্টের প্রধান। আর এক ক্যাডেট সালাউদ্দিন এখন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সিনিয়র সহকারী কোচ। নিজের পিএসএল-এ চাকরি করতে করতে সুসম্পর্ক গড়ে ওঠায় সৈয়দ আবদুল বাতেনের নিয়োগটাও তিনি দিয়েছিলেন বিসিবিতে। শুরু থেকে বিসিবির গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠা গ্র্যাউন্ডস কমিটির ন্যাশনাল ম্যানেজারের পদটা নির্দিষ্ট হয়ে আছে তাঁর জন্য।
বাংলাদেশের ক্রিকেটকে শৃঙ্খলার মধ্যে ফিরিয়ে আনার কারিগর লে. ক. (অব.) এম এ লতিফ ৮৮ বছর বয়সে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন। বুধবার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহির রাজেউন)। তবে রেখে গেছেন বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে অনেক স্মরণীয় স্মৃতি। বাংলাদেশের ক্রিকেটে বাঁক বদলের গল্পে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন তিনি বছরের পর বছর।
No posts available.
৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৩:২৫ পিএম
১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৫৯ পিএম
১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:৩৯ এম

বিকেএসপির সাবেক মহাপরিচালক ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন কমিটির সদস্য লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) আব্দুল লতিফ খান মারা গেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
আজ বেলা সাড়ে তিনটায় ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) না ফেরার দেশে পাড়ি জমান এম এ লতিফ। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর। বৃহস্পতিবার বাদ জোহর ঢাকার বারিধারা জামে মসজিদে (লেন ৪) তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে সামরিক কবরস্থানে সমাহিত করা হবে মরদেহ।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার বদলের পর ক্রীড়াঙ্গনে বিভিন্ন ফেডারেশনে সংস্কারের অংশ হিসেবে তাঁকে বাংলাদেশ বক্সিং ফেডারেশনের সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়। মৃত্যুর আগপর্যন্ত সেই দায়িত্বে ছিলেন এম এ লতিফ।
বাংলাদেশ ক্রিকেটের সঙ্গে দীর্ঘ এবং বিশিষ্ট সম্পর্ক ছিল কর্নেল লতিফের। বিসিবির গেম ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি। পাশাপাশি জাতীয় ক্রিকেট দলের ম্যানেজার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।২০০৭ সালে বোর্ডের অন্তর্বর্তীকালীন কমিটির সদস্য ছিলেন তিনি।
বাংলাদেশ বক্সিং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এম এ কুদ্দুস খান জানিয়েছেন,
‘কিছুদিন আগে নওগাঁয় নিজের বাড়িতে স্যার হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে বগুড়া সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ১০-১২ দিন আগে তাঁকে ঢাকায় আনা হয়।’
একজন দক্ষ প্রশাসক হিসেবে এম এ লতিফের সুখ্যাতি ছিল। ১৯৮৭ সাল থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (বিকেএসপি) মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছেন। সেনাবাহিনীতে থাকার সময় বিভিন্ন বক্সিং প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন, পরবর্তী জীবনে আন্তর্জাতিক বক্সিং রেফারি ও জাজ হিসেবে পেয়েছেন সেরার স্বীকৃতি।
লে. কর্নেল এম এ লতিফ ২০০৩ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৭ সালে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অন্তর্বর্তীকালীন কমিটির সদস্য থাকাকালে বিভিন্ন সময় তিনি গেম ডেভেলপমেন্ট, শৃঙ্খলা এবং টেন্ডার ও পারচেজ কমিটির প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন।

নিরাপত্তা ইস্যুতে ভারতে হতে যাওয়া বিশ্বকাপ বয়কট করেছে বাংলাদেশ। তবে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে ভারত সফরের অনুমতি পেয়েছে বাংলাদেশ শুটিং দল। এশিয়ান শুটিং চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিতে গতকাল দিল্লিতে গেছেন শুটার রবিউল ইসলাম এবং কোচ শারমিন আক্তার।
বাংলাদেশ শুটিং ফেডারেশন জানিয়েছে, ভারত যাত্রার আগে নিরাপত্তা ও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হয়েছে।
ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আলেয়া ফেরদৌস বলেন, 'শুটার ও কোচ ইতোমধ্যে ভারতে পৌঁছেছেন এবং তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি আগেই নিশ্চিত করা হয়েছিল। ভারতের শুটিং ফেডারেশন এবং এশিয়ান শুটিং ফেডারেশনের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখা হচ্ছে।'
এই সফরে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের অভিজ্ঞতাও বড় ভরসা। রবিউল ইসলাম ২০২৪ প্যারিস অলিম্পিকে অংশ নিয়েছিলেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খেলেছেন একাধিক টুর্নামেন্টে।
অন্যদিকে কোচ শারমিন আক্তারও সাবেক তারকা শুটার। এ কারণে পরিস্থিতি সামলাতে তাদের সক্ষমতা নিয়ে আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ শুটিং ফেডারেশন।
ভারত পৌঁছানোর পর নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন রবিউল ইসলাম। দিল্লি থেকে তিনি জানান, এখন পর্যন্ত সবকিছুই স্বাভাবিক ও নিরাপদ। তিনি বলেন, 'আমরা এখন পর্যন্ত বেশ নিরাপদ ও স্বাভাবিক আছি। ইমিগ্রেশনে তেমন সময় লাগেনি। হোটেল ও শুটিং রেঞ্জের পরিবেশও ভালো। কোনো সমস্যা বা সংকটের মুখোমুখি হইনি।'
রবিউলের মতে, এখন পর্যন্ত আতিথেয়তা ও সুযোগ-সুবিধাও সন্তোষজনক। শুটিং চ্যাম্পিয়নশিপে তাঁর ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হবে ৫ ফেব্রুয়ারি।

স্কোয়াশ প্রথমবার অলিম্পিকে জায়গা করবে। ২০২৮ লস এঞ্জেলস গেমসের জন্য যোগ্যতা নির্ধারণের নিয়ম ঘোষণা করেছে ওয়ার্ল্ড স্কোয়াশ।
অলিম্পিকে স্কোয়াশে পুরুষ ও মহিলা দুটি বিভাগ থাকবে, প্রতিটি বিভাগে ১৬ জন খেলোয়াড় অংশ নেবেন। যোগ্যতা নির্ধারণ হবে বিশ্ব র্যাঙ্কিং, মহাদেশীয় গেমসের সাফল্য, পাশাপাশি থাকবে ইউনিভার্সালিটি প্লেস, আয়োজক দেশের স্পট ও চূড়ান্ত যোগ্যতা টুর্নামেন্টের বিজয়ী।
আমেরিকান আয়োজক দেশ একটি স্পট পাবে। প্রফেশনাল স্কোয়াশ অ্যাসোসিয়েশনের র্যাঙ্কিং অনুযায়ী ৮টি স্থান দেওয়া হবে, যা ২০২৮ সালের ২২ মে চূড়ান্ত হবে।
একটি ইউনিভার্সালিটি প্লেস দেওয়া হবে এমন কোনো দেশের খেলোয়াড়কে, যা অলিম্পিকে অংশগ্রহণের বৈচিত্র্য বাড়াবে।
আগামী ১৮ মাসে মহাদেশীয় গেমসে ৫টি যোগ্যতা স্থান বিতরণ করা হবে। এর মধ্যে থাকবে ২০২৬ সালের এশিয়ান গেমস, ২০২৭ সালের আফ্রিকান গেমস, ইউরোপীয় গেমস, প্যাসিফিক গেমস ও পান আমেরিকান গেমস।
চূড়ান্ত একটি স্থান নির্ধারণ করা হবে ২৪ জনের চূড়ান্ত যোগ্যতা টুর্নামেন্টে, যা ২০২৮ সালের জুনে হবে, অলিম্পিকের ছয় সপ্তাহ আগে।
প্রতিটি দেশে মূলত একজন খেলোয়াড় থাকবে, তবে সর্বাধিক দুজন খেলোয়াড়ও অংশ নিতে পারবে। ফলে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় অনেক খেলোয়াড় খেলতে পারবে না। বর্তমানে মিশরের সাতজন পুরুষ এবং আটজন মহিলা খেলোয়াড় টপ ১৬ র্যাঙ্কিংয়ে রয়েছেন, যার মধ্যে চারজন শীর্ষ পাঁচে।

চট্টগ্রামের ক্রীড়াঙ্গনের চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘ফিউচার অফ স্পোর্টস ইন চট্টগ্রাম’ শীর্ষক আলোচনা সভা। বন্দর নগরীকে একটি আধুনিক ক্রীড়া নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে ক্রীড়া সংগঠন, প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর দেওয়া হয় এই অনুষ্ঠানে।
আজ বিকেলে চট্টগ্রামের শহীদ ফজলুর রহমান অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল। প্রধান আলোচক ও প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজনীতিবিদ ও ক্রীড়া পৃষ্ঠপোষক আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন ক্রীড়া সংগঠক সিরাজউদ্দিন মো. আলমগীর।
প্রধান আলোচকের বক্তব্যে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, চট্টগ্রামের ক্রীড়া উন্নয়নের পথে যেসব সমস্যা রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে ধাপে ধাপে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় তৈরির জন্য আধুনিক ক্রীড়া অবকাঠামো গড়ে তোলা, মানসম্মত প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা চালু করা এবং খেলোয়াড়দের জন্য প্রয়োজনীয় সব সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।’
ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের ইশতেহারে বিভিন্ন পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে ক্রীড়া সংগঠন, প্রশাসন ও খেলোয়াড়দের একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান আমির খসরু।
তামিম ইকবাল বলেন, ‘একটা সময় চট্টগ্রাম ছিল দেশের ক্রীড়াঙ্গনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। এখান থেকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অনেক তারকা খেলোয়াড় উঠে এসেছে। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই ধারাবাহিকতা কিছুটা কমে গেছে।’
জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক বলেন, ‘এই অবস্থা থেকে উত্তরণে ক্রীড়া সংগঠক, কোচ, খেলোয়াড় ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ অপরিহার্য। চট্টগ্রামের ক্রীড়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত উজ্জ্বল। সঠিক পরিকল্পনা ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নেওয়া গেলে আবারও এই অঞ্চলকে দেশের অন্যতম ক্রীড়া কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব।’
অনুষ্ঠানের শুরুতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কাউন্সিলর ইসরাফিল খসরু চট্টগ্রামের ক্রীড়া উন্নয়নের পথে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা ও সম্ভাবনার দিকগুলো তুলে ধরেন। তিনি চট্টগ্রামকে আধুনিক ক্রীড়া নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে একটি সময়সাপেক্ষ ও বাস্তবসম্মত রোডম্যাপ উপস্থাপন করেন।
আলোচনা সভায় ক্রীড়া সংগঠকদের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন ক্রীড়া সংগঠক মো. হাফিজুর রহমান, মশিউর রহমান স্বপন, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক কমান্ডার মো. শাহাবুদ্দিন, শাহাবুদ্দীন জাহাঙ্গীর, আমিনুল ইসলামসহ অনেকে।
অনুষ্ঠানে চট্টগ্রামের বিভিন্ন ক্রীড়া সংগঠন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, খেলোয়াড়, কোচ ও ক্রীড়া সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

নিত্যদিন শুটিং কিংবা ভিডিও তৈরির কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হয় কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের। সারা দিনের ক্লান্তি দূর করতে এবং শারীরিক ফিটনেস ঠিক রাখতে তাঁদেরও ছুটতে হয় জিমে ঘাম ঝরাতে। তাতে শরীরের সতেজতার সঙ্গে কর্মদক্ষতাও বাড়ে। তাই দেশের শতাধিক কনটেন্ট ক্রিয়েটর বেছে নিয়েছেন গোল্ডস জিম বাংলাদেশকে।
বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটিতে অবস্থিত অত্যাধুনিক এই জিম শনিবার দেশের জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছিল।
যুবসমাজ ও ডিজিটাল কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বাড়ানোর লক্ষ্যে ‘ডিনার উইথ দ্য স্টারস’ শীর্ষক একটি নেটওয়ার্কিং ইভেন্টের আয়োজন করে গোল্ডস জিম বাংলাদেশ। বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটির গোল্ডস জিমের পুলসাইডে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে শতাধিক কনটেন্ট ক্রিয়েটর, ফিটনেস সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অংশ নেন। এ সময় গোল্ডস জিম ও ক্রিয়েটরদের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) চুক্তি হয়।
গত বছরের মে মাসে যাত্রা শুরু হওয়া দেশের সবচেয়ে বড় এবং পরিপূর্ণ জিম সেন্টারের চাহিদা দিনকে দিন শুধু বেড়েই চলেছে। ওয়ার্ক আউট সেন্টার, কার্ডিও সেশন সেন্টার, ক্রাউ থেরাপি, কোল্ড প্লাঞ্জ, জাকুজি পুল, হিমলয়ান সল্ট বাথসহ নারী ও পুরুষের জন্য আলাদা দুটি সুইমিং পুল—সব মিলিয়ে আধুনিক ও অত্যাধুনিক সরঞ্জামের মিশেলে সুবিশাল স্থাপনা।
শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য জিম অত্যধিক কার্যকরী। এই ভাবনা থেকেই অত্যাধুনিক এই জিম তৈরি করেছে বসুন্ধরা গ্রুপ।
ইতালির বিখ্যাত কম্পানি টেকনোজিম থেকে আনা হয়েছে গোল্ডস জিমের যাবতীয় সরঞ্জাম। আভিজাত্য ও চাকচিক্যে ভরা এই সরঞ্জামগুলো অভিজাত রোলস রয়েস গাড়ির সঙ্গে তুলনা করা চলে। লিমিটেড এডিশন হলেও যেটার মান অনেক উঁচুতে। এমন সরঞ্জাম যে কারোর নজর কাড়তে বাধ্য করবে। এখানে একসঙ্গে জিম সেশন করতে পারবে অন্তত ৮০০ জন।
দক্ষিণ এশিয়া তো বটেই, আয়তন ও আভিজাত্যে এশিয়ার মধ্যে এটি অন্যতম সেরা জিম সেন্টার। এই স্থাপনা তিনটি ফ্লোরে ভাগ করা। নিচতলায় অভ্যর্থনা কক্ষের সঙ্গে থাকছে ক্যাফেটেরিয়া। ডান পাশে ১০০ মিটারের সুইমিং পুল। দ্বিতীয় তলার পুরোটাই নারীদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি। তৃতীয় তলায় কার্ডিও এবং চতুর্থ তলায় ট্রেনিং জোন, যেখানে আছে স্কোয়াট র্যাক উইথ আ পুলআপ বার, অলিম্পিক বারবেল, ওয়েট প্লেটস, ফ্ল্যাট বেঞ্চ, ডাম্বেল, স্যান্ড ব্যাগ, রানিং মেশিন, রেসিস্ট্যান্ট ব্র্যান্ডসহ অন্যান্য যন্ত্রপাতি।
এখানকার বাড়তি আকর্ষণ হিমালয়ান সল্ট বাথ। যে রুমে গিয়ে শ্বাস নিলে ফুসফুস পরিষ্কার করবে। যাদের শ্বাসকষ্টের সমস্যা আছে তাদের জন্য সল্ট বাথ ভীষণ কার্যকরী। জিমে ওয়ার্ক আউট করে সতেজ হতে পাশের পুলেই নেমে পড়তে পারবেন যেকোনো সদস্য। ২১ জন দক্ষ ট্রেইনার দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে এই জিম সেন্টার। আধুনিক যন্ত্রপাতি ও দক্ষ ট্রেনার থাকলেই তো চলবে না, দিতে হবে উন্নত মানের সেবা। যেটা ছিল বসুন্ধরা গ্রুপের প্রথম ও একমাত্র চাহিদা। সেই চাহিদা মেটাতে গোল্ডস জিম নিরন্তরভাবে কাজ করে চলেছে।
বৃহৎ এই জিম দেখে অবাক কনটেন্ট ক্রিয়েটররা। কনটেন্ট ক্রিয়েটর সানজিদা রহমান বলেন, ‘আমি তো প্রথম দেখাতেই অবাক হয়েছি। এত বড় জিম! সব কিছু আছে এখানে। জিম করতে এসে সুইমিং, স্পা, বাথ—সব পাচ্ছি এখানে। আমাদের জন্য খুবই ভালো হবে। বসুন্ধরা গ্রুপকে ধন্যবাদ এই জিম তৈরির জন্য।’
কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের সঙ্গে নতুন পথচলার কারণ হিসেবে গোল্ডস জিমের অপারেশনস ও মার্কেটিং ম্যানেজার আনিসুল ইসলাম ববি বলেছেন, ‘ট্রাভেল ব্লগার হোক, ফুড হোক, ফিটনেস, লাইফস্টাইল কিংবা মেকআপ ব্লগার—ফিটনেস কিন্তু সবার জন্য। আমরা একেকজন একেক ব্লগারকে অনুসরণ করি। তাই আমরা সব ধরনের কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে নিয়েছি। সে ক্ষেত্রে সব ধরনের মানুষের কাছে আমরা গোল্ডস জিমের খবর পৌঁছে দিতে পারব।’