
রেকর্ড গড়ে, ভেঙেও যায়। পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি রেকর্ড কোনো না কোনো সময় ভেঙে গেছে। দৌড়বিদ উসাইন বোল্টের গতির বিশ্বরেকর্ড এতদিন মনে হচ্ছিল অক্ষুণ্ণই থেকে যাবে। অথচ ২০০ মিটার দৌড়ে জ্যামাইকান কিংবদন্তির ১৮ বছর বয়সের রেকর্ডের চেয়েও কম সময় নিয়েছেন কুইন্সল্যান্ডের ১৮ বছর বয়সী তরুণ গাউট।
২০০৪ সালে অনূর্ধ্ব-২০ পর্যায়ে ২০০ মিটার দৌড়ে বোল্ট সময় নিয়েছিলেন ১৯.৯৩ সেকেন্ড। এবার অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় শিরোপা জয়ের পথে কুইন্সল্যান্ডে জন্ম নেওয়া গাউট সময় নিয়েছেন মাত্র ১৯.৬৭ সেকেন্ড। গত বছর ১৯.৮৪ সেকেন্ড সময় নিয়েছিলেন তিনি। তবে সেবার বাতাসের সহায়তা পাওয়ায় সেটি রেকর্ড হিসেবে গণ্য হয়নি।
অনূর্ধ্ব-২০ পর্যায়ে কারও জন্য সবচেয়ে কম সময়ে ২০০ মিটার দৌড়ানোর কীর্তি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের এরিয়ন নাইটনের (১৯.৪৯ সেকেন্ড)। যদিও আপনার উল্লিখিত ১৯.৬৯ সেকেন্ডের টাইমিংটিও এরিয়নেরই ছিল। গাউট এখন বোল্ট ও নাইটনের সেই সময়ের ছায়ায় দৌড়াচ্ছেন। তার পেছনে থেকে দ্বিতীয় হওয়া এইডেন মার্ফিও ২০ সেকেন্ডের কম সময় নেন।
রবিবার কীর্তিময় একটি দিন পার করার পর গাউট বলেন,
“আমার কাঁধ থেকে বিশাল বোঝা সরে গেল। জানতাম বাতাসের সাহায্য ছাড়াই দৌড়াতে পারব আমি। সেই গতি এবং শরীর আছে আমার। তাই অবশ্যই দারুণ অনুভূতি হচ্ছে এবং আরও বেশি কিছুর জন্য তৈরি।”
No posts available.
১২ এপ্রিল ২০২৬, ১:১২ পিএম
১১ এপ্রিল ২০২৬, ৮:২১ পিএম
১০ এপ্রিল ২০২৬, ৯:৪৫ পিএম
৮ এপ্রিল ২০২৬, ৮:১২ পিএম

ডোপ টেস্টে পজিটিভ হয়ে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছেন বাংলাদেশের অন্যতম সেরা ভারোত্তোলক এবং এসএ গেমসে টানা দুইবারের স্বর্ণজয়ী অ্যাথলেট মাবিয়া আক্তার সীমান্ত।
সাউথ এশিয়া রিজিওনাল অ্যান্টি ডোপিং অর্গানাইজেশন (সারাদো) ওয়ার্ল্ড অ্যান্টি-ডোপিং এজেন্সির (ওয়াদা) কোড অনুযায়ী এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
শাস্তির পর হতাশা ও আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন মাবিয়া। তার দাবি, তিনি চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন মেনেই ওষুধ সেবন করেছিলেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তা জানিয়েছিলেন।
জানা গেছে, গত বছর সৌদি আরবের রিয়াদে অনুষ্ঠিত ইসলামিক সলিডারিটি গেমস শুরুর আগে মাবিয়ার নমুনা সংগ্রহ করা হয়। সেই নমুনায় নিষিদ্ধ ‘ডাইইউরেটিক্স’ (Diuretics) নামক পদার্থের উপস্থিতি পাওয়া যায়। ডাইইউরেটিক্স মূলত এমন এক ধরনের ওষুধ, যা শরীর থেকে অতিরিক্ত পানি ও লবণ বের করে দেয় (যাকে ওয়াটার পিলস বলা হয়)। এটি দ্রুত ওজন কমাতে সহায়ক হলেও খেলাধুলায় এটি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কারণ এটি অন্য নিষিদ্ধ উপাদান লুকানোর জন্য 'মাস্কিং এজেন্ট' হিসেবে কাজ করতে পারে। ভারোত্তোলনের মতো ওজনভিত্তিক খেলায় এর ব্যবহার অত্যন্ত সংবেদনশীল।
আরও পড়ুন
| দেশে ফিরলেন মোস্তাফিজ-তামিমরা, ২ দিন পর আসবেন নাহিদ-শরিফুল |
|
গত বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়ে মাবিয়াকে দুই বছরের জন্য আন্তর্জাতিক ও প্রতিযোগিতামূলক সব ধরনের ক্রীড়া কার্যক্রম থেকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
নিষেধাজ্ঞার খবর প্রকাশ্যে আসার পর নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন মাবিয়া। জানান, অসুস্থতার কারণে যে ওষুধ খেয়েছিলেন সেটির প্রেসক্রিপশন তার কাছে রয়েছে। আক্ষেপ করে বলেন, 'এখন আমাকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে, সব দোষ আমারই হবে। কিন্তু এতদিন যাবত সব সেমিনারে আমাদেরকে বলা হয়েছে, 'নাপা বা যে কোনো ওষুধ যেটাই খাও, আমাদেরকে প্রেসক্রিপশন দেখাবে; প্রেসক্রিপশন থাকতে হবে।' এর বেশি কিছু কোনো সেমিনারে আমাদের বলা হয়নি। তো আমি যে ওষুধ খেয়েছি বা আমি যে মেডিকেশনের মধ্যে দিয়ে গিয়েছি তার সবই সকলে জানতো। সবকিছুর প্রেসক্রিপশন আমার কাছে আছে। কিন্তু এখন যেহেতু শাস্তি হয়ে গেছে, এখন তো সব দোষ আমারই হবে।'
কর্তৃপক্ষকে প্রেসক্রিপশন না দেখানোর অভিযোগও নাকচ করেছেন এই তারকা ভারোত্তোলক। তিনি বলেন, 'আমি প্রেসক্রিপশন দেখাইনি এমনটা বলা হচ্ছে। তবে আমি প্রেসক্রিপশন দেখিয়েছি। শফিক সাহেব এখন বলছেন আমি প্রেসক্রিপশন দেখাইনি। কিন্তু আমি তাঁকে প্রেসক্রিপশন দেখিয়েছি।'
আন্তর্জাতিক অ্যান্টি-ডোপিং বিধি অনুযায়ী এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ রয়েছে মাবিয়ার। আপিলের প্রক্রিয়া নিয়ে তিনি খুব বেশি অবগত না হলেও, ১৪ দিনের মধ্যেই আপিল করার কথা জানিয়েছেন, 'আপিলের বিষয়ে আমি আসলে জানিনা, আপিল কিভাবে করতে হয় সেটাও আমি জানিনা। তবে আমি সব খোঁজ খবর নিচ্ছি, আমি আপিল করবো। সময় কম, ১৪ দিনের মধ্যে আপিল করতে হবে। প্রয়োজনে মার্সি (ক্ষমা) চেয়ে আপিল করতে পারি।'
মাদারীপুরের মেয়ে মাবিয়া আক্তার সীমান্তের ক্যারিয়ার কখনোই খুব মসৃণ ছিল না। চরম দারিদ্র্য ও প্রতিকূল পরিবেশের মধ্য দিয়ে উঠে আসা এই ভারোত্তোলক ২০১৬ সালের এসএ গেমসে (৬৩ কেজি ওজন শ্রেণিতে) স্বর্ণ জিতে দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনেন। এরপর ২০১৯ সালে নেপালে অনুষ্ঠিত এসএ গেমসেও তিনি স্বর্ণ জেতেন এবং টানা দুই আসরে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার বিরল কীর্তি গড়েন।
২৬ বছর বয়সি দেশের এই শীর্ষ ভারোত্তোলকের জন্য দুই বছরের নিষেধাজ্ঞা ক্যারিয়ারের জন্য এক বিশাল অশনিসংকেত। এখন তিনি আপিল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিজের নিষেধাজ্ঞা কমাতে পারেন কি না।

সাউথ এশিয়ান ইয়ুুথ টেবিল টেনিস চ্যাম্পিয়নশিপের শেষ দিনে সিঙ্গেলস ইভেন্টে আজ কোর্টে নেমেছিলেন খই খই সাই মারমা, নাফিজ ইকবাল, আবুল হাসেম হাসিব এবং মো. মিদুল রহমান। তবে কোয়ার্টার ফাইনালের লড়াইয়ে হেরে বিদায় নেন চার প্যাডেলার। তাতে বাংলাদেশের নতুন কোনো পদক আর যোগ হয়নি। ফলে পুরো টুর্নামেন্টে ১টি স্বর্ণ, ১টি রৌপ্য ও ৬টি ব্রোঞ্জসহ মোট ৮টি পদক নিয়ে বাংলাদেশ রানার্স আপ হয়।
টুর্নামেন্টে আয়োজক দেশ ভারত সব ইভেন্টে শতভাগ আধিপত্য বজয়া রেখে ১৩টি স্বর্ণ ও ৪টি রৌপ্যসহ মোট ১৭টি পদক জিতে চ্যাম্পিয়ন হয়।
অন্যদিকে শ্রীলঙ্কা ৩টি রৌপ্য ও ১১টি ব্রোঞ্জসহ মোট ১৪টি পদক নিয়ে তৃতীয়, নেপাল ৩টি রৌপ্য ও ৭টি ব্রোঞ্জসহ ১০টি পদক পেয়ে চতুর্থ এবং মালদ্বীপ ৩টি রৌপ্য ও ৪টি ব্রোঞ্জসহ ৭টি পদক নিয়ে পঞ্চম স্থান অধিকার করে।
শনিবার অনূর্ধ্ব-১৯ বালক দ্বৈতের ফাইনালে নাফিজ-হাসিব জুটি স্বর্ণ জয়ের সম্ভাবনা তৈরি করলেও ভারতের রাজশেখরন-সেথিল জুটির কাছে ১-৩ সেটে (১১-৯, ৭-১১, ৪-১১, ৫-১১) পরাজিত হলে রৌপ্য নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় বাংলাদেশকে।
দলের পারফরম্যান্স নিয়ে ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ক্যাপ্টেন এ. এম. মাকসুদ আহমেদ সনেট বলেন,
'বালক দল প্রত্যাশা অনুযায়ী ভালো খেললেও বালিকারা সে তুলনায় পিছিয়ে ছিল। তারপরও সংখ্যাতত্ত্বের হিসাবে সাউথ এশিয়ান জুনিয়রে এটা আমাদের সর্বোচ্চ অর্জন।'
প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ যুব দলের অফিসিয়াল অ্যাটায়ার পার্টনার হবার জন্য উর্মি গ্রুপ তথা তুরাগ অ্যাক্টিভের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানান মাকসুদ আহমেদ।

সাউথ এশিয়ান ইয়ুথ টেবিল টেনিস (টিটি) চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম তিন দিনে ১টি স্বর্ণ, ১টি রৌপ্য এবং ৬টি ব্রোঞ্জসহ মোট ৮টি পদক নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। প্রতিযোগিতার শেষ দিনে পদকের সংখ্যা ও মান আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
শুক্রবার অর্থাৎ প্রতিযোগীতার তৃতীয় দিনে ১টি রৌপ্যসহ ৫টি ব্রোঞ্জ পদক নিশ্চিত করে বাংলাদেশ। এর আগে বৃহস্পতিবার দলগত ইভেন্টে অনূর্ধ্ব-১৯ বালক দল স্বর্ণপদক জেতে এবং অনূর্ধ্ব-১৯ বালিকা দল গ্রুপ পর্যায়ে তৃতীয় হয়ে ব্রোঞ্জ অর্জন করে।
দলগত ইভেন্টে প্রত্যাশিত ফল না পেলেও একক ইভেন্টে এখনও পদকের লড়াইয়ে টিকে আছেন বাংলাদেশের খই খই মারমা। অনূর্ধ্ব-১৯ বালক বিভাগে নাফিজ ইকবাল, আবুল হাশেম হাসিব এবং অনূর্ধ্ব-১৫ বালক বিভাগে মো. মিদুল রহমান প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছেন।
একক ইভেন্টের ফলাফল: অনূর্ধ্ব-১৯ বালিকা এককে ভারতের অনন্যা মুরালিধরনের কাছে ৩-০ সেটে হেরে গেলেও মালদ্বীপের মোহাম্মদ ইব্রাহিম মিশকাতকে ৩-২ সেটে হারিয়ে গ্রুপ রানার্সআপ হন খই খই মারমা। কোয়ার্টার ফাইনালে তিনি শ্রীলঙ্কার শামালশা হালাওয়াথাগের মুখোমুখি হবেন।
অনূর্ধ্ব-১৯ বালক এককে নাফিজ ইকবাল টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ র্যাঙ্কধারী প্রিয়ানুজ ভট্টাচার্যের কাছে ০-৩ সেটে পরাজিত হলেও মালদ্বীপের এয়ন ইব্রাহিমকে একই ব্যবধানে হারিয়ে গ্রুপ রানার্সআপ হন। কোয়ার্টার ফাইনালে নেপালের হিমাল বিস্তার মুখোমুখি হবেন তিনি।
আবুল হাশেম হাসিব নেপালের হিমাল বিস্তার কাছে হেরে গেলেও পরবর্তীতে শ্রীলঙ্কার হারিন মুনাসিংহ এবং মালদ্বীপের মোহাম্মদ রাফিউকে ৩-০ সেটে হারিয়ে গ্রুপ রানার্সআপ হন। কোয়ার্টারে তার প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কার আকাইন রাজাভেলু।
অনূর্ধ্ব-১৫ বালক এককেমিদুল রহমান ভারতের অক্ষয় কিরিকারারের কাছে ০-৩ সেটে হেরে গেলেও নেপালের বিপক্ষে ৩-২ সেটে জিতে গ্রুপ রানার্সআপ হন। প্রি-কোয়ার্টারে তার প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কার সানন মেনুয়েলগে।
দ্বৈত এবং মিশ্র দ্বৈতের ফলাফল: অনূর্ধ্ব-১৫ বালক দ্বৈতে শাহীন আহমেদ ও মিদুর রহমান মালদ্বীপের মোহাম্মদ রাফিউ ও ফাজ লতিফ জুটিকে ৩-২ সেটে হারান। তবে সেমিফাইনালে তারা ভারতের রিসান চট্টোপাধ্যায় ও আকাশ রাজাভেলু জুটির কাছে ১-৩ সেটে পরাজিত হয়ে ব্রোঞ্জ নিশ্চিত করেন।
অনূর্ধ্ব-১৫ বালিকা দ্বৈতে মোসা. রাফিয়া চৌধুরী ও রোজা ইসলাম কোয়ার্টার ফাইনালে বাই পেয়ে সেমিফাইনালে ওঠেন। সেখানে তারা নেপালের আরসানা মহারাজ ও সুরম্য শাক্য জুটির কাছে ১-৩ সেটে হেরে ব্রোঞ্জ পান।
অনূর্ধ্ব-১৯ বালক দ্বৈতে নাফিজ ইকবাল ও আবুল হাশেম হাসিব কোয়ার্টার ফাইনালে মালদ্বীপ জুটিকে ৩-০ সেটে হারান। সেমিফাইনালে তারা নেপালের হিমাল বিস্তা ও এরিশ শাক্য জুটিকে ৩-১ সেটে পরাজিত করে বাংলাদেশের জন্য রৌপ্য নিশ্চিত করেন। ফাইনালে তারা ভারতের বিপক্ষে খেলবেন।
অনূর্ধ্ব-১৯ বালিকা দ্বৈতে খই খই সাই মারমা ও রেশমী তৈঞ্চঙ্গা সেমিফাইনালে নেপালের বিপক্ষে ০-৩ সেটে হেরে ব্রোঞ্জ অর্জন করেন।
মিশ্র দ্বৈতে অনূর্ধ্ব-১৫ বিভাগে মিদুল রহমান ও রোজা ইসলাম নেপালের রিভান বজ্রাচার্য ও সুরম্য শাক্য জুটিকে ৩-২ সেটে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠে আরও একটি ব্রোঞ্জ নিশ্চিত করেন। সেমিফাইনালে তারা ভারতের বিপক্ষে খেলবেন।
অনূর্ধ্ব-১৯ মিশ্র দ্বৈতে আবুল হাশেম হাসিব ও খই খই সাই মারমা সেমিফাইনালে পৌঁছে ব্রোঞ্জ নিশ্চিত করেছেন। সেখানে তাদের প্রতিপক্ষ মালদ্বীপের জুটি।
অন্যান্য ফলাফল: সিঙ্গেলস ইভেন্টে রেশমী তৈঞ্চঙ্গা (অনূর্ধ্ব-১৯), রাফিয়া চৌধুরী (অনূর্ধ্ব-১৫), রোজা ইসলাম ও শাহীন আহমেদ প্রি-কোয়ার্টার পর্যন্ত পৌঁছাতে ব্যর্থ হন।

বিশ্ব জিমন্যাস্টিকসের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত অ্যাথলেট মার্গারিটা মামুন। মাত্র এক বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে প্রথমবার বাংলাদেশে পা রেখেছিলেন তিনি। এরপর বাবা ও স্বামীর সঙ্গে আরও কয়েকবার এ দেশে এলেও, সম্প্রতি লাল-সবুজের এই দেশে তাঁর আগমন ঘটেছে এক বন্ধুর সঙ্গে, একান্তই ব্যক্তিগত সফরে।
মার্গারিটার বাবা আবদুল্লাহ আল মামুনের জন্ম ও বেড়ে ওঠা রাজশাহীর দুর্গাপুরে। বাবার স্বপ্ন ছিল মেয়ে নিজভূমের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করুক। আশায় বুক বেঁধে মার্গারিটার দশ বছর বয়সে এসেছিলেন বাংলাদেশে। ছুটে গিয়েছিলেন ফেডারেশনে। তবে ফেডারেশন স্পষ্ট বুঝিয়ে দেয় নিজেদের সীমাবদ্ধতা। আশার বেলুন চুপসে যাওয়ায় ফিরে যান রাশিয়া। নানা প্রতিকূলতা কাটিয়ে ২০১৬ সালে ব্রাজিলের রিও অলিম্পিকে স্বর্ণ জেতেন মার্গারিটা। সেই কীর্তির ১০ বছর পর আবারও বাংলাদেশে ফিরলেন তিনি।
বর্তমানে ঢাকাতে অবস্থান করছেন মার্গারিটা। তার সাংবাদিক বন্ধু বাংলাদেশ, এদেশের দেশীয় খেলা, মেয়েদের স্পোর্টসে অংশগ্রহণ, সুযোগ-সুবিধা নিয়ে একটি ডকুমেন্টারি তৈরির জন্য এসেছেন। তার সঙ্গী হিসেবে এসেছেন মার্গারিটা। রাজধানীতে অবস্থানকালে টি-স্পোর্টসে নিজের জীবনের পাঠ, ঘটনা এবং আসার মূল উদ্দেশ্য জানান।
রাশিয়ায় জন্মগ্রহণ করা মার্গারিটা বলেন,
‘আমি আমার সাংবাদিক বন্ধুর সঙ্গে এখানে এসেছি। সে বাংলাদেশ অর্থাৎ আমার সেকেন্ড হোমল্যান্ড নিয়ে একটি ডকুমেন্টারি বানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এদেশের সংস্কৃতি, ইতিহাস, খেলাধুলা, বিশেষ করে মেয়েদের খেলাধুলায় অংশগ্রহণ এবং সুযোগ-সুবিধা অর্থাৎ যা কিছু আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ—সেগুলো নিয়ে একটি ডকুমেন্টারি বানাবে।’
২০১৬ সালে রিদমিক জিমন্যাস্টিকসে গোল্ড জেতার ঠিক দুইদিন পরই পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন মার্গারিটার বাবা। মৃত্যুর আগে মেয়েকে নিয়ে তিনি যে স্বপ্ন দেখেছেন, তা দেখে যেতে পেরেছেন আবদুল্লাহ।
মার্গারিটা বলেন,
‘শৈশব এবং কৌশোরে আমি অনেকবার বাংলাদেশি এসেছি। আসার পর এক-দুই মাস করে থেকেছি। বাবা সব সময় বাংলাদেশ নিয়ে গর্ব করতেন। তিনি সবসময় বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে বলতেন। আমাকে নিয়েও গর্ব করতেন। বাবা অলিম্পিকে আমার খেলা দেখেছেন এবং স্বর্ণপদক ধরে দেখেছেন। এটা নিয়ে গর্ববোধ করি।’
মার্গারিটার জন্ম রাশিয়াতে হলেও বাংলাদেশ নিয়ে তার কৌতূহল কম নয়। বাবার কাছ থেকে জেনেছেন এ দেশের কালচারাল ফুড সম্পর্কে। তিনি বলেন,
‘বাংলাদেশের প্রায় সকল ধরণের খাবার আমার ভালো লাগে। বিশেষ করে পরোটা। আমি ভাত পছন্দ করি। এক কথায় এদেশের সব ধরনের খাবার পছন্দ আমার। হয়তো নামগুলো ঠিকঠাক জানি না।’
এখন পুরোদস্তুর কোচ বনে গেছেন মার্গারিটা। পাশাপাশি বন্ধুর সঙ্গে কাজ করছেন ডকুমেন্টারিতে। তার লক্ষ্য বাংলাদেশের জন্য কিছু করা। তিনি জানান, অনেক প্রতিষ্ঠান যেভাবে তাকে গ্রহণ করেছে, তাতে মুগ্ধ তিনি। ঢাকায় অবস্থানকালে এনএসসি থেকে মহিলা ক্রীড়া সংস্থা এবং ঢাকার বিভিন্ন স্কুল ও কলেজসহ নানা জায়গা ঘুরে দেখছেন মার্গারিটা। চেষ্টা করছেন এদেশের ক্রীড়া এবং সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে।

সাতক্ষীরায় জাকির স্মৃতি স্কুল কাবাডি টুর্নামেন্টে বালক বিভাগে চ্যাম্পিয়ন পল্লীমঙ্গল প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং বালিকা বিভাগে চ্যাম্পিয়ন বুধহাটা ভূবনমহোন কলেজিয়েট স্কুল।
ট্রফির লড়াইয়ে কাদাকাটি স্কুলকে ৪২-৩৮ পয়েন্টের ব্যবধানে হারায় পল্লীমঙ্গল প্রাথমিক বিদ্যালয়। আর আব্দুল করিম মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে ৪১-৩৪ পয়েন্টের ব্যবধানে পরাজিত করে বুধহাটা ভূবনমহোন কলেজিয়েট স্কুল।
টুর্নামেন্টে বালক বিভাগে ৮টি এবং বালিকা বিভাগে ৬টি স্কুল অংশ নেয়। মাঠের লড়াইয়ে সমান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ফাইনালে ওঠে চার দল। দুই দিনব্যাপী টুর্নামেন্ট শেষ হয় বুধবার। সমাপনী দিনে বিজয়ীদের ট্রফি তুলে দেওয়া হয়।
জেলা পুলিশ সুপার আরেফিন জুয়েলের সভাপতিত্বে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক আফরোজা আখতার।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে খেলোয়াড়দের উৎসাহিত করেন বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এস এম নেওয়াজ সোহাগ ও জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারপ্রাপ্ত তৈয়েব হাসান সামছুজ্জামান।