
ময়মনসিংহ জেলা সুইমিং কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল বয়সভিত্তিক সাঁতার প্রতিযোগিতা। ময়মনসিংহ সুইমিং কমপ্লেক্সে নিয়মিত সাঁতার প্রশিক্ষণে অংশ নেয়া প্রতিভাবান ৭০ জন বালক এবং বালিকাদের নিয়ে আয়োজন করা হয় বয়সভিত্তিক সাঁতার প্রতিযোগিতা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে খেলোয়াড়দের পুরস্কার বিতরণ করেন ময়মনসিংহ জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আজিম উদ্দিন।
ময়মনসিংহে সাঁতারের জনপ্রিয়তা বাড়াতে এবং নতুন ছেলে-মেয়েদের সাঁতার শেখানো উদ্বুদ্ধ করতে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন বলে জানান ময়মনসিংহ জেলা ক্রীড়া অফিসার আল-আমিন।
তিনি আরো জানান, ক্রীড়া পরিদপ্তরের বার্ষিক ক্রীড়া কর্মসূচির আওতায় এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। আয়োজনের প্রতিভাবান খেলোয়াড় এবং জেলার প্রতিভাবান সাঁতারুদের নিয়ে অচিরেই মাসব্যাপী প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হবে।
No posts available.
৩ জানুয়ারি ২০২৬, ৯:১৭ পিএম

জাতীয় কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপের রোমাঞ্চকর ফাইনালে পুরুষ বিভাগে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং নারী বিভাগে বাংলাদেশ পুলিশ শিরোপা জয়ের গৌরব অর্জন করেছে। পল্টনের শহীদ ক্যাপ্টেন এম. মনসুর আলী জাতীয় হ্যান্ডবল স্টেডিয়ামে হয় এই প্রতিযোগিতা।
শনিবার পুরুষ বিভাগের ফাইনালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে ৩৩-২৮ পয়েন্টে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বিজিবি। ম্যাচের শুরু থেকেই ছিল টানটান উত্তেজনা। প্রথমার্ধে সেনাবাহিনী আধিপত্য বিস্তার করে ১২-৯ পয়েন্টে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায়।
বিরতির পর খেলার চিত্র পুরোপুরি বদলে দেয় বিজিবি। দলের তারকা খেলোয়াড় আল আমিনের দুর্দান্ত তিন পয়েন্টের রেইডে বিজিবি ম্যাচে সমতা ফেরায়। এরপর তারা সেনাবাহিনীকে অল-আউট করে তিন পয়েন্টের লিড নেয়।
শেষ দিকে একটি ‘সুপার রেইড’ থেকে আরও তিন পয়েন্ট অর্জন করে বিজিবি নিজেদের জয় নিশ্চিত করে। সেনাবাহিনী শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করলেও বিজিবির সুসংগঠিত ডিফেন্সের সামনে তারা হার মানতে বাধ্য হয়।
নারী বিভাগের ফাইনালে বাংলাদেশ পুলিশ ৩৬-৩১ পয়েন্টে বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপিকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছে। জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের নিয়ে গঠিত এই দুই দলের লড়াই ছিল সমানে সমান।
প্রথমার্ধের শেষে ১৭-১২ পয়েন্টে এগিয়ে ছিল পুলিশ। তবে দ্বিতীয়ার্ধে আনসারের স্মৃতি একটি চমৎকার ‘সুপার রেইড’ করলে পয়েন্ট দাঁড়ায় ১৯-১৯-এ। এই উত্তেজনাকর মুহূর্তে পুলিশ পুনরায় আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে এবং আনসারকে দ্বিতীয়বার অল-আউট করে বড় ব্যবধান তৈরি করে। শেষ পর্যন্ত ৫ পয়েন্টের ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে পুলিশের মেয়েরা।
ফাইনাল খেলা শেষে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সেলিম ফকির এনডিসি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কাবাডি ফেডারেশনের সহ-সভাপতি ও কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কাবাডি ফেডারেশনের সহ-সভাপতি আবদুল্লাহ আল নোমান, বিজিবির পরিচালক ক্রীড়া লেফটেন্যান্ট কর্নেল এবি এম শাহ রেজা ও কাবাডি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এস এম নেওয়াজ সোহাগ।
নারী বিভাগে টুর্নামেন্টের সেরা উদীয়মান খেলোয়াড় হয়েছেন রংপুরের অন্তরা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাহিদা। আর পুরুষ বিভাগের সেরা উদীয়মান খেলোয়াড় বিকেএসপির জুলফিকার আকাশ। নারী বিভাগের সেরা ডিফেন্ডার আনসারের স্মৃতি আক্তার আর পুরুষ বিভাগে সেরা ডিফেন্ডার হয়েছেন বিজিবির সবুজ মিয়া। নারী বিভাগে সেরা রেইডার বিজিবির বৃষ্টি বিশ্বাস আর পুরুষ বিভাগে সেরা রেইডার সেনাবাহিনীর রোহান মিয়া। টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হয়েছেন নারী বিভাগে পুলিশের শ্রাবনী মল্লিক ও পুরুষ বিভাগে বিজিবির আল আমিন।
৩ জানুয়ারি ২০২৬, ৯:০৮ পিএম

বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ডের উদ্যোগে ঢাকা বিভাগের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে আজ। সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সন্তানদের অংশগ্রহণে দিনব্যাপী এই আয়োজন হয় রাজধানীর ধানমন্ডির রিয়া গোপ মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সে।
ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সার্বিক সহযোগিতায় আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় ঢাকা বিভাগের ১৩ জেলার ক্ষুদে ক্রীড়াবিদরা অংশগ্রহণ করেন। সকাল থেকেই ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডের বিভিন্ন ইভেন্টে প্রাণচাঞ্চল্যে মুখর ছিল ক্রীড়া কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণ।
অনূর্ধ্ব-১৪ ও অনূর্ধ্ব-১৬ বয়সভিত্তিক বালক ও বালিকা বিভাগে শতাধিক অ্যাথলেট প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। পাশাপাশি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য বল নিক্ষেপ, পিলো পাসসহ একাধিক ইভেন্টের আয়োজন করা হয়।
প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পেরে উচ্ছ্বসিত ক্ষুদে খেলোয়াড়রা জানান, এ ধরনের ক্রীড়া আয়োজন তাদের প্রতিভা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং ভবিষ্যতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করবে। একই সঙ্গে তারা সব বিভাগের চ্যাম্পিয়নদের নিয়ে বৃহত্তর পরিসরে প্রতিযোগিতা আয়োজনের দাবি জানান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) জাহেদা পারভীন বলেন, এ ধরনের ক্রীড়া আয়োজন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলে এবং শিশু-কিশোরদের লেখাপড়ার পাশাপাশি শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সহায়তা করে। এর মাধ্যমে দেশীয় ক্রীড়াঙ্গনে নতুন প্রতিভা উঠে আসার সুযোগ সৃষ্টি হবে।
আয়োজকরা জানান, এ প্রতিযোগিতা থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের বাছাই করে ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে আয়োজন সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। জাতীয় নির্বাচনের ব্যস্ততার কারণে এবার তা সম্ভব না হলেও আগামীতে বৃহত্তর আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সকালে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন ঘোষণা করেন জাহেদা পারভীন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) মো. আজমল হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক (সচিব) তসলিমা কানিজ নাহিদাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
৩ জানুয়ারি ২০২৬, ৫:৩৭ পিএম

বাংলাদেশ শুটিং ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক জিএম হায়দার সাজ্জাদকে তার পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। নারী শুটারের করা যৌন ও মানসিক নিপীড়নের অভিযোগের ভিত্তিতে গঠিত তদন্ত কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশের আগেই এই প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
এনএসসির নির্বাহী পরিচালক মো. দৌলতুজ্জামান খান স্বাক্ষরিত আদেশে জানানো হয়, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনে জিএম হায়দার সাজ্জাদকে শুটিং ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলো এবং আদেশটি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে। এনএসসি আইন ২০১৮ অনুযায়ী এ্যাডহক কমিটির কর্মকর্তাদের যে কোনো সময় দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার এখতিয়ার পরিষদের রয়েছে।
এদিকে একই দিনে শুটিং ফেডারেশন সাময়িকভাবে বহিষ্কার করেছে জাতীয় দলের নারী শুটার কামরুন নাহার কলিকে। ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস আরা খানমের স্বাক্ষর করা চিঠিতে কলিকে তিন কর্মদিবসের মধ্যে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে কেন তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে না। চিঠিতে ফেডারেশনের কোড অব কন্ডাক্ট লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
অলিম্পিক স্কলারশিপের আওতায় থাকা কলির বিষয়টি বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনকেও জানানো হয়েছে। ক্রীড়াঙ্গনের একটি অংশের ধারণা, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপটেই কলির বিরুদ্ধে ফেডারেশনের এই কঠোর অবস্থান।
জিএম হায়দার সাজ্জাদকে ঘিরে শুটারদের অসন্তোষ নতুন নয়। শুটিং ফেডারেশনের এ্যাডহক কমিটি গঠনের আগেই একাধিক শুটার লিখিতভাবে আপত্তি জানিয়েছিলেন তাকে কমিটিতে না রাখার জন্য। এমনকি সার্চ কমিটিও তাকে অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করেনি। তারপরও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের প্রজ্ঞাপনে যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে তার নাম প্রকাশ পায়।
ফেডারেশনের সাংগঠনিক বাস্তবতায় সাধারণ সম্পাদকের চেয়ে যুগ্ম সম্পাদক সাজ্জাদই ছিলেন কার্যত ক্ষমতার কেন্দ্রে। তাঁর দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই খেলোয়াড়দের সঙ্গে দূরত্ব বাড়তে থাকে, বিশেষ করে নারী শুটারদের পক্ষ থেকে ধারাবাহিক অভিযোগ উঠে আসে। এক পর্যায়ে নিপীড়নের অভিযোগে মানববন্ধন ও আইনি পদক্ষেপও নেন কয়েকজন শুটার।
এই অভিযোগগুলোর পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে, যার নেতৃত্বে ছিলেন সাবেক সাঁতারু নিবেদিতা দাস। তবে তদন্ত চলাকালীন সময়েও অভিযুক্ত সাজ্জাদের কাছ থেকে পূর্ণ সহযোগিতা পায়নি কমিটি। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি লিখিত জবাব দেননি, ফলে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বিলম্ব হচ্ছে।
এনএসসির পাশাপাশি ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ও বিষয়টি আমলে নিয়ে পৃথক একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। ২২ ডিসেম্বর গঠিত সেই কমিটির আহ্বায়ক করা হয় যুগ্ম সচিব লিলি বিলকিস বানুকে। নারী খেলোয়াড়দের যৌন হয়রানির অভিযোগ খতিয়ে দেখাই এই কমিটির মূল দায়িত্ব।
সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী তদন্তাধীন ব্যক্তিকে দায়িত্ব থেকে বিরত রাখার নজির থাকলেও, সাজ্জাদ তদন্ত চলাকালীন সময়েও ফেডারেশনের কার্যক্রমে সক্রিয় ছিলেন যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে ক্রীড়া প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিয়েও।

জাতীয় কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপের পুরুষ বিভাগের ফাইনালে মুখোমুখি হবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। নারী বিভাগের ট্রফি জয়ের মঞ্চে লড়বে বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি এবং বাংলাদেশ পুলিশ।
আগামীকাল শনিবার রাজধানীর শহীদ ক্যাপ্টেন এম. মনসুর আলী জাতীয় হ্যান্ডবল স্টেডিয়ামে উভয় বিভাগের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে। পুরুষ দলের ফাইনাল বিকাল ৪টায়। এক ঘন্টা পর হবে নারী দলের ফাইনাল।
ফাইনাল শেষে প্রধান অতিথি হিসেবে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেবেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম।
নারী বিভাগের প্রথম সেমিফাইনালটি ছিল এবারের আসরের অন্যতম সেরা ম্যাচ। জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের নিয়ে গঠিত বিজিবি ও আনসার দল মাঠের লড়াইয়ে একে অপরকে ছাড় দেয়নি। প্রথমার্ধে ১৬-১৫ পয়েন্টে এগিয়ে ছিল আনসার।
বিরতির পর বিজিবি একবার আনসারকে অল আউট করে লিড নিলেও শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় নির্ধারিত সময়ের খেলা ৩২-৩২ পয়েন্টে সমতায় শেষ হয়। এরপর ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে, যেখানে স্নায়ুচাপ ধরে রেখে ৩৯-৩৫ ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নেয় বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপির মেয়েরা।
দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ছিল একপেশে। বাংলাদেশ পুলিশ দলের দাপটে দাঁড়াতেই পারেনি রাঙামাটির মেয়েরা। প্রথমার্ধে ৩১-৬ পয়েন্টে এগিয়ে থাকা পুলিশ ম্যাচটি জিতে নেয় ৬২-১৮ পয়েন্টের বিশাল ব্যবধানে।
পুরুষ বিভাগের প্রথম সেমিফাইনালে বিজিবি মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ নৌবাহিনীর। প্রথমার্ধে ২৪-১২ পয়েন্টে এগিয়ে থেকে বিজিবি আধিপত্য বিস্তার করলেও দ্বিতীয়ার্ধে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ায় নৌবাহিনী। তবে শেষ পর্যন্ত লড়াই করেও ৩ পয়েন্টের ব্যবধানে হার মানতে হয় তাদের। ৪০-৩৭ পয়েন্টে ম্যাচ জিতে ফাইনালে ওঠে বিজিবি।
দ্বিতীয় সেমিফাইনালে সেনাবাহিনী ও বিমানবাহিনীর মধ্যে সমানে সমান লড়াই দেখা যায়। প্রথমার্ধে দুই দলের পয়েন্ট ছিল ১৩-১৩। দ্বিতীয়ার্ধেও পয়েন্টের লড়াই চলতে থাকে সমান্তরালে; তবে শেষ বাঁশি বাজার সময় সেনাবাহিনী ৩৩-৩০ পয়েন্টে বিমানবাহিনীকে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে।
১ জানুয়ারি ২০২৬, ৪:১২ পিএম

বাংলাদেশের প্রথম স্পোর্টস টিভি চ্যানেল টি-স্পোর্টস সারাক্ষণ সারা বিশ্বের জনপ্রিয় সব খেলা সম্প্রচারে ক্রীড়াপ্রেমীদের ভালবাসার প্রতীক হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) টি-টোয়েন্টির সরাসরি সম্প্রচারে সারা বিশ্বে বাংলাদেশের ফ্রাঞ্চাইজি ক্রিকেটের রোমাঞ্চকে ছড়িয়ে দিয়েছে। শুধু টেলিভিশনে বিপিএল সরাসরি সম্প্রচার এবং নানা সব আয়োজনে সীমাবদ্ধ থাকেনি টি-স্পোর্টস।
বিপিএল এর সিজন-১২ কে সামনে রেখে গত ২৬ ডিসেম্বর টি-স্পোর্টস প্রকাশ করেছে 'টস' নামের একটি ম্যাগাজিন। সম্পূর্ণ আর্ট পেপারে ৮৪ পৃষ্ঠার চার রঙা এই ম্যাগাজিনে তুলে ধরা হয়েছে বিপিএলের আদ্যোপান্ত।
বিপিএলের ইতিহাস, বিবর্তনের গল্প, ইতোপূর্বের ১১ সংস্করণের সেরাদের গল্প, বিপিএলের দ্বাদশ সংস্করনে অংশগ্রহনকারী ৬ দলের শক্তি, ৬ দলের ফ্রাঞ্চাইজিদের বক্তব্য, বিপিএলের দ্বাদশ সংস্করন সম্প্রচারে আধুনিকতার ছোঁয়া, বিপিএলের ভেন্যুসমূহ নিয়ে তথ্যচিত্র, ধারাভাষ্য প্যানেলের পরিচিতি, বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল এবং বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব ইফতেখার রহমান মিঠুর ইন্টারভিউ ছাপা হয়েছে এই ম্যাগাজিনে। পূর্ণ পৃষ্ঠায় ছাপা হয়েছে বিপিএলের সূচি।
বিপিএলের উল্লেখযোগ্য পরিসংখ্যানও আছে ম্যাগাজিনটিতে। বিপিএল ইতিহাসে সেরা ৩ ক্রিকেটার মাশরাফি বিন মোর্তজা, সাকিব আল হাসান এবং তামিম ইকবালের এ আসরে অনুপস্থিতি নিয়েও আছে আলোচনামূলক একটি লেখা। আছে বিপিএল নিয়ে আরও অনেক তথ্যসমৃদ্ধ লেখা।
বিপিএল ছাড়াও এই ম্যাগাজিনে শোভা পেয়েছে ২০২৫ সালে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে সাফল্যের চিত্র, ঢাকা স্টেডিয়ামের ইতিহাস ও বিবর্তন, ইংল্যান্ডের জনপ্রিয় ফুটবল ক্লাব লিভারপুল-ম্যান ইউ-কে নিয়ে লেখা। যুব বিশ্বকাপ হকিতে চ্যালেঞ্জার্স ট্রফি জয়ী বাংলাদেশ দলের সেরা পারফরমার এবং আসরের সর্বোচ্চ গোলদাতা আমিরুল ইসলামের ইন্টারভিউও ছাপা হয়েছে টি-স্পোর্টসের ম্যাগাজিন 'টস'-এ।
বিপিএল সিজন-১২ উপলক্ষে টি-স্পোর্টস এর চেয়ারম্যান সাফওয়ান সোবহান তাসভীরের নির্দেশনা এবং সিইও ইশতিয়াক সাদেকের পরিকল্পনায় ৮৪ পৃষ্ঠার এই ঝকঝকে ম্যাগাজিন প্রকাশে টি-স্পোর্টসের নির্বাহী পরিচালক তাসভীরুল ইসলাম রেখেছেন বিশেষ ভুমিকা। নববর্ষে বিপিএলের বার্তা পৌছে দিতে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ম্যাগাজিনটির প্রকাশনা উৎসব হয়েছে।
সিলেট টাইটান্স-ঢাকা ক্যাপিটালসের মধ্যে ম্যাচ শুরুর আগে বসুন্ধরা সিমেন্ট স্ট্রেইট ড্রাইভ অনুষ্ঠানে জয়নাব আব্বাসের সঞ্চালনায় ইংল্যান্ডের সাবেক পেস বোলার ড্যারেন গফ, ধারাভাষ্যকর সমন্বয় ঘোষ এই ম্যাগাজিনের বিস্তারিত তুলে ধরেছেন। বিপিএল উপলক্ষ্যে অফিসিয়াল ব্রডকাস্ট প্রতিষ্ঠানের এমন একটি সুদৃশ্য ম্যাগাজিন হাতে পেয়ে যার পর নাই খুশি ইংল্যান্ডের হয়ে ৫৮ টেস্ট ১৫৯টি ওডিআই এবং ২টি টি-২০ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা পেস বোলার ড্যারেন গফ। সংগ্রহে রাখার মতো এই ম্যাগাজিন দিয়েই শুরু হলো টি-স্পোর্টসের বিষয়ভিত্তিক মাসিক প্রকাশনা।