
বিশ্বে ৮ হাজার মিটারের বেশি উচ্চতার পর্বত আছে মোট ১৪টি। ২০২৫ সাল পর্যন্ত এই তালিকার চারটি শৃঙ্গে আরোহন করে বাংলাদেশের ইতিহাসে অনন্য কীর্তি গড়েছিলেন পর্বতারোহী বাবর আলী। যা কোনো বাংলাদেশির পক্ষেই আগে সম্ভব হয়নি।
এবার সেই সাফল্যের মুকুটে যুক্ত হলো আরেকটি পালক। শনিবার (২ মার্চ) বাংলাদেশ সময় ভোর ৫টা ৪৫ মিনিটে বাবর আলী পৌঁছে যান মাউন্ট মাকালু-র চূড়ায়। এর মাধ্যমে তিনি জয় করলেন নিজের পঞ্চম ৮ হাজার মিটারের শৃঙ্গ।
৮ হাজার ৪৮৫ মিটার (২৭ হাজার ৮৩৮ ফুট) উচ্চতার মাউন্ট মাকালু পৃথিবীর পঞ্চম উচ্চতম পর্বত। যা নেপালের মহালঙ্গুর হিমাল পর্বতমালায় অবস্থিত। এই শৃঙ্গে এটাই কোনো বাংলাদেশির প্রথম সফল আরোহণ।
নেপালভিত্তিক আউটফিটার মাকালু এডভেঞ্চারের মালিক মোহন লামসালের বরাত দিয়ে গণমাধ্যমকে তথ্যটি নিশ্চিত করেন অভিযানের ব্যবস্থাপক ফারহান জামান।
মাকালু এক্সপেডিশন : দ্য ফিফথ ফ্রন্টিয়ার- শিরোনামের এই অভিযানের আয়োজন করে পর্বতারোহী সংগঠন ভার্টিকেল ড্রিমস।
চূড়ায় ওঠার পথে বাবর আলীর সঙ্গে ছিলেন গাইড অ্যাং কামি শেরপা। অভিযানের পৃষ্ঠপোষকতায় ছিল ভিজ্যুয়াল নিটওয়ার্স লিমিটেড, সামুদা স্পেক-কেম লিমিটেড, মাই হেলথ, চন্দ্রবিন্দু প্রকাশন ও রহমান'স গ্রোসারিজ।
'গ্রেট ব্ল্যাক ওয়ান' নামে পরিচিত মাউন্ট মাকালু হিমালয়ের অন্যতম কঠিন শৃঙ্গ হিসেবে বিবেচিত। অভিযানের উদ্দেশ্যে বাবর আলী গত ৭ এপ্রিল বাংলাদেশ ছাড়েন। ৯ এপ্রিল তুমলিংতার পৌঁছে সেখান থেকে সড়কপথে সেদুয়া গ্রামে যান এবং পরে ট্রেকিং করে ১৮ এপ্রিল অ্যাডভান্সড বেস ক্যাম্পে পৌঁছান।
অভিযানের অংশ হিসেবে উচ্চতার সঙ্গে খাপ খাওয়াতে তিনি ২১ এপ্রিল ক্যাম্প-১ ও পরদিন ক্যাম্প-২-এ ওঠেন। প্রায় ৭ হাজার মিটার উচ্চতা স্পর্শ করে আবার বেস ক্যাম্পে ফিরে আসেন। ২৭ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া দ্বিতীয় রোটেশনে তিনি আবার ক্যাম্প-২ পর্যন্ত উঠে এক রাত কাটিয়ে নেমে আসেন এবং অনুকূল আবহাওয়ার অপেক্ষায় থাকেন।
আবহাওয়া অনুকূলে আসার ইঙ্গিত পেয়ে ৩০ এপ্রিল আবার চূড়ার পথে যাত্রা শুরু করেন। সরাসরি ৬ হাজার ৬০০ মিটার উচ্চতার ক্যাম্প-২তে ওঠার পরদিন ৭ হাজার ৪০০ মিটার উচ্চতার ক্যাম্প-৩-এ পৌঁছান।
সেখানেই বিকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করে মধ্যরাতে শুরু করেন চূড়ান্ত আরোহন। টানা ১,১০০ মিটারেরও বেশি খাড়া পথ অতিক্রম করে ভোরে পৌঁছে যান চূড়ায়।
এর আগে ২০২৪ সালে মাউন্ট এভারেস্ট ও মাউন্ট লোৎসে জয় করে একই অভিযানে দুটি ৮ হাজার মিটারের শৃঙ্গ জয় করা প্রথম বাংলাদেশি হন তিনি। ২০২৫ সালের এপ্রিলে আন্নপূর্ণা ও সেপ্টেম্বরে মাউন্ট মানাসলু (অক্সিজেন ছাড়াই) জয় করে আরও দুটি ইতিহাস গড়েন।
মাউন্ট মাকালু জয় করার মাধ্যমে এখন বিশ্বের ১৪টি ৮ হাজার মিটারের শৃঙ্গের মধ্যে পাঁচটিতে নিজের নাম লিখিয়ে ফেলেছেন বাবর আলী। সবগুলো জয় করার লক্ষ্যে তিনি এগিয়ে চলেছেন দৃঢ় পদক্ষেপে।
তথ্যসূত্রঃ দ্য ডেইলি সান
No posts available.
২ মে ২০২৬, ৯:৩৫ পিএম

একযোগে সারা দেশে শুরু হল নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস। শনিবার সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে মূল পর্বের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরপর দেশের বাকী ৬৩ জেলাতেও শুরু হয় নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের কার্যক্রম।
এরই অংশ হিসেবে মিরপুরের শহীদ সহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামে কাবাডি ইভেন্ট দিয়ে শুরু হয় ঢাকা পর্বের প্রতিযোগিতা। এই পর্বের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয় ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, দোহারের সংসদ সদস্য খন্দকার আবু আশফাক, ঢাকা বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) আজমুল হকসহ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন ক্রীড়া ফেডারেশনের কর্মকর্তাবৃন্দ। পুরো আয়োজনের সমন্বয় করেন ঢাকা জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আব্দুল ওয়ারেছ আনসারী।
উদ্বোধনী দিনে শুধু কাবাডি ডিসিপ্লিনের খেলা হয়েছে। ছেলেদের বিভাগে মুখোমুখি হয় পল্লবী থানা ও কেরাণীগঞ্জ উপজেলা। শুরু থেকেই এক তরফা আধিপত্য ছিল পল্লবী থানার। শেষ পর্যন্ত ৫৩-৩২ পয়েন্টের বড় জয়ের আনন্দে মাতে পল্লবী থানা দল।
মেয়েদের বিভাগে আরও বড় জয় তুলে নিয়েছে পল্লবীর মেয়েরা। কেরাণীগঞ্জের মেয়েদের দাঁড়াতেই দেয়নি তারা। জয় তুলে নেয় ৫৭-২১ পয়েন্টের বড় ব্যবধানে।
আয়োজনের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরুর আগে জুডো, কারাতে, উশু ও তায়কোয়ান্দোর প্রদর্শনী ম্যাচ উপভোগ করেন উপস্থিত সবাই। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগ এবং জেলা প্রশাসন ও জেলা ক্রীড়া অফিসের সার্বিক সহযোগিতায় ঢাকা পর্বের পরিপাটি এই আয়োজনের প্রশংসা করেন অতিথিরা। রোববার থেকে বিভিন্ন ভেন্যুতে শুরু হবে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের বাকি ৭টি ডিসিপ্লিনের খেলা।

আগামী সেপ্টেম্বরে জাপানে অনুষ্ঠেয় ২০তম এশিয়ান গেমসকে সামনে রেখে বাংলাদেশ টেবিল টেনিস ফেডারেশন ২ মে থেকে চারদিনব্যাপী বাছাই প্রক্রিয়া শুরু করেছে। গত ১৮ এপ্রিল থেকে জাপানের কোচ ইউটাকার নেতৃত্বে সিলেকশন ক্যাম্পের কার্যক্রম শুরু হয়।
এশিয়ান গেমসের মূল প্রতিযোগিতায় পুরুষ ও নারী উভয় বিভাগে ৩ জন করে খেলোয়াড় অংশগ্রহণের সুযোগ থাকায় ফেডারেশন প্রাথমিকভাবে ১৬ জন পুরুষ এবং ১৬ জন নারী নিয়ে ক্যাম্প শুরু করে। তবে প্রথম ধাপের বাছাইয়ে এই তালিকা থেকে পুরুষ ও নারী বিভাগে ৮ জন করে খেলোয়াড় রাখা হচ্ছে।
পরীক্ষা ও অসুস্থতার কারণে বেশ কয়েকজন সম্ভাবনাময় তরুণ খেলোয়াড় এবারের বাছাই প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারছেন না। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন - নাফিজ ইকবাল, মোঃ হাসিবুর রহমান, আবুল হাসেম হাসিব, খাই খই সাই মারমা এবং রেশমী তেঞ্চঙ্গা।
ইতোমধ্যে বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের গাইডলাইন অনুযায়ী সম্ভাব্য খেলোয়াড় ও ম্যাচ অফিসিয়ালদের একটি দীর্ঘ তালিকা প্রেরণ করা হয়েছে।
এই বছর টেবিল টেনিসে অনেক ব্যস্ত সূচি। কমনওয়েলথ টেবিল টেনিস চ্যাম্পিয়নশিপ, এশিয়ান গেমস, এশিয়ান যুব টেবিল টেনিস চ্যাম্পিয়নশিপ, সাউথ এশিয়ান জুনিয়র টেবিল টেনিস চ্যাম্পিয়নশিপ এবং সাউথ এশিয়ান গেমস খেলবে বাংলাদেশ।

ষষ্ঠ এশিয়ান বিচ গেমসে দারুণ সাফল্য পেয়েছে বাংলাদেশের নারী কাবাডি দল। প্রায় ১৪ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে প্রতিযোগিতায় তৃতীয় স্থান অধিকার করে ব্রোঞ্জ পদক জয়ের গৌরব অর্জন করেছে তারা।
সোমবার বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের (বিওএ) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ব্রোঞ্জ জয়ী দলটি আগামীকাল রাতে দেশে ফিরবে। চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইনসের ফ্লাইট নং সিজেড ৩৯১ যোগে রাত ১০টায় তারা ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবেন।
সাফল্যমণ্ডিত এই নারী কাবাডি দলকে বিমানবন্দরে বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে বর্ণাঢ্য অভ্যর্থনা জানানো হবে। বিওএ-র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে তাদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাবেন।
ষষ্ঠ আসরে কাবাডিতে স্বর্ণ জিতেছে ভারত এবং রৌপ্য পেয়েছে শ্রীলঙ্কা। টুর্নামেন্টজুড়ে দারুণ লড়াকু মানসিকতার পরিচয় দিয়েছে বাংলাদেশ নারী দল। সেমিফাইনালে শক্তিশালী ভারতের কাছে হারলেও তাদের সুশৃঙ্খল ও আক্রমণাত্মক খেলা ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।

লন্ডন ম্যারাথনে নতুন ইতিহাস লিখলেন সেবাস্তিয়ান সাওয়ে। ইতিহাসের প্রথম মানুষ হিসেবে দুই ঘণ্টার কম সময়ে প্রতিযোগিতামূলক ম্যারাথনের দৌড় শেষ করেন কেনিয়ার এই ক্রীড়াবিদ।
লন্ডনে রোববার হওয়া এই পূর্ণাঙ্গ ম্যারাথনে ১ ঘণ্টা ৫৯ মিনিট ৩০ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করে ইতিহাস গড়েছেন সাওয়ে।
ম্যারাথনে এতদিন আগের রেকর্ডটি ছিল সাওয়ের স্বদেশি কেলভিন কিপটামের। ২০২৩ সালে ২ ঘণ্টা ৩৫ সেকেন্ড সময় নিয়ে ম্যারাথন শেষ করেছিলেন প্রয়াত এই দৌড়বিদ।
২০১৯ সালে কিংবদন্তি দৌড়বিদ এলুইড কিপচোগে ১ ঘণ্টা ৫৯ মিনিট ৪০ সেকেন্ডে ম্যারাথন শেষ করেছিলেন। তবে নিয়ন্ত্রিত কন্ডিশনের মধ্যে ম্যারাথন হওয়ায়, সেটি রেকর্ড হিসেবে ধরা হয়নি।
ম্যারাথনে অভিষিক্ত ইয়োমিফ কেজেলচার সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর শেষের ১০ কিলোমিটারে গিয়ে মূলত লিডটা নেন সাওয়ে।
এই দৌড়ে দ্বিতীয় হওয়া কেজেলচাও দুই ঘণ্টার কমে দৌড় শেষ করেন, ১ ঘণ্টা ৫৯ মিনিট ৪১ সেকেন্ড। এছাড়া ২ ঘণ্টা ২৮ সেকেন্ডে ম্যারাথন শেষ করে তৃতীয় হন হাফ ম্যারাথনের রেকর্ডধারী জ্যাকব কিপলিমো।

শুক্রের ছুটির সকাল। স্বাভাবিকতই স্কুল-কলেজ যাওয়ার তাড়া নেই এসময়টায়। আলস্যের সকালে তাই একটু ঝিমিয়ে নেওয়া কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে প্রকৃতি দেখতে বেরিয়ে পড়া। অথচ আরামের এমন মুহূর্ত একপাশে রেখে সাজসকালে কিছু ক্ষুদে প্রাণের আনাগোনায় মুখর হয়ে পড়ে রাজধানীর ধানমন্ডির রিয়া গোপ মহিলা ক্রীড়া সংস্থা। উদ্যেশ্য, অনূর্ধ্ব ১৬ বালিকা র্যাপিড দাবায় অংশগ্রহণ। যার তত্ত্বাবধানে ছিল বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থা।
দেশের ২৫ টি জেলার ৮০ জন ক্ষুদে দাবাড়ু অংশ নিয়েছিল এই প্রতিযোগিতায়। বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থার প্রাঙ্গনে এ আয়োজনের উদ্বোধন করেন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক মো আমিনুল এহসান। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক লোকমান হোসেন ও হ্যাট্রিক মহিলা দাবা চ্যাম্পিয়ন নওশিন আনজুম। আর গোটা আসর মুখরিত ছিল চাল-পাল্টা চালে ব্যস্তরত এই ছোট্ট মুখগুলোতে।
বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থা প্রায়ই শিশু কিশোরদের নানা খেলায় উদ্বুদ্ধ করতে ব্যবস্থা নিয়ে করে থাকে। তারই ধারাবাহিকতায় দাবার আয়োজন।
১০ মিনিট এবং সাথে ৫ সেকেন্ড ইনক্রিমেন্টের এই খেলায় বিজয়ীদের মেইন পুরস্কার ছিল তিনটি। এছাড়াও ১৫ ক্যাটাগরিতে মোট ১৮ জনকে পুরস্কৃত করা হয়। সব মিলিয়ে দারুণ এক সময় কাটায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তের এই দাবাড়ুরা।
আয়োজকদের মতে, এমন প্রতিযোগিতার মূল লক্ষ্য হলো শিশুদের মধ্যে দাবার প্রতি আগ্রহ ধরে রাখা এবং তাদের সুপ্ত প্রতিভাকে বিকশিত করা। দাবার এই ‘চাল-পাল্টা চালে’র লড়াইয়ের মাধ্যমেই হয়তো একদিন বেরিয়ে আসবে আগামীর কোনো গ্র্যান্ডমাস্টার, যারা বিশ্বমঞ্চে উজ্জ্বল করবে বাংলাদেশের মুখ।