
পল্টনের শহীদ (ক্যাপ্টেন) এম. মনসুর আলী জাতীয় হ্যান্ডবল স্টেডিয়াম আজ থেকে শুরু হয়েছে জাতীয় যুব পুরুষ হ্যান্ডবল প্রতিযোগিতা। প্রথম দিনেই জয় পেয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ঢাকা, যশোর, কুষ্টিয়া, পঞ্চগড় ও ফরিদপুর।
দিনের প্রথম ম্যাচে মাদারীপুর জেলাকে ৪০-১১ গোলে হারিয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ। প্রথমার্ধে জয়ী দল ২৩-০৪ গোলে এগিয়ে ছিল। নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচেও হেরেছে মাদারীপুর। একপেশে লড়াইয়ে মাদারীপুরকে ৩৫-০৬ গোলে হারায় পঞ্চগড় জেলা।
দিনের অন্য ম্যাচে ঢাকা ৪৩-১২ গোলে নড়াইলকে হারিয়েছে। প্রথমার্ধে ২২-০৫ গোলে এগিয়ে ছিল ঢাকা। পরের ম্যাচে যশোর ৩৭-২৮ গোলে হারিয়েছে জামালপুরকে। প্রথমার্ধে দুই দলই ১৩-১৩ গোলে সমতায় ছিল।
কুষ্টিয়া ৩৩-২৩ গোলে হারিয়েছে ময়মনসিংহকে। প্রথমার্ধে জয়ী দল ১৫-০৮ গোলে এগিয়ে ছিল। প্রথমার্ধে ১৯-০৫ গোলে এগিয়ে ছিল পঞ্চগড়। দিনের শেষ ম্যাচে ফরিদপুর ৩৫-২৭ গোলে হারিয়েছে নড়াইলকে। প্রথমার্ধে ১৫-১০ গোলে এগিয়ে ছিল ফরিদপুর।
এবারের প্রতিযোগিতায় দুই গ্রুপে ভাগ হয়ে খেলছে ১০টি জেলা। ‘ক’ গ্রুপে রয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ময়মনসিংহ, পঞ্চগড়, কুষ্টিয়া ও মাদারীপুর জেলা। ‘খ’ গ্রুপে ঢাকা, যশোর, ফরিদপুর, জামালপুর ও নড়াইল জেলা।
দুই গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন ও রানার্স আপ দল নিয়ে হবে সেমিফাইনাল। ফাইনাল ১৫ জানুয়ারি।
আজ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সেলিম ফকির। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ হ্যান্ডবল ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন আহম্মেদ। বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এস এম নেওয়াজ সোহাগ, জিমন্যাস্টিকস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান জামিল, বাংলাদেশ হ্যান্ডবল ফেডারেশনের যুগ্ন সম্পাদক ও আয়োজন কমিটির সদস্য সচিব রাশিদা আফজালুন নেসা, কার্যনির্বাহী সদস্য ও আয়োজন কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব মো. মকবুল হোসেনসহ আরও অনেকেই।
No posts available.
১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৭:৪৬ পিএম
১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:৪১ এম
১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:১৪ এম
৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৫:৪৯ পিএম

৬ মার্চ থেকে শুরু শীতকালীন প্যারালিম্পিক। বৈশ্বিক এই প্রতিযোগিতায় রাশিয়া ও বেলারুশের ক্রীড়াবিদদের নিজ দেশের জাতীয় পতাকা নিয়ে অংশ গ্রহণের অনুমতিতে আপত্তি জানিয়েছে আয়োজক ইতালি।
২০২২ সালে ইউক্রেন আক্রমণের পর প্যারালিম্পিক থেকে নিষিদ্ধ হয়েছিল রাশিয়া ও বেলারুশ। তবে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে সদস্য সংস্থাগুলোর ভোটে আংশিক স্থগিতাদেশ তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়, ফলে পূর্ণ সদস্যপদ ফিরে পায় দেশ দুটি।
প্যারালিম্পিকের অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফেডারেশন শুরুতে নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার কথা বললেও, আন্তর্জাতিক স্কি ও স্নোবোর্ড ফেডারেশনের বিরুদ্ধে ক্রীড়া সালিশি আদালতে আপিলে জয় পায় রাশিয়া ও বেলারুশ।
প্যারালিম্পিকে রাশিয়া ও বেলারুশের খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণের বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি ও ক্রীড়ামন্ত্রী আন্দ্রেয়া আবোদি। বিবৃতিতে বলা হয়, ইউক্রেনে যুদ্ধ চলাকালীন এমন সিদ্ধান্ত গেমসের চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাঁরা জানান, সেপ্টেম্বর মাসে আন্তর্জাতিক প্যারালিম্পিক কমিটির সাধারণ পরিষদে গৃহীত এ সিদ্ধান্তের সঙ্গে ইতালি স্পষ্টতই অসম্মত।
ইতালি আরও জানিয়েছে, ইউরোপীয় কমিশনসহ ৩৩টি দেশের উদ্বেগের সঙ্গে একমত তারা। রাশিয়ার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন ও বেলারুশের সমর্থনের প্রেক্ষাপটে জাতীয় পরিচয়ে অংশগ্রহণ গ্রহণযোগ্য নয়। নিরপেক্ষ ব্যক্তিগত ক্রীড়াবিদ হিসেবে অংশ নেওয়াই একমাত্র বিকল্প হতে পারে বলে মত তাদের।
২০২২ সালে ইউক্রেন আক্রমনের পর থেকে আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে নিষেধাজ্ঞায় ছিল রাশিয়া। দেশটিকে সরাসরি সহায়তার কারণে বেলারুশের ওপরও প্রায় সমান নিষেধাজ্ঞার খড়গ নেমে আসে। যদিও প্যারালিম্পিকে নিজস্ব পতাকায় অংশ নেওয়ার অনুমতি মিলেছে, তবে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকায় চলমান শীতকালীন অলিম্পিকে রুশ ও বেলারুশীয় ক্রীড়াবিদরা নিরপেক্ষ পতাকায় অংশ নিচ্ছেন।

লেখাঃ অদিতি করিম, লেখক ও নাট্যকার
অবশেষে শেষ হলো ডঃ মুহাম্মদ ইউনূসের শাসনামল। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভা শপথ গ্রহণের পরপরই ইউনূসের অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটে। একটি গণ অভ্যুত্থানের পর আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়া ছাত্রদের অভিপ্রায় অনুযায়ী শান্তিতে নোবেলজয়ী ডঃ মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে জাতি বরণ করে নেয়।
ডঃ ইউনূস একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ব্যক্তিত্ব। সারাবিশ্বে তার পরিচিতি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তিনি যান, বক্তৃতা করেন। তাই তার প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগে জাতি উল্লসিত হয়। বাংলাদেশ এরকম একজন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সরকার প্রধান হিসেবে পেয়ে আশায় বুক বাঁধে। আমরা আশা করেছিলাম, ডঃ ইউনূসের ছোয়ায় বাংলাদেশ বদলে যাবে। নতুন বাংলাদেশ বিশ্বের সামনে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। বাংলাদেশ তরতর করে এগিয়ে যাবে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পথে। বৈষম্য মুক্ত দেশ হবে, দুর্নীতি বন্ধ হবে, মানবাধিকার লঙ্ঘিত হবে না, আইনের শাসন, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে। নারীরা মর্যাদা পাবে। শিক্ষাঙ্গনে মেধার প্রতিযোগিতা হবে। নতুন বাংলাদেশে সবাই মন খুলে কথা বলবে, মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত হবে। সবাই মিলে আমরা এক মানবিক দেশ গড়ে তুলব। এই স্বপ্ন আমরা দেখেছিলাম ডঃ ইউনূসকে দেখে।
শুধু আমরা স্বপ্ন দেখিনি, ডঃ ইউনূস এমন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ডঃ ইউনূস নিঃসন্দেহে একজন অসাধারণ বক্তা। কথার মায়াজালে তিনি এদেশের মানুষকে সম্মোহিত করেছিলেন। কিন্তু ১৮ মাস পর, যদি আমরা হিসেবের খাতা খুলে দেখি, তাহলে দেখব জমার খাতা শূন্য। ডঃ ইউনূসের ১৮ মাসের শাসনকাল হতাশার বেদনার, দুঃস্বপ্নের কালো অধ্যায়। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি নতুন সরকারের শপথগ্রহণের সাথে সাথে বাংলাদেশের জনগণ যেন কারাগার থেকে মুক্তি পেল। ডঃ ইউনূসের ১৮ মাস এদেশের মানুষ মনে রাখবে উৎকন্ঠা আর আতঙ্কের সময় হিসেবে। এক অবর্ণনীয় কষ্ট আর দুঃখের স্মৃতি হিসেবে।
১৮ মাসে ডঃ ইউনূস বাংলাদেশকে কী দিলেন?
ডঃ ইউনূস বাংলাদেশে মব সন্ত্রাস কে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছেন। গত দেড় বছরে এটা যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে যে, ক্ষমতার জোরে অন্যের বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখল করা যায়। ডঃ ইউনূস বাংলাদেশে একটি শক্তিশালী মব বাহিনী উপহার দিয়েছেন। যারা আইনের ঊর্ধ্বে. বিচারের বাইরে তারা যা বলবে সবাই তা মানতে বাধ্য। এরা যদি বলে পরীক্ষা হবে না, তাহলে পরীক্ষা বন্ধ করতেই হবে। এরা যদি বলে কাউকে গ্রেপ্তার করতে হবে, তাকে গ্রেপ্তার না করলে পুলিশের চাকরি যাবে। এরা যদি বলে কাউকে জেল থেকে মুক্তি দিতে হবে, তাহলে আইন কানুন যাই থাকুক, তাদের ছেড়ে দিতেই হবে, নইলে দেশে তুলকালাম হবে।এদের কথাই আইন। এরাই দেশের মালিক। জনগণ ক্রীতদাস।
ডঃ ইউনূস বলেছিলেন, অর্থনীতি চাঙ্গা করবেন। বিদেশ থেকে নিজের লোকদের উড়িয়ে এনে বসিয়েছিলেন বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে। স্যুটটাই পড়া এসব প্রবাসীরা বিদেশী পাসপোর্ট নিয়ে দেশে এসে হৈচৈ করলেন। বাংলাদেশ নাকি সিংগাপুর হয়ে যাবে খুব তাড়াতাড়ি। আমরা সাধারণ মানুষরা তো আনন্দে আত্মহারা। কিন্তু ওমা, একি, কদিন পর আমরা দেখলাম বাংলাদেশ এখন উত্তর কোরিয়ারও নিচে। পরে জানা গেল, এরা সবাই বিদেশি দালাল, বিদেশি নানা কোম্পানির এজেন্ট। এরা এসে দেশের গুরুত্বপূর্ণ সবকিছু বিক্রি করার তোড়জোড় শুরু করল। ডঃ ইউনূস বললেন, এভাবেই তো দেশ এগুবে। নানা কেনাকাটার ধুম পড়ল। কিন্তু কোনটাই দেশের মানুষের স্বার্থে নয়।
ডঃ ইউনূস দেখলেন, বেসরকারি খাত কে যদি ধ্বংস না করা যায় তাহলে বিদেশি কোম্পানির কাছে গ্যাস, সমুদ্র বন্দর, বিমানবন্দর ইত্যাদি বিক্রি হবে কীভাবে। এজন্য তিনি বেসরকারি খাতের কোমড় ভাঙার কাজ শুরু করলেন। বেসরকারি উদ্যোক্তাদের বিরুদ্ধে একের পর এক হত্যা মামলা দায়ের করা শুরু হলো। মব বাহিনী শিল্পকারখানায় নির্বিচারে লুটপাট এবং অগ্নিসংযোগ করতে লাগল। সরকার দূর থেকে তামাশা দেখতে থাকল। ব্যবসায়ীদের ব্যাংক একাউন্ট জব্দ করে হয়রানি করা হলো। শিল্প কারখানায় গ্যাস, বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হলো। বেসরকারি উদ্যোক্তারা হতাশায় হাতপা গুটিয়ে বসে থাকাই নিরাপদ মনে করল। বন্ধ হলো বহু কারখানা, নতুন করে বেকার হলো দেড় কোটি মানুষ। দারিদ্র্য সীমার নীচে চলে গেল আরও দুই কোটি মানুষ।
গত ১৮ মাসে ডঃ ইউনূস দেশের অর্থনীতি ফোকলা করে ফেলেছেন। দেড় কোটি বেকার আর দুই কোটি চরম দরিদ্র মানুষ সৃষ্টি করেছেন। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে এটাই তার জাতিকে উপহার।
ডঃ ইউনূস ১৮ মাসে দেশের শিক্ষার পরিবেশ কে ধ্বংসের কিনারায় নিয়ে গেছেন দেশের শিক্ষাঙ্গনে স্বাভাবিক পরিবেশ নেই। কথায় কথায় মারামারি, ক্লাস বন্ধ, অন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে প্রতিনিয়ত। শিক্ষার্থীরা ক্লাস না করে রাস্তা বন্ধ করে আন্দোলন করছে। এসব নিয়ে ডঃ ইউনূসের না ছিল উদ্বেগ, না ছিল শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফিরে যাওয়ার আহ্বান। প্রতিটি ভাষণে শিক্ষার্থীদের প্রশংসা করে বরং তিনি এসব প্রশ্রয় দিয়েছেন।
গত ১৮ মাসে গণমাধ্যমে এক আতংকের পরিবেশ বিরাজ করছে। বাংলাদেশ প্রতিদিন, কালের কণ্ঠ, প্রথম আলো, ডেইলি স্টার সহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে হামলার ঘটনা ঘটেছে। মবের শিকার হয়েছেন গণমাধ্যম কর্মীরা। হত্যা মামলার আসামী করা হয়েছে বহু সাংবাদিককে। শুধু মাত্র সরকারের সমালোচনা করার কারণে আনিস আলমগীর সহ অনেকেই কারাগারে।ভিন্নমতের উপর প্রকাশ্যে আক্রমণের ঘটনায় সরকার ছিল নীরব।
গত ১৮ মাসে ক্রীড়া ক্ষেত্রেও ছিল হতাশার চিত্র। রাজনীতির বিষবাষ্প থেকে খেলাধুলা মুক্ত রাখতে পারেনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত, বাংলাদেশের ক্রিকেটে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে।
১৮ মাসে বিশ্বের দরজা বাংলাদেশের পাসপোর্টধারীদের জন্য বন্ধ হবার উপক্রম হয়েছে। এসব ঘটনায় কূটনৈতিক উদ্যোগ না নিয়ে উল্টো তিনি দেশের মানুষকে জালিয়াতির অভিযোগে অভিযুক্ত করেছেন। প্রতিবেশীদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন। বিদেশীদের সাথে দেশের স্বার্থবিরোধী প্রকাশ্য-গোপন চুক্তি করেছেন। এই ফিরিস্তি অনেক লম্বা। এক কথায় ডঃ ইউনূস তার শাসনামলে বাংলাদেশকে একটি আমানবিক ও ব্যর্থ রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরেছেন।
এতো গেল ১৮ মাসে বাংলাদেশ ডঃ ইউনূসের কাছ থেকে কী পেল তার হিসাব। এবার দেখা যাক, প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন কালে তিনি কী নিলেন?
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বিভিন্ন দেশ সফর করেছেন স্বল্পতম সময়ে এক ডজন দেশ সফরের অনন্য রেকর্ড করেছেন ডঃ ইউনূস। কিন্তু এসব বিদেশ সফর যতটা না ছিল দেশের জন্য তার চেয়ে বেশি নিজের জন্য। এসব সফরের একটিও কোন দেশের আমন্ত্রণে সফর করেননি ইউনূস। সবগুলো সফরই মূলত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সম্মেলনে যোগদানের জন্য হয়েছে। সুযোগ মতো মার্কিন প্রেসিডেন্ট, চীনের প্রেসিডেন্ট ও জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সাথে ছবি তুলেছেন। ফলে খুব স্বাভাবিকভাবেই এইসব সফরে গভর্নমেন্ট টু গভর্নমেন্ট কিছুই অর্জনের সুযোগ থাকে না। প্রকৃতপক্ষে এইসব সফরে স্বল্পমেয়াদি প্রচারণা ও ব্যক্তিগত ইমেজ নির্মাণ ছাড়া দেশের জন্য বাস্তবিক অর্জন প্রায় শূন্য। ইউনূসের এইসব সফর অধিকাংশ ক্ষেত্রে পশ্চিমা বিশ্বকে খুশি করা, তাদের স্বার্থ রক্ষা করা, এবং নিজের ব্যক্তিগত প্রচারণা ও ব্র্যান্ডকে বৈশ্বিকভাবে আরও শক্তিশালী করার জন্য হয়েছে বলেই দৃশ্যমান হয়। ড. ইউনূসের প্রায় সব বিদেশ সফরের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে তার “থ্রি জিরো” (Three Zeroes) তত্ত্ব নিয়ে বক্তৃতা- যা বাংলাদেশ টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারিত হয়। এসব সফরে “দর্শনীয়” হিসেবে যুক্ত হয় নানা দপ্তরের মানুষের সঙ্গে সাক্ষাৎ, যার কোনো বাস্তব ফলাফল দৃশ্যমান হয়নি কখনোই।
ডঃ ইউনূস প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে গ্রামীণ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সরকারি অনুমোদন ও সুবিধা পেতে শুরু করে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে নিবন্ধন, অনুমোদন, করছাড়সহ বেশকিছু সুবিধা পেয়েছে গ্রামীণ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান। এরমধ্যে ঢাকায় ‘গ্রামীণ ইউনিভার্সিটি’ নামে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদন পেয়েছে।
সেই সঙ্গে রয়েছে গ্রামীণ এমপ্লয়মেন্ট সার্ভিসেসের জনশক্তি রপ্তানির লাইসেন্স, গ্রামীণ টেলিকমের ডিজিটাল ওয়ালেট চালুর অনুমতি। এ ছাড়া গ্রামীণ ব্যাংকের কর মওকুফ ও সরকারিভাবে ব্যাংকে শেয়ারের পরিমাণ ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। ড. ইউনূস ও তার সহকর্মীদের বিরুদ্ধে থাকা শ্রম আইন লঙ্ঘন ও অর্থপাচারের মামলা দ্রুত খারিজ হয়ে যাওয়ায় স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
গ্রামীণ ইউনিভার্সিটি নামে বেসরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি গ্রামীণ ট্রাস্টের অধীনে চলবে। ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর আবেদন জমা দেওয়ার তিন মাসের মধ্যেই এটি অনুমোদন পায়। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে অনুমোদিত প্রথম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এটি। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে মুহাম্মদ ইউনূস প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ এমপ্লয়মেন্ট সার্ভিসেস লিমিটেড (জিইএসএল) বিএমইটি থেকে একটি লাভজনক জনশক্তি রপ্তানির লাইসেন্স (RL No. 2806) পায় এবং এপ্রিল মাসে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিসের (বায়রা) সদস্যপদ লাভ করে। ড. ইউনূস প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই গ্রামীণ টেলিকমের একটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ‘সমাধান সার্ভিসেস লিমিটেড’ ২ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে পেমেন্ট সার্ভিস প্রভাইডার (পিএসপি) হিসেবে কাজ করার জন্য অনুমোদন পায়। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ‘অনাপত্তি সনদ’ (এনওসি) পাওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটি পিএসপি লাইসেন্স পায়। ২০২৫ সালের ১৭ এপ্রিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি বৈঠকে গ্রামীণ ব্যাংকের জন্য নতুন অধ্যাদেশ জারির সিদ্ধান্ত নেয়, যেখানে সরকারের মালিকানা ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়। বৈঠকটি প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। নতুন অধ্যাদেশে শেয়ার হোল্ডারদের মালিকানা ৭৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৯০ শতাংশ করা হয় এবং বোর্ডে নির্বাচিত ৯ জন সদস্যের মধ্য থেকে ৩ জন পরিচালক মনোনীত হবেন, যাদের মধ্য থেকে একজনকে বোর্ড চেয়ার হিসেবে নির্বাচন করা হবে। এতে সরকারের চেয়ার নিয়োগের ভূমিকা বাতিল হয়। ড. ইউনূস প্রধান উপদেষ্টা হওয়ার দুইমাস পর ২০২৪ সালের ১০ অক্টোবর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) গ্রামীণ ব্যাংককে ২০২৯ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরের জন্য কর অব্যাহতি দেয়।
অন্যদিকে, ড. ইউনূস গত বছরের ৮ আগস্ট প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নেওয়ার তিন দিন পরই অর্থপাচার মামলায় ঢাকার একটি আদালত তাকে খালাস দেয়। এ ছাড়া, শপথ নেওয়ার আগের দিনই শ্রম আইন লঙ্ঘনের মামলায় ইউনূসসহ গ্রামীণ টেলিকমের পরিচালকদের যে ছয় মাসের কারাদণ্ড হয়েছিল, সেই মামলাতেও আদালত তাদের খালাস দেয়।
হিসাবের খাতা মেলাতে গিয়ে যে কেউ বিভ্রান্তিতে পড়তে পারেন। ডঃ ইউনূস ১৮ মাসে যা নিয়েছেন তার বিনিময়ে তিনি কী এদেশের মানুষকে একটি জিনিস দিতে পেরেছেন? যার নাম- ‘শান্তি’। যার জন্য তিনি নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন!

স্বাধীন বাংলাদেশে বৃহত্তর সামাজিক পরিমণ্ডলে এবং ক্রীড়াঙ্গনের যাপিত জীবনে যে মানবদরদি এবং ক্রীড়াপ্রেমিক ব্যক্তিত্ব অনুপ্রেরণা ও অনুকরণীয় ভূমিকার মাধ্যমে নিজেকে ব্যতিক্রমী হিসেবে চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়েছেন এবং পেরেছেন ভিন্নধর্মী প্রতিধ্বনি সৃষ্টি করতে বৃহত্তর সমাজ এবং রাষ্ট্রীয় জীবনে— তিনি হলেন দেশের অন্যতম শীর্ষ শিল্প গ্রুপ বসুন্ধরার চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান।
আদ্যোপান্ত বাঙালি, আধুনিকীকরণে বিশ্বাসী এই দেশপ্রেমিক ব্যক্তিত্ব বছরের পর বছর ধরে একটি দর্শনকে বুকের মধ্যে লালন করেছেন— সেটি হলো সর্বক্ষেত্রে একমাত্র ও প্রধান অধিকার হলো সবার আগে বাংলাদেশ। তিনি বিশ্বাস করেন, কোনো একক ক্ষেত্র নয়, সকল ক্ষেত্রে উন্নতি হলেই বিশ্বদরবারে জাতি হিসেবে আমাদের মর্যাদা বাড়বে। আর এর জন্য তাঁর সুযোগ্য নেতৃত্বে বসুন্ধরা গ্রুপ দেশ ও মানুষের কল্যাণে সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে কাজ করে যাচ্ছে।
স্বপ্নবাজ, আত্মপ্রত্যয়ী এবং ইতিবাচক মানসিকতাসম্পন্ন এই প্রবাদপ্রতিম ব্যক্তিত্ব বিশ্বাস করেন, যত বাধা-বিঘ্ন আসুক না কেন, অনেক রক্ত আর ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা থামবে না। বাংলাদেশ ক্রমশ এগিয়ে যাবে। বাংলাদেশ জয়ী হবে। উত্তরোত্তর সমৃদ্ধ হবে। এগিয়ে যাবে বিভিন্ন সূচকে। এখনকার তারুণ্যের শক্তি হলো দেশপ্রেম, সততা ও এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা। তাঁরাই দেশের আগামীর সম্ভাবনা। তারা কখনো পরাজিত হবে না, হতে পারে না।
বাস্তববাদী ও আন্তরিক উদ্যোগে বিশ্বাসী আহমেদ আকবর সোবহানের বর্ণাঢ্য জীবনের গল্প ধারাবাহিকতার সঙ্গে সত্যি অসাধারণ। অসীম ধৈর্য, অবিচল আস্থা এবং সীমাহীন সহ্যশক্তির অধিকারী এই মানুষটি সম্পূর্ণভাবে অহংকারহীন বা নিরহংকার। তিনি সামনে থেকে নেতৃত্ব দিলেও বরাবর নিজেকে আড়ালে রাখতে ভালোবাসেন। এগিয়ে দেন সহকর্মীদের। তিনি সমুন্নত রেখেছেন পেশাদারি ম্যানেজমেন্টের আদর্শকে।
কখনো এমন কোনো প্রতিশ্রুতি দেননি, যা বাস্তবায়ন করা সাধ্যের বা ক্ষমতার বাইরে। আর এই বিষয়টি তাঁকে এবং তাঁর প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সক্ষম করেছে। বৃহৎ ‘করপোরেট’ প্রতিষ্ঠানে সুস্থ সংস্কৃতির চর্চা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার ক্ষেত্রে তিনি উদাহরণ হতে পেরেছেন। দেশের ক্রীড়া ইতিহাসে তার স্থান অম্লান হয়েছে, উজ্জ্বল হয়েছে।
অত্যন্ত ব্যস্ত ও বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী এই ব্যক্তিত্বের মনপ্রাণজুড়ে আছে খেলাধুলার প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা এবং অনুরাগ। ক্রীড়াঙ্গন আর দেশের খেলাধুলার স্বার্থে তিনি আপস করতে রাজি নন। সুস্থ জীবনবোধসম্পন্ন ক্রীড়াঙ্গন আর তার অনুকরণীয় শিক্ষায় তিনি শিক্ষিত এবং দীক্ষিত। শুধু দেশের ক্রীড়াঙ্গনের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল এবং বিভিন্ন খেলার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে হাজার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন। যার নজির এ দেশে দ্বিতীয়টি নেই। তিনি পরিচিত হয়েছেন ‘পায়োনিয়ার’ হিসেবে। আদি নিবাস ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায়। বাবা আলহাজ আবদুস সোবহান ছিলেন ঢাকা হাইকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী। বাবার ছিল আরেক পরিচিতি। তিনি ছিলেন অল ইন্ডিয়া সাঁতারে চ্যাম্পিয়ন। মা উম্মে কুলসুম ছিলেন গৃহিণী। দুই ভাই চার বোন। বড় ভাই আবদুস সাদেক কিংবদন্তী হকি ও ফুটবল খেলোয়াড়। খেলাধুলায় তাঁর অনুরাগ ‘জেনেটিক’ বা বংশানুক্রমিক। ছাত্র জীবনে নিয়মিতভাবে হকি খেলেছেন তিনি। স্কুলজীবন কেটেছে আরমানিটোলা উচ্চ বিদ্যালয়ে। যাকে দেশের হকির সূতিকাগার মনে করা হয়। খেলেছেন আজাদ স্পোর্টিং, ব্যাচেলার স্পোর্টিং এবং বিভিন্ন ক্লাবের হয়ে হকি লীগে। যুব হকিতে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান দলের হয়ে খেলেছেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর নিজ জেলার হয়ে জাতীয় হকিতে অংশ নিয়েছেন। হকি ছাড়াও অন্য খেলার প্রতিও ছিল অনুরাগ। সব সময় রেখেছেন ফুটবল, ক্রিকেট, হকি এবং অন্য খেলার আন্তর্জাতিক খোঁজখবর। এখনো সেই অভ্যাসে রাত জেগে খেলা দেখতে দ্বিধা করেন না। আর দেশের খেলা হলে তো কথাই নেই। সব কিছু বাদ দিয়ে খেলার চত্বরে তার চোখ দুটো লেপ্টে যায়। বিশেষ করে ফুটবলে। খেলা দেখতে বসেও তার আগ্রহ এবং কৌতূহল অবাক করার মতো শুনেছি।
আহমেদ আকবর সোবহান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তাঁর উদ্ভাবনী চিন্তাশক্তি অসাধারণ। তিনি মানুষকে পড়তে পারেন, বুঝতে পারেন সঠিকভাবে।
গ্রুপের চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁর কার্যকলাপ সংক্ষেপে আলোকপাত করা সম্ভব নয়। তিনি তো সর্বক্ষেত্রে সব কিছুতে কাছ থেকে আছেন সবার অভিভাবক হিসেবে। তাঁর চিন্তা-ভাবনা সব সময় নাড়া দিচ্ছে।
গত বছর (২০২৫) ১০ জানুয়ারি কালের কণ্ঠের ১৫তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর প্রাক্কালে জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ পাঁচ সাংবাদিকদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা ও কালের কণ্ঠের সেরা কর্মীদের দেওয়া সম্মাননা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেছেন ‘সত্য যত অপ্রিয় হোক, সেটা আপনারা বলেন। এতে সমগ্র দেশ, সমগ্র জাতি উপকৃত হবে। কী চমৎকার আবেদনময়ী একটি উপদেশ।
বাংলাদেশের যথার্থ পেশাদারিত্বের বীজ বপন করেছেন বসুন্ধরা কিংসের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান। তার ফসল হলো বসুন্ধরা বিশাল স্পোর্টস কমপ্লেক্স। বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটিতে কী নেই? আন্তর্জাতিক মানের বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনা। যেখানে নিয়মিতভাবে আন্তর্জাতিক ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ক্রমেই প্রশস্ত ফুটবলের প্র্যাকটিস মাঠ। ফুটবল ও ফুটসাল, ইনডোর ও আউটডোর ক্রিকেট, ব্যাডমিন্টন (২৪টি কোর্ট) প্যাডেল, হকি, শুটিং, স্কোয়াশ, বাস্কেটবল, ভলিবল, লন টেনিস, স্কেটিং, কাবাডি, ইয়োগা, গোল্ডস জিম, অলিম্পিক সাইজ সুইমিং পুল, স্পা (সাউথ স্টিম রুম, আইস রুম, হিমালয়ান সল্ট রুম, কোল্ড প্লাঞ্জ, অনসেল হট পুল, এক্সপেরিয়েন্স শাওয়ার) জুলকান ইনডোর অ্যারেনা (মুয়াথাই, বক্সিং, এমএমএ, কিক বক্সিং, তায়কোয়ান্দো, পাওয়ার লিফটিং স্ট্রং গ্রাম, আর্ম রেসলিং, রক ক্লাইম্বিং, রোপ ক্লাইম্বিং)।
বিশাল স্পোর্টস কমপ্লেক্স গড়ে তোলার পেছনে যে চিন্তাটি প্রথম থেকেই কাজ করেছে ক্রীড়াকে পেশা ও জীবিকার মাধ্যম হিসেবে গড়ে তুলতে অবকাঠামো ও প্রশিক্ষণব্যবস্থার সম্প্রসারণ। স্পোর্টস ইকোনমি বা ক্রীড়া অর্থনীতিকে উৎসাহিত করা। তিনি আরেকটি বিষয়ে সব সময় আলোকপাত করেছেন, সেটি হলো— খেলার মাঠ চাই।
বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যানের একটি স্বপ্ন ছিল— বিশাল প্রশস্ত খেলা চত্বরে বসুন্ধরা পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠা করা। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয়েছে গত বছর জানুয়ারি মাসে মুক্ত পরিবেশে। দেশে আর কোনো স্কুল-কলেজ নেই, যেখানে ছেলে ও মেয়েরা পড়াশোনা করার পাশাপাশি অনেকগুলো খেলার সুযোগ পাচ্ছে।
সামাজিক দায়বদ্ধতাকে বাস্তবায়িত করার জন্য বসুন্ধরা শুভসংঘ গড়ে তোলা হয়েছে। এটি বসুন্ধরা গ্রুপ চেয়ারম্যানের একটি অসাধারণ উদ্যোগ। এখানে দরিদ্র নারী-পুরুষদের আত্মকর্মসংস্থান, আত্মনির্ভর এবং স্বাবলম্বী করার বিরামহীন উদ্যোগ বছরজুড়ে চলে। শত শত ছেলে-মেয়ে বসুন্ধরা শিক্ষাবৃত্তির সাহায্য পেয়ে শুধু তাদের লেখাপড়া অব্যাহত রাখতে সক্ষম হননি— সমাজজীবনে ভালোভাবে বিভিন্ন পেশায় এখন তারা প্রতিষ্ঠিত। এ ছাড়া ‘বসুন্ধরা শুভসংঘ’ সমাজজীবনে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়িত করে চলেছে বিরামহীনভাবে।
আহমেদ আকবর সোবহান একজন মানবতাবাদী, ক্রীড়াপ্রেমিক এবং একজন দূরদৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তিত্ব, যিনি মানুষকে নিয়ে ভাবেন, মানুষের মঙ্গল চান, মানুষের পাশে দাঁড়ান।
লেখক : কলামিস্ট ও বিশ্লেষক। সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি, এআইপিএস এশিয়া। আজীবন সদস্য, বাংলাদেশ স্পোর্টস প্রেস অ্যাসোসিয়েশন। প্যানেল রাইটার, ফুটবল এশিয়া।

জাতীয় দলের শুটার কামরুন্নাহার কলিকে গত ১ জানুয়ারি সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে বাংলাদেশ শ্যুটিং স্পোর্টস ফেডারেশন। জাতীয় দল ক্যাম্পের আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে সে সময় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানায় ফেডারেশন। এক মাসের মাথায় এবার দেশ সেরা শ্যুটারকে এক বছরের জন্য বহিস্কার করা হলো।
ফেডারেশনের পক্ষ থেকে গতকাল মঙ্গলবার কলির নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কাছে একটি চিঠির মাধ্যমে বহিষ্কারের বিষয়টি জানানো হয়। একই সঙ্গে সিদ্ধান্তের কথা অবহিত করা হয়েছে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনকেও (বিওএ)।
ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস আরা খানম এর সাক্ষরিত এক চিঠিতে কলির বহিষ্কারের বিষয়টি উঠে আসে। সেখানে বলা হয়েছে, ‘২ ফেব্রুয়ারি কার্যনির্বাহী পরিষদের ষষ্ঠ সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আপনি (কলি) বাংলাদেশ শ্যুটিং স্পোর্ট ফেডারেশনের প্রশিক্ষণ ক্যাম্পের কোড অব কন্ডাক্টের সাতটি ধারার বিধি লঙ্ঘন করেছেন। এছাড়া আপনি ২৫ জানুয়ারি বাংলাদেশ শ্যুটিং স্পোর্ট ফেডারেশনের কার্যালয়ে হওয়া একাধিক নিন্দনীয় ও গুরুতর ঘটনার মাধ্যমে ফেডারেশনের তদন্ত কাজে আগত পুলিশ কর্মকর্তার উপস্থিতিতে সাধারণ সম্পাদক, নির্বাহী কমিটির (ইসি) সদস্যবৃন্দ, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রতি চরম অশালীন, অপমানজনক হুমকিমূলক ও আক্রমণাত্মক আচরণ প্রদর্শন করেন। উক্ত আচরণ ফেডারেশনের শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা ও প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদাকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করেছে এবং সার্বিকভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটিয়েছে। অতএব, বাংলাদেশ শ্যুটিং স্পোর্ট ফেডারেশনের গঠনতন্ত্রের ১৬.২০ ও ১৬.২১ ধারা মোতাবেক আপনাকে আগামী এক বছরের জন্য শ্যুটিং ক্রীড়া হতে বহিষ্কার করা হলো।’
এর আগে ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক জিএম হায়দারের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, এবং যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলে প্রকাশ্যে কথা বলেন কামরুন্নাহার কলি। তাঁর সঙ্গে আরও কয়েকজন শুটারও এসব অভিযোগে সরব ছিলেন। তবে বহিষ্কারের নোটিশে এসব অভিযোগের কোনো উল্লেখ করা হয়নি।

জাঁকজমকপূর্ণ উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে শুক্রবার শুরু হয়েছে ২৫তম শীতকালীন অলিম্পিক। বৈশ্বিক এই ইভেন্টের উদ্বোধনের পরদিন পরিবেশগত উদ্বেগ ও যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতির প্রতিবাদে বিক্ষোভ হয়েছে।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) ইতালির মিলানে অলিম্পিক ভিলেজের কাছে এই বিক্ষোভে অংশ নেন ১০ হাজার বিক্ষোভকারী। শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল শুরু হলেও পরে একটি অংশ পুলিশের সঙ্গে সহিংসতায় জড়ান। এ সময় পুলিশের দিকে পাথর ছোড়া হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়া। এসময় লাঠিচার্জ, জলকামান ও টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
শীতকালীন অলিম্পিক হচ্ছে ইতালির গুরুত্বপূর্ণ দুটি শহর—মিলান ও কোর্তিনায়। কোর্তিনায় ববসলেড ট্র্যাক নির্মাণে গাছ কাটার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন পরিবেশবাদীরা। বড় মিছিলে অনেককে হাতে কাটা গাছের প্রতীক হিসেবে কার্ডবোর্ডের কাটআউট বহন করতে দেখা যায়। ‘শহর ফিরিয়ে নাও, পাহাড় মুক্ত করো’ —এমন লেখা সম্বলিত ব্যানারও দেখা গেছে।
বিক্ষোভটি এমন সময় হচ্ছে যখন মিলানে অবস্থান করছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। শুক্রবার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসে বড় পর্দায় ভ্যান্সের ছবি দেখানো হলে দর্শকদের একাংশের দুয়োধ্বনি শোনা যায়।
বিক্ষোভকারীদের আরেকটি অভিযোগ অলিম্পিকে যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) সদস্যদের উপস্থিতি নিয়ে। ভ্যান্স ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওসহ বিভিন্ন মার্কিন কর্মকর্তার নিরাপত্তায় আইস কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করছেন।
নিরাপত্তা জোরদারের অংশ হিসেবে অলিম্পিক চলাকালীন বিভিন্ন ভেন্যুতে প্রায় ৬ হাজার নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের কারণে অলিম্পিকের সময়সূচি কিংবা ক্রীড়াবিদদের চলাচলে কোনো প্রভাব পড়েনি।