১৭ এপ্রিল ২০২৪, ১০:১০ এম

জাতীয় দল ও ক্লাবের মধ্যে ক্রিকেটার থেকে শুরু করে সমর্থক, সবাই এগিয়ে রাখেন জাতীয় দলকেই। তবে কিছু ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি থাকে, যেমনটা এখন হচ্ছে মুস্তাফিজুর রহমানকে নিয়ে। আইপিএলে চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে বেশ ভালো ফর্মে থাকা বাংলাদেশ পেসারের জন্য অনেকেই আসরটিকে দেখছেন শেখার মঞ্চ হিসেবে। তাই মত জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজে বসিয়ে আইপিএল খেলতে দেওয়ার। তবে এর ঘোর বিরোধী বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ক্রিকেট অপারেশন্সের চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস।
সম্প্রতি বিসিবি পরিচালক ও সাবেক অধিনায়ক আকরাম খান বলেছিলেন, আইপিএলের মত একটা টুর্নামেন্ট থেকে অনেক কিছুই শেখার আছে মুস্তাফিজুরের। তিনিও সায় দিয়েছিলেন আইপিএলে এই বাঁহাতি পেসারকে বাড়তি সময় খেলতে দেওয়ার জন্য। কারণ, বাংলাদেশ দলের হয়ে সম্প্রতি নিজেকে হারিয়ে খোঁজা মুস্তাফিজুর যে চেন্নাইতে প্রায় নিয়মিতই দেখাচ্ছেন ঝলক।
তবে বুধবার সাংবাদিকদের সাথে এক আলাপচারিতায় এতে দ্বিমত পোষণ করেন জালাল ইউনুস। “মুস্তাফিজের আইপিএলে খেলে এখন আর শেখার কিছু নাই। তার লার্নিং প্রসেস শেষ। বরং মুস্তাফিজের কাজ থেকে শিখতে পারে আইপিএলের অনেক ক্রিকেটাররা। এতে বাংলাদেশের কোনো লাভ হবে না, মুস্তাফিজের কাছে থেকে অন্যদের লাভ হবে।”
এখন পর্যন্ত একটি ম্যাচ বাদে চেন্নাইয়ের সবগুলো ম্যাচেই খেলা মুস্তাফিজুর উইকেট নিয়েছে ১০টি। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে তিনি এখানে আরও বেশি ম্যাচ খেললে তা জাতীয় দলকে বাড়তি সুবিধা এনে দিতেও পারে বাংলাদেশকে। সেটা আর হচ্ছে না, কারণ আগামী ২ মে মুস্তাফিজুরকে ফিরতে হচ্ছে দেশে, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২০ ওভারের সিরিজের জন্য।
চলতি আইপিএলে চেন্নাইয়ের প্রতিটি ম্যাচের মাঝে রয়েছে লম্বা বিরতি। তবে সব মিলিয়ে এখানে খেলাটাও বেশ ক্লান্তিকর মনে হচ্ছে জালাল ইউনুসের কাছে। “আপনাদের মনে হয় হয়তো এটা চার ওভারের খেলা। কিন্তু জানেন কত ধকল নিতে হয়? খেলা শেষেও রাতে ট্রাভেল করতে হয়। আমাদের ভাবনার জায়গা তার স্বাস্থ। তারা (ফ্র্যাঞ্চাইজি) চাইবে শতভাগ নেয়ার জন্য। ফিটনেসের দিকে কিন্তু তাদের কোনো চিন্তা নেই। কিন্তু আমাদের আছে। মুস্তাফিজকে ফেরত আনার কারণ শুধু জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তাকে খেলানো না, এখানে আনলেও কিন্তু আমরা তাকে ওয়ার্কলোড দিয়ে সেভাবে প্ল্যান দিব।”
এই আইপিএলে স্রেফ নিউজিল্যান্ড দলের মূল খেলোয়াড়দের ৯ জন খেলছেন, যাদের প্রায় সবাই নিশ্চিতভাবেই থাকবেন দেশটির বিশ্বকাপ দলেও। আর এখানে খেলার কারণে তারা অংশ নেবেন না পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজেও। অন্যান্য দেশের ক্রিকেটারদের বাস্তবতাও একই, আইপিএলকেই তারা দেখছে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি হিসেবে।
তবে জালাল ইউনুসের বিশ্বাস, পুরো আইপিএল খেললে বিশ্বকাপে সতেজ মুস্তাফিজুরকে পাওয়া যাবে না। “২০২১ সালে দুজন আইপিএল খেলে বিশ্বকাপে যোগ দিয়েছিল, তাড়া বলেছিল যে তারা ক্লান্ত ছিল। আমরা এমন পরিস্থিতি আর চাই না। (বিশ্বকাপে) যাওয়ার আগে তাকে শারীরিকভাবে ফিট হতে হবে। ক্লান্ত হয়ে গেলে তো সে ডেলিভার করবে না। তাহলে তাকে আমার কী দরকার? আমি সতেজ মুস্তাফিজকে চাই, কান্ত মুস্তাফিজকে নয়।”
No posts available.

আগামী জুন ও জুলাইয়ে পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলতে জিম্বাবুয়ে সফরে যাচ্ছে বাংলাদেশ দল। সফরে একটি টেস্ট, তিনটি করে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি খেলবে তারা।
২৮ জুন হারারে স্পোর্টস ক্লাবে একমাত্র টেস্ট দিয়ে সিরিজ শুরু। একই ভেন্যুতে হবে তিন ওয়ানডে। সিরিজের ম্যাচগুলো হবে ৬, ৯ ও ১১ জুলাই।
ওয়ানডে সিরিজ শেষ করে দুই দল চলে যাবে বুলাওয়েতে। কুইন্স স্পোর্টস ক্লাব মাঠে হবে টি-টোয়েন্টি সিরিজ। ম্যাচগুলো হবে ১৫, ১৭ ও ১৯ জুলাই।
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সবশেষ গত বছর নিজেদের মাঠে দুটি টেস্ট খেলেছিল বাংলাদেশ। সেই সিরিজ ১-১ ব্যবধানে ড্র হয়। প্রথম টেস্টে ৩ উইকেটের দারুণ এক জয় পেয়েছিল জিম্বাবুয়ে, চার বছরের মধ্যে এই সংস্করণে তাদের সেটি একমাত্র জয়।
এর আগে ২০২২ সালের জুলাই ও আগস্টে জিম্বাবুয়ে সফর করেছিল বাংলাদেশ। সেবার দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে হারারে স্পোর্টস ক্লাবে টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডে—দুটি সিরিজই ২-১ ব্যবধানে জিতে নিয়েছিল স্বাগতিকেরা। তবে সম্প্রতি দারুণ ছন্দে রয়েছে বাংলাদেশ দল। পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট ও সীমিত ওভারের সিরিজ জয়।
বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে সিরিজের সূচি:
একমাত্র টেস্ট: ২৮ জুন - ২ জুলাই
১ম ওয়ানডে: ৬ জুলাই
২য় ওয়ানডে: ৯ জুলাই
৩য় ওয়ানডে: ১১ জুলাই
১ম টি-টোয়েন্টি: ১৫ জুলাই
২য় টি-টোয়েন্টি: ১৭ জুলাই
৩য় টি-টোয়েন্টি: ১৯ জুলাই
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের জন্য ১৬ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। দলে ফিরেছেন বাবর আজম ও নাসিম শাহ। মার্চে সবশেষ বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের দলে ছিলেন না এই দুজন।
৩০ মে রাওয়ালপিন্ডি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের প্রথম ওয়ানডে। এরপর ২ এবং ৪ জুন বাকি দুটি ম্যাচ হবে লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে। আগামীকাল সকালে ইসলামাবাদে এসে পৌঁছাবে অস্ট্রেলিয়া।
পাকিস্তানের নেতৃত্বে থাকছেন নিয়মিত ওয়ানডে অধিনায়ক শাহীন শাহ আফ্রিদি। সহ-অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন সালমান আলী আগা।
স্কোয়াডে সবচেয়ে বড় চমক অভিজ্ঞ উইকেটকিপার-ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ানের বাদ পড়া। তাঁর জায়গায় উইকেটকিপিংয়ের দায়িত্ব সামলানোর জন্য দলে রাখা হয়েছে মুহাম্মদ গাজী ঘোরি এবং অভিষেকের অপেক্ষায় থাকা রোহাইল নাজিরকে।
নাজির ছাড়াও দলে প্রথমবারের মতো ডাক পেয়েছেন আরও দুই আনক্যাপড ক্রিকেটার—পেসার আহমেদ দানিয়াল এবং অলরাউন্ডার আরাফাত মিনহাস।
চোটের কারণে কপাল পুড়েছে দুই ওপেনার ফখর জামান এবং সাইম আইয়ুবের। এই দুই ক্রিকেটার বর্তমানে বোর্ডের মেডিকেল প্যানেলের তত্ত্বাবধানে পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন।
২০২২ সালের পর এটিই পাকিস্তানে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম দ্বিপাক্ষিক ওয়ানডে সিরিজ। এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে পাকিস্তানে টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলেছিল অজিরা। যেখানে তারা হেরেছিল ৩-০ ব্যবধানে।
ঘরের মাঠে সবশেষ টি-টোয়েন্টি সিরিজে অস্ট্রেলিয়াকে উড়িয়ে দিলেও ওয়ানডেতে খুব একটা স্বস্তিতে নেই পাকিস্তান। মার্চে বাংলাদেশের মাটিতে ২-১ ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজ হেরেছে তারা।
পাকিস্তানের ১৬ সদস্যের ওয়ানডে স্কোয়াড:
শাহীন শাহ আফ্রিদি (অধিনায়ক), সালমান আলী আগা (সহ-অধিনায়ক), আব্দুল সামাদ, আবরার আহমেদ, আহমেদ দানিয়াল, আরাফাত মিনহাস, বাবর আজম, হারিস রউফ, মাজ সাদাকাত, মুহাম্মদ গাজী ঘোরি (উইকেটকিপার), নাসিম শাহ, রোহাইল নাজির (উইকেটকিপার), সাহিবজাদা ফারহান, শাদাব খান, শামিল হুসাইন, সুফিয়ান মুকিম।

তরুণ ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে ২০০৫ সালে বিসিবির কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য হয়েছিলেন সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর। ২০০৮ সালে তত্বাবধায়ক সরকারের আমলে চট্টগ্রাম বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার কাউন্সিলরশিপ নিয়ে ক্যাটাগরি-১ থেকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে বিসিবির পরিচালক নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০১২ সালের অক্টোবরে মেয়াদোত্তীর্ন বিসিবির পরিচালনা পরিষদ ভেঙ্গে গেলে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) প্রবর্তনের অন্যতম কারিগর ক্রিকেট বোর্ডে ফিরতে পারেননি দীর্ঘ ১৪ বছর। অন্তবর্তীকালীন সরকারের আমলে বিসিবির সর্বশেষ পরিচালনা পরিষদের নির্বাচনে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কাউন্সিলরশিপ পেয়ে ক্যাটাগরি-৩ থেকে পরিচালক পদে নির্বাচনে প্রার্থী হতে তুলেছিলেন মনোনয়নপত্র।
পরবর্তীতে সেই নির্বাচনে নানা অনিয়মের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভুমিকা রেখে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে আলোচনায় এসেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিক্যাল এডুকেশন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর। আগামী ৭ জুন অনুষ্ঠেয় বিসিবির নির্বাচনে ক্যাটাগরি-থ্রি থেকে মনোনয়নপত্র তুলে বৃহস্পতিবার তা জমা দিতে এসে পেয়েছেন সুখবর। এই ক্যাটাগরিতে ১টি পরিচালক পদে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর তালিকায় শোনা যাচ্ছিল সাবেক ওপেনার শাহরিয়ার হোসেন বিদ্যুতের নাম। তবে বিসিবির পরিচালনা পরিষদে কোয়াবের প্রতিনিধির নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার বিধান না থাকায় বিদ্যুত মনোনয়নপত্র জমা দেননি। সম্ভাব্য আর একজন প্রার্থী হিসেবে ধরে নেওয়া হয়েছিল সাবেক প্রথম শ্রেনির ক্রিকেটার এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কাউন্সিলর দেবব্রত পালের নাম। তবে তিনিও তোলেননি মনোনয়নপত্র। ফলে ক্যাটাগরি থ্রি-তে ১টি পরিচালক পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত হয়েছেন পোর্ট সিটি টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট লিগ এবং বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ টি-টোয়েন্টির প্রবর্তক সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর। এখন শুধু নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়ার অপেক্ষা।
দীর্ঘ ১৬ বছর পর বিসিবির পরিচালনা পরিষদে ফিরতে পেরে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার টানা ২ দশকের সাধারণ সম্পাদক-'আমি তো মাঠের মানুষ। ক্রিকেট বোর্ডে লম্বা সময় ছিলাম না, তবে ক্রিকেটের সঙ্গে ছিলাম। আমার যে অভিজ্ঞতা আছে, আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন কমিশন আমাকে বিজয়ী ঘোষণা করলে অতীত অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে চাইব। ক্রিকেটারদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি, কল্যান তহবিলের সুযোগ আছে। আঞ্চলিক ক্রিকেট সংস্থাকে বেগবান করা এবং জেলার লিগগুলো নিয়মিত করার চেষ্টা থাকবে। ঢাকার ক্রিকেটকে ঢাকায় সীমাবদ্ধ রাখতে চাই না। ক্রিকেট বোর্ডকে কর্পোরেট মডেলে পরিচালনা করার চেষ্ঠা থাকবে।'
বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত হওয়ায় তার ক্যাটাগরি থেকে মনোনয়নপত্র তোলা কোয়াবের কাউন্সিলর শাহরিয়ার হোসেন বিদ্যুৎ এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কাউন্সিলর দেবব্রত পাল। শাহরিয়ার হোসেন বিদ্যুৎ বলেছেন-কোয়াবের কাউন্সিলর ভোট দিতে পারবেন, কিন্তু নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না, তা জানতাম না বলে মনোনয়নপত্র তুলেছিলাম। যখন জেনেছি আমি নির্বাচন করতে পারব না, তখন প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে ফরমের টাকা তুলে নিয়েছি। শুনেছি, দেবু ( দেবব্রত পাল) এই ক্যাটাগরি থেকে মনোনয়নপত্র কিনবে, কিন্তু সেও তো কিনল না। আলম ভাই ( সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর) যোগ্য লোক। উনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত হয়েছেন। আশা করছি উনি ভাল করবেন।'
বিসিবির সর্বশেষ নির্বাচনে খালেদ মাসুদ পাইলটের বিপক্ষে ক্যাটাগরি থি থেকে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করলেও এবার নির্বাচনে অংশগ্রহন থেকে বিরত থাকার কারণ জানিয়েছেন দেবব্রত পাল-' আলম ভাই ( সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর) গুণি মানুষ। উনি এবং আমি, দু'জনে দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিজিক্যাল এডুকেশন ডিপার্টমেন্টে আছি। উনি আমার সিনিয়র। আমার টিম ম্যানেজারও ছিলেন উনি। উনার সাথে আমার সম্পর্ক ভাল। ওনার জন্য শুভকামনা থাকলো।'

পাকিস্তানের বিপক্ষে ঐতিহাসিক টেস্ট সিরিজ জয়ের পর ক্রিকেটারদের বড় অঙ্কের আর্থিক বোনাস দিতে চেয়েছিল বিসিবি। তবে শান্ত-মুমিনুলরা হেঁটেছেন সম্পূর্ণ ভিন্ন এক পথে। তাৎক্ষণিক আর্থিক লাভের পেছনে না ছুটে ক্রিকেটাররা বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালের কাছে দাবি জানিয়েছেন মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত সমস্যা দূর করার। বোনাসের টাকার বদলে তাঁরা হোম অব ক্রিকেটে একটি আধুনিক সুইমিংপুল এবং বিশ্বমানের সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত নতুন জিমনেসিয়াম তৈরির অনুরোধ করেছেন।
মিরপুরে বিসিবির অন্তর্বর্তী সভাপতি তামিম ইকবাল আজ সাংবাদিকদের বলেন,
‘আমরা তৈরি ছিলাম, যদি বোনাস দেওয়া লাগত, অবশ্যই দিতাম। কারণ, তাদের এটা প্রাপ্য। কিন্তু সবার উচিত তাদের এই উদ্যোগের (বোনাস না নেওয়া) প্রশংসা করা। তারা শুধু নিজেদের কথা চিন্তা করেনি। এই সুবিধা (সুইমিং পুল) তাদের ছোট ভাইয়েরা, অনূর্ধ্ব–১৯ বা হাই পারফরম্যান্সে যাঁরা আছে, তারাও ব্যবহার করবে।’
ক্রিকেটাররা নিজেদের কথা না ভেবে ক্রিকেট ও ক্রিকেটারদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করেছেন তামিম তাতে মুগ্ধ,
'ওরা শুধু নিজেদের কথা ভাবেনি। এই সুবিধা ওদের ছোট ভাইদেরও কাজে লাগবে। বলেছি পৃথিবীর সবচেয়ে সেরা ইকুইপমেন্ট দিয়ে আমরা জিম করে দিব আর সামনে সুইমিংপুল করে দিব, সাথে আইস বাথ হট বাথের লেটেস্ট টেকনোলজি। বারবার আইস এনে আইস বাথ করতে হবে এমন লাগবে না। যা যা লাগবে করা হবে।'
তামিমের আশ্বাস, নির্বাচিত বিসিবির পরিচালনা পর্ষদ সম্পন্ন করবে এই জিম ও সুইমিংপুলের কাজ,
'ইতোমধ্যে প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে। আমি খেলোয়াড়দের ধন্যবাদ জানাতে চাই। যতই টাকা বোর্ড দিত, ঐ টাকা হয়ত লাইফ চেঞ্জিং কিছু হতো না। তবে তারা যেটা চেয়েছে, এই সুবিধার কারণে অনেকের অনেক উন্নতি হতে পারে। এই চিন্তাকে এপ্রিশিয়েট করি। প্রক্রিয়া শুরু করে দিব। নির্বাচন জিতে যারাই আসে আমি বা যে কেউ যেন তাড়াতাড়ি সম্পন্ন করে।'
মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের মূল নকশাতেই কিন্তু সুইমিংপুলের ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। নানা অজুহাতে বছরের পর বছর পেরিয়ে গেলেও আজ পর্যন্ত সেই সুইমিংপুল আলোর মুখ দেখেনি। মাঝে ফারুক আহমেদ বিসিবি সভাপতি থাকাকালীন মিরপুরের জিমনেসিয়ামের পাশের খালি জায়গায় একটি সুইমিংপুল নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তবে সেই পরিকল্পনা বাস্তব রূপ পাওয়ার আগেই দেশের ক্রিকেটের অভিভাবক সংস্থায় বড় পরিবর্তন চলে আসে।
শেষ পর্যন্ত সেই বহুল প্রতীক্ষিত সুইমিংপুল নির্মাণ হতে যাচ্ছে। বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল নিশ্চিত করেছেন, সর্বাধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করেই এবার সুইমিংপুলটি তৈরি করবে বোর্ড। শুধু সুইমিংপুলই নয়, ক্রিকেটারদের ফিটনেস ও আধুনিক চাহিদার কথা মাথায় রেখে শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের বর্তমান জিমনেসিয়ামের কিছু অংশ ভেঙে নতুন করে ঢেলে সাজানোর কথাও জানিয়েছেন তিনি।

২০২৫ সালের ২৪ মার্চ ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচ চলাকালীন মাঠেই আকস্মিক হার্ট অ্যাটাকের শিকার হন তামিম ইকবাল। বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই ওপেনারের জীবন তখন চলে গিয়েছিল চরম সংকটের মুখে। উন্নত চিকিৎসায় সে যাত্রা সুস্থ হয়ে উঠলেও, সাবেক এই অধিনায়ক আর কখনোই প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফেরেননি। সময়ের পরিক্রমায় বছরখানেক পর তামিম এখন সম্পূর্ণ ভিন্ন এক ভূমিকায়। ড্রেসিংরুমের চেনা আবহ ছেড়ে তিনি এখন বোর্ড রুমের নীতিনির্ধারকের আসনে—সামলাচ্ছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতির গুরুদায়িত্ব।
ভারতের সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়াকে দেওয়া সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তামিম জানালেন—কীভাবে হঠাৎ একটি হার্ট অ্যাটাক তাকে ক্রিকেট প্রশাসনের দিকে ঠেলে দিল, বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনা নিয়ে তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সহ বাংলাদেশের ক্রিকেটের বর্তমান ও ভবিষ্যত।
দায়িত্ব নিয়েই দেশের ক্রিকেটের হারানো গৌরব আর ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনার এক বিশাল কর্মযজ্ঞ শুরু করেছেন তামিম। চলতি বছরের শুরুতে অ্যাড-হক কমিটির হাত ধরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অন্তর্বর্তীকালীন সভাপতি হিসেবে এক নতুন চ্যালেঞ্জ বেছে নিয়েছেন তামিম। তামিমের জীবনের এই পটপরিবর্তনের পেছনে রয়েছে হার্ট অ্যাটাকের সেই বড় ধাক্কা। জাতীয় দলে ফেরার লড়াইয়ে থাকার সময়ই এক মারাত্মক শারীরিক অসুস্থতাই নাকি তাঁর পুরো ভাবনার জগৎ ও ক্যারিয়ারের দিক বদলে দিয়েছিল।
ঠিক কখন মাঠের ক্রিকেট ছেড়ে টেবিলের ওপারে (প্রশাসনে) আসার সিদ্ধান্তটা নিলেন তামিম? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন,
‘সত্যি বলতে, গত বছরের হার্ট অ্যাটাকটাই ছিল আমার জীবনের সেই ‘টার্নিং পয়েন্ট’। তখন আমি জাতীয় দলে ফেরার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করছিলাম। ঠিক ওই মুহূর্তে যখন আমার হার্ট অ্যাটাক হলো, আমি ভাবলাম—ব্যাস, অনেক হয়েছে, আর নয়। হার্ট অ্যাটাকের পর আমার মনে হয়েছে ক্রিকেটে ফেরার জন্য এতটা ঝুঁকি নেওয়া আর ঠিক হবে না; কারণ আমি যদি ফিরতামও, বড়জোর আর এক বা দুই বছর খেলতে পারতাম। আমার পরিবারে সন্তানরা এখনো অনেক ছোট, আর শরীরটাও হয়তো ক্রিকেটে ফেরার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত ছিল না।’
২২ গজের চিরচেনা সবুজ মাঠ ছেড়ে বিসিবির শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বোর্ড রুমে মানিয়ে নেওয়াটা যে সহজ নয়, তা অকপটেই স্বীকার করলেন দেশের ক্রিকেটের এই নতুন অভিভাবক। তবে ব্যক্তিগত কোনো উচ্চাকাঙ্ক্ষা নয়, বরং খেলোয়াড়ি জীবনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থেকে ক্রিকেটারদের পুরোনো সব সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতেই তিনি এই কঠিন চ্যালেঞ্জ বেছে নিয়েছেন।
নিজের এই নতুন রূপ নিয়ে তামিম বলেন,
‘ভীষণ, ভীষণ আলাদা! তবে আমি তো এটাই চেয়েছিলাম। আমি ভেতরের সমস্যাগুলো ঠিক করতে চেয়েছিলাম। গত ১৭-১৮ বছর ধরে যখন আমি আমার সতীর্থদের সঙ্গে খেলতাম, খেলোয়াড় হিসেবে আমরা যেসব জিনিস নিয়ে সবসময় অভিযোগ করতাম—আমি ঠিক সেই সমস্যাগুলোই সমাধান করতে চাই, যেন বর্তমান ও ভবিষ্যতের ক্রিকেটারদের মনে আর কোনো ক্ষোভ না থাকে। আমি খুব ভালো করেই জানি, একা আমার পক্ষে সব কিছু বদলে ফেলা সম্ভব নয়। তবে আমি এটুকু নিশ্চিত যে, অন্তত সুযোগ-সুবিধার দিক থেকে বাংলাদেশ ক্রিকেটের মান উন্নত করার জন্য যতটুকু করা দরকার, তা আমি করতে পারব।’
তামিম আরও যোগ করেন,
‘ব্যাটিং, বোলিং কিংবা ফিল্ডিং—এগুলো এখন আর আমার কাজ নয়। আমি এখন আর মাঠে নেমে ব্যাট করতে পারব না, বলও করতে পারব না। তবে আমি এটুকু নিশ্চিত যে, ক্রিকেটারদের জন্য সম্ভাব্য সেরা সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা আমি করে দিতে পারব; যা তাদের পারফরম্যান্সকে অন্তত দুই, তিন কিংবা পাঁচ শতাংশ হলেও উন্নত করতে সাহায্য করবে। আমার লক্ষ্য এখন ঠিক এটাই।’