৮ জানুয়ারি ২০২৬, ৩:৪৫ পিএম

বাংলাদেশ টেবিল টেনিস ফেডারেশনের উদ্যোগে আগামীকাল শুক্রবার থেকে শুরু হতে যাচ্ছে ৪০তম জাতীয় টেবিল টেনিস প্রতিযোগিতা। সকাল ৯টায় প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করবেন ফেডারেশনের সভাপতি মাইক্রো ফাইবার গ্রুপের কর্ণধার ইঞ্জিনিয়ার শামসুজ্জামান নাসিম। এবার এই টুর্নামেন্ট হবে ৮ দিন ধরে। এর আগে কখনও জাতীয় টেবিল টেনিস প্রতিযোগিতা এত বেশি দিন ধরে হয়নি।
এবারের প্রতিযোগিতায় ৪১টি জেলা এবং বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থাসহ সর্বমোট ৪৯টি দল অংশগ্রহণ করছে। সর্বোচ্চসংখ্যক ৪৭৬ জন খেলোয়াড় এই প্রতিযোগিতায় খেলবে। দেশের টেবিল টেনিশের ইতিহাসে এর আগে এত প্রতিযোগী অংশ নেয়নি। সংস্থাগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ সেনা, আনসার, জেল পুলিশ, বিমান, শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ, রুয়েট, জগন্নাথ বিশ^বিদ্যালয় এবং বিকেএসপি।
অংশগ্রহণকারী জেলা ও বিভাগীগুলোর মধ্যে রয়েছে ঢাকা, নরসিংদী, কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ, মৌলভীবাজার, গোপালগঞ্জ, নরসিংদী, নড়াইল, নীলফামারী, পটুয়াখালী, বগুড়া, বরিশাল জেলা এবং বিভাগ, ভোলা, মাদারীপুর, মাগুরা, মানিকগঞ্জ, যশোর, রংপুর জেলা এবং বিভাগ, রাজশাহী জেলা এবং বিভাগ, শরিয়তপুর, কুমিল্লা, খুলনা, গাইবান্ধা, সাতক্ষীরা, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, চট্টগ্রাম, বান্দরবান, কক্সবাজার, চাপাই নবাবগঞ্জ, চাঁদপুর, চুয়াডাঙ্গা, ঝালকাঠি, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, নওগাঁ ইত্যাদি।
এবার সর্বোচ্চ ১৪টি ইভেন্টে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে যেখানে সিনিয়র ক্যাটাগরির পাশাপাশি অনূর্ধ্ব-১৯ বছরের বালক-বালিকারাও অংশগ্রহণের সুযোগ পাচ্ছে।
আরও পড়ুন
| অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে রেকর্ড প্রাইজমানি ঘোষণা |
|
প্রতিযোগিতার ইভেন্টগুলোর মধ্যে রয়েছে পুরুষ একক, পুরুষ দ্বৈত, পুরুষ দলগত, মহিলা একক, মহিলা দ্বৈত, মহিলা দলগত এবং পুরুষ ও মহিলাদের মিশ্র দ্বৈত। জুনিয়রদের জন্য রয়েছে অনূর্ধ্ব-১৯ বালক একক, বালক দ্বৈত, বালক দলগত, বালিকা একক, বালিকা দ্বৈত, বালিকা দলগত, অনূর্ধ্ব-১৯ মিশ্র দ্বৈত।
অনূর্ধ্ব-১৯ এর শীর্ষ ১৬ বালকদের সিনিয়রদের সব ক্যাটাগরিতে খেলার সুযোগ দেয়া হয়েছে। আর বালিকাদের ক্ষেত্রে সিনিয়র নারীদের সঙ্গে খেলার সুযোগ দেয়া হয়েছে।
এবারের প্রতিযোগিতায় রেটিং পয়েন্ট দেয়া হবে। ২৩৭ জন পুরুষ, ৭২ জন মহিলা, ১০৯ জন জন বালক এবং ৫৮ জন বালিকা একক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করছে। দ্বৈত ম্যাচ খেলছে ১৮৫ জন এর মধ্যে পুরুষ ৯০ জুটি, বালক ৪৪ জুটি, মহিলা ২৮ জুটি এবং বালিকা ২৩ জুটি।
দলগত ম্যাচ হচ্ছে ৯৭টি। এর মধ্যে পুরুষ ৪১টি, বালক ২৬টি, মহিলা ১৮টি এবং বালক ১২টি দলগত খেলা খেলবে। সর্বশেষ ইসলামিক সলিডারিটি গেমসে রৌপ্যজয়ী ইভেন্টে মিশ্র দ্বৈত জুনিয়র ক্যাটাগরিতে খেলছে ২২টি জুটি এবং সিনিয়র ক্যাটাগরিতে হচ্ছে ৫০টি জুটি। কিন্তু জাভেদ আনসার দলে এবং খই খই মারমা বিকেএসপিতে খেলার কারণে বাংলাদেশ তার জুটিবদ্ধ নৈপুণ্য অন্তত এই টুর্নামেন্টে দর্শকরা দেখতে পারছে না।
বর্তমানে ফেডারেশনে পুরুষ ক্যাটাগরিতে শীর্ষে রয়েছে মুহতাসিন আহমেদ হৃদয়। মহিলা ক্যাটাগরিতে শীর্ষে রয়েছে সাদিয়া রহমান মৌ। বালক ক্যাটাগরিতে শীর্ষে রয়েছে নাফিজ ইকবাল এবং বালিকা ক্যাটাগরিতে শীর্ষে রয়েছে খই খই সাই মারমা।
আজকের সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ক্যাপ্টেন এম এ মাকসুদ আহমেদ সনেট। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট তাহমিনা তারমিন বিনু, সদস্য সুজন মাহমুদসহ ফেডারেশনের অন্যান্য কর্মকর্তা এবং খেলোয়াড়বৃন্দ।
No posts available.
১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৯:২৫ পিএম

আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় টেবিল টেনিসে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ (আইইউবি)। মঙ্গলবার শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ ইনডোর স্টেডিয়ামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ৩-২ সেটে হারিয়েছে তারা।
বাংলাদেশ টেবিল টেনিস ফেডারেশনের আয়োজিত দুইদিন ব্যাপী এই প্রতিযোগিতায় নারী এককে চ্যাম্পিয়ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্য বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের সাদিয়া রহমান মৌ। টুর্নামেন্টসেরা রামহিম বম লিয়ন। প্রতিযোগিতায় দেশসেরা ৩০টি পাবলিক এবং প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় দুইশ টেবিল টেনিস খেলোয়াড় অংশ নেন।
পুরুষ দলগততে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়কে ৩-০ সেটে হারিয়ে তৃতীয় স্থান অর্জন করে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি। পুরুষ এককে প্লেট পর্বে সাউথ ইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়কে ৩-১ হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটি। প্লেটে আমিরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিকে (এআইউবি) হারিয়ে তৃতীয় ইউল্যাব ইউনিভার্সিটি।
মহিলা এককে এলিট গ্রপে চ্যাম্পিয়ান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্য বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের সাদিয়া রহমান মৌ। মৌ ড্যাফডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির নওরীন সুলতানা মাহিকে ৩-১ সেটে পরাজিত করেন। ঢাবির ইতিহাস বিভাগের সামান্তা হোসেন তুশী আইইউবির ইম্পা খাতুনকে ৩-০ সেটে পরাজিত করে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে।
মহিলা এককে প্লেট পর্বে এআইইউবি’র মার্শিয়া মাহিদ ৩-২ সেটে সাউথ ইস্ট ইউনিভার্সিটির সাদিয়া ইসলাম জুথিকে পরাজিত করে প্রথমস্থান অর্জন করেন। প্লেট পর্বে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির সানজিদা আহমেদ একই বিশ্ববিদ্যালয়ের তাসমিয়া হুদাকে ৩-০ সেটে পরাজিত করে তৃতীয়স্থান অর্জন করেন।
প্রতিযোগিতার টাইটেল স্পন্সর উর্মি গ্রপের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের উপদেষ্টা এবং বাংলাদেশ মার্শাল আর্ট ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট এয়ার ভাইস মার্শাল (অবঃ) বদরুল আমিন ফাইনাল পর্বের ম্যাচগুলো উপভোগ করেন এবং পুরুস্কার বিতরণ করেন।
সামানী অনুষ্ঠানে পস্থিত ছিলেন ইভেন্টের থিংট্যাঙ্ক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ক্যাপ্টেন এম এ মাকসুদ আহমেদ সনেট।
অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের সামনে ৬ষ্ঠ ইসলামিক সলেডরাটি গেমসে মিশ্রদ্বৌতে রৌপ্যজয়ী বাংলাদেশ জাতীয় টেবিল দলের জাভেদ আহমেদ এবং খই খই সাই মারামার হাতে ফেডারেশনের পূর্বঘোষিত ১ লাখ টাকা টাকা করে ২ লাখ টাকার বিশেষ সম্মানার চেক তুলে দেওয়া হয়।
সলেডটরাটি গেমসের বাংলাদেশ দলের সোনাম সুলতানা সোমা, মুহতাসিন আহমেদ হৃদয়, রামহিম লিয়ন বম এবং দলের ম্যানেজার ফেডারেশনের অ্যাডহক কমিটির সদস্য কাজী আসিফ উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ টেবিল টেনিস ফেডারেশনের উদ্যোগে এবং স্পোর্টস অ্যাপারেলস ব্র্যান্ড তুরাগ অ্যাক্টিভ এর পৃষ্ঠপোষকতায় আগামীকাল সোমবার এবং পরের দিন মঙ্গলবার হতে যাচ্ছে জমজমাট আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় টেবিল টেনিস ফেস্ট।
গত বছর দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই একমি টেবিল টেনিস টুর্নামেন্ট আয়োজন করেছিল ফেডারেশনের বর্তমান অ্যাডহক কমিটি। সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এ বছর বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের খেলোয়াড়দের নিয়ে দুই দিনব্যাপী আরেকটি টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়েছে।
সারাদেশ থেকে ৩০টি পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ২০০ জন টেবিল টেনিস খেলোয়াড় এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেবেন। মূলত পুরুষ দলগত এবং মহিলাদের মধ্যে একক টেবিল টেনিস প্রতিযোগিতা হবে।
অংশগ্রহণকারী পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর, জগন্নাথ, বুয়েট, কুয়েট, ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয়, বিইউপি, এমআইএসটি, কি গাজীপুর এবং শের-ই-বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ আরও অনেকে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে নর্থ সাউথ, ব্র্যাক, আইইউবি, এআইইউবি, আইইউটি, ড্যাফোডিল, ইউল্যাব, ইস্ট ওয়েস্ট এবং স্টেট ইউনিভার্সিটির মতো শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো অংশ নিচ্ছে।
আরও পড়ুন
| সমালোচকদের শক্তিতে ইতিহাসের সামনে জোকোভিচ |
|
এবারের টুর্নামেন্টটি অধিক আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে দেশের শীর্ষ খেলোয়াড়দের উপস্থিতিতে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হৃদয়, মৌ, তুশি, আইইউবি’র রামহিম, সাব্বির, নর্দানের ইমন, ড্যাফডিলের সজিব, প্রমিত, তুবা এবং মাহির মতো তারকারা নিজ নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের হয়ে এই ফেস্টে অংশ নিচ্ছেন।
ফেডারেশন আশা করছে, এই টুর্নামেন্টের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে টেবিল টেনিসের জনপ্রিয়তা আরও বাড়বে এবং ভবিষ্যতের জন্য দক্ষ খেলোয়াড় তৈরি হবে।
আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬ টায় টুর্নামেন্টের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এই উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে।

গতবার যেখানে ছিল স্বপ্নভঙ্গে আক্ষেপ, এবার সেখানেই ইতিহাস গড়লেন কার্লোস আলকারাজ। গ্র্যান্ড স্লামের তিনটি টুর্নামেন্ট জিতলেও অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জেতা হয়নি টেনিসের নম্বর ওয়ান বাছাইয়ের। মেলবোর্নের রড লেভার অ্যারেনাতে আজ সেটাও নিজের করে নিলেন স্পেন তরুণ। তাতেই সবচেয়ে কমবয়সী হিসেবে সাতটি গ্র্যান্ড স্লাম জেতা হলো আলকারাজের।
অস্ট্রেলিয়ান ওপেনার জেতার পর আলকারাজ বলেন,
‘আমি নোভাকের সঙ্গে কথা বলতি চাই। সে সত্যিকার অর্থে সম্মান পাওয়ার যোগ্য। আপনি (নোভাক) বলছেন আমি অসাধারণ কিছু করছি, কিন্তু আসল কথা হলো আপনি যা করছেন তা প্রেরণাদায়ক—শুধু টেনিস খেলোয়াড়দের জন্য নয়, বিশ্বের সব ক্রীড়াবিদদের জন্য এবং আমার জন্যও।’
তিনি যোগ করেন, ‘আপনি প্রতিদিন আপনার টিমের সঙ্গে কঠোর পরিশ্রম করছেন এবং আমি আপনার খেলা উপভোগ করি। আপনার সঙ্গে লকার রুম ও কোর্ট শেয়ার করা আমার জন্য সম্মানের । আপনি যা করছেন তার জন্য ধন্যবাদ, কারণ তা সত্যিই আমাকে অনুপ্রাণিত করছে।’
আলকারাজ আরও বলেন,
‘আমার টিম আপনার পাশে আছে। কেউ জানে না আমি এই ট্রফি জেতার জন্য কত কঠোর পরিশ্রম করেছি। প্রি-সিজন একটু আবেগের দিক থেকে রোলারকোস্টারের মতো ছিল।’

‘ঊরুর চোট’ আর ‘ক্র্যাম্প’—দুই কঠিন প্রতিপক্ষকে বোকা বানিয়ে একজন পা রেখেছিলেন ক্যারিয়ারের প্রথম অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে। অন্যজনের ২০২৩ সালের ইউএস ওপেনের পর থেকেই গ্র্যান্ড স্লাম না জেতার আক্ষেপ।
মেলবোর্নের রড লেভার অ্যারিনাতে আজ অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে অভিন্ন লক্ষ্যে মুখোমুখি হয়েছিলেন দুই প্রজন্মের টেনিস তারকা—নোভাক জোকোভিচ ও কার্লোস আলকারাজ। যেখানে শেষ হাসি হাসলেন নম্বর ওয়ান বাছাই আলকারাজ। ৩ ঘণ্টার মহাকাব্যিক যাত্রা ছিল ২-৬, ৬-২, ৬-৩ ও ৭-৫ সেটের।
এ জয়ের মধ্য দিয়ে ২২ বছর বয়সী আলকারাজ গড়লেন ইতিহাস। ওপেন যুগে সাতটি গ্র্যান্ড স্লাম জেতা পুরুষ খেলোয়াড়দের মধ্যে তিনি সবচেয়ে কম বয়সী। এই বয়সে তিনি ফ্রেড পেরি, ডন বাডজ, রয় এমারসন, আন্দ্রে আগাসি এবং এমনকি রজার ফেদেরার, নাদাল ফেদারার ও জোকোভিচ থেকে এগিয়ে গেলেন।
হাইভোল্টেজ ম্যাচের শুরুটা অবশ্য জোকোভিচের দখলেই ছিল। প্রথম সেটে অভিজ্ঞতার ঝলক দেখিয়ে তিনি ৬–২ গেমে সেটটি নিজের করে নেন। তবে দ্বিতীয় সেট থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ বদলে যেতে শুরু করে। আক্রমণাত্মক রিটার্ন ও দীর্ঘ র্যালিতে আধিপত্য দেখিয়ে আলকারাজ ৬–২ গেমে দ্বিতীয় সেট জিতে সমতায় ফেরেন।
তৃতীয় সেটে আরও ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দেখান স্প্যানিশ তরুণ। চতুর্থ সেট জমে ওঠে। তবে শেষ পর্যন্ত ৭-৫ ব্যবধানে বিজয়ের হাসি আসেন আলকারাজ। এর আগে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ১০টি ফাইনালেই অপরাজিত ছিলেন জকোভিচ।

২৪টি শিরোপা নিয়ে সর্বোচ্চ গ্র্যান্ড স্লাম জয়ে অস্ট্রেলিয়ার মার্গারেট কোর্টের সঙ্গে রেকর্ড ভাগাভাগি করা নোভাক জোকোভিচ ২৫ নম্বর শিরোপাটা আর কখনো জিততে পারবেন কি না, এটা এখন বড় প্রশ্ন। কারণ, সুযোগ নাগালে পেয়েও হাতছাড়া করলেন টেনিসের চতুর্থ বাছাই।
রবিবার প্রথমবার রড লেভার অ্যারেনায় অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে উঠেও চ্যাম্পিয়নের ট্রফিটা হাতে নিতে পারলেন না রেকর্ড ১০ বারের চ্যাম্পিয়ন জোকোভিচ। কেন রোজওয়ালের রেকর্ড ভেঙে সবচেয়ে বেশি বয়সে গ্র্যান্ড স্লাম জয়ের রেকর্ডও আপাতত গড়া হলো না তার।
জোকোকে ২-৬, ৬-২, ৬-৩, ৭-৫ গেমে হারিয়ে অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জিতে উল্টো ইতিহাস গড়লেন আলকারাজ। সবচেয়ে কম বয়সী হিসেবে চারটি গ্র্যান্ড স্লাম জিতলেন স্পেন তরুণ। সাতটি গ্র্যান্ড স্লাম জেতা আরকারাজাকে সাধুবাদ ও অভিনন্দন জানাতে ভুলেননি ৩৮ বছর বয়সী জোকোভিচ।
ক্যারিয়ারের প্রথম অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জেতার আলকারাজকে উদ্দেশ্য করে জোকোভিচ বলেন, ‘অভিনন্দন কার্লোস। তুমি যা করেছো, সেটার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত শব্দ হলো—ঐতিহাসিক। কিংবদন্তিতুল্য।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘আশা করি ভালো কিছু নিয়ে তুমি ক্যারিয়ার ইতি টানতে পারবে। তোমার ক্যারিয়ারে এখনও অনেক সময় বাকি।’
দর্শকদের উদ্দেশ্যে জোকোভিচ বলেন, ‘গত দুই ম্যাচে তোমরা আমাকে যে পরিমান সমর্থন জুগিয়েছ এ জন্য তোমাদের ধন্যবাদ। এ বছর ভালো টেনিস উপহার দেওয়ার চেষ্টা করবো। আমার মনে হয় এটি অস্ট্রেলিয়া ওপেনে আমার ২১তম বছর।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি ভাবতেও পারছিনা আমি আবার কোনো গ্র্যান্ড স্লামের সমাপনী অনুষ্ঠানে দাঁড়িয়ে থাকতে পারব। ভবিষ্যতে কি হবে, একদিন পরে বা ছয় বা বারো মাস পরে, তা কেবল ঈশ্বরই জানেন। এটি সত্যিই একটি দারুণ যাত্রা ছিল। আমি তোমাদেরভালোবাসি।’