২৬ জানুয়ারি ২০২৫, ৭:২৬ পিএম

নতুন বছরটা কী দারুণভাবেই না শুরু করলেন জেনিক সিনার। ২৩ বছর বয়সী টেনিস তারকা আলেক্সান্ডার জ্ভেরেভকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো জিতে নিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের শিরোপা। সেই সাথে প্রথম ইতালিয়ান হিসেবে তিনটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ের রেকর্ডও গড়েছেন সিনার।
রড লেভার অ্যারেনায় রোববার ফাইনালে ৬-৩, ৭ (৭)-৬ (৪), ৬-৩ গেমে জিতেছেন সিনার।
মেলবোর্ন পার্কের তিন সেটের মধ্যে দুই সেটেই সিনার পাত্তা দেননি জ্ভেরেভকে। পুরুষ এককের ফাইনালে দুই ঘণ্টা ৪২ মিনিটের লড়াইয়ে শেষ হাসি হেসেছেন সিনার। এই নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে হারার তেতো স্বাদ পেয়েছেন জ্ভেরেভ।
মেলবোর্ন পার্কে টানা ২০ ম্যাচ অপরাজিত ছিলেন সিনার। সেই সংখ্যাটা এবার ২১-এ নিয়ে গেলেন তিনি। আবার নাম লিখিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের রেকর্ড বইয়ের একটা পাতায়ও। তিন টেনিস কিংবদন্তী - আন্দ্রে আগাসি, রজার ফেদেরার ও নোভাক জোকোভিচের পাশে লিখিয়েছেন নিজের নাম। এই শতাব্দীতে ব্যাক টু ব্যাক অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জিতার রেকর্ডটা কেবল ছিল এই তিনজনের। এবার এই শতাব্দীর চতুর্থ খেলোয়াড় হিসেবে এই রেকর্ডে নাম লিখিয়েছেন সিনার।
শিরোপা জিতে তাই উচ্ছ্বাসটা ধরে রাখতে পারেননি সিনার। “এই অনুভূতিটা দারুণ। আমারা সবাই অনেক কষ্ট করেছি এটার জন্য। এটা দারুণ একটা টুর্নামেন্ট। আমার জন্য সবচেয়ে বিশেষ গ্র্যান্ড স্ল্যাম। সবাইকে ধন্যবাদ।”
No posts available.
৩১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:০৪ পিএম
১০ ডিসেম্বর ২০২৫, ৬:৫২ পিএম

টেনিসের সোনালী প্রজন্মের প্রতিনিধি 'বিগ থ্রি'-র দুই মহাতারকা রজার ফেদেরার ও রাফায়েল নাদাল আগেই বিদায় নিয়েছেন। কোর্টে শেষ প্রদীপ হয়ে টিকে আছেন ৩৮ বছর বয়সী সার্বিয়ান কিংবদন্তি নোভাক জোকোভিচ। ২০২৫ সালটি টেনিস বিশ্বের জন্য ছিল এক সন্ধিক্ষণ- যেখানে একদিকে ছিল জোকোভিচের হাল না ছাড়ার জেদ, অন্যদিকে ইয়ানিক সিনার ও কার্লোস আলকারাজের একচ্ছত্র আধিপত্য।
সিনকারাজ দ্বৈরথ ও গ্র্যান্ড স্ল্যামের চিত্র
শুরুটা হয়েছিল গতবছর। ২০০২ সালের পর প্রথমবারের মতো বিগ থ্রি এর কেউই জিততে পারেনি কোন গ্রান্ড স্ল্যাম। দুটি করে গ্রান্ড স্ল্যাম ভাগ করে নেন ইয়ানিক সিনার ও কার্লোস আলকারাজ।
সেই ধারাবাহিকতা দেখা গেল ২০২৫ সালেও। চারটি গ্রান্ড স্ল্যামের সবকটিই ভাগ করে নিয়েছেন ‘সিনকারাজ’ জুটি।
অস্ট্রেলিয়ান ওপেন ও উইম্বলডন জিতে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রেখেছেন সিনার, অন্যদিকে ফ্রেঞ্চ ওপেন ও ইউএস ওপেন ঘরে তুলে আলকারাজ বুঝিয়ে দিয়েছেন কেন তাকে আগামীর রাজা বলা হয়। তাদের মধ্যকার প্রতিটি লড়াই টেনিস প্রেমীদের ফিরিয়ে দিয়েছে সেই পুরনো বিগ থ্রি-র ধ্রুপদী দ্বৈরথের স্বাদ।
অস্ট্রেলিয়ান ওপেন: সিনারের ইতিহাস
মেলবোর্নে বছরের শুরুতেই বাজিমাত করেন ইয়ানিক সিনার। ফাইনালে আলেক্সজান্ডার জভেরেভকে হারিয়ে শিরোপা ধরে রাখেন ২৪ বছর বয়সি এই তারকা। এই জয়ের মাধ্যমে সিনার ইতালির প্রথম পুরুষ খেলোয়াড় হিসেবে তিনটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম জেতার অনন্য রেকর্ড গড়েন তিনি। সেই সাথে ২০২৫ মৌসুমের শুরুতেই এটিপি র্যাঙ্কিংয়ে নিজের শীর্ষস্থান আরও মজবুত করেন।
ফ্রেঞ্চ ওপেন: ইতিহাসের সেরা ফাইনালগুলোর একটি
প্যারিসের রোলাঁ গারোতে কার্লোস আলকারাজ এবং ইয়ানিক সিনারের মধ্যকার ফাইনালটি টেনিস ইতিহাসের অন্যতম ধ্রুপদী লড়াই হিসেবে স্থান করে নিয়েছে।
ফাইনালে সিনারের বিপক্ষে তিনটি ম্যাচ পয়েন্ট বাঁচিয়ে পাঁচ ঘণ্টার বেশি লড়াই করে শিরোপা জেতেন আলকারাজ। ৫ ঘণ্টা ২৯ মিনিটের এই মহাযুদ্ধে আলকারাজ ৪-৬, ৬-৭, ৬-৪, ৭-৬, ৭-৬ গেমে জয়ী হন। এই ম্যাচটি ফ্রেঞ্চ ওপেনের ইতিহাসে দীর্ঘতম ফাইনাল ম্যাচের রেকর্ড গড়েছে। জয়ের মাধ্যমে আলকারাজ ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে এটিপি র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থানে ফিরে আসেন এবং মৌসুমের প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ের স্বাদ পান।
উইম্বলডন: সিনারের প্রতিশোধ
প্যারিসের ফ্রেঞ্চ ওপেন ফাইনালে কার্লোস আলকারাজের কাছে হারের ক্ষত শুকাতে খুব বেশি সময় নেননি ইয়ানিক সিনার। উইম্বলডনের ফাইনালে সেই আলকারাজকেই পরাজিত করে মধুর প্রতিশোধ নেন এই ইতালীয় তারকা।
ফাইনালে সিনার ৪-৬, ৬-৪, ৬-৪, ৬-৪ গেমে আলকারাজকে পরাজিত করেন। প্রথম সেটে পিছিয়ে পড়েও পরের তিন সেট জিতে শিরোপা নিশ্চিত করেন।
এই জয়ের মাধ্যমে প্রথম ইতালীয় পুরুষ খেলোয়াড় হিসেবে উইম্বলডন শিরোপা জেতার অনন্য ইতিহাস গড়েন সিনার। এটি ছিল তাঁর ক্যারিয়ারের চতুর্থ গ্র্যান্ড স্ল্যাম এবং ২০২৫ মৌসুমের দ্বিতীয় মেজর শিরোপা। তাঁর এই জয়ের ফলে এটিপি র্যাঙ্কিংয়ে আলকারাজের সাথে সিনারের শীর্ষস্থানের লড়াই আরও জমে ওঠে।
ইউএস ওপেন: আলকারাজের শেষ হাসি
বছরের শেষ গ্র্যান্ড স্ল্যামে আবারও সেরা আলকারাজ। সেমিফাইনালে নোভাক জোকোভিচকে হারিয়ে ফাইনালে সিনারের বিপক্ষে দারুণ জয় পান তিনি। এতে গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ের হিসাবে আলকারাজ এগিয়ে যান ৬–৪ ব্যবধানে।
নারী টেনিসের রাজত্ব
নারীদের টেনিসে আরিনা সাবালেঙ্কা শারীরিক শক্তি এবং মানসিক দৃঢ়তা দিয়ে কোর্টে শাসন করেছেন। টানা দ্বিতীয়বার নম্বর ১ হিসেবে বছর শেষ করেছেন এই তারকা।
২০২৫ সালে সাবালেঙ্কা জিতেছেন ৬টি বড় শিরোপা। ইউএস ওপেন ও মায়ামি ওপেনের জয় নজর কাড়ে। পুরো বছরের সার্ভ পারফরম্যান্সে তার প্রথম সার্ভ পয়েন্ট জয় ছিল ৭৫ শতাংশ, আর ব্রেক পয়েন্ট সেভের হার ৭০ শতাংশের বেশি।
২০২৫ সালে নারীদের গ্রান্ড স্ল্যামে কেউ একাধিক শিরোপা জয় করতে পারেননি। চারজন ভাগ করে নিলেও, সামগ্রিক পারফরম্যান্স ও ধারাবাহিকতায় আরিনা সাবালেঙ্কা অনন্য ছিলেন।
অস্ট্রেলিয়ান ওপেন: ম্যাডিসন কিসের রূপকথা
বছরের শুরুতেই মেলবোর্নে চমক দেখান মার্কিন তারকা ম্যাডিসন কিস। ফাইনালে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আরিনা সাবালেঙ্কাকে পরাজিত করে ক্যারিয়ারের প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপা জয় করেন।
ফ্রেঞ্চ ওপেন: কোকো গফের লাল মাটির রাজত্ব
রোলাঁ গারোর ক্লে-কোর্টে নিজের আধিপত্য প্রমাণ করেন কোকো গফ। ফাইনালে আরিনা সাবালেঙ্কাকে হারিয়ে তাঁর ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় গ্র্যান্ড স্ল্যাম এবং প্রথম ফ্রেঞ্চ ওপেন শিরোপা নিজের করেন। পুরো মৌসুমে তিনি ৫৭টি ম্যাচের মধ্যে ৪৮টিতেই জয়লাভ করেন।
উইম্বলডন: ঘাসের কোর্টে সোয়াইটেকের দাপট
পোলিশ তারকা ইগা সোয়াইটেক ক্যারিয়ারের প্রথম উইম্বলডন শিরোপা জেতেন ২০২৫ সালে। ফাইনালে যুক্তরাষ্ট্রের আমান্ডা আনিসিমোভাকে সরাসরি সেটে ৬-০, ৬-০ গেমে পরাজিত করেন। পুরো টুর্নামেন্টে তাঁর জয়ের হার ছিল ৮৭ শতাংশ।
ইউএস ওপেন: সাবালেঙ্কার সফল শিরোপা রক্ষা
বছরের শেষ গ্র্যান্ড স্ল্যামে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব পুনরুদ্ধার করেন আরিনা সাবালেঙ্কা। নিউ ইয়র্কের ফ্লাশিং মিডোজে ফাইনালে ম্যাডিসন কিসকে পরাজিত করে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ইউএস ওপেন চ্যাম্পিয়ন হন এই বেলারুশিয়ান তারকা।
জোকোভিচ অধ্যায়: শ্রেষ্ঠত্বের পর বাস্তবতা
২০২৫ সাল নোভাক জোকোভিচের জন্য ছিল সাফল্যের চেয়ে বাস্তবতার মুখোমুখি হওয়ার বছর। ২৪টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ের মালিক, ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই খেলোয়াড় বছরের বেশির ভাগ সময়ই লড়েছেন বয়স, ফিটনেস এবং নতুন প্রজন্মের গতি ও শক্তির সঙ্গে। ট্রফির ঝলক না থাকলেও জোকোভিচের উপস্থিতি ছিল মর্যাদার, তবে কোর্টে তার আগের সেই অপ্রতিরোধ্য আধিপত্য আর দেখা যায়নি।
বছরের শুরুটা অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের কোয়ার্টারফাইনালে কার্লোস আলকারাজকে হারিয়ে সেমিফাইনালে ওঠেন। তবে সেখানে চোটের কারণে ম্যাচ শেষ না করেই ফিরতে হয় খালি হাতে।
লাল মাটির কোর্টে ফ্রেঞ্চ ওপেনে জোকোভিচ সেমিফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিলেন ইতালিয় তারকা ইয়ানিক সিনারের। সরাসরি সেটে (৬-৪, ৭-৫, ৭-৬) হেরে বিদায় নেন জোকোভিচ।
উইম্বলডনেও জোকোভিচ সেমিফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছান। সেখানে তিনি আবারও ইয়ানিক সিনারের কাছে সরাসরি সেটে (৬-৩, ৬-৩, ৬-৪) পরাজিত হন। এটি ছিল ২০১৭ সালের পর তাঁর প্রথম উইম্বলডন ফাইনাল খেলতে না পারা।
বছরের শেষ গ্র্যান্ড স্ল্যাম ইউএস ওপেনেও জোকোভিচ সেমিফাইনালে পৌঁছান। তবে কার্লোস আলকারাজের কাছে সরাসরি সেটে পরাজিত হন । এই পরাজয়ের মাধ্যমে সার্বিয়ান এই তারকা প্রথম পুরুষ খেলোয়াড় হিসেবে একই বছরে চারটি গ্র্যান্ড স্ল্যামেরই সেমিফাইনালে হারার রেকর্ড গড়েন।
জোকোভিচ ২০২৫ সালের পুরো মৌসুমে কোনো গ্র্যান্ড স্ল্যাম বা মাস্টার্স শিরোপা জিততে পারেননি। ২০০৯-২০১০ সালের পর তাঁর প্রথম মৌসুম, যেখানে কোনো মেজর শিরোপা ছাড়াই বছর শেষ করেছেন।
এটিপি ট্যুরে তিনি খেলেছেন ৫৪টি ম্যাচ, জিতেছেন ৩৯টি। জয়ের হার প্রায় ৭৮% শতাংশ। সার্বিয়ান এই তারকার ক্যারিয়ারের গড়ের (৮৩.১%) তুলনায় অনেক কম। বড় ম্যাচে বিশেষ করে সেরা পাঁচ খেলোয়াড়দের বিপক্ষে তার জয় হার নেমে আসে ৪০ শতাংশের নিচে।
বছরের শেষে জোকোভিচ বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের ৪ নম্বরে থেকে মৌসুম শেষ করেন। বয়সের দিক থেকে ৩৮ বছরে পা দেওয়া এই তারকা এখন আর পূর্ণ মৌসুম খেলার মতো শারীরিক সামর্থ্য ধরে রাখতে পারছেন না।
তবে জোকোভিচ আশাবাদী আরও একটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম জিতে মার্গারেট কোর্টের সর্বকালীন রেকর্ড ছাড়িয়ে (২৪টি) এককভাবে সবচেয়ে বেশি গ্র্যান্ড স্ল্যামের মালিক হবেন। ২০২৫ সালের পুরো মৌসুম শিরোপাহীন কাটলেও, ৩৮ বছর বয়সী এই তারকা এখনও খেলা চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে বদ্ধপরিকর।
আলোচনায় ‘ব্যাটল অব দ্য সেক্সেস'
২০২৫ সালের শেষভাগে টেনিস অঙ্গনে নতুন করে প্রাণের সঞ্চার করে প্রদর্শনী ম্যাচ ‘ব্যাটল অব দ্য সেক্সেস’। দুবাইতে আয়োজিত এই লড়াইয়ে পুরুষ ও নারী টেনিসের ভিন্ন দুই শক্তির মুখোমুখি হওয়া দর্শকদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করে।
কোর্টে নামেন দীর্ঘ চোট কাটিয়ে ফেরা কির্গিওস ও নারীদের শীর্ষ বাছাই আরিনা সাবালেঙ্কা। ম্যাচে কিরগিওস ৬-৩, ৬-৩ ব্যবধানে জয়ী হন। ম্যাচটির দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ৯০ মিনিট।
‘ব্যাটল অব দ্য সেক্সেস'- এর সবচেয়ে বিখ্যাত হিসেবে পরিচিত ম্যাচ হয় ১৯৭৩ সালে বিলি জিন কিং বনাম ববি রিগসের মধ্যে। সে সময় ম্যাচটি নারী অধিকার আন্দোলনের ইতিহাসে একটি মাইলফলক হিসেবে পরিচিত হলেও, বিলি জিন কিং নিজেই পরবর্তীকালে এই ম্যাচের ‘সার্কাস’ বা প্রদর্শনধর্মী পরিবেশ নিয়ে বেশ সচেতন ও সতর্ক ছিলেন।
২০২৫ সালে এই প্রতিযোগিতা আয়োজনের সমালোচনা করেছেন এই টেনিস কিংবদন্তি। বিলি জিন কিং সত্তর দশকের সেই সময়ের ম্যাচ আর বর্তমান ম্যাচের গুরুত্ব এক না।
পরাজয় সত্ত্বেও সাবালেঙ্কা এটিকে এই ম্যাচকে ‘চমৎকার ফিটনেস টেস্ট’ হিসেবে অভিহিত করেন। কিরগিওস সাবালেঙ্কার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, জয় পেলেও তিনি ম্যাচ চলাকালীন বেশ স্নায়ুচাপে ছিলেন।
কিংবদন্তির বিদায়
ইতালীয় টেনিসের কিংবদন্তি নিকোলা পিয়েত্রাঞ্জেলি ১ ডিসেম্বর ৯২ বছর বয়সে মারা যান। ১৯৫৯ ও ১৯৬০ সালে টানা দুবার ফ্রেঞ্চ ওপেন একক শিরোপা জিতেছিলেন তিনি।
টেনিস ইতিহাসের অন্যতম প্রভাবশালী কোচ এবং নোভাক জোকোভিচের মেন্টর নিকোলা পিলিচ ২২ সেপ্টেম্বর ৮৬ বছর বয়সে মারা যান।
২০২৫ সালের বড় অঘটন
ভ্যালেন্টিন ভ্যাচেরোট বনাম নোভাক জোকোভিচ: সাংহাই মাস্টার্সে ভ্যালেন্টিন ভ্যাচেরোট রেকর্ড চারবারের চ্যাম্পিয়ন নোভাক জোকোভিচকে পরাজিত করে বছরের সবচেয়ে বড় অঘটন ঘটান।
লার্নার টিয়েন বনাম দানিল মেদভেদেভ: অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের দ্বিতীয় রাউন্ডে বাছাইপর্ব থেকে আসা লার্নার টিয়েন দানিল মেদভেদেভকে হারিয়ে চমকে দেন।
আলেকজান্ডার বুবলিক বনাম ইয়ানিক সিনার: হ্যালে ওপেনের দ্বিতীয় রাউন্ডে বুবলিকের কাছে সিনারের হার ছিল বছরের অন্যতম অপ্রত্যাশিত ফলাফল। এই পরাজয়ের মাধ্যমে র্যাঙ্কিংয়ে সেরা ২০-এর বাইরের খেলোয়াড়দের বিপক্ষে সিনারের টানা ৬৬টি ম্যাচে জয়ের যে অজেয় যাত্রা) অজেয় যাত্রা শেষ হয়।
উইম্বলডন ২০২৫: উইম্বলডনের প্রথম রাউন্ডেই শীর্ষ ১০ বাছাইয়ের মধ্যে ৮ জনই বাদ পড়েন, যা ওপেন এরায় এক বিরল অঘটন।
ইতালির তুরিনে ২০২৫ এটিপি ফাইনালস চলাকালীন গ্যালারিতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ৭০ এবং ৭৮ বছর বয়সী দুজন দর্শকের মৃত্যু হয়।
সব মিলিয়ে ২০২৫ টেনিস বিশ্ব দেখেছে ক্ষমতার পালাবদল। একদিকে যেমন বিগ থ্রি-র শেষ প্রতিনিধি জোকোভিচের বিদায়ি গোধূলির রক্তিম আভা, অন্যদিকে সিনার-আলকারাজের হাত ধরে টেনিসের এক নতুন ভোরের সূচনা। এই বছরটি কেবল রেকর্ডের নয়, বরং টেনিসের এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে রূপান্তরের সাক্ষী হয়ে রইল।

টেনিসের নম্বর ওয়ান তারকা আরিনা সাবালেঙ্কা টানা দ্বিতীয়বারের মতো ওয়েন্স টেনিস অ্যাসোসিয়েশনের বর্ষসেরা পুরস্কার জিতেছেন। আজ এক জমকালো অনুষ্ঠানে তাঁর হাতে ডব্লিউটিএ’র বিশেষ এ পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
২০২৫ মৌসুম স্বপ্নের মতো কাটিয়েছেন ২৭ বছর বয়সী বেলারুশ নন্দিনী। চলতি বছর তিনি মোট চারটি শিরোপা জিতেছেন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য—মাদ্রিদ ওপেন ও ইউএস ওপেন।
সাবালেঙ্কা এ বছর মোট নয়টি টেনিস টুর্নামেন্টের ফাইনালে খেলেছেন। অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে ম্যাডিসন কিজের কাছে হেরেছেন এবং ফ্রেঞ্চ ওপেনে টাইটেল হাতছাড়া করেছেন। আগামী ২৮ ডিসেম্বর উইম্বলডনে তাঁর লড়াই শুরু হবে।
নারীদের মধ্যে সর্বোচ্চ ১২ হাজার র্যাঙ্কিং পয়েন্ট অর্জন দ্বিতীয় সাবালেঙ্কা। এর আগে এই কীর্তি ছিল কেবল সেরেনা উইলিয়ামসের। তিনি ২০১৫ সালে ১২ হাজার ডব্লিটিএ পয়েন্ট অর্জন করেছিলেন। সাবালেঙ্কা এ বছর প্রায় ১১ মিলিয়ন ইউরো পুরস্কার হিসেবে অর্জন করেছেন।
ওয়েন্স টেনিস অ্যাসোসিয়েশনের প্রায় ৮০ শতাংশ ভোট গেছে সাবালেঙ্কার পক্ষে।

নারীদের টেনিসে ট্রান্সজেন্ডার অ্যাথলেটদের অংশগ্রহণের বিপক্ষে সরব আরিনা সাবালেঙ্কা। নারীদের জন্য ‘জৈবিকভাবে পুরুষ’ খেলোয়াড়দের বিপক্ষে খেলা ন্যায়সঙ্গত নয় বলে মন্তব্য করেছেন টেনিসের বিশ্বের এক নম্বর র্যাঙ্কধারী বেলারুশিয়ান তারকা।
আজ ব্রিটিশ উপস্থাপক পিয়ার্স মরগানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাবালেঙ্কা বলেন,
‘ট্রান্সজেন্ডাররা এখনো নারীদের তুলনায় বড়সড় সুবিধা পায়। নারীদের জন্য এটা ন্যায়সঙ্গত নয়।’
তিনি আরও বলেন,
'একজন নারী সারাজীবন কঠোর পরিশ্রম করে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। তারপর তাকে এমন কারও মুখোমুখি হতে হয় যে জৈবিকভাবে আরও শক্তিশালী- খেলাধুলায় এটা গ্রহণযোগ্য নয়।’
উইমেনস টেনিস ফেডারেশনের (ডব্লিউটিএ) নীতিমালা অনুযায়ী, ডব্লিউটিএ ট্যুরে ট্রান্সজেন্ডার নারীরা খেলতে পারেন কিছু শর্তে- কমপক্ষে চার বছর নারী পরিচয় ঘোষণা, টেস্টোস্টেরন কমানো, এবং নিয়মিত মেডিকেল পরীক্ষা।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পেশাদার টেনিসে অবশ্য ট্রান্সজেন্ডার খেলোয়াড় দেখা যায়নি। তবে ১৯৭৭–৮১ সালে রেনে রিচার্ডস নারী সার্কিটে খেলেছিলেন। পরে মার্টিনা নাভ্রাতিলোভার কোচ হিসেবেও কাজ করেন। ১৮টি গ্র্যান্ড স্লামজয়ী কিংবদন্তি নাভ্রাতিলোভা নারীদের খেলায় ট্রান্সজেন্ডারদের অন্তর্ভুক্তির প্রকাশ্য বিরোধী।
গত বছর ব্রিটেনের লন টেনিস অ্যাসোসিয়েশন জাতীয় ও আন্তঃক্লাব প্রতিযোগিতায় ট্রান্সজেন্ডার নারীদের নিষিদ্ধ করে। গত দুই বছরে বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থাও পুরুষ কৈশোর অতিক্রম করা অ্যাথলেটদের নারী বিভাগে অংশগ্রহণে সীমাবদ্ধতা দিয়েছে।

৩০ ডিসেম্বর থেকে ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত হওয়ার কথা ছিল জাতীয় টেবিল টেনিস প্রতিযোগিতা। সাত দিনব্যাপী এই প্রতিযোগিতার ভেন্যু ছিল পল্টনের শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ ইনডোর স্টেডিয়াম। কিন্তু খেলোয়াড়দের প্র্যাকটিসের ভেন্যুর সীমাবদ্ধতার কথা চিন্তা করে টুর্ণামেন্ট পিছিয়ে দেয়া হয়েছে। কারণ একই ভেন্যুতে ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে আন্তর্জাতিক ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। যে কারণে আগামী ৯ জানুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে জাতীয় টেবিল টেনিস প্রতিযোগিতা।
প্রতিযোগিতা ৯ দিন পেছানোর পাশাপশি এবার টুর্ণামেন্ট শুরু হচ্ছে অনূর্ধ্ব-৯, ১১, ১৩, ১৫ এবং ১৭ বালক এবং বালিকাদের সিঙ্গেলস র্যাংকিং টুর্ণামেন্টের মাধ্যমে। প্রতিযোগিতার প্রথম ২ দিন, তথা ৯ ও ১০ জানুয়ারি বালক ও বালিকাদের কেবল সিংগেলস র্যাংকিং অনুষ্ঠিত হবে। অনূর্ধ্ব ১৯ এর নীচে বাংলাদেশের জাতীয় কোন র্যাংকিং নেই।
১১ থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত ৮ দিন অনূর্ধ্ব ১৯ বালক-বালিকা এবং সিনিয়র পুরুষ- মহিলাদের মধ্যে সর্বমোট ১৪ টি ইভেন্টে খেলা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে সিনিয়র ক্যাটাগরিতে ৭টি ইভেন্ট এবং জুনিয়র (অনূর্ধ্ব ১৯) ক্যাটাগরিতে ৭টি ইভেন্ট। এগুলো হলো- পুরুষ দলগত, পুরুষ একক, পুরুষ দ্বৈত, মহিলা দলগত, মহিলা একক, মহিলা দ্বৈত, মিশ্র দ্বৈত।
জুনিয়র (অনূর্ধ্ব ১৯) ক্যাটাগরিতে বালক ও বালিকা বিভাগের মধ্যে ইভেন্ট হবে- বালক একক, বালক দ্বৈত, বালক দলগত, বালিকা একক, বালিকা দ্বৈত, বালিকা দলগত এবং মিশ্র দ্বৈত।
জাতীয় টেবিল টেনিস প্রতিযোগিতায় বালক বিভাগের শীর্ষ ৮ জন খেলোয়াড় সিনিয়র ক্যাটাগরিতে পুরুষদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ পাবে। বালিকাদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সংখ্যার কোন সীমাবদ্ধতা নেই, অর্থাৎ যে কোনো বয়সি বালিকারা সিনিয়র ক্যাটাগরিতে খেলার সুযোগ পাবেন।
জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার খেলোয়াড় কর্মকর্তাবৃন্দ যাতায়াত ভাতা (নিজ জেলার থেকে নন-এসি পরিবহনের প্রকৃত ভাড়া) দৈনিক ভাতা বাবদ ফেডারেশন কতৃর্ক নির্ধারিত টাকা পাবেন। যে সব সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন- জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা, শিক্ষা বোর্ড এবং বিশ্ববিদ্যালয়। সার্ভিসেস দলসমূহ- বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি, বাংলাদেশ জেল পুলিশ, বাংলাদেশ নৌবাহিনী, বাংলাদেশ বিমান বাহিনী, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, বাংলাদেশ পুলিশ, বিকেএসপি, বাংলাদেশ রেলওয়ে, বিআরটিসি, বিটিএমসি, পল্লী বিদ্যুৎ, কাস্টমস।
প্রতিযোগিতায় এন্ট্রি পাঠানোর শেষ তারিখ ৩১ ডিসেম্বর, বুধবার রাত ১২টা পর্যন্ত। আরও বিস্তারিত জানতে যোগাযোগ করতে হবে ফেডারেশনের সঙ্গে।

ইতালির দুইবারের ফ্রেঞ্চ ওপেন চ্যাম্পিয়ন নিকোলা পিয়েত্রানজেলি মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯২ বছর।
আজ সোমবার এক বিবৃতিতে নিকোলার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে ইতালিয়ান টেনিস ফেডারেশন (এফআইটিপি)।
ফেডারেশনের পক্ষ থেকে বিবৃতিতে বলা হয়েছে,
‘ইতালীয় টেনিস এক কিংবদন্তির মৃত্যুতে শোকাহত। ওয়ার্ল্ড টেনিস হল অব ফেমে অন্তর্ভুক্ত হওয়া একমাত্র ইতালীয় নিকোলা পিয়েত্রানজেলি মারা গেছেন।’
ক্লে কোর্টের বিশেষজ্ঞ এই খেলোয়াড় ক্যারিয়ারে ৪৮টির মতো শিরোপা জিতেছেন। তিনি ডেভিস কাপে রেকর্ড ১৬৪টি ম্যাচ খেলেছেন, যার মধ্যে ১২০টি ম্যাচে জয় পেয়েছেন। ১৯৭৬ সালের ডেভিস কাপজয়ী দলেও ছিলেন নিকোলা।
ইতালিয়ান ওপেনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে,
‘দুঃখের সঙ্গে নিকোলাকে বিদায় জানাচ্ছি আমরা। তিনি ছিলেন এক সত্যিকারের লেজেন্ড।’