
অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসের অন্যতম প্রতিভাবান ও স্টাইলিশ ব্যাটার হিসেবেই বিবেচনা করা হয় তাকে। অবসর নেওয়ার এক দশক পর সেই মাইকেল ক্লার্ক পেয়েছেন দারুনে এক সম্মান। অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট হল অফ ফেমে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন দেশটির সাবেক অধিনায়ক।
বৃহস্পতিবার এই সম্মান গ্রহণ করেন ক্লার্ক। অস্ট্রেলিয়ার হল অব ফেমে তিনি ৬৪তম খেলোয়াড়। এই মৌসুমে তালিকায় যুক্ত হবেন আরও দুজন।
ক্লার্কের ক্যারিয়ারের উল্লেখযোগ্য অর্জনের মধ্যে রয়েছে ঘরের মাটিতে অস্ট্রেলিয়ার ২০১৫ ওয়ানডে বিশ্বকাপ জয়, যেখানে তিনি ছিলেন অধিনায়ক। তবে ডানহাতি এই ব্যাটার বেশি আলো ছড়িয়েছেন টেস্ট ক্রিকেটেই। ১১৫ ম্যাচে করেছেন ৮ হাজার ৬৪৩ রান, যা যা তাকে অস্ট্রেলিয়ার সর্বোচ্চ রানস্কোরারদের তালিকায় রেখেছে ছয় নম্বর স্থানে।
আরও পড়ুন
| হল অব ফেমে জায়গা করে নিলেন মাইকেল ক্লার্ক |
|
মাত্র ১৭ বছর বয়সে নিউ সাউথ ওয়েলসের হয়ে প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক হওয়ার ক্লার্ল ওয়ানডেতেও একেবারেই মন্দ ছিলেন না। ৭ হাজার ৯৮১ রানের মাধ্যমে তিনি অজিদের এই ফরম্যাটে সবচেয়ে বেশি রানস্কোরারদের তালিকায় আছেন চতুর্থ স্থানে।
২০০৪ সালে ভারত সফরে টেস্ট অভিষেকেই হইচই ফেলে দেন ক্লার্ক। ১৫১ রান করে হন ম্যাচ সেরা। এই ভারতের বিপক্ষে ২০১১-১২ মৌসুমে তার ব্যাট থেকে আসে ক্যারিয়ার সর্বোচ্চ ৩২৯ রান। ষষ্ঠ অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটার হিসেবে সেবার টেস্ট ট্রিপল সেঞ্চুরি করেন ক্লার্ক।
টেস্ট অধিনায়ক্ত্ব পান ২০১১ সালে, স্থলাভিষিক্ত হন আরেক অস্ট্রেলিয়া গ্রেট রিকি পন্টিংয়ের। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২০১৩-১৪ মৌসুমে অ্যাশেজে হোয়াইটওয়াশের নেতৃত্বে দেন ক্লার্ক। অবসরও নেন ইংলিশদের কাছে হেরেই, ২০১৫ সালে।
আরও পড়ুন
| বায়ার্ন সেরা ক্লাবের কাতারে নেই, মানছেন কিমিখও |
|
অধিনায়ক তো বটেই, ব্যাটার হিসেবেই ক্লার্ককে বিবেচনা করা হত সময়ের অন্যতম সেরা হিসেবে। নিজের দিনে প্রতিপক্ষের সেরা সব বোলারদের গুঁড়িয়ে দেওয়ার বেশ কিছু কীর্তি আছে তার। এমনকি কাঁধে চোট নিয়েও সেঞ্চুরি করে নিজের ব্যাটসম্যানশিপের ছাপ রেখেছেন।
No posts available.
৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৯:৫৭ পিএম

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) এবারের সংস্করণের সম্প্রচারের দায়িত্ব পেয়েছে ট্রান্স প্রোডাকশন টেকনোলজিস (টিপিটি)। তাদের আয়োজনে এবার মোট ১১ জন দেশি-বিদেশি ধারাভাষ্যকার দায়িত্ব পালন করছেন। এর মধ্যে চারজন দেশি ধারাভাষ্যকার রয়েছেন।
ধারাভাষ্য প্যানেলে এবার যুক্ত হলো নতুন তারা। বিদেশী কণ্ঠে যুক্ত হচ্ছেন ইংল্যান্ডের সাবেক ক্রিকেটার নিক কম্পটন। ৪২ বছর বয়সী সাবেক এই ক্রিকেটার ও বর্তমানে বিশ্লেষক ও ধারাভাষ্যকার কম্পটন স্কাই স্পোর্টস, বিবিসি এবং ইএসপিএনের মতো প্লাটফর্মে কাজ করছেন।
কিংবদন্তি ইংলিশ অলরাউন্ডার ডেনিস কম্পটন-এর নাতি নিক কম্পটন। ক্রিকেট পরিবারে জন্ম নেওয়া এই ব্যাটার ছোটবেলা থেকেই ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কম্পটন ইংল্যান্ডের হয়ে ২০১২ থেকে ২০১৩ সালে টেস্ট ক্রিকেট খেলেছেন। ১৬ টেস্টে ৭৭৫ রান করেছেন তিনি।
অবশ্য ক্রিকেটীয় ক্যারিয়ার খুব একটা দীর্ঘ হয়নি কম্পটনের। ২০১৮ সালের শেষে টেস্ট ক্রিকেটকে বিদায় বলেন তিনি। বর্তমানে ক্রিকেটে ধারাভাষ্যকার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। ক্রিকেটে তাঁর বিশ্লেষণী দক্ষতা টেলিভিশন ও অনলাইন মিডিয়ায় বেশ পরিচিত।
এবারের বিপিএলে দেশি ধারাভাষ্যকারদের তালিকায় আছেন ‘ভয়েস অব বাংলাদেশ’ খ্যাত আতহার আলী খান। তাঁর সঙ্গে ধারাভাষ্য আছেন শামীম চৌধুরী, সমন্বয় ঘোষ ও মাজহার উদ্দিন অমি।
বিদেশীদের মধ্যে আছেন পাকিস্তানের দুই কিংবদন্তি ওয়াকার ইউনুস ও রমিজ রাজা। রমিজ রাজা এর আগেও বিপিএলে ধারাভাষ্য দিলেও ওয়াকার ইউনিসের জন্য এটি প্রথম। এছাড়া ধারাভাষ্য প্যানেলে আছেন সাবেক শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটার ফারভেজ মাহরুফ। মাঝে ওয়াকার ইউনুস বাংলাদেশ ছাড়লে জনপ্রিয় ধারাভাষ্যকার ও সাবেক ইংলিশ ক্রিকেটার ড্যারেন গফ যোগ দেন।

ঘরের মাঠে আবার হারল সিলেট টাইটান্স। রংপুর রাইডার্সের কাছে হারের পরের ম্যাচেই জয়ে ফিরল চট্টগ্রাম রয়্যালস। একইসঙ্গে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থান ফিরে পেল বিসিবি পরিচালিত দলটি।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বুধবার সন্ধ্যার ম্যাচে সিলেটকে ১৪ রানে হারায় চট্টগ্রাম। চলতি বিপিএলে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়ে ৫ উইকেটে ১৯৮ রানে থামে চট্টগ্রাম। জবাবে ১৮৪ রানের বেশি করতে পারেনি সিলেট।
ছয় ম্যাচে ৮ পয়েন্ট নিয়ে শ্রেয়তর নেট রান রেটের সৌজন্যে এখন এক নম্বরে চট্টগ্রাম। রংপুর রাইডার্স সমান ৮ পয়েন্ট নিয়ে ২ নম্বরে। আর সাত ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে তিন নম্বরে সিলেট।
রান তাড়ায় শুরুতে তেমন সুবিধা করতে পারেনি সিলেট। দ্বিতীয় ওভারে ড্রেসিং রুমে ফেরেন পারভেজ হোসেন ইমন। তবে দ্বিতীয় উইকেটে ২৪ বলে ৪০ রানের জুটি গড়েন তৌফিক খান তুষার ও আফিফ হোসেন ধ্রুব।
পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে আমির জামালের বলে বড় ছক্কা মেরে আউট হয়ে যান তুষার। ওই ওভারেই ক্রিজে গিয়ে প্রথম বল ছক্কায় ওড়ান রনি তালুকদার। তবে ওভারের শেষ বলেই তাকে চমৎকার এক ডেলিভারিতে বোল্ড করে দেন জামাল।
এরপর কমে আসে রানের গতি। তিন নম্বরে ফিফটির সম্ভাবনা জাগালেও পারেননি আফিফ। ৩৩ বলে ৪৬ রান করেন বাঁহাতি ব্যাটার। বেশি কিছু করতে পারেননি মইন আলি (১৩) ও আজমতউল্লাহ (১৮) ওমরজাই।
পরে ইথান ব্রুকস আশা দেখান। কিন্তু ১০ বলে ২০ রান করে ফিরে যান ইংলিশ তরুণ। আট নম্বরে নামা অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজও তেমন কিছু করতে পারেননি।
শেষ দিকে ম্যাচে কিছুটা উত্তেজনা আনেন সৈয়দ খালেদ আহমেদ। বিপিএল ইতিহাসে প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে এক ইনিংসে ৩টি ছক্কা মারেন সিলেটের পেসার। তবে তার ৯ বলে ২৫ রানে পরাজয়ের ব্যবধান ছাড়া আর কোনো ফায়দা হয়নি।
চট্টগ্রামের পক্ষে বল হাতে ৪ উইকেট নেন জামাল। শরিফুল ইসলামের শিকার ২টি।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা তেমন ভালো ছিল না চট্টগ্রামের। পঞ্চম ওভারে দলীয় ৩৫ রানে ফেরেন মোহাম্মদ নাঈম শেখ (১৫ বলে ১৮)। এরপর তিন নম্বরে নেমে ঝড় তোলেন জয়। অ্যাডাম রসিংটনের সঙ্গে তার জুটিতে আসে ৩৮ বলে ৬০ রান।
ফিফটির আগেই অবশ্য ফিরে যান ৩ চারের সঙ্গে ৪টি ছক্কা মারা জয়। মাত্র ১ রানের জন্য টানা চতুর্থ ফিফটি করতে পারেননি রসিংটন। তার ব্যাট থেকে আসে ৬ চার ও ১ ছক্কায় ৩৮ বলে ৪৯ রান। পরে হাসান নাওয়াজ (২০ বলে ২৫) ও আসিফ আলি (৮ বলে ১৩) তেমন কিছু করতে পারেননি।
তবে ফিনিশিংটা দুর্দান্ত করেন মেহেদি। অবিচ্ছিন্ন ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে আমির জামালকে নিয়ে তিনি যোগ করেন ১৭ বলে ৩৯ রান। ৪ চারের সঙ্গে ১টি ছক্কায় নিজের ইনিংস সাজান চট্টগ্রাম অধিনায়ক।
পাকিস্তানে ফিরে যাওয়ায় সিলেট দলে নেই মোহাম্মদ আমির। তার জায়গায় খেলতে নেমে ৪১ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন বাঁহাতি পেসার রুয়েল মিয়া।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
চট্টগ্রাম রয়্যালস: ২০ ওভারে ১৯৮/৫ (নাঈম ১৮, রসিংটন ৪৯, জয় ৪৪, নাওয়াজ ২৫, আসিফ ১৩, মেহেদি ৩৩*, জামাল ৬*; রুয়েল ৪-০-৪১-১, খালেদ ৪-০-৫৫-০, মইন ৪-০-২৩-১, নাসুম ৪-০-২৪-০, ওমরজাই ৪-০-৪৭-১)
সিলেট টাইটান্স: ১৯.৪ ওভারে ১৮৪ (তুষার ২৩, ইমন ২, আফিফ ৪৬, রনি ৬, মইন ১৩, ওমরজাই ১৮, ব্রুকস ২০, মিরাজ ১৭, খালেদ ২৫, নাসুম ০, রুয়েল ০*; শরিফুল ৪-০-৩৯-২, রনি ৪-০-৩৫-১, মেহেদি ৪-০-৩০-০, জামাল ৪-০-৩৪-৪, নাওয়াজ ১-০-৮-১, তানভির ২.৪-০-৩৮-২)
ফল: চট্টগ্রাম রয়্যালস ১৪ রানে জয়ী

আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছিল পাকিস্তানের। অস্ট্রেলিয়ায় বিগ ব্যাশ লিগ (বিবিএল) খেলতে গিয়ে হাঁটুর চোটে পড়েন দলের অন্যতম সেরা পেসার শাহিন শাহ আফ্রিদি। এরপর ফিরে আসেন দেশে। ডান হাঁটুর এই চোটে ঠিক কতদিনের জন্য তাকে মাঠের বাইরে থাকতে হতে পারে সেটা নিয়েই দুশ্চিন্তা ছিল সবার। তবে বিশ্বকাপের আগে চোট নিয়ে ভালো খবর দিলেন আফ্রিদি।
টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ঘনিয়ে আসায় দ্রুতই আফ্রিদির চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। হাই পারফরম্যান্স সেন্টারে দ্রুত পুনর্বাসন শুরু হওয়া সবকিছু ভালোভাবেই এগোচ্ছে। ২৫ বছর বয়সী বাঁহাতি এই পেসার আশা করছেন আগামী সপ্তাহ থেকেই আবার বোলিংয়ে ফিরবেন।
লাহোর কালান্দার্সের ট্যালেন্ট হান্ট ইভেন্টে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে আফ্রিদি নিজের চোট নিয়ে কথা বলেন। এর আগেও একবার হাঁটুর চোটে পড়েছিলেন তিনি। তবে এবার হাঁটুর এই চোট আগের মতো গুরুতর নয় বলে জানান আফ্রিদি, ‘আমার পুনর্বাসন চলছে, পিসিবি মেডিকেল টিম দেখাশোনা করছে। আমি জিম করছি এবং ব্যাটিং অনুশীলন করছি। আগামী সপ্তাহ থেকে বোলিং শুরু করব।’
আফ্রিদি আরও যোগ করেন, ‘এবারের চোট আগের মতো গুরুতর নয়। হাড়ে সামান্য ফোলাভাব আছে। এমআরআই রিপোর্ট খুব উদ্বেগজনক ছিল না, তাই এটা এক মাস নেবে না, সম্ভবত এক সপ্তাহের মতো সময় লাগবে।’
এর আগে ২০২২ সালে শ্রীলঙ্কায় একটি টেস্ট ম্যাচে ফিল্ডিং করার সময় ‘পোস্টেরিয়র ক্রুসিয়েট লিগামেন্ট’ চোট পান। এই চোটে প্রায় ছয় মাস মাঠের বাইরে ছিলেন পাকিস্তানি তারকা পেসার। সেই বছরের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম অংশও খেলতে পারেননি। পরে পাকিস্তানের দলের শেষপর্যায়ের খেলায় ফিরলেও, ফাইনালে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে আবার চোট পান।
বিগ ব্যাশে এবার ব্রিসবেন হিটের হয়ে আফ্রিদি চারটি ম্যাচ খেলেছেন। যেখানে প্রতি ওভারে ১১.১৯ রান খরচ করে মাত্র দুই উইকেট নিয়েছেন। তবে দেশের হয়ে তিনি ভালো ছন্দেই ছিলেন। গত বছর পাকিস্তানের বোলারদের মধ্যে স্পিনার মোহাম্মদ নওয়াজ ও আবরার আহমেদ-এর পর তিনি কুড়ি ওভারের সংস্করণে তৃতীয় সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রাহক ছিলেন।
আফ্রিদির দল বর্তমানে শ্রীলঙ্কায় আছে। বিশ্বকাপের আগে লঙ্কানদের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথমটিতে আজ মাঠে নেমেছে পাকিস্তান। ভারত-শ্রীলঙ্কার হতে যাওয়া এবারের বিশ্বকাপের আগে শেষ মূহুর্তের প্রস্তুতি হিসেবে দুই দলের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ সিরিজ।

শুরুতে ঝড় তুললেন মাহমুদুল হাসান জয়। আর শেষের সিলেট টাইটান্সের বোলারদের ওপর তাণ্ডব চালালেন শেখ মেহেদি হাসান। দুজনের বিধ্বংসী দুটি ইনিংসে চলতি বিপিএলের রেকর্ড গড়ল চট্টগ্রাম রয়্যালস।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বুধবার সন্ধ্যার ম্যাচে স্বাগতিকদের বিপক্ষে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৯৮ রান করেছে চট্টগ্রাম। এবারের বিপিএলে যা সর্বোচ্চ দলীয় স্কোর।
টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে সিলেটের করা ১৯০ রান টপকে ১৯২ রান করেছিল রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। এর ১৫ ম্যাচ পর সেটি টপকে দুইশ ছুঁইছুঁই স্কোর দাঁড় করাল চট্টগ্রাম।
রেকর্ড পুঁজির বড় কারিগর জয় ও মেহেদি। মাত্র ২১ বলে ৪৪ রানের ইনিংস খেলেন তিন নম্বরে নামা জয় আর শেষ দিকে ১৩ বলে ৩৩ রানে অপরাজিত থাকেন অধিনায়ক মেহেদি।
চট্টগ্রামের ইনিংসে ফিফটি করতে পারেননি কেউই। বিপিএলে কোনো ব্যক্তিগত ফিফটি ছাড়া দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ এটি। গত বছর ফরচুন বরিশালের বিপক্ষে কোনো ফিফটি ছাড়াই ২০২ রান করেছিল রংপুর রাইডার্স।
টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা তেমন ভালো ছিল না চট্টগ্রামের। পঞ্চম ওভারে দলীয় ৩৫ রানে ফেরেন মোহাম্মদ নাঈম শেখ (১৫ বলে ১৮)। এরপর তিন নম্বরে নেমে ঝড় তোলেন জয়। অ্যাডাম রসিংটনের সঙ্গে তার জুটিতে আসে ৩৮ বলে ৬০ রান।
ফিফটির আগেই অবশ্য ফিরে যান ৩ চারের সঙ্গে ৪টি ছক্কা মারা জয়। মাত্র ১ রানের জন্য টানা চতুর্থ ফিফটি করতে পারেননি রসিংটন। তার ব্যাট থেকে আসে ৬ চার ও ১ ছক্কায় ৩৮ বলে ৪৯ রান। পরে হাসান নাওয়াজ (২০ বলে ২৫) ও আসিফ আলি (৮ বলে ১৩) তেমন কিছু করতে পারেননি।
তবে ফিনিশিংটা দুর্দান্ত করেন মেহেদি। অবিচ্ছিন্ন ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে আমির জামালকে নিয়ে তিনি যোগ করেন ১৭ বলে ৩৯ রান। ৪ চারের সঙ্গে ১টি ছক্কায় নিজের ইনিংস সাজান চট্টগ্রাম অধিনায়ক।
পাকিস্তানে ফিরে যাওয়ায় সিলেট দলে নেই মোহাম্মদ আমির। তার জায়গায় খেলতে নেমে ৪১ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন বাঁহাতি পেসার রুয়েল মিয়া।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
চট্টগ্রাম রয়্যালস: ২০ ওভারে ১৯৮/৫ (নাঈম ১৮, রসিংটন ৪৯, জয় ৪৪, নাওয়াজ ২৫, আসিফ ১৩, মেহেদি ৩৩*, জামাল ৬*; রুয়েল ৪-০-৪১-১, খালেদ ৪-০-৫৫-০, মইন ৪-০-২৩-১, নাসুম ৪-০-২৪-০, ওমরজাই ৪-০-৪৭-১)

বিরাট কোহলির জনপ্রিয়তা কতটা ব্যাপক, তা নতুন করে আর বলার অপেক্ষা রাখে না। মাঠে–মাঠের বাইরে, যেখানে যান সেখানেই ভক্তদের উচ্ছ্বাসে ভেসে যান ভারতের সাবেক অধিনায়ক। নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ খেলতে ভাদোদরা পৌঁছানোর সময়ও ব্যতিক্রম হয়নি।
১১ জানুয়ারি শুরু হতে যাওয়া সিরিজকে সামনে রেখে ভাদোদরা বিমানবন্দরে নামার সঙ্গে সঙ্গেই ভক্তদের তীব্র ভিড়ে পড়ে যান কোহলি। সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম—সেখানে পরিস্থিতি হয়ে ওঠে ‘মবের’ মতো। নিরাপত্তাকর্মীরাও পরিস্থিতি সামলাতে হিমশিম খেয়েছেন। কোহলিকে নিরাপদেই বের করে এনেছেন তাঁরা।
লন্ডনে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করার পর ভারতে কোহলিকে খুব একটা দেখা যায় না। ফলে দেশে এলেই তাঁকে এক ঝলক দেখার জন্য ভক্তদের আগ্রহ থাকে তুঙ্গে। ভাদোদরায়ও ঠিক সেটাই দেখা গেছে। বিমানবন্দর থেকে বেরোনোর মুহূর্তে বিপুলসংখ্যক ভক্ত কোহলিকে ঘিরে ধরেন। চারদিক থেকে ভেসে আসে তার নামের ধ্বনি। মোবাইল ফোন উঁচিয়ে ছবি ও ভিডিও ধারণে ব্যস্ত হয়ে পড়েন অনেকে। পরিস্থিতি সামাল দিতে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়।
তীব্র ভিড়ের কারণে নিজের গাড়ি পর্যন্ত পৌঁছাতেই বেশ বেগ পেতে হয় কোহলিকে। কিছু সময়ের জন্য তাঁকে বিরক্ত ও মুখাবয়বে ছিল হতাশার প্রতিচ্ছবি। ভক্তদের চাপে কার্যত থমকে যায় তাঁর এগোনো, যা সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয় নিরাপত্তাকর্মীদের।
এটাই প্রথম নয়, এর আগেও একাধিকবার ভক্তদের ভিড়ে পড়েছেন কোহলি। কয়েক দিন আগেই বিজয় হাজারে ট্রফিতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর বেঙ্গালুরু বিমানবন্দরে পৌঁছালে একই রকম পরিস্থিতির মুখে পড়েন তিনি। কড়া নিরাপত্তা থাকা সত্ত্বেও সেবারও তাঁকে ঘিরে ধরেন অসংখ্য ভক্ত। তখন ভক্তরা তাঁর ফর্ম, সফরের পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন করেন, সেলফির আবদারও করেন। পরিস্থিতি শান্ত রাখার অনুরোধ জানিয়ে কোহলি সেলফিতেও রাজি হন এবং পুরো সময়টাতেই তাঁকে হাসিখুশি দেখা যায়।
নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের আগে দারুণ ছন্দেই আছেন কোহলি। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টানা দুই ম্যাচে শূন্য রানে আউট হওয়ার পর দ্রুতই নিজের চেনা রূপে ফেরেন তিনি। সিডনির ওয়ানডেতে করেন ফিফটি, তারপর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টানা দুটি সেঞ্চুরি। সিরিজের শেষ ম্যাচেও করেন ফিফটি। দুর্দান্ত এই পারফরম্যান্সে দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজে ‘প্লেয়ার অব দ্য সিরিজ’ নির্বাচিত হন তিনি।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে পুরো সিরিজে কোহলির ব্যাট থেকে আসে ৩০২ রান। টানা চার ওয়ানডেতে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের সুবাদে আত্মবিশ্বাসে ভরপুর কোহলি এবার নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে নতুন চ্যালেঞ্জে নামছেন। মাঠের পারফরম্যান্স যেমন আলোচনায়, তেমনি মাঠের বাইরে তার জনপ্রিয়তাও যে এখনও অটুট—ভাদোদরার বিমানবন্দর সেই ছবিই আবার স্পষ্ট করে দিল।