লম্বা বিরতির পর ঘরের মাটিতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজ দিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে ফিরছে বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষ অপেক্ষাকৃত কম শক্তির হলেও লাল বলের ক্রিকেটে টপ অর্ডারের ধারাবাহিক ব্যর্থতা চিন্তার কারণ হতে পারে দলের জন্য। আর সেখানে উল্লেখযোগ্য অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর ফর্মহীনতা। তবে বাঁহাতি এই ব্যাটার আশাবাদী, এই সিরিজ দিয়েই বড় রানে ফিরবেন তিনি।
বাংলাদেশের শেষ টেস্ট সিরিজ ছিল গত বছর, ক্যারিবিয়ানে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। সেখানে সিরিজ ১-১ ড্র করলেও টপ অর্ডারের ব্যাটারদের কেউই ছিলেন না ধারাবাহিক। ওই সিরিজ না খেলা শান্ত এর আগে ভারতের বিপক্ষে সিরিজে ছিলেন, তবে তিনিও পারেননি বড় স্কোর উপহার দিতে। ওপেনিং পজিশনে ক্রমাগত পরিবর্তনের সাথে অধিনায়কের রানে না থাকা জিম্বাবুয়ে সিরিজে সমস্যায় ফেলতেও পারে বাংলাদেশকে।
আরও পড়ুন
| মেজর লীগ ক্রিকেটে দল পেলেন ওয়ার্নার |
|
ম্যাচের আগের দিনের সংবাদ সম্মেলনে এসে শান্ত শোনালেন ফর্মে ফেরার জন্য তার একাগ্রতার কথা।
“গত বছর অনেক ইনিংসেই আমি সেট হয়ে যাওয়ার পর আউট হয়েছি, ৩০-৪০ রান করেছি। এই ফরম্যাটে এটা গ্রহণযোগ্য নয়। আমি এটা নিয়ে কাজ করেছি এবং আরও ভালো করার জন্য চেষ্টা করব। অবশ্যই টপ অর্ডার পারফর্ম করছে না, তবে তারা চেষ্টা করছে।”
তামিম ইকবালের অবসরের কারণে অনেকটা সময় ধরেই ওপেনার সংকটে আছে বাংলাদেশ দল, যা চলছে এখনও। ঘরোয়া ক্রিকেটে যথেষ্ট পরীক্ষিত হলেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পায়ের তলার মাটি শক্ত করতে পারেননি শাদমান ইসলাম ও জাকির হাসান। মূলত তিন নম্বর পজিশনের ব্যাটার মাহমুদুল হাসান জয় শুরুটা ভালো করলেও এরপর খেই হারিয়ে ফেলেছেন। অন্যান্য পজিশনেও নতুন যারা আসছেন, পারছেন না সেভাবে নিজেদের মেলে ধরতে।
আরও পড়ুন
| মাঝপথে আইপিএলে দল পেলেন ‘বেবি এবি’ ব্রেভিস |
|
তবে শান্ত মনে করেন, যত বেশি খেলবেন, ততোই ভালো করবেন নতুনরা।
“আমাদের তাদের প্রস্তুত হওয়ার জন্য যথেষ্ট সুযোগ দিতে হবে। ঘরোয়া ক্রিকেটে আমাদের কিন্তু সেই চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয় না। তাই আমরা যদি তাদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সুযোগ করে দেই, তাহলে তারা পারফর্ম করতে শুরু করবে।”
আগামী রবিবার সিলেটে শুরু হবে বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ের প্রথম টেস্ট।
No posts available.
৫ মার্চ ২০২৬, ১২:১৮ এম
৪ মার্চ ২০২৬, ১০:৩৬ পিএম

ম্যাচের ফল নিয়ে তখন আর কোনো সংশয় বাকি নেই। নিউ জিল্যান্ডের ৪৮ বলে প্রয়োজন মাত্র ২১ রান। উত্তেজনা যা একটু বাকি ছিল, ফিন অ্যালেনের ব্যাটিংয়ে। কারণ সেঞ্চুরি থেকে তখনও ২৪ রান দূরে দাঁড়িয়ে কিউই ওপেনার।
সেখান থেকে মার্কো ইয়ানসেনের পরপর পাঁচ বলে ৪, ৪, ৬, ৬ ও ৪ মেরে সেঞ্চুরিতে পৌঁছে গেলেন ২৬ বছর বয়সী ব্যাটার। একইসঙ্গে গড়লেন একাধিক বিশ্ব রেকর্ড। শুধু রেকর্ড গড়া নয়, রীতিমতো রেকর্ড বইয়ে ঝড়ই তুলেছেন অ্যালেন। তাই এটি তার কাছে জীবনের সেরা ইনিংসগুলোর একটি।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম সেমি-ফাইনালে অ্যালেনের তাণ্ডবের শিকার হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। তাদের ১৬৯ রানের পুঁজি কোনো পাত্তাই না দিয়ে মাত্র ৩৩ বলে সেঞ্চুরি করেছেন অ্যালেন। তার খুনে ব্যাটিংয়ের সৌজন্যে ১২.৫ ওভারে জিতে গেছে নিউ জিল্যান্ড।
প্রায় দুই দশকের বিশ্বকাপ ইতিহাসে এটিই দ্রুততম সেঞ্চুরি। এর আগে রেকর্ডটি ছিল ক্রিস গেইলের, ২০১৬ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৪৭ বলে। দ্য ইউনিভার্স বসের চেয়ে ১৪ বল কম খেলে এবার তিন অঙ্কের জাদুকরী স্পর্শ পেয়েছেন অ্যালেন।
সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতেই এর চেয়ে কম বলে সেঞ্চুরি আছে শুধু দুজন ব্যাটারের। তবে কোনো টেস্ট খেলুড়ে দেশের বিপক্ষে এটিই দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড। এছাড়া বিশ্বের প্রথম ব্যাটার হিসেবে বিশ্বকাপের নকআউটে সেঞ্চুরি করলেন অ্যালেন।
আর এই রেকর্ড গড়া ইনিংসের পথে ৮টি ছক্কা মেরে বিশ্বকাপের এক আসরে সর্বোচ্চ ছক্কার মালিকও হয়েছে অ্যালেন। এখন পর্যন্ত চলতি বিশ্বকাপে তার ছক্কা ২০টি। এবারের টুর্নামেন্টেই ১৯টি ছক্কা মেরে রেকর্ডটি ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের শিমরন হেটমায়ারের।
এমন এই ইনিংসের পর অনুমেয়ভাবেই ম্যাচ সেরার পুরস্কার জেতেন অ্যালেন। সেই স্বীকৃতি গ্রহণের পর তার কাছে জানতে চাওয়া হয়, এটিই জীবনের সেরা ইনিংস কিনা। সরাসরি 'হ্যাঁ' না বললেও, ইতিবাচক উত্তরই দেন কিউই ওপেনার।
“হ্যাঁ অবশ্যই! আমি বলব, এটি সেরা ইনিংসগুলোর মধ্যেই থাকবে। আমি শুধু ভালো অবস্থায় থেকে দলের জন্য ভালো একটা পারফরম্যান্স দিতে চাচ্ছিলাম।”
১৭০ রানের লক্ষ্যে কম যাননি অ্যালেনের উদ্বোধনী সঙ্গী টিম সেইফার্টও। ৭ চারের সঙ্গে ২ ছক্কায় ৩৩ বলে ৫৮ রানের ইনিংস খেলেন সেইফার্ট। উদ্বোধনী জুটিতে মাত্র ৫৫ বলে ১১৭ রান করে ফেলেন অ্যালেন ও সেইফার্ট।
এমন বিধ্বংসী শুরুর পেছনে ভাবনা ও পরিকল্পনা জানতে চাইলে ব্যাখ্যা করেন অ্যালেন।
“আমরা শুরু থেকেই এগিয়ে থাকতে চেয়েছি, তাদের পেছনে ঠেলে দিতে চেয়েছি। যখন টিম (সেইফার্ট) ওমন ব্যাটিং করে, আমার জন্য সহজ হয়ে যায়। তখন আমি শুধু তাকিয়ে দেখতে পারি। পরে যখন আমার আয়ত্বে বল আসে, তখন মেরে বাকি সময় ওকে স্ট্রাইক ছেড়ে দিলেও হয়”
“আমার মতে, এটিই আমাদেরকে উড়ন্ত সূচনা এনে দিয়েছে। আমরা শুরুতেই ভালো একটা অবস্থানে যেতে চেয়েছি।”

গ্রুপ পর্বে ৪ ম্যাচের পর সুপার এইটেও ৩ ম্যাচ- টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে টানা ৭ ম্যাচ জিতে রীতিমতো আকাশে উড়ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। সেমি-ফাইনালে তাদের এক ঝটকায় মাটিতে নামিয়ে এনেছে নিউ জিল্যান্ড। প্রোটিয়া অধিনায়ক এইডেন মার্করামের কাছে এটি মুখে চড় খাওয়ার মতো অনুভূতি।
কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে বুধবার সন্ধ্যার ম্যাচে নিউ জিল্যান্ডের সামনে পাত্তাই পায়নি দক্ষিণ আফ্রিকা। মার্কো ইয়ানসেনের ঝড়ো ফিফটিতে ১৬৯ রানের পুঁজি দাঁড় করালেও, ফিন অ্যালেনের তাণ্ডবে সেটিকে মামুলিই বানিয়ে দেয় কিউইরা। মাত্র ১২.৫ ওভারে জিতে ফাইনালে উঠে যায় নিউ জিল্যান্ড।
ম্যাচ শেষে তাই আক্ষেপ ও হতাশা একদমই লুকালেন না মার্করাম।
“হ্যাঁ অবশ্যই অনেক বেশি হতাশার, অনেক বড় (ধাক্কা)। এটি হয়তো মুখে চড় মারার মতো নয়, কিন্তু তেমনই অনুভূত হচ্ছে। তবে হ্যাঁ, এটির কারণেই দিন শেষে আমাদের আরও শক্তভাবে ঘুরে দাঁড়াতে হবে ও দল হিসেবে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।
প্রোটিয়া অধিনায়ক আগেই বুঝতে পেরেছিলেন ইডেন গার্ডেন্সের উইকেট ভালো থাকবে এবং প্রথাগত পদ্ধতিতে খেলতে পারলে ১৯০ রানের আশপাশে করা সম্ভব। কিন্তু ওপরের সারির ব্যাটারদের ব্যর্থতায় ১৬৯ রানের বেশি করতে পারেনি তারা।
পরে ফিন অ্যালেন ১০ চারের সঙ্গে ৮ ছক্কায় ৩৩ বলে ১০০ রানের ইনিংস খেলে গড়েন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড। এই উইকেটে যথেষ্ট রান করতে না পারার কারণেই পরাজয়ের কথা বললেন মার্করাম।
“দল হিসেবে এটি পর্যালোচনা করব। আমরা বুঝতে পারছিলাম উইকেট ভালো থাকবে। তাই দ্রুত মানিয়ে নিয়ে, প্রথাগতভাবে খেলে গেলেও হতো। কোনোভাবে ১৯০ রান করতে পারলেও হয়তো ম্যাচে থাকা যেত। এই ফলে হতাশ। তবে ছেলেদের নিয়ে আমি গর্বিত। তারা টুর্নামেন্টজুড়ে দারুণ খেলেছে।”

জয়ের জন্য বাকি ১ রান আর ফিন অ্যালেনের সেঞ্চুরি করতে প্রয়োজন ৪ রান। মার্কো ইয়ানসেনের বলে বাউন্ডারি মেরে দিলেন অ্যালেন। হয়ে গেল ইতিহাসগড়া সেঞ্চুরি আর ফাইনালের টিকেট পেয়ে গেল নিউ জিল্যান্ড।
কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে বুধবার সন্ধ্যায় প্রথম সেমি-ফাইনাল ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৯ উইকেটে জেতে নিউ জিল্যান্ড। আগে ব্যাট করে ৮ উইকেটে ১৬৯ রান করে দক্ষিণ আফ্রিকা। জবাবে ১২.৫ ওভারেই ম্যাচ জিতে নেয় কিউইরা।
নিউ জিল্যান্ডকে অনায়াস জয় এনে দেওয়ার নায়ক অ্যালেন। দক্ষিণ আফ্রিকার বোলারদের কচুকাটা করে ১০ চারের সঙ্গে ৮টি ছক্কা মেরে মাত্র ৩৩ বলে সেঞ্চুরি করে বিধ্বংসী কিউই ওপেনার।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড এটিই। আগের দ্রুততম সেঞ্চুরি ছিল দ্য ইউনিভার্স বস, ক্রিস গেইলের (৪৭ বলে)।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এ নিয়ে দ্বিতীয়বার ফাইনালে উঠল নিউ জিল্যান্ড। সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২০২১ সালের বিশ্বকাপেও শিরোপা নির্ধারণী মঞ্চে উঠেছিল তারা। তবে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্নপূরণ হয়নি তাদের।
অন্য দিকে গত আসরের ফাইনাল হেরে যাওয়ার পর চলতি বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব ও সুপার এইটে টানা সাত ম্যাচ জিতেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। কিন্তু সেমি-ফাইনালের বাধা পার করে আর ফাইনালে উঠতে পারল না এইডেন মার্করামের দল।
রান তাড়ায় পাওয়ার প্লেতে ম্যাচের ভাগ্য ঠিক করে ফেলেন নিউ জিল্যান্ডের দুই ওপেনার ফিন অ্যালেন ও টিম সেইফার্ট। ভাগ্যের ছোঁয়াও অবশ্য পান দুজন। প্রথম ওভারে মার্কো ইয়ানসেনের বলে অল্পের জন্য কট বিহাইন্ড হননি সেইফার্ট।
পরের ওভারে কাগিসো রাবাদার বলে আবার ক্যাচ দেন সেইফার্ট। সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগে ক্যাচটি নিতে পারেননি কুইন্টন ডি কক ও দেওয়াল্ড ব্রেভিস। জীবন পেয়ে বিধ্বংসী ব্যাটিং শুরু করেন সেইফার্ট। তৃতীয় ওভারে ইয়ানসেন ও পঞ্চম ওভারে রাবাদার বলে মারেন একটি করে চার-ছক্কা।
পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে টর্নেডো বইয়ে দেন আরেক ওপেনার অ্যালেন। করবিন বশের বলে ছক্কার পর টানা ৪টি চার মেরে নিয়ে নেন ২২ রান। প্রথম ৬ ওভারে ৮৪ রান করে ফেলে নিউ জিল্যান্ড।
পাল্লা দিয়ে রান তোলার মিশনে ২৮ বলে ফিফটি স্পর্শ করেন সেইফার্ট। আর তাকে ছাড়িয়ে যান অ্যালেন।
নবম ওভারে কেশব মহারাজের বলে ছক্কা-চার মেরে মাত্র ১৯ বলে পঞ্চাশ করেন সেইফার্ট। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিউ জিল্যান্ডের হয়ে এটিই দ্রুততম ফিফটি।
পরের ওভারে ভাঙে বিধ্বংসী উদ্বোধনী জুটি। রাবাদার দারুম ডেলিভারিতে বোল্ড আউট হয়ে ফেরেন ৭ চার ও ২ ছক্কায় ৩৩ বলে ৫৮ রান করা সেইফার্ট।
এরপর আর তেমন সময় নেননি অ্যালেন। রাচিন রবীন্দ্রর সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে মাত্র ২২ বলে ৫৬ রান যোগ করেন এই ওপেনার। যেখানে রবীন্দ্রর অবদান ১১ বলে ১৩ রান। বাকি রান একাই করে দলকে জেতান অ্যালেন।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা একদমই ভালো ছিল না দক্ষিণ আফ্রিকার। দ্বিতীয় ওভারে কোল ম্যাকঙ্কির পরপর দুই বলে ড্রেসিং রুমে ফিরে যান কুইন্টন ডি কক (৮ বলে ১০) ও রায়ান রিকেল্টন (১ বলে ০)।
শুরুর চাপ সামলে দলকে এগিয়ে নেন এইডেন মার্করাম ও দেওয়াল্ড ব্রেভিস। তবে রানের গতি বাড়াতে পারেননি দুজন। ৪৩ রানের জুটি গড়ে তারা খেলেন ৩৫ বল। রাচিন রবীন্দ্রর বলে ছক্কা মারতে গিয়ে লং অনে ড্যারেল মিচেলের দারুণ ক্যাচে আউট হন মার্করাম (২০ বলে ১৮)।
ডেভিড মিলার বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। মাত্র ৬ রান করে আউট হন তিনি। লম্বা সময় ক্রিজে থেকে ৩ চার ও ২ ছক্কায় ২৭ বলে ৩৪ রান করে আউট হন ব্রেভিস। মাত্র ৭৭ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে যায় কিউইরা।
সেখান থেকে দলকে উদ্ধার করেন মার্কো ইয়ানসেন ও ট্রিস্টান স্টাবস। পাল্টা আক্রমণে দুজন মিলে ৪৮ বলে গড়ে তোলেন ৭৩ রানের জুটি। যেখানে ইয়ানসেনই রাখেন বড় অবদান। আর স্টাবসের ব্যাট থেকে আসে ২ চার ও ১ ছক্কায় ২৪ বলে ২৯ রান।
শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে ২ চারের সঙ্গে ৫টি ছক্কা মেরে ২৯ বলে ৫৫ রান করেন ইয়ানসেন। তার ব্যাটেই লড়াইয়ের পুঁজি পায় প্রোটিয়ারা। যদিও শেষ পর্যন্ত জয়ের জন্য এটি শেষ পর্যন্ত জয়ের জন্য যথেষ্ট হয়নি।
নিউ জিল্যান্ডের হয়ে ২টি করে উইকেট নেন ম্যাট হেনরি, রবীন্দ্র ও ম্যাকঙ্কি।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ মনের মতো করে কাটিয়েছেন পাকিস্তানের ওপেনার সাহিবজাদা ফারহান। সাত ম্যাচে দুই সেঞ্চুরিতে তাঁর রান ৩৮৩। দ্বিতীয় স্থানে থাকা জিম্বাবুয়ের ব্রায়ান বেনেটের চেয়ে ৯১ রান বেশি করেছেন তিনি। কুড়ি কুড়ির বিশ্বকাপে দারুণ পারফরম্যান্সের ফল পেয়েছেন ফারহান।
বুধবার প্রকাশিত আইসিসির সাপ্তাহিক র্যাঙ্কিংয়ে বড় লাফ দিয়েছেন ফারহান। পাকিস্তানের ওপেনারের রেটিং পয়েন্ট তাঁর ক্যারিয়ারসেরা ৮৪৮। শীর্ষে থাকা অভিষেকের রেটিং পয়েন্ট ৮৭৪। অর্থাৎ অভিষেকের সঙ্গে ফারহানের পার্থক্য এখন ২৬ পয়েন্টের। দুইয়ে ওঠার পথে ফারহান পেছনে ফেলেন ইংল্যান্ডের ফিল সল্টকে। তিনে থাকা এই ইংলিশ ব্যাটসম্যানের রেটিং পয়েন্ট ৮০৩।
বিশ্বকাপের সুপার এইট পর্ব শেষ হওয়ার পর ব্যাটারদের র্যাঙ্কিংয়ে আরও পরিবর্তন এসেছে। ভারতের ইশান কিশান (চতুর্থ) ও তিলক বার্মা (ষষ্ঠ) দুজনই এক ধাপ করে এগিয়ে সেরা দশে জায়গা পোক্ত করেছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার ডেওয়াল্ড ব্রেভিসও এক ধাপ উঠে এখন অষ্টম।
জিম্বাবুয়ের বেনেট টুর্নামেন্টে ২৯২ রান করে ছয় ধাপ এগিয়ে ১১ নম্বরে উঠেছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার রায়ান রিকেল্টন ১৩তম ও এইডেন মার্করাম ১৬তম স্থানে উঠে এসেছেন।
বোলারদের তালিকায়ও একই চিত্র। ভারতের স্পিনার বরুণ চক্রবর্তী শীর্ষে থাকলেও রশিদ খানের সঙ্গে তাঁর মাত্র ১৮ রেটিং পয়েন্ট দূরত্ব। টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত ১২ উইকেট নেওয়া এই স্পিনারের পেছনে আছেন পাকিস্তানের আবরার আহমেদ। যিনি দুই ধাপ এগিয়ে তিন নম্বরে উঠে এসেছেন।
ভারতের জাসপ্রিত বুমরাহ (সপ্তম) ও আর্শদীপ সিং (১৩তম) দুজনই উন্নতি করেছেন। ইংল্যান্ডের লিয়াম ডসন ও দক্ষিণ আফ্রিকার লুঙ্গি এনগিদি র্যাঙ্কিংয়ে ওপরে উঠেছেন।
অলরাউন্ডারদের তালিকায় শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক সিকান্দার রাজা। হার্দিক পাণ্ডিয়া এক ধাপ এগিয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছেন। পেছনে ফেলেছেন পাকিস্তানের সায়েম আইয়ুবকে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার জেসন হোল্ডারও বড় লাফ দিয়েছেন। আট ধাপ এগিয়ে এখন ১১ নম্বরে।

টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে সুপার এইট পর্বেই বিদায়—পাকিস্তান ক্রিকেটে আবারও অস্থিরতার ঝড়। হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর অধিনায়কত্ব, কোচিং ও দল পরিচালনা, সবকিছু নিয়েই প্রশ্ন উঠছে। এর মধ্যেই সামনে এসেছে আরও বিস্ফোরক অভিযোগ।
জিও সুপারের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, টুর্নামেন্ট চলাকালেই পাকিস্তানের কয়েকজন ক্রিকেটার প্রধান কোচ মাইক হেসনের আচরণ নিয়ে সরাসরি অভিযোগ করেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) কর্মকর্তাদের কাছে।
ড্রেসিংরুমে অস্বস্তি?
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোচের কঠোর ও একক সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতা ড্রেসিংরুমের পরিবেশ অস্বস্তিকর করে তোলে। অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অধিনায়কের সঙ্গে আলোচনা না করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দল পরিচালনার প্রায় সব ক্ষেত্রে হেসনের সরাসরি হস্তক্ষেপে ক্রিকেটারদের একাংশ অসন্তুষ্ট ছিলেন।
বিশ্বকাপে সালমান আলী আগার নেতৃত্বাধীন দলটি চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত জাতীয় ক্রিকেট দল ও ইংল্যান্ড জাতীয় ক্রিকেট দলর কাছে বড় ব্যবধানে হারে। ব্যাটিং–বোলিং দুই বিভাগেই ছিল অসংগতি। মাঠের পারফরম্যান্সের সঙ্গে ড্রেসিংরুমের অস্থিরতার যোগ আছে কি না, সেটিও এখন আলোচনায়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, নির্বাচক প্যানেল ও অধিনায়ক—কেউই নাকি হেসনের কর্তৃত্ব চ্যালেঞ্জ করতে পারেননি। টিম ম্যানেজমেন্টে তাঁর ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ ছিল বলেও দাবি সূত্রগুলোর।
বোর্ডের পর্যালোচনা, তবে…
পিসিবির শীর্ষ কর্মকর্তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন বলে জানা গেছে। টুর্নামেন্ট–সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর কোচের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হবে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার সম্ভাবনা কম।
কারণ, হেসনের সঙ্গে দুই বছরের চুক্তি করেছে বোর্ড। প্রধান কোচের পদে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার নীতিতে আপাতত অনড় পিসিবি। ফলে সমালোচনা ও অভিযোগের মধ্যেও দায়িত্বে টিকে যেতে পারেন এই নিউ জিল্যান্ডের কোচ।
বিশ্বকাপ–ব্যর্থতার পর জরিমানা, নেতৃত্ব পরিবর্তন কিংবা কোচিং স্টাফে রদবদল—সবই এখন আলোচনার টেবিলে। পাকিস্তান ক্রিকেট কোন পথে হাঁটবে, সেটাই দেখার।
২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ভরাডুবির পর সাবেক কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহের বিরুদ্ধে এমন সব অভিযোগ উঠেছিল। কঠোর আচরণ, এক হাতে দলের নিয়ন্ত্রণ, বিশ্বকাপের আগে অধিনায়ক তামিম ইকবালের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি, টিম ম্যানেজমেন্টও জানিয়েছিল অস্বস্তির কথা।