২ অক্টোবর ২০২৪, ১২:৫৬ পিএম

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর থেকে জোর দাবি ছিল পাকিস্তানের সাদা বলের অধিনায়ক হিসেবে বাবর আজমকে সরিয়ে দেওয়ার। তবে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) সেটা আর করেনি। তবে নিজে থেকেই দায়িত্ব ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন এই তারকা ব্যাটার। কারণ হিসেবে তিনি তুলে ধরেছেন খেলোয়াড় হিসেবে আরও বেশি অবদান রাকার প্রয়াস।
২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপের পর পাকিস্তানের তিন ফরম্যাটের অধিনায়কত্ব ছেড়ে দেন বাবর। সাদা বলের অধিনায়ক হন পেসার শাহিন শাহ আফ্রিদি। তবে গত এপ্রিলে আচমকাই তাকে সরিয়ে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টির নেতৃত্ব তুলে দেওয়া হয় বাবরের হাতে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের ভরাডুবির পর থেকেই চাপে ছিলেন অভিজ্ঞ এই ক্রিকেটার। এবার ছেড়েই দিলেন দায়িত্ব।
আরও পড়ুন
| নিজেদের ব্যাটিংয়ে সন্তুষ্ট অধিনায়ক শান্ত |
|
‘এক্স’ প্ল্যাটফর্মে দেওয়া এক পোস্টে বিষয়টি জানিয়ে বাবর তুলে ধরেন তার ভবিষ্যৎ লক্ষ্য। “এই দলকে নেতৃত্ব দেওয়া সম্মানের বিষয়, কিন্তু এখন আমার পদত্যাগ করার এবং নিজের ভূমিকায় ফোকাস করার সময় এসেছে। অধিনায়কত্ব আমার জন্য একটা ফলপ্রসূ অভিজ্ঞতা হয়েছে। কিন্তু এটি আমার ওপর একটি উল্লেখযোগ্য কাজের চাপও যোগ করেছে। আমি আমার পারফরম্যান্সকে অগ্রাধিকার দিতে চাই, আমার ব্যাটিং উপভোগ করতে চাই এবং আমার পরিবারের সাথে যথেষ্ট সময় কাটাতে চাই, যা আমাকে আনন্দ দেয়।”
এই দফায় অধিনায়ক হওয়ার পর উল্লেখযোগ্য সাফল্য ছিল না বাবরের। মূলত পাকিস্তান খেলেছে টি-টোয়েন্টি। আর সেখানে মূল চ্যালেঞ্জ ছিল বিশ্বকাপে। তবে সেখানে গ্রুপ পর্বে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হেরে আসর শুরু করা পাকিস্তান আর নিজেদের খুঁজে পায়নি।
বাবরের সরে দাঁড়ানোর অর্থ হল, আসছে সাদা বলের দ্বিপাক্ষিক সিরিজ ও আগামী বছরের চ্যাম্পিয়নস ট্রফিকে সামনে রেখে নিয়োগ দিতে হবে একজন বা দুজন ভিন্ন ভিন্ন অধিনায়ক।
No posts available.
২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:৩৭ পিএম
২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০৬ পিএম
২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৩৬ পিএম
২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:২৮ পিএম
২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৯:৪৬ পিএম

চলতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনাল ঘিরে সূচিতে এসেছে পরিবর্তন, দেওয়া হয়েছে নতুন ব্যাখ্যা। সহ-স্বাগতিল দেশ শ্রীলঙ্কা সেমি-ফাইনালে উঠলে নিজেদের মাঠেই খেলতে পারবে, তবে সেটি নির্ভর করছে প্রতিপক্ষ এবং পাকিস্তানের ফলাফলের ওপর।
সুপার এইটের লাইনআপ চূড়ান্ত হওয়ার পর অংশীজনদের কাছে পাঠানো এক বার্তায় সেমি-ফাইনালের ভেন্যু সম্পর্কিত তথ্য স্পষ্ট করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, প্রথম সেমি-ফাইনাল থাকবে ‘ফ্লোটিং’ অবস্থায় অর্থাৎ ম্যাচটি হবে হয় কলম্বোতে, নয়তো কলকাতায়।
ওই বার্তায় আরও জানানো হয়, পাকিস্তান সেমিফাইনালে উঠলে তারা ৪ মার্চ কলম্বোতে সেমিফাইনাল–১ খেলবে। পাকিস্তান যদি শেষ চারে না ওঠে, কিন্তু শ্রীলঙ্কা ওঠে এবং তাদের প্রতিপক্ষ ভারত না হয়, তাহলে সেই ম্যাচও হবে কলম্বোতেই।
আরও পড়ুন
| ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের বলি ইংল্যান্ড–দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজ |
|
আইসিসি আরও নিশ্চিত করেছে, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা- দুই দলই যদি সেমিফাইনালে না ওঠে, তাহলে সেমিফাইনাল-১ কলকাতায় আর সেমিফাইনাল-২ হবে মুম্বাইয়ে।
ভারত সেমিফাইনালে উঠলে তারা মুম্বাইয়েই খেলবে- প্রতিপক্ষ (পাকিস্তান বাদে) যে দলই হোক। তবে ভারত-পাকিস্তান সেমিফাইনাল হলে ম্যাচটি হবে কলম্বোতে।
আর যদি ভারত-পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কা; তিন দলই সেমিফাইনালে না ওঠে, তাহলে সুপার এইটের গ্রুপ-১ চ্যাম্পিয়ন খেলবে গ্রুপ-২ রানার্স-আপের বিপক্ষে কলকাতায়। অন্য সেমিফাইনালে গ্রুপ-২ চ্যাম্পিয়ন মুখোমুখি হবে গ্রুপ-১ রানার্স-আপের, মুম্বাইয়ে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তান- দুই দলই সুপার এইটের গ্রুপ-২তে রয়েছে। ফলে তাদের মধ্যে সেমিফাইনাল হওয়ার সুযোগ নেই।
নভেম্বরে ঘোষিত সূচিতে পাকিস্তান সেমিফাইনাল ও ফাইনালে উঠলে কলম্বোকে ভেন্যু হিসেবে রাখা হয়েছিল, কিন্তু শ্রীলঙ্কা নকআউটে উঠলে কী হবে- তা স্পষ্ট করা হয়নি। নতুন এই ব্যাখ্যায় সেই ধোঁয়াশা কেটেছে।
সব মিলিয়ে শ্রীলঙ্কার জন্য সমীকরণটা পরিষ্কার- শেষ চারে উঠতে পারলে এবং প্রতিপক্ষ ভারত না হলে, নিজেদের মাঠেই সেমিফাইনাল খেলার সম্ভাবনা জোরাল। তবে চূড়ান্ত হিসাব নির্ভর করছে সুপার এইটের ফলাফলের ওপরই।

ক্যারিবিয়দের দানবীয় রূপ দেখার দুর্ভাগ্যই হলো জিম্বাবুয়ের। ওয়েস্ট ইন্ডিজের সামনে খড়-কুটোর মতোই উড়ে গেল গ্রুপপর্বে অপরাজিত থাকা দলটি। রেকর্ড বইয়ে পাতা ওলট-পালট করে রান বন্যা বইয়ে দেওয়ার পর সুপার এইটের প্রথম ম্যাচে ক্যারিবিয়রা পেল বড় জয়।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আজ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১০৭ রানের জয় পেয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ওয়াংখেড়েতে চার-ছক্কার বৃষ্টি নামিয়ে ৬ উইকেটে ২৫৪ রান করে তারা। এরপর রান পাহাড়ে চাপা পড়া সিকান্দার রাজার দল ১৭.৪ ওভারে অলআউট হয় ১৪৭ রানে। ম্যাচসেরা হয়েছেন জীবন পেয়ে জিম্বাবুয়ের বোলারদের তুলোধুনো করা শিমরন হেটমায়ার। তিনে নেমে বাঁহাতি ব্যাটার করেছেন ৩৪ বলে ৮৫।
টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নামা ওয়েস্ট ইন্ডিজের একগাদা রেকর্ড দেখে নেওয়া যাক আগে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানের পুঁজি এখন ক্যারিবিয়ানদের, আর নিজেদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। ২০০৭ সালে উদ্বোধনী আসরে জোহানেসবার্গে কেনিয়ার বিপক্ষে ২৬০ রান করে চূড়ায় আছে শ্রীলঙ্কা। বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের আগের সর্বোচ্চ স্কোর ছিল ২১৮, ঘরের মাঠে ২০২৪ আসরে আফগানিস্তানের বিপক্ষে।
টি-টোয়েন্টিতে এ নিয়ে চতুর্থবার দুইশোর বেশি সংগ্রহ রান করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সর্বোচ্চ দক্ষিণ আফ্রিকার, ছয় বারের মতো দুশো উর্ধ্ব রান তুলেছে প্রোটিয়ারা। এতদিন ইংল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কার সঙ্গে যৌথভাবে ছিল ক্যারিবিয়ানদের।
ক্যারিবিয়ান ব্যাটররা এ দিন ছক্কা মেরেছেন মোট ১৯টি, বিশ্বকাপে এক ইনিংসে যা যৌথভাবে সর্বোচ্চ। ২০১৪ আসরে সিলেটে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ১৯ ছক্কা মেরেছিল নেদারল্যান্ডসের ব্যাটসম্যানরা।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের ১৯ ছক্কার সাতটি মারেন শিমরন হেটমায়ার। চারও মারেন তিনি সাতটি। ৯ রানে জীবন পেয়ে ৩৪ বলে ৮৫ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন বাঁহাতি এই ব্যাটার। বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের রেকর্ড ১৯ বলে ফিফটি করেন তিনি।
আসরে হেটমায়ারের মোট ছক্কা হলো ১৭টি, বিশ্বকাপের এক আসরে যা কোনো ব্যাটারদের যৌথভাবে সর্বোচ্চ। গত আসরে ১৭ ছক্কা মেরেছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজেরই নিকোলাস পুরান। তাকে ছাড়িয়ে যাওয়া হেটমায়ারের জন্য কেবল সময়ের ব্যাপার।
মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়েতে আজ টসে জিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান সিকান্দার রাজা। লাল মাটির বাউন্সি উইকেটে জিম্বাবুয়ে অধিনায়কের সিদ্ধান্ত বড় ভুল ছিল তা প্রমাণে বেশি সময় নেননি হেটমায়ার। ১৭ ও ৫৪ রানে ব্রেন্ডন কিং ও শাই হোপ ফিরলেও ক্যারিবিয়ানদের আশাহত হতে দেননি হেটমায়ার ও পাওয়েল।
স্পিনারদের বিপক্ষে ঝড় তুলেছেন হেটমায়ার। ইনিংসের সপ্তম ওভারে ক্রেমারের বলে দুই ছক্কা মারার পর অষ্টম ওভারে রাজার ওভারে তিন ছক্কা মেরেছেন তিনি। তাঁর করা ১৯ বলে ফিফটি টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দ্রুততম। এর আগের রেকর্ডটিও তাঁরই ছিল। এবারের বিশ্বকাপেই স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ২২ বলে ফিফটি করে রেকর্ড গড়েছিলেন হেটমায়ার।
এদিন হেটমায়ার ফিরেছেন ব্যাক্তিগত ৮৫ রানে। সাতটি করে চার-ছক্কায় ৩৪ বলে এই স্কোর করেন তিনি। পাঁচ ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ব্যাটারের রান ২১৯। স্ট্রাইক রান রেট ১৮৬। দুটি অর্ধশতক রয়েছে হেটমায়ারের। ওয়েস্ট ইন্ডিজের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্কোর পাওয়েলের। ৩৫ বলে ৫৯ রান করেন তিনি।
জিম্বাবুয়ের হয়ে দুটি করে উইকেন নেন রিচার্ড এনগারাভা ও ব্লেসিং মুজরাবানি। একটি করে উইকেট নেন ইভান্স ও গ্রাহেম ক্রেমার।
প্রায় অসম্ভব রান তাড়া করে জিততে হলে ইতিহাসও গড়তে হতো জিম্বাবুয়ের। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ২৩০ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড ইংল্যান্ডের। বিশ্বকাপের ২০২৬ সংস্করণে এই মুম্বাাইতেই দক্ষিণ আফ্রিকার দেওয়া লক্ষ্য পেরোয় ইংলিশরা। সেই রান থেকেও ২৫ রান বেশি লাগতো জিম্বাবুয়ের।
তবে ইতিহাস গড়া তো দূরে থাক ২.৪ বলে দলীয় ২০ রানেই তিন উইকেট খুঁইয়ে বসে জিম্বাবুয়ে। রানের চাপে পিষ্ট হয়ে বাকিরাও ছিলেন আসা যাওয়ার মধ্যেই। সর্বোচ্চ ১৫ বলে ২৮ করেন দিয়ন মার্য়াস। ২০ বলে ২৭ করেন অধিনায়ক সিকান্দার।
বল হাতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে সবচেয়ে সফল গুদাকেশ মতি। বাঁহাতি স্পিনার ৪ ওভারে ২৮ রান দিয়ে চার উইকেট নিয়েছেন। ২৮ রান দিয়ে তিনটি শিকার আকিল হোসেনের।
বিশাল এই জয়ে পয়েন্ট টেবিলে শীর্ষে উঠে এলো ওয়েস্ট ইন্ডিজ। গ্রুপ ‘ওয়ান’ এ বড় জয়ে নেট রান রেটে ফুলে ফেঁপে উঠল তাদের। এই গ্রুপের আগের ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে জয় পাওয়া দক্ষিণ আফ্রিকার নেট রান রেট ৩.৮। আর জিম্বাবুয়েকে বিধ্বস্ত করা ক্যারিয়দের রান রেট এখন ৫.৩৫০ ।
বৃহস্পতিবার সুপার এইটের নিজেদের পরের ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আর একই দিন জিম্বাবুয়ে মাঠে নামবে স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে।

বছরের শেষদিকে দ্বিপাক্ষিক সিরিজে তিনটি করে টেস্ট ও ওয়ানডে খেলবে ইংল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) ভবিষ্যৎ সফর সূচি (ফিউচার ট্যুরস প্রোগ্রাম) অনুযায়ী, এই সফরে তিনটি টি–টোয়েন্টিও থাকার কথা ছিল। তবে সূচি জটিলতায় কুড়ি কুড়ির সিরিজ স্থগিত করা হয়েছে।
২০২৭ সালের ৯ জানুয়ারি থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে এসএ টোয়েন্টি। ইংল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার অধিকাংশ ক্রিকেটার এই টুর্নামেন্টে বিভিন্ন দলের হয়ে খেলে থাকেন। এ কারণে ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) ও ক্রিকেট সাউথ আফ্রিকা যৌথভাবে টি–টোয়েন্টি সিরিজটি সূচি থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ইসিবির বিবৃতিতে বলা হয়েছে,
“সূচি জটিলতার কারণে পূর্বনির্ধারিত টি–টোয়েন্টি সিরিজটি বাদ দেওয়া হয়েছে। উভয় পক্ষ ভবিষ্যতে সুবিধাজনক সময়ে সিরিজটি আয়োজনের সুযোগ খুঁজছে।”
সফরের সূচি (অপরিবর্তিত)
১৭–২১ ডিসেম্বর: প্রথম টেস্ট, জোহানেসবার্গ
২৬–৩০ ডিসেম্বর: দ্বিতীয় টেস্ট, সেঞ্চুরিয়ন
৩–৭ জানুয়ারি: তৃতীয় টেস্ট, কেপটাউন
১০ জানুয়ারি: প্রথম ওয়ানডে, পার্ল
১৩ জানুয়ারি: দ্বিতীয় ওয়ানডে, ব্লুমফন্টেইন
১৫ জানুয়ারি: তৃতীয় ওয়ানডে, ব্লুমফন্টেইন

গত ১৬ ফেব্রুয়ারি পেয়েছেন সাফ জয়ী অধিনায়ক আমিনুল হক যুবও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব। খেলার মানুষ ক্রীড়াঙ্গনের অভিভাবক হয়েই দেশের প্রতিটি খেলায় পেশাদারিত্ব প্রবর্তনের চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন। 'ক্রীড়া হবে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা' -এই শ্লোগানে একদিন আগে ক্রীড়া সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন, নিয়েছেন পরামর্শ। সোমবার দেশের ৫২টি ক্রীড়া ফেডারেশনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার টেবিলে বসে ভবিষ্যত কর্মপন্থা নির্ধারণে করনীয় উপায় জানতে চেয়েছেন। বিসিবির পক্ষ থেকে সহ-সভাপতি ফারুক আহমেদের হাত থেকে ফুলেল অভিনন্দন পেয়ে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) সভাকক্ষে দেশের সকল ক্রীড়া ফেডারেশনসমূহকে জড়ো করে মনযোগ দিয়ে শুনেছেন তাদের সম্ভাবনা এবং সমস্যার কথা।
ফেডারেশনসমূহের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে যুবও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আলোচনার সারমর্ম জানিয়েছেন-
'আগামীর বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনকে কীভাবে ক্রীড়া বান্ধব পরিবেশ তৈরি এবং সাবলম্বী করতে পারি, তা নিয়ে আলাপ হয়েছে।'
অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ক্রীড়া ফেডারেশন নির্ধারণে আন্তর্জাতিক ক্রীড়ায় সাফল্যকে মানদন্ড হিসেবে নির্ধারণ করতে চান যুবও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। সে কারণেই প্রতিটি ফেডারেশনের কাছে গত এক বছরের মূল্যায়ন রিপোর্ট চেয়েছেন তিনি-
'৫১টি ফেডারেশনের মধ্যে কারা কিভাবে পরিচালনা করছে, কারা পারছে না, তা জানা দরকার। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কোন খেলা কোন পর্যায়ে আছে, তার উপর অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ফেডারেশন নির্ধারণ করতে চাই। গত ১ বছরে বাংলাদেশের সবগুলো খেলার মূল্যায়ন রিপোর্ট চেয়েছি। ৭দিনের মধ্যে মূল্যায়ন রিপোর্ট জমা দিতে বলেছি।'
জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক ক্রীড়ায় পারফরমেন্সের ভিত্তিতে প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদদের বেতনের আওতায় আনতে সেরা ক্রীড়াবিদদের পারফরমেন্স শিটও এক সপ্তাহের মধ্যে জমা দিতে বলেছেন। বার্ষিক ক্রীড়া ক্যালেন্ডারও স্ব স্ব ফেডারেশনের কাছে চেয়েছেন তিনি।
খেলাধুলার সরঞ্জামের উপর আরোপিত ট্যাক্স মওকুফের বিষয়টিকেও দিয়েছেন তিনি গুরুত্ব-
'স্পোর্টস গুডস ট্যাক্স ফ্রি কীভাবে করা যায়, তা নিয়ে ভাবছি। প্রয়োজনে যেসব প্রতিষ্ঠানে সিএসআর আছে, এই যেমন অর্থ মন্ত্রানালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, এনবিআর-এর সাথে কথা বলে ক্রীড়াঙ্গনের জন্য বিশেষ অনুদান, এর বাইরে মোবাইল ব্যাংকিং করছে যেসব প্রতিষ্ঠান তাদের সঙ্গেও আলাপ করতে পারি।'
ভবিষ্যতের গায়ক-গায়িকা, অভিনেতা-অভিনেত্রীর সন্ধানে ৮০ দশকে বিটিভিতে নুতন কুঁড়ি প্রবর্তন করেছিলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। তার সুফল পেয়েছে দেশ। নুতন কুড়ির সেরারা পরবর্তীতে দশকের পর দশক ধরে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে করেছেন সমৃদ্ধ। বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনকে বদলে দিতে, ভবিষ্যতের সেরা ক্রীড়াবিদ খুঁজে বের করতে ঈদ উল ফিতরের পর অনূর্ধ্ব-১২ থেকে ১৪ বিভাগে নুতন কুঁড়ি স্পোর্টস প্রবর্তনের ঘোষণা দিয়েছেন যুবও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
অন্তবর্তীকালীন সরকারের আমলে সার্চ কমিটির সুপারিশে ক্রীড়া ফেডারেশনসমূহে এডহক কমিটি করা হয়েছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার গঠিত হওয়ায় অনির্বাচিত ফেডারেশসমূহে নির্বাচন আয়োজনের দাবি উঠেছে। তবে ক্রীড়া ফেডারেশনসমূহের নির্বাচনের আগে উপজেলা, জেলা এবং বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থাসমূহের নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরিকল্পনার কথা শুনিয়েছেন নব নিযুক্ত যুবও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক-
'সুন্দর এবং স্বচ্ছভাবে উপজেলা পর্যায় থেকে জেলা, বিভাগে নির্বাচন সম্পন্ন করে ক্রীড়া ফেডারেশনসমূহের নির্বাচন শেষ করতে চাই।'
সার্চ কমিটির সুপারিশে গঠিত বিভিন্ন জেলা-বিভাগ এবং ক্রীড়া ফেডারেশনসমূহের এডহক কমিটিতে পরিবর্তনের আভাস তীব্র। অন্তবর্তীকালীন সরকারের আমলে গঠিত সার্চ কমিটির আহ্বায়ক জোবায়দুর রহমান রানা সেই আমলে বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের (বিওএ) নির্বাচিত মহাসচিব হয়েছেন। বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা এবং ফেডারেশনসমূহের এডহক কমিটির সদস্যদের ভোটে গঠিত বিওএর কার্যনির্বাহী কমিটিতে যারা আছেন, এসব সংস্থায় নির্বাচন হলে তাদের অধিকাংশকে যাবে না ক্রীড়াঙ্গনে দেখা। ফেডারেশনসমূহের নেতৃত্বে যারা আসবেন, তাঁরা কী তখন বিওএ-কে সহযোগিতা করবে? এটাই প্রশ্ন। তবে জোবায়েদুর রহমান রানা এ নিয়ে সমস্যার কিছুই দেখছেন না বলে গণমাধ্যমকে সোমবার বলেছেন।
দায়িত্ব গ্রহনের পর কিছুদিন হানিমুন মুডে থাকার কথা, কিন্তু বসে নেই যুবও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন পূরণে নিয়েছেন চ্যালেঞ্জ। প্রতিদিনই কাটছে তার ব্যস্ত সময়।

গ্রুপ স্টেপ বীরদর্পে পেরুনো জিম্বাবুয়ে সুপার এইটে বড় মসিবতে। শিমরন হেটমায়ার ও রভম্যান পাওয়েলরা রীতিমতো তাণ্ডব লীলা চালিয়েছে সিকান্দার রাজা ও গ্রাহেম ক্রেমারদের ওপর। দ্রুততম ফিফটি ও চার-ছক্কার পসরা সাজানো ম্যাচে আসরের সর্বোচ্চ এবং টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানের পুঁজি এখন ক্যারিবিয়ানদের। পাহাড়সম ২৫৪ রান টপকে জিততে হবে রাজাদের।
টি-টিয়োন্টি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ সংগ্রহ শ্রীলঙ্কার। ২০০৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে কেনিয়ার বিপক্ষে ৬ উইকেটে ২৬০ রান করেছিল লঙ্কানরা। পরেরটি ছিল আয়ারল্যান্ডের। যা চলতি বিশ্বকাপে আয়ারল্যান্ডের দখলে ছিল। গ্রুপ পর্বের ম্যাচে ৫ উইকেটে ২৩৫ রান করেছিল আইরিশরা। জবাবে ১৩৯ রানে গুটিয়ে যায় প্রতিপক্ষ ওমান। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান ছিল শ্রীলঙ্কার। ওমানের বিপক্ষে ২২৫ রান করেছিল তারা।
কুড়ি কুড়ির সংস্করণে এ নিয়ে চতুর্থবার ২০০ উর্ধ্ব সংগ্রহ তুলেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সর্বোচ্চ দক্ষিণ আফ্রিকার। ছয় বারের মতো দুশো উর্ধ্ব রান তুলেছে প্রোটিয়ারা। এতকাল ইংল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কার সঙ্গে যৌথভাবে ছিল ক্যারিবিয়ানদের। এবার তারা ভারতের কাতারে এলো।
মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়েতে আজ টসে জিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান সিকান্দার রাজা। লাল মাটির বাউন্সি উইকেটে জিম্বাবুয়ে অধিনায়কের সিদ্ধান্ত বড় ভুল ছিল তা প্রমাণে বেশি সময় নেননি হেটমায়ার। ১৭ ও ৫৪ রানে ব্রেন্ডন কিং ও শাই হোপ ফিরলেও ক্যারিবিয়ানদের আশাহত হতে দেননি হেটমায়ার ও পাওয়েল।
স্পিনারদের বিপক্ষে ঝড় তুলেছেন হেটমায়ার। ইনিংসের সপ্তম ওভারে ক্রেমারের বলে দুই ছক্কা মারার পর অষ্টম ওভারে রাজার ওভারে তিন ছক্কা মেরেছেন তিনি। তাঁর করা ১৯ বলে ফিফটি টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দ্রুততম। এর আগের রেকর্ডটিও তাঁরই ছিল। এবারের বিশ্বকাপেই স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ২২ বলে ফিফটি করে রেকর্ড গড়েছিলেন হেটমায়ার।
এদিন হেটমায়ার ফিরেছেন ব্যক্তিগত ৮৫ রানে। সাতটি করে চার-ছক্কায় ৩৪ বলে এই স্কোর করেন তিনি। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এক আসরে সর্বোচ্চ (যৌথভাবে) ছক্কার (১৭টি) মালিক এখন হেটমায়ার। যা তাকে আসরে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারির কাতারে দাঁড় করিয়েছে। পাঁচ ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ব্যাটারের রান ২১৯। স্ট্রাইক রান রেট ১৮৬। দুটি অর্ধশতক রয়েছে হেটমায়ারের। ওয়েস্ট ইন্ডিজের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্কোর পাওয়েলের। ৩৫ বলে ৫৯ রান করেন তিনি।
জিম্বাবুয়ের হয়ে দুটি করে উইকেন নেন রিচার্ড এনগারাভা ও ব্লেসিং মুজরাবানি। একটি করে উইকেট নেন ইভান্স ও গ্রাহেম ক্রেমার।