
সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচের আগে বড় ধাক্কা খাওয়া বাংলাদেশকে মাঠে নামতে হচ্ছে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তকে। দারুণ ফর্মে থাকা এই বাঁহাতি ব্যাটার কুঁচকির চোটে ছিটকে গেছেন এই ম্যাচ থেকে। তার জায়গায় নিজের শততম ওয়ানডে ম্যাচে অধিনায়কত্ব করবেন মেহেদি হাসান মিরাজ।
দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ৭৭ রান করা শান্তরা জায়গায় দলে এসেছে টপ অর্ডার ব্যাটার জাকির হাসান। একাদশে পরিবর্তন এসেছে আরেকটি। পেসার তাসকিন আহমেদের জায়গায় এই ম্যাচ খেলবেন নাহিদ রানা। আগেই টেস্ট অভিষেক হয়ে যাওয়া এই তরুণ পেসারের এবার হচ্ছে সাদা বলের অভিষেক।
আরও পড়ুন
| ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ থেকেও ছিটকে গেলেন শান্ত |
|
তিন ম্যাচের সিরিজে সমতা ১-১। তৃতীয় ম্যাচটি সরাসরি দেখতে চোখ রাখুন টি-স্পোর্টস নেটওয়ার্কে।
বাংলাদেশ একাদশ :
মেহেদি হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), তানজিদ হাসান তামিম, সৌম্য সরকার, জাকির হাসান, তাওহীদ হৃদয়, মাহমুদউল্লাহ, জাকের আলি অনিক,, নাসুম আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান, শরিফুল ইসলাম, নাহিদ রানা।
No posts available.
১৬ মে ২০২৬, ১০:৫০ পিএম

প্রথম দিনের খেলা শেষে লিটন কুমার দাস বলেছিলেন, ২৭৮ রানের পুঁজিতে লিড নেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন তারা। সেই লক্ষ্যে নতুন দিনের প্রথম সেশনে দলকে অনেকটাই এগিয়ে দিয়েছেন তাসকিন আহমেদ ও মেহেদী হাসান মিরাজ।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রোববার দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশন শেষে পাকিস্তানের সংগ্রহ ৩০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ৯৬ রান। বাংলাদেশের চেয়ে এখনও ১৮২ রানে পিছিয়ে সফরকারীরা।
৬ ওভারে বিনা উইকেটে ২১ রানে দিনের খেলা শুরু করেছিল পাকিস্তান। প্রথম সেশনের ২৪ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ৭৫ রানের বেশি করতে পারেনি শান মাসুদের দল।
দিনের দ্বিতীয় ওভারে চমৎকার ডেলিভারিতে আবদুল্লাহ ফজলকে (৯) কট বিহাইন্ড করেন তাসকিন। নিজের পরের ওভারে আরেক ওপেনার আজান আওয়াইসকেও (১৩) ফেরান অভিজ্ঞ পেসার। বল তার ব্যাটে লেগে প্যাড ছুঁয়ে চলে যায় শর্ট স্কয়ার লেগে থাকা মুমিনুল হকের হাতে।
১০ ওভারে ২৩ রানের মধ্যে দুই ওপেনারকে হারানোর পর পাল্টা আক্রমণের চেষ্টা করেন বাবর আজম ও শান মাসুদ। ইতিবাচক ব্যাটিংয়ে দুজন মিলে তৃতীয় উইকেটে গড়েন তোলেন ৩৮ বলে ৩৮ রানের জুটি।
তবে এই জুটিকে বেশি বড় হতে দেননি মিরাজ। এতে অবশ্য মাসুদের দায়ই বেশি। অফ স্টাম্পের বাইরে নিরীহ এক ডেলিভারিতে কাভারে ক্যাচ দিয়ে বসেন ২৬ বলে ২১ রান করা পাকিস্তান অধিনায়ক।
মাসুদের আগে ফিরতে পারতেন বাবরও। শরিফুল ইসলামের চমৎকার ডেলিভারি তার ব্যাটের কানা ছুঁয়ে অল্পের জন্য লিটনের হাতের ওপর দিয়ে চলে যায়। এছাড়া বেশ কয়েকবার ব্যাটের কানায় লাগলেও বল ফিল্ডারের হাতে যায়নি।
অন্য প্রান্তে ভাগ্য এত সুপ্রসন্ন হয়নি সৌদ শাকিলের। মিরাজের বলে সুইপ করতে গিয়ে ব্যাটের ওপরের দিকে লেগে হাওয়ায় ভাসিয়ে কট বিহাইন্ড হন বাঁহাতি ব্যাটার।
এরপর সেশনের বাকি ৫ ওভারে আর উইকেট পড়তে দেননি বাবর ও সালমান আলি আগা। দুজন মিলে এখন পর্যন্ত যোগ করেছেন ১৭ রান। বাবর ৫৮ বলে ৩৭ ও সালমান ১৫ বলে ৬ রানে অপরাজিত।

২৭৮ স্কোর নিয়ে প্রথম ইনিংসে লিড নিতে হলে করতে হবে ক্ষুরধার বোলিং। বাংলাদেশ বোলাররা এই চ্যালেঞ্জ ভালই নিয়েছে। দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনে অভিজ্ঞ পেসার তাসকিনের ৩ ওভারের এক স্পেলের ( ৩-১-১০-২) পাশে অফ স্পিনার মিরাজের প্রথম স্পেলে (৭-২-১৪-২ ) ৭৪ রান যোগ করে হারিয়েছে পাকিস্তান ৪ উইকেট। প্রথম দিন শেষে ২২ রানে উইকেটহীন পাকিস্তানের স্কোর দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশন শেষে ৯৬/৪। ব্যাটিংয়ে আছেন বাবর আজম ৩৭ এবং সালমান আগা ৬ রানে। দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশন শেষে পাকিস্তান ১৮২ রানে পিছিয়ে আছে।
দ্বিতীয় দিনের প্রথম ঘন্টায় ছড়ি ঘুরিয়েছে বাংলাদেশ বোলাররা। দারুণ একটি ঘন্টায় পাকিস্তানের তিন ব্যাটারকে ড্রেসিংরুমে ফেরত পাঠিয়েছে বাংলাদেশ বোলাররা। এই দিনটিতে তাসকিনের ৩ ওভারের স্পেলের (৩-১-১০-২) পাশে মিরাজের ২ বলে ৩৯ রান যোগ করে হারিয়েছে পাকিস্তান তিন টপ অর্ডারকে।
প্রথম ব্রেক থ্রু'র জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে এদিন মাত্র ৯ বল। দিনের দ্বিতীয় ওভারের তৃতীয় ডেলিভারিটি ছিল ঘন্টায় ১৩৫ কিলোমিটার গতির। তাসকিনের অ্যাঙ্গেল ডেলিভারি ড্রাইভ করতে যেয়ে বোকা বনে গেছেন আবদুল্লাহ ফজল (৯)। বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে ফার্স্ট স্লিপের ক্যাচটি নিয়েছেন লিটন।
তাসকিন পরের ওভারেও পেয়েছেন উইকেট। তাসকিনের লেট সুইং অন সাইডে ঘোরাতে যেয়ে শর্ট লেগে ব্যাট-প্যাড ক্যাচে বন্দি হয়েছেন মিরপুর টেস্টের সেঞ্চুরিয়ান আজান আইওয়াস (১৩)।
শরীফুলের চেঞ্জে বোলিং করতে এসে শান মাসুদ-বাবর আজমের মধ্যে বোঝাপড়ায় ৩৮ রানের জুটি ভেঙেছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তাঁর দ্বিতীয় ডেলিভারিতে শর্ট কাভারে দাঁড়ানো বদলি ফিল্ডার নাঈম হাসানের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়েছেন অধিনায়ক শান মাসুদ ২৬ বলে ২ বাউন্ডারিতে ২১ রান)।
দিনের দ্বিতীয় ঘন্টায়ও মিরাজ সফল। নিজের চতুর্থ ওভারে পেয়েছেন দ্বিতীয় উইকেট। সৌদ শাকিলকে (২৮ বলে ৮) সুইপ শট খেলতে প্রলুব্ধ করে এই মিডল অর্ডারকে উইকেটের পেছনে শিকারে পরিণত করেছেন অফ স্পিনার মিরাজ।

বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে একের পর এক ছক্কা মেরে সেঞ্চুরির খুব কাছে পৌঁছে গেলেন ফিন অ্যালেন। কিন্তু সাই কিশোরের বলে ছক্কা মারতে গিয়ে নার্ভাস নাইন্টিতেই কাটা পড়ে গেলেন তিনি। তবে সেঞ্চুরি না পেলেও ছক্কার রেকর্ডে ক্রিস গেইলকেও পেছনে ফেললেন কিউই ব্যাটার।
ইডেন গার্ডেন্সে শনিবার রাতের ম্যাচে গুজরাট টাইটান্সের বিপক্ষে ৪ চার ও ১০ ছক্কায় মাত্র ৩৫ বলে ৯৩ রানের ধুন্ধুমার ইনিংস খেলেন অ্যালেন। তার বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে ২৪৭ রানের পুঁজি পায় কলকাতা নাইট রাইডার্স। পরে ম্যাচ জিতে যায় ২৯ রানে।
এক ম্যাচ আগেই দিল্লি ক্যাপিটালসের বিপক্ষে ৫ চার ও ১০ ছক্কা মেরে ৪৭ বলে ১০০ রানের অপরাজিত ইনিংসে দলকে জিতিয়েছিলেন অ্যালেন। এবার গুজরাটের বিপক্ষেও তার ব্যাট থেকে এলো ১০টি বিশাল ছয়ের মার।
আইপিএলের দীর্ঘ ১৯ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো ব্যাটার এক আসরে একাধিক ম্যাচে ১০টি করে ছক্কা মারার কীর্তি গড়লেন। টুর্নামেন্টের ইতিহাসে আর কোনো ব্যাটার একই আসরে একের বেশি ম্যাচে ১০টি ছক্কা মারতে পারেননি।
ইউনিভার্স বসখ্যাত ক্রিস গেইল আইপিএলে ৪টি ভিন্ন ম্যাচে ১০ বা তার বেশি ছক্কা মেরেছেন। তবে এর সবগুলো ছিল ভিন্ন ভিন্ন আসরে। অর্থাৎ একই আসরে একাধিকবার ১০ ছক্কা মারতে পারেননি টি-টোয়েন্টির ফেরিওয়ালা।
২০১৩ সালের আইপিএলে টি-টোয়েন্টি ইতিহাসের সর্বোচ্চ ১৭৫ রানের ইনিংস খেলার পথে ১৭টি ছক্কা মেরেছিলেন গেইল। যা এখনও আইপিএলে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ড। এছাড়া আরও তিন ম্যাচে ১৩, ১২ ও ১১টি ছক্কা মারার নজির আছে তার। তবে সবগুলোই ভিন্ন ভিন্ন আসরে।
অ্যালেন ও গেইল ছাড়াও একাধিক ম্যাচে ১০টি করে ছক্কা মারার রেকর্ড আছে অভিশেক শর্মা ও বৈভব সূর্যবংশীর। তবে তারাও একই আসরে একাধিক ম্যাচে ১০টি করে ছক্কা মারতে পারেননি। যা এবার প্রথম করে দেখালেন অ্যালেন।

সংখ্যার খেরোখাতায় আর যাই হোক, সব ইনিংসের মাহাত্ম্য মাপা যায় না। সিলেট টেস্টে লিটন দাসের ১২৬ রানের ইনিংসটি তেমনই এক উদাহরণ। চাপের মুখে বুক চিতিয়ে লড়ে দলকে টেনে তোলার অসামান্য বীরত্বে যে ধ্রুপদী প্রদর্শনী লিটন দেখিয়েছেন, তা এককথায় অনন্য অসাধারণ।
লিটনের ইনিংসের মাহাত্ম্য শুধু ২২ গজের লড়াইয়েই সীমাবদ্ধ থাকেনি, তা মিলেমিশে একাকার হয়েছে এক বাবার গভীর আবেগে। ম্যাচ শেষে হেলমেটের লাল-সবুজ পতাকায় ভালোবাসার চুম্বন এঁকে দিয়ে, ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা এই শতকটি লিটন উৎসর্গ করেছেন তাঁর ছোট্ট রাজকন্যা আনায়রাকে।
লিটন-সঞ্চিতা দম্পতির একমাত্র সন্তান আনায়রা দাস। পূজার সময় মাকে সেই ছোট্ট আনায়রা জিজ্ঞেস করেছিল, প্রার্থনায় কী চাইব? মা বলেছিলেন, বাবার সেঞ্চুরির জন্য প্রার্থনা করো। এরপর থেকে আনায়রার প্রার্থনা জুড়ে একটাই চাওয়া- বাবার সেঞ্চুরি। আর তাই, টেস্ট ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ সেঞ্চুরিটি লিটন দাস উৎসর্গ করেছেন তাঁর প্রিয় কন্যাকেই। সিলেট টেস্টের প্রথম দিনের খেলা শেষে এক আবেগঘন ফেসবুক বার্তায় ক্যারিয়ারের এই বিশেষ শতকটি মেয়ে আনায়রাকে উৎসর্গ করার ঘোষণা দেন এই উইকেটকিপার ব্যাটার।
সামাজিক মাধ্যমে লিটন লেখেন, ‘শতকটি উৎসর্গ করলাম আমার রাজকন্যা আনায়রা দাসকে।’ এরপর তিনি যোগ করেন,
‘একবার এক পূজার আনুষ্ঠানিকতার সময় ও ওর মাকে জিজ্ঞেস করেছিল, ঈশ্বরের কাছে কী প্রার্থনা করা উচিত। আমার স্ত্রী তখন ওকে বলেছিল, “তোমার বাবার সেঞ্চুরির জন্য প্রার্থনা করো।” সেই থেকে ও ভগবানের কাছে শুধু আমার সেঞ্চুরির জন্যই প্রার্থনা করে আসছে।’
সিলেট টেস্টে প্রথম দিনে টসে হেরে ব্যাটিং নামা বাংলাদেশ ১১০ রানে পাঁচ উইকেট হারিয়ে যখন খেই হারাতে থাকে, তখনই ব্যাট চওড়া হয়ে যায় লিটনের। লোয়ার অর্ডারের ব্যাটারদের নিয়ে অসাধারণ প্রতিরোধ গড়েন ডানহাতি এই ব্যাটার। তুলে নেন লাল বলের ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ শতক।
২২ গজের এই মহাকাব্যিক লড়াইয়ের আগে ঘরে যে এমন এক মিষ্টি রূপকথা অপেক্ষা করছিল, তা হয়তো অনেকেরই জানা ছিল না। লিটনের সেই বিশেষ সেঞ্চুরির পেছনে লুকিয়ে ছিল তাঁর ছোট্ট মেয়ের এক অটল ও সরল বিশ্বাস। ম্যাচের আগের মুহূর্তের স্মৃতিচারণ করে তিনি তুলে ধরেন তাঁর স্ত্রী ও মেয়ের সেই মধুর কথোপকথন,
‘আজ ম্যাচের আগেও ওর মা ওকে জিজ্ঞেস করেছিল, 'বাবা আজ কী করবে?' একটুও না ভেবে ও সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দেয়—'সেঞ্চুরি।' এমনকি ও আজ টিভিতে ম্যাচটি দেখেছে এবং হেলমেটে থাকা বাংলাদেশের পতাকায় আমার চুমু খাওয়ার দৃশ্যটি ও ভীষণ পছন্দ করেছে ।’
মেয়ের সেই সরল চাওয়া আর অটল বিশ্বাসের মর্যাদা দিতে পেরে একজন বাবা হিসেবে লিটনের বুকটা আজ যেন গর্বে ভরে উঠেছে। আগামী দিনেও ‘রাজকন্যার’ জন্য ব্যাটের এই ধার বজায় রাখার এক মধুর প্রতিশ্রুতি দিয়ে লিটন লিখেছেন,
‘আমার ছোট্ট রাজকন্যা, এই সেঞ্চুরিটি শুধু তোমারই জন্য। আশা করি, আগামীবছরগুলোতে তোমাকে এমন আরও অনেকসেঞ্চুরি উপহার দিতে পারব।’

সিলেট টেস্টে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে ব্যাটিংয়ের শুরুটা বেশ ছন্নছাড়া। ১১৬ রানে নেই ৬ উইকেট। দুই শর মধ্যে গুটিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত মিলছিল। তখনও উইকেটে আস্থার প্রতীক হয়েছিলেন লিটন কুমার দাস।
ব্যাটিং বিপর্যয়ে কি করা উচিত, সেটি ভালো করেই জানেন অভিজ্ঞ লিটন। সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে প্রথম দিনের বাকি অংশ এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটারেরই। ১৫৯ বলে ১২৬ রানের অসাধারণ এক ইনিংস। যার সৌজন্যে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ তুলেছে ২৭৮ রান।
টেস্ট ব্যাটিং বিপর্যয়ের দলের চালক হওয়া যেন লিটনের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। রাওয়ালপিন্ডি কিংবা মিরপুর—‘ক্রাইসিস মোমেন্টে’ একের পর এক অসাধারণ ইনিংস খেলে দলকে বাঁচিয়েছেন। আজ পাকিস্তানের বিপক্ষে ষষ্ঠ টেস্ট সেঞ্চুরির পর লিটন জানিয়েছেন, বিপর্যয়ে দলকে প্রত্যাশিত ঠিকানায় পৌঁছে দেওয়াই তাঁর আনন্দ।
২০২২ সালে মিরপুরে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২৪ রানে ৫ উইকেট হারিয়েছিল বাংলাদেশ, সেখান থেকে ১৪১ রানের অসাধারণ এক ইনিংস খেলে দলকে ভালো অবস্থা নিয়ে যান লিটন। ২০২৪ সালে রাওয়ালপিন্ডিতে ২৬ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ফেলেছিল, ধ্বংস্তুপে দাঁড়িয়ে সেবার খেলেছিলেন ১৩৮ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস।
টেলএন্ডারদের নিয়ে চাপের মুখে খেলা, মিরপুর ও রাওয়ালপিন্ডির সেঞ্চুরির সঙ্গে আজকের ইনিংসের তুলনা করতে গিয়ে লিটন বলেন,
‘দুটা জিনিস হতে পারে। আমার কাছে মনে হয়, শ্রীলঙ্কার সঙ্গে যে ইনিংসটা ছিল ওটা সম্পূর্ণ ভিন্ন, কারণ মুশফিক ভাইয়ের সঙ্গে জুটি ছিল। একজন ব্যাটার যখন আপনার পার্টনার থাকবে, মানিসকভাবে পরিস্কার থাকা যায়। রাওয়ালপিন্ডিতেও একই ছিল, মিরাজ একজন ব্যাটার অনেকক্ষণ ইনিংস অলমোস্ট আমার ৮০ রানের মতো ছিল ২০ রান আমাকে কষ্ট করতে হয়েছে। বাট আজকেরটা টোটালি ডিফারেন্ট।’
সেঞ্চুরি নিয়ে নিজের ভাবনার কথা জানাতে গিয়ে লিটন স্পষ্ট করে বলেন,
‘আমি মনে হয় যখন দুই বা তিন রানে তখন তাইজুল ভাই স্ট্রাইকে আসে। সেঞ্চুরি এটা মানুষ বলে কয়ে করতে পারে না আর এটা নিয়ে খুব একটা চিন্তিতও না যে সেঞ্চুরি করা লাগবে। আমার টার্গেট ছিল যে রানটা কীভাবে বোর্ডে আসে। কারণ যে সময়টাতে তাইজুল ভাই আসছে আমাদের বোর্ডে রান মাত্র ১১০ কি সামথিং ১৬। হ্যাঁ, ১৬। তো আমার টার্গেট ছিল যে কীভাবে টিমকে একটা ২০০ রান পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া যায়। অবশ্যই টার্গেট আমাকেই ফিলাপ করতে হবে। আমার টেল তো রান করবে না, রান আমাকেই করতে হবে। তো আমি একটা ইনফরমেশন পাঠিয়েছিলাম যে আমরা কি অ্যাটাকিংয়ে যাব কি না জাস্ট। উপর থেকে বলেছে রানের জন্য খেলার জন্য তো আমি চেষ্টা করেছি রান করার।’
দলের কঠিন পরিস্থিতিতে বারবার দায়িত্ব নেওয়া এবং এই ক্রাইসিস মোমেন্টগুলো লিটন বেশি উপভোগ করেন কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে লিটন জানান, পরিস্থিতির চ্যালেঞ্জটা তিনি নিজের মতো করে নিতে ভালোবাসেন।
বললেন,
‘না না, আমি বললাম তো আমার রোলটাই ডিফারেন্ট। দেখবেন কোনো কোনোদিন টপ অর্ডার উপর থেকে রান করতেছে। আমি ব্যাটিং করতেছি ৬০-৭০ ওভারের সময় নামলাম উইকেটে বল ঘোরা শুরু হলো। আমার ক্রিকেটটাই এমন, আমাকে পার্টিকুলার যে সময়টা আসবে সে সময়টা এনজয় করে খেলা। এটাও একটা চ্যালেঞ্জ, কিন্তু এখানেও এনজয় করার অনেক কিছু ছিল।’